Abdullah Al Muti Sharfuddin (Bengali: আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন) was a Bangladeshi educationist and popular science writer. He gained Kalinga Award of UNESCO in 1969.
আব্দুল্লাহ আল-মুতী, যার লেখা সব সময়ই স্রোতের অনুকূলে। অত্যন্ত মনোহর তার বইগুলো। সারা জীবন লিখে গেছেন। তার লেখা প্রায় সবগুলো বই-ই বিজ্ঞান বিষয়ক। কটমটে বিজ্ঞান বলতে যা বোঝায় তা নয়, তিনি যা লিখে গেছেন তাকে বলা যায় 'বিজ্ঞান সাহিত্য'। সাহিত্যের মমতায় বিজ্ঞানকে মুড়ে দেবার চমৎকার একটা ক্ষমতা ছিল তার। তেমনই মমতাময় একটি বই হচ্ছে "আবিষ্কারের নেশায়"। প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। এর জন্য সে বছরই ইউনাইটেড ব্যাংক সাহিত্য পুরষ্কার পেয়েছিলেন লেখক।
বিজ্ঞানের কয়েকটি আবিষ্কারের গল্প নিয়ে সাজানো এই বইটি। পাশাপাশি টেনেছেন ইতিহাস, বলেছেন পেছনের গল্প, এনেছেন প্রাসঙ্গিক সব বিষয়, দেখিয়েছেন আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীদের কী অদম্য নেশা! এই হিসেবে বলা যায় বইয়ের নামকরণ উপযুক্ত হয়েছে।
এই বইয়েরই এক কোনা থেকে- " হল্যান্ডের এক আধপাগলা ঝাড়ুদার। ঘষে-ঘষে লেন্স বানিয়ে তার ভেতর দিয়ে রাজ্যের সব জিনিস দেখা তার নেশা। একদিন তার চোখে পড়ল বাগানের গাছতলায় দাঁড়িয়ে সাদাসিধে এক দাড়িওয়ালা এক বুড়ো। কথা বলতে গেলে লোকটার মুখের দুর্গন্ধে টেকা যায় না--তার দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে থিকথিক করছে ময়লা। জিজ্ঞেস করল : ওহে বুড়ো, কতদিন আগে দাঁত মেজেছ? দাঁত মাজবার কথা শুনে বুড়ো যেন একটু অবাক হয়। দাঁত? সেতো কখনো মাজে নি সে! আর এই পাগলা মুদিকে তখন পায় কে! কী আছে এই দাঁতের ময়লায়? (শোনো একবার কথাটা, এমন কথা আর কি কারও মনে হবে-- নিতান্ত পাগল ছাড়া?) যেন একটা সোনার খনি পেয়েছে এমনি করে সে বুড়োকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে এল তার ঘরে। তারপর তার দাঁতের ফাঁক থেকে খুবলে তুলে নিল খানিকটা সেই আদি অকৃএিম ছ্যাতলা। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে সেই দাঁতের ময়লার মধ্যেই ধরা পড়ল জীবাণুর নতুন রহস্য। এমনি অনুসন্ধিৎসা ছিল অণুবীক্ষণের আবিষ্কারক লেভেনহুকের। আর তার আবিষ্কার মানুষকে দিয়েছে রোগ-মারিকে কাবু করবার, দীর্ঘ সুস্থ জীবনের জন্য সংগ্রামের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ...... কোনো ছোট প্রশ্নই আসলে ছোট নয়...... বহু বড় বড় আবিষ্কার হয়েছে অতি তুচ্ছ সূত্র থেকে, অতি সামান্য জিজ্ঞাসা থেকে।"।
