Jump to ratings and reviews
Rate this book

হলদে পাখির পালক

Rate this book
“নাঃ, তোমরা বড়ো বোকা, সুখী লোকেরা হিংসুটে হবে না তো কারা হিংসুটে হবে? দুঃখীরা ? দুঃখীরা তো সুখ কী তাই জানে না, তবে আর হিংসে করবে কেন? এখন গল্পটা শোনো তো!...”

44 pages, Hardcover

First published January 1, 2012

23 people are currently reading
330 people want to read

About the author

Leela Majumdar

112 books110 followers
Leela Majumdar (Bengali: লীলা মজুমদার Lila Mojumdar) was a Bengali writer. Her first story, Lakkhi chhele, was published in Sandesh in 1922. It was also illustrated by her. The children's magazine in Bengali was founded by her uncle, Upendrakishore Ray Chaudhuri in 1913 and was later edited by her cousin Sukumar Ray for sometime after the death of Upendrakishore in 1915. Together with her nephew Satyajit Ray and her cousin Nalini Das, she edited and wrote for Sandesh throughout her active writing life. Until 1994 she played an active role in the publication of the magazine.

Creative efforts :
An incomplete bibliography lists 125 books including a collection of short stories, five books under joint authorship, 9 translated books and 19 edited books.
Her first published book was Boddi Nather Bari (1939) but her second compilation Din Dupure (1948) brought her considerable fame From the 1950s, her incomparable children's classics followed. Although humour was her forte, she also wrote detective stories, ghost stories and fantasies.

Her autobiographical sketch 'Pakdandi' provides an insight into her childhood days in Shillong and also her early years at Santiniketan and with All India Radio.
Apart from her glittering array of children's literature, she wrote a cookbook, novels for adults (Sreemoti, Cheena Lanthan), and a biography of Rabindranath Tagore. She lectured on Abanindranath Tagore and translated his writings on art into English. She translated Jonathan Swift's Gulliver's Travels and Ernest Hemingway's The Old Man and the Sea into Bengali.
Satyajit Ray had thought of filming Podi Pishir Bormi Baksho. Arundhati Devi made it into a film in 1972. Chhaya Devi played the role of the young hero, Khoka's famed aunt Podipishi.

Awards :
Holde Pakhir Palok won the state award for children's literature, Bak Badh Pala the Sangeet Natak Akademi Award, Aar Konokhane Rabindra Puraskar. She had also won the Suresh Smriti Puraskar, Vidyasagar Puraskar, Bhubaneswari Medal for lifetime achievement, and Ananda Puraskar.
She has been awarded the Deshikottama by Visva Bharati, and honorary D.Litt. by Burdwan, North Bengal and Calcutta Universities.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
142 (50%)
4 stars
88 (30%)
3 stars
40 (14%)
2 stars
8 (2%)
1 star
6 (2%)
Displaying 1 - 30 of 61 reviews
Profile Image for musarboijatra  .
292 reviews367 followers
August 13, 2022
'তারপর কি হল, ঝগড়ু?'

'তারপর আর কি হবে? ঝমরুর আর আমার দেশে থাকা আর হল না। ঐ পাখীর ডানার ঝাপটা যার গায়ে লেগেছে, সে কি আর ঘরে তিষ্ঠুতে পারে, বোগিদাদা?'



ছোটদের একটা বই। ছেলেমানুষী গল্প। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন সব চমক লাগানো কথার মাঝে গভীর জীবনবোধ লুকনো আছে, পড়ে তাজ্জব লাগে।

কাজের লোক ঝগড়ুর মুখে গল্প শোনে বাড়ির ছেলেমেয়েরা। ঝগড়ু বোধয় সাঁওতাল, ওদের আশপাশে নাথু, ঝগড়ুর বউ, এমন আরো সাঁওতাল লোক থাকে, যারা এসেছেন নিজেদের দেশ দুমকা থেকে। এই দুমকা-কে নিয়েই ঝগড়ুর যত গপ্পো। ওখানকার এক হলদে পাখি, তার পা নেই, শুধু উড়ে উড়ে মধু খায়, তাকে কেউ দেখেনি কখনো, কিন্তু তার হাওয়া লেগেছিল ঝগড়ুর গায়ে। সেই পাখি ক্লান্ত হয়ে ঝরে পড়লে, আর তাকে ভুলক্রমে কুকুর-বেড়ালে খেয়ে নিলে, সে কুকুর পরদিন মানুষে রূপান্তরিত হবে। বাড়ির কুকুর ভোলা-ও একদিন মুখের কোণে হলুদ পালক নিয়ে বাড়ি এলো। সেই হলদে পাখি থাকে দূর দুমকায়, কিন্তু তার কি উড়ে আসতে মানা আছে? ভয়ে ভয়ে বাড়ির ছেলেমেয়েরা দেখলো, ভোলা হারিয়ে গেছে পরদিনই। অন্যদিকে ঝগড়ুর বউয়ের কোলে এক অচেনা কালো শিশু। আশঙ্কা কি তবে সত্যি হলো? বেচারী ভোলা-কে ফেরানো যাবে না? যাবে! তার জন্য চাই নিদুলী মন্ত্র, চাই সোনা-রুপোর মাদুলী, আর পাঁচ পেয়ে মাকড়সা। দুমকা'র সব লোকেই নিদুলী মন্ত্র জানে, তাই ঝগড়ু থাকতে ভয় কী?


