What do you think?


কবিতার কথা
কবিতার কথা বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙ্গালী কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ যা তার মৃত্যুর পর প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ-আলোচনা লিখেছিলেন যার প্রতিটি অত্যন্ত মৌলিক চিন্তা-ভাবনার স্বাক্ষর বহন করে। কবিতার কথা গ্রন্থের প্রবন্ধাবলী বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। তার ‘কবিতার কথা’ শিরোনামীয় প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশ‘‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি’’ বাংলা সাহিত্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি প্রবচন।
- GenresFiction
80 pages, Hardcover
First published July 1, 1999
About the author
Jibanananda Das
87 books435 followersJibanananda Das (bn: জীবনানন্দ দাশ) is probably the most popular Bengali poet. He is considered one of the precursors who introduced modernist poetry to Bengali Literature, at a period when it was influenced by Rabindranath Tagore's Romantic poetry. During the later half of the twentieth century, Jibanananda Das emerged as the most popular poet of modern Bengali literature. Popularity apart, Jibanananda Das had distinguished himself as an extraordinary poet presenting a paradigm hitherto unknown. It is a fact that his unfamiliar poetic diction, choice of words and thematic preferences took time to reach the heart of the readers. Towards the later half of the twentieth century the poetry of Jibanananda has become the defining essence of modernism in twentieth century Bengali poetry.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
October 15, 2022
আমাদের প্রত্যেকের এক-আধটা নোঙর দরকার হয়। নোঙর— যা আমাদের ভেসে যেতে দেয় না, অথচ যাকে গুটিয়ে আমরা পাড়ি দিতে পারি বহুদূরে।
আমার কাছে জীবনানন্দ সেই নোঙরের ভূমিকা পালন করেন। শুধু কবিতা দিয়ে নয়, তাঁর কাব্যভাবনার মধ্যে এমন কিছু আছে যা আমাকে দোলায়মান অথচ স্থির থাকার সুযোগ দেয়— ঠিক সময়ের মতো।
সেই কাব্যভাবনার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ঘটেছে এই বইটিতে।
মোট আঠেরোটি অনতিদীর্ঘ নিবন্ধ আছে এতে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত নিঃসন্দেহে 'কবিতার কথা'। সেটি শুরুই হয়েছে সেই বিস্ফোরক স্পষ্টভাষণ দিয়ে~
"সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি; কবি— কেন না তাদের হৃদয়ে কল্পনা এবং কল্পনার ভিতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা রয়েছে..."
শুধু এই লেখাটিতেই নয়; এই বইয়ের প্রতিটি লেখায় জীবনানন্দ এমন বহু মন্তব্য নিতান্ত ভীরু ভঙ্গিতে আলগোছে রেখে গেছেন, যা নিয়ে এক-একটা ডক্টরাল থিসিস লেখা যায়।
উদাহরণ চান? একটা দিচ্ছি।
"বুদ্ধদেবের কবিতার বহিঃপ্রসাধন স্তিমিত করেছে কি তার ভিতরের বহ্নি? না সত্য এর বিপরীত?"
আরও চান?
টুক করে পড়ে নিন মাত্র ১২৪ পাতার এই বইটিকে। পড়ুন, আর অনুভব করুন অকূল জলের বুকে নোঙরটিকে।
আমার কাছে জীবনানন্দ সেই নোঙরের ভূমিকা পালন করেন। শুধু কবিতা দিয়ে নয়, তাঁর কাব্যভাবনার মধ্যে এমন কিছু আছে যা আমাকে দোলায়মান অথচ স্থির থাকার সুযোগ দেয়— ঠিক সময়ের মতো।
সেই কাব্যভাবনার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ঘটেছে এই বইটিতে।
মোট আঠেরোটি অনতিদীর্ঘ নিবন্ধ আছে এতে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত নিঃসন্দেহে 'কবিতার কথা'। সেটি শুরুই হয়েছে সেই বিস্ফোরক স্পষ্টভাষণ দিয়ে~
"সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি; কবি— কেন না তাদের হৃদয়ে কল্পনা এবং কল্পনার ভিতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা রয়েছে..."
