গত দশকে রচিত এই গ্রন্থটির নতুন সংস্করণে কিছু পরিমার্জন করেছি। দণ্ডক-শবরীর অধিকাংশ চরিত্রই বাস্তব। এ কাহিনীতে যা কিছু লিখেছি, সবই যে আমার স্বচক্ষে দেখা তা নয়। ওদের জীবনযাত্রার কথা নানাজনের কাছে শুনেছি, নানাজনের লেখায় পড়েছি। গ্রীগসন এর প্রামাণিক গ্রন্থ 'Maria Gonds of Baster' এবং ভেরিয়ার এলুইনের একাধিক গ্রন্থ, বিশেষ করে 'Muria and their Ghotul' থেকে বহু সাহায্য গ্রহণ করেছি। স্বচক্ষে না দেখলেও সজ্ঞানে ওদের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে অবাস্তব আজগুবি কিছু লিখিনি গল্পের খাতিরে। একথা বিশেষভাবে উল্লেখ করছি এজন্য যে, ভবিষ্যতে কোনও সমাজ-বিজ্ঞানী বা নৃতত্ত্ববিদ এই আদিবাসী জীবনের উপর কোনও গবেষণা করলে আমার পরিবেশিত তথ্যকে যেন ঔপন্যাসিক সত্য বলে বাতিল না করেন।
সরকারের নির্দেশে প্রায় দুই বৎসরকাল আরণ্যক-জীবনের ভাগিদার হবার সুযোগ হয়েছিল। দণ্ডকারণ্যে থাকা কালে দুটি গ্রন্থ আমি রচনা করি। আদিবাসী জীবনের উপর 'দণ্ডক-শবরী' এবং উদবাস্তু-সমস্যা নিয়ে 'নৈমিষারণ্য'। দুটি গ্রন্থই দীর্ঘদিন আউট-অফ-প্রিন্ট' হয়ে আছে। শ্রীমান ময়ূখ বসু প্রথমটির নতুন সংস্করণ প্রকাশকালে আমার সে আমলে তোলা আলোকচিত্র সংযোজন করতে চাইলেন। দণ্ডকারণ্য থেকে বদলি হয়ে আসার পর আর আমি সেখানে যাইনি। তবে কয়েকজন বন্ধুর কাছে জেনেছি, আমি গত দশকে যা দেখেছি তা আমূল পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ফলে আমার তোলা সে আমলের ছবিগুলি আজ প্রায় ঐতিহাসিক দলিলের পর্যায়ে। তাই এবার কয়েকটি আলোকচিত্র সংযোজন করা গেল। চয়ন সরদারের ছবিও আমি তুলেছিলাম-- খুব ভালো হয় নি। মালকো-রঙিলা-কিরিংগো প্রভৃতি চরিত্রগুলো যাদের দেখে গড়েছিলাম এবার তাদের কিছু ছবি দেওয়া গেল। কোকামেটার মাড়াই, নারাণপুরের হাটের ছবি প্রভৃতিও।
Narayan Sanyal (bn: নারায়ণ সান্যাল) was a well-known & versatile writer of modern Bengali literature. He received several awards for literature including Rabindra Puraskar for Aporupa Ajanta (Bangla: অপরূপা অজন্তা) in 1969, Bankim Puraskar for Rupmonjori (Bangla: রূপমঞ্জরী) in 2000, and Narasingha Dutta Award. Many of his books were filmed and he won the Best Film Story Writer Award for Shotyokam (Bangla: সত্যকাম) by Bengal Film Journalists.
Sanyal wrote numerous books that dealt with many topics, such as children, science, art and architecture, travels, psychiatry, technology, refugee problems, history, biographical pieces, encyclopedia of animals, social novel and Devadasi-related. He also wrote a series of detective fiction called the Kanta (Thorn) series, the framework of which was borrowed from the Perry Mason series of novels by Erle Stanley Gardner. Some of the stories were inspired from popular Agatha Christie novels like Mousetrap, ABC Murders, etc.
Interestingly, this talented author also preferred writing books on deep shadow of many world famous works. One of the most popular Sci-Fictions Nakshatraloker Debatatma (Bangla: নক্ষত্রলোকের দেবাত্মা) is based on the transformation of human race from primitive creature to civilized intelligent species controlling the whole earth. Then it deals with Jupiter exploration and a super intelligent Computer HAL. The three parted book is a clear shadow of 2001: A Space Odyssey by Arthur C. Clarke. In his book, NS renamed HAL as 'Jantra-Na.' In his mother tongue Bangla, it means 'Not a Machine'.
His most popular work is Biswasghatak (Bangla: বিশ্বাসঘাতক) written about the Manhattan project that developed the first US Atom Bomb. This book is based on the shadow of Brighter than a Thousand Suns: A Personal History of the Atomic Scientists (1970), by Austrian Robert Jungk. Not a shadow, but almost translation in some parts. Few of the illustrations in this book have been taken from few Russian school level books.
