অদ্ভুতুড়ে সিরিজের সবচেয়ে দীর্ঘ উপন্যাস এটি, চরিত্রের সংখ্যাও অনেক বেশি। কাহিনীর মূলে ভূবনবাবুর বাড়ি, তাঁর বয়স পঁচাশি। একেক সময় একেক খেয়াল জাগে তাঁর। সেই খেয়ালেই বাড়িতে স্থাপন করলেন একটা গবেষণাগার, যদিও তিনি বিজ্ঞানের তেমন কিছুই জানেন না। এরপর কাহিনীতে ভূতপ্রেত, বিজ্ঞানী, পরী, মজার চোর, বাড়ির খ্যাপাটে কর্তা সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
বইটা বেশ মজার এবং ভাল লেগেছে। ভূত ক্লাবের মেম্বাদের উপর পোড়াবাড়ির জঙ্গলের ভূত গুলো সবাই ক্ষেপা, তাদের কাঁচা ঘুম ভাঙানোর জন্য। আর পাঁচু মোদক আর তার নতুন শারগেত ভূত বেচাকেনা করার নতুন কৌশল খুঁজছে। বাকি ভজঘট আর বিটকেলে রহস্যের খিটকেলে সমাধান জানতে পড়তে হবে অদ্ভুতুড়ে বইটি।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের দীর্ঘতম বই, নামও অদ্ভুতুড়ে। আরেকটা ব্যতিক্রম হলো, এটা আনন্দ থেকে নয়, বেরিয়েছে দে’জ পাবলিশিং থেকে। পড়তে খারাপ লাগেনি, তবে খুব যে ভাল লেগেছে, তাও নয়। গড়পড়তা বলাই ভাল। অন্যান্য বইয়ের মত একশো পৃষ্ঠার মধ্যে শেষ হলেই যেন ভাল হতো।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজে এত বড় বই আমি আগে পড়িনি৷ কিন্তু কেন জানি আমার কাছে ছোট পরিসরেই ভাল লাগে এ সিরিজটা৷ এ বইয়ের প্লট আসামান্য কিছু নয়৷ পড়তে পড়তে একটু বোরও লেগে গিয়েছিল। একই বিষয় নিয়ে আপ্যাচাল চলছিলই যেন। শেষটাও অতি সাধারণ। সব মিলিয়ে হতাশই হয়েছি।
নন্দবাবুর পরিবারটি বেশ মজার, তিনি এবং তার ভাইগুলো একেকজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বনির্ভর লোক, কিন্তু সেটা যেন তার বাবা ভুবন রায়ের চোখেই পড়ে না। দিন রাত ছেলেদেরকে এতোটুকুন বাচ্চাদের মত বকাঝকা আর হম্বিতম্বি করতে পছন্দ করেন তিনি। নন্দবাবু নিজে পাগল গোছের, দিন-রাত পড়ে আছেন ভূত নামানোর কারবার নিয়ে - তার মতো একই ধরণের খেয়ালি একদল লোক নিয়ে সপ্তাহে দু'দিন ভূত নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন। অথচ বড় ছেলেটি যুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। কিন্তু কারোর ভুবন রায়ের সামনে রা কাড়বার জো'টি নেই। সেজ যদুলাল কানে খাটো, ভীষণ জোরে রেডিও ছেড়ে বসে থাকেন। ডাকসাইটে বিক্রম রায়ের মা-জননী তার চেয়েও এককাঠি বেশি, উঠতে-বসতে বুড়ি দাসী মোক্ষদার সাথে ঝগড়া করেন।
এই নন্দলালের ভাইপো মানিক একটি মোটরবাইক কিনে বসলো একদিন। ভাইপোকে নন্দলালের পছন্দ নয়, আর অপছন্দের সরলসোজা কারণ হলো - "মানিক ভূত, ভগবান আর মাদুলিতে বিশ্বাস করে না।" কিন্তু ভাইপোর ঝকঝকে হেলমেটের দিকে এক তীব্র আকর্ষণ তৈরি হলো নন্দবাবুর। সেটি একবার চুরি করে পরে দেখবার বাসনায় তার মন কাতর হয়ে পড়লো। এক সন্ধ্যায় উপযুক্ত ফাঁক পেয়ে মনের ইচ্ছা মিটিয়ে ফেললেন তিনি, কিন্তু তারপরই শুরু হয়ে গেলো উদ্ভট সব কাণ্ড-কারখানা।