বইটি থেকে জানা যাবে আর্কিমিডিস কী করে বিজ্ঞানের সাহায্যে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বড় এক সৈন্য বাহিনীর আক্রমণ ঠেকিয়েছিল; গ্যালিলিও কীভাবে দেখলেন বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ, সত্য প্রচার করার জন্য কী পরিমাণ শাস্তি পেতে হয়েছিল তাকে; লেভেনহুকের আবিষ্কার দেখার জন্য কীভাবে ইংল্যান্ডের রানী পর্যন্ত চলে এসেছিলেন; নিউটন কীভাবে লাস্ট বয় থেকে দুনিয়ার সেরা বিজ্ঞানী হলেন; ব্যাঙের ঠ্যাঙ থেকে কীভাবে ব্যাটারি আবিষ্কারের দ্বার খুলে গেল; লুই পাস্তুর কীভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলেন একটি ছেলেকে, কী করে আবিষ্কার করলেন জলাতঙ্কের প্রতিষেধক; নিজের আবিষ্কারের জন্যই কীভাবে কুড়ে কুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেলেন বিজ্ঞানী মাদাম কুরি ইত্যাদি।
বইটি বর্তমানে অনুপম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। কিশোর-তরুণদের কাছে বইটা খুব ভালো লাগবে। অনুপম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত 'কিশোর বিজ্ঞান সমগ্র'তে স্থান পেয়েছে এই বইটি। মোট সতেরটি অধ্যায়। ১৪ জন বিজ্ঞানীর ১৪টি আবিষ্কারের গল্প। বর্ণনার ঢং কিশোর বান্ধব। উৎকৃষ্ট। এই দিক থেকে বলা যায় ক্লাসিক পর্যায়ের একটা বই। অধ্যায়গুলোর নামকরণও বেশ সুন্দর ও ব্যতিক্রম-
• একটি মানুষ আর একটি বাহিনী • পানির ফোটায় আরেক জগৎ • লাস্ট বয় থেকে সেরা বিজ্ঞানী • বিজলি এল হাতের মুঠোয় • ব্যাঙ নাচানো বিজ্ঞানী • সুন্দর হে সুন্দর • ভারি এক মজার লোক • সাদা চাল লাল চাল • আসল চাঁদ নকল চাঁদ
বইয়ের শেষের দিকে ছোটরা কি করে সহজে বিজ্ঞানী হতে পারবে তার জন্য বাতলে দেয়া আছে সহজ উপায়। কিশোর তরুণের অবশ্যপাঠ্য বইয়ের তালিকায় এটি থাকতে পারে। স্বাদু ভাষা, দুর্বোধ্যতা নেই, ভাষাগত দিক দিয়ে একদম আদর্শ।
আমাদের দেশে বিজ্ঞান পড়া ছেলেপেলের অভাব নাই। কিন্তু বিজ্ঞানমনস্ক এবং বিজ্ঞানে সত্যি সত্যি আগ্রহী ছেলেপেলের অভাব আছে। এই দেশে বিজ্ঞান নিয়ে মানুষ পড়ে কেন? আমি বলব, হুদাই! সবাই পড়ে তাই। ভবিষ্যতের ভয়ে বাদুড়ের মত কুঁকড়ে যাওয়া হৃৎপিণ্ড নিয়ে সবাই বিজ্ঞান পড়ে। কখনও বাপ-মার থাবড়া খেয়ে, কখনও বা চক্ষুলজ্জার ভয়ে বিজ্ঞান পড়ে। পরিবারের অর্থের চাকা সচল রাখতে মানুষ বিজ্ঞান পড়ে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, বিজ্ঞান এ দেশে আর বিজ্ঞান নাই। বিজ্ঞান এ দেশে জোরপূর্বক অর্থনৈতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞান এই দেশে ক্লাস! সুপিরিয়রিটি! বিজ্ঞানের উদ্ভট উত্থান এই দেশে চলতেই থাকবে। অচিরেই বিজ্ঞান হয়ে দাঁড়াবে দেশের মিডিওক্রিটির ঝান্ডা। কিছু তো করার নাই। গরিব দেশ, লাখ লাখ ছাত্র, সোনালী ভবিষ্যতের বুভুক্ষু উপাসক সকলেই। নিয়মতান্ত্রিক এই বিজ্ঞানমুখিতার দিকে সবার ঝুঁকে পড়াই স্বাভাবিক। আপনার আমার কী করার আছে? আছে... আছে... সামান্য হলেও করার আছে। যেমন, এই যে “আবিষ্কারের নেশায়” বইটা! এটা এমন অনেক হবু “হুদাই বিজ্ঞানপড়ুয়া ছাত্র”দের বিজ্ঞানের প্রতি সত্যিকারের আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। লাখ লাখ নেগেটিভ এনার্জির কিছু অংশকে আপনিও পজেটিভ এনার্জিতে পরিণত করতে পারেন আপনার আশেপাশের কিছু শিশু-কিশোরকে শুধুমাত্র এই বইটা পড়ার জন্য উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে।
