Jump to ratings and reviews
Rate this book

মানুষ জীবনানন্দ

Rate this book

71 pages, Unknown Binding

First published February 1, 2012

9 people are currently reading
139 people want to read

About the author

লাবণ্য দাশ

1 book2 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (10%)
4 stars
49 (36%)
3 stars
47 (34%)
2 stars
22 (16%)
1 star
4 (2%)
Displaying 1 - 30 of 33 reviews
Profile Image for Yeasin Reza.
519 reviews88 followers
September 1, 2023
জীবনানন্দ দাশের গল্প উপন্যাসের অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে দাম্পত্যজীবন। দাম্পত্য বিষয়টি উনার অন্যতম প্রধান আত্মজৈবনিক উপন্যাস ' মাল্যবান' এর কেন্দ্র তো বটেই এছাড়া বহু গল্প উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে তিনি লিখেছেন। জীবনানন্দ দাশের রচনায় দাম্পত্যজীবনের খুব একটা সুখকর রুপ দেখা যায়না।উনার রচনায় - একই ছাদের নিচে স্বামী -স্ত্রী'র আকাঙ্ক্ষার ভিন্নতার স্বরুপ, বিছানায় পাশাপাশি শোয়া দুটো মানুষের ভিতরকার সুদূরতা, স্ত্রীর প্রেম কামনায় স্বামীর ব্যর্থতা, ব্যাক্তিত্বের সংঘাত, সংসারের ক্ষতচিহ্ন সর্বোপরি ব্যর্থ দাম্পত্যের গল্প অথবা সফল সংসার কামনার তীব্র ইচ্ছার বিষন্নতা। এসব থেকে খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে, আপাত দৃষ্টিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবনানন্দ দাশ গড়পড়তা মধ্যবিত্ত গৃহীজীবন পার করলেও কোথাও যেন সুখের খামতি ছিলো। আসলে সবাই স্পষ্টত করেই জানে জীবনানন্দ আর লাবণ্য এক সমান্তরালতার মানুষ নন। দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা সব দিক দিয়েই। বাহিরে বাহিরে জীবনানন্দ শান্তভাব দেখালে ও গল্প উপন্যাসে বিবাহিত জীর্ণ হ্নদয়ের বিমূঢ় হতাশা-ক্ষোভের বয়ান তীব্রতর ভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাই আমি কবিদম্পতির দাম্পত্যজীবন দেখেছি কবির স্বকৃত বয়ানে। বিপরীত জনের এই বিষয়ে দৃৃষ্টিভঙ্গী কেমন ছিলো তা জানার আগ্রহ ছিলো।

লাবণ্য দাশ এই বইখানা লিখেন কবির মৃত্যুর পর। যদি ও তিনি কবির মৃত্যুর সময় এবং আগে-পরে অনুপস্থিত ছিলেন নিজের কাজে ব্যস্ততার কারনে! লক্ষ্যনীয় বইয়ের সবখানে তিনি নিজ স্বামীকে কবি বলে সম্বোধন করেছেন! সাধারণত বইটি পড়ে মনে হতে পারে শ্রীমতী লাবণ্য নিজ স্বামীর কবি পরিচয় নিয়ে বেশ সপ্রতিভ। কিন্তু এই বইখানা ই ভালো করে খুুঁটিয়ে পড়লে বাস্তব যে ভিন্ন সে কথা বোঝা যাবে। জীবনানন্দ দাশের কবিতা বা উনার সাহিত্যিক পরিচয় নিয়ে লাবণ্যের কোন আগ্রহ ছিলোনা।কবির মৃত্যুর পর তাঁর শবদেহ দাহ করার জন্য যখন প্রস্তুত, কলকাতাকেন্দ্রিক কবি-লেখকরা কবির বাসায় এসে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে যাচ্ছেন, লাবণ্য দাশের তখনকার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভূমেন্দ্র গুহ লিখেছেন, “এক সময়ে জীবনানন্দর স্ত্রী লাবণ্য দাশ আমাকে ঝুল বারান্দার কাছে ডেকে নিয়ে গেলেন। বললেন, অচিন্ত্যবাবু এসেছেন, বুদ্ধবাবু এসেছেন, সজনীকান্ত এসেছেন, তা হলে তােমার দাদা নিশ্চয়ই বড়াে মাপের সাহিত্যিক ছিলেন; বাংলা সাহিত্যের জন্য তিনি অনেককিছু রেখে গেলেন হয়তাে, আমার জন্য কী রেখে গেলেন বলাে তাে!”

কবিপত্নী হয়তো একসময় নিজ স্বামীর গুরুত্ব বুঝে কিংবা ক্রমাগত মানুষের আগ্রহের বদৌলতে কলম তুলে নিলেন।পত্নীর চোখে ' মানুষ জীবনানন্দ ' কেমন তার সরল স্বীকারোক্তি বইটি নয়তো নিতান্তই দায় সাড়ার উদ্যোগের ফল! লাবণ্য দাশ ' মানুষ জীবনানন্দ ' বই শুরু করেন প্রথম দিন জীবনানন্দ দাশের উনাকে দেখতে আসার দিন থেকে। লাবণ্য বইতে নিজের সংসারের প্রতি নিষ্ঠা আর কবির অমনোযোগীতা দেখাতে বেশ সচেষ্ট ছিলেন।বেশ কিছু অম্ল-মধুর স্মৃতির ও বর্ণনা করেছেন হয়তো এই দেখাতে যে লাবণ্য দাশের একান্ত চেষ্টার গুণে কবির অমনোযোগীতার বাধা পেরিয়ে সংসার বেশ কেটেছিলো।কবির সাথে যেসব স্মৃতি উল্লেখ করেছেন উল্লাসের সাথে সেসবকে খুব একটা চমৎকার স্মৃতি রোমন্থন বলা যায়না। আসলে লাবণ্য দাশের কন্ঠস্বর যে মেকি তা বোঝা যায় স্পষ্ট করে।চড়া গলার সুর নরম করে ও লুকোতে পারেননি। হঠাৎ গদগদ ভক্তি স্বামীর সাথে সংযোগহীনতার খবর আড়াল করতে পারেন নি।

যেমনই হোক, এই বইয়ে জীবনানন্দ দাশের স্বভাব সম্পর্কে কিছু সাধারণ ধারনা পাওয়া যায়।লাবণ্য অকপটে কবি সম্পর্কে সহজিয়া মুগ্ধতায় নিজের প্রতি কবির কর্তব্যবোধ,সন্তানদের নিয়ে কবির ভাবনা,কবির হাস্যরসাত্মক দিক,লেখার টেবিলমুখিতা,ছাত্রদের প্রতি স্নেহশীলতা এইসব দিক যেমন বলেন তেমনি কবির প্রতি কোন কোন ক্ষেত্রে বিরক্তি চাপা রাখেন নি। নিজের কর্তৃত্বাবাদী আচরণ লুকান নি।