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ
সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল বা আবোল-তাবোল পড়ে যেধরণের একটা ছেলেমানুষি মজা পাই এখনো, শীর্ষেন্দুবাবুর "অদ্ভুতুড়ে' সিরিজের গল্পগুলো পড়লে ঠিক সেই ধরণের মজা লাগে। "মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি", "গোঁসাইবাগানের ভূত" থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি বই পড়া হলেও খেয়াল করে দেখলাম সিরিজের নামে নাম দেয়া বইটাই পড়া হয়ে উঠে নি তাই হাতে নিয়েছিলাম। কিভাবে যেন সময় চলে গেলো টের পেলাম না।
একটু হালকা কিছু পড়তে চাইলে বা মন ভালো করতে চাইলে এই সিরিজের বইগুলোর উপর কিছু নেই। নিজের বাচ্চা বয়েসের কথা মনে পড়ে যায়, সাথে ভারি একটা ভালো-লাগার সৃষ্টি হয়।
This was an absolute blast of a read. A light hearted comedy mixing in the so many superstitious follies Bengalis have their hearts. A definite recommendation for all ages.
ভীষণ রকমের বড়। অনেকবার ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটেছে। অনেক জায়গাতেই মনে হয়েছে অযথাই গল্প বাড়ানো হচ্ছে। এই সিরিজটা এমন যে ছোটো পরিসরেই একে স্যুট করে। তবে বরাবরের মতই গল্পকারের গল্পের গাঁথুনি ভীষণ ভালো।
বই পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে বোর হয়ে গেলে আমি অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বইগুলো পড়ি, যেখানে নিয়মের বেড়াজাল নেই, কঠিন যুক্তিতর্ক নেই। সেই ধারাবাহিকতায় পড়লাম এই সিরিজের সবচেয়ে বড় বই। গল্পের শুরু নন্দলালবাবুকে নিয়ে। ভৌত ক্লাবের সদস্য নন্দলাল বাবু সাধু-সন্ন্যাসীর মত জীবন-যাপন করেন। তবে ভাইপোর নতুন লাল হেলমেট দেখে খুব ইচ্ছে হলো সেটি পড়তে, কিন্তু জাগতিক মোহের প্রতি তো তার আকর্ষন থাকা চলে না। তবে মনের ইচ্ছেকে দমাতে পারলেন না তিনি। হেলমেট পড়ে বুঝতে পারলেন সেটা ঠিক সাধারণ কোন বস্তু নয়।
নন্দলাল বাবুর বাবা ভুবন রায় কড়া মেজাজের মানুষ। ছেলেদের এখনো কড়া শাসনে রাখেন। একেক সময় একেক বাতিক চাপে তার, কখনো বিজ্ঞানে, কখনো কবিতা লেখায়। বিজ্ঞান চর্চার জন্য একটা ল্যাবরেটরি বানিয়েছেন বাড়িতে। সেখানেই অদ্ভুত নানা জিনিস আবিষ্কার করেন তিনি, কখনো ভূত দেখার চশমা তো কখনো উড্ডয়নযন্ত্র। তবে সেগুলো কতটা কাজের আর কতটা অকাজের তা নিয়ে অবশ্য বেশ সন্দেহ রয়েছে।
ল্যাবরেটরিতে গবেষণার জন্য নিয়োগ পান দুলাল বাবু। এককালে কড়া মাস্টার হিসেবে তার কিছু নামডাক ছিল। এখন তিনি পুরোদস্তুর ভীতু, দুর্বল একজন মানুষ। একদিন ল্যাবে দুর্ঘটনায় এক রাসায়নিক ক্রিয়ায় ওলটপালট হয়ে গেল সব, তিনি যেন বদলে গেলেন ভিন্ন এক মানুষে।