"আমার চোখে বিজ্ঞান হলো অনিন্দ্যসুন্দর, গবেষণায় মগ্ন বিজ্ঞানী শুধু যন্ত্রপাতির কারিগর নন, প্রকৃতির রহস্যমালায় বিমুগ্ধ তিনি এক শিশু।" — মাদাম কুরি।
আগাগোড়া বিজ্ঞানে মোড়া এই বইটা মূলত কিশোর উপযোগী বই। ক্লাস সিক্স-নাইনে এই বইটা পড়লে সম্পুর্ন রস আস্বাদন করিতে পারিতাম। তবে এখনো দারুণ উপভোগ করেছি। এটা আসলে বিশ্বের সব তাবত তাবত বিজ্ঞানীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী, আর তাদের বিভিন্ন আবিষ্কারের কাহিনী সম্বলিত বই। এতে আছে নিউটন, আর্কিমিডিস, আইন্সটাইন, মাদাম কুরি, পিয়েরে কুরি, গ্যালিলিও, থেলিস, ফ্রাঙ্কলিন, রুটজেন্ট, লুই পাস্তুর, আইকম্যানদের মত জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সব আবিষ্কারের গল্প। কিছু ইনফরমেশন আগেই জানা ছিলো, কিছু একেবারেই নতুন। বইয়ের মূলভাব হচ্ছে — শুধু বড় বড় জটা দাড়ি-চুল থাকলেই বিজ্ঞানী হয় না, বিজ্ঞানী হতে হলে প্রয়োজন জানা, প্রয়োগ করা, আলাদা ভাবে বিশ্বকে দেখার ক্ষমতা রাখতে হয়। আর লেখকের অসাধারণ লেখনীর জন্য এক বসায় এই ছোট বইটি পড়তে আপনি বাধ্য। কোথাও আটকে যাবার জো নেই।
"বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য নয় মানুষকে ভাতে মারা, তার কাজ নয় মানুষের কষ্টের বোঝা বাড়িয়ে গুটিকয়েক মানুষের জন্যে মুনাফা তৈরি করা। বিজ্ঞানের কাজ হলো মানুষের অভাব মেটানো, মেহনত কমানো। হাজার হাজার বিজ্ঞানীর এই হলো সাধনা। দুনিয়া জোড়া মানুষের এই হলো স্বপ্ন।" — আবদুল্লাহ আল মূতী।।
আজকে বাতিঘর গেছিলাম, বই���়ের রাজ্যে ছোট্ট একটা প্রদেশে এই মুক্তার খনিটা চোখে পড়ে গেলো হঠাৎ৷ বাসায় এক কপি আছে সম্ভবত, ছেড়া-ফাটা অবস্থা যদ্দুর মনে পড়ে৷ চকচকে বইটা ডাকছিল যেন শৈশবকে ফিরে আসবার জন্য। হাতছানি উপেক্ষা করতে না পেরে নিয়ে নিলাম ছোট্ট কলেবরের চমৎকার বইটা৷
বিজ্ঞান ভীতিকে দূরীকরণে এবং বিজ্ঞানের রহস্যময় জগতের প্রতি আকৃষ্ট করতে এই ছোট্ট বইখানি অনেক খানি ভূমিকা রাখবে। কিশোরদের কে এহেন টাইপের বইগুলো পড়তে দেয়া উচিত।যাতে করে সে বিজ্ঞানকে ভালোবাসতে পারে,আর এই ভালোবাসা থেকেই জন্ম নিবে শিখার আগ্রহ আবিষ্কারের আগ্রহ।
এই দেশে বিজ্ঞানকে পাঠ্য বইয়ের সীমা পর্যন্তই রাখা হয়। ছাত্র ছাত্রীদের বিজ্ঞান পড়ানো হয় পরীক্ষায় পাশের জন্য।এতটুকুই। বিজ্ঞান মহত্ত্ব এই দেশের মানুষ আজও বুঝল না।
তাছাড়া আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাতে ও মস্ত গলদ বিদ্যামান।না আছে কারিগরি শিক্ষা না আছে বিজ্ঞান নিয়ে তুমুল আলাপ আলোচনা।
বিজ্ঞানকে যত দিন পর্যন্ত পাঠ্য বইয়ের বাহিরে না আনা হবে ততদিনে এই দেশে নিউটনের মতো বিজ্ঞানী জন্ম নেয়াও আকাশ কুসুম।
ঘুরে ফিরে একটাই আলোচনা আসে বিজ্ঞানকে ভালোবাসতে হবে ভালোবাসাতে হবে।তবেই দেশের মঙ্গল,পৃথিবীর মঙ্গল।
This entire review has been hidden because of spoilers.