শুধু এই লেখাটিতেই নয়; এই বইয়ের প্রতিটি লেখায় জীবনানন্দ এমন বহু মন্তব্য নিতান্ত ভীরু ভঙ্গিতে আলগোছে রেখে গেছেন, যা নিয়ে এক-একটা ডক্টরাল থিসিস লেখা যায়।
উদাহরণ চান? একটা দিচ্ছি।
"বুদ্ধদেবের কবিতার বহিঃপ্রসাধন স্তিমিত করেছে কি তার ভিতরের বহ্নি? না সত্য এর বিপরীত?"
আরও চান?
টুক করে পড়ে নিন মাত্র ১২৪ পাতার এই বইটিকে। পড়ুন, আর অনুভব করুন অকূল জলের বুকে নোঙরটিকে।
November 6, 2025
"কবিতা লেখবার সময় বোঝা যায় হৃদয় কেমন মিতব্যয়ী কবির —প্রয়োজনীয় ছাড়া বাকি সব উপকরণ বাতিল করেছে।"
"অভিজ্ঞতা বাড়াতে গেলে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বার সম্ভাবনা: আমাদের দেশের কবিদের ভিতর এদের সংখ্যাই বেশি; বাঙলাদেশে আধুনিক কবিতার যে কাল চলেছে সেখানে বিশাল অভিজ্ঞতা মহৎ ভাবে শিক্ষিত —এ রকম কাব্য খুব সম্ভব নেই। আছে? কম বেশি অভিজ্ঞতা সৎ নিয়মে শিক্ষিত এরকম কবিতা রয়েছে কম না, বেশি অভিজ্ঞতা বিশেষ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে কাব্যে এ জাতীয় কবিতা অনেক আছে।"
"মানুষের মনের চিরপদার্থ কবিতায় বা সাহিত্যে মহৎ লেখকদের হাতে যে বিশিষ্টতায় প্রকাশিত হয়ে ওঠে তাকেই আধুনিক সাহিত্য বা আধুনিক কবিতা বলা যেতে পারে।"
"আজকের যুগের বিশেষ কতকগুলো লক্ষণ এ কালের কবিতায় থাকে; দেশকাল সন্ততি (আজ পর্যন্ত মানুষের ধারণায় তাদের যে-রূপ আমরা পাই সেই রূপ) যে কোনো যুগের প্রাণবস্তু বলে পরিগণিত হবার সুযোগ যে-কাব্যে লাভ করেছে সে-কবিতা আধুনিক।"
March 12, 2018
"কিন্তু সৎ কবিতা নেই, একথা গণিত বলছে কি? ভালো কবিতা পড়ে আমার অভিজ্ঞতার কোনো একটা উপেক্ষিত (খুব সম্ভব বিশৃঙ্খল ) অংশে সম্বিৎ এল - গোছানো হতে লাগল সব - কবি যা দেখাতে চাচ্ছে আমি ভিন্ন ব্যক্তি বলে সবটা সম্পূর্ণ ভাবে দেখতে পাব না, কিন্তু আমার মনশ্চক্ষে অনেকখানিই দেখলাম - আমার অভিজ্ঞতার একটা অংশ সঙ্গতিসাধনে স্বস্তি লাভ করল, সার্থক সব কবিতার ভিতর দিয়ে যে সঙ্গতি সম্ভব হয়; আনন্দ পেলাম।"
কবিতাপাঠ শীর্ষক প্রবন্ধে লেখক উপরের এই কথাটা বলছেন। তো এই যে বলা তার সত্যতা সন্দেহাতীত। মানে কবিতার সাথে যখন পাঠক নিজের অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে নিজেরে রিলেট করতে পারে, তখনই পাঠকের কাছে কবিতা আরও মনোযোগ পায়, এবং তা ভালো বলে উপলব্ধি হয়।
