ক্লাস সিক্সে মাকে হারায় কুশল। বাবা বুক দিয়ে আগলে বড় করেছেন কুশলকে। মামার শরীর খারাপের খবর পেয়ে কুশল ডুয়ার্সে রওনা দেয়। ট্রেনে আলাপ হয় বসুধার সঙ্গে। একটি ভাগ্যতাড়িত নিরুদ্দিষ্ট মেয়ের দেশের বাড়িতে যাচ্ছে বসুধা। খাওয়া-পরার খরচ বাঁচাতে মেয়েটিকে কলকাতায় পাঠিয়েছিল পরিবারের লোক। উপন্যাসের দুই মুখ্য চরিত্র বসুধা, কুশল মিলিত যাত্রায় আবিষ্কার করে মানুষের নির্দয় স্পৃহার মৃত্যু হয় না। তারা কি পারবে নিকটজনের নিপীড়নের প্রবৃত্তিকে ভালবাসা দিয়ে মুছে ফেলতে? সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘জ্যোৎস্নাপুজো’ উপন্যাসে খেলা করে এক হৃদয়-উৎসারিত জ্যোৎস্নালোক।
সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ২১ জানুয়ারি ১৯৬১, হুগলির উত্তরপাড়ায়। পিতৃপুরুষ বিহারে প্রবাসী। মাতৃবংশ বাংলাদেশের দিনাজপুরে। স্কুল-কলেজের পাঠ উত্তরপাড়ায়। ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। একটি ফটোপ্রিন্টিং সংস্থার কারিগরি বিভাগের প্রধান। ছাত্রজীবনে লেখালিখির শুরু। দেশ পত্রিকায় প্রথম গল্প প্রকাশিত হওয়ার পর বৃহত্তর পাঠক মহলে সমাদর লাভ।শ্রেষ্ঠ উপন্যাস রচনার জন্য ১৯৯৯ ও ২০০২ আনন্দ-স্নোসেম শারদ অর্ঘ্য, শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ও শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প রচনার জন্য ২০০৩ সালে আনন্দ-ন্যাশানল ইনসিয়োরেন্স শারদ অর্ঘ্য এবং শ্রেষ্ঠ ছোটগল্প রচনার জন্য ২০০৬ সালে ডেটল-আনন্দবাজার শারদ অর্ঘ্য পেয়েছেন। এ ছাড়া ১৯৯৭-এ পেয়েছেন গল্পমেলা পুরস্কার, ২০০১-এ সাহিত্যসেতু পুরস্কার, ২০০৫-এ বাংলা আকাদেমি থেকে সুতপা রায়চৌধুরী স্মারক পুরস্কার, ২০০৭-এ শৈলজানন্দ জন্মশতবর্ষ স্মারক পুরস্কার, ২০১৩-এ তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান, ২০১৪ সালে গজেন্দ্রকুমার মিত্র ও সুমথনাথ ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার।
সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের এই বইগুলো দূরপাল্লার ট্রেনজার্নির সার্থক সঙ্গী। হালকা চালের সামাজিক দলিল, লেখকের স্বচ্ছ গদ্য, পড়তে পড়তে সময় কেটে যায় দিব্যি। 'জ্যোৎস্নাপুজো'-তেও এর অনথ্যা হয় না যথারীতি। বইটি যে খুব গুরুগম্ভীর তা নয়। পরিসর অনুযায়ী লঘুতাও স্বল্প। বলতে চায় কিছু আপাত-অর্থে অসহজ সম্পর্কের, সহজ গল্প। বইটি তাই আর যাই পারুক বা না পারুক, মনখানি ভালো করে দিতে পারে। এবং এখানেই এর স্বার্থকতা।
এর চেয়ে বেশি কিছু বলার অবস্থায় আমি নেই। তাও কটা কথা লিখে রাখলাম। এই কদিনে পরীক্ষার পড়া মাথা জুড়ে রইলেও, বইটি যেন কোন এক কোণে সিধিয়ে ছিল। বোঝা যায়, বইটিতে আমার অনেকখানি ভালোলাগা সঞ্চিত হয়ে রইলো। ভবিষ্যতেও রইবে।