লাবণ্য দাশ কে ভিলেন অ্যাখা দিবার ইচ্ছে নেই আমার।তবে উনার কাছ থেকে মানুষ জীবনানন্দ সম্পর্কে যা জানতে আশা করছিলাম সেরকমটা পেলাম না। মানুষ জীবনানন্দ সম্পর্কে কোন গভীর কিছু তিনি বলতে পারেননি।হয়তো যে মানুষটার সাথে দীর্ঘদিন সংসার করলেন তাকে হয়তো মানুষই মনে করেছেন মানুষটি চলে যাবার পর।তাই তার ' মানুষ জীবনানন্দ ' বইটি মানুষকে দেখানোর উপকরণ ছাড়া বিশেষ কিছু হতে পারেনি।
Profile Image for Saiful Sourav.
103 reviews72 followers
April 9, 2025
ইডেন মহিলা কলেজে পড়বার সময় লাবণ্য দাশকে দেখতে ঢাকার চাচার বাসায় ফুলবাবু সেজে হাজির হন প্রফেসর জীবনানন্দ দাশ । লাবণ্যর বাবা-মা ছিলো না, ছোটবেলা থেকেই চাচার ঘরে মানুষ । জীবনানন্দ মিহি করে তাকে সাহিত্য আর ইতিহাস নিয়ে সামান্য প্রশ্ন করে কি যেন বুঝে ফেললেন: লাবণ্য দাশের ভাষ্য মতে ।
বিয়ের পর বেশ কয়েক মাস ভালোই যায় সংসার । হঠাৎ বি.এম কলেজের পরিচালনা পর্ষদের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে কিছু শিক্ষক ছাঁটাই করা হয় । তারপর সংসারে আসে শাওন ঘনঘটা । এর আগে পাঁচ বছর জীবনানন্দ দাশ লেখালেখি থেকে দূরে, জীবনের শেখাপড়া ও আয়-রোজগারে ব্যস্ত ছিলেন । হঠাৎ চাকুরি যাওয়ায় আবার লেখার জন্য ঝেঁকে বসেন । লাবণ্য দাশের ভাষ্য মতে- কবি সংসারে উদাসিন হলে তার সাথে টেকা দায় হয়ে পড়ে, শত হলেও লাবণ্যর একটা জীবন চাহিদা আছে । দূরত্ব, দুই-পাশ ফেরা তখন থেকেই শুরু । লাবণ্য জীবনানন্দের সংসারে একটা অসহায়ত্ব ভোগ করেন আজীবন । জীবনানন্দের মৃত্যুপর ট্রাঙ্কের ভেতর খুঁজে পাওয়া উপন্যাস, গল্প ও অগ্রন্হিত কবিতা আবিষ্কার হলে লাবণ্য 'মাল্যবান' উপন্যাসটি ছাপতে না করেন কারণ এ গল্পটা তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ও জীবনাচরণ নিয়ে ।
লাবণ্য দাশ একবার এক বান্ধবিকে বলেছিলো- ও তোর স্বামীও কবি, সাবধানে থাকিস । যেন লাবণ্য আর দশটা মেয়ের মতই স্বাচ্ছ্যন্দ স্বচ্ছল সংসার চেয়েছিল । তার মনে একটা বীতরাগ তাই সব সময়ই থেকে গেছে আর সাংসারিক কথা প্রকাশ করবার একটা লজ্জ্বা তাকে হীন করে রেখেছিল ।
লাবণ্যরই বা কি দোষ আর জীবনানন্দেরই বা কি গুন! দুই জনের চাওয়া, কাজ আর জগৎ তো সমবায় সন্নিবেশে হাজারে একবার মেলার সম্ভাবনা । অতএব, কিংবদন্তী এই দম্পতিকে 'হে মহাজীবন' পতঙ্গের মত কচুকাটা ও পোকার মত পিষ্ট করে ভুগিয়েছিলো ।
Profile Image for Shakil Mahmud.
90 reviews41 followers
June 19, 2021
পরীক্ষা দিতে যাবার সময় আমার ছেলে-মেয়ে অথবা আমি কেউই কোনোদিন পেন্সিল কেটে নিয়েছি অথবা কলমে কালি ভরে নিয়েছি বলে মনে পড়ে না। এসব কাজ কবি নিজেই করতেন। তার কাজ ছিল নিখুত। চিহ্নস্বরূপ এখনো তার হাতের কাটা একটি পেন্সিল আমি সযত্নে রেখে দিয়েছি। পেন্সিলটি দেখলে স্মৃতির আলোড়নে কত কথাই ভেসে আসে। জগতে জড় পদার্থের মূল্য কতটুকু! কিন্তু যার জন্য সেই জড় পদার্থ অমূল্য সম্পদ হয়ে ওঠে- যাকে নিয়েই স্মৃতির আলোড়ন- থাকেনা শুধু সেই মানুষটা। ভাঙ্গা-গড়ার কাজে বিধাতাপুরুষ মানুষের মন নিয়ে যেন ছিনিমিনি খেলছেন। যে মনে চেতনা দিয়েছেন বলেই মানুষ আজ শ্রেষ্ঠ জীব- আবার সেই মনকেই ভেঙে গুড়ো করে দিয়ে প্রিয়জনকে টেনে নিয়ে যেতে একটুও বাধছে না! বিধাতার এ কী খেলা!


বাবা হিসেবে তিনি যেমন স্নেহবান ছিলেন তার আরো একটি উদাহরন কবিপত্নী দিয়েছেন এইভাবে -
মঞ্জুশ্রী ও সমরের কাছে কবি শুধু বাবাই ছিলেন না-তাদের বন্ধুও ছিলেন তিনি । ���াই তাদের যত কথা যত গল্প সবই ছিল তার সঙ্গে । লেখক শ্রীসুবোধ রায় আমাদের ল্যান্সডাউন রোডের বাড়ির খুব কাছেই থাকতেন। তিনি প্রায় রোজই আমাদের বাড়িতে এসে কবির সঙ্গে নানারকম গল্প করতেন। সে গল্পে বাবার সঙ্গী হিসেবে সমরও নিয়মিত- ভাবেই যোগ দিতো । খেয়ে দেয়ে তারা গল্প করতে বসতেন । সুবোধবাবুও সে পাট চুকিয়েই আসতেন। কোন কোন দিন রাত প্রায় একটা বেজে যেত-তবুও তাদের গল্প শেষ হ'ত না। আমি এক ঘুম দিয়ে উঠে ছেলেকে তাড়া দিয়ে শুতে পাঠাবার চেষ্টা করলে সে দু-হাতে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকত। আমি রাগ করলে সুবোধবাবু ও কবি দুজনেই হাসতেন।
তাদের আসরে শুধু যে মজার মজার গল্পই হত, তা নয়। সাহিত্যের আলোচনাও হত । ছোট ছেলে হয়েও সমর মন দিয়ে সেসব কথা শুনত। এমন কি মাঝে মাঝে সাধ্যমত নানারকম প্রশ্নও করত। কবি ও সুবোধবাবু দুজনেই যতটা পারতেন, তাকে বুঝিয়ে দিতেন। ছেলে যে সেসব কথায় কি স্বাদ পেত জানি না-মন দিয়ে বসে বসে শুনত। কোন কারণে যেদিন সুবোধবাবু না আসতে পারতেন, সেদিন সমরের মন খারাপ হয়ে যেত! সে তার বাবার কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে কেবলি জিজ্ঞাসা করত-“বাবা, সুবোধ কাকা কখন আসবেন - কখন আমাদের গল্প হবে?'
ছেলের ম্লান মুখ দেখলে কবিও কোন কাজে মন দিতে পারতেন না। সবকিছু ফেলে ছেলের সঙ্গে গল্প করতে বসতেন। বাবার রোজকার সঙ্গী হিসেবে ছেলেও ক্রমে সাহিত্যকে ভালবাসতে শিখল।
কোথাও যেতে হলে অথবা কোন কাজ শুরু করবার আগে তিনি প্রথমেই ছেলের মতামত জিগ্যেস করতেন। "তুই কি বলিস? ছেলে মত দিলে তিনি খুশী হয়ে সে কাজ করতেন। আমি হাসলে বলতেন-“বুড়ো হয়ে তো এই ছেলের উপরেই নির্ভর করতে হবে। এখন থেকেই তার তালিম নিচ্ছি'-কথাটা বলেই দুহাতে ছেলেকে জড়িয়ে ধরতেন।


কবিপত্নী লাবণ্য দাসের সাদামাটা সুন্দর বর্ণনায় উঠে এসেছেন আটপৌরে জীবনানন্দ। কবি বা সাহিত্যিক রূপে নয়, জীবনানন্দকে কবিপত্নী স্মৃতির আচড়ে তুলে এনেছেন মানুষ হিসেবে। তাই বইয়ের নাম 'মানুষ জীবনানন্দ' হওয়া যথাযথ এবং মানানসই।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews245 followers
August 31, 2020
কবি জীবনানন্দকে নিয়ে যেখানে যা পড়েছি বেশিরভাগেই লেখা ছিল কবি সংসার জীবনে সুখী ছিলেন না। কবি যখন মারা যান তার দিন কয়েক আগ থেকে হাসপাতালে আসা পর্যন্ত বন্ধ করে দেন। এ সব কিছু পড়ে স্বাভাবিকভাবেই কবি-পত্নীর উপর একটা বিরূপ ধারণা ছিল। লাবণ্য দাশের লেখা 'মানুষ জীবনানন্দ' বইয়ে কবি ও কবির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তুলে ধরেছেন। কবি-পত্নীর লেখনীতে ঘরোয়া জীবনানন্দ সম্পর্কে জানতে পারলাম। লেখনীটা বেশ ভালো ছিল।
Profile Image for Tamanna Binte Rahman.
185 reviews143 followers
February 14, 2021
এই বইয়ের রিভিও কী লিখবো? সহজ, প্রাঞ্জল ভাষায় স্ত্রী লাবণ্যের স্মৃতিচারণে জীবনানন্দ। এইতো! যে কারণে বইটি এত আগ্রহ নিয়ে পড়েছি তার মূলে রয়েছে জীবনানন্দের লেখা উপন্যাস ‘মাল্যবান’। মূলত জীবনানন্দের উপন্যাসটিকে তার আত্মজীবনীমূলক বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন লেখকের বিভিন্ন লেখায় এমনকি এই বইটির ভূমিকাতেও। লাবণ্যর কাছে জীবনানন্দ কেমন ছিলেন সেটা জীবনানন্দের একান্ত ভক্ত হিসেবে কৌতুহল থাকাটাই স্বাভাবিক। তো সেই কৌতুহল তো মিটলো। কিন্তু কবির সাথে তার স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ নিয়ে এত ভূড়ি ভূড়ি যে লেখা রয়েছে, প্রমাণ নিয়ে বিভিন্ন বই, আলোচনা বের হয়েছে তার আঁচ লাবণ্যর লেখায় পাওয়া গেলনা।
মানব মনের এই এক কৌতুহল। যেহেতু লেখকের স্ত্রী হবার কারণে তিনিই সবথেকে কাছ থেকে দীর্ঘদিন দেখেছেন বলেই লেখক মারা যাবার পরে স্ত্রী হিসেবে পাঠকদের কাঠগরায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার প্রতিত্তুরে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, বই লিখে ফেলেছেন। জনপ্রিয়দের জীবনসংগী হয়ে গেলে এই দায়টুকু হয়তো নিতেই হয়। তবে সেটা কেনইবা নিতে হবে সেকথা কেউ বলেনা। কবির কবিতা, গল্প, উপন্যাসে যে হতাশা, নির্জনতা, বিষাদ তার দায়ই বা কেন কবিপত্নির উপর বর্তাবে সেটাও কেউ বলেনা। লাবণ্য একদিক থেকে বুদ্ধিমতীই বলা চলে। তিনি সেসব অপরাধ বয়ানের ধার কাছ থেকেও হাঁটেননি। মুখরোচক কিছু পাওয়া যাবেনা পাঠকদের আগেই সতর্ক করে দিলুম।
Profile Image for Rifat.
502 reviews329 followers
October 27, 2020
কবিপত্নী লাবণ্য দাশ এই বইটিতে শুধু দেখিয়েছেন মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন জীবনানন্দ দাশ,এটি পুরো জীবনী নয়।

পরিবার-পরিজন, চেনা পরিচিত মানুষের মাঝে কেমন ছিল কবি জীবনানন্দের আচরণ তাইই তুলে ধরেছেন লাবণ্য দাশ।কবি ছিলেন শান্ত আর গম্ভীর প্রকৃতির। কবিতা লিখতে বসলে তার আর অন্য কিছুর দিকে চোখ ফিরতো না। একটু গম্ভীর প্রকৃতির হলেও ছেলেমেয়েদের সাথে বন্ধুত্বটা ঠিকই হয়েছিল।আত্নকেন্দ্রীক কবির জীবনে সবচেয়ে আপন ছিলেন কবির মা কুসুমকুমারী দাশ আর বাবা ছিলেন তার পরম শ্রদ্ধার মানুষ।স্ত্রীর প্রতি কবি সব সময় সদয় ছিলেন, তার চলার পথের স্বাধীনতা ছিল তার প্রমাণ। কবিকে ঘিরে অসংখ্য ভালো ভালো স্মৃতি রোমন্থন করেছেন লাবণ্য দাশ।

পুরো বইতে লাবণ্য দাশ কেবল কবির গুণগানই গেয়েছেন,কবির মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে হয়তো মানুষটার স্মৃতি বড্ড তাড়া করে বেড়িয়েছে।কিন্তু তিনিই কবির শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে বিরূপ প্রশ্ন করেছিলেন।যে কোনো স্বাভাবিক মানুষই হয়তো এ ধরনের প্রশ্নই করতেন কেননা মানুষ মরে গিয়ে বেঁচে যায়, বিপদে পড়ে কেবল জীবন্ত মানুষগুলো।
Profile Image for Tiash ..
315 reviews113 followers
January 12, 2021
জীবনানন্দ প্রিয় কবি অনেকেরই! কিন্তু মানুষটাকে নিয়ে আমরা কতটা জানি? ভাবতে পারেন কেমন ছিল তার চারপাশ, কেমন ছিলেন তিনি! কেমন পরিবেশে বসে তিনি এমন ভাবার্থবোধক কবিতা লিখতেন! কেমন ছিলেন মানুষ জীবনানন্দ!

সব বিবৃত এই অল্প বিস্তারের বইটিতে । জবানি তার যিনি মানুষটাকে সব চেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন। জীবনবাবুর সহধর্মিনী লাবণ্য দাশ। অতি সুখপাঠ্য!
Profile Image for Nidra.
28 reviews4 followers
Read
January 8, 2025
কবিতার কথাগুলো বলতে কবি ঠিক কতোটুকু নিজেকে ভেঙেছেন? আসল মানুশটা কি এই কবিতার মতোই নাকি অন্য কেউ (!) ছিলেন?? জীবনদাশ বললেই আমার অজানিত কারণেই একটা ভগ্নদশা বা ধ্বংসস্তূপের কথা মনে পড়ে। হয়তো কবিতার মেটাফোরগুলোকে এভাবে মানুশটার সাথে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছি। কি জানি!!



একজন জীবনানন্দকে নিয়ে কতো কতো আলাপ, কতো কতো কাটাছেঁড়া, কতো হতাশা, গ্লানি কিংবা হাহাকার! আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো গুণী মানুশের জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে পছন্দ করি না সেইভাবে, যেভাবে কাটাছেঁড়া করতে গেলে মানুশটাকে ভালো বা খারাপ এমন মোটাদাগে আঁটকাতে হবে। তবে আত্মজীবনী পড়তে বরাবরই মুখিয়ে থাকি। কেউ প্রিয় কোনো বই বা লেখক, কবি কিংবা কবিতা বা লাইন বললে আমি খুব অতলগহ্বরে খেই হারিয়ে তলিয়ে যেতে চাই আর কিছুইতে মনে পড়ে না কোনো প্রিয় কিছুর নাম। তবে কবিতা বললে একটু খুঁজে দেখার চেষ্টা করি জীবনদাশের কোনো কবিতার লাইন মনে আছে কিনা!!



লাবণ্য দাশ। জীবনদাশের স্ত্রী। যাকে নিয়ে বিস্তর আলাপ সাহিত্যে ফাঁদা আছে যদিও তিনি সাহিত্যের মানুশ নন। এই বইটা পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়ে এই ভদ্রমহিলা নিজেকে লুকিয়েছেন। নিজেকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে সত্যিটা বলেননি। “একজন কমলালেবু” তে শাহাদুজ্জামান জীবনদাশের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তর আলাপ করেছে। রেফারেন্স ছিল জীবনদাশের উপন্যাস, সমসাময়িক ঘটনা আর নিজের গবেষণা। এই পর্যন্ত যারাই “মাল্যবান” পড়েছে তারাই উৎপলাকে ঘৃণা করেছে। সবকিছু থেকেই একটা ব্যাপার স্পষ্ট ছিল যে জীবনদাশ কোনোভাবে সুখী ছিলেন না। এটা “পান্ডুলিপি থেকে ডায়েরি” বইটা পড়তে গেলেও লক্ষ্য করা যায়। বাবা হিশেবে, শিক্ষক হিশেবে, ছেলে হিশেবে কিংবা স্বামী হিশেবেই বা জীবনদাশ কেমন ছিলেন সেটা লিখেছেন ঠিকই। তবে যথেষ্ট রাখডাক করে। লাবণ্য দাশের perspective বোঝার সুযোগই হয়ে উঠেনি বইটাতে। এতো ছোট্ট বইয়ে মানুশ জীবনদাশকে আর ঠিক কতোটুকুই বা বলতে পারতেন! জীবনদাশের পান্ডুলিপিকে কাঁটাছেড়া করতে গেলেই বোঝা যায় মানুশটা নিজেকে ঠিক কতোটুকু টুকরো টুকরো করে দেখেছেন! সেই লেখাগুলো দিয়ে লাবণ্য দাশকে সরাসরি ভিলেন বানিয়ে দেওয়াটা বড্ড ছেলেমানুষী ব্যাপার হয়ে ঠেকবে। লাবণ্য দাশ বইয়ে জীবনদাশকে জোর দিয়ে কবি সম্বোধন করার কারণ হয়তো বা জীবনদশায় কবির কবিসত্তার প্রতি অবহেলা। আর্ট না বোঝা আর তার কদর না করা দুটা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। এই বই পড়তে গিয়ে হরিশংকর জলদাসের “আমি মৃণালিনী নই” বইটার কথা মনে পড়েছিলো। সেই বইয়ে মৃণালিনী রবিনাথকে যথেষ্ট কাটাছেঁড়া করেছেন এবং এই কারণেই বইটা আমার ভালো লেগেছিলো। এই বইটাতে এই জিনিসটা মিসিং। পড়তে গিয়ে মনে হলো যেন নতুন বউ তার স্বামী-সংসার নিয়ে অবসেশনের পর্ব থেকে এখনো বের হতে পারেননি। 
Profile Image for Himu.
52 reviews
December 25, 2025
এটি স্মৃতিকথা মূলক বই তাই পারিবারিক কিছু মিষ্টি গল্প ছিলো তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে ব্যক্তি পূজাটাই বেশি চোখে লেগেছে।
Profile Image for Imam Abu Hanifa.
115 reviews26 followers
November 10, 2020
জেনেছিলাম দাম্পত্য জীবনে কবি সুখি ছিলেন না। অথচ কবি স্ত্রীর লেখা বইটাতে অন্যরকম অনুভুতি হলো। মনে হলো একেবারে খারাপও ছিলো না তার সংসার জীবন। কোনটা সঠিক? এটা নাকি ওটা?
Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
368 reviews15 followers
November 9, 2021
‘মানুষ জীবনানন্দ’ যেনো লাবণ্য দাসের দায়পূর্ন লেখা!

শুরুতেই এমন একটি বাক্য দিলাম বলে পাঠকগন আমাকে দোষ দিবেন না। আমার কী করার আছে বলুন! বইটা পড়ার পর মনে হলো জীবনানন্দ সম্পর্কে কিছু না লিখলে সবাই কিসের যেনো দোষ দিয়ে বসবে তাকে। তাই সেই দায় এড়াতেই যেনো তার এই ‘মানুষ জীবনানন্দ’এর জন্ম দেয়া।

বইটিতে লেখিকা তার স্বামী এবং কবি জীবনানন্দের সাংসারিক জীবনের টুকটাক কিছু তুলে ধরেছেন। আর তার মাঝে মাঝে তিনি কোথায় জন্মেছেন কোথায় পড়েছেন আর তাদের বিয়েটা কিভাবে হলো তাই বললেন। সেই সাথে লেখিকা নিজে সংসারে কেমন ছিলেন, সবাই তাকে কিভাবে দেখতো সেটা লিখেছেন।

একজন শিল্পীর বড় সৌভাগ্য হয় তখন, যখন তার সহধর্মিণী বা স্বামী তাকে সাপোর্ট দেন সাথে থেকে ভরসা দেন। কিন্তু এখানে কবির বড়ই দুর্ভাগ্য যে তিনি তার সহধর্মিণীর সাপোর্ট পাননি। এবং কবির জীবদ্দশায় তিনি কখনো কবির সৃষ্টিকে গুরুত্বদেননি। সেটা তিনি নিজেই বলেছেন। তার নাকি কবির কবিতা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না। তিনি তার সংসারকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। কবির মৃত্যুর পর তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলা সাহিত্যের জন্য কবি অনেক কিছু রেখে গেলেন, কিন্তু আমার জন্য কী রেখে গেলেন! এমনই ছিলো কবিস্ত্রীর চিন্তা ভাবনা।

লাবণ্য দাস তার এই স্মৃতিচারণমূলক বইতে কবির সাংসারিক জীবনের নানা মজার ঘটনা, সন্তানের প্রতি তার কর্তব্য, মায়ের প্রতি ভালোবাসা, বাবার প্রতি শ্রদ্ধা সবই বলেছেন টুকটাক। কিন্তু বলেননি কবির চেপে রাখার কষ্টের কথা। বলেননি চাকরি না পেয়ে কলকাতার রাস্তায় হাজার বছর ধরে পায়ে হাটার সেই করুন গল্প!

সবার কাছে আমার রিভিউটি একপেশে মনে হতে পারে। কিন্তু আমার কী করার আছে বলুন! আমার মনে হয় তিনি হয়তো দুইটা কারণে লেখাটা লিখে থাকবেন।

প্রথমত - তাকে কেউ যেনো দোষারোপ না করতে পারেন, কিন্তু কিসের দোষ আসলে? তিনি কি কবির শেষ সময়ের খ্যাতি দেখে আশ্চর্যিত হয়ে শেষে অনুতপ্ত হন।

দ্বিতীয়ত - হয়তো দিন শেষে আসলেই তিনি তার স্বামীকে চিনতে পেরেছেন। তবে দ্বিতীয় কারনটি মোটেই মানানসই না আমার কাছে৷
কারণ আমি যাকে ভালোবাসি তার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে কলমের কালি ফুরিয়ে যাবে, লেখার কাগজ শেষ হয়ে যাবে তবু তার সম্পর্কে লিখতে আমার কখনো হাত ধরে আসবে না।
জানি না কী হয়েছিলো।

ধন্যবাদ।
Profile Image for Edward Rony.
93 reviews9 followers
May 31, 2021
অনেক আশা নিয়ে বইটা পড়তে বসেছিলাম। ভেবেছিলাম, জীবনানন্দের পারিবারিক জীবনের কিছু তথ্য পাব, কিছু প্রশ্নের উত্তর পাব। কবি পত্নীর বিরুদ্ধে নানা সময় যে প্রশ্ন গুলো তোলা হয়েছে, তার উত্তর কিছুটা হলেও পাবো।
বাট, আশাহত। তেমন কোন কিছুই নেই বইটাতে।

