এ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে গোলাম মুরশিদের গত দু বছরের বেশ কিছু প্রবন্ধ—নানা বিষয় এবং বিচিত্র স্বাদের। নারীবাদ থেকে সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা থেকে ভাষার বিবর্তন, সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে বাঙালির আদিখ্যেতা—আপাতদৃষ্টিতে এসব বিষয়বস্তুর মধ্যে কোনো মিল না-থাকলেও সত্যি সত্যি এসব রচনার মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার একটি ঐক্যসূত্র। সেটি মানবতার। মানুষ অভিন্ন। তা সত্ত্বেও লিঙ্গ, ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির দেয়াল তুলে মানুষ সেই অখণ্ড মানবতাকে ছিন্নভিন্ন করে প্রতিনিয়ত। মনুষ্যত্বকে বিনাশ করে আদর্শবাদ অথবা ডগমা খাড়া করে। কিন্তু লেখকের গভীর বিশ্বাস—দেশ, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য—সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষ। এর সবকিছুই মানুষের জন্যে। ‘মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’। সেই মনুষ্যত্বের গৌরব গাথা এই প্রবন্ধগুলি। সুদূর প্রবাসে, নানা সময়ে রচিত হলেও এ লেখাগুলোর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক কালে স্বদেশে মনুষ্যত্বের যে-নিষ্করুণ অপমান এবং অপচয় হয়েছে, সেই বিষাদের সুর। স্বদেশের জন্যে অশ্র“ক্ষরণ। বইয়ের নামকরণ থেকেই বোঝা যায়, যে-দুটি প্রসঙ্গ এই রচনাগুলোয় বারবার ঘুরে ঘুরে এসেছে, তা হলো: নারী আর ধর্ম। এমন কি, নারী আর ধর্মের যোগাযোগ। এ ছাড়া বিবর্তনবাদ, উপযোগিতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, বাঙালিয়ানা ও খণ্ডিত বাঙালি সংস্কৃতি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কথাও বারবার এসেছে। আর আছে প্রেম, পরিণয়, লোভ এবং লাভালাভ নিয়ে কয়েকটি রস-রচনা।
Ghulam Murshid (Bengali: গোলাম মুরশিদ) is a Bangladeshi author, scholar and journalist, based in London, England.
জন্ম ১৯৪০, বরিশালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. এ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে। পি এইচ ডি— ঐতিহাসিক ডেইভিড কফের তত্ত্বাবধানে। গবেষণার বিষয়, ঊনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু সমাজ সংস্কার আন্দোলন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু দশক ধরে অধ্যাপনা । মাঝখানে দু বছর কেটেছে মেলবোর্নে, শিবনারায়ণ রায়ের তত্ত্বাবধানে, পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা কর্মে। ১৯৮৪ সাল থেকে লন্ডন-প্রবাসী। | বেতার-সাংবাদিকতা এবং শিক্ষকতার অবসরে প্রধানত আঠারো শতকের বাংলা গদ্য এবং মাইকেল-জীবন নিয়ে গবেষণা। প্রধান নেশা গবেষণার— অতীতকে আবিষ্কারের । বারোটি গ্রন্থ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত বিদ্যাসাগর বক্তৃতামালার ওপর ভিত্তি করে রচিত গ্রন্থ: রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ, পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা (১৯৮১)। পিএইচ ডি. অভিসন্দর্ভের ওপর ভিত্তি করে লেখা সমাজ সংস্কার আন্দোলন ও বাংলা নাটক (১৯৮৫)। মহিলাদের নিয়ে লেখা Reluctant Debutante: Response of Bengali Women to Modernization (১৯৮৩) (বাংলা অনুবাদ: সংকোচের বিহ্বলতা [১৯৮৫]) এবং রাসসুন্দরী থেকে রোকেয়া : নারীপ্রগতির একশো বছর (১৯৯৩)। অন্য উল্লেখযোগ্য রচনা, কালান্তরে বাংলা গদ্য (১৯৯২), যখন পলাতক (১৯৯৩) এবং বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার আদি-পর্ব (১৯৮৬)। প্রবন্ধ সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২)। আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বক্তৃতা দান (১৯৯১-৯২)। ছদ্মনাম হাসান মুরশিদ। এই নামে একটি উপন্যাসও লিখেছেন।
A good book with a lot of good ideas and thoughts. Easy style of writing. Enjoyed some insighful writing on the background of Bangla Theatre movement and the role of women during those times. The humor and sarcasm used during the course of the books different chapters indeed was very much enjoyable.
Want to read some of his other great works in the future.
একজন অসামান্য লোকের বেসামান্য কাজ। যদিও সমাজে বিভিন্ন সময়ভেদে নারী প্রগতি তুলে ধরেছেন। কিন্তু অনেক বিষয় যেগুলোর ধর্মীয় কোন ভিত্তি নেই সেই গুলোকে লেখক গভীর ভাবে নিয়ে কেন লেখেছেন সেটা আমার বুঝে আসেনা।