Jump to ratings and reviews
Rate this book

ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল

Rate this book
পশ্চিম দিগন্তের একটুখানি আলো এসে পড়ল পুবের আকাশে। সেই নবজাগরণ। তার আকস্মিক সম্পাতে যখন অনেকে দিগভ্রান্ত, কেউ বা পথচ্যুত কিংবা বিদ্রোহী, তখন প্রথম উষার সবটুকু উষ্ণতা গ্রহণ করে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি যেন সারা দেশের ঘুম ভাঙাবার ভার নিয়েছিল। নবজাগরণের সেই পর্বে নারীজাগৃতির যে-আয়োজন শুরু হয়েছিল, এই বাড়ির মহিলারা সেই কাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। সামাজিক বিধিনিষেধ আর ঘেরাটোপের রহস্য ছিন্ন করে তাঁরা ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। অন্ধকার ঘরে সহসা প্রদীপ জ্বলে ওঠার মতো তাঁদের সেই আত্মপ্রকাশ আজও অবিশ্বাস্য।স্মৃতি-বিস্মৃতির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা ঠাকুরবাড়ির সেইসব অঙ্গনাদের গৌরবময় ভূমিকা কখনওই হারিয়ে যাওয়ার নয়। চিত্রা দেব এই গ্রন্থে ঠাকুরবাড়ির ভিতরমহলে আলো ফেলে উদ্ভাসিত করেছেন সেদিনের চমকপ্রদ ইতিহাস। ইতিমধ্যে বিপুল জনপ্রিয় এই গ্রন্থ এবার আরও পরিবর্ধিত কলেবরে, আরও চিত্র সমাহারে। ঠাকুরবাড়ির অন্তঃপুরের এমন অন্তর্মুখী কথা এর আগে আর লেখা হয়নি।

464 pages, Hardcover

First published December 31, 1999

22 people are currently reading
348 people want to read

About the author

Chitra Deb

12 books8 followers
বাংলাভাষা ও সাহিত্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উপাধি লাভ করে চিত্রা দেব মধ্যযুগের এক অনাবিষ্কৃত মহাভারতের ওপরে গবেষণা করে ডক্টরেট পেয়েছেন। কবিচন্দ্রের মহাভারত, বিষ্ণুপুরী রামায়ণ, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল ও ময়ূরভট্টের ধর্মমঙ্গল সম্পাদনা করেছেন একক ও যৌথভাবে। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর নিরন্তর গবেষণার উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি রয়েছে বিদগ্ধ মহলে। মধ্যযুগীয় সাধারণ মানুষ ও পুঁথিপত্র সম্পর্কে লিখেছেন একটি প্রবন্ধ সংকলন ‘পুঁথিপত্রের আঙিনায় সমাজের আলপনা। বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ঠাকুরবাড়ির মহিলাদের ভূমিকা নিয়ে লেখা তাঁর অপর উল্লেখযোগ্য গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল’। অনুবাদ করেছেন প্রেমচন্দের হিন্দী উপন্যাস ‘গোদান’ ও ‘নির্মলা’। বাংলার নারী জাগরণের বিভিন্ন তথ্য সংকলনে ও বৃহত্তর গবেষণা করেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার গ্রন্থাগার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রয়াণ : ১ অক্টোবর, ২০১৭।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
39 (33%)
4 stars
52 (44%)
3 stars
23 (19%)
2 stars
3 (2%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
August 2, 2016
সুলিখিত বই যেটাকে বলে, এ বই হচ্ছে সেটা। এতো ভালোভাবে কিভাবে লেখা সম্ভব?

