শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম অবিভক্ত ভারতের খুলনাতে (অধুনা বাংলাদেশ)। খুলনা জিলা স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে আসে। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় প্রথম জীবনে আনন্দবাজার পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন, ১৯৬১ সালে আনন্দবাজারে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ছোটগল্প ‘হাজরা নস্করের যাত্রাসঙ্গী’, ‘ধানকেউটে’ ইত্যাদি প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘বৃহন্নলা’, কিন্তু দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ‘কুবেরের বিষয় আশয়’ প্রকাশিত হওয়ার পরেই শ্যামলের লেখনী বাংলা পাঠকমহলে সমাদৃত হয়। ব্যক্তিজীবনে বোহেমিয়ান, সুরসিক ও আড্ডাবাজ ছিলেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা সন্তোষকুমার ঘোষের সাথে তাঁর মনোমালিন্য হওয়ায় যুগান্তরে যোগ দেন। যুগান্তরের সাহিত্য পত্রিকা অমৃত সম্পাদনা করতেন। ১৯৯০ সালে অবসরের পরে আজকাল পত্রিকা ও সাপ্তাহিক বর্তমানে নিয়মিত লিখেছেন। গ্রামীণ জীবন, চাষবাস, সম্পর্কের জটিলতা ইত্যাদি শ্যামলের রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
১৯৯৩ সালে শ্যামল সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হন ‘শাহজাদা দারাশুকো’ উপন্যাসটির জন্যে। এছাড়া তাঁর লেখা দেশ বিদেশের নানা ভাষাতে অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক উপন্যাস বলতে গেলেই আমরা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা ভাবি। এই বিশেষ উপন্যাসটি সেই ধারণা ভেঙে দিতে পারে। তথ্যনিষ্ঠ প্রকৃতি, ইতিহাসের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা, এবং অনন্য লেখনী এই উপন্যাসকে বাংলা সাহিত্যের স্থায়ী সম্পদ করে তুলেছে। না পড়ে থাকলে ঝটপট ত্রুটি সংশোধন করুন প্লিজ।
রাজ-রাজাদের নিয়ে যে কোন কিছু পড়লে/ভাবলে আমার কেবল মনে হয়, আহারে! ওরা কতো দু:খী!
হতে পারে সেটা আপেক্ষিক ব্যাপার। আমার কাছে যে সব জিনিস অনেক বড় বলে মনে হয়, ওদের কাছে সেটা নেহায়েত ক্ষুদ্র কোন বিষয়। একজন রাজার কোন পরিবার থাকে না, সন্তান থাকে না, থাকে না কোন বন্ধু। রাজার অন্যতম প্রিয় বন্ধু কেবল তার তরবারি, মেধা আর নসীব। রাজার পরিবার কিংবা সন্তান কেন থাকে না বলছি, এই যেমন মুঘল আমলের রাজাদের কথাই যদি ধরি, আকবরের অতি প্রিয় পুত্র, যাকে কিনা স্বয়ং বাদশাহ আকবর ডাকেন 'বাবা শিখু' বলে সেই শাহজাদা সেলিম মসনদে বসবার জন্য বিদ্রোহী হন। পিতার বিরুদ্ধে ধারণ করেন অস্ত্র। (যদিও আকবর প্রিয় পুত্রকে ক্ষমা করে দেন) আবার সেই একই মানুষ, শাহজাদা সেলিম, মসনদে বসে যখন হয়ে যান সম্রাট জাহাঙ্গীর, তার পুত্র 'বাবা খুররম' তথা যুবরাজ খুররম পরবর্তীতে বাদশাহ শাহজাহান করে বসেন মসনদ দখলের জন্য বিদ্রোহ। একজন রাজার মৃত্যু হলে সন্তানরা চোখের জল ফেলবার সময় পাননা। শুরু হয়ে যায় সিংহাসন দখলের লড়াই। ভাইয়ে ভাইয়ে চলে অবিশ্বাস, অন্তর্দ্বন্দ্ব। মসনদের জন্য একের রক্তে আরেকজন হাত রাঙাতে দ্বিধাবোধ করেন না। কী অদ্ভুত জীবন!
শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের সুবিশাল উপন্যাসের প্রথম খন্ডটা কেবল পড়ে শেষ করলাম। নাম শাহজাদা দারাশুকো হলেও কর্মকান্ডে মুঘলদের চতুর্থ সম্রাট-বাদশাহ জাহাঙ্গীরের শাসনকালের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয়েছে বইয়ের কাহিনি, সুলতান দারাশুকোর জন্মের কিছুকাল আগ থেকে। মুঘল সাম্রাজ্য তখন জমজমাট। সম্রাট জাহাঙ্গীর মসনদে বসলেও ভিতরে ভিতরে সমস্ত সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন সম্রাজ্ঞী নূরজাহান। রাজধানী থেকে দূরে, এক দুর্গে প্রায় অন্ধ অবস্থায় একাকী জীবন কাটাচ্ছেন মুঘল রাজপুত্র শাহজাদা খসরু। আরেক শাহজাদা আকণ্ঠ নেশায় নিমজ্জিত। সম্রাটের প্রিয় পুত্র সম্রাটের হুকুমে ব্যস্ত যুদ্ধ নিয়ে। ছোট পুত্র নিতান্তই বালক। আগ্রা দুর্গ আর তার বাসিন্দারা থাকুক তাদের মতো, হিন্দুস্তানের গরীবগুর্বোদের তাতে কিছুই আসে যায় না। তাদের জীবন শুরু হয় যেই দু:খ কষ্ট নিয়ে, শেষও হয় সেই একই ভাবে। সেই টিপিক্যাল হিন্দুস্তানীদের চরিত্র দারুণভাবে ফুটে উঠেছে সনাতন পাইক, তার বউ, রানাদিল, বিষ্ণুর মতো চরিত্রের মধ্য দিয়ে। সম্রাটের আহেদীদের হতে হবে 'মানবিক বোধশক্তি কম কিন্তু হুকুম তামিলের ক্ষমতা বেশি বেশি'। এর উলটো হলেই তুমি অযোগ্য। জীবন দিয়ে সেটার প্রমাণ দিয়েছে আহেদী মীর শফি। আগ্রা চলছে আগ্রার মতো... অন্ধ শাহজাদা হুট করে মৃত্যুবরণ করে, নেশারু যুবরাজকে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসা হয় যুদ্ধের ময়দানে। আরেক শাহজাদা বাগী (বিদ্রোহী) হয়ে ঘুরে বেড়ান পথঘাটে। শাহজাদার পুত্ররা জিম্মায় থাকেন সম্রাটের কাছে। সুখী গৃহকোণে স্ত্রী ও শায়ের নিয়ে থাকতে চাওয়া ঢলো ঢলো চোখের রাজপুত্রটিও রেহাই পায় না। ক্ষমতার আঁচে জ্বলে পুড়ে যায় সবাই। থাকে শুধু মসনদ, আর থাকেন স্বয়ং বাদশাহ।
বি.দ্র. গঙ্গোপাধ্যায় ভদ্রলোকের লেখার স্টাইলটা সুন্দর। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার ভালো লাগেনি বইয়ের। বাদশাহ জাহাঙ্গীরের আমলের দু:খ দুর্দশাগুলোই তুলে ধরেছেন বেশি করে। আরবী শব্দের ভুলভাল প্রয়োগ ছিল প্রচুর। আলহামদুলিল্লাহ, বিসমিল্লাহ ইত্যাদি শব্দের ভুলভাল প্রয়োগ অনেক বেশিই দৃষ্টিকটু বলে মনে হয়েছে। কাহিনির কিছু কিছু জায়গা অর্থাৎ 'সময়', 'ঘটনা' ইত্যাদি কিছু কিছু জায়গায় রীতিমতো লাফ দিয়ে এগিয়ে গেছে বলা চলে। আগে থেকে না জানা থাকলে প্যাচ লাগায় ফেলতাম। তাও অনেক জায়গায় প্যাচ লেগে যাওয়ায় উইকি মহাশয়ের সাহায্য নিতে হয়েছে -_- আরেহ! সবচেয়ে বড় কথা বলতেই ভুলে গেছি। ধরেন আরাম করে বিরিয়ানি খাচ্ছেন, খচ করে কামড়ে পড়লো একটা এলাচ। কেমন লাগবে বলেন তো? ঠিক তেমনি অস্বস্তি লাগছিল জাহানারার মুখে 'ভাইয়া' ডাকে। মুঘলদের মাঝে কি দিদি, মাসী ইত্যাদি শব্দের প্রচলন ছিলো? জানা নেই। (কখনও কোথাও পড়িনি হয়তোবা এজন্যেই বড্ড কানে বেজেছে শব্দগুলা।) এগুলো বাদ দিলে বেশ ভালো বলা চলে। মোটের উপর একটু স্লো ভাবে(ভালো স্লো ছিল, সাড়ে পাঁচ শ পেজের বই পড়তে জীবনেও এতো সময় লাগেনি) মুঘল সালতানাতের কাহিনি বয়ান করা হলেও সুন্দর লেখনীর গুণে বেশ উপভোগ্যই বলা চলে।