তো এই যে কবিতার অলিগলি আর কথাবার্তা লেখক তার নিজস্ব চিন্তা প্রকাশে এইখানে দ্বিধা করেন নাই। যদিও কিছু জায়গায় বেশ খানিক অবোধ্য ঠেকতেছে। তবে কবিতা সম্বন্ধীয় লেখকের পাণ্ডিত্য খুব সহজেই চোখে পড়ে। লেখক যে একজন নিখাদ কবি তার পরিচয়ও স্পষ্টত বোঝা যাইতেছে। মানে সেই সময়ে থেকে তার কবিতা বিষয়ক এবং জীবনের সাথে কবিতার সম্পর্ক বিষয়ক যে আধুনিক মতবাদ তা তিনি স্পষ্টত প্রকাশে সার্থক।
বইটা আমি শেষ করতে পারছি। লেখক যখন নিজের অবস্থানে অবিচল দর্শনে বলতেছে যে, যুগের হাওয়া এখন ধর্মের চেয়ে বিজ্ঞানের যুক্তিতে চলে বেশি, তখন সন্দেহাতীত ভাবে বলতে হয় আধুনিকতায় তাঁর এই যে দূরদর্শিতা তা তারিফের যোগ্য। এইখানে লেখক বিজ্ঞানের পাশাপাশি কবিতা বা শিল্পের যে অভিন্ন অথচ সৃজনশীল বিভিন্ন রূপরেখার কথা বলছেন তাতে করে শিল্পের মুক্ত আকাশের কথাই আসে। আরও তিনি যেমন বলছেন, দান্তের ডিভাইন কমেডি কিংবা মহাভারত ইদানিং পাঠের আগেই স্বীকার করে ,জিনিসটা ভালো শিল্প কিন্তু পাঠ এবং বোঝা কষ্টকর, তাই এইসব শিল্প দিনে দিনে অনেকটাই শো-অফ, আর নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানে পাশ-করা প্রয়োজন ছাড়া এসব সাহিত্যে মানুষ অনাগ্রহী, এবং এভাবেই তিনি যে সত্যের কথা বলেছেন যে কোনো সাহিত্যই চিরকালীন না। এতেই লেখকের পাণ্ডিত্য এবং অভিজ্ঞান সুস্পষ্ট হয়। সবশেষে লেখকের আরও একটা কথা কোট করতে চাই।
"মানুষের মন আশ্চর্য ভাবে বদলে যেতে পারে বটে - নষ্ট হয়ে যেতে পারে।"
কবিতাপাঠ শীর্ষক প্রবন্ধে লেখক উপরের এই কথাটা বলছেন। তো এই যে বলা তার সত্যতা সন্দেহাতীত। মানে কবিতার সাথে যখন পাঠক নিজের অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে নিজেরে রিলেট করতে পারে, তখনই পাঠকের কাছে কবিতা আরও মনোযোগ পায়, এবং তা ভালো বলে উপলব্ধি হয়।
তো এই যে কবিতার অলিগলি আর কথাবার্তা লেখক তার নিজস্ব চিন্তা প্রকাশে এইখানে দ্বিধা করেন নাই। যদিও কিছু জায়গায় বেশ খানিক অবোধ্য ঠেকতেছে। তবে কবিতা সম্বন্ধীয় লেখকের পাণ্ডিত্য খুব সহজেই চোখে পড়ে। লেখক যে একজন নিখাদ কবি তার পরিচয়ও স্পষ্টত বোঝা যাইতেছে। মানে সেই সময়ে থেকে তার কবিতা বিষয়ক এবং জীবনের সাথে কবিতার সম্পর্ক বিষয়ক যে আধুনিক মতবাদ তা তিনি স্পষ্টত প্রকাশে সার্থক।
বইটা আমি শেষ করতে পারছি। লেখক যখন নিজের অবস্থানে অবিচল দর্শনে বলতেছে যে, যুগের হাওয়া এখন ধর্মের চেয়ে বিজ্ঞানের যুক্তিতে চলে বেশি, তখন সন্দেহাতীত ভাবে বলতে হয় আধুনিকতায় তাঁর এই যে দূরদর্শিতা তা তারিফের যোগ্য। এইখানে লেখক বিজ্ঞানের পাশাপাশি কবিতা বা শিল্পের যে অভিন্ন অথচ সৃজনশীল বিভিন্ন রূপরেখার কথা বলছেন তাতে করে শিল্পের মুক্ত আকাশের কথাই আসে। আরও তিনি যেমন বলছেন, দান্তের ডিভাইন কমেডি কিংবা মহাভারত