বুড়োর শাস্তির কথা হচ্ছিল। 'আমার কথাই ধরো না', বলল রানা। 'চাকরিতে ঢোকার প্রথম দিকের কথা। সাংঘাতিক একটা ভুল করে ফেলেছিলাম। ব্যস, আর যায় কোথায়... একেবারে দ্বীপান্তর!' 'হোয়াট!' চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠলো সোহানার। 'বলো কি! দ্বীপান্তর? কি অপরাধে?' 'সময় নেই, সোহানা। আরেক দিন বলব। আমি... ' রানা জানে না কার পাল্লায় পড়েছে সে। সেইদিনই রাত দশটায় ঘরে ফিরে দেখল সোহানা হাজির। শুরু হলো গল্প। সেই কাঁচা বয়সের কথা, জলকুমারীর কথা, অপূর্ব সুন্দর সেই দ্বীপের কথা, পঁচিশ একর ছায়া সুনিবিড় শান্তি আর নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতের কথা, স্বর্ণহৃদয় রডরিক আর ল্যাম্পনির কথা। সেই সঙ্গে যোগ দিল লোভ, পাপ আর মৃত্যু - দুঃস্বপ্নের মত ভয়ঙ্কর!
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
ভয়াবহ বিপদের কারণে ভারত মহাসাগরের সেন্ট মেরী নামের ছোট্ট দ্বীপে আত্নগোপনে যেতে হয়েছিল মাসুদ রানাকে। সময়ের আবর্তে মাসুদ রানা এই দ্বীপের সবার প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠে। জলকুমারী নামের প্রিয় বোট, সঙ্গী ল্যাম্পনি আর রডরিককে বেশ দিন কাটছিল এই আন্ডারগ্রাউন্ড এজেন্টের। কিন্তু হঠাৎ করেই সেন্ট মেরীতে আগমন ঘটে একদল লোকের। কী যেন খুঁজছে ওরা..এক মস্ত বড় এডভেঞ্চার আর প্রেম এসে হানা দেয় মাসুদ রানার সেন্ট মেরীতে।
জীবনে প্রথমবারের মতো মাসুদ রানা পড়া হলো। মাসুদ রানা এর আগে না পড়া হলেও পাঠকমহলের সুবাদে চরিত্রদের সাথে পরিচয় আগে থেকেই। এই তিনখণ্ডের আলাপ অনেক বেশি শুনেছি। আর তাই এটা দিয়েই শুরু করা, যদিও জানি না মাসুদ রানা আরও পড়া হবে কিনা! ভালোই লেগেছে। তবে আমার একদম ধুন্ধুমার একশন প্যাকড এডভেঞ্চার অতো পছন্দ না, তবে যারা একদম ডিটেইলস ওয়ালা হামলা মামলার বর্ণনা পছন্দ করেন তাদের জন্য মাসুদ রানা পার্ফেক্ট কম্বো।
ছোট বেলায় ছড়াটি পড়েছিলাম। দেখুনতো মনে পড়ে কি না?