'তুমি এত কথা কি করে জানলে, ঝগড়ু?'

ঝগডু মুখটা তুলে, দূরে গাছের পেছনে যেখানে সূর্য ডুবে যায়, সেইদিকে চেয়ে বলল, 'বলেছি তো তোমাদের, হলদে পাখীর ডানার ঝাপ্‌টা লেগেছে আমার গায়ে, তাই দেশে আমি তিষ্ঠুতে পারি না। কোথায় কোথায় যে সে আমাকে নিয়ে বেড়িয়েছে সে আর কি বলব। বললেও তো তোমরা বিশ্বাস করবে না, তোমাদের কেতাবে সে সব জায়গার কথা লেখে না।'



গল্পে আসে দুমকার কাঁচ আবিষ্কারের কেচ্ছা, আসে মাঞ্জা দেওয়া ঘুড়ি, বনের ভালুকের সন্তানপ্রেম, বাঘের ছাল-পরা মানুষ, পঙ্ক্ষীরাজ ঘোড়া। ঝগড়ুর ডাকে সেই পঙ্ক্ষীরাজ আচমকা বাড়িতেও উপস্থিত হয়। কিন্তু পাখা-ছাড়া।

'পক্ষীরাজ তো ডানা কোথায়, ঝগড়ু?'

ঝগড়ু অবাক হয়ে গেল, 'সব পক্ষীরাজের কি ডানা গজায় ভেবেছ নাকি? দেখছ না, ওর কাঁধের ওপরকার হাড় কেমন উঁচু হয়ে রয়েছে? ওর যে ডানার কুঁড়ি রয়েছে, বোগিদাদা। ডানার কুঁড়ি থাকলেও সকলের ডানা গজায় না, গায়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকে, একটু খানি জিরুতে দেয় না, সারাটা জীবন জ্বালিয়ে খায়।'




আমি, পাঠক, থমকে গেলাম। কারো গায়ে হলদে পাখির ঝাপটা লাগে, কারো থাকে ডানার কুঁড়ি। কিন্তু ফল ওই এক জায়গাতেই, তার ঘরে তিষ্ঠুনো দায়। শুধু কি ঝগড়ু? তার ভাই ঝমরু-ও ঘর ছেড়েছিল পাখার ঝাপটি খেয়ে, ঝমরু এখন পুলিশ, অনেক দুনিয়া ঘোরার পর।

দুমকা'র সব লোকেদেরই বোধহয় আরেক দুনিয়ায় মন পড়ে থাকে। ঝগড়ুর মতোই আরেকজনের দেখা পাই আমরা, নাথু। তাকে বাড়ির ছেলেরা জিজ্ঞেস করেছিল-

'কেন তোমার বউ নাথুকে দেখতে পারে না, ঝগড়ু?'

নাথু মুচকি হেসে বলে, 'আমার পা দুটো ডুবে থাকে এখানকার নদীর জলে, কিন্তু মন কোথায় থাকে ঝগডুর বউ তা জানে না, তাই আমাকে দেখতে পারে না।'




গল্পজুড়ে এমন তাজ্জব স্বরে ভবঘুরেপনার বীজ ছড়িয়ে দেওয়া! তার ওপর অভাবনীয় সব উপাদান তো রয়েছেই, যাদের কথা বললাম, তা ছাড়াও আছে জাদুর খেলা দেখানো লোকের দেওয়া শিম বীজ। না, আকাশ ফুঁড়ে বেড়ে ওঠেনি সে বীজ, কিন্তু অল্প অল্প করে বেড়েছে, ঠিক গল্পের এগোনোর সাথে তাল রেখে। ছেলেমেয়েরা ভোলা-কে পাবার আশা পেয়েছে যখন, সে ছাইয়ের গাদা ফুঁড়ে মাথা তুলেছে। ফুল ফুটিয়েছে গল্পের সমাপ্তিতে। ছাইয়ের গাদায় বীজ পুঁততে হয় না, কিন্তু এই গাছ অ-জায়গাতেই ফলে। ঝগড়ু শিখিয়েছিল-

'ও গাছ হল গিয়ে মানুষের মনের গুণের মতো, কষ্ট না পেলে ফুটে ওঠে না। ওর নাম দিও 'গুণমণি'।'


মানসিক প্রতিকূলতায় যে মানুষ সহানুভূতি শেখে, সেটা কোন বয়েসে বুঝেছিলেন আপনি?

'হলদে পাখির পালক' তিরিশ পাতার একটা শিশুতোষ উপন্যাস। অথচ এর লাইনে লাইনে আছে জীবনবোধের পরিচয়, শৈশবের সারল্যের মাঝে নস্টালজিয়া, প্রাণ-প্রকৃতির জন্য আদিবাসীদের ভালবাসা, এবং শ্রেণিভেদের রূপ।

আর সবার ওপর সেই মন-কেমন-করা বোহেমিয়ানিজম।


'সুখীরা পালায় না কে বলেছে, দিদি? সুখীরা পালায় ঐ সুখের কাছ থেকেই। দুঃখু পায় না বলে দুঃখকে খুঁজে বেড়ায়।'