#bookreview ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ বই৷ বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের শৈশব, বেড়ে উঠা, তাঁদের চমকপদ কাহিনী এবং আবিষ্কার সম্পর্কে লেখক সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন। বইটি ছোট কিন্তু তথ্য বহুল।
স্কুলে পড়াকালীন বইটা পড়তে পারলে ভালো হইত। অনেকেই স্কুলে পড়া বয়সীদের পড়ার জন্য বইয়ের সাজেস্ট চান, তাদেরকে বলব, এটা অবশ্যই লিস্টে রাখবেন।
আজ থেকে এক বছর আগে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলাম। তখন শুরুতেই "পদার্থবিজ্ঞান", "রসায়ন" ও "জীববিজ্ঞান" বই হাতে পেলাম। পড়ে দেখলাম যে বইগুলো কিসব সূত্রে ঠাসা। ভাবলাম এই বুঝি বিজ্ঞান। বিজ্ঞানী হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গাদা গাদা বই আর সূত্র মুখস্ত করা আমার কর্ম নয়। তাই সে আশা তখনই ছেড়ে দিয়েছিলাম। আজ সারাদিন ভালো লাগছিল না। বিকেল বেলা এক ইউটিউব ভিডিও থেকে বইটি পড়ার পরামর্শ পেলাম। শুরু করলাম পড়া। এক বসাতেই পড়লাম বইটি। বইটি পড়ে জানতে পারলাম। বিজ্ঞানী হওয়ার জন্য গাদা গাদা সূত্র মুখস্ত করার প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন পড়ে দেখার, চোখ খুলে প্রকৃতিকে দেখার। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অবশ্য চোখ বন্ধ করে মুখস্ত করাই শেখানো হচ্ছে। এহেন শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ে আমিও যে অন্ধ। আমিও কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। "আবিষ্কারের নেশায়" বইটি পড়ে চোখ খুলে দেখার ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু কে দেখাবে আমায় বিজ্ঞানের আলো? আমি কি পারব বিজ্ঞানী হতে?
ড. আবদুল্লাহ আল-মুতী বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানসাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে নিজস্ব একটি ভুবন তৈরি করেছিলেন। তাঁর ক্লাসিক বই 'আবিষ্কারের নেশায়' পড়ে অনেক ভাল লেগেছে। আবিষ্কারর গল্পগুলো লেখক এত চমৎকার করে লিখেছেন যে পড়ার সময় মনে হয়েছে কোন মনোরম রূপকথা!