কে মেরেছে, কে বকেছে,কে দিয়েছে গাল তাইতো খোকন রাগ করেছে ভাত খায়নি কাল।।।
খোকন রাগ করে,ভাত খায়নি।তাহলে বুড়ি মেয়েটার কি করা উচিত ? টানা দু'ঘন্টা বুড়ো চীফের বকুনি খেতে হয়েছে তাকে।ছিঃ ছিঃ কি লজ্জার কথাই না শুনতে হয়েছে।'বিয়ে আর সংসার বাধার কাজ ছাড়া নাকি কোনো কাজ তার দ্বারা হবেনা'। এরপরেও কি চুপ করে থাকা যায়।এখনি রিজাইন দিয়ে এই অপরাধের প্রতিশোধ নিবে সে।
ধুর!মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?সামান্য বকুনিতে কেউ এরকমভাবে। একবার রানা'র কথা ভেবে দেখো।কি একটা ভুলের জন্য তার শাস্তি হয়েছিল,টানা চার বছরের দ্বীপান্তর।
দ্বীপান্তর??? তাছাড়া আর বলছি কি।দুই হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের ছোট একটা দ্বীপ 'সেন্ট মেরী'তে।গল্পের শুরু হয় সেখানেই।সঙ্গী থাকে প্রিয় বোট জলকুমারী,আর স্বর্ণহৃদয় দুই বন্ধু রডরিক আর ল্যাম্পনি।।
এই গল্পে আছে মাসুদ রানার সেই কাচা বয়সের কথা,প্রথম প্রেমিকা জলকুমারীর কথা,পঁচিশ একর ছায়া সুনিবিড় শান্তি আর নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতের কথা।যেখানটায় ফুটে উঠেছে অপুর্ব সুন্দর সেই দ্বীপের রূপকথামালা।বন্ধুত্বের অতুলনীয় বন্ধন। সাথে মিশে গেছে দুঃস্বপ্নের মতো ভয়ঙ্কর সব চিত্র।লোভ,পাপের সাথে জুয়াড়ি বুদ্ধির চাল।মৃত্যুদিন না আসা পর্যন্ত যা টিকে থাকে খুনের নেশায়।
রিভিউ যেহেতু শুধু প্রথম খন্ডের তাই যাদের ভুমিকা জোড়ালো নয়, তাদের পরিচয় এড়িয়ে গেলাম। দ্বীপে রানা'র দুই বন্ধু বলতে ফিলিপ রডরিক ও জিলেট ল্যাম্পনি। রডরিকের মতো দক্ষ শিকারি পুরো ভারত মহাসাগরে আর কেউ আছে কি না সন্দেহ। জলকুমারীতে চাকরির আগে তার হোয়েল বোটে করে মাছ মারত।তাতে দুমাসে যা আসতো তা দিয়েই সারা বছরের খোরাকি চালিয়ে নিতো।রানা কে সে আপন ভাইয়ের থেকেও বেশি ভালো বাসে।আর প্রত্যেক বেতনের দিনে সেটা বলে থাকে। ল্যাম্পনি রোগা পটকা হলে হবে কি,বেজায় সাহস।সাংঘাতিক ডানপিটেও বটে।মেয়ে পটাতে ওস্তাদ। জলকুমারিতে কাজ পাওয়ার আগে মেয়ে নিয়ে ফুর্তি আর চাদা তোলা ছাড়া কিছু করত না।এখন ও জলকুমারীর একজন দক্ষ ক্রু।
এই দুই বন্ধু নিয়ে মাছ ধরে, রানার দিন ভালোই কেটে যাচ্ছিল।কিন্তু হঠাত সেখানে নেমে এলো কালো মেঘ।তাদের এবারের পার্টি যে মাছ শিকারে আসেনি,তা প্রথম দর্শনেই বুঝে গেলো রানা।সেই দলে আছে প্যান্থার, ব্লাক আর নিরো।নিরো বড় রকমের সুবোধ বালক।এই দলে বড্ড বেমানান। তবুও কিভাবে জুটেছে তা চিন্তার বিষয়।দু একদিনের মধ্যেই রানা ওদের ফন্দিফিকির বুঝে ফেলল।কিন্তু করার কিছুই নেই।সে ভালো করেই জানে,এদের হাতে তাকে মরতে হবে। তবুও একটা বার লড়তে হবে,যদি কোনো ভাবে বেচে যায়।শেষ পর্যন্ত সে কি পেড়ে উঠবে?কেননা তার বিপক্ষে ভয়াবহ প্রফেশনাল কিলার।যারা তার মৃত্যুদূত হিসেবে অপেক্ষা করছে।
