Bibhutibhushan Mukhopadhyay was a renowned Bengali author. Bibhutibhushan's early days were spent in Darbhanga, Bihar, India. His college life was spent in Kolkata. He as a schoolteacher and journalist.
Child psychology and middle class Bangali lives were focused in his writing. His first book, ‘Ranur Prothom Vagh’ was published in 1934.
He was honored with Ananda Puraskar in 1958, Rabindra Puraskar in 1972 and Sharatchandra Puraskar in 1978, Jagattarini Puraskar from Calcutta University, D.Litt from the University of Burdwan and Desikottama from the Visva-Bharati University of Shantiniketan.
প্রায় বছরখানেক আমি বইটা পিডিএফে পড়া শুরু করি। কিন্তু প্রথম গল্পটা পড়ে আমি থেমে যাই। সিদ্ধান্ত নেই এই বই আমি হার্ডকপি ছাড়া পড়বই না।
তারপর বিভিন্ন অনলাইন শপে বিস্তর খোঁজাখুঁজির পরেও আমাকে বার বার হতাশ হতে হয়েছে। প্রিন্ট আউট, আউট অফ স্টক, শেষ হয়ে গেছে ইত্যাদি শুনতে হয়েছে প্রতিবার। কিন্তু হাল ছাড়িনি। অবশেষে একটি অনলাইন শপ থেকে দীর্ঘ এক বছর পরে বইটি হাতে পাই।
আমি এত্ত ধৈর্য্য ধরে হার্ডকপি পড়ার জন্য অপেক্ষা করলাম কারণ প্রথম গল্পটা পড়ে আমাকে যে নির্ভেজাল আনন্দ আর হাসি উপহার দিয়েছে তেমনটা খুব কমই লেখা দিতে পেরেছে। এমনও কিছু লাইন আছে যেখানে চোখ পড়তেই আমি এখনই আবার হেসে উঠবো। আর এমন একটা সম্পদ নিজের সংগ্রহে না রাখা অবধি কি স্বস্তি আসতে পারে একজন হাস্যরসপ্রিয় পাঠকের মনে?
ওরা ছয় বন্ধু। ত্রিলোচন, রাজেন, ঘোতন, গোরাচাঁদ, কে.গুপ্ত আর গনেশ। এই শেষোক্ত গনেশ ওরফে গনশা এই দলের নেতা। এঁরা নিজেদের এলাকা শিবপুর থেকে কলকাতার চারপাশ অবধি ভলান্টেরি কাজকর্ম করে থাকে। উদ্দেশ্যে নিষ্পাপ হলেও বেশিরভাগ জায়গায় যে একটা না একটা অঘটন ঘটেই যায় সেটা অবশ্য ভিন্ন হিসাব। এদের বিয়ে আর বিয়েজনিত বিভিন্ন অভিযান নিয়ে মোটা ১০ টা গল্প আছে বরযাত্রী ও বাসর বইটিতে।
ত্রিলোচন ওরফে তিলুর বিয়ে নিয়ে প্রথম গল্পটি। যাদের রম্য সাহিত্য ভাল লাগে তাদেরকে কথা দিতে পারি প্রথম গল্পটি অনাবিল হাসি আপনার বইটির প্রতি একটা দারুণ আগ্রহ তৈরি করবে যা আপনাকে শেষে রাজু ওরফে রাজেনের বিয়ে অবধি নিয়ে যাবে।
আসলে এই ছয়জন একটা বিশুদ্ধ বন্ধুচক্র হিসাবে চিহ্নিত করলেও খুব ভুল হবে না। এখানে আছে দলের নেতৃত্ব দেবার মত একজন, সেই নেতাকে প্রতিদ্বন্দিতা করার মত একজন, নেতাকে তেল দেবার মত একাধিক জন, আছে একজন অতিশয় পেটুক, একজন অতিশয় ভীতু আর একজন অতিশয় আন্ডাররেটেড। মোটামুটি ছয়ের ভেতর অনেককে পাবেন। তাই বলে বন্ধুত্বের টান কিন্তু টনটনে। একজনের সামান্য থেকে গুরুতর বিপদে সবাই একাট্টা আর তীব্র সক্রিয়। গনেশের মামা গোলক চ্যাটার্জীর ভাষায়, "ছয়টি হরিহর আত্মা"।