ল্যাবরেটরিতে চুরির ধান্দায় এসে বসে ছিল পাচু মোহক। বয়েসে বৃদ্ধ হলেও ভীষণ ফিচেল চোর সে। গায়েগতরেও বেশ সুস্থসবল। বইয়ের সবচেয়ে অদ্ভুত চরিত্র ভুতো ভুবন বাবুর বাড়িতে আশ্রিত একটি ছেলে। তার অতীত নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও তার যে কিছু অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা আছে তা সবাই বুঝতে পারে। তার সাথে পরিদের যোগাযোগ আছে, যারা তাকে নানাভাবে সাহায্য করে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: অদ্ভুতুড়ে সিরিজে ছোট ছোট বই পড়ে অভ্যস্ত বলেই কিনা জানি না, এবইটা প্রয়োজনের তুলনায় টেনে বড় করা হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। অন��ক চরিত্রের ভীড়ে প্রথমদিকে বারকয়েক খেই হারিয়ে ফেলছিলাম, যদিও সময়ের সাথে সেটা মানিয়ে নিয়েছি। মাঝখানে দুলাল বাবু আর পাচু'র এডভেঞ্চার একটু বাড়তি মনে হচ্ছিল। খানিকটা বোরও হচ্ছিলাম মাঝপথে এসে। শেষটাও অসাধারণ কিছু না, লেখকও কিছু জায়গায় খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে মনে হলো। কিছুটা ভৌতিক, কিছুটা সায়েন্স ফিকশনের মিশেলে অদ্ভুত এক গল্প। লেখকের বর্ননা ভঙ্গি আর সাবলীলতাই গল্পের মূল আকর্ষণ। সিরিজের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় সাদামাটা হলেও অদ্ভুতুড়ে সিরিজ হতাশ করে না কখনো।
বই: অদ্ভুতুড়ে লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগত রেটিং: ৩/৫
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের সবচেয়ে বড় উপন্যাসটির নামও অদ্ভুতুড়ে। বইটি ২০০ পৃষ্ঠার, আর এই ২০০ পৃষ্ঠা জুড়েই অদ্ভুতুড়ে সিরিজের সমস্ত হাসিমজার অদ্ভুত-কিম্ভূত ব্যাপার রয়েছে ভরে ভরে। একটা বড় একান্নবর্তী পরিবার, তার নানারকমের বিটকেল সদস্য, বাড়ির ক্ষ্যাপাটে কর্তা, ভূত, পরী, বিজ্ঞানের ভেলকি, ড. জেকিল মি. হাইড গোছের কেরামতি, চোরের কীর্তি, কালা লোকের সাথে কথা বলতে গিয়ে বিড়ম্বনা, উদ্ভট থেকে উদ্ভটতর মজার ঘটনা - সব সব আছে এই বইতে। বড় আকারে লেখার ফলে প্রতিবার এই সিরিজে যে হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যাওয়ার একটা অভিযোগ থাকে তা এবারে করার জায়গাই নেই। বইটিতে কিছু অলংকরণ রয়েছে, তবে তা দেবাশীষ দেবের করা নয়। চেনা অলংকরণগুলির ধাঁচের নয়, তবে নিজের মতোনই বেশ ভালো।
নানারকমের সিরিয়াস বই পড়ার পর কিংবা নিজের মুডও যদি কোন কারণে সিরিয়াস হয়ে গিয়ে থাকে তবে এই বই একটি ভালো রিল্যাক্সেশনের উপায়।