ইদানিং পাঠের আগেই স্বীকার করে ,জিনিসটা ভালো শিল্প কিন্তু পাঠ এবং বোঝা কষ্টকর, তাই এইসব শিল্প দিনে দিনে অনেকটাই শো-অফ, আর নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানে পাশ-করা প্রয়োজন ছাড়া এসব সাহিত্যে মানুষ অনাগ্রহী, এবং এভাবেই তিনি যে সত্যের কথা বলেছেন যে কোনো সাহিত্যই চিরকালীন না। এতেই লেখকের পাণ্ডিত্য এবং অভিজ্ঞান সুস্পষ্ট হয়। সবশেষে লেখকের আরও একটা কথা কোট করতে চাই।
"মানুষের মন আশ্চর্য ভাবে বদলে যেতে পারে বটে - নষ্ট হয়ে যেতে পারে।"
April 8, 2022
কবি ও কবিতার কথা। কবিতার উত্তরসূরিরা কতটা ভাবে কবিতা নিয়ে। তাদের কবিতায় কার প্রভাব বা কিসের প্রভাব রয়েছে সেটাও দেখতে হবে। তবে কবিতার মুল অর্থ বোঝাতে হবে। কবিতার অর্থবোধ না থাকলে সেটা কবিতার মধ্যে পরবে না। আবার কবিতার ভেতর অন্তর্নিহিত অর্থ থেকেও ছন্দ বেশ গুরুত্বপূর্ন।
June 27, 2022
অনেকসময় দর্শন বা বিজ্ঞানের সংমিশ্রণে যেসকল কবিতা লিখা হয় সেসকল কবিতার বেহাল অবস্হা দেখলে বাস্তবিকই খারাপ লাগে। এসব বিষয়বস্তু নিয়ে জীবনানন্দ দাশও গভীরভাবে চিন্তা করেছেন তা দেখে ভালো লাগলো। আসলে একজন কবি কবিই--স্বভাবকবি বা নানারকমের কবির ফাঁদে পড়তে চাইনা। আমি যখন কবিতা লিখি তখন তা আমার অন্য সকল লিখার চেয়ে ভিন্ন বটে,তাদের সৃষ্টির মূহুর্তেরও বিশাল তারতম্য রয়েছে বটে। কবিতায় আমার জ্ঞান,অভিজ্ঞতা, তাৎক্ষনিক অনুভূতি ও তাৎক্ষণিক মূহুর্ত সমস্ত কিছুরই প্রকাশ পাবে। কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে কবিতায় আমার ভাষার রুপ পরিবর্তন হয়;সাধারণ ভাবে ভাষা যেমন ভাব বিনিময়ের ব্যবস্হা মাত্র,কবিতায় তার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কবিতায় ভাষার ব্যবহারই ভাষার সত্যতা বা কবিতার সত্যতা। অর্থ্যাৎ এখানে ভাষাই নিজেকে ভাষার মতো করে বুঝতে পারে। অসংখ্য সম্ভাবনা উঁকি দেয় ভাষার বিভিন্ন প্রয়োগের অস্বাভাবিক পরিস্হিতিতে। এখানে অনেকটা মানুষের মন ভেঙে চুড়ে মানুষের খুচরো একটা রুপ প্রদান করা হয়। আকাশে যেনো ডানা মেলে উড়তে থাকে কবিরা যখন তারা লিখেন কবিতা।
September 22, 2026
যে মানুষ একবার মরে যায়, তাকে আকাশ এবং পৃথিবীর কেথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে কিছু মানুষ থাকে, এর ব্যতিক্রম। মৃত্যুই যাদের দান করে অমরত্ব। জীবনানন্দ দাশ সেরকমই একজন।
সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে, কিন্তু একজনের জন্য এই নিয়ম কিছুটা উল্টো। কারণ সময়ের যত বয়স হচ্ছে ততই সে তাকে আমাদের কাছে একজন অলীক মানুষের চেয়েও বড় কিছু এবং রহস্যময় করে গড়ে তুলছে। যেমন করে কবিতাকে সে গড়ে তুলেছিলো অমোঘ দুপুরের প্রখর রোদে হারিয়ে ফেলা পৃথিবীর পথে, যার বিপরীতে তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন তারই সৃষ্টি শব্দের জমিনে।
জীবনানন্দ দাশ তার সময়কালে কবিতার সমুদ্রে এমন ঢেউ তুলেছিলেন যার ক্ষুধার্ত স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গোটা একটা সভ্যতা। সভ্যতা- তবে সবাই নয়, যারা চায় জীবনের নিজস্ব হাহাকার থেকে পরিত্রাণ পেতে, শুধু তারাই। কবিতাই হয়ত তাদের সেই মুক্তি, তবে সেই মুক্তি নয় যা মৃত্যু দিতে পারে। আবার সেই মুক্তিও নয় যা মৃত্যুতে হাতছাড়া হয়ে যায়। জটিল কিছু - তবে যারা বুঝতে পারবে তাদের জন্য অমৃত স্বরূপ।
মাঘের শুরুর দিক। বাতাসে হিমের ছোয়া তীব্র। এমন সময় বইটার শব্দের ঘ্রাণ নেয়া শুরু করেছিলাম।কিছুটা পড়ার পর দেখলাম বইয়ের শব্দগুলো এক আদি অকৃত্রিম উচ্ছাসে ভাসিয় দিচ্ছে আমায়। জীবনের এই লীলা ফুরায়ে যাওয়ার আগে আরেকবার জীবনানন্দ দাশ আমায় চমকে দিলেন তার লিখা দিয়ে।
“যে নক্ষত্র মরে যায়, তাহার বুকের শীত
লাগিতেছে আমার শরীরে”- হয়ত এই শীতের বাতাসে জীবনের উড়ে আসা মৃত্যুর ক্লান্তিকর ঘুম নিয়েই তিনি লিখেছিলেন তার সকল শব্দ। শব্দ - যা দিয়ে তৈরি করেছিলেন একের পর এক অনবদ্য বাক্য।
বইয়ে প্রবন্ধগু সংখ্যা ১৫। সময়কাল ১৩৪৫-১৩৬০। শুরুটা হয় সেই জীবন্ত লাইন দিয়ে, ‘সকলেই কবি নয়।কেউ কেউ কবি ; কবি কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভিতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার.....।’
সত্যের আলো তার লেখায় স্বচ্ছ মানবসামান্য আকারে প্রকাশ পেয়েছে। হয়ত তিনি জনসাধারণের সঙ্গী হয়ে তাদের অনুভূতি বাস্তবে নিয়ে এসে লিখেছেন এইসব লিখা। তিনি যে সত্যিই কবিতার মানুষ তা এই বইটি পড়লে আবারো বুঝতে পারবেন। কবিতা, জানি- তবু জানি, এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের মৌলিক রহস্য। রহস্য - তবে সেটা নয় যা কালের মাতৃগর্ভে হারিয়ে গেলে মানুষ ভুলে যাবে। রহস্য - যা মহাকালের সাথে বৃদ্ধি পাবে ঠিক একটা বটবৃক্ষের নিয়মে। তবে হবে না শুধু মৃত্যু তার।
আলোচনা-
প্রথম পাঠে মনে হতে পারে কবির মধ্যে থাক জটিলতা, যা তার লেখাকেও প্রভাবিত করেছে তীব্রভাবে। লেখার এই ধরনের জন্য অনেক পাঠক হয়ত শুরুতেই সমাপ্তি টেনে দিতে পারেন। বইটিতে গদ্য ভাষারীতি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। জীবনানন্দ গদ্যভাষায় দীর্ঘ ও জটিল বাক্যের যে প্রয়াস ঘটায় তা অনেকের বোঝার জন্য সত্যি জটিল। আমার নিজের পরিস্থিতি বললে বলব, এই ক্ষয়িষ্ণু মস্তিষ্ক খাটিয়ে এসব বোঝ আমার জন্য অনেকটাই পীড়াদায়ক ছিলো। তবুও জীবনানন্দ বলে কথা, চেষ্টায় ত্রুটি রাখিনি। ত্রুটি রাখিনি- তবে বুঝতে গিয়ে ১২ টা বেজেছে।
সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে, কিন্তু একজনের জন্য এই নিয়ম কিছুটা উল্টো। কারণ সময়ের যত বয়স হচ্ছে ততই সে তাকে আমাদের কাছে একজন অলীক মানুষের চেয়েও বড় কিছু এবং রহস্যময় করে গড়ে তুলছে। যেমন করে কবিতাকে সে গড়ে তুলেছিলো অমোঘ দুপুরের প্রখর রোদে হারিয়ে ফেলা পৃথিবীর পথে, যার বিপরীতে তিনি হেঁটে গিয়েছিলেন তারই সৃষ্টি শব্দের জমিনে।
জীবনানন্দ দাশ তার সময়কালে কবিতার সমুদ্রে এমন ঢেউ তুলেছিলেন যার ক্ষুধার্ত স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গোটা একটা সভ্যতা। সভ্যতা- তবে সবাই নয়, যারা চায় জীবনের নিজস্ব হাহাকার থেকে পরিত্রাণ পেতে, শুধু তারাই। কবিতাই হয়ত তাদের সেই মুক্তি, তবে সেই মুক্তি নয় যা মৃত্যু দিতে পারে। আবার সেই মুক্তিও নয় যা মৃত্যুতে হাতছাড়া হয়ে যায়। জটিল কিছু - তবে যারা বুঝতে পারবে তাদের জন্য অমৃত স্বরূপ।
মাঘের শুরুর দিক। বাতাসে হিমের ছোয়া তীব্র। এমন সময় বইটার শব্দের ঘ্রাণ নেয়া শুরু করেছিলাম।কিছুটা পড়ার পর দেখলাম বইয়ের শব্দগুলো এক আদি অকৃত্রিম উচ্ছাসে ভাসিয় দিচ্ছে আমায়। জীবনের এই লীলা ফুরায়ে যাওয়ার আগে আরেকবার জীবনানন্দ দাশ আমায় চমকে দিলেন তার লিখা দিয়ে।
“যে নক্ষত্র মরে যায়, তাহার বুকের শীত
লাগিতেছে আমার শরীরে”- হয়ত এই শীতের বাতাসে জীবনের উড়ে আসা মৃত্যুর ক্লান্তিকর ঘুম নিয়েই তিনি লিখেছিলেন তার সকল শব্দ। শব্দ - যা দিয়ে তৈরি করেছিলেন একের পর এক অনবদ্য বাক্য।
বইয়ে প্রবন্ধগু সংখ্যা ১৫। সময়কাল ১৩৪৫-১৩৬০। শুরুটা হয় সেই জীবন্ত লাইন দিয়ে, ‘সকলেই কবি নয়।কেউ কেউ কবি ; কবি কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভিতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার.....।’
সত্যের আলো তার লেখায় স্বচ্ছ মানবসামান্য আকারে প্রকাশ পেয়েছে। হয়ত তিনি জনসাধারণের সঙ্গী হয়ে তাদের অনুভূতি বাস্তবে নিয়ে এসে লিখেছেন এইসব লিখা। তিনি যে সত্যিই কবিতার মানুষ তা এই বইটি পড়লে আবারো বুঝতে পারবেন। কবিতা, জানি- তবু জানি, এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের মৌলিক রহস্য। রহস্য - তবে সেটা নয় যা কালের মাতৃগর্ভে হারিয়ে গেলে মানুষ ভুলে যাবে। রহস্য - যা মহাকালের সাথে বৃদ্ধি পাবে ঠিক একটা বটবৃক্ষের নিয়মে। তবে হবে না শুধু মৃত্যু তার।