মজার ব্যাপার হলো দলের প্রধান গনশা কিন্তু তোতলা। কিন্তু তার এই সীমাবদ্ধতার নেতৃত্ব গুণে কোন অসুবিধা করতে পারেনি। দিব্যি সে নিজেদের এলাকা শিবপুর থেকে কলকাতা অবধি দল নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। কখনো কোন স্কুলের বার্ষিকীতে, কখনো বন্যার ত্রাণ যোগার করতে আবার কখনো থিয়েটারের নাটক অভিনয় করতে।
তিলু, গোরা আর ঘোতনয়ার বিয়ের পরেই দলের প্রধান গনশার বিয়ের জন্য পুরো দল খুব নড়েচড়ে বসে। এই গনশার বিয়ে নিয়েই বইটা বড় অংশ লেখা হয়েছে। এমন এমন ঘটনায় লেখক সাজিয়ে এই বিবাহের শুরু থেকে পরিণতিতে এগিয়েছেন উত্তেজনা আর হাস্যরস দুটো একসাথে উপভোগ করা যায়।
নব্বইয়ের দশকে দূরদর্শনে এই বইয়ের উপর নির্মিত সিরিয়াল ছিল "বিবাহ অভিযান"। আমার দেখার সুযোগ হয়নি বয়সের কারণে। তবে ইউটিউবে পুরো সিরিয়ালটি পেয়ে খুব আনন্দিত হয়েছি। বইটা পড়া শেষ এবার অভিনয়ের স্বাদ নেব। পড়ার সময়ও মনে হচ্ছিল এই ঘটনাগুলো চিত্রায়িত রূপে দারুণ উপভোগ্য হবে।
[ ব-বরযাত্রী ও বাসর, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশ ভবন, এ-একশত চল্লিশ রু-রুপায়া! ]
সাদা-কালো আমাদের সেকেলে টিভিটার কোম্পানীর নাম ছিল ‘ক্যাপ্টেন’-হ্যাঁ, কেউ এমন ধারা কোম্পানীর নাম শুনেছে কিনা সন্দেহ! কিন্তু, ১৪ ইঞ্চির ক্যাপ্টেনের অনেক ক্ষমতা ছিল; দুটি মাত্র চ্যানেলে আমূল সুরভি থেকে ছুটিছুটি, জাঙ্গলবুক, ডাকটেলস, ব্যাটম্যান-সুপারম্যান-ফ্যান্টম, দ্যা স্ট্রীট-হক ইত্যাদি হয়ে ওদিকে আবার তেরো-পার্বন (আমি দেখিনি, আফসোস!) , স্বপ্নের বাজার, কুয়াসা যখন, জননী, জন্মভূমি ইত্যাদি নিয়ে তার ম্যারাথন দৌড় ছিল! ক্যাপ্টেনের চৌদ্দ ইঞ্চির চৌহদ্দিতে যা ধন-সম্পদ ছিল, তা দেখলে আমি নিশ্চিত, আঙ্কল স্ক্রুজও ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়তেন। শেষদিকে বৃদ্ধ ক্যাপ্টেনের মধ্যে অবশ্য দৃঢ়তা কমে গেছিল, ভোল্টেজ কমে এলে, বা অনেকক্ষন চললে সে হাঁপাত, তার ছবি কাঁপত, কোনা মুড়ে যেত। এসব ক্ষেত্রে নির্দয় হয়ে তাকে চড়-চাপাটি মারতেই হত! কিন্তু, সে যাই হোক, ক্যাপ্টেনের কাছে আমরা ঋণীই ছিলাম, এখনো আছি।
এই ক্যাপ্টেনের সুবাদেই দেখেছিলাম ‘বিবাহ-অভিযান' নামের সিরিয়ালটি! যতদুর মনে পড়ে ১৯৯৩ এর সপ্তাহান্তের শুক্রবার গুলিতে, রাত দশটায় গ-গনশা, রাজেন, ঘ-ঘোৎনা, গোঁরা, তিলু আর কে. গুপ্তা এসে উদয় হয়েছিল আমাদের জীবনে। সিরিয়ালের শুরুতে লম্বা হুঁউশ হুউশ করে শব্দ হত, তারপর প্যাঁপা-প্যাঁপ-প্যাঁ এরকম আওয়াজে সিরিয়াল শুরু হত! সিরিয়ালটা অমন হাসির হওয়া সত্ত্বেও ওই হুউশ শব্দে শুরু হওয়ার কেমন গা শিউরে উঠত!
গনশা, রাজেন, ঘোৎনা, গোঁরা, তিলু আর কে গুপ্তা, শিবপুরের বাসিন্দা। বিয়ে-পাগলা এই ছয়জনের হিজিবিজি কাজ-কারবার ছিল অফুরন্ত হাসির উৎস! এদের মধ্যে গনশা (শঙ্কর চক্তবর্তী) দলনেতা বিশেষ, তার একটু তোতলামির একটু দোষ আছে বটে, তবে তাতে তার ধার বেড়েছে বই কমেনি! সে বয়েসে জানতাম না, জানার কথাও নয়, সিরিয়ালটি হয়েছিল দেবকুমার বসুর পরিচালনায়। অভিনেতাদের কাউকে চিনতাম না, আর দু-জন বাদে আর কেউ তেমন পরিচিত হয়েও উঠতে পারেনি। শঙ্কর চক্রবর্তী গনশাকে, আর শুভাশিস মুখার্জি রাজেনকে চিরকালের জন্য মনে গেঁথে দিয়ে গেছে। এই দুজন ছাড়া আর যারা ছিলেন, রাহুল বর্মন, জয় বাদলানী, দীপন তপাদার, আর রঞ্জন ব্যানার্জী, এদের মুখ মনে আছে, কিন্তু পরে আর কোথাও তাদের দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
বিবাহ-অভিযান সিরিয়ালটি কোন অজ্ঞাত কারনে সম্পূর্ণ হয় নি, শেষ মনে আছে কে গুপ্তা দু-হাতের করতল জোড়া করে বুড়ো আঙুল দুটো নাড়িয়ে পুঁটিমাছ এর ইঙ্গিত করছিলেন, পুঁটি হল গনশার হবু বউ! এই সিরিয়ালটি টোরেন্টে বা সিডিতেও পাওয়া যায় না, তাই বহুদিন ধরে জানতে পারিনি যে এর গল্পের উৎস বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর বই ‘বরযাত্রী ও বাসর'! সেকালের গল্পে তো উৎকট চড়া দাগের রসিকতা থাকত না, সিরিয়ালেও ঘনঘন বাজ পড়ার শব্দ হত না বা ধিন-তা-না-ধি-তা-না বেজে উঠত না। ফলে বিয়ে-পাগলা এই ছয়জনের কাজ-কারবার আজকের হিসেবে খুব অভূতপূর্ব না হলেও, আমাদের জন্য ছিল অফুরন্ত হাসির উৎস!
এ বই এর খুঁত ধরা আলোচনা সম্ভব, কিন্তু আমি করব না। এ বই শুধুই নির্মল আনন্দের আকর। সেই একটু সেকেলে, একটু বোকা-সোকা, কিন্তু একটু চালিয়াৎ গোটা কতক ছোকরার প্রেম, বিয়ে ইত্যাদি নিয়ে নাজেহাল হয়ে যাওয়ার গল্প এই বইটি। অবসর সময়ে স্মৃতিকাতরতায় ডুবে যাওয়ার জন্য এ বই আফিম বিশেষ!
হাস্যরসাত্মক গল্প সংকলন। সর্বশেষ মুদ্রণে সম্ভবত দশটি গল্প আছে। তবে আমি যেটা পড়েছি সেটায় ছয়টি গল্প । সবগুলো গল্পই মোটামুটি একই ধাঁচের। খুব যে ভালো বা খুব যে খারাপ লেগেছে তা নয়। সময় কাটানোর জন্য একবার পড়ে ফেলার মতো।
আমাদের বাংলার দুই বিভূতিই সুন্দর। অনেকেই তাদের তুলনা করেন এটা ঠিক নয়। দুইজনের লেখার জনরা আলাদা। বরযাত্রী ও বাসর এর গল্প একদল বন্ধুদের স্বেচ্ছায় জনসেবামূলক কাজ করতে গিয়ে উল্টো প্রত্যেকবারই অপদস্থ হয়ে আসার গল্প। পড়ে আনন্দ পেয়েছি, নিজের সাথে রিলেট করতে পেরেছি। ছোটবেলায় মা বাবার কাজে সাহায্য করতে গিয়ে কত বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিলাম, এমনকি বাড়ির পাশের প্রতিবেশীর উপকার করতে গিয়ে সর্বনাশ করে বকা খেয়ে চলে এসেছি। মোরাল কোড সর্বত্র থাকে না, কোথাও কোথাও নিছক আনন্দেরও প্রয়োজন হয়
গণশা, ঘোৎনা, রাজেন, গোরাচাঁদ, ত্রিলোচন, কে গুপ্ত - এদের নিয়ে বরযাত্রী ও বাসর। বরযাত্রী অংশে আছে ছয়টি গল্প এবং বাসর অংশে আছে সাতটি গল্প। মজার জগৎ এই বইটি।