'মায়াবী জোছনার বসন্তে'মোশতাক আহমেদের প্যারাসাইকোলজি ঘরানার একটি অনবদ্য উপন্যাস।
সাকিব রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ছাত্র। ফজলুল হক হলে থাকে সে । বেশ ভালো ছাত্র সাকিব । সাকিবের জীবনের এক বড় অংশজুড়ে নিশার বসবাস। চারিদিকে সমস্ত অশান্তি, কোলাহল , ব্যভিচার সরাসরি প্রত্যক্ষ করার পর সাকিবের ভেতরের প্রতিবাদী মন যখন ব্যর্থ হয় এ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তখন সে নিশার কাছে গিয়ে শান্তি খোঁজে। শান্তি সে পেয়েও যায়, যে শান্তি অবর্ণনীয় । সমস্ত গ্লানি, ক্ষোভ সব পানি হয়ে যায় তার কাছে গেলে । সাকিব যখনই চায় তখনই সে নিশার সান্নিধ্য লাভ করতে পারে । সে যখনই তাকে কামনা করে তখনই সে আসে । হোক তখন সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা, দুপুর কিংবা মাঝরাত । কখনোই নিশার না নেই। এ জন্যই নিশাকে বোধহয় সাকিবের এত ভালো লাগে। ভালো লাগে নিশার মায়াবী রূপ লাবণ্য কে, ভুবনভোলানো হাসি কে। সে অনুভব করে নিশা তার জীবনের অনন্য এক প্রশান্তি। হলের নানা ঝামেলায় যখন তার মন বিপর্যস্ত ,যখন সান্টু ভাই আর তাদের সাঙ্গো পাঙ্গোদের গুন্ডামি তে জীবন অতিষ্ঠ, প্রতিবাদ করতেও অপারগ, চুপ করে থাকতেও সংশয় তখন তার এই বিপর্যস্ত মন শান্তি খোঁজে নিশার কাছে। নিশা তাকে পারিপার্শ্বিক অস্থিরতা আর অসুস্থতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে ও তার জীবনে নিয়ে আসে পরম প্রশান্তি । জীবনকে করে তোলে সুখী ও আনন্দময়। এছাড়াও সাকিবের জীবনে রয়েছে আরো কয়েকজন এর অবস্থান । তার হলের বন্ধুরা, তার প্রিয় লতা খালা এবং আরও অনেকে। লতা খালা থাকেন রোকেয়া হলে। খালার সাথে তার বেশ ভাল সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকেই সে খালার ভক্ত। তার সাথে গ্রামে সারাদিন ঘুরে বেড়ানো ও দস্যিপনা সবই করত । খালা তাকে খুব স্নেহ করে। তার খালাও দেখতে অসম্ভব সুন্দরী। সে এত সুন্দর যে সাকিব নিয়মিত সিনিয়রদের কাছে তার সাথে সম্পর্ক করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব পায়। তবে সাকিব তাদের বেশ ভালোভাবেই সামলায়। একদিন ঘটনাক্রমে লতাখালার সাথে দেখা হয়ে গেলে তার সাথে যখন সে রোকেয়া হলে যায় তখন সে দেখা পায় নোভার । নোভা দেখতে মারাত্মক সুন্দর। তার খালা আর নোভা যখন কথা বলছিল তখন তার মনে হয়েছিল তারা যেন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দুজনেই যেন সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। নোভার সাথে আলাপ করিয়ে দেয় তার খালা। বেশ প্রাঞ্জল সে। বেশ আত্মবিশ্বাসী। সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে। আর সে চোখ যেন চোখ নয় রহস্যে ভরা কোন গহবর, যার মাঝে রয়েছে মমতা ও ভালোবাসা। মনকে শীতল করার অভাবনীয় ক্ষমতা। তার সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় সাকিব। একদিন তার বন্ধু বরকত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে । তারা বন্ধুরা মিলে তাকে নিয়ে যায় হাসপাতালে । বরকত মানুষটা অদ্ভুত। সে কীভাবে যেন ভবিষ্যৎটা আন্দাজ করতে পারে। কেমনভাবে যেন তার আন্দাজটাও সঠিক হয়ে যায়। কিভাবে সম্ভব এটা? এদিকে লতা খালার প্রেমে পড়েছে তুষার । সে বেশ ভালো চাকরি করে । সাকিবও মনে করে তার সাথে লতা খালার একটা পরিণয় হলে লতা খালারই ভালো হবে। তবে নানা জটিলতার সম্মুখিন সে হয়েছিল এ নিয়ে। বরকতের সুস্থতার জন্য তুষার ভাই অপারেশনের টাকাটা দিয়েছিল। কি উদার মনের মানুষ তুষার ভাই! সাকিব যখন সে টাকা নিয়ে যায় তখন বরকতের বড় বোন তাকে অবাক করে দেয় সে কিভাবে টাকা যোগাড় করেছে তা বলে। যা তার কোনভাবে জানার উপায় ছিল না। কি এমন আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তার? এদিকে তুষার ভাই লতাখলা কে পাওয়ার জন্য পাগল। সকল জটিলতা পাড়ি দিতে সে প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত সাকিব কি পেরেছিল তাদের সম্পর্কের পরিণয়ে সাহায্য করতে? আবার নোভার সাথে সাকিব বেশ অন্তরঙ্গতা গড়ে তুলে। তবে তার মনে নিশার যে অবস্থান তা তাকে বাঁধা দেয়। নিশা কে সে ভুলতে পারেনা। একদিন হঠাৎ তার ডাক পড়ল তার হলের প্রভোস্ট রাশেদ স্যারের কাছে। স্যার ছিলেন নীতিবান ।সবাই তাকে বিশ্বাস করে। কিন্তু স্যার তাকে একি বললেন ? নিশা বলতে বলে কেউ নেই? সবই বলে তার অবচেতন মনের কল্পনা ? পারিপার্শ্বিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই বলে সে তাকে সৃষ্টি করেছে? এ কেমন কথা? তাহলে এতদিন সে নিশার সাথে যে সময় কাটিয়েছে সবই কি মিথ্যা ছিল ? যে চিঠি লিখেছিল তা কি মিথ্যা ছিল? তার চিঠিগুলো যে সাদা কাগজ ছিল তাও প্রমাণ করে দিলেন রাশেদ স্যার ! এখন কি করবে সাকিব? সে নিজেই নিজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্যার বললেন তার অবস্থা এতই ভয়াবহ হয়েছে যে সে এখন আর বাস্তব আর কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে না। এমনকি অবস্থা এমনই ভয়াবহ যে সে মৃত্যুবরণ করতে পারে! নোভা, হ্যা নোভাই পারে এখন তাকে বাঁচাতে। নোভার সাথে দেখা হওয়া দরকার । কিন্তু তখন ইউনিভার্সিটিতে ছিল অস্থিতিশীল অবস্থা। নোভা হলে ছিল না । শেষ পর্যন্ত নোভার দেখা কি পেয়েছিল সাকিব? সেকি পেরেছিল নোভার মাঝে তার সকল সুখ খুঁজে নিতে নিশাকে ভুলে? নাকি তাকে বরণ করতে হয়েছিল করুণ পরিণতি?