আলোচনা-
প্রথম পাঠে মনে হতে পারে কবির মধ্যে থাক জটিলতা, যা তার লেখাকেও প্রভাবিত করেছে তীব্রভাবে। লেখার এই ধরনের জন্য অনেক পাঠক হয়ত শুরুতেই সমাপ্তি টেনে দিতে পারেন। বইটিতে গদ্য ভাষারীতি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। জীবনানন্দ গদ্যভাষায় দীর্ঘ ও জটিল বাক্যের যে প্রয়াস ঘটায় তা অনেকের বোঝার জন্য সত্যি জটিল। আমার নিজের পরিস্থিতি বললে বলব, এই ক্ষয়িষ্ণু মস্তিষ্ক খাটিয়ে এসব বোঝ আমার জন্য অনেকটাই পীড়াদায়ক ছিলো। তবুও জীবনানন্দ বলে কথা, চেষ্টায় ত্রুটি রাখিনি। ত্রুটি রাখিনি- তবে বুঝতে গিয়ে ১২ টা বেজেছে।
January 15, 2024
‘কবিতার কথা’ জীবনানন্দ দাশের একটি প্রবন্ধের বই। এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই ‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি’। অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়। প্লেটো ভালো কবিদের কয়েকটি গুণের কথা বলেছিলেন- ‘For all good poets, epic as well as lyric. Compose their beautiful poems not by art, but because they are inspired and processed. And as the corybantian revelers when they dance are not in their right mind, so the lyric poets are not in their mind when they are composing this beautiful strains.’
জীবনানন্দের ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের বই থেকে এরকম কিছু অপরূপ সত্যোন্মচন আমরা পেয়ে যাই: 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।''কবিতা অনেকরকম' , 'জীবন ছাড়িয়ে কোনও মানবীয় অভিজ্ঞতা থাকা কি সম্ভব? মনোযোগী পাঠকেরা ‘কবিতার কথা’ বই থেকেই সুন্দর শব্দের সমুচ্চয় দেখতে পাবেন।জীবনানন্দ দাশের নিজের কবিতারই বিশ্লেষণ 'কবিতা প্রসঙ্গে' প্রবন্ধে-যা আসলে একটি ব্যক্তিগত পত্রের অংশবিশেষ। জীবনানন্দ কবিতার সবচেয়ে অন্যতম প্রধান বিষয় মনে করতেন কল্পনাকে। তাই তিনি লেখেন : 'কবিতা লিখতে হলে ইমাজিনেশনের দরকার; এর অনুশীলনের।' তার বিশ্বাস ছিল পাঠক তার কবিতাকে অনন্যতা দিবেই। কিছু সময়ের জন্য হলেও তার কবিতা পাঠক হৃদয়ে শ্বাশত হবে তিনি জানতেন। তাই ‘কবিতার কথা’ বইয়ের শেষ অনুচ্ছেদটি সম্ভবত তিনি রচনা করেছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশের কথা মনে রেখেই : 'তার প্রতিভার কাছে কবিকে বিশ্বস্ত থাকতে হবে; হয়তো কোনও একদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতার সঙ্গে তার কবিতাবৃত্ত প্রয়োজন হবে সমস্ত চরাচরের সমস্ত জীবের হৃদয়ে মৃত্যুহীন স্বর্ণগর্ভ ফসলের ক্ষেতে বুননের জন্যে।'
