প্রথমত বলতেই হচ্ছে বইটা দেখতে খুব সুন্দর। ভেতরটাও, মলাটটাও। এরকম সুন্দর একটা বই, ভারতীয় টাকায় যার দাম লেখা ১২৫। আমি নিশ্চিত, এখানে কেউ এমন একটা সুন্দর বই ছাপালে তার গায়ে মর্জিমাফিক দাম বসাত। পরাণের গহীন ভিতর এর সাথে যা হয়েছে।
যাকগে, শক্তি আর আয়ান রশীদ মিলেঝুলে মাছ টাছ ধরতে ধরতে অনুবাদ করেছেন, বলতেই হচ্ছে গালিবের মেধার প্রতি সুবিচার তারা করতে পারেন নি। নেহাত সাধারণ গা-ছাড়া অনুবাদ। ভাব, ভাষা, চলনে বাংলা শেরগুলোকে গালিব এর অরিজিনালের নিচে নিতান্ত দুর্বল বলে মনে হয়েছে। আমার ভাঙা হিন্দিউর্দু জ্ঞান দিয়ে বরং আসল যে র গালিব, সেটা পড়েই আনন্দ পেয়েছি, সোডা মেশানো অনুবাদে না। কয়েকটা শের ভাল অনুবাদ হয়েছে। যেমন
রঁগো মে দৌড়নে ফিরনে কে হাম নহীঁ কায়ল
যব আঁখি সে নহ টপকা তো ফের লহু ক্যা হ্যায়
শিরাতেই ছুটে বেড়ানো আমার পছন্দ নয়
চোখ থেকে যদি না-ই ঝরে পড়ে- রক্ত কি কয়?
গালিব অনুবাদ এরকম সাদামাটা হলেই বো্ধ করি ভাল হয়। অহেতুক কতগুলা শের মাত্রাবৃত্তে করতে যেয়ে গুবলেট পাকিয়েছেন অনুবাদকদ্বয়। কিছু অবশ্য ভালই হয়েছে। তবে ওই আর কী, শক্তির নাম দেখে অনুবাদে উড়ে যাব ভেবেছিলাম।
বইটা পড়তে যেয়ে গালিবের মুনশিয়ানায় যতটুকু আরাম হবার কথা ছিল, তা অনুবাদের কারণে ব্যাহত হয়েছে বলেই মনে করি। তবুও গালিবের তো একটা মজা আছে। সেই মজায়, আনন্দে কেটে গেল গত রাত আর আজ দুপুর। গালিবের কবিতার কি আরো অনুবাদ আছে বাংলায়? এটাই যদি একমাত্র সিরিয়াস কাজ হয়ে থাকে, তাহলে অশনী সংকেত।
তিন তারকা মানের অনুবাদ, তবে সাথে গালিব পড়তে পেরেছি তো, পুষিয়ে দিয়েছে। চার তারকা তাই।
দীপ্তির বই, সে তো এসব কীভাবে জানি খুঁজে পায়। তাকে ভালবাসা।