রাগিব হাসানের লেখা বিজ্ঞানীদের কাণ্ড কারখানার অধিকাংশ গল্পগুলো এই বইয়ের কাহিনী থেকে নেয়া। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবনের নানা ঘটনা, বিশেষ করে বিখ্যাত আবিষ্কারগুলো কেমন করে হয়েছিল তাঁর গল্প লিখেছেন লেখক। বিজ্ঞান যাদের কাছে বোরিং কিংবা ভীতিমূলক তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য বই। বইটি পড়লেই যে বিজ্ঞান আয়ত্তে এসে যাবে এমন নয়। বরং বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির কাহিনীগুলো পড়া হবে আনন্দে আনন্দে। আর যারা বিজ্ঞান প্রেমী তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য তো বটেই। নইলে কিন্তু একটি চমৎকার বই পড়ার আনন্দ মিস করবেন।
বিজ্ঞানের ধারাবাহিক অগ্রগতি জানতে এ বইটি ছোট বড় সবার পড়া উচিৎ।
বাংলাদেশে বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তোলার এই অগ্রদূত যেন পরকালেও সুখে থাকেন—সেই দোয়া করি। লুই পাস্তুর কী বিচিত্র উপায়ে টিকা আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁর এবং চার্লস ডারউইনের পর্যবেক্ষণ শক্তির কথা পড়ে আমি মুগ্ধ! দুধ জ্বাল দেয়া যে পাস্তুরীকরণ—তা সেই প্রথম জেনেছিলাম!
স্কুল কলেজের ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি বইগুলোতে প্রত্যেক অধ্যায়ের শুরুতে সব আবিষ্কারের পেছনের কাহিনীগুলো অল্প কিছু লাইনে লেখা থাকতো। বইয়ের অন্য পাতার লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে না পড়লেও, ঐ অংশগুলো আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। তাই এই বইটা আমার জন্য ছিল দারুণ কিছু।মানুষের জীবনের গল্প জানতে বা শুনতে আমার সবসময়ই ভাল লাগে। আর সেগুলো যদি হয় ছোটবেলা থেকে শুনে আসা নামের মানুষগুলোর, তাহলে তো আর কথাই নেই! থেলিস, আর্কিমিডিস, গ্যালিলিও, লিউয়েন হুক, নিউটন, ভোল্টা, পাস্তুর, ম্যারি কুরি, আইনস্টাইন, ডারউইন সবই তো খুব চেনা নাম। তাদের আবিষ্কারগুলোর কথা শুনতে শুনতেই তো বড় হওয়া। এই মানুষগুলোর সেই সব আবিষ্কারের গল্প খুব সহজ ভাষায় এই বইয়ে তুলে ধরেছেন আব্দুল্লাহ-আল-মুতী। গুডরিডস ঘাটতে ঘাটতে হঠাৎ করেই বইটি খুঁজে পাওয়া। কয়েক পাতা পড়েই এতো মজা পেয়ে গিয়েছিলাম যে অফিস থেকে ফিরবার পথে রিকশায় বসেও পড়তে পড়তে ফিরেছি! ৮৭ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটা বই, তাই পড়তেও বেশি সময় লাগে নি। সুন্দর একটা বই। ছোটদের কথা ভেবেই লেখা হলেও, যে কেউ এই বই পড়ে আনন্দ পাবে বলে মনে হয় আমার। কেউ যদি বিজ্ঞান সম্পর্কিত বই এড়িয়ে চলেন, সে-ও এই বই পড়ে খুশি হয়ে যাবে!বইয়ে উল্লেখ আছে যে, নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিউটন বলেছিলেন- "লোকে আমার সম্বন্ধে কী ভাবে, তা আমি জানি না। কিন্তু নিজের কাছে মনে হয় যেন আমি ছোট শিশুর মতো সাগরের তীরে শুধু নুড়িই কুড়িয়ে বেড়ালাম—কোথাও একটু মসৃণ নুড়ি অথবা একটু সুন্দর ঝিনুক। বিশাল জ্ঞানের সমুদ্র আমার সামনে অজানাই পড়ে রইল।" আসলে��! নিউটনের মতো এই মানুষগুলো কত না অজানা পথের খোঁজ দিয়ে গিয়েছেন মানবজাতিকে। কিন্তু বিজ্ঞানের সাহায্যে তাদের দেখানো এই পথ ধরে এগোতে এগোতে, মানুষ আজ কোথায় এসে পৌঁছেছে, তা দেখে যেতে পারলেন না তাঁরা! আর্কিমিডিস যদি জানতেন যে স্কুল-কলেজের ল্যাবে এখনও তাঁর সেই পানি উপচে পড়ার পরীক্ষা হাতে কলমে শেখানো হয়, তাহলে হয়তো খুশিই হতেন! :)
এই বইটা আরেকটু কম বয়েসে পড়া উচিত ছিল! তখন কেমন অনুভূতি হইতো, এটা ভাবতেছি! পড়লে হয়ত কৈশোরকালীন সময়ের সেরা একটা বই হইতো এটা, বইটাকে ঘিরে চমৎকার কিছু স্মৃতি হইত, হয়ত কিছু বিস্ময় এবং অনুভূতি তৈরি হইতো— এই বুড়া বয়েসে যেগুলো 'অমূল্য' হয়ে অবসর সময়ের ভাবনায় ধরা দিত। বইটা এই বুড়া বয়েসে এসে পড়েও এত চমৎকার লাগছে যে, পড়াকালীন নিজেরে বাচ্চা বাচ্চা মনে হইছে। যাইহোক, বইটা নিজের ভবিষ্যৎ বাচ্চার জন্য 'তুলে' রাখলাম। নিজে সঠিক সময়ে না পড়লেও, সে যেন অবশ্যই এমন একটা বই মিস করে না যায়!