..
Profile Image for Rifat.
502 reviews330 followers
March 4, 2021
ফ্যান্টাসি জনরার শিশুতোষ গল্প। ঝগড়ুর মতে, জখম হওয়া হলদে পাখিকে শেয়াল কিংবা কুকুর যদি খেয়ে ফেলে তাহলে সেই শেয়াল/কুকুর মানুষ হয়ে যায়। ফ্যান্টাসি-ই তো! এই ঝগড়ু সাহেবের কাজই হচ্ছে ছোট বোগি দাদা আর রুমু দিদির কাছে গাঁজাখুরি গল্প করা। আবার হুটহাট করে কি সব কঠিন কঠিন কথাও বলে-
"বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিলো। কষ্ট পাবার ভয়ে কাউকে ভালবাসতো না, কোন মানুষকে না, কোন জিনিসকে না। মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায় আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়, মরচে ধরে, পোকায় খায়। কী হবে ভালবেসে?"


~ ৪ মার্চ, ২০২১
Profile Image for Tasnima Oishee.
140 reviews28 followers
December 5, 2022
"বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিলো না। কষ্ট পাবার ভয়ে সে কাউকে ভালোবাসতো না। কোনো মানুষকে না, কোনো জিনিসকে না... মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায় আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়। কি হবে ভালোবেসে?"
জীবনে কি লখনিয়া-ই হয়ে যেতে চাইনি আমরা কেউই?

ঝগড়ু হলো ছোট্ট রুমু-বোগিদাদার গল্প বলার মানুষ, আসলে তাদের বাড়ির কাজের লোক। তার গ্রামের অদ্ভুত সব গল্প দিয়ে বাড়ির ছোট দুই সদস্যের মাতিয়ে রাখে সে। কিসের গল্প নেই সেখানে? ঝগড়ুর গ্রামের সেই হলদে পাখি আছে, যার পালক খেয়ে নিয়ে কুকুর বেড়াল মানুষ হয়ে যায়- এসব অদ্ভুত গল্প যে মানুষ টা বলে সেই আবার বিশ্বাস করে না যে পৃথিবীর তিন ভাগই সমুদ্র!

বাচ্চাদের একটা বই, অথচ এতো সুন্দর দর্শন আর জীবনবোধের কথা দিয়ে ভরা! ফ্যান্টাসি, কিন্তু হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলব এমন ফ্যান্টাসি। দুমকার মতো এক আশ্চর্য গ্রামের ফ্যান্টাসি নেই কার? অথচ সেই গ্রামের হাজার খানেক গল্প নিয়ে ঘুরে বেড়ায় ওই ঝগড়ু!
শুধু আমাদের বইতে ওসব লেখে না বলেই না আমরা জানিনা!

সুখের থেকে কিভাবে সুখীরা দুঃখ খুঁজতে পালিয়ে যায় আর ওই যে, ভালোবাসতে ভয় পায় কি করে মানুষ- এসব দুমকার মতো আশ্চর্য গ্রামের মানুষরাও জানেনা!
সত্যি যে কোথায় শেষ হয় আর স্বপ্ন যে কোথায় শেষ হয়, সেটা কেউ জানেনা!
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
370 reviews12 followers
August 16, 2023
ঝগড়ু এক ঘোর লাগা মানুষ। সে গল্প বলে রুমু আর বোগিকে। অদ্ভুত সে সব গল্প। বেশির ভাগ গল্পই ঝগড়ুর গাঁ দুমকা'র। ঝগড়ুর বলা দুমকা যতটা বাস্তব,তার থেকে অনেক বেশি ঝগড়ুর মনের। ঝগড়ুর অদ্ভুত গাঁয়ের গল্প শুনে রুমু, বোগি র মতো আমিও বিহ্বল হয়ে পড়ছিলাম।  ঝগড়ু বলে, সুখীরা পালায় না কে বলেছে দিদি? সুখীরা পালায় ওই সুখের কাছ থেকেই ; দুঃখ পায় না বলে দুঃখকে খুঁজে বেড়ায়।

রুমু আর বোগির প্রিয় কুকুর "ভুলো" একদিন হারিয়ে যায়। সে নিয়ে ঝগড়ু দু'ভাইবোনকে শোনায় এক অদ্ভুত হলদে পাখির গল্প। যার পালককে ঘিরে তৈরি হয় অদ্ভুত একটা রহস্য, যার কেন্দ্রে রয়েছে ঝগড়ু নিজেই....

লীলা মজুমদার যত পড়ছি, অবাক বনে যাচ্ছি তত। এত সুন্দর করে কী করে কেউ লিখে! উনার লেখা পড়লে আমার মনে হয়,একেক টা শব্দ যেন হাজার বার পরখ করে তবে বসানো হয়েছে,তারপর রাশি রাশি মুক্তোর মত শব্দগুলোকে গেঁথে তৈরি হয় এক আদুরে "মুক্তো মালা "।

ঝগড়ু বলে, সুখী লোকেরা হিংসুটে হবে না তো কারা হিংসুটে হবে? দুঃখীরা? দুঃখীরা তো সুখ কী তাই জানে না,তবে আর হিংসে করবে কেন?
Profile Image for Maliha Tabassum Tisha.
127 reviews409 followers
April 19, 2021
3.5 stars

"বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিল, কষ্ট পাবার ভয়ে কাউকে ভালবাসত না, কোনো মানুষকে না, কোনো জিনিসকে না। মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায় আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়, মরচে ধরে, পোকায় খায়। কী হবে ভালোবেসে?"