বইয়ের শুরুর প্যারার কথা নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, এটুকু পড়লেই তো যে কেউ এই বই পড়ে ফেলতে চাইবে। আর শেষ নিয়ে বলতে হয়, এতো চমৎকারভাবে উপসংহার দেয়া যেত কি? আর মাঝের অংশটুকু? ওটা নিয়ে তো বলতে পারবো না বাপু!
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews774 followers
January 20, 2019
Beauty with brain বলে গালভরা একটা কথা আছে। কেবল স্বর্ণকুমারী দেবী কিংবা প্রতিভা বসু নয়, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রমণীরা প্রত্যেকেই এই উপমায় গৌরবিণী। জেনেটিক্সকে ধ্রুব সত্য মেনে নিলে ঠাকুরবাড়ির মহিলারা বংশপরম্পরায় সংগীত শিল্প সাহিত্য সব ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে এতে আর বিচিত্র কি! তবে কিনা "হার্ড ওয়ার্ক ক্যান বীট ট্যালেন্ট" কথাটাও একেবারে মিথ্যে নয়। তাই অন্য বংশের মেয়েরাও বধূ হয়ে পিরালি বংশে এসে কম মহিমা দেখায়নি। সেই উনিশ শতকেও ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা স্বামীর বিনে মাইনের চাকরানি ছিলনা। বরং অল্প বয়সী বধূকে শিখিয়ে পড়িয়ে পতির যোগ্য সহধর্মী হিসেবে গড়ে তোলাটাই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। পরিবারে তাঁদের সম্মানের কোনো কমতি ছিলনা। অন্দরমহলে সারাদিন ধরে চলত শিল্প-সাহিত্য চর্চা।

শুধু কি শিল্প সাহিত্য?! সমাজ সেবা, চিন্তাচেতনা কিংবা শিক্ষাক্ষেত্রেও পিরালি পরিবারের মেয়েরা কোনো অংশেই এখনকার তুখোড় নারীবাদীদের চাইতে কম কিছু ছিলনা। বরং শুধুমাত্র পরিবারের অনুপ্রেরণা আর অবাধ স্বাধীনতা পেয়ে সমাজে চলতে থাকা স্রোতের বিপরীতে গিয়ে তাঁরা কাল পানি পারি দেয়ারও সাহস করেছিল। অথচ সেযুগে অনেক পুরুষ মানুষও জাত যাবার ভয়ে এই সাহস করতো না!

কথায় আছে যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা রন্ধনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাবার পাশাপাশি দক্ষ হাতে জমিদারীও সামলেছে। ঘোড়া চালাতেও অনেকেই পটু ছিল। এখানে বইয়ের একটা অংশ কোট করার লোভ সামলাতে পারছিনা।

ভোরের আলো আকাশের সীমা ছাড়িয়ে সবে নেমে এসে পড়েছে বাড়ির ছাদে, অন্ধকারের আবছা ওড়নাটা তখনও একেবারে সরে যায়নি, এমন সময় শিশিরভেজা ঘাস মাড়িয়ে রুক্ষ পথের বুকে এসে নামে দুটো আরবি ঘোড়া। সদর ছাড়িয়ে জোর কদমে এগিয়ে চলে গড়ের মাঠের দিকে। দারোয়ান কাজ ভুলে যায়। প্রতিবেশীরা হতভম্ব। রাজপথের লোকেরা অবাক। এ কী কান্ড? বিস্ময়ে গালে হাত দিয়ে তাকালে একে অপরের দিকে। সবাই চেয়ে আছে। কিন্তু সেদিকে তাকাবার সময় কই আরোহীদের। না, ভুল বলা হল বুঝি। দুজন আরোহী কোথায়? একজন যে আরোহিণী! আরোহণী? চোখের ভুল নয় তো? কলকাতার রাস্তায় ঘোড়ায় চড়া মেয়ে? তাও মেমসাহেব নয়, বাঙালি। পথিকেরা থমকে দাঁড়ায়। শুনে চোখ কপালে ওঠে পড়শিনীর। না, আর কোনও ভুল নেই। ওই তো আঁটসাঁট পোশাকে দৃপ্ত ভঙ্গিতে ঘোড়ার পিঠে বসে আছেন কাদম্বরী, ঠাকুরবাড়ির জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী। ঘোড়ায় চড়ে বেড়াতে চলেছেন স্বামীর সঙ্গে, ময়দানের দিকে।


