What do you think?
Rate this book


71 pages, Unknown Binding
First published February 1, 2012
পরীক্ষা দিতে যাবার সময় আমার ছেলে-মেয়ে অথবা আমি কেউই কোনোদিন পেন্সিল কেটে নিয়েছি অথবা কলমে কালি ভরে নিয়েছি বলে মনে পড়ে না। এসব কাজ কবি নিজেই করতেন। তার কাজ ছিল নিখুত। চিহ্নস্বরূপ এখনো তার হাতের কাটা একটি পেন্সিল আমি সযত্নে রেখে দিয়েছি। পেন্সিলটি দেখলে স্মৃতির আলোড়নে কত কথাই ভেসে আসে। জগতে জড় পদার্থের মূল্য কতটুকু! কিন্তু যার জন্য সেই জড় পদার্থ অমূল্য সম্পদ হয়ে ওঠে- যাকে নিয়েই স্মৃতির আলোড়ন- থাকেনা শুধু সেই মানুষটা। ভাঙ্গা-গড়ার কাজে বিধাতাপুরুষ মানুষের মন নিয়ে যেন ছিনিমিনি খেলছেন। যে মনে চেতনা দিয়েছেন বলেই মানুষ আজ শ্রেষ্ঠ জীব- আবার সেই মনকেই ভেঙে গুড়ো করে দিয়ে প্রিয়জনকে টেনে নিয়ে যেতে একটুও বাধছে না! বিধাতার এ কী খেলা!
মঞ্জুশ্রী ও সমরের কাছে কবি শুধু বাবাই ছিলেন না-তাদের বন্ধুও ছিলেন তিনি । ���াই তাদের যত কথা যত গল্প সবই ছিল তার সঙ্গে । লেখক শ্রীসুবোধ রায় আমাদের ল্যান্সডাউন রোডের বাড়ির খুব কাছেই থাকতেন। তিনি প্রায় রোজই আমাদের বাড়িতে এসে কবির সঙ্গে নানারকম গল্প করতেন। সে গল্পে বাবার সঙ্গী হিসেবে সমরও নিয়মিত- ভাবেই যোগ দিতো । খেয়ে দেয়ে তারা গল্প করতে বসতেন । সুবোধবাবুও সে পাট চুকিয়েই আসতেন। কোন কোন দিন রাত প্রায় একটা বেজে যেত-তবুও তাদের গল্প শেষ হ'ত না। আমি এক ঘুম দিয়ে উঠে ছেলেকে তাড়া দিয়ে শুতে পাঠাবার চেষ্টা করলে সে দু-হাতে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকত। আমি রাগ করলে সুবোধবাবু ও কবি দুজনেই হাসতেন।
তাদের আসরে শুধু যে মজার মজার গল্পই হত, তা নয়। সাহিত্যের আলোচনাও হত । ছোট ছেলে হয়েও সমর মন দিয়ে সেসব কথা শুনত। এমন কি মাঝে মাঝে সাধ্যমত নানারকম প্রশ্নও করত। কবি ও সুবোধবাবু দুজনেই যতটা পারতেন, তাকে বুঝিয়ে দিতেন। ছেলে যে সেসব কথায় কি স্বাদ পেত জানি না-মন দিয়ে বসে বসে শুনত। কোন কারণে যেদিন সুবোধবাবু না আসতে পারতেন, সেদিন সমরের মন খারাপ হয়ে যেত! সে তার বাবার কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে কেবলি জিজ্ঞাসা করত-“বাবা, সুবোধ কাকা কখন আসবেন - কখন আমাদের গল্প হবে?'
ছেলের ম্লান মুখ দেখলে কবিও কোন কাজে মন দিতে পারতেন না। সবকিছু ফেলে ছেলের সঙ্গে গল্প করতে বসতেন। বাবার রোজকার সঙ্গী হিসেবে ছেলেও ক্রমে সাহিত্যকে ভালবাসতে শিখল।
কোথাও যেতে হলে অথবা কোন কাজ শুরু করবার আগে তিনি প্রথমেই ছেলের মতামত জিগ্যেস করতেন। "তুই কি বলিস? ছেলে মত দিলে তিনি খুশী হয়ে সে কাজ করতেন। আমি হাসলে বলতেন-“বুড়ো হয়ে তো এই ছেলের উপরেই নির্ভর করতে হবে। এখন থেকেই তার তালিম নিচ্ছি'-কথাটা বলেই দুহাতে ছেলেকে জড়িয়ে ধরতেন।