Another book Timi Timingil (Bangla: তিমি তিমিঙ্গিল) is on Whales. This stands on an article published in Readers Digest. But while NS accepted this for Timi Timingil, he never mentioned or thanked authors of 2001 or Brighter.
Most of the "Kanta" series stories were copied or heavily inspired from Perry Mason novels. For example, "Ristedar-er Kanta" was copied from The case of the beautiful beggar, "Abhipurbak Ni-Dhatu Au-er Kanta" was inspired from The case of the restless redhead. Some of the stories were inspired from Agatha Christie stories. For example, "Dress Rehearsal-er Kanta" was inspired from Three Act Tragedy. NS acknowledged his inspirations in his first few "Kanta" series books, but forgot to do so for the latter ones.
Thousands of NS fans feel sorry of this as a man of his talent could have developed something even better instead of just 'Copying' and retouching others works while he had indeed produced some excellent works himself.
But it is undoubtedly accepted by all that NS was one of the finest authors in Bengali and he was a class apart from the flock of contemporary Bengali writers those who too dependent on sentiment and emotional overdose in their writings and too dependent on monopolist Bengali media/publication groups in commercial front.
নারায়ণ সান্যাল আমার অন্যতম প্রিয় লেখক – তাঁর লেখার বিষয়বস্তুর ব্যপ্তি এবং ঝরঝরে লেখনীর কারণে। তাঁর ‘দন্ডক শবরী’ পড়ে নিজের জন্যেই কিছু লিখে রাখতে মনে হল। অবশ্যই সংগ্রহে রাখার মত বই। ‘কৈফিয়ত’-এই তিনি বলেছেন এই বইয়ের তথ্যকে ঔপন্যাসিক তথ্য বলে বাতিল না করে আদিবাসী জীবনের উপর প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে ধরে নিতে। মানবিকতার উৎস সম্বন্ধে যদি জানতে চান তাহলে অবশ্য পাঠ্য এই বই। ‘দন্ডকারণ্য’ এর উল্লেখ রামায়ণে আছে। মনুর পুত্র ইক্ষাকু, তাঁর শতপুত্রের কনিষ্ঠতমর ভাগ্যে দন্ড লাভ আছে মনে করে তার নাম দিলেন দন্ড এবং তাকে বর্তমান দন্ডকারণ্যে মধুমন্ত নামের নগরের রাজপদ দিলেন। পরবর্তীকালে, দন্ড নিজের চরিত্রগত কারণে শুক্রাচার্যের কন্যা অজিরাকে ধর্ষণ করে ও শুক্রাচার্যের অভিশাপে সেই জনপদ শ্বাপদ সংকুল মহারণ্যে পরিণত হয় – নাম হয় দন্ডকারণ্য। দন্ডকারণ্যে ধর্ষণের শুরু বোধহয় সেই যুগ থেকেই শুরু যা আজও আদিবাসী মহিলাদের সভ্যেরা প্রায়ই করে থাকে। অবশ্য ধর্ষণের মত পাপাচারেই শেষ না, সেই দন্ডকারণ্যে অগস্ত্য, মাতং, শবরী, অত্রি, ভরদ্বাজ প্রমুখ মহামুনিরা তপস্যা করে অক্ষয়ধামের অধিকারী হন। এ তো গেল পৌরাণিক কাহিনী। শবর ভাষায় দন্ শব্দের অর্থ জল, ডক্ শব্দের অর্থও জল, আর তাদের ভাষায় দ্বিত্ব প্রয়োগ বেশি। বাল্মিকীও বলেছেন, দন্ডকের সেই অংশে পম্পার তীরে দেখা যেত শুধু জল আর জল। লেখকের মতই প্রথমে দন্ডকারণ্যের রেফারেন্স দিয়ে দিলাম – বই থেকে টুকে। কিন্তু আমার কাছে বইটার মূল বিষয় মানবিকতার উৎসমুখের জীবন যাত্রা । তাদের জীবন যাত্রার বিবরণ পড়ে বিস্মিত হতে হয় – বারবার মনে হয় সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে তাদের সাথে মিশে যাওয়ার কথা! হায়, সে সম্ভব নয়, - প্রথমত, সভ্যমানুষের প্রাকৃতিক সম্পদে লোভ এবং আদিবাসী সমাজের উন্নতির মেকি প্রচেষ্টা