শুরুর এই এক প্যারা'ই যথেষ্ট ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল পড়ার লোভ সৃষ্টি করবার জন্য। লেখিকার কৃতিত্ব বলতে হবে। যদিও পড়ার গতি বাড়ার সাথেসাথে সম্পর্কের ঘোরপ্যাঁচ ও বাড়তে থাকে। সেসব হিসেব না কষে শুধুমাত্র পাতার পর পাতা পড়ে গেলে বেশ সুখপাঠ্য একটা বই।
Profile Image for Amanna Nawshin.
191 reviews56 followers
March 20, 2018
অন্দরমহলের গল্প বলতে তো বাড়ির ভেতরের গল্পই বোঝায়, কিন্তু এখানে অন্দরমহলের বাহিরে এসে ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা কিভাবে নিজেদেরকে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন সেই গল্প বলা হয়েছে! বিশাল পরিসরে ঠাকুরবাড়ির মোটামোটি সব রমনীদেরকে এক কভারে বন্দী করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন লেখিকা। তবে ঠাকুরবাড়ির এতো এতো রমনীদের শুধুমাত্র বই পড়ে সেভাবে মনে রাখা ভালোই কষ্টকর! আমি এরই মধ্যে সবার নাম এবং সম্পর্ক বেশ ভালোভাবেই গুলিয়ে ফেলেছি, অনেকটা মিথলজির মতো। লেখিকা বইয়ের শেষে বা শুরুতে একটা ফ্যামিলি ট্রী এঁকে দিলে সুবিধা হতো!
ঠাকুর বাড়ির মহিলাগন করতেন কি, যে তাঁদের নিয়ে এতো হইচই!? আমাদের উপমহাদেশে যখন মহিলারা কেবল ঘর-সংসার এবং বাচ্চাকাচ্চা পালনে ব্যস্ত ঠিক তখনই ঠাকুর বাড়ির মেয়েরা ঘরের বাহিরে এসে দেখিয়েছেন যে এছাড়া আরও অনেক কাজই রয়েছে মেয়েদের। আর সেই র‍্যাভল্যুশন আনতে গিয়ে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাদের, জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর কথা পড়তে গিয়ে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যায়। সত্যি কথা বলতে কি এই মহিলাকেই আমার ঠাকুরবাড়ির সবচেয়ে স্ট্রং ক্যারাক্টার বলে মনে হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে স্বর্ণকুমারী দেবীর চেয়েও বেশি! অথচ জ্ঞানদানন্দিনী ছিলেন ঠাকুরবাড়ির বউ! তবে বউ-মেয়ে বলে কোন কথা নয়, ঠাকুরবাড়িতে সব রমনীই যেনো হয়ে উঠেছিলেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে মহিয়ষী! কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে বেড়িয়েছেন, কেউবা বিলেতি কায়দায় গাড়িতে চড়ে, একাকী বিদেশ ভ্রমণ করে, পড়াশোনা করে, কখনো বা লেখালেখি করে, নাটকে অভিনয় করে, আবার কখনো পোষাকে বৈচিত্র এনে, আবার কখনোবা রান্নায়, আবার কেউ কেউ ঘরের ভিতরে থেকেই ভালোবাসা দিয়ে ঘরের সব মানুষগুলোকে বেধে রেখেছিলেন এক সুতায়।
পড়েছি আর অবাক হয়েছি; তবে একটা ব্যাপার না বললেই না। সব পুরুষের সাফল্যের পেছনে যেমন একজন নারীর অবদান থাকে ঠিক তেমনি সব নারীর সাফল্যের পেছনে একজন পুরুষের অবদান থাকে! ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা যেসকল অসাধ্যগুলো সাধন করেছেন তার নেপথ্যে ছিলেন তাদের কারো পিতা, বা স্বামী! সেই মানুষগুলোর একচেটিয়া সমর্থন না পেলে হয়তো এতোসব করা সম্ভব হতো না! তাই ঠাকুরবাড়ির মেয়েদের সাথে সাথে সেই পুরুষদেরও সাধুবাদ জানাই।
