জলপাইগুড়ি জেলার তরাইয়ের চা-বাগান এলাকার দুই পৃথিবী। সচ্ছল বাবুপাড়া আর হতদরিদ্র কুলিবস্তি। কুলিবস্তির সুন্দরী মেয়ে উনকি। উনকি মানে সৃষ্টিকর্তার সন্তান। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার মেয়ের ভাগ্য ভালো হয়নি। তার কপালে বড় একটা ফোড়া। ক্রমশ ঢেকে যাচ্ছে চোখ। মেয়ের চিকিৎসার কথা ভাবতেই পারে না তার হতদরিদ্র মা-বাবা। কিন্তু বাবুপাড়ার খোক, অতীন, দীপুর মতো জনাকয়েক কিশোরের হৃদয়ে জ্বলে ওঠে ভালোবাসার আলো। ঊনকির চিকিৎসার জন্য চাঁদা তুলতে নেমে পড়ে তারা। উনকির অপারেশন হয় জলপাইগুড়ির বড় হাসপাতালে। তারপর? ‘উনকি’ উপন্যাসে সমরেশ মজুমদার নির্মাণ করেছে এক আত্মমর্যাদা সম্পন্ন হতদরিদ্র কুলিবস্তির মদেশিয়া নারীর জীবন কথা।
Samaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
জলপাইগুড়ি জেলার তরাইয়ের চা-বাগান এলাকার দুই পৃথিবী। সচ্ছল বাবুপাড়া আর হতদরিদ্র কুলিবস্তি। কুলিবস্তির সুন্দরী মেয়ে উনকি। উনকি মানে সৃষ্টিকর্তার সন্তান। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার মেয়ের ভাগ্য ভালো হয়নি। তার কপালে বড় একটা ফোড়া। ক্রমশ ঢেকে যাচ্ছে চোখ। মেয়ের চিকিৎসার কথা ভাবতেই পারে না তার হতদরিদ্র মা-বাবা। কিন্তু বাবুপাড়ার খোক, অতীন, দীপুর মতো জনাকয়েক কিশোরের হৃদয়ে জ্বলে ওঠে ভালোবাসার আলো। ঊনকির চিকিৎসার জন্য চাঁদা তুলতে নেমে পড়ে তারা। উনকির অপারেশন হয় জলপাইগুড়ির বড় হাসপাতালে। তারপর? ‘উনকি’ উপন্যাসে সমরেশ মজুমদার নির্মাণ করেছে এক আত্মমর্যাদা সম্পন্ন হতদরিদ্র কুলিবস্তির মদেশিয়া নারীর জীবন কথা।
~পাঠপ্রতিক্রিয়া: "উনকি" বইটা যখন আমি পড়ছিলাম তখন মনে হচ্ছিলো যেন আমি আমার শৈশবে ফিরে যাচ্ছি। সেই চা বাগান, সেখানকার মানুষ, সেখানকার জনজীবন নিমিষেই আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো। হয়তো শৈশবের একটা সময় চা বাগানে কাটানোর কারনেই বইটা আমার মনে বেশ খানিকটা জায়গা দখল করে নিয়েছে। ছোট পরিসরে গল্প বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন সমরেশ মজুমদার। সোজাসাপটাভাবে ঘটনাগুলো এমনভাবে বর্ণনা করছিলেন যে আমার কাছে একটা সময় মনে হয়েছে যে যা যা লিখছেন তা তো সত্যিই। এমনই তো হয় চা বাগানের থাকা মানুষগুলোর জীবনযাপন। বইটি আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। তার কারণ হয়তো আপনারা অনেকেই বুঝতে পারছেন।
