Moinul Ahsan Saber (Bangla: মঈনুল আহসান সাবের; born 1958) is a fiction writer of Bangladesh. He is the executive editor of popular weekly magazine Saptahik 2000 (সাপ্তাহিক ২০০০), published from Dhaka.
His father, Ahsan Habib, was one of the main modern poets of Bangladesh and Saber emerged as a writer and gained fame with the publication of his first novel Porasto Sahish (পরাস্ত সহিস) in 1982.
বর্তমানে কিশোরদের উদ্দেশ্য করে যে বইগুলো লেখা হয় সেগুলোতে নতুনত্ব খুবই কম।বাংলাদেশী সাহিত্যে কিশোর উপন্যাস নিয়ে কতটা গভীরভাবে ভাবা হয় সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান। বেশির ভাগ লেখকই একটা জানাশোনা কাহিনী নিয়ে উপন্যাসের পটভূমি রচনা করেন।অধিকাংশ লেখকই এডভেঞ্চার জাতীয় উপন্যাস লেখেন।কিশোরদের একটু হাস্যরস এবং রোমাঞ্চের সাময়িক অনুভূতি দেওয়াই মূলত আসল উদ্দেশ্য।ছোটরা এটা উপভোগও করে খুব।তবে ভ্যারাইটি না দিলে এই সাময়িক আনন্দ একসময় অনুভব করা যায় না।উপন্যাসগুলোর আবেদন অনেকাংশে কমে যায়। রোমাঞ্চের বাইরেও কিশোর উপন্যাস নিয়ে আরেকটু ভাবা বোধ হয় সব লেখকেরই উচিত।'লিলিপুটরা বড় হবে' একটি এমনই কিশোর উপন্যাস যেটিতে কোনো রোমাঞ্চ নেই।কিন্তু কিশোরদের মধ্যে ভাবনার খোরাক অবশ্যই জাগাবে।সমাজের মানুষগুলোর আসল পরিচিতি মিলবে উপন্যাসটির মাধ্যমে।নৈতিকতা নিয়ে একটা ম্যাসেজ লেখক দিতে চেয়েছেন কিশোরদের।সমাজের বাস্তবতা নিয়ে কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করবে একটু হলেও। উপন্যাসটির পরিসর খুবই অল্প। মাত্র ৪৭ পেজের উপন্যাস। কিন্তু মেদহীন লেখা।পৃষ্ঠা বাড়ানোর জন্য অহেতুক ঘটনার সৃষ্টির কোনো প্রয়াস নেই।যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই গল্পে আনা হয়েছে ।কাহিনীর একজন কিশোরের ভাষ্যে উত্তমপুরুষে লেখা।কিশোরটির নাম লেখক উল্লেখ করেন নি।কিশোরটির চার বন্ধু আসিফ,শামীম, ইশতিয়াক,বাবু।তারা ৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করে।আবদুল করিম নামক একজন নতুন ইংরেজি শিক্ষক তাদের স্কুলে আসেন। শিক্ষকটি একটু ভিন্নধারায় 'গালিভার'স ট্রাভেলস' বইটা ছাত্রদের কাছে ব্যক্ত করে স্কুলে সাড়া ফেলে দেন।এমনিতেই শিক্ষকটির উচ্চতা ছিল কিছু কম।তাই 'লিলিপুট স্যার' নামে ছাত্রসমাজে পরিচিতি পেয়ে বসেন।তবে একটি এক্সিডেন্টের কারণে 'লিলিপুট স্যারে'র জীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।সমাজের প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি আলতাফ মোল্লার গাড়ির ধাক্কাতে মারা যায় করিম স্যারের ছেলে অরুণ।আলতাফ মোল্লার বিরুদ্ধে লিলিপুট স্যারের লড়াই হল উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ জনগণের বাস্তবিক সংঘর্ষের পরিণতিকে মঈনুল আহসান সাবের খুবই সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।