মঞ্জু সরকার (Manju Sarkar) বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাশিল্পী, গল্পকার ও উপন্যাসিক। মঞ্জু সরকারের জন্ম ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৩, রংপুরে। একাডেমিক শিক্ষা রংপুরের কৈলাশ রঞ্জন হাই স্কুল ও কারমাইকেল কলেজে। পেশাগত জীবনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রকাশনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণের পর, দৈনিক আমার দেশ এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে দশ বছর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে স্বাধীন ও সার্বক্ষণিক লেখক। গল্প, উপন্যাস ছাড়াও বেশ কিছু শিশু-কিশোর গ্রন্থের প্রণেতা। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা অর্ধ শতাধিক। কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি, ফিলিপস, আলাওল, বগুড়া লেখক চক্র ও ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার। শিশু-কিশোর গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রাম’-এর অনারারি ফেলোশিপ প্রাপ্তি উপলক্ষে তিনমাস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: অবিনাশী আয়োজন, উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা, রূপান্তরের গল্পগাথা, মঙ্গকালের মানুষ, তমস, নগ্ন আগন্তুক, প্রতিমা উপাখ্যান।
নান্টু গ্রামের এক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।নাকটা তার উঁচুই বলা যায়।সে মেলা দেখতে যাবে।মেলায় যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য বৈধ অবৈধ সব পন্থাই অবলম্বন করে নান্টু।অবশেষে মেলায় যায় সে এবং হারিয়ে যায়।এই হারিয়ে যাওয়া থেকে মূল গল্পের সূচনা।আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় "অনেক" শব্দটাকে বলে "মেলা" বা "ম্যালা।"নান্টু হারিয়ে যেয়ে মেলার বদলে "ম্যালা" জিনিস দেখতে ও বুঝতে শুরু করে।যাদের সে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো,যাদের সাথে মিশতে তার গা ঘিনঘিন করতো তাদের সাথে বাধ্য হয়ে মিশে তার চেনা জগৎ পাল্টে যায়।লেখক মঞ্জু সরকার বাস্তবসম্মতভাবে সবকিছুর বর্ণনা দিয়েছেন।গরিবের বাসায় খেতে নান্টুর দ্বিধাবোধ হয়,খাবার মজা লাগে না,এদেরকে সে বিশ্বাসও করতে পারে না;তাকে আশ্রয় দেওয়া মহিলা অর্থাভাবে ব্লাউজ পরে না, এটাও সে খেয়াল করে। নান্টুর মেলা দেখা এক অর্থে আত্ম আবিষ্কারের গল্প,"ম্যালা" জিনিস দেখে পৃথিবীকে ভালোবাসার গল্প। আমাদের শিশুসাহিত্যের এমনিতেই রুগ্ন দশা,তার মধ্যে অধিকাংশ ভালো লেখা প্রচারের অভাবে আড়ালে পড়ে থাকে।বলা বাহুল্য,"নান্টুর মেলা দেখা" তেমনই একটি কিশোর উপন্যাস।বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।