লাবণ্য দাশ কিছুটা গা বাঁচিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব বিষয়কে বাদ রেখেই লিখেছেন বইটি।
Profile Image for Ayan Tarafder.
146 reviews16 followers
February 12, 2021
বইটা শেষ করলাম লঞ্চে করে বরিশাল যাওয়া আসার পথে...বরিশাল যেখানে জীবনানন্দের জীবনে অনেকটা কেটেছে। তা বরিশাল থেকে ফিরে আসার পথে প্রখ্যাত ব্রজমোহন কলেজ হয়ে আসার সুযোগ হলো... জীবনানন্দ দাস অনেকদিন অধ্যাপনা করেছেন এখানে... কলেজ ক্যাম্পাসে একটা ক্যাফে দেখলাম ওর নামে আর ছোট একটা চত্ত্বর...মনটা খারাপ হলো কেন যেনো... কেমন যেনো একটা শূন্যতা....তা মন খারাপ হলো বইটা পড়েও। সে মন খারাপ... কবির জন্য।

একটা জরুরী কথা, এই বই পড়বার সময়, ভূমিকা টা আগে ভাগে না পড়া ভাল। কারণ এই ভূমিকা পড়লে বাকি বই পড়বার ইচ্ছে অর্ধেক মরে যাবে
Profile Image for Tareq Ul.
31 reviews3 followers
July 28, 2020
“আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়ির তীরে–এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়–হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;”

জীবনানন্দ দাশ মানুষ ছিলেন, কিন্তু মানুষের বেশে এই বাংলায় আর ফিরে আসতে চান নি।

তবে মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন! কেমনইবা ছিলো তার জীবন! আমি বরাবরই জীবনানন্দ ফ্যান। প্রথমে কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের ‘একজন কমলালেবু’ উপন্যাসটি পড়েছিলাম। তারপর জীবনানন্দ’কে নিয়ে লেখা অন্যান্য বইগুলো আমাকে আকৃষ্ট করতে শুরু করলো, আগ্রহী হলাম তার জীবন সম্পর্কে। সেই ধারাবাহিকতায় কবিজায়া লাবণ্য দাশের ‘‘মানুষ জীবনানন্দ’’ বইটি পড়ে ফেললাম। লাবণ্য দাশ সাহিত্যিক নন। তিনি কবি ও তাঁর অতিবাহিত জীবন সম্পর্কে লিখেছেন। কাজেই সেখানে সাহিত্যগুন খুঁজতে যাওয়া বৃথা।

লেখা শ��রু হয় লাবণ্যকে কবির দেখতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। লাবণ্য অতি সাধারণ বেশে কবির সামনে হাজির হয়েছিলেন। তিনি ভাবতেই পারেননি যে কোনো সাজসজ্জা ছাড়াই কেউ কাউকে দেখে পছন্দ করে ফেলতে পারে। কিন্তু কবি তাঁর সাথে তেমন কথা ছাড়া বা সাজসজ্জা ছাড়াই পছন্দ করেছিলেন। যে কবি বাংলার শ্যামলতা, সৌন্দর্য, বাতাসকে উপলব্ধি করেই লিখে ফেলতেন পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা কবিতা, তাঁর কাছ থেকে তো এমনটাই কাম্য! তিনি জাঁকজমকতায় বিশ্বাসী নন, বরং সারল্যই তাঁর কাছে সৌন্দর্যের অপরনাম।

লাবণ্য দাশের ফুলশয্যার রাতে কবি তাঁর কাছে গান শুনতে চেয়েছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন–

“জীবনের শুভ আরাম্ভেই তো গান গাওয়া উচিত এবং শোনা উচিত।’'

লাবণ্য দাশ কবিতাপ্রেমী কখনোই ছিলেন না। কবিতা তাঁকে টানত না। এ নিয়ে লাবণ্য দাশ কবির আক্ষেপের কথা কোথাও বলেন নি, কিন্তু শাহাদুজ্জামান সেই ব্যাপারটি তুলে ধরেছেন। কবির মেয়ে মঞ্জু একবার কবিকে লাবণ্য দাশের কবিতা প্রীতির কথা জিজ্ঞেস করায় কবি উত্তর দিলেন–

“কাব্যলক্ষ্মী তোর মাকে ভীষণ ভয় পান যে, তাই তো তিনি তোর মায়ের ধারেকাছেও ঘেঁষেন না।’'

পরবর্তীতে আরেকটি জায়গায় পাওয়া যায়, লাবণ্য দাশ কবিতা ও সংসারের মধ্যে সংসারকেই বেছে নিতে চান। কাজেই একথা খুবই পরিষ্কার যে লাবণ্য দাশ কখনো কবিতাপ্রেমী ছিলেন না।

জীবনানন্দ দাশ কখনো তাঁর যোগ্য সম্মানটুকু পাননি, এ নিয়ে তিনি বরাবরই হতাশ ছিলেন। সে হতাশা কবিপত্নী হিসেবে লাবণ্য দাশ ছাড়া আর কেউই বুঝতে পারার কথা নয়। কবিতার প্রতি কবির ভালোবাসা, চাকুরী করতে না পারার হতাশা এমনকি শেষ সময়ে লাবণ্য দাশ ও কবির আলাদা থাকতে শুরু করা এসব কিছুই লাবণ্য দাশ লিখেননি বা তিনি হয়ত অনুভবই করতে পারেন নি।

এই বইটির অধিকাংশ ঘটনাই তাদের বিয়ের পর থেকে ছেলে মেয়েদের জন্ম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ, আর আছে কবির মৃত্যুর সময়কার কিছু ঘটনা। কিন্তু দুই সন্তানের জন্মের পর থেকে কবির মৃত্যু পর্যন্ত, মাঝের সময়গুলোকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। হয়ত সে সময়টি সম্পর্কে লাবণ্য দাশ নিজেই অবগত নন।

মানুষ জীবনানন্দ বইটিতে লাবণ্য দাশ কবির বাহ্যিক অবস্থান ফুটিয়ে তুলতে পারলেও কবির মনঃস্ত্বাত্তিক পরিবর্তন ও কবির হতাশার বিন্দুমাত্র উল্লেখ করেন নি। তবে কি ধরে নিতে হয় যে কবি তার সাহিত্যজীবনে খুব সুখী ছিলেন! তাঁর কোনো হতাশা ছিলো না! তাই যদি হবে তাহলে কবির বাকী সময়টুকু লাবণ্য এড়িয়ে গেলেন কেনো?

শেষটায় কবির কিছু লাইন বলতেই হয়-

“শোনা গেলো লাশকাটা ঘরে!
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে-ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হ'লো তার সাধ’’
Profile Image for Shuvescha De.
40 reviews2 followers
May 26, 2023
বইটার তাৎক্ষণিক পাঠ উপলব্ধি লিখতে গেলে সেটা খুবই ধারালো হতো । তাই বই শেষ করে দু পাঁচ দিন কাটিয়ে এ রিভিউ লিখতে বসা।

প্রথমেই আসি বইটার নাম মানুষ জীবনানন্দ হলেও মানুষ জীবনানন্দ কে কদাচিৎ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। ধুসরতার কবির বিবর্ণ জীবন বা কবি মানসের কোন ছবি বইটিতে নেই, নেই কোন মহার্ঘ্য তথ্য। কবিপত্নী পাঠকদের সাথে এক প্রকার ছলনা করেছেন বললেই যেন বেশি তৃপ্তি পাওয়া যায়। কবির মৃত্যুর পর কবিখ্যাতি কে পুঁজি করেই কি লাবণ্য দাশ হাতে কলম তুলে নিয়েছিলেন? বইটির ভূমিকা লেখক ও পাঠকদের বঞ্চিত করেছেন এই আমার অভিমত।