সত্যি বলতে বইটি শুরু করার আগে কিছুটা সন্দিহান ছিলাম যে গল্পটি হয়তো অতটা ভালো লাগবে না। কারণ এটার অভারঅল রিভিউ/রেটিং তুলনামূলক এবোভ এভারেজ বলা যায়। কিন্তু আমার কাছে গল্পটি জম্পেশ লেগেছে। সিরিজের দীর্ঘতম বই কিন্তু কোথাও বলতে পারবো না যে বোর লেগেছে বা গতি মন্থর লেগেছে। প্রধান চরিত্র দুলালবাবু গল্পের প্রায় পুরো সময়টা "এন্টি-হিরো" এর ভুমিকায় থাকলেও পুরো সময়জুড়েই জমিয়ে রেখেছেন। দুলালবাবুর পর নিঃসন্দেহে এই যাত্রা জমিয়ে রেখেছে ভূবনবাবু। উনার বেখেয়ালি কীর্তিকলাপে কতবার যে হেসে উঠেছি ঠিক নেই। বেশ উপভোগ করেছি। এই সিরিজটি ইচ্ছে করেই শেষ করছি না। এত মজার সিরিজটা শেষ হয়ে যাবে ব্যাপারটা মেনে নেয়া আমার জন্য কষ্টকর।
সিরিজের সবচেয়ে দীর্ঘ কলেবরের বই মনে হয় এটাই। দুলাল স্যার আর ভূতোর চরিত্র দুটোকেই সবচেয়ে ভালো লেগেছে। তবে একটা সময় বিরক্ত হয়ে উঠেছিলাম দুলাল স্যার আর পাচুর কর্মকাণ্ডে। লেখক মনে হচ্ছে শুধুই টেনে গিয়েছেন এই দুটো চরিত্রকে নিয়ে। হেলমেটের কাহিনীটা মাঝখানে হারিয়ে গেলো। শুরুতে ওটার আবির্ভাব পড়তেই সবচেয়ে ভালো লেগেছিল। দুলাল স্যারের আগমনের পর গল্পটা রাবারের মতো বড় হতে শুরু করে। কিছুটা বোরিং কিন্তু পড়তে খারাপ লাগেনি। একটানা পড়ে যাওয়ার মতো বই নয়। সিরিজের অন্যান্য বইগুলোর মতো ছোট সাইজের হলেই বোধহয় বেশি ভালো লাগত।
কয়েকদিন আগেই শেষ করলাম এই বইটি। অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বইগুলি বেশ ভালো লাগে। তাই সেই ভেবেই পড়তে শুরু করেছিলাম। কিন্তু পড়ে ফেলার পর খারাপ না লাগলেও খুব ভালোও লাগেনি। চরিত্রের সংখ্যা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই তবে আমার মনে হয় যেন একই বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ লেখা হয়েছে। বৈচিত্র্য একটু কম, তবে রোমাঞ্চ রয়েছে ভালো মাত্রায়। কিছু কিছু জায়গায় খুবই হাসি পেয়েছে। কিন্তু ক্লাইম্যাক্সটা তেমন জমেনি আমার কাছে। শেষমেষ বলা যায় মোটামুটি লেগেছে আমার এই বইটি।
It's a light hearted tale of Dulal Sen, a peaceful school teacher who turned into a daredevil miscreant after a scientific accident. The story runs like a breeze with funny and unforeseen twists and new characters, some of which are even ghosts. Humane treatment of every character is what depicts Shirshendu's writing style. This novelette is no exception.
When I was little, I really loved reading Shirshendu Sir, but while reading this book I realized maybe it would have been more fun if I were reading while being little :)
ভীষন হাস্যরাত্মক ! বোঝাই যাচ্��ে এই বইয়ে লেখক লজিক কিংবা সাহিত্য মানের খুব একটা ধার ধারতে চাননি , প্রয়োজন ও নেই ! নাহয় এটা অত্যন্ত মজার অসাহিত্য হয়েই থাকলো!!! তবে হ্যা, বইটা খুব ইনজয় করেছি আমি
অদ্ভুতুড়ে অন্যান্য গল্প অদ্ভুতুড়ে হলেও বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়। এটা বাড়াবাড়ি রকমের গাঁজাখুরি। এবং প্রয়োজনের থেকে বেশি দীর্ঘ। যদিও লেখনশৈলী তুলনাহীন