প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছোট্ট একটি দ্বীপ। কোনও মানচিত্রে খুঁজে পাবেন না ওটাকে। ওখানেই এয়ার-ড্রপ করা হলো তিনটি মার্কিন ও একটি বাংলাদেশি সামরিক বাহিনীর কমাণ্ডো গ্রুপকে। বাঙ্গালি গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছে মাসুদ রানা। সাহয্যের আহবানে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে ওরা: অনেক কিছু নাকি শেখার আছে ওখানে। নীচে নামার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হলো প্রচণ্ড হামলা। নির্মম, দক্ষ, অপরাজেয় একদল শত্রুর বিরুদ্ধে নামতে হলো ওদের মরণপণ যুদ্ধে। হ্যাঁ। শিখল রানা। তবে ওদেরও শিখিয়ে দিয়ে এল কিছু। Based on Hell Island by Matthew Reilly.
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
মাসুদ রানা সিরিজের এই বইটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। মাসুদ রানার জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জিং মিশন ছিলো যেখানে অচেনা অজেয় একদম শত্রুর বিপক্ষে মুখোমুখি হতে হয়। সবমিলিয়ে বইটা ভালো।
মাসুদ রানার বই বিভিন্ন বিদেশি উপন্যাসের এডাপ্টেশন হলেও বাংলাদেশে সেবা প্রকাশনীর মতো এতো ভালো অনুবাদ/এডাপ্টেশন কেউ করতে পারে না।পড়তে পড়তে মনেই হয় না আমি কোন এডাপ্টেশন পড়ছি - এতো প্রাঞ্জল সহজ সরল গদ্য।
আর মাসুদ রানা মানেই নির্ভেজাল আনন্দ।অনেক বছর পার করে আসলেও এখনো পড়তে দারুন লাগে।আরেকটা কারণে মাসুদ রানা ভালো লাগে সেটা শক্তিশালী নারীচরিত্রের জন্যে (সেটা বিদেশি গল্প থেকে ধার করার জন্যেও হতে পারে)।
রোলার কোস্টারে কখনও চড়ি নাই, তবে 'দ্বীপান্তর' পড়ার সময় মনে হইছে, এখন রোলারকোস্টারে চড়লে হাই ওঠার সমূহ সম্ভাবনা আছে। এই রকম ধুন্ধুমার, মারমার, কাটকাট, উরাধুরা, তাড়ছিরা, ননস্টপ পাগলা অ্যাকশনের কোন বই রানা সিরিজে আগে কখনও পড়ছি কি না মনে পড়তেছে না। অবশ্য গত কয়েক বছরে বের হওয়া বইগুলার মধ্যে পড়াই হইছে অল্প কয়েকটা। মাত্র দশজন কমান্ডো, আর প্রতিপক্ষ পাঁচশোটা ভয়ংকর, দুর্ধর্ষ, নৃশংস......! প্রতিটাই আবার শারীরিকভাবে মানুষের চেয়ে দশগুন বেশি শক্তিশালী। আর এই সংখ্যা পর্দার আড়ালে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের বাদ দিয়েই। রিয়েল লাইফে দূরে থাক, ফিকশনাল সেটআপেও এই রকম অসম লড়াইয়ে জেতার সম্ভাবনা গল্পের হিরোদের পক্ষেও প্রায় বেসম্ভব, অবশ্য যদি না তারা প্যান্টের উপর আন্ডারওয়্যার পড়া হিরো হয়। কিন্তু রানা তো আর সুপারম্যান না, ব্যাটম্যানও না, আর আন্ডারওয়্যারও প্যান্টের নিচেই পড়ে সে। সিরিয়াসলি চিন্তা করতেছিলাম, নরকে তো ঢুকায়া ফেলছে, কিন্তু উদ্ধার করবে কেম্নে! উদ্ধার হইলো। আর এই উদ্ধার প্রক্রিয়ায়, ননস্টপ দুর্ধর্ষ আগ্নেয়াস্ত্রবাজির সাথেসাথে পাল্লা দিয়ে চললো রানার দুর্দান্ত মগজাস্ত্রবাজিও! আর এই ব্যাপারটাই ভাল্লাগসে বেশি। বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ননস্টপ ধুন্ধুমার একশান ছিল, তবে তার মানে এই না যে, কোনো 'কাহিনি' ছিল না বইয়ে । কাহিনী ছিল, কাহিনিতে কন্সপিরেসি ছিল, ট্যুইস্ট ছিল, সিরিজ ডেভেলপমেন্ট ছিল। সিরিজে নতুন সংযোজন (?) নিশাত আপারে ভাল্লাগছে। এই রকম একটা ক্যারেক্টার রানা সিরিজের অন্যতম এসেট হইতে পারে। নতুন রানা বইগুলাতে যে জিনিসগুলা মিস করে পাঠকেরা, বইয়ের শুরুতেই মতিঝিলের বিসিআই অফিসে রানার ঢু মারা, রাহাত খানের সেক্রেটারি ইলোরার সাথে ফ্লার্ট করা, সোহেলের সাথে ফাইজলামি করা - এই বিষয়গুলা এই বইটায় আছে। সেই সাথে বোনাস হিসাবে রানা সিরিজে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রগুলার একটা, ববি মুরল্যান্ডের ক্যামিও এপিয়ারেন্সও দারুণ লাগছে।
***স্পয়লার আছে সামনে***
পুরা বইয়ের মত উরাধুরা না হইলেও, লাস্টের একশানটাই ভাল্লাগছে সবচেয়ে বেশি। আনআর্ম কমব্যাটে নাস্তানুবুদ করার পর রানা যেভাবে মেজর সেগানের সানডে মানডে ক্লোজ কইরা দিল, সেই দৃশ্যের বর্ননাটা অস্থির ছিল। কল্পনায় যেন 1080p HD ব্লু রে তে দেখতে পাইতেছিলাম, 'নিরস্ত্র রানারে গুলি করতেছে মেজর সেগান, গুলি এড়ানোর ডাইভ দিছে রানা, রানার দিকে পিস্তলটা ছুড়ে দিছে নিশাত সুলতানা, উড়ন্ত অবস্থাতেই পিস্তলটা ধইরা ফেলল রানা! তারপর...! ঝামেলা হইলো, প্রায় তিনশোটা রানা পড়ার পরও, কল্পনায় রানার কোন কংক্রিট চেহারা দাঁড় করাইতে পারলাম না আজ পর্যন্তও। সে জন্যই হয়তো, রানা যখন ডাইভ দিয়া উড়ন্ত অবস্থাতেই পিস্তলটা ধইরাই গুলি কইরা মেজর সেগানের ঘিলু বাইর কইরা ফেলল, ক্যান জানি রানারে তখন টম ক্রুজের মত লাগতেছিল! :3
"দ্বীপান্তর" এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো একটি দুর্ধর্ষ মিশন-থ্রিলার । বইয়ের শুরু থেকেই টান টান উত্তেজনা—একদল কমান্ডোকে এয়ারড্রপ করা হয় এক অজানা দ্বীপে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে প্রাণঘাতী বিপদ । মাসুদ রানার নেতৃত্বে এক অসম লড়াই শুরু হয়—মাত্র ১০ জন বনাম ৫০০ জন ! কিন্তু সংখ্যার হিসেবে নয়, যুদ্ধটা চালায় বুদ্ধি, সাহস আর কৌশল ।
এই উপন্যাসে শুধু অ্যাকশন না, বরং ষড়যন্ত্র, চমক, মনস্তাত্ত্বিক চাপ আর চরিত্রের গভীরতাও দারুণভাবে এসেছে । রানার বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা যেমন উপভোগ্য, তেমনি কাহিনির গতিও এক মুহূর্তের জন্য ঢিলে হয় না । বিশেষ করে নতুন চরিত্র নিশাতের উপস্থিতি সিরিজে একটি সতেজ ছোঁয়া এনে দিয়েছে ।
সাসপেন্স, স্টাইল আর স্মার্টনেস—সব মিলিয়ে রানা সিরিজের ভক্তদের জন্য এটি একেবারে “মাস্ট রিড” !
অনেকদিন পর একটা হাই অকটেন অ্যাকশন থ্রিলার পড়লাম। মাসুদ রানা সিরিজের ' দ্বীপান্তর ' বইটা অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে ম্যাথিউ রাইলির ' হেল আইল্যান্ড ' বইটা থেকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বইটাতে ছিল কেবল অ্যাকশন,অ্যাকশন আর অ্যাকশন। মাসুদ রানার এবারের মিশন ছিল এক রহস্যময় দ্বীপে,অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বইটা ফার্স্ট পেসড ও ছোট কলেবরের হওয়ায় একটানে পড়ে শেষ করে ফেলেছি। মিলিটারি অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে ' দ্বীপান্তর ' বেশ উপভোগ্য লেগেছে আমার।