প্রতীকী হিসেবে যে বিষয়গুলো ব্যবহার করেছেন তা ভেবে কিশোর পাঠকরা ভাবনায় পড়ে যাবে।অন্যরকম একটা রেষ রয়ে যাবে।কিশোররা সমাজের এই বাস্তবতা গুলোকে সাহিত্যের মাধ্যমে দেখার সুযোগ পায় না।উপন্যাসের পাঁচ বন্ধুর আলাপ-আলোচনাগুলো অত্যন্ত দার্শনিক এবং এগুলো নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ছোটদের উৎসাহ দেবে।তাদের আলোচনাগুলো আসলেই কিশোরদের মানসিকতায় পূর্ণতা আনতে সাহায্য করবে।কিশোরদের মানসিক চেতনার জাগরণ ঘটানো এবং মনের দ্বিধা-দ্বন্দের মুখোমুখি হওয়ার শিক্ষা তো আছেই সঙ্গে একটু চিন্তাশীল হওয়ার সুযোগও করে দেবে বইটা। আমার কথাগুলো একটু কঠিন মনে হলেও উপন্যাসটি অত্যন্ত সহজ ভাষায় লেখা,কাহিনীতে হাস্যরসও আছে কিন্তু তা মূল কাহিনীকে বিপথগামী করে না।ছোটদের পড়ার অভ্যাসে একটু ভিন্ন স্বাদ দিতে এই বইটার চেয়ে ভাল আর কিছু হয় না। বড়দেরও সমানভাবে ভাল লাগবে বলে আমি মনে করি। হ্যাপি রিডিং!
বইটিকে উপন্যাস না বলে ছোট একটি কিশোর গল্প বলা যেতে পারে। বইটি শুরু হয়েছে পাঁচজন কিশোরের নিজেদের মধ্যে গ্রীষ্মের ছুটি কিভাবে কাটানো হচ্ছে সেই আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে।কিশোর পাঁচ জন হলো বাবু,আসিফ,ইস্তিয়াক,শামীম আর অপরজন হচ্ছে গল্পের বণর্নাকারী।তারা পরস্পরের বন্ধু। এইবার তারা এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছে।এখনও তাদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়নি তাই তারা ছুটি কাটাচ্ছে। ছুটি কিভাবে কাটাবে এই বিষয় নিয়ে যদিও তারা পরীক্ষার আগেই পরিকল্পনা করেছিল কিন্তু পরিকল্পনা মতো কিছুই হয়নি। কেন পরিকল্পনা মতো তারা সব করতে পারেনা সে সব বিতর্কের মাঝেই উঠে আসে করিম স্যার এর কথা।করিম স্যারকে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে উঠেছে। করিম স্যার যে কিনা একজন অসাধারণ শিক্ষক পরবর্তীতে তারই করুন পরিস্থিতি নিয়ে গল্পটি চলে। যদিও প্রথমে মনে হতো পারে নিছক কিশোর একটি গল্প কিন্তু গল্পটিতে ফুটে উঠেছে আমাদের বতর্মান সমাজের বিভীষিকাময় দিকগুলো ধনীদের শোষণ, উৎপীড়ন,ক্ষমতার অপব্যবহার প্রভৃতি। এছাড়াও ভীরুতা, কাপুরষতা,সিদ্ধান্তহীনতা,স্বাথর্পরতা বিষয় গুলোও দেখতে পাই। পরিশেষে বলতে হয় কিশোরদের চিন্তার খোরাক জোগাতে সাহায্য করবে বইটি
আশির দশকের শেষের দিকে মেট্রিক পাশ কিশোরেরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে বাতচিত করতো- সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই, তবে এটুকু নিশ্চিত যে, এই উপন্যাসের কিশোরদের মতো কথাবার্তা বলতো না। সাবের সাহেবের লেখায় উঠে আসা এই কিশোরদের চরিত্র ও কথোপকথন অসম্ভব আরোপিত মনে হয়েছে। আর কোনো চরিত্রকে ঠিকমতো গড়েই তোলা হয়নি, যে কারণে গল্পটা খুব একটা নাড়া দিতে পারেনি, গল্পে ট্র্যাজেডি থাকা সত্ত্বেও।