গভীর সাগরে এত রাতে,হুমায়ূন দাদার সাথে দ্বীপের ইন্সপেক্টর টালী'কে কোনোভাবে আশা করেনি রানা।তাদের ধান্দা খুব বেশি কিছু নয়।একটা জায়গা দেখয়ে দিতে হবে মাত্র।যার মূল্যে বেচে যাবে রানা আর তার বন্ধুদের প্রাণ।কিন্তু রানা কোনোভাবে সেখানে তাদের নিয়ে যাবেনা। যেভাবে হোক জাল কেটে বেড়িয়ে যেতে হবে।হিসেবে একটু গড়মিল হলে কামানের একটা গোলা ধংস করে দিবে তার প্রাণ প্রিয় সঙ্গীদের।সে কি পারবে,তার বন্ধুদের বাচিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে? . . পাঠ প্রতিক্রিয়া:: রানা সিরিজের সেরা বইগুলোর মধ্যে আই লাভ ইউ,ম্যান অন্যতম। এর বাহিরে অগ্নিপুরুষ আর হ্যাকার কে তেমন মর্যাদা দেয়া হয়।এই তিন বইয়ের মধ্যে আমি প্রথম এটিই পড়লাম। প্রথম দিকে মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল সব। প্রকৃতি বর্ণনার ভাষায় জটিলতা, বোটের বিভিন্ন সরঞ্জামের কথা। যেগুলোর সাথে পূর্ব পরিচয় নেই বলে দুর্বেধ্য লাগছিল আমার কাছে।পড়া এগোতে পারছিলাম না।১ম খন্ড পেড়িয়ে এসব মিলিয়ে যায়।কোন দিক থেকে শেষ করে ফেললাম,টেরি পেলাম না।মোটামুটি ভালো লেগেছে।এসপিওনাজ জনরার প্রায় সব বই একই ধাচের।নাহলে আরো ভালো লাগতো।
রিভিউ খন্ডে খণ্ডে আলাদা করে লিখার কারন, প্রতিটি খন্ডই অসংখ্য টুইস্ট আর এডভেঞ্চারের গাদি।সব গুলো একসাথে তুলে ধরলে কিছুটা স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই এটুকুই...
কখনোই মাসুদ রানা সিরিজের বড় ভক্ত ছিলাম না আমি, কিন্তু গল্পটা সত্যিই ভাল ছিল। ভারত মহাসাগরের বুকে মুক্তার মত গজিয়ে উঠা ছোট্ট দ্বীপ সেন্ট মেরী, উত্তাল সমুদ্রের নীল জলরাশি, সাগর তলে লুকানো গুপ্তধনের হাতছানি, মুঘল সাম্রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস, চোখে পানি এনে দেয়ার মত অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব - কী নেই এতে। মাসুদ রানার কোন বই থেকে যা কখনোই আমি আশা করি না সেটা হলো মনে ধরার মত কোন কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র - কিন্তু এতে তাও আছে! গল্পের শেষটা যেভাবেই হয়ে থাকুক, আমার কিন্তু 'রাফেলা বার্ড'কে ভারি পছন্দ হয়েছে।
অগণিতবার মাসুদ রানা সিরিজের সেরা কাজ হিসেবে 'আই লাভ ইউ, ম্যান' কে আখ্যায়িত হতে শুনেছি। ব্যক্তিগতভাবে যেহেতু খুব বেশি মাসুদ রানা পড়া হয় নি তাই এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না, তবে আমার পড়া সেরা মাসুদ রানার গল্প তো এটা ছিলোই। আমার পড়া কাজী আনোয়ার হোসেনের সেরা কাজও হয়ে থাকতে পারে।
অনুপ্রেরণা লেখক যেখান থেকেই নিয়ে থাকুন, প্লট যে অসাধারণ তাতে কোন সন্দেহ নেই। গল্পের প্রবাহও মন্দ নয়। তবে লেখার ধরন আমাকে বেশ কয়েক জায়গায় একটু অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে (অনেক ক্ষেত্রেই এক ঘটনা থেকে আরেক ঘটনায় এত দ্রুত চলে যাওয়া হয়েছে যে বুঝে উঠতে কষ্ট হচ্ছিলো, তাছাড়া সেইলিং আর ডাইভিং সংক্রান্ত অপরিচিত ইংরেজ��� শব্দগুলোর আরেকটু সচেতন ব্যবহার হয়তো করা যেত)। এইজন্যই তিন তারা, নইলে 'বিদেশি গল্পের অনুবাদ ছাড়া আর কিছুই না' হলেও চার তারা দেয়া যেতই, বা��লা ভাষার পাঠকদের জন্য এ ধরনের থ্রিলার গল্প সহজলভ্য করারও একটা গুরুত্ব আছে বৈকি।
This entire review has been hidden because of spoilers.