যখন ছোট ছিলাম তখন কোথায় ছিলো এ বই????
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews776 followers
September 25, 2019
"দারুণ গাঁজাখুরি গল্প বলে ঝগড়ু। দুমকায় ওদের গাঁয়ে নাকি হয় না এমন আশ্চর্য জিনিস নেই। সেখানে সীতাহার গাছের পিছনে সূর্য ডুবে গয়ে যেই তার লাল আলোগুলিকে গুটিয়ে নেয়, অমনি নাকি আকাশ থেকে সোনালি রঙের অবাক পাখিরা বটফল খেতে নেমে আসে। তারা ডাকে না, কারণ তাদের গলায় স্বর নেই। তারা মাটিতে বা গাছের ডালে বসতে পারে না, কারণ তাদের পা নেই। এমনি উড়ে ফল খেয়ে আবার আকাশে চলে যায়। কিন্তু দৈবাৎ যদি একটা পাখির ডানা জখম হয়ে সে মাটিতে পড়ে যায়, আর ঠিক সেই সময় যদি তাকে শেয়ালে কী কুকুরে খেয়ে ফেলে, তা হলে সেই শেয়াল কী কুকুর মানুষ হয়ে যায়।"

কী চমৎকার উদ্ভট কল্পনা! আর এতো মায়ামাখা লেখনী!
Profile Image for Ratika Khandoker.
314 reviews36 followers
August 12, 2025
"....দুঃখ কি আর চিরকালের মতো ঘোচে,বোগিদাদা?সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বারে বারে ফিরে আসে।......."
বাণীতে ঝগড়ু।ঝগড়ু আবার কে? ঝগড়া করে বুঝি খুব?
না না!একটুও ঝগড়ূটে নয়,বরং হরেক রকম গালগপ্পে ওস্তাদ।
বুড়োটে এই ঝগড়ু, বোগি-রুমু দু'ভাই বোনের বাড়িতে কাজ করে।আর কাজের মাঝের ফাঁকা সময়টা নানা রকম গাঁজাখুরি গল্পে ভরিয়ে দেয়।
কি নেই সেই গল্পে?মণীসহ সাপ,জাদুর কাঁচের মাঞ্জা,পক্ষীরাজ ঘোড়া,বিচিত্র সব জীব-জন্তু আর এক অদ্ভুত হলদে পাখি!
আর এই সব গল্পগাঁথার উৎপত্তিস্থল তার গাঁ-দুমকা।
আহা!দুমকা যে কি এক আজব,রহস্যময় জায়গা,এমন সব কাণ্ড সেখানে ঘটে যা রূপকথাকেও হার মানায়।
বোগি-রুমু কিন্তু জানে,ঝগড়ুটা বড্ড বাজে বকে,তবু ঝগড়ু থেকে গল্প শোনার নেশা তাদের কাটেনা।প্রকাশ্যে দু'জন ঠাট্টা করে ঠিকই,আবার মনোযোগী শ্রোতা হয়ে গল্প ও শোনে বারেবার।
একদিন,তাদের পোষা কুকুর ভুলো,মুখে করে আনলো ঝগড়ুর গল্পের সেই হলদে পাখির পালক।
পরদিন থেকে ভুলোকে আর খুঁজে পাওয়া গেলো না!
ভুলোর অন্তর্ধান রহস্য,আর ঝগড়ুর দুর্দান্ত সব গালগপ্পের ঝাঁপি নিয়ে হলদে পাখির পালক পাঠক মনে উড়ি উড়ি,ঘুরি ঘুরি করে বেড়ায়।

গল্পখানা ক্লাস থ্রি পড়ুয়া কাজিনকে পড়ে শোনানোর চেষ্টা করেছিলাম।দেখলাম,বিশেষ আগ্রহ নাই,শোনে ঠিকই,বুঝতে পারেনা,প্রতিটা লাইন পুনরায় তর্জমা করে দিতে হয়।
হয়তো নিজে পড়লে বুঝতো,কিংবা হয়তো গ্যাজেটস এর ভিড়ে এই নির্মল ঝলমলে হলদে পাখির পালক কোথায় উড়ে গেছে!
যা-ই হোক,আমার দৃঢ় বিশ্বাস,শিশুতোষ বইয়ের টার্গেটেড পাঠক ছোটোরা হলেও,এর আসল মর্ম মনে হয় বড় বয়সেই বোঝা যায়।
নাহলে ঝগড়ুর মনের দুমকার সাজানো বানানো রূপকথার মাঝেও,সত্যিকার দুমকার জীর্ণ- দুঃখী দশাটা ভেসে ভেসে উঠতো না।
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
175 reviews1,359 followers
August 12, 2016
'বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিলো। কষ্ট পাবার ভয়ে কাউকে ভালবাসতো না, কোন মানুষকে না, কোন জিনিসকে না...
মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায় আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়। কী হবে ভালবেসে?'