মহাকাব্যিক এক উপন্যাসের প্রথম খন্ড। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকাল থেকে শুরু হয়ে এই খন্ড দারাশুকোর যৌবনকাল পর্যন্ত সময়ের আখ্যান। মোগল সলতানাতের অন্দর আর বহির্মহলের এক উপভোগ্য উপস্থাপনা। গল্প চলছে, ইতিহাসের সত্যতা লঙ্ঘন না করে। দুর্দান্ত ভাষা আর গল্পের চমৎকার বাঁধুনি পাঠককে নিয়ে যায় প্রায় পাঁচশো বছর আগের ভারতে।
This is the first part of a historical novel (partly fictionised), which was initially published in a serialised manner (probably in Desh magazine). One problem with serialised narratives later being published as novels, is that they tend to become incredibly long and several narrative threads are woven into it, all of which need to be kept in mind, to get the complete picture.
The first part covers a large span of time, a significant episode of Mughal history; since the later part of the career of Emperor Jahangir. It has some references to Akbar's rule, his death etc. The protagonist of the novel, Shahajada Dara Shikoh is born after a few chapters, of Jahangir's 2nd son Shahajada Khurram(who would go on to become Emperor Shah Jahan)
A lot of aspects are narrated in a neutral manner. The text shows the lust for power, the condemnation of innocents, just because their lineage possesses a threat to the throne, fratricide etc. It also shows that how Dara is different, a poet and philosopher born in royalty, a heart that detests the cruelties that are associated with royalty. It also shows the coldness of his younger brother Aurangzeb and his growing resentment towards his elder brother.
But, this book does not concern itself with the elitist history, it also has multiple parallel narratives about the fate of some of the common people across the entire Mughal Sultanate (Tulsidas being part of it). It also explains the power structures in the Mughal Empire and how different factions compete for power. It gives an inkling into the economy, trade, warfare, art and culture etc. of the time. (So this must have required a significant amount of research by the author Shyamal Gangopadhyay)
This part ends with Empress Mumtaz Mahal's death, Shah Jahan's commencement of building the Taj Mahal in her memory, Dara's marriage and his father giving hints that he would become the next emperor; which Aurangzeb resents secretly.
So it is expected that part 2 will cover how Aurangzeb will become the emperor and remove Dara Shikoh from his path (something we know from history) and will certainly bring the other narrative threads to conclusion as well.