পারলে তাই পড়ে দেখুন। পড়ুন কুশল আর বসুধাদের জন্য। ডুয়ার্সের সুন্দর কিছু বর্ণনার জন্য। জ্যোৎস্নাপুজো জিনিসটা ঠিক কি, সেইটে জানার জন্যেই, নাহয় পড়ে দেখুন। ঐ তাড়াহুড়োয় গুটিয়ে ফেলা শেষটুকু বাদ দিলে, মোটের ওপর ভালোই লাগবে আশা রাখছি। আমার তো লাগল। আপনাদেরও পাঠ শুভ হোক।
💫📚গল্পের নায়ক কুশল ও নায়িকা বসুধা, যাদের আলাপ হয় একটা ট্রেন জার্নির মাধ্যমে। দুজনের গন্তব্য ছিলো আলাদা। ট্রেনে উঠেও তারা জানতো না তারা একে অপরের জন্য একসময় কতটা অনিবার্য হয়ে উঠবে। তারা আলাদা গন্তব্যে পৌঁছেও বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে আবার একই বিন্দুতে এসে মিলিত হয়।📚💫
এক আত্মীয়র বাড়িতে পুরনো পূজাবার্ষিকী ঘাঁটতে ঘাঁটতে হঠাৎ ই এই উপন্যাসটি আমার চোখে পড়ে যায়। সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় আমার অন্যতম প্রিয় একজন লেখক এবং ওনার এই বইটির ভুয়সী প্রশংসা শুনে পড়ার একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে জ্যোৎস্নাপুজো ছাড়াও আরও অনেক বই বর্তমানে আউট অফ প্রিন্ট। কাজেই শারদ সংখ্যায় খুঁজে পাওয়া মাত্র সব কাজ ছেড়ে মহানন্দে উপন্যাস টি পড়তে শুরু করি।
কাহিনী সংক্ষেপ: কাহিনীর শুরুতে দেখা যায় কুশল নামে একটি ছেলে ট্রেনে করে বহুবছর পর তার মামাবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় তার বড়মামার অসুস্থতার খবর পেয়ে। সেই কামরার শেষ যাত্রী হয়ে উঠে আসে বসুধা আর ওঠা মাত্রই কুশল এর সাথে এমন হাবভাব করে যেন তারা শুধুমাত্র পূর্বপরিচিতই নয়, রীতিমত ঘনিষ্ট! অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার হলো কুশল তাকে জীবনে দেখেনি পর্যন্ত!
মামাবাড়ি পৌঁছে কুশল দেখে যেই মামার যায়-যায় অবস্থা শুনে সে তড়িঘড়ি করে ছুটে এসেছিল, সেই মামা বহাল তবিয়তেই আছেন। তিনি কুশল কে ডেকে তার মায়ের সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলেন যার কারণে তার এতদিনের বিশ্বাসের ভীত টাই নড়ে যায়। কী পরিণতি হয় তার? কুশলের মা কেনো আত্মহত্যা করেছিলেন?
অন্যদিকে বসুধার বিয়ে ঠিক হয়ছিল অনুপমের সাথে কিন্তু কথা এগোনোর কিছু দিন পরেই অনুপমের বাড়ির পরিচারিকা শোভা, বসুধার সাথে যোগাযোগ করে এমন কিছু জানায় যার ফলে বিয়েটাই ভেঙে দেয় বসুধা। অনুপম সহজেই কারণটা অনুমান করে এবং শোভা কে বিতাড়িত হতে হয়। বসুধা শোভার এই দুরবস্থার জন্য নিজেকে দায়ী করে শোভা কে খুঁজতে তার গ্রামে আসে। কী হয় তার পর? সে কি আদৌ খুঁজে পায় শোভা কে?
উপন্যাস টি আমার অন্যতম প্রিয় উপন্যাস হয়ে রইলো। শুধু আমার একটাই অভিযোগ, উপন্যাস এর শেষ টা যেনো খুব তাড়াতাড়ি হয়েছে, হয়তো বা শারদীয়ার অক্ষর সীমার জন্য। এই কটা মাত্র দিনের আলাপে একজন অচেনা মানুষকে বিয়ে করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি ? হয়তো যায়! কে জানে!! তবে আরেকটু লিখলে মোটেও মন্দ হতো না !
এ এক দূরপাল্লার যাত্রার গল্প। উত্তরবঙ্গের কোনো এক অখ্যাত নদীরপাড়ে জ্যোৎস্নাপুজোর গল্প। নীলা আর কুশল দুই বিপরীত মেরুর মানুষ বলা যায়...তাদের কাছে আসার কথা, শোভার কথা, শ্রীবাস এর কথা বলে যায় এই উপন্যাস...কিন্তু তাহলে বসুধা? থাক কিছু কিছু ভালোবাসা তেও রহস্য থাকা ভালো।।
সুকান্ত বাবুর লেখা বরাবরই ভালো লাগে, এটিও উনার আরো একটি সুন্দর লেখা। আলিপুরদুয়ার গামীট্রেনে কুশল ও বসুধার আলাপ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এক অমোঘ আকর্ষণে পড়ে গেছি। প্রথম আলাপটিও যথেষ্ট নাটকীয়। দুজনেরই জীবনের আলাদা আলাদা গতিপথ। নিজস্ব লক্ষেই দুজন দুদিকে চলেছে। কুশল তার বড়মামার অসুস্থ শরীরের খবর পেয়ে যায় মামাবাড়ি, কিন্তু গিয়ে দেখতে পায় যে তার মামা পুরো সুস্থ। একটি বিশেষ কারণে নাকি তাকে ডাকা হয়েছর ওখানে অসুস্থতার কারণে দেখিয়ে। কি তবে সেই কারণ? অন্যদিকে মা বাবার পছন্দ করা পাত্র অনুপমের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় বসুধার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন আগেই অনুপমের বাড়ির পরিচারিকা শোভা র থেকে জানতে পারে এক নির্মম সত্য। যার জন্য বসুধা বিয়ে পর্যন্ত নাকচ করে দেয়। কি সেই সত্য? যার জন্য শোভা কে খুঁজতে সূদুর ডুয়ার্সের লোহাপাড়ানি পর্যন্ত পাড়ি দেয় বসুধা! এক অচেনা, অজানা জায়গায়। শেষমেশ অদ্ভুত ভাবেই কুশল আর বসুধার গতিপথ এক ও হয়ে যায়। শোভাকে কি আদেও খুঁজে পাওয়া যায়? কলকাতায় ফিরে তাদের শেষ পরিণতিই বা কি হয়!
কিছু কিছু বই থাকে যেগুলো পড়ার পর ঠিক বোঝা যায় না কিভাবে বর্ণনা করবো বা কোন দিক থেকে শুরু করবো। এই বইটাও সেরকম।
গল্পের নায়ক কুশল ও নায়িকা বসুধা, যাদের আলাপ হয় একটা ট্রেন জার্নির মাধ্যমে। দুজনের গন্তব্য ছিলো আলাদা। ট্রেনে উঠেও তারা জানতো না তারা একে অপরের জন্য একসময় কতটা অনিবার্য হয়ে উঠবে। তারা আলাদা গন্তব্যে পৌঁছেও বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে আবার একই বিন্দুতে এসে মিলিত হয়।
বসুধার বিয়ে ঠিক হয় অনুপমের সাথে। কিন্তু বিয়ের পর মাত্র কুড়ি দিন আগে এক অচেনা মানুষের সাথে ট্রেনে আলাপ হয় এবং কিভাবে সেই মানুষটি জড়িয়ে যায় বসুধার সাথে ও বিয়ে করে দুজন দুজনকে সেটাই দেখার। বেশি কিছু লেখার নেই। ঘটনার ঘনঘটা অনেক। লিখলে পুরোটাই স্পয়লার হয়ে যাবে।
বইটি পড়তে ভালো লেগেছে আমার। বিশেষ করে ট্রেন জার্নিটা ভীষণভাবে উপভোগ করেছি। সুকান্ত বাবুর লেখা এটাই প্রথম বই যেটা আমি পড়লাম। ওঁনার লেখার ধরণ খুব ভালো লেগেছে। ভীষণ সহজ সরল সাবলীল। বাকি বইগুলো পড়ার ইচ্ছে প্রবল।
সম্পূর্ণ অপরিচিত দুজন যুবক যুবতীর আলাপ দূরপাল্লার রেলের কামরায়। কুশল যাচ্ছে অসুস্থ বড়োমামাকে দেখতে বীরপাড়া আর নীলা ওরফে বসুধা রায় চলেছে বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে আলিপুরদুয়ারে। নিয়তি কোন্ সুঁতোয় বাঁধবে তাদের? 📗 এছাড়াও এই উপন্যাসে আমরা খুঁজে পাই অনুপম, শোভা, বেলা আর শ্রীবাসের মতো চরিত্র কে। আর আছে পাহাড়ি প্রকৃতির নিখুঁত বর্ণনা যা অচিরেই মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। 🍁 ব্যক্তিগত রেটিং 👉৪.৫/৫