বিশেষত এই অংশটার জন্য বইটা এতো প্রিয়। :)
Profile Image for Mahrufa Mery.
207 reviews117 followers
January 6, 2021
উফফ কি সুন্দর মায়া মায়া গল্প! এ গল্প ছোটবেলায় পাইনি কেন? ভুলোকে যেন চোখের সামনেই দেখতে পেলাম!
Profile Image for Tisha.
40 reviews63 followers
June 28, 2024
ছোটবেলায় যে এরিয়াতে থাকতাম সন্ধ্যা হলেই ইলেক্ট্রিসিটি চলে যাওয়া ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মোমবাতি জ্বালিয়ে কোনো কাজ না করে বসে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না, তবে নানান গল্প নিয়ে বসে থাকতো আমার মা। তার ছোটবেলার গল্প, ছোটবেলার কোন বইয়ে কোন গল্প ছিল, এলাকার কাদের সাথে খেলতে যেয়ে কিভাবে নানান হাস্যকর বা ভৌতিক ঘটনা ঘটতো বাদ পড়তো না কিছুই। এক গল্প অনেকবার শোনার পরেও সব নতুন লাগতো।
' তারপর কি হল, ঝগড়ু?' আমাকে সেই সময়ে ফিরে নিয়ে গেছে অনেকবার। যে লাইনটা মনে গেঁথে গেছে একদম -
'মানুষ চলে যায়,ভুলে যায়,মরে যায়, আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়, মরচে ধরে,পোকায় খায়। কী হবে ভালোবেসে?'
Profile Image for Towkir Ahmmed Rigan.
109 reviews18 followers
December 12, 2020
'যখনই ঘুম ভেঙে যায়, তখনই দেখি যেগে আছি'! - রুমু (ক্ষুদে দার্শনিক)
Profile Image for Subrata Das.
165 reviews19 followers
December 10, 2022
" সত্যি যে কোথায় শেষ হয়, স্বপ্ন যে কোথায় শুরু হয় বলা মুশকিল। "
Profile Image for Akash.
448 reviews154 followers
December 7, 2022
ঝগড়ুর মত ছোটোবেলায় আমার দাদুও আমায় কতশত গল্প শোনাতো। দাদুর সাথে শুধু গল্প শোনার লোভে ঘুমাতাম। সেই ছোট্টবেলা হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে জীবনের সব নির্মল সুখও যেন হারিয়ে গেছে। এখন শুধু বই পড়ার সুখ আছে।

আসলেই সব শখ মিটে গেলে, সব সুখ পেয়ে গেলে দুনিয়া ভাল লাগে না। কষ্ট পাওয়ার ভয়ে, হারানোর ভয়ে ভালোবাসতে মন চায় না।
Profile Image for Galib.
276 reviews69 followers
December 13, 2019
" সত্যি যে কোথায় শেষ হয়, সপ্ন কোথায় শুরু হয় বলা মুশকিল "

প্রথম দিকে বুঝতেই পারি নি এটা রুপকথার বই ! 😐
Profile Image for Shanin  Hoque .
27 reviews34 followers
August 14, 2021
'সত্যি যে কোথায় শেষ হয়,স্বপ্ন যে কোথায় শুরু হয় বলা মুশকিল!' - কি চমৎকার উক্তি!এই উক্তিটা বহুদিন অব্দি মনে থাকবে!

হলদে পাখির পালক নিতান্তই শিশুতোষ গল্প।তবুও,বড়বেলায় তা মন দিয়ে পড়ে ফেলা যায়।শুধু পড়া-ই যায় না, পড়া শেষে একটা আবেশ রয়ে যায়।এই আবেশ জাগানিয়া ক্ষমতা লীলা মজুমদারের ছিলো বলেই হয়তো তিনি জনপ্রিয় সাহিত্যিক হতে পেরেছিলেন।তাঁর বেশিরভাগ রচনা-ই শিশুদের জন্যে লেখা কিন্তু বড়রাও সেসব দিব্যি পড়ে নিয়ে মন ভালো করে ফেলতে পারে।দারুণ ব্যাপার না?!
Profile Image for Jenia Juthi .
258 reviews68 followers
March 6, 2022
"বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিল, কষ্ট পাবার ভয়ে কাউকে ভালোবাসত না, কোনো মানুষকে না, কোনো জিনিসকে না। মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায়। আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়, মরচে ধরে, পোকায় খায়। কী হবে ভালোবেসে?"

ঝগড়ু কিভাবে এতো গাঁজাখুরি গল্প বলে? হ্যাঁ? সব কি আর মিথ্যে?
Profile Image for Parichay Bhattacharyya.
11 reviews20 followers
January 15, 2024
'হলুদ পাখির পালক ' আমাদের ফেলে আসা শৈশবের গল্প যেন। অদ্ভুত মায়াবী এই বই, অজানা কোনো গ্রামীন মেলার গরীব জাদুকরের মতো মন ভালো করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। ঝগড়ু, বোগি, রুমু, নাথু, ভুলো, হলদে পাখি, ডানা না থাকা পক্ষীরাজ ঘোড়ার মতো সব চরিত্র। আর রয়েছে দুমকার মতো এক জাদুকরী গ্রামের গল্প।

"...তোমরা বড্ড বোকা, সুখী লোকরা হিংসুটে হবে না তো কারা হিংসুটে হবে? দুঃখীরা? দুঃখীরা তো সুখ কী তাই জানে না, তবে আর হিংসে করবে কেন?"

