এত বড় বিপদে খুব কমই পড়েছে মাসুদ রানা। এত বড় অভিযোগের আঙুলও খুব কমই উঠেছে ওর বিরুদ্ধে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ও। কী, চমকে গেলেন? আগে পুরোটা পড়ুনই না! ভয়ঙ্কর জটিল এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে ও। ওসামা বিন লাদেনকে পিছনে ফেলে দুনিয়ার সমস্ত মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টের এক নম্বরে উঠে এসেছে মাসুদ রানার নাম, ওর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছে দুই কোটি ডলার! পালিয়ে বেড়াচ্ছে রানা, একা, আহত অবস্থায়। সাহায্য করার কেউ নেই। একটাই পথ সামনে-নিজের সেই নিষ্ঠুর রূপটা আরেকবার সবাইকে দেখিয়ে দেয়া। পাঠক, দমবন্ধ করে বসুন। শুরু হচ্ছে যুদ্ধ।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর, আমি দুর্বার, আমি ভেঙে করি সব চুরমার! আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল! আমি মানি না কো কোন আইন,
এই হচ্ছে মাসুদ রানার চরিত্র বিশ্লেষণ এই বইয়ের ক্ষেত্রে। প্রতিশোধস্পৃহা রানা যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা পাঠক 'অগ্নিপুরুষ' পড়ে বুঝতে পেরেছেন। এই বইটিতেও সেই সত্তার প্রকাশ পায়৷ মাসুদ রানার সাথে ষড়যন্ত্র হওয়ার পর ফিনিক্স পাখির মতো আবার জন্ম নেয় রানা। সাথে এরিক স্টার্ন ছিলো এই অভিযান এ মাসুদ রানার সাথে। মাসুদ রানার সাথে সাথে এরিক স্টার্ন এর চরিত্রও চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। দুনিয়ার সেরা স্নাইপার কে খুজতে গিয়ে মাসুদ রানা ভালোই বিপদের মুখে পড়ে। নিজের অদম্য উচ্ছাস এর ফলে রানা শত্রুদের খুজে বের করার প্রয়াস দেখে মুগ্ধ হবেন পাঠক। কন্সপিরেসি,অ্যাকশন,মিস্ট্রি নিয়ে অনবদ্য এক আখ্যান মাসুদ রানার " স্নাইপার"।
মাসুদ রানার স্নাইপার পড়ে শেষ করলাম। ভালই লেগেছে খারাপ না। বেচারা মাসুদ রানাকে অহেতুকভাবেই ফাঁসিয়ে দেয়া হয় এ্যমেরিকার প্রেসিডেন্টকে হত্যা প্রচেষ্টার দায়ে। বক্তৃতা দেয়া শেষে শান্তিতে নোবেল পাওয়া এক ধর্মজাযকের সাথে ডায়াসে দাঁড়িয়ে আলাপ করার সময় ঘটে এ দুর্ঘটনা। কিন্তু মারতে চাইল প্রেসিডেন্টকে আর মরল ধর্মজাযক। হইল কিছু!!!
মাসুদ রানার টার্গেট মিস!! এ কি সম্ভব!! :-P :-P
প্রেসিডেন্টকে হত্যা প্রচেষ্টার দায়ে সকল সিক্রেট সার্ভিস, পুলিশ এজেন্সিসহ তাবত এ্যমেরিকার মানুষজন রীতিমত বাত্তি লাগায়া রানাকে খুঁজতে থাকে। তার মাথার মূল্য নির্ধারণ হয় দুই কোটি। কিন্তু সব ধরনের প্রচেষ্টাকে বুইড়া আঙ্গুল দেখায়া আমাদের হিরু প্রখর রুদ্র থুক্কু মাসুদ রানা বেঁচে বর্তে থাকে। প্লাস প্রতিশোধ নেয়ার জন্য রেডি হতে থাকে। যারা রানাকে ফাঁসিয়ে দেয় তারা সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ অঙ্গসংগঠন। ( এ্যমেরিকা আর সারা দুনিয়ার শান্তি রক্ষাই তাদের কাজ বৈধ বা অবৈধ উপায়ে) রানার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে জনৈক এফবিএর একজন এজেন্ট। তারপর শুরু হয় খেলা....
বি.দ্র. উক্ত রিভিউ নামক কলংক পড়িয়া আমাকে কেউ গালমন্দ করিতে আসিবেন না। মাসুদ রানা এজন্যই বিরক্ত লাগে। অতিমানবীয় গুনাবলী... দুই গুলি হজম কইরা চারতলা থেকে আছাড় খাইয়া পইড়া এফবিয়াই এজেন্টরে কাবু কইরা... গাড়ি চালায়া সেফ সাইডে যাওয়া... শুধু তাই না ১৪ ঘন্টা পানিতেও ভেসে ছিল। এইডা মানুষরে বাপ... যাই হোক। এ বই পড়তে পড়তে কেবলই জটায়ুর প্রখর রুদ্রের কথা মনে হইতেছিল। যে সবই পারে -_-
এককথায় অসাধারণ একটা গল্প। বারবার মূল গল্পের বব লী সোয়েগারের কথা মনে হচ্ছিল। তবে গল্পটা যিনিই লিখেছেন তার রানা সম্পর্কিত রিসার্চ খুবই ভালো ছিল। মূল গল্প ছাড়াও এতে বেশ কিছু কাহিনি সংযোজন করা হয়েছে। যথেষ্ট ভালো লেগেছে গল্পটা।