একটা ব্যাপার খুব মজা লেগেছে! ঠাকুরবাড়ির মানুষগুলো নিজেরাই নাটক লিখতেন, আবার নিজেরাই নাটকের পাত্র-পাত্রী হয়ে নাটক মঞ্চস্থ করতেন নিজেদের বাড়িতে, নিজেদের মধ্যেই! আর এই চল রবীন্দ্রনাথের সময় থেকেই চালু হয়! ঘরের ভেতরে হওয়ায় কেউই তেমন কিছু বলতেন না, যদিও আস্তে আস্তে ঘরের বাহিরে এসে নাটক করার চল ঠাকুরবাড়ি থেকেই গোড়াপত্তন হয়।
যাই হোক, বিশাল এই পরিবারের সবার গল্প পড়তে পড়তে যখন মোটামোটি হিমশিম খাচ্ছি ঠিক তখনই গল্প শেষ হয়ে গেলো। ঠাকুরবাড়ি ভেঙ্গে এখন নতুন করে তৈরি হচ্ছে, অনেক সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার স্বাক্ষী সেই দেয়ালগুলো ভেঙে পড়ার শব্দ যেনো শুনতে পাচ্ছি! কেমন একটা হাহাকারসম ফিলিংস! একে একে সময়ের কঠিন থাবায় সব মানুষগুলো হারিয়ে গিয়েছে, শুধু বেঁচে আছে তাদের কর্ম!
Profile Image for Mahrufa Mery.
206 reviews117 followers
January 5, 2021
এই বইটার ব্যাপারে অল্প কথায় কিছু বলে ফেলা কঠিন। ঠাকুরবাড়ির সবচেয়ে পরিচিত চরিত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলেও ততকালিন বাংগালী সমাজে ঠাকুরবাড়ি যে পরিবর্তনের হাওয়া নিয়ে এসেছিলো, তার সূচনা করেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, যিনি রবী ঠাকুরের সম্পর্কে দাদা হন। তারই পুত্র রবী ঠাকুরের পিতা এবং শান্তিনিকেতন তথা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্তনকারী মহর্ষী দেবেন্দ��রনাথ ঠাকুরের নামও কখনো ইতিহাস থেকে মুছে যাবার নয়। তা এহেন একপ্রকার মৌন সামাজিক বিপ্লবের সূচনাকারী বাড়ির মেয়েরা কেমন ছিলেন? এই বইটি পড়লে মূলত তারই ধারনা পাওয়া যায়। ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক স্কুল খ্রিস্টের জন্মের ১২০০ বছর আগে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৩,২০০ বছর আগে স্থাপিত হয়, সেখানে বাংলায় মেয়েদের প্রথম স্কুল হয় মাত্র ১৫০ বছর আগে। আর সেই স্কুলের প্রথম ৫ ছাত্রীর ভেতর ২ জন ছিলেন ঠাকুরবাড়ির। অভিজাত ধনী সমাজের সদস্য হিসেবে ঠাকুরবাড়ির মেয়েদের শিক্ষার জন্য স্কুলে যাবার দরকার ছিল না, বাড়িতে শিক্ষকের কাছে অনায়াসে পড়তে পারতেন তবু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বাড়ির মেয়েদের স্কুলে পাঠানো শুরু করেন যাতে সমাজের অন্যান্যরাও ভরসা পেয়ে তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠায়। এটা সমাজকে বদলে দেবার চিন্তা ছাড়া আর কি? এটা সেই সময়ের কথা যখন বাড়ির নারীরা চৌহদ্দির বাইরে পা দিতে পারতেন না, ঘরবন্দি হয়ে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় সারাজীবন কাটিয়ে দিতে হত। আজকের মেয়েরা কি উপলব্ধি