বিষয়বস্তুর বর্ণনা দিতে গেলে বলা যায় জীবনানন্দ আর তার স্ত্রীর জীবনের বিচ্ছিন্ন কয়েকটা ঘটনার বহিরাবরণ হলো " মানুষ জীবনানন্দ" যে ঘটনা বিশ্লেষণ করে পাঠক লেখকের ব্যাক্তিত্ব বা চরিত্র সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট উপসংহারে পৌঁছুতে পারবেন না। কোন কোন ঘটনা যেন জীবনানন্দ দাশগুপ্তের নয় বরং কবিপত্নির জীবনের উপর আলোকপাত করার জন্যই অবতারণা করা যেমন লাবণ্য কেমন করে তার শ্বাশুড়ি কুসুমকুমারী দাশ এর জন্য শাড়ি কিনেছিলেন কিংবা কিভাবে তাদের সন্তান খোকনের সেলাই দিতে গিয়ে তিনি সাহসী ভূমিকা দেখিয়েছিলেন। কবির মা যে একজন কবি ছিলেন সেটা লেখক জানতেন কি না সেটাও সন্দেহ! জীবনানন্দ দাশ ও তার স্ত্রীর বহুল চর্চিত অসুখী দাম্পত্য জীবনের সামান্য আলোকপাত ও বইটিতে নেই বরং তাদের সুখী জীবনের ছবি ই লাবণ্য দাশ অপটু হাতের আকার চেষ্টা করেছেন এবং সেক্ষেত্রে জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে অগভীর ধারণাই প্রকাশ পেয়েছে। লাবণ্য দাশ জীবনানন্দ দাশের বিশেষ বন্ধু বুদ্ধদেব বসুকে বলেছেন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক কিন্তু আমাদের জনমানুষের কাছে আজ লাবণ্যর দুর্বল চিত্তের গেঁয়ো স্বামীটি ই কিন্তু কবি হিসেবে বুদ্ধদেব বসুর চেয়ে এগিয়ে আছেন।

লেখক সম্পর্কে অর্থাৎ কবিপত্নি সম্পর্কে যা উপলব্ধ হয় সেটা হলো লাবণ্য দাশ ছিলেন স্বাধীনচেতা। তিনি সে সময় প্রায় ই স্কুলে চাকরি শেষে একা একা সিনেমায় যেতেন। তিনি ছিলেন বেশ স্পষ্টভাষী এবং জীবনানন্দ যে তার মুখের উপর বিশেষ কথা বলতেন না কিংবা তার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিতেন তা লেখক লাবণ্য দাশ অনেক রেখে ঢেকে লিখলেও বেশ বোঝা যায়।

রেফারেন্স বই হিসেবে বা ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে বইটি দুর্মূল্য হতে পারতো যদি কবি সম্পর্কে তার স্ত্রীর প্রকৃত অন্তর্দৃষ্টি অক্ষরে প্রকাশ করা যেত। আর বইটির সাহিত্যিক মূল্য বিবেচনায় নিতে গেলে বলা যায় খুবই কাঁচা হাতের লেখনী। তাছাড়া ঐতিহ্য প্রকাশনীর এ বই এ বেশ কিছু মুদ্রণ ত্রুটি দ্রুত পড়া শেষ করতে তাগাদা না যুগিয়ে পারে না।

এত দুর্নামের ভীড়ে যে কয়টি অমূল্য তথ্য ঝুলিতে ভরেছি তা হলো

▶️ জীবনানন্দ দাশের শ্বশুরবাড়ি বৃহত্তর যশোরের ইতিনা গ্রামে
▶️ জীবনানন্দ দাশের পৈতৃক নাম জীবনানন্দ দাশগুপ্ত
▶️ লাবণ্য দাশ পেশায় ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা

সবশেষে বলা যায় একজন কবির সহধর্মিণীর স্মৃতিচারণ বাংলা সাহিত্যে হয়তো খুব বেশি নেই। সে হিসেবে বইটা সকলের পড়া উচিৎ।
May 18, 2022
#পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
'মানুষ জীবনানন্দ' বইটি দিয়ে আমি জীবননানন্দ অনুসন্ধান শুরু করলাম। নিভৃতচারী, রহস্যময় এই কবিকে নিয়ে বাঙালি পাঠক মহলে আগ্রহের কমতি ছিল না কখনোই। তাঁর জীবনালেখ্য নিয়ে বাংলাতে ক্রমশ অনেক গ্রন্থ প্রণিত হচ্ছে। ভাষাচিত্র থেকে ( ২০১২ সালের বইমেলায়) প্রকাশিত ' মানুষ জীবনানন্দ ' বইটি আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান কেননা এটি খোদ কবিজায়া শ্রীমতি লাবণ্য দাশ কর্তৃক রচিত , অর্থাৎ যে মানুষটি আমাদের কবিকে সবথেকে কাছ থেকে দেখেছেন , বইটিতে তাঁরই অপূর্ব স্মৃতিচারণা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে । জীবনানন্দ দাসের দাম্পত্য জীবনের বর্ণনা বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য । পাশাপাশি বইয়ের শুরুতে ফরুক মঈনউদ্দীনের লেখা সারগর্ভ ভূমিকাটিও বইটিকে একটি অনন্য মাত্রা প্রদান করেছে । তাঁর (ফরুক ম.) এই ভূমিকাটি কৌতুহলী পাঠকদের নিঃসন্দেহে চিন্তার খোরাক জোগাবে । লাবণ্য দেবীর এই রচনা আমাদেরকে কলমের দুনিয়ার পরিচিত কিংবা অর্ধপরিচিত মানুষটির থেকে বাস্তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন, মানুষ জীবনানন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। কবি জীবনানন্দ দাশের সম্পর্কে পড়তে পড়তে আমি যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম। ক্রমশ শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসছিলো মহান জননী কুসুমকুমারী দাশের প্রতিও। মিলু ( জীবনানন্দ দাসের ডাক নাম) যে তাঁর মায়ের স্বপ্নের মত আদর্শবান ছেলে হয়ে উঠতে পেরেছিলেন ��াতে কোনো সন্দেহ নেই। বইটির আমার আছে দুর্মূল্য—মনের অনেক কাছের একটা বই হয়ে গিয়েছে। আমার জীবনানন্দ-কৌতুহলী বন্ধুবান্ধবদের প্রতি বইটা পড়ার পরামর্শ রইল।
-সপ্তর্ষি
(১৮.০৫.২০২২ ইং)
⚠️🚫পুনশ্চ⚠️
পাঠপ্রতিক্রিয়া দেখে, বই পড়া উচিত নয়। আমি আমার গুডরিডস প্রোফাইলে যাই লিখি তার পেছনে লুকোনো অভিসন্ধি হলো, এক, নিজের লেখার দক্ষতাকে শানিত করা। দুই, বইটির সঙ্গে আমার কাটানো মুহূর্তগুলোকে অন্তর্জালে স্মরনীয় করে রাখা।
এর বাইরে এগুলোর বিশেষ কোনো তাৎপর্য নেই বলেই আমার বিশ্বাস।
আমি কখনো 'কাহারো' কোনোধরণের মতামত পড়ার পরে কোনো বই পড়তে বসি না। কেননা৷ আমি মনে করি, একটা বই আমাকে কিভাবে সমৃদ্ধ করবে সেটা ততক্ষণ অজানাই থেকে যাবে, যতক্ষণ না আমি নিজে বইটা খুলে পড়তে বসছি। কারো একটা বিষয়ে জানা আছে, সেই বিষয়ে লেখা একটা বই যদিও বা তার কাছে খারাপ লাগে, আমরা যারা বিষয়টা সম্পর্কে ��ানি না বা জানার চেষ্টা করছি তাদের জন্য বইটা অনেক চমৎকার একটা সূচনা বয়ে আনলেও আনতে পারে।
তাই শেষে একটুকুই অনুরোধ করব যে, যেকোনো বই প্রথমে নিজের পছন্দ অনুসারে পড়ুন। অন্যের প্রতিক্রিয়া দেখে নয়। পড়া শেষে আপনার অনুভূতির সঙ্গে বাকিদের অনুভূতির তফাতগুলো কেমন তা জানতে ইচ্ছে হলে তখনই ইউটিউবে রিভিউ দেখতে পারেন(ভিডিও কনটেন্ট) কিংবা পড়তে পারেন গুডরিডসের লেখাগুলো। ধন্যবাদ...
Profile Image for Hridoy Ahmed.
24 reviews4 followers
October 29, 2025
বই: মানুষ জীবনানন্দ — লাবণ্য দাশ