মধ্যবিত্ত ফ্যামিলিতে হিসেবের মাঝে বড় হওয়া এই আমার কৈশোরে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ দুইটি বইয়ের বেশি পকেটমানি বরাদ্দ থাকতো না। কিন্তু শুধু দুটো বইয়ে কি আর এই বইপোকার ক্ষুধা মিটে!
তাই কতদিন স্কুলে যাওয়া আসার রিকশাভাড়া আর টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে বই কেনা আর পড়ার বইয়ের মাঝে লুকিয়েচুরিয়ে গল্পের বই রেখে পড়া ছাড়া আর গতি ছিল না।
সেই সময়ের অতি কষ্টে জমানো টাকায় কেনা বেশিরভাগ বই-ই থাকতো সেবা প্রকাশনীর। তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা, কুয়াশা সিরিজ, ওয়েস্টার্ন কিংবা রহস্য পত্রিকা। একে তো রোমাঞ্চের ডাই-হার্ড ফ্যান, তাছাড়াও জমানো টাকার বাজেটেও কুলোনো যেত সেবার বইগুলো। তার উপর তো সেবার বইগুলোর সাইজ একদম্মম্ম বোরিংং পাঠ্যবইয়ের মাঝে লুকিয়ে রাখার জন্য পারফেক্ট!
সেরকমই লুকিয়ে লুকিয়ে কেনা অতিকষ্টের ধন ছিল মাসুদ রানা সিরিজের এই বইটি।
বহু বছর আগে পড়া। এবং এই বইটি যে পরে কতবার পড়েছি! তাও বোধহয়ে শেষবার হয়ে যাবে কলেজের সমসাময়িক সময়।
আজকে একজন পাঠকের রিভিউ দেখে ফ্ল্যাশব্যাকে সেইসব ডানপিটে দিনগুলো মনে পড়ে গেল।
এখন আবার পড়লে কি রেটিং দিব জানিনা। এই রেটিংটা আমার কৈশোরের মাসুদ রানার প্রেমে পড়া ভার্সনের রেটিং আর সেইসাথে নস্টালজিয়া তো আছেই।
মাসুদ রানা সিরিজের আমার সবচেয়ে পছন্দের বই ছিল "আই লাভ ইউ, ম্যান" ♥️ . . . জুলাই ৮, ২০২৫ | সিলেট, বাংলাদেশ
এই কাহিনিটা উইলবার স্মিথের The Eye of the Tiger থেকে অনুপ্রাণিত। মূল বইটি না পড়লেও, এই সংস্করণটি নিজস্ব গতিতে এগিয়েছে এমনটা অনুভূত হয়েছে।
তিন খণ্ডে বলা এই গল্পটা আসলে ধীরে ধীরে নিজেকে খুলে দেয়। শুরুতে কাহিনির হাত ধরে পরিস্থিতি, চরিত্র, উদ্দেশ্য বোঝাতে সময় নেয়। মাঝের অংশে এসে গল্প একটু চঞ্চল হয়, ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাতে থাকে। শেষ ভাগে গিয়ে সবকিছু এক জায়গায় এসে মিলিত হয়, যেখানে মাসুদ রানার সামনে দাঁড়ায় মূল প্রতিপক্ষ। প্রতিটি ধাপে পাঠকের কৌতূহল ধরে রাখার চেষ্টা আছে, বিশেষ করে শেষ দিকে যে মোড়টা আসে, সেটা অপ্রত্যাশিতই ছিল।হালকা-ভারী মিলিয়ে এক ধরনের সুষম অ্যাডভেঞ্চার অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার।
নিঃসন্দেহে ভালো বই। মাসুদ রানার ফ্লেভার তো পুরো এসেছেই তার সাথে এসেছে টানটান উত্তেজনার এক অ্যাডভেঞ্চার। তবে আমার কাছে মাসুদ রানার সেরা বই 'অগ্নিপুরুষ'ই।
কদিন আগে বুকশেলফ গোছানোর সময় হঠাৎ বড় একটা বইয়ের পিছে দেখি এই বান্দা পরে আছে।বইটা দেখেই ছোটবেলার সেই বালিশের নিচে লুকিয়ে পড়ার ঘটনা মনে পড়লো।তিন গোয়েন্দা পড়া হলেও মাসুদ রানা বলতে গেলে আমার একদমই পড়া হয়নি।এর একমাত্র কারণ বাসায় সেবার বই নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল। যাই হোক, এই বইটা কবে পড়েছিলাম তাও ভুলে গেছি কিন্তু মনে আছে একটানা ৩ দিনেই টানা পড়ে শেষ করেছিলাম, আর এখন বুড়ো বয়সে এসে এটা পড়তে আমার প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগলো😪।তখন অবশ্য অনেক কিছুই বুঝতাম না, এবার পড়ে বুঝলাম এই দুঃসাধ্য বইটি কত ভালোভাবে অনুবাদ করা হয়েছে। উইলবার স্মিথের "The eye of the tiger" অবলম্বনে লেখা হলেও লেখক মাসুদ রানা কে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভাবে চরিত্রায়ন করেছেন।নিজ দেশের এরকম একজন চরিত্র ছোট থাকতেও ভাবতে মজা লাগতো, এখনো সেই ভালোলাগাটা রয়ে গেছে।