বই : জ্যোৎস্নাপুজো লেখক : সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশক : আনন্দ মুদ্রিত মূল্য : ₹১৫০/-
শেষ করলাম জোৎস্নাপুজো। মনটা এখনও বেশ পুজোর গন্ধে মো মো করছে। তাই সেই গন্ধ মলিন হয়ে যাওয়ার আগেই লিখে ফেলা যাক পাঠ অনুভূতির কথা।
💐সম্প্রতি যদি কারোর লেখনীর প্রেমে পড়ে থাকি তাহলে তাদের দলে প্রথম সারিতে এই নামটি বিরাজমান - সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়। খুবই সাধারণ মানের কাহিনীকে অসাধারণ করে তোলার ক্ষমতা রাখেন ইনি।
📚একটি ট্রেন যাত্রা দিয়ে শুরু হয় এই উপন্যাসের আসর। বাঙালি, ট্রেনে ভ্রমণ, যা যা হয় আর কি - বাড়ির লোকজন থাকলে একটু কলরব, একা যাত্রা করলে বাবা মায়ের ঘন ঘন ফোন - সাধারণ চিত্রগুলি সুন্দর ফুটে উঠেছে। চমক লাগিয়ে গল্প জমাতে এগিয়ে আসে নীলা অথবা বসুধা - দুটো নাম কেনো নিলাম, সেটা না বলাই থাক, যারা পড়েন নি তাদের বিন্দুমাত্র স্পয়লার দিতে চাইনা 😛।
📚গল্পের নায়ক কুশল বেশ ভদ্র, মার্জিত, শিক্ষিত। ঘটনাক্রমে এই ট্রেন যাত্রার সেও এক যাত্রী এবং যাত্রা পথেই জড়িয়ে পড়ে এক উটকো ঝামেলায়। গল্পের মাঝে যতবারই মনে হয়েছে ঝামেলা থেকে সে এবার নিষ্পত্তি পেলো, আরেক ঝামেলা এসে জড়িয়ে ধরেছে তাকে। বরং তার গুরুতর প্রভাব বেড়েছে বই কমেনি। এমনকি তার সারাজীবনের অন্ধ বিশ্বাসের মূল্য কতটা ঠুনকো, সেও উপলব্ধি করেছে।
📚অপরদিকে নীলাও নিরন্তন জীবনকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে চলেছে। প্রতি নিয়ত চড়াই উতরাই পেরিয়ে এক সত্য মিথ্যার সাথে লাগাম ছুটিয়ে লড়াই করে চলেছে।
📚এর মাঝে আসে আর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শোভা - যাকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হয়েছে সংসারিক জীবনের বিভিন্ন জট।
✍️এই তিন প্রধান চরিত্রের জীবনের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে সবকিছু যেনো ওলোট পালট হয়ে যায়, গল্পের মোড় ঘুরে যায় সম্পূর্ন অন্যদিকে। ঠিক যে জায়গায় সব শেষ হওয়া অনিবার্য, ঠিক সেই জায়গায় সূচনা হয় নতুন এক অধ্যায়।
✍️অনেক সময় আমরা রহস্য রোমাঞ্চ পড়লে এর পর কি হবে, শেষ কি হবে সেই চিন্তায় গল্প শেষ না করে ছাড়তে পারিনা। এই উপন্যাস রহস্য রোমাঞ্চ ঠিক বলা যায়না, তবে এই শেষ না করে শান্তি নেই ব্যাপারটি কিন্তু ভীষণভাবে সত্য।
📚গল্পের শুরুতে নিজের সাথে নীলার বেশ কটা মিল খুঁজে পেয়ে পড়তে আরো ভালো লাগছিল। প্রায়শই আমিও এরকম নিজের একটা জগৎ বানিয়ে তাতে ভ্রমণ করতে বেশ আনন্দ উপভোগ করি। 😝 হোক না তাতে কিছু কল্পনার আস্ফালন, জেগে উঠে স্বপ্ন দেখার ক্ষমতাই কিন্তু আমাদের বাস্তবের সাথে লড়তে শেখায়, তাই নাকি?
শেষাংশ আমার জন্য একদম ধারণার বাইরে ছিল। আপনারা পড়ে দেখুন, কেমন লাগে, আন্দাজ করতে পারেন কিনা শেষ অবধি হচ্ছে টা কি। 😊