করতে পারে ব্যাপারটা কেমন? এটা ঠিক যে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে বাইরের হাওয়া ঢুকবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন সে বাড়ির পুরুষ সদস্যরাই কিন্তু ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা অনন্যা হয়ে উঠেছেন নিজের মেধা, ইচ্ছা ও যোগ্যতাতেই। তাই পুরো সমাজের সবার কাছেই এ বাড়ির মেয়েরা ছিলেন কৌতুহল ও আলোচনার বিষয়বস্তু। বাংলায় ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা সর্বপ্রথম ঘরের বাইরে বেরোতে শুরু করেছিলেন, বাইরের সমাজে সভ্যতার সংগে শাড়ি পরে বেরোবার অভিপ্রায়ে প্রবর্তন করেন ব্লাউজের। বাইরের আলো দেখা বা খোলা আকাশ দেখা যখন অন্য অভিজাত পরিবারের মেয়েদের কাছেও আকাশকুসুম স্বপ্নসম, তখন ঠাকুরবাড়ির বৌ স্বামীর সঙ্গে ঘোড়ায় চড়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন, কালাপানি পাড়ি দিয়ে গিয়েছিলেন বিলেতে। এ বাড়ির মেয়েরা গান, নাচ, রান্না, অভিনয়, সাহিত্য তথা সাংস্কৃতিক অংগনেই মূলত তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও তারা ঘরের বাইরে গিয়ে করেছেন সমাজ সেবা, এজুকেশনাল ডিগ্রী পাওয়া প্রথম ক’জন নারীর ভেতরে ছিলেন ঠাকুর বাড়ির মেয়ে। তারা নারী শিক্ষার প্রসারে কাজ করেছেন, ঘর ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়েছেন, অবিবাহিত থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমনকি ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রীস্টান হয়েছেন। লেখাপড়া তাদের করতেই হত। ঠাকুর বাড়ির মেয়ে বাংলা ছেড়ে একদম অন্য স্টেটে গিয়ে সেই সময়ে ইংলিশ না জেনেও ২৭ বছর বয়সে বিধবা হয়ে ইংরেজ শাসকের সাথে সমন্বয় করে পুরো জমিদারি চালিয়েছেন যা কিনা এখনকার সময়েও অনেকের কাছে কষ্ট কল্পনা। বইটা পড়ে মনে হবে অনেক কাজই তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিংবা সাহসী নয় কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে, যেকোন প্রথম কাজ যা কেউ আগে কখনো করেনি বা এমন পথে যাওয়া যে পথে আগে কেউ যায়নি, সেগুলো ট্যাবু বা প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে দেবার মতই কাজ এবং ক্ষুদ্র হলেও গুরুত্বপূর্ণ। বইটা পড়ে সেসময়ের সামাজিক ব্যবস্থা সহ অনেক খুটিনাটি বিষয়ো জানা যায়। এসব বিষয়ে অগ্রহীদের জন্য বইটা রেকমেন্ডেড।
Profile Image for Ësrât .
515 reviews89 followers
August 2, 2024
ঠাকুরবাড়ির অন্দরের আঙিনা পেরিয়ে আসা কন্যাদের তালিকায় সর্ব পরিচিত হাতে গোনা কয়েকজন:জ্ঞানদানন্দিনী,ইন্দিরা, কাদম্বিনী, মৃণালিনী,সরলা, স্বর্ণকুমারী। মাঝেমধ্যে কবিকন্যাত্রয় আর পুত্রবধূ প্রতিমা ছাড়া আলাপচারিতায় তেমন কাউকেই দেখা যায় না বড় একটা।অথচ জ্ঞানে বা কল্যানে সংস্কারে বা সংসারে এদের মহিমা আপন আলোয় উদ্ভাসিত।