This book brings back a lot of memories. I am writing this review from my personal experience. If you want your children to get interested in science, buy this book for them asap. The simple, loving and eloquent tone will easily resonate with young minds. It is a shame that this book is quite difficult to find, now-a-days.
বিজ্ঞান নামটার সাথেই যেন আতঙ্ক মিশে আছে। কিন্তু আব্দুল্লাহ-আল-মুতী সেটাকে যেন যাদুর মত দূর করে দিলেন। কেউকে কোন বিষয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হলে সেটা সম্পর্কে পাঠকের স্পিরিট জাগিয়ে তোলা। বইটি এমনভাবে লেখা হয়েছে যে, পড়লেই মনে হবে আমি যদি বিজ্ঞানী হতে পারতাম। লেখক বাংলা সাহিত্যের বিজ্ঞান চর্চাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ছোটবেলায় পড়া বই, বুঁদ হয়ে থাকতাম গল্পগুলোর মাঝে। কতটা সাধনা, পরিশ্রম, ত্যাগ আর একাগ্রতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা তাদের আবিষ্কারের পেছনে লেগে থেকেছেন, সেটা একদম সহজবোধ্য ভাষায় কোমলমতীদের উপযোগী করে লিখেছেন আব্দুল্লাহ আল মুতী সাহেব৷
মামাতো ভাই পাভেলের কোন এক জন্মদিনে বড় মামার এক বন্ধু তাকে অনেকগুলো চমৎকার বই উপহার দিলো। কত গুলো বই ছিলো সে সংখ্যা এখন মনে নেই, সর্বমোট ২০টার মত হতে পারে। আমরা প্রায় সব ভাই বোন সেই বই গুলো পালা করে একজন একজন করে পড়েছিলাম। এটা খুব সম্ভবত ১৯৯৪ অথবা ৯৫ সালের কথা। সেই বয়সে বইটি পড়ে মনে হচ্ছিলো, চালাকি করে কেউ একজন গল্পের বইয়ের মোড়কে পাঠ্যবই ছাপিয়েছে যাতে আমরা পড়ি। সেই চালাকি ধরে ফেলার পরও বইটি পড়তে দারুণ লেগেছিল।
মামার ঐ বন্ধুর দেয়া বই গুলোর বেশির ভাগই ছিলো বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ছোটদের বই। সেগুলোর মধ্যে যে দুটি বই এখনো পড়া ভালো বই গুলোর মধ্যে প্রথম দিকে থাকবে, সে দুটোর নামও এখানে জানিয়ে রাখি -
এতদিন শুধু এই বিজ্ঞানীদের নামই শুনে এসেছি। আর টিচারদের মুখে তাদের গল্প অল্প-আধটু যা শোনা আর কি। এই বইটা পড়ার পর বিস্তারিত জানতে পারলাম। গ্যালিলিওর কথা, দুধের প্যাকেটে কেন 'পাস্তরিত দুধ' লিখা থাকে, কীভাবেই বা আবিষ্কার হলো টিকা আরও অনেক কিছু.. সব মিলিয়ে অনবদ্য। ❤❤