রুমু ঝগড়ুর কাছে অভিযোগ করে যে তার শুধু না পাওয়ার গল্প কেন? ঝগড়ু স্বপ্ন দেখে, তার স্বপ্ন-সত্যি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। " লোকে স্বপ্ন দেখে বোগিদাদা, আর কোনো দুঃখু তার গায়ে লাগে না, নেশা করবারও দরকার লাগে না।"

মার্কেজের "One Hundred Years of Solitude" সম্পর্কে NY Times একটি রিভিউ দিয়েছিল - ' Macondo oozes ; reeks and burns even when it is most tantalizing and entertaining. It is a place flooded with lies and liars and yet it spills over reality. "
ঝগড়ুর দুমকাও ঠিক যেন ' an earthy piece of enchantment.. filled with haunting creatures and events.'

"বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিল, কষ্ট পাবার ভয়ে কাউকে ভালোবাসত না, কোনো মানুষকে না, কোনো জিনিসকে না। মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায়, আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়, মরচে ধরে, পোকায় খায়। কী হবে ভালোবেসে ?"
Profile Image for জাহিদ হোসেন.
Author 20 books479 followers
April 27, 2024
কে জানি বলেছিল, বই হলো পোর্টেবল ম্যাজিক।

সহজে বহনযোগ্য। পাতা ওল্টালেই হলো, নিমেষে জাদুর দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া যায়।

তবে সব বই না। কিন্তু বইটা যদি লীলা মজুমদারের হয় তাহলে একশোতে একশো বইটা ম্যাজিকই হবে। তিনি যেভাবে ওস্তাদ জাদুকরের মত কাহিনী বুনেন, আমাদের হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলার স্মৃতি কোন এক মন্ত্রবলে অবলীলায় তুলে আনেন, মায়াময় নেশাধরানো একের পর এক শব্দ সাজান যে বইটার পোর্টেবল ম্যাজিক হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

বইটা ছোট্ট। হাতে নিলেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে মনে গেঁথে যায় রুমু, বোগি, কুকুর ভোলা, গল্পবলিয়ে ঝগড়ু আর তার অসম্ভব গ্রামখানা- দুমকা।
Profile Image for Afifah Mim.
38 reviews55 followers
July 6, 2023
অতিরিক্ত কিউট একটা বই!🤩😊
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Lubaba Marjan.
124 reviews50 followers
March 6, 2024
কি সুন্দর! যেন ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছি। এত্তো মায়া মাখানো। মনে পড়ে যায় ছোটবেলায় যখন নানুর হাতে ভাত খেতাম আর নানু গল্প শোনাতো। বলি কি লীলা মজুমদারের লেখায় জাদু আছে!
Profile Image for সারস্বত .
238 reviews136 followers
May 1, 2023
রুমু আর বোগির মন ভাল নেই। ভুলো কোথায় যেন চলে গেছে। কিছু ভাল লাগছেনা রুমু আর বোগির। রুমুর চোখে তো প্রায় জল। দিদিমা অবশ্য বলে, "আচ্ছা নেড়িকুত্তা কখনো পোষ মানে শুনেছিস? হাজার চান করিয়ে পাউডার মাখিয়ে, কানা-তোলা থালায় করে খেতে দিস, সেই এর বাড়ি ওর বাড়ি আস্তাকুড়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াবে।" কিন্তু ওদের মন তো মানে না।

বাড়িতে তো দিব্যি ছিলো ভুলো। অবশ্য কিছু দুঃখ যে ভুলোর ছিল না তেমন নয়। ঝগড়ুর পায়ের গুলি দাঁত দিয়ে কেটে নেবার শখ, রেবতীবাবুদের বেড়াল খাবার শখ, রুমু-বোগির দাদুর ইজিচেয়ারে বসবার শখ। এগুলো এখনো পূরণ হয়নি ভুলোর।

ঝগড়ু আর পারলো না বাচ্চাদুটির মনমরা মুখ দুটো এভাবে সহ্য করতে। বলল একেরপর এক নিজ দেশ দুমকার গল্প, হলুদ পাখির গল্প। দুমকার কাঁচ, দুমকার পাহাড়, দুমকার পক্ষীরাজ ঘোড়া, দুমকার পাহাড়ি ভালুকের মধু খেতে আসা, দুমকার ঘুমের নিদুলি মন্ত্র, দুমকা থেকে বাবা কাকার পালিয়ে যাওয়া আরও কত কিছু। ঝগড়ুর বুকের ভেতরের ফেলে আসা দুমকা যেন গল্প বলার নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে দুটো শিশুর কল্পনার চোখে স্পষ্ট হয়ে উঠলো। কিন্তু ঝগড়ু জানে সেই দুমকা এখন আর নেই।

তাও গল্পের বাঁকে বাঁকে ঠিকই মনে পড়ে যায় ভুলোর কথা। কিছু দুঃখ বাদ দিয়ে ভুলো তো সুখেই ছিল। রুমু ঝগড়ুকে জিজ্ঞেস করে, "সুখী তো পালিয়ে যায় কেন, ঝগড়ু?" উত্তরে ঝগড়ু বলল, "সুখীরা পালায় না কে বলেছে দিদি? সুখীরা পালায় ঐ সুখের কাছ থেকেই; দুঃখ পায় না বলে দুঃখকে খুঁজে বেড়ায়।"

