এককেন্দ্রিক উপন্যাসের কাঠামো এখন আর এ দেশের সমাজব্যবস্থাকে ধারণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। জাকির তালুকদারের এই উপন্যাস তাই এমন এক নির্মিতি, যার কেন্দ্র আছে সর্বত্র। অন্য কথায় পরিধিজুড়ে সবটুকুই কেন্দ্র।
‘হাঁটতে থাকা মানুষের গান’ এমন এক জনগোষ্ঠীকে পাঠকের সামনে তুলে এনেছে, যাদের কাছে রাষ্ট্রের উপস্থিতি মানেই পীড়ন। রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ চেহারাকে তারা চেনে না। কিন্তু ঈশ্বরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সর্বশক্তিমান রাষ্ট্র প্রতিনিয়ত থাবা বসায় তাদের জীবন যাপনের নিজস্ব ছন্দে, তাদের পালা-পার্বণে, তাদের সীমিত স্বপ্নে। তারা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হতে থাকে। একবিংশ শতকে হয়নি কোনো কৃষক-নিপীড়িতের আন্দোলন। কারণ প্রতিরোধ করার কথা ভুলে গেছে এ দেশের মানুষ। তারা বেঁচে থাকে শত্রুদের করুণার ওপর নির্ভর করে। অথবা অপেক্ষা করে অলৌকিক কোনো সাহায্যের, ত্রাণকর্তার। যদিও মনে মনে জানে অসম্ভব সেই প্রত্যাশা। পাঠক, এই ক্ষমাহীন জগতের শিল্পগাথায় আপনাকে স্বাগত।
জন্ম ২০ জনুয়ারি ১৯৬৫, নাটোরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক। স্নাতকোত্তর ডিগ্রী স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে। সমকালীন মূলধারার বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর অপরিহার্যতা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। অনবরত বাঁকবদল তাঁর সাহিত্যিকতার প্রধান বৈশিষ্ট। বিষয় ও আঙ্গিকে, মাধ্যম ও প্রকরণে তাঁর স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত অবস্থান সকল মহলেই স্বীকৃত। পেয়েছেন বাংলা একাডেমিসহ দেশের প্রধান প্রায় সকল সাহিত্য পুরস্কার।