শ্রী পারাবত এর লেখা চতুর্থ কাহিনী পড়লাম। আগেরগুলো থেকে এটা বেশ আলাদা।
ইতিহাসকে সরাসরি ব্যবহার না করে পাশে রেখে মূল গল্পটা বলা হয়েছে।
ইংরেজ আমলের শুরুর দিকে দুই ভাই আর তাদের দুই বধূকে নিয়ে গল্প।
একজন স্বল্প শিক্ষিত কিন্তু উন্নত মানসিকতা এবং স্নেহশীল ভাই, স্বামী বা ভাশুর গোপাল মুখার্জি। যিনি টাকার পেছনে ছুটলেও মায়া-মমতা, স্নেহ, ভালোবাসা সবই একসাথে অন্তরে ধারণ করেন।
তার স্ত্রী হেমলতা অসাধারণ হতে পারতেন, কিন্তু সময়ে তার অন্তরের সