Bookk Bipiner Songshar Book Category : Bangla Novel Book Bibhutibhushan Bandopadhyay
Book
The Book “Bipiner Songshar” is written by Bibhutibhushan Bandopadhyay. Bibhutibhushan Bandopadhyay is a popular Indian writer, novelist who is one of leading writer of bengali language. Bibhutibhushan Bandopadhyay born in 12th September, 1894 and died in 1st November, 1950. He is familiar for his autobiography novel “Pather Pachali” which novel is maked film by Satyajit Ray
Bibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি আমার বই যোগানোর প্রধান উৎস। এই বইটা বেশ অনাদরেই পড়ে ছিল গত ৮ বছর যাবৎ । সংস্করণ ১৯৯৮ সালের। পুরাতন বইয়ের গন্ধ পেয়ে পড়ার উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে গেল। এমনিতেও বিভূতিভূষণের বই সবসময়ই অসাধারণ লাগে। তাই লোভ সামলাতে পারলাম না। পড়েই ফেললাম। পুরো মুগ্ধ সহকারে পড়েছি বলতে গেলে। অনন্যসাধারণ আর একটা বই বিভূতিভূষণের।
গ্রামবাংলার ব্রাহ্মণ বংশের ছেলে বিপিন। কাজ করে জমিদার বাড়ির নায়েব হিসেবে। পরিবারে রয়েছে মা, স্ত্রী, ছোটো ভাই আর বিধবা বোন। এই সংসারের গণ্ডী ছাড়িয়ে বিপিনের মনোজগতে বিচরণ করে দুই বিবাহিতা যুবতী নারী, মাতৃস্থানীয়া এক মহিলা( যার সাথে বিপিনের বাবার সম্পর্ক ছিল) যাদের মূল্য বিপিনের সংসারের সদস্যের চেয়ে কম নয়। প্রতিটি চরিত্রই লেখক স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে এঁকেছেন।
এই লেখকের লেখা নিয়ে আমার বাড়াবাড়ি ধরনের ঘোর কাজ করে। ওনার বই হাতে নিলেই, ওনার লেখাগুলো ছাড়া আর কিছুই চোখে সামনে দেখিনা। আর এটার বেলাতেও তেমনি হয়েছে। কতো সুক্ষ্মভাবে অনেক কঠিন জিনিস সহজভাবে তুলে আনেন তিনি! ব্রাহ্মণ বিপিন কাজ করে নায়েব হিসেবে এক জমিদার বাড়িতে। এমন না যে, সে নায়েব হতে চেয়েছিলো,কিন্তু সংসার তাকে টেনে বসিয়ে দিয়েছে ওই পদে। এই সংসার বড়ই অদ্ভুত। আর সেটা আরো অচেনা লাগে যখন মন থাকে এক জায়গাতে আর গাঁটছড়া বাঁধা পড়ে অন্যখানে। বিপিনকে দিয়ে কি সুন্দর করে লেখক প্রেম, কর্তব্য, ভালোলাগা, ত্যাগ এসবের কথা লিখে ফেলেছেন! তবে বিপিনের উপর আমি ভারী রাগ। সে বারবার এতো মায়াতে বাঁধা পড়ে কেন!তাঁর স্ত্রী মনোরমার উপর এ কিন্তু ভারী অন্যায়। ওর জবানিতে যে পাতাগুলো ছিলো, সেগুলোতে কিন্তু ওর জন্য ভীষণ কষ্ট হয়েছে। তবে বিভূতিভূষণের কাছ থেকে আমি আরও বেশি কিছু আশা করেছিলাম। কি সেটা ঠিক বলতে পারবোনা-তবে অন্যান্য বইগুলো পড়ে মনের মধ্যে যে এক শুণ্যতা মেশানো ভালোবাসার জন্ম নেয়,সেটা এখানে হয়নি। অথচ আমি বিভূতিভূষণ বলতে পাগল।
পরলোকগত পিতা হতে পরিশ্রমী বা কৌশলী হবার মতো কোনো সদগুন আত্মস্থ না হলেও বাবুয়ানির বিলাসে বেহাত হয়ে যাওয়া বিস্তর জমিজমা খোয়ানোর পর বিপিনবাবুর খেয়াল হলো বসতভিটাখানি হাতছাড়া হলে পথে বসে ভিক্ষাবৃত্তির ও উপায় তাহার নাই।বাবুর আবার বড্ড মান সম্মান জ্ঞান কি না!!
মা লক্ষ্মী তো বিদায় নিয়েছেন ভারাক্রান্ত মনেই, সরস্বতীকে কাজে লাগানোর মতো সামান্য বিদ্যা বুদ্ধি ও যখন ঠনঠন গোপাল, শেষ ভরসা সেই পিতার পুরোনো পেশাই।নেপোটিজমের ধারনা হাল আমলে জোরেশোরে প্রচারিত হলেও প্রাচীন বাংলায় উঁকি দিলে প্রমান পাওয়া যাবে পরিচয় ভাঙ্গিয়ে সুবিধা আদায়ের বিস্তর ইতিহাস।
তা আমাদের বাবু মশাই আরামপ্রিয় আত্মাভিমানী (বটে!)এত কষ্টের কাজ উনার ঠিক ধাতে সহ্য হয় না।লোক ঠেঙিয়ে পয়সা আদায় করে জমিদারের ট্যাকে ঠিকঠাক জমা করার আগেই শতেক অজুহাত অভিযোগ সদা বিরাজমান। অথচ তাহার পিতৃদেব এই নায়েবগিরি করেই পালন পোষন করেছেন এত বড় পরিবারের.
ঠিক কি কারনে এই বিচিত্র চরিত্রের প্রতি মহিলামহলের মায়া মমতা কমতি নেই তা আমার কাছে রীতিমতো বিস্ময়কর।মানী বা মনোরমা অথবা শান্তি কিংবা কামিনী মাসীর এই দড়ি ছেঁড়া গরুর প্রতি অনুকম্পা অনুরাগ বা ভালোবাসা অনুভব ই কেমন করে জাগে তাও বোধে আসলো না আমার।
জীবনে চলার পথে এইসব লোকের দায় এড়ানো দার্শনিক চিন্তা আর বুলশিট সব বুলিকপচানো দেখে শুধু মনে হয়;
তোমার মতো এত বড় বোকাচন্দ্রের বোঝা ধরনী বা রমনী দুজনেই কেন সারাজীবন বয়!
বিভূতিভূষণের এক আধখান বিপিন না থাকিলেও তেমন কোন ক্ষতি বৃদ্ধি হতো না বাংলা সাহিত্যের।
মানুষের জীবনকে বিশ্লেষণ করার এক অসাধারণ নৈপুণ্যতা দেখিয়েছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি তার লেখনীতে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন অতুলনীয়ভাবে।
গল্পের মূল চরিত্র বিপিন, এছাড়াও রয়েছে তার স্ত্রী মনোরমা, ভাই এবং বোন। ছোটবেলার খেলার সাথি জমিদার কন্যা মানী। খেলার সাথীদের প্রেমে পড়া খুব ভয়ানক ব্যপার জীবনে। প্রেম যেন ছাড়তেই চায় না। কিন্তুু দুর্ভাগ্য হলো এই যে,সে জমিদারদের অধিনস্ত একজন নায়েবের ছেলে মাত্র। মানীর বিয়ের পর সে পা দিল নেশার জগতে। এক সময় বাবাকে হারালো আর নেশার বদৌলতে বাবার রেখে যাওয়া টাকাও নিঃশেষ হলো।
এদিকে সে নিজেও বিয়ে করল। ��িয়ের পর তার পারিবারিক আর্থিক দূরাবস্থা আরও চরমে উঠলো।এমন অবস্থা আর সহ্য করতে না পেরে চাকুরী নিল বাবার পুরোনো জমিদারদের অধীনে। সেখানেও সে বেমানান। জোর করে খাজনা আদায় করা তার হয় না।
একদিকে আর্থিক অনটন অন্যদিকে অল্প বয়সে বিধবা হওয়া বোনকে নিয়ে সাংসারিক, সামাজিক দূরাবস্থা যখন আর সামলাতে পারছিল না তখনই তার পাশে এসে দাড়ালো ভালোবাসার মানুষ মানী। নায়েবী করতে পারবে না জেনে ডাক্তারী বই দিয়ে ডাক্তারী শেখার সুযোগ করে দিল মানী। ভালবাসার মানুষের ছায়ায় চিরকালের অস্থির চিত্তের মানুষটি একটু একটু করে পরিণত হতে শুরু করল........
ইংরেজ শাসনের শেষ পর্যায়ে জমিদার প্রথা যখন বিলুপ্তির পথে সেই সময়কার পশ্চিম বঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জীবনের প্রেক্ষাপটে রচিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বিপিনের সংসার"। বিভিন্ন দিক থেকে এই উপন্যাসটি বিভূতিভূষণের অন্য উপন্যাস “একটি আদর্শ হিন্দু হোটেল”-এর সাথে মিল রয়েছে বলে আমি মনে করি। কাহিনীর দিক থেকে নয়, রচনা শৈলী ও চরিত্র নির্মাণের দিক থেকে।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিপিন: একজন ব্রাহ্মণ। বয়সে তরুণ। পিতার মৃত্যুর পর সংসারের সকল দ্বায়িত্ব বর্তায় তার-ই কাঁধে। যোগ দেয় পিতার পেশায়: জমিদারের নায়েব। কিন্তু প্রজা উৎপীড়ন করে টাকা আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সে চায় মানুষের কল্যাণ করতে; কল্যাণ না হোক অন্তত মানুষের উপর অন্যায়-অত্যাচার না করতে। জমিদার কন্যা তাকে পরামর্শ দেয় ডাক্তারি শিখতে। আর এভাবে শুরু হয় বিপিনের সত্যিকার অর্থে বেড়ে ওঠা।
একটি সাধারণ গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক জমিদার প্রথা, বর্ণপ্রথা, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, গ্রামে চিকিৎসার অপ্রতুলতা, শিক্ষার অভাব, কুসংস্কার ও বিধবা নারীর করুণ জীবনসহ সমাজের অসংখ্য অসঙ্গতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন পাঠকের সামনে।
খুব সাধারণ একটা গল্প খুব সহজ কিন্তু অত্যন্ত চমৎকারভাবে বলার এই অসাধারণ ক্ষমতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কারো আছে/ছিল কিনা আমার জানা নেই৷ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। জাদুকরের মন্ত্রের মতো মোহে আচ্ছন্ন করে রাখে।
বিপিনের সাথে কতোগুলো জীবনের বিশ্লেষণ করেছেন বিভূতিভূষণ! বিপিন,মনোরমা, মানী, শান্তি, বীণা.... জীবনের টানাপোড়েন, ত্যাগ, তিতীক্ষা, ভালোবাসা,দায়িত্ব। জমিদারের নায়েব হয়ে প্রজা উৎপীড়ন করতে চায়নি বিপিন। মানীর পরামর্শে ডাক্তার হয়েই অতি দরিদ্র মানুষগুলোর উপকারই করতে চায় সে। এক নারী যে কোনো পুরুষের জীবনকে কতোখানি পাল্টে দিতে পারে বিপিনের জীবনই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আগেকার গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ বিভূতিভূষণ কতো সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। সেই সাথে বর্ণপ্রথার কড়াকড়ি, গ্রামের মানুষের করুণ চিকিৎসা ব্যবস্থা, অভাবে অনটনের জীবন যাপন। বীণা কেন পায়না পটলদাকে....অথবা বিপিন পায়নি মানীকে....বিশ্বেশ্বর চক্রবর্তী জাতপাত সব ছাড়লো মতির জন্য,কিন্ত কি করূণভাবেই মারা যেতে হলো মতিকে। মনের গভীরে যেসব অনুভূতি আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করি,সেসবই বিভূতিভূষণ অত্যন্ত সহজভাষায় সামনে তুলে ধরেছেন বিপিনের ভাষায়...বীণায় ভাষায়... বড্ড ভালো লেগেছে এই বইটি পড়ে।
এই উপন্যাসে মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলা করেছেন লেখক। মানবচরিত্রে প্রেম, ভালোলাগা, কর্তব্য, বেদনা, ত্যাগের মত জিনিসগুলোই তুলে নিয়ে এসেছেন সূক্ষ্মতার সাথে। স্বভাবতই বিভূতিভূষণের অন্যান্য লেখার মতই প্রান্জল এই লেখাটিও। পড়তে পড়তে ঠিক চোখের সামনে সেই পুরনো দিনের গ্রামবাংলা ভেসে ওঠে, সেই সাথে উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রও বাস্তব হয়ে ধরা দেয়!
#পাঠ_আলোচনা: অবশেষে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধে জয়ী হয়ে আমার বিপিনের সংসার পড়া শেষ হলো। বইটার নামের মতোই পুরোটা গল্প ব্রাহ্মণ বংশের ছেলে বিপিনের সংসার যাত্রা নিয়ে। বইটাতে বিভূতি-ভূষণ বেশ দারুণভাবে বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন। বিপিনের সংসারে সদস্য বলতে আছে স্ত্রী, ভাই, মা, ছোট বিধবা বোন আর সন্তানাদি। এর বাইরেও আরো গোটা কয়েকজন আছে যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক না হলেও তার সাথে গভীর আত্মিক সম্পর্ক। আছে দুই বিবাহিতা নারী যাদের মায়ায় আটকে পরা বিপিন কখনো স্ত্রীকে আলাদা ভাবে ভাবতে শিখে নি। তার বাবা অনাদি বাবু ছিলো পলাশপুরের জমিদার বংশের নায়েব। প্রয়াত বাবা বেশ বড় অর্থ সম্পদ করে রেখে গিয়েছিলেন তাদের জন্য। রেখে খেতে পারলে কোনোদিন ভাতের অভাবে পরতে হতো না। কিন্তু সদ্য যুবক বিপিন কাঁচা পয়সা হাতে পেয়ে নষ্ট নেশায় ডুবে যায়। সকল অর্থসম্পদ, জমিজমা, ঘরের আসবাব, বউ বোনের হায়ের গয়না বিক্রি করে মদ নেশা মেয়ের পিছনে ফুর্তি করে উড়িয়ে একসময় দেনাগ্রস্থ হয়ে পরে। তাদের সংসারে নেমে আসে দারিদ্র্যের অভিশাপ। এরপর বিপিন তার বাবার পেশা গ্রহণ করে হয়ে যায় পলাশপুরের নায়েব। কিন্তু তার বাবার মতো সে অমানবিক ভাবে প্রজা ঠেঙ্গিয়ে পয়সা আদায় করতে পারে না। এরই মাঝে নতুন করে মেলামেশা হয় মানীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে হয় অঘোষিত ভালোবাসার বীজ বপন । সেই মানী তাকে একটা পথের হদিস দেয়। সেই পথেই সে তার পরবর্তী জীবন পার করে। হয়ে উঠে গ্রাম্য হাতুড়ি ডাক্তার। এরপর? এরপর আসে আরো নানা বৈচিত্র্য। বিপিনের পরিচয় হয় শান্তি নামের মেয়ের সাথে। তারপর তার সাথেও জড়িয়ে ফেলে নিজেকে। সারাজীবন বাউন্ডুলে ঘোরা বিপিন কি কখনো তার ঘরে পরে থাকা স্ত্রীর দিকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে? অবস্থাসম্পন্ন ঘরের মেয়ে কিভাবে চালাচ্ছে বিপিনের অভাবগ্রস্ত সংসার?
এই ছিলো বিপিনের সাথে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার সামান্য একটা অংশ। এর বাইরেও আরো নানা প্রতিকূল সময় তার জীবনে এসেছে। সব ঘটনাই বাস্তব সমাজের প্রতিচ্ছবি। বিপিনের সংসারের, বিপিনের সাথে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে। বিভূতি-ভূষণ গল্পের প্রয়োজনে উঠে আসা প্রতিটা চরিত্রই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বর্ণনা করে গিয়েছেন। এই বিপিনের সংসারে আছে পরিবার, সমাজ, দারিদ্রতা, দারিদ্রতার জয় সংগ্রাম, আছে নিষিদ্ধ কিছু দিক, আর সবার উপরে আছে প্রেম।
⛔ বাইন্ডিং, কোয়ালিটি ঠিকঠাক হলেও বইটার মধ্যে বানান ভুল ছিলো অত্যাধিক🚫
উপন্যাসটি দাঁড়িয়ে আছে দু'টো মিষ্টি পরকিয়াকে কেন্দ্র করে। ঠিক পরকিয়া বলা যায় না। তবে পরকিয়া বলতে আমরা যা বুঝি এটা তা নয়। অনৈতিক বা অবৈধ কিছু নয় এটি একটি মিষ্টি অপ্রকাশিত ভালোবাসা, দু'টো নর-নারীর মধ্যকার মনের ভালোবাসা যেটাকে আমরা প্রকৃত ভালোবাসা বলি। এ ভালোবাসা শুধুই মনের যে ভালোবাসা মুখে বলা হয় নিই, প্রকাশ করা হয় নিই।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বিপিন। মনোরমা,মানী এবং শান্তি প্রধান নারী চরিত্র। এদের মধ্যে মনোরমা বিপিনের স্ত্রী।
'মানী' বিপিনকে গড়েছে এবং তাকে পথ প্রদর্শন করেছে। মানীই বিপিনকে ডাক্তার হতে সাহায্য করেছে।
'মনোরমা' শক্ত হাতে বিপিনের সংসার আগলে রেখেছে। অনেক আর্থিক সমস্যার মাঝেও সুন্দরভাবে সংসারকে দেখে রেখেছে।
'শান্তি' বিপিনকে পরম শ্রদ্ধায় সেবা যত্ন করেছে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে ওকে সবচেয়ে বেশি যত্ন করেছে।
বিপিনের সংসারে একটি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। এ উপন্যাসে জমিদারি আমল যখন বিলুপ্তপ্রায়,তখনকার সামাজিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।ততকালীন মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা,জমিদারদের শোষণ এবং জীবনযাত্রার করুণ মান লক্ষ্যনীয়। একজন পরম বন্ধু কিভাবে একজন অলস,হাল ছেড়ে দেয়া মানুষের জীবনে আলোর পথ দেখাতে পারে,তা এই উপন্যাসটিতে ফুটে উঠেছে। মানুষের ইচ্ছাশক্তি তাকে কতদুর নিয়ে যেতে পারে তার একটি উৎকৃষ্ট প্রমান এই বই। পরিবার পরিজন থাকার পরেও পুরুষ একজন নারী দ্বারা কীরুপে প্রভাবিত হতে পারে এবং প্রভাবিত করতে পারে সেটিও উপন্যাসে দৃশ্যমান। ততকালীন পটভুমিকে বিভূতিভুষন মশাই বরাররের মতোই ছবির ন্যায় ফুটিয়ে তুলেছেন,যা মানুষের মন ভালো করে দেবার জন্য যথেষ্ট।
শুধু মনে হলো গল্পটা শেষ হলো কেন..!! এখনো বিপিনের জীবনের কতোটা পথ চলা বাকি.. বিভূতিভূষণ খুব খারাপ মানুষ, এতো কষ্টকর চরিত্র গুলো না দিলেও পারতেন ৷ ভাগ্যিস এরা কাল্পনিক আর না হলে ঈশ্বরের নাম তারা কখনো মুখেও আনতো না কিন্তু তবুও অস্তিত্বগুলো অনুভব করতে পারি... সব থেকে বেশী খারাপ লাগছিলো যখন জামীনি মারা যায়... কত কিছুই না সহ্য করেছে কে জানে..!!
ভালোবাসা বাস্তবতা মানে না। তবে মানুষ বাস্তবতার বেড়াজালে আটকায়। হয়তো 'ভালোবাসা' কথাটাই পুরাপুরি ব্যখা করা সম্ভব না। কখনো প্রেম হয়ে আসে, কখনো দায়িত্ব-কর্তব্য কিংবা বিরহে, না পাওয়ার গল্পে। তাই দিনশেষে সুখটুকু খুঁজে নেয়াটাই প্রাপ্তি। সুখ যে পুরোপুরি নিজের করে নিতে হবে তাও কিন্তু নয়। সুখী মানুষ সে-ই যে একদিন ভালোবেসেছে...
এটা কোনো রিভিয়্যু না। চাঁদের পাহাড়, আদর্শ হিন্দু হোটেল এর পর কারো অনুরোধে আমার বিভূতিভূষণের এইটা তৃতীয় পড়া। পুরটাই যেনো একটা ঘোর। ভালো একটা সিনেমা বা সিরিজ বা উপন্যাস পড়ার পর সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে এমন একটা অনুভূতি হয়- কি করবো এখন, কি করে পরবর্তী অলস সময় কাটবে, এমন সুন্দর পাঠ্য বা উপন্যাস কি পরবর্তী টা হবে?- বিপিনের সংসার ঠিক তেমন অনুভূতি দেয়ার মত একটা কিছু। ব্যাস, রিভিয়্যু শেষ।
বিপিনের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের সেবা করা এবং সে একটা পর্যায়ে গিয়ে ডাক্তারি করে অনেক অসহায় মানুষের সাহায্য করে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়। আবার এদিকে সে বিবাহিত হওয়ার পরেও অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসে এবং সে সেই ভালোবাসাটা প্রকাশ করে।
বিভূতিভূষণ এই গল্পে অনেক নিখুঁতভাবে ভালোবাসার প্রকৃতি বর্ণনা করেছেন।
কেনো এতো কষ্টকর চরিত্রগুলো দিলেন? কতোগুলো মনের সাথে খেলা করেছেন তিনি, এটা গল্প উপন্যাসেই সম্ভব নাহলে নিশ্চয় ক্ষমা পেতেন না তিনি.. উপন্যাসের বড় একটা অংশ এক লাইনে লিখলে এমন হতো যে, "বুক ফাটে তবু মুখ ফোটেনা"
ভাল তবে অন্যরকম। কেমন যেন ছাড়াছাড়ি ভাব। পড়ার সময় মনোযোগী হতে পারিনি সম্ভবত। মানি, শান্তি,মনোরমা সবাই বিপিনের দ্বারা প্রচ্ছন্নভাবে আচ্ছন্ন। এরকম কি আসলেই সম্ভব। আমার বিশ্বাস হয়না। আমি তো কাউকেই আচ্ছন্ন করতে পারিনা। আর এখানে বিনা চেষ্টায়। যাইহোক ভালই লেগেছে।
Bipin is the poster child of men who find every woman alluring, except their wife. It is still a Bibhutibhusan book with its gorgeous writing and characters who pull you into their lives. This book also had a undercurrent of longing and melancholy which I also liked.
পৈত্রিক সূত্রে জমিদারি দেখবার দায়িত্ব পায় বিপিন যদিও এই কাজে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বাড়িতে গিয়েও শান্তি নেই, সেখানে শুধু অভাব আর অভাবের কেচ্ছা শুনিতে শুনিতে তার কান পাকিবার যোগাড়, বউও কখনো আদর করে দু'টা ভালো কথা বলে না, বাড়িতে এক বিধবা বোন ও মৃতপ্রায় ছোট ভাই নিয়েও তার নানান সমস্যা। এই তিক্ত জীবনের মাঝেই একদিন জমিদার বাবুর মেয়ে , বিপিনের ছোটবেলার খেলার সাথী মানীর সঙ্গে দেখা। মানী এখন আর ছোট্টটি নেই, বাইশ কিংবা তেইশ বছরের বিবাহিতা নারী তবুও বিপিনের কাছে মানী যেন অন্যরকম। বাবার বাড়ির সকলের অজ্ঞাতসারে মানী বিপিনের সঙ্গে সুযোগ পেলেই কথা বলার চেষ্টা করতো তবে সেটা পরকিয়া সংঘটিত তা কিন্তু নয়। বরং বিপিন যেন ভালো কিছু করে জীবনে, অবহেলায় জীবনটা নষ্ট না করে তাই ছিল দু'জনের দেখা সাক্ষাৎ এর আলোচ্য বিষয়। যদিও দু'জনের মনে যে একে অপরের প্রতি এক প্রকার দুর্বলতা সৃষ্টি হয়নি সেকথা বললে ভুলই হবে।
এরপর তো কেটে গেল অনেকটা বছর। মানীর স্নেহাশীষ আচরণের সংস্পর্শে এসে বিপিনের জীবনকে দেখার প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বদলে গেল। কোথাকার এক অজপাড়া গাঁয়ের নায়েব আজ হাতুড়ে ডাক্তার। আশেপাশের নারীদের সংস্পর্শের দরুণ তার গভীরভাবে উপলব্ধি হলো যে একইজাতের হলেও নারীদের ভালোবাসা ব্যক্ত করার ধরণ কতই না ভিন্ন - কেউ তার স্ত্রী মনোরমার মতো যার কাছে সংসারের দায়িত্ব ও পরিবারের সকলের সেবা করার অর্থই ভালোবাসা, কেউ দত্ত মহাশয়ের মেয়ে শান্তির মতো যার সকল ধ্যান কেবল স্নেহভাজন মানুষটিকে সেবা-যত্ন করার মধ্যেই অন্তর্নিহিত, কেউ বা কামিনী মাসীমার মতো যার কেবল প্রিয়তম মানুষটির কথা বলেই দিন পার করতে ভালো লাগে, আবার কেউবা মানীর মতো যারা চায় তাদের প্রিয় মানুষগুলো জীবনে সমৃদ্ধি লাভ করুক।
বিভূতিভূষণের অন্যান্য গল্পের তুলনায় এই গল্পটি একেবারে ভিন্ন ধাঁচের। আমাদের আশেপাশের মানুষ ও তাদের স্বভাব , চাল-চলন সূক্ষ্মভাবে লেখক তুলে ধরেছেন যেন মনে হচ্ছে এই তো আমাদের সমাজেরই খন্ডচিত্র।