জীবনানন্দের ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের বই থেকে এরকম কিছু অপরূপ সত্যোন্মচন আমরা পেয়ে যাই: 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।''কবিতা অনেকরকম' , 'জীবন ছাড়িয়ে কোনও মানবীয় অভিজ্ঞতা থাকা কি সম্ভব? মনোযোগী পাঠকেরা ‘কবিতার কথা’ বই থেকেই সুন্দর শব্দের সমুচ্চয় দেখতে পাবেন।জীবনানন্দ দাশের নিজের কবিতারই বিশ্লেষণ 'কবিতা প্রসঙ্গে' প্রবন্ধে-যা আসলে একটি ব্যক্তিগত পত্রের অংশবিশেষ। জীবনানন্দ কবিতার সবচেয়ে অন্যতম প্রধান বিষয় মনে করতেন কল্পনাকে। তাই তিনি লেখেন : 'কবিতা লিখতে হলে ইমাজিনেশনের দরকার; এর অনুশীলনের।' তার বিশ্বাস ছিল পাঠক তার কবিতাকে অনন্যতা দিবেই। কিছু সময়ের জন্য হলেও তার কবিতা পাঠক হৃদয়ে শ্বাশত হবে তিনি জানতেন। তাই ‘কবিতার কথা’ বইয়ের শেষ অনুচ্ছেদটি সম্ভবত তিনি রচনা করেছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশের কথা মনে রেখেই : 'তার প্রতিভার কাছে কবিকে বিশ্বস্ত থাকতে হবে; হয়তো কোনও একদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতার সঙ্গে তার কবিতাবৃত্ত প্রয়োজন হবে সমস্ত চরাচরের সমস্ত জীবের হৃদয়ে মৃত্যুহীন স্বর্ণগর্ভ ফসলের ক্ষেতে বুননের জন্যে।'
June 19, 2020
'সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি।' এই আপ্তবাক্যটির জনক জীবনানন্দ দাশের 'কবিতার কথা' একটি কবিতা সম্পর্কে লেখা প্রবন্ধগ্রন্থ। মোট পনেরোটি প্রবন্ধ আছে বইটিতে। পড়লেই বোঝা যায় যে কবিতা সম্পর্কে কত গভীর জ্ঞান ছিল তাঁর। শুধু কবিতা লেখা নয়, তিনি সমালোচনার ব্যাপারেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। প্রতিটি লেখাতেই এসেছে কবিতার অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা, আর এতেই বোঝা যায় যে তিনি কবিতা বিষয়টি নিয়ে কতটা ভাবতেন। এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁর গভীর শ্রদ্ধা প্রায় সব প্রবন্ধেই লক্ষ্য করা যায়। সমসাময়িক স্বদেশী কবিদের নিয়ে আলোচনা হোক কিংবা বিদেশী কোথাও কাউকে ছোট করে বা ব্যঙ্গ করে কিছু লেখেননি,এটাই আসল গঠনমূলক সমালোচনা। মোটকথা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা কবির কবিতা সম্পর্কে ধারণা জানবার আগ্রহ থাকলে বইটি অবশ্যপাঠ্য।
October 17, 2018
শুদ্ধতম কবি
Displaying 1 - 9 of 9 reviews