জনিত কারণে তাদের সীমানা ক্রমশ কমে আসছে বা তারা তাদের জীবন যাত্রা থেকে সরে আসছে। দ্বিতীয়ত, আমি না ‘সভ্য’ মানুষ, আর ওরা ‘অসভ্য’! সাম্যবাদ নিয়ে আমরা অনেক চিৎকার করি, মার্কস-লেনিন ইত্যাদির কঠিন তত্ত্বে মাথা ভারি হয়ে যায়। কিন্তু ওই অসভ্য মানুষগুলো কি সহজেই সাম্যবাদের চূড়ান্ত রূপদান করেছে। সভ্য জগতের সর্বাপেক্ষা সাম্যবাদী মানুষটিও নিজের নারী বা পুরুষের অধিকার ছাড়তে পারবে না অথচ ওই অসভ্যদের জীবনে নারী-পুরুষ সমাজের সম্পত্তি। সব থেকে অবাক করল, ঘটুল প্রথা – আমাদের যৌথ খামার ভাবনার সার্থক রূপদান। সেখানে অবিবাহিত পুরুষ নারীরা সবাই এক সাথে থাকে, সব কাজ করে, নারী-পুরুষের জোড় অদল-বদল হয় এবং সবই নিয়ম মেনে। নারী-পুরুষের সর্বত্র সমান অধিকার। যদি কোন উৎসব পুরুষ প্রধান হয় তো একই ধরনের নারী প্রধান উৎসব আছে। এবং এই সমাজ ব্যবস্থা প্রাচীনকাল থেকে প্রায় একই রকম আছে, প্রায় অপরিবর্তিত। আমাদের মত দ্রুত পরিবর্তনশীল নয় ওদের জীবনযাত্রা, আসলে আমরা শান্তির খোঁজে দ্রুত ছুটে চলেছি, তাতে বিজ্ঞানের উন্নতি হয়ত হচ্ছে কিন্তু শান্তি মিলছে না। অথচ ওই শিক্ষা সচেতনতা থেকে বহুদূরের অসভ্যগুলোর জীবন সহজ, নিরাড়ম্বর, শান্তিময়। তাদের প্রতিটি কাজ হয় নৃত্যের তালে তালে এমনকি শাস্তিও দেওয়া হয় ‘রেলো’ নেচে। তাদের সীমানার বেড়া জাল ছিল না, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান ছিল, দল বেঁধে ঘুরতে যাওয়া, থাকা খাওয়া, নাচ গান এমনকি মোটিয়ারী (নারী)ও চেলিক (পুরুষ) পারস্পরিক ভালবাসা থেকে বিবাহ অব্দি গড়াতো। অথচ আমরা দেশ, রাজ্য, জেলার পর জেলা ভেঙে যাচ্ছি – পাশাপাশি দুটি জায়গার মধ্যে শুধুই রেষারেষি। আর সেই কোপ ক্রমে গিয়ে পড়েছে ওই মাড়িয়া, মুরিয়া, গোন্ড, হালবা, শবর ইত্যাদিদের উপর। সভ্য জগতের লোভ থাবা বসাচ্ছে তাদের অরণ্যের অধিকারে। সরকার আদিবাসী উন্নয়ণের নামে চাপিয়ে দিচ্ছে আধুনিকতার বোঝা আর তার ফল হচ্ছে আধুনিকতার স্পর্শ লেগে তাদের শান্তিময় জীবন থেকে শান্তি শব্দটায় উড়ে যাচ্ছে। আর কিছু শ্রেণি সেঁদিয়ে যাচ্ছে গহীন অরণ্যে বা অবলুপ্তির পথে। আর সেই সুযোগে কিছু রাজনৈতিক দল তাদের ব্যবহার করছে এবং সেই সূচনাও বইটির শেষ ভাগে দেওয়া আছে। হ্যাঁ, বইটির প্রকাশ ১৯৬২ সালে এবং লেখা ১৯৫৯-৬০ সাল নাগাদ। সে সময়ের থেকে এখন অনেক পাল্টে গেছে তাদের জীবন – জানিও না চয়ন-মালেকোদের উত্তরসূরীরা আজ বেঁচে আছে কিনা আর থাকলেও তাদের মধ্যে সেই অনাড়ম্বর সরল সাদাসিধে জীবন যাত্রা টিকে আছে কিনা! নদীর উৎস মুখে যেমন নদীর জল থাকে সুমিষ্ট, সুপেয় তেমনই মানবিকতার উৎস মুখের জীবন যাত্রাও অমলিন সুন্দর; নদী যখন ক্রমশই মোহনার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে নোংরা হয়ে যায়, জল আর সুপেয় থাকে না তেমনই আমরা যারা মানবিকতার মোহনার দিকে আছি আমাদের জীবনও মলিনতায় দীর্ণ – অশান্তিময়। আর তাই আজ সত্যিই মনে হয়, ভারতবর্ষেই সব ছিল যা কিছু ভাল সব শুধু সেসবই ছিল আর্যরা এদেশে আসার আগে; যাদের নিয়ে আমাদের দেশের জাতীয়তাবাদীরা বারফট্টাই করে তারা আসার বহু আগে থেকেই আমাদের দেশের আদি বাসিন্দারা খোঁজ পেয়ে গিয়েছিল শান্তিপূর্ণ, সহজ, সরল জীবনের ।
রিভিউ নয়, একটা প্রশ্ন। লেখকের প্রথমদিকের লেখা বলেই কি বিভিন্ন সাহিত্যিকের direct quotesএর এত ব্যবহার দেখলাম? ওনার লেখায় নানান রকমের রেফারেন্স সবসময়ই থাকে, কিন্তু direct questions এই মাত্রায় অন্য কোনো লেখায় খেয়াল করিনি।