জীবনানন্দ দাশের কবিতা আমরা পড়েছি- তার নিসর্গ, একাকীত্ব আর সময়ের অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া মানুষটাকে আমরা কল্পনা করেছি। কিন্তু 'মানুষ জীবনানন্দ' পড়লে মনে হয়, কবি নয়, একদম ঘরের মানুষটাকে ছুঁয়ে ফেলা যায়। এই বইটিই যেন সেই জানালাটা খুলে দেয়, যেখান দিয়ে দেখা যায় নিভৃত, নরম, অথচ গভীরভাবে জটিল এক মানুষকে।

লেখিকা লাবণ্য দাশ ছিলেন জীবনানন্দের স্ত্রী। তিনি এই বইটিতে কবির জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতিহাস লেখেননি; লিখেছেন তার পাশে থাকা একজন মানুষের চোখে দেখা বাস্তব জীবন। তাই এখানে নেই কাব্য বিশ্লেষণ, নেই সাহিত্যতত্ত্ব; আছে চায়ের কাপের ধোঁয়ায় জড়িয়ে থাকা স্মৃতি, দৈনন্দিনের ছোট ছোট ঘটনা, কিছু অভিমান, কিছু নিঃশব্দ মুগ্ধতা।

লাবণ্য দাশের লেখার ভঙ্গিটা মায়াভরা। কোথাও যেন একরকম দূরত্ব বজায় রেখেও তিনি নিজের আবেগকে লুকোতে পারেননি। তার লেখায় জীবনানন্দ যেমন নিভৃত ও অন্তর্মুখী, তেমনই একরোখা, আদর্শবাদী এবং চুপচাপ জেদি মানুষ। তিনি কখনও পরিবারের মধ্যে, কখনও সমাজের বাইরে; কিন্তু সর্বত্র নিজের ভেতরের জগতে বন্দি। এই বইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, জীবনানন্দের কবিতার নেপথ্যে থাকা মানুষটাকে ধীরে ধীরে চিনে নেওয়ার অনুভূতি।

'মানুষ জীবনানন্দ' পাতায় পাতায় একধরনের বিষণ্ণ সৌন্দর্য আছে। এটি পড়ে মনে হয়, ভালোবাসা আর দূরত্ব; দুটো একসাথে বাসা বাঁধতে পারে এক জীবনে। লাবণ্যের স্মৃতিগুলো কখনও কোমল, কখনও কষ্টভরা; তবুও তার প্রতিটি শব্দে একরকম শ্রদ্ধা আছে, একরকম অনন্ত টান। বইটি ছোট, কিন্তু প্রতিটি পাতায় এমন সত্যতা আছে যা দীর্ঘ সময় মনে থেকে যায়।

সবচেয়ে মুগ্ধ করার বিষয় হলো তার লিখা সহজ, স্বচ্ছ আর নির্ভেজাল। কোনো সাহিত্যিক জটিলতা নেই, তবুও শব্দের ভেতরে ঘুরে বেড়ায় এক অদ্ভুত কবিতার ছোঁয়া। মনে হয়, জীবনানন্দের লেখা নিভৃত শব্দটা যেন এখানেই পুরো অর্থে বাস্তব হয়ে ওঠে।

এই বই শুধু জীবনানন্দ দাশের পাঠকদের জন্য নয়, যারা ভালোবাসার ভেতরে নিঃশব্দতা খোঁজেন, তারাও এতে নিজের কিছু খুঁজে পাবেন। 'মানুষ জীবনানন্দ' এমন এক ছোট্ট অথচ গভীর পাঠ; যা পড়ে মনে হয়, আমরা হয়তো কবিকে নয়, মানুষটাকেই একটু চিনে ফেললাম।
Profile Image for Hibatun Nur.
159 reviews
July 14, 2022
কবি জীবনানন্দের সাহিত্য জীবনের পাশাপাশি তার দাম্পত্য জীবনও বহুরূপে সমালোচিত। দাম্পত্য জীবন সমালোচনাতে আসায় তার স্ত্রীর তার প্রতি রূঢ় আচরণ, বিবাহ নিয়ে হতাশাসহ নানা ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়। এর কতটা ফ্যাকচুয়াল ভিত্তি আছে তা আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে কবির ‘মাল্যবান’উপন্যাসটি প্রায়ই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখেছি। আমার পড়া ‘একজন কমলালেবু’ নয়, এমনকি আমার কলেজের বাংলা স্যারকেও এ একই বিষয়ে একই রেফারেন্স টেনে একই কথা বলতে শুনেছি। তবে একটি উপন্যাসকে ভিত্তি করে একজনের দাম্পত্যজীবনকে কতটা স্ক্রুটেনির মধ্যে আনা যায় আর ভাবনার বিষয়। সে যাই হোক। আমার এ বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা নেই। এমনকি কবির মৃত্যুর পর দাম্পত্য জীবনের সমালোচনার জেরেই কি তার স্ত্রী নিজের 'ভ্যাম্প' হিসেবে পাওয়া পরিচিতিটাকে সামাল দিতে এই বইটি লিখেছেন কিনা আমি জানি না।
তবে এই বইটি কবি জীবনানন্দ দাশকে সম্পূর্ণ অন্য এক আলোতে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে। নির্জনতম কবির জীবনের এমন অনেক ঘটনা এখানে উঠে এসেছে যার মাধ্যমে তার চারিত্রিক এবং মানসিক গুণাবলী ফুটে ওঠে। কেবল একজন নির্ভৃতচারী নন; বাবা,স্বামী, সন্তান এবং শিক্ষক হিসেবে তিনি যে অনন্যসাধারণ ছিলেন তাও ফুটে উঠেছে এই বইটিতে।
লেখকের নিজের মধ্যে যে এক ধরণের প্রতিবাদী মানসিকতা রয়েছে তা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। হয়ত তার এইরূপ মানসিকতাই পরবর্তীতে তার বৈবাহিক জীবনের সমালোচনার আগুনে তেল দিয়েছে। তাছাড়া মানুষ কবির দাম্পত্য জীবন নিয়ে যে সমালোচনা করে আসছে, বাস্তবতা যে তার বিপরীত বইটি এ ব্যাপারটি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি প্রচ্ছন্ন প্রয়াশ চালিয়েছে।

লেখনি নিয়ে কিছু বলার নেই। লাবণ্য দাশ বইয়ের নানা ঘটনার মাধ্যমে কাব্য আর সাহিত্য যে তার পছন্দের বিষয় বস্তু না নিজেই বলেছেন। তবে কবির সাহচর্যে কিছু সাহিত্যগুণ যে তিনি আত্মস্থ করেছিলেন তা এই বই পড়লেই বোঝা যায়।
Profile Image for Fatima Huda.
2 reviews
April 8, 2024
মানুষ জীবনানন্দ ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত। খুব সম্ভবত ১৬০ টাকায় নিয়েছি। জীবনানন্দ দাশকে আমার পড়া শুরু ২০২১ এ। চন্দ্রভূক থেকে প্রকাশিত ওনার শ্রেষ্ঠ কবিতা কেনার পর থেকে। তারপর আস্তে আস্তে ওনার আরও কবিতা পড়েছি। সম্প্রতি ওনার জীবনী নিয়ে আগ্রহ হওয়ায় কিছু বই ঘাঁটাঘাঁটিও করছি। ফলে ছবির বইটা মেলায় চোখে পড়লে সাথে সাথেই কিনে ফেলি।