তারপর একদিন ভুলো এলো কি এলো না সে তোমরা পড়ে নিও।

লীলা মজুমদারের শিশু-কিশোরদের জন্য লেখার মাঝেও বড়দের জন্য অনেক কিছু উপহার থাকে। বয়সের সাথে গল্প বদলে যায়। কিন্তু আবেদন হারায় না। ম্যাজিক লাইনগুলো চোখে এসে লাগে। মন মৃদু ভাবনায় শান্ত হয়ে ওঠে হঠাৎ যখন পড়তে পড়তে সামনে এমন লাইন আসে; 'মনের কথা যাকে তাকে বিলিয়ে দিতে হয়না।' কিংবা 'বলবার হলে বলবে, কারও মনের কথা কেঁড়ে নিতে হয়না।'
Profile Image for Munem Shahriar Borno.
204 reviews11 followers
July 24, 2024
লীলা মজুমদার এর লেখা ছোট্ট কিন্তু দারুন একটি গল্প 'হলদে পাখির পালক'। যতক্ষণ পড়েছি একদম ডুবেছিলাম এতে। ঝগড়ুর মধ্যে আমি আমার নানীজানকে খুঁজে পেয়েছি। কত না গল্প শোনাতেন নানীজান! কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যেতাম। কখনোবা নিজ জীবনের কোন অভিজ্ঞতার সাথে নানীর বলা খানিকটা গল্প মেশাতাম, অন্যরকম রোমাঞ্চ ছিলো সেসময়। এমনই এক গল্প "হলদে পাখির পালক"। সময়ে মনে হবে ভুতুড়ে, খানিকবাদে মনে হবে, 'আরেহ না! এটা কি সম্ভব?' কিন্তু লেখিকার চমৎকার গল্প বলার ধরন আপনাকে বিশ্বাস করিয়েই ছাড়বে!
Profile Image for Tawheeda Rufah Nilima.
294 reviews59 followers
June 30, 2021
"হলদে পাখির পালক" এর হাত ধরেই লীলা মজুমদার এর লেখার সাথ��� পরিচয় হলো। কি ভীষণ মায়া করে লেখেন উনি। এতো অদ্ভুত সুন্দর। একদম মুগ্ধ করে রাখে।
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
244 reviews16 followers
December 5, 2023
ছোটবেলায় এই বই পেলে ভালো হতো।ছোটবেলায় যেগুলা ফ্যান্টাসি থাকে,যা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই দিন পার হয়ে যেতো,বড় হলে সেগুলোই বাচ্চামি মনে হয়।"হলদে পাখির পালক" হচ্ছে ছোটবেলার বই।এই বয়সের জন্য না।
Profile Image for Faria Rahim.
15 reviews1 follower
January 18, 2026
লীলা মজুমদারের বই ভালো লাগে আমার! শিশুতোষ বই, তবুও পড়তে ভালো লাগে! রূপকথা টাইপ গল্প কিন্তু কিছু সময়ের জন্য বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে গল্পগুলা! 😁😁
Profile Image for Farhina Jannat.
114 reviews12 followers
June 22, 2021
শিশুতোষ বই। কিন্তু বেশ মজা লেগেছে শুনতে। স্পেশালি শেষের দিকে রুমুর একটা কথা শুনে এত হেসেছি যে কী বলব। এখানে বললে স্পয়লার হতে পারে আর সেজন্য হাসি নাও পেতে পারে 😂
ঝগড়ুর মতো মানুষ যে শিশুদের জীবনে থাকে, তাদের শিশুকাল নিঃসন্দেহে সুন্দর। আমার নিজের সেজ মামার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। তিনিও আমাদের ভাইবোন কে এভাবেই বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতেন। সেসব এখন তার নিজেরই মনে নেই। কিন্তু সেইসব দিনগুলোর কোনো তুলনা নেই।
ভবিষ্যতে বইটা সংগ্রহে রাখব ইন শা আল্লাহ। যাতে বাসায় আসা শিশুদের পড়তে দিতে পারি 😊
Profile Image for Jamimeeh.
51 reviews16 followers
April 3, 2022
"বোগিদাদা, সত্যি যে কোথায় শেষ হয়- স্বপ্ন যে কোথায় শুরু হয় বলা মুশকিল।"

মন উদাস কখন হয় জানো? বিকেলের মরা আলোয় যেখানে ঝগড়ু দুমকার গল্প বলে, শালবনের বাতাস বয়- আর রূমুর খালি কান্না পায় ভুলোর জন্য। ভুলোটা কই চলে গেল! মোমতলায়, রথের মেলায় রূমু খুজে বেড়ায় পাঁচ-ঠেঙো মাকড়সা আর সোনা-রুপোর মাদুলি। পাটকিলে চোখের কান-ছুঁচলো ছেলেটাকে হারালে ঝগড়ুর বউয়ের কস্ট হবে যে!