যাদের জানিনা তাদের কথা এত সুন্দর শব্দ আবদ্ধ মলাটে বাঁধিয়ে দেওয়ার মতো দূরহ অথচ সমৃদ্ধ তথ্য সংবলিত কাজটি করেছেন চিত্রা দেব।

রন্ধনে অঙ্কনে সাহিত্য সংকলনে বা নাট্যাভিনয়ে লক্ষ্মীরূপী সরস্বতীরা সর্বাঙ্গিন ভাবে জড়িয়ে ছিলেন ঠাকুর বাড়ির পত্তনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। পর্দার অন্তরালের বাইরে এসে ভুবনজয়ীদের পথে প্রস্তর, বিস্তর বাঁধা, নিয়মকানুনের বেড়াজালে বন্দী হয়ে থাকার চেয়ে বন্ধুর পথে বিজয়ী হবার কাহিনী রূপকথা লাগলেও প্রেরনার জোগাবে এযুগের নারীদেরও।

সুললিত গদ্যের ভুলভ্রান্তি ধরার মতো ধৃষ্টতা আমার নেই, শুধু মাত্র আক্ষেপ বলা যায় এটুকুই শিরোনামে যদি লেখাটা ছাপানো থাকতো,পাঠকের বুঝতে আরো একটু সুবিধা হতো।

রেটিং:💫🌟✨🌠
২৪/০৭/২৪
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
174 reviews1,355 followers
August 4, 2016
এটা নিয়ে রিভিউ লিখতে পারবে হিজ হাইনেস মাস্টার দিগন্ত। নট মাই কাপ অফ টি।

তবে বইটা দারুণ। তথ্যবহুল, ছবিবহুল [ঠাকুরবাড়ির মেধাবিনীরা বেশিরভাগই সেইরকম রূপবতীও ছিলেন, বোঝাই যায়] এবং ঘটনাবহুল।
Profile Image for Fardeen Bin Abdullah.
Author 3 books2 followers
April 24, 2021
তথ্য বহুল বই। তবে অনেক ধৈর্য্য ধরে পড়তে হবে। লেখিকা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যা সময়ে সময়ে ধৈর্য্যচ্যূতি ঘটায়।
ঠাকুর বাড়ির মেয়ে ও বৌদের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন লেখিকা।
Profile Image for Shuk Pakhi.
513 reviews315 followers
August 2, 2023
ঠাকুরবাড়ির মেয়ে বউদের কীর্তি নিয়ে এই বই।
সেই সময়ের কত কত বাঁধা অতিক্রম করে উনারা মাথা উঁচু করেছিলেন
সাথে ছিল বাড়ির পুরুষদের সহায়তা আর নিজেদের গুণ।
Profile Image for Nasrin Shila.
268 reviews88 followers
April 15, 2020
ঠাকুরবাড়ি যে তার সময় থেকে কতখানি এগিয়ে ছিল তা অকল্পনীয়! সে বাড়ির মেয়ে - বৌ দের বাসায় শিক্ষক এনে গান, পিয়ানো বাজানো, ছবি আঁকা শেখানো হত! এই যুগে এসেও কোন কোন বাড়ির মেয়েরা এই সুবিধা পেলেও, বৌদের ক্ষেত্রে কল্পনাই করা যায় না!
মেয়েদের নাটক করা, নাচ শেখা, জুতো পরা, বাইরে বেড়াতে যাওয়া সহ অনেক ক্ষেত্রেই এই বাড়ির মেয়েদের বিরাট ভূমিকা ছিল।
যদিও সে বাড়ির অনেক মেয়েকেও সংসারের জন্য নিজের শখ, কাজ বিসর্জন দিতে হয়েছে, তবুও যারা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছে, সেও কম না!
রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ প্রতিভা, সাফল্য, জনপ্রিয়তা ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের জন্য সুবিধা অসুবিধা দুইয়েরই কারণ। তাঁর জন্যই ঠাকুরবাড়ি নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ আবার তাঁর আড়ালেই সে বাড়ির অনেক প্রতিভা হারিয়ে গেছে। তাদের কাজ সংরক্ষণ, প্রকাশের দিকে কেউ তেমন মনোযোগ দেয়নি।
Profile Image for Anjum Haz.
287 reviews71 followers
August 20, 2022
Got to know the history of upbringings of women of our sub-continent. Their contributions were courageous, I dare say!
Profile Image for  Sabit Ara Orpa.
78 reviews14 followers
January 9, 2022
যদি কখনো সুযোগ পাই ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের বারান্দায় চুপ করে বসে থাকব অনেক ক্ষন। এইখানে বসে স্বর্নকুমারী কবিতা লিখতেন। কাদম্বরী গান গাইতেন। জ্ঞানদানন্দিনী পান সাজাতেন। সুযোগ হবে কি?
Profile Image for Shakil Akther.
100 reviews6 followers
June 11, 2021
সুগবেষিত। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় পরিচ্ছেদ কোন ভাগ নেই; মহিলাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আপনি ঠাকুরবাড়ীর বিশেষজ্ঞ না হলে বোঝা মুশকিল
Displaying 1 - 15 of 15 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.