আসসালামু আলাইকুম\আদাব, আজকে যে বইটার কথা বলব সে বইটা বলে একটা আত্মমর্যাদা সম্পন্ন নারীর কথা , বলে বাল্যকালের বন্ধুত্ব হারিয়ে যাওয়ার কথা, বলে গরিব হওয়ার কারনে নিজের মেয়ের চিকিৎসা করানোর জন্য অন্যের উপর নির্ভর করা, বলে সামাজিক অবস্থানের করণে বাল্য বন্ধুকে এড়িয়ে চলা। চলেন কথা বলা যাক সমরেশ মজুমদারের লেখা সামাজিক উপন্যাস "উনকি" নিয়ে। বইটিতে বলা চা বাগানের একদল বালকের কথা আর তাদের পরবর্তী কালের সামাজিক অবস্থানের কথা। কার্তিক ছাড়া সবাই পড়ত শহরের স্কুলে। ছুটিতে তারা চা বাগানে আসত আর সে সময় এই বালকদের মধ্যে গড়ে উঠে সখ্যতা। তারা দেখল তাদের খেলার সময় একটা মেয়ে দারিয়ে থাকে। নাম উনকি। মেয়েটার চোখের উপর ফোরা। ছেলেগুলোর নিজেদের ক্ষমতা না থাকলেও তারা তাদের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে মেয়েটাকে শহরের হাসপাতালে পাঠায় । মেয়েটা কিছু দিনের জন্য ভালো হয়ে যায় আর তখন তার বিয়ে হয়ে যায়। তবে আবার সে অসুস্থ হয় তখন তার স্বামী তাকে বাপের বাড়ি দিয়ে যায় । তবে উনকি পরে সুস্থ হলেও আর ফিরে যায় নি । শত অনুরোধে ফিরে যায়নি। মাঝখান দিয়ে ৪০ বছর চলে যায় । অতিন একদিন মনে করে সবার সাথে দেখা করার দরকার । তাই সে দিল্লি থেকে এসে যাদের পায় তাদের সাথে দেখা করে। বইটি পড়লে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কথা মনে পড়বে। আবার তৈরি আজকের বন্ধুদের হারানোর ভয়। আবার উনকিকে দেখলে আপনার সমীহ করতে মনে চাইবে। কারন গরিব ঘরের মেয়ে হয়ে তার মত সিদ্ধান্ত কয় জনই বা নিতে পারে। আমার কাছে বইটির কোনো খারাপ দিক চোখে লাগে নি। তবে সবার অবস্থার বর্ণনা পেলে ভালো লাগত। বিশেষ মাড়ওয়ারি দুইটা ছেলের। আর আমার মনে হয়েছে বইটি অনেক জায়গায় সত্য কথা বলেছে যা আমাদের জীবনে অবশ্যই ঘটবে । বইয়ের নামঃ উনকি লেখকের নামঃ সমরেশ মজুমদার প্রকাশকঃ আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড
১২বছর বয়সী - চা শ্রমিকের মেয়ে : উনকি। চোখের উপর "আব" হওয়ার কারণে বাবা সেই "আবের" চিকিৎসা নিজের কাধ থেকে নামানোর তাগিদে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ক্ষান্ত হয়। কিন্তু ১২ -শুধু একটা সংখ্যা নয় এটি এমন এক বয়সের ছাপ - যেসময় সমস্ত জগতটা "চেনা এবং অচেনা" এ দুয়ের মাঝে দোল খায় এই দোলায় দুলতে দুলতেই উনকিকে সমস্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়!
সত্যি বলতে সমরেশ মজুমদার আমাদেরকে নিরাশ করেন না- যেমনটা করেননি আমার এই উপন্যাস পড়াকালিন!
খুব সুন্দর বই। সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা। বইটা পড়ে চা-বাগানের তৎকালীন পরিবেশ পরিস্থিতি সম্বন্ধে একটু আধটু জানতে পারবেন। আর বিশেষ করে মানুষের জীবনের যে পরিবর্তন, সেটা খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। বইটা পড়ার সময় নস্টালজিকও হয়ে যেতে পারেন। কারণ এখানে কয়েকজন কিশোরের জীবন উঠে এসেছে। পড়ার সময় আপনি তাদের মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবেন। সর্বোপরি পড়ার মতো একটি বই।