অনেক দিন পর মাসুদ রানার কোন বই পড়লাম। যদিও শুরু অনেকের রিভিউ পেয়েছি বইটার। তবে তারপরও অনেক পরে এসে বইটি পড়ে শেষ করলাম। . এখন বইটি সম্পর্কে যদি বলি তবে এতে মাসুদ রানার অনেক থ্রিল এবং এডভেঞ্জার বাদ গিয়েছে। বলা যায় বইটি আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে কিছুটা স্লো মনে হয়েছে। যেই থ্রিল বা গতি দরকার ছিল সেটার অভাব রয়েছে। . তবে আমাদের চিরচেনা মাসুদ রানার সেভাবে পরিবর্তন নেই। বইটি অনেক আগে প্রকাশিত হয়েছে বলে গল্প কিছুটা ধীর। এখনকার মত টানটান উত্তেজনা নেই। কিন্তু ভালো টুইস্ট আছে। বলা অনেক বড় টুইস্ট সবার শেষে পেয়েছি। বেশ ভালোই লেগেছে। . যারা গতিময় থ্রিলার এডভেঞ্চার চান তারা কিছুটা হতাশ হতে পারেন। তবে একদম খারাপ নয়।
This book is a carbon copy of the book " eyes of the tiger" . At this moment I cannot remind the author's name. While publishing should incite the name of the originl book.
" একটা কথা তোমাকে বলি বলি করেও কক্ষনো বলা হয়নি,সেই কথাটাই আজ তোমাকে বলতে যাচ্ছি আমি। ইউ আর এ গুড বয় মাসুদ। আই লাভ ইউ,ম্যান। "
— রডরিক
মাস্টারপিস!!!
আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী মাসুদ রানা সিরিজের সর্বশ্রেষ্ঠ বই " আই লাভ ইউ,ম্যান। "
কিছু বই আছে যেটা পড়ে মনের অনুভূতি সম্পূর্ণভাবে লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বইটা পড়া শেষ করে রিভিউ লেখার সময় কথাটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। বইটা পড়তে গিয়ে পুরোটা সময় আমি যেন একটা ঘোরে ডুবে গিয়েছিলাম। কল্পনার চোখ দিয়ে যেন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলাম সেন্ট মেরী দ্বীপ,মাসুদ রানার বোট ��লকুমারী ও দ্বীপের দুই বাসিন্দা স্বর্ণহৃদয় রডরিক ও ল্যাম্পনিকে। ওদের সাথে যেন বোটে করে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম বিশাল সাগরে।
বইটা তিনখন্ডে বিভক্ত হলেও এর প্রথম খন্ড মূলত একটা বিশাল কাহিনীর সেটাপ। গল্পে গতি আসে দ্বিতীয় খন্ডে,খুব দ্রুতই ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। আর শেষমেষ তৃতীয় খন্ডে ভিলেনের মুখোমুখি হয় মাসুদ রানা। প্রতিটি খন্ডের শেষেই ছিল আনএক্সপেক্টেড টুইস্ট অ্যান্ড টার্নস। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সের টুইস্টটা আমাকে হতবাক করে দিয়েছিল।
পার্শ্ব চরিত্রদের মধ্যে রডরিককেই সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। তার অমন বিশালদেহী চেহারা,বুলডগের মতো মুখের ভাজ খাওয়া চামড়া,উদার মন আর বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা মনে থাকবে অনেকদিন।
কি নেই এই বইতে?
প্রেম,ঘৃণা,বিশ্বাসঘাতকতা,বন্ধুত্ব আর ট্রেজার হান্টিং। সবই রয়েছে এই বইতে। এক কথায় পার্ফেক্ট প্যাকেজ!
বইয়ের কাহিনী নেওয়া হয়েছে বিখ্যাত লেখক উইলবার স্মিথের " দ্য আই অফ দ্য টাইগার " বইটি থেকে। মূল বইটা কেমন তা আমি জানি না,কাজী আনোয়ার হোসেন অ্যাডাপ্টেশনে কি কি চেঞ্জ করেছেন তাও বলতে পারবো না। তবে আমি একটাই কথাই বলবো,মাসুদ রানার " আই লাভ ইউ,ম্যান " আমার এতটাই ভালো লেগেছে যে আমি কোনদিনই মূল বইটা পড়তে চাই না।
সবশেষে,একটা কথাই বলবো,এই বইটা কেবল মাসুদ রানা সিরিজের সর্বশ্রেষ্ঠ বই নয়। আমার জীবনের পড়া সেরা বইগুলোর লিস্টেও সবসময় উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বল করবে " আই লাভ ইউ,ম্যান। "
বইটি রানা সিরিজের সেরা বইগুলোর একটি। রানা সিরিজের প্রথম দিকে লেখা বইগুলো একেকটা মাস্টারপিস সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই, তবে সেগুলোর মাঝেও সেরাদের সেরা বই হল "আই লাভ ইউ ম্যান"। কাজীদা'র শেষ জীবণে নিজের হাতে লেখা বইগুলোর মাঝে তেমন কোন নতুনত্ব বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই,গতানুগতিক লেখা ও সিরিজ বাড়ানোর তাগিদেই পাঠকপ্রিয়তার কারণে নিয়মিত লেখে গিয়েছেন। আর কাজীদা'র পরে লেখা রানা সিরিজ নিয়ে আর কিছু নাই বা বললাম।তবে মাসুদ রানা সিরিজের আসল মজা পেতে হলে অবশ্যই প্রথম দিককার গল্পগুলো পড়তে হবে। আর সেগুলোর মাঝে " আই লাভ ইউ ম্যান" সত্যিই দুর্দান্ত।
এই বইটার এত হাই রেটিং দেখে পড়তে বসেছিলাম। অনেকদিন লাগল পড়তে। অনেকে এটাকে মাসুদ রানার সেরা বই বলেছে, কিন্ত আমার কাছে সেটা মনে হয় নি। স্পাই থ্রিলারের সেই গতিময় ব্যাপারটাই এই গল্পে নেই। পড়তে বসলে ঘুম এসে যায়। যেসব টুইস্ট আছে সেগুলো আহামরি তেমন কিছু না। ব্যক্তিগত ভাবে আমার পড়া বেস্ট মাসুদ রানার বই "অখণ্ড অবসর"। এটা তার কাছাকাছি যেতে পারে নি।
কৈশোরে পড়া মাসুদরানার বইগুলোতে যে অলীক ভ্রমণ, এ বইটি সবচে' বেশী আলোড়িত করেছিল। ভালবেসেছিলাম জলকুমারী আর তার স্কিপারের, রডরিক, ল্যাম্পনি আর রাফেলা বার্ডের বাঘের চোখ খুঁজে ফিরবার দুর্দান্ত অভিযান। সিরিজের সেরা বই মনে করি একে।
চাকরির প্রথম দিকে মাসুদ রানার একটি ভুলের অফিসিয়াল শাস্তি হিসেবে দ্বীপান্তর, সে দ্বীপের জীবনের সাথে মানিয়ে নেয়া, অসম্ভব ভালো দুইজন বন্ধু পাওয়া এবং তাদের সাথে দ্বীপের শান্তিময় জীবন কাটানোর গল্প। এবং সে শান্তির জীবনের মাঝে এক দুর্ধর্ষ অভিজানে জড়িয়ে পড়ার গল্প।