স্বপ্ন -সত্যির ক্ষীণ সীমারেখা যেখানে বিলীন হয়ে যায়, লীলা মজুমদার সেইখানে আমাদের নিয়ে গিয়েছেন 'হলদে পাখির পালক' বইয়ে।
Profile Image for Sayla Afroz Keka.
20 reviews1 follower
March 4, 2023
সবার জীবনে একজন ঝগড়ু থাকুক💗
10 reviews2 followers
June 14, 2021
ফ্যান্টাসি ঘরনার শিশুতোষ বড় গল্প; প্রায় ৪০ পৃষ্ঠার গল্প। শিশুতোষ হলেও কিন্তু অসম্ভব মুগ্ধ হলাম পড়ে। গল্পের অন্যতম চরিত্র ঝগড়ু। সে কাজ করে একটি বাড়িতে। অবসর সময়ে তার কাজ হলো বাড়ির দুই ছোট্ট শিশু বোগি আর রুমুকে তার শৈশবের বেড়ে ওঠা গ্রাম দুমকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বন জনঙ্গল, রীতিনীতি আর শৈশবের নানা গল্প,ঘটনা ফেব্রিকেইট করে বা রঙচঙ মিশিয়ে শোনানো। কিন্তু দুমকার যে গল্পগুলো সে বলে, সেগুলো একদম যেন চোখের সামনে ভাসতে থাকে। পড়ার সময় মনে হয় যেন ঝগড়ুর শৈশবের দুমকায় হারিয়ে গেলাম।
বোগি কিছুটা বড় হয়েছে। সে বই পড়তে শিখেছে, জানতে শিখেছে। ঝগড়ুর গাঁজাখুরি গল্পের ভুল ধরিয়ে দেয় সে বারবার। এতে ঝগড়ু রাগ করে গল্প থামিয়ে দিলে বোগি-ই আবার তাকে গল্প শেষ করার জন্য হয়রান করে। সাথে যোগ হয় তার ছোট্ট বোন রুমু।ছোট্ট রুমু পশুপাখির উপর আঘাত মোটেই সহ্য করতে পারে না। এ জাতীয় কোন গল্প শুনলেই সে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদা আরম্ভ করে আর ফ্রক তুলে চোখ মুছতে থাকে। আর তার ভাই বোগি রাগান্বিত হয়ে বলে, রুমু, ফ্রক নামাও, তোমার পেট দেখা যাচ্ছে। পুরো গল্পের প্রতিটা পরতে পরতে এরকম অসংখ্য মায়া জড়িয়ে আছে।
ঝগড়ু গাঁজাখুরি গল্প বলার সময় কি কি সব কঠিন কঠিন কথাও বলে ফেলে! যেমন -
“কে জানে সত্যি কোথায় শেষ হয়, স্বপ্ন কোথায় শুরু হয় ? …”
“বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিল, কষ্ট পাবার ভয়ে কাউকে ভালোবাসত না, কোনো মানুষকে না, কোনো জিনিসকে না। মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায়, আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়, মরচে ধরে, পোকায় খায়। কী হবে ভালোবেসে?
Profile Image for Dipanjan Das.
Author 8 books5 followers
June 21, 2021
বই: হলদে পাখির পালক
লেখক: লীলা মজুমদার
প্রকাশক: লালমাটি
মূল্য: ১৮০/-
আলোচক: দীপাঞ্জন দাস

লীলা মজুমদারের এই উপন্যাসটি ছোটদের জন্য লেখা। মূল চরিত্রে রয়েছে রুমু, বোগি, ঝগড়ু। ঝগড়ুর সাথে রুমু ও বোগির সম্পর্ক জমে উঠেছে বিভিন্ন অবিশ্বাস্য ঘটনা আলোচনায়। ঝগড়ু ওর গ্রামের বাড়ি দুমকার বিভিন্ন কাহিনি রুমু ও বোগিকে শোনায়। অবিশ্বাস্য লাগলেও রুমু ও বোগি তার মধ্যেই খুঁজে নেয় আনন্দ। মাছ ধরতে গিয়ে জলপরী খুঁজে পাওয়াই হোক কিংবা সাপের-মনি দেখেই হোক কিংবা ময়ূরের নারীর রূপ ধারণ করায় হোক, ঝগড়ুর প্রতি অগাধ বিশ্বাস জন্মায় দুই ভাই-বোনের। বোগিদের পালিয়ে যাওয়া কুকুর ভুলোর ঠোঁটে ছিল হলদে পালক। ঝগড়ুর ভাবনায় তা কোনো সাধারণ পাখির পালক নয়। সোনা-রূপোর মাদুলি ও পাঁচ পা-ওয়ালা মাকড়সা দিয়ে যাকে ফিরিয়ে আনা যায়।
সে বহুকাল গ্রামে যায়নি। তবুও তার কল্পনায় আঁকা রয়েছে গ্রামের প্রতিটা রাস্তা, ঘরবাড়ি, বন। তার বন্ধু নাথু বলেছে যে, সে নাকি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে। আর শিশুপাঠ্য লেখনীতে ও লেখক ঝগড়ুর মুখ দিয়ে বলিয়েছে যে, "সখীরা পালাই ওই সুখের কাছ থেকেই; দুঃখ পায় না বলে দুঃখ কে খুঁজে বেড়ায়।" যা গভীর বোধের পরিচয় বহন করে। শেষমেষ ভুলো ফিরে আসে। কিন্তু সত্যিই কি ভুলো হারিয়েছিল, নাকি সে ছিল ওদের মধ্যেই! জানতে পড়তেই হবে এই অসম্ভব সুন্দর বইটি।
সবশেষে লেখকের কথাতেই বলি,
"সত্যি যে কোথায় শেষ হয়, স্বপ্ন যে কোথায় শুরু হয় বলা মুশকিল।"
Displaying 1 - 30 of 61 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.