পাঠপ্রতিক্রিয়া: বইটা পড়ে কোনভাবেই মনে হয়নি যে কবির সাথে ২৫/২৬ বছর ধরে সংসার করা একজন মানুষ এটা লিখেছে। ভীষণ আবেগ অনুভূতি বর্জিত লেখা। পড়ে মনে হচ্ছিল যেন কেউ তার মোটামুটি পরিচিত কোন মানুষকে নিয়ে বইটা লিখেছে। নাম শুনে মনে হবে না জানি জীবনানন্দের কোন সাংসারিক ব্যাক্তিগত চিত্র বইটা তুলে ধরবে। আসলে তা নয়। জীবনানন্দ দাশকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ঘটনার সমাবেশ আর কি। তাও বর্ণনার স্টাইল ভীষণ বিচ্ছিন্ন। যেন জবরদস্তির একটা ব্যাপার আছে। শুধু লেখার জন্যই লেখা।
পুরো লেখায় স্বামীকে কবি বলে সম্বোধন করেছেন লেখিকা। অথচ যতদুর জানি কবির কাব্যপ্রতিভা নিয়ে তার কোন আগ্রহ ছিলনা। এটাও অড লেগেছে। আর বানান ভুলের পাশাপাশি একই লাইন দুবার করে ছাপার দোষও আছে বইটাতে।
আমি আশা করেছিলাম লাবণ্য দাশের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জীবনানন্দ দাশের পরিচয় পাবো এই বইয়ে। কিন্তু উনি মেকী একটা ভাব ধরে লেখাটা লিখেছেন। ফলে মানুষ জীবনানন্দের তেমন কোন ছবিই পাওয়া যায়না।
ছোট বই। এক বসায় পড়ে ওঠা যাবে।

ব্যাক্তিগত রেটিং: ২.৫/৫
Profile Image for Ahmed Rabbi.
16 reviews
December 21, 2023
•মানুষ জীবনানন্দ দাশ

ছোট কলেবরের বই। এক বসাতে পড়ে শেষ করা যায়। কিন্তু আমার ব্যস্ততা ও অন্যান্য ঝামেলা পোহায়ে — বইটি আমি শেষ করেছি। বইটা আমার জন্য সুখকর হয়েছিলো বটে। একটা চাপা কষ্ট ও বেদনাবিধুর তো জীবনানন্দের মৃত্যু! এ'ছাড়া কিছুই না।

যখন "একজন কমলালেবু" বইটি পড়েছিলাম। সেসময় জীবনানন্দের হাসিমুখের কিছু বর্ণনা শুনতে চেয়েছিলাম। সেই ইচ্ছে ওই বইয়ে পূর্ণতা পায় নি। জীবনানন্দের বই ও তাকে নিয়ে রচনাসমূহ ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে সস্ত্��ীক লাবণ্য দাশের লিখিত বইটি আমার সামনে আসে। এটা মূলত স্মৃতিচারণ। তিনি তিনার ভাষায় রচনা করেছেন। কিছু কিছু সময় ও কেমন ছিলো জীবনানন্দ তা এখানে চলে আসছে।

জীবনানন্দ কে নিয়ে পড়ার পর এই বইটি আমাকে, ও অন্যন্য পাঠকদের কাছে তিনি আরো সমুজ্জ্বলে প্রকাশিত হয়েছেন বা হবেনও। যারা জীবনানন্দকে পড়ছে বা পড়ছেন বলে মনে করছেন তারা পড়তে পারেন।

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এই কাঁঠাল—ছায়ায়;

—জীবনানন্দ দাশ

•বই— মানুষ জীবনানন্দ।
•লেখক— লাবণ্য দাশ।
•জনরা— স্মৃতিচারণ
•প্রকাশনী—ঐতিহ্য

—আহমদ রাব্বী
আশকোনা, দক্ষিণ খান, ঢাকা—১২৩০

রবিবার।
০৫ জুমাদাল উলা ১৪৪৫ হিজরি।
১৯ নভেম্বর ২০২৩ ঈসায়ী।
Profile Image for Hanif.
159 reviews5 followers
November 29, 2020
জীবনানন্দের প্রতি আগে হতে হতে প্রচুর ভালোবাসা ছিল বলেই, বইটি পড়ার সময় আমার মজাটা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
গত বইমেলায় অনেক খোঁজা-খোজিঁর পেয়েছিলাম বইখানা।
পড়ব পড়ব বলে পড়া হয় নি, অন্য বইগুলো পড়িতেছিলাম, এমন সময় একটা বন্ধু পড়ার জন্য বই খোঁজলে দিয়ে বই এটা সহ কয়েকটা বই দিয়েছিলাম, এরমধ্যেই করোনার কারণে বইগুলো আবার ফেরত ফেলাম প্রায় ৮_৯ মাস পর।
যাইহোক, বইটিতে কবির সহজ সরলতা আর স্ত্রী লাবণ্য দাশ ও তার পরিবারের সাথে কাটানো সময়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্তানদের প্রতি ভালবাসা আর স্ত্রী লাবণ্য দাশের প্রতি কবির যে দূর্বলতা(রোমান্টিসিজম) ছিল সবগুলো খুব স্পষ্ট এবং সাধারণ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। যখন বইটি পড়িতেছিলাম তখন বারবার লেখকের চরিত্রে মধ্যে ডুবে যাচ্ছিলাম।
অসাধারণ ছিল এককথায়।
Profile Image for Sohan.
274 reviews75 followers
December 13, 2020
একদিকে বইটি প্রয়োজনীয়, কেননা কবি পত্নির কাছ থেকে অনেক কিছু জানার একটি সুযোগ হয়তো আছে কিন্তু সে আশা করা বোধহয় সমীচীন হল না।
সে যে আঁধারে সে আঁধারেই রয়ে গেলাম। কবি ভীষণ রহস্যময়। অনেকগুলো প্রশ্ন মাথায় ঘোড়ে।
(ক) 'মাল্যবান' বইটি কবিপত্নি কেন প্রকাশ হতে দেননি?
(খ) সত্যিই কি কবি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন? নাকি সুভাষ বোসের মতো...
(গ) কবি পত্নি এইসব লিখে কি স্রেফ 'দায়' সেরেছেন?

অনেক কিছু জানা গেল সত্য তবে অনেক 'কিন্তু' রয়ে গেল...

Profile Image for Noshin Hridita.
1 review13 followers
March 11, 2023
একটা বই এ এত বানান ভুল আমি শেষ কবে দেখেছি মনে পরে না। তবে জীবনানন্দ যেহেতু আমার আগ্রহের জায়গা তাই আগ্রহ নিয়েই পড়েছি। ছিমছাম সাদামাটা কয়েকটা ঘটনার মধ্যে দিয়েই শেষ হয়ে কবি পত্নীর স্মৃতিরোমন্থন। মানুষ জীবননান্দ কেমন ছিলেন, সংসারে কেমন ছিলেন তার অনেকখানিইই ধারণা বই এ পাওয়া যায়।
Profile Image for Soaibuzzaman.
30 reviews
August 16, 2020
এতগুলো বছর পাশাপাশি শুয়ে থেকেও লাবন্য দাশ চিনতে পারলেন না মিলুকে? তাঁর রহস্যময়তা, গম্ভীরতা আঁচ করতে পারলেন না? নাকি বর্ণনা করতে পারলে না? নাকি চাইলেন না?
Profile Image for Shirin  Ritu.
53 reviews13 followers
November 10, 2020
আগে কবি জীবনানন্দ দাশকে চিনতাম। এই বই পড়ে মানুষ জীবনানন্দকে চিনলাম। লাবণ্য দাশ তাঁর স্বামীকে ভালোবাসতেন, তাঁর চরিত্রের দুর্বোধ্যতা সত্ত্বেও তাদের ভালোবাসায় কমতি ছিল না— এই ব্যাপারটা ভালো লেগেছে।
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
569 reviews
March 17, 2023
ভালো লাগলো।
জীবনানন্দের লেখা এবং জীবনানন্দকে নিয়ে লেখা আমি সবসময় পছন্দ করি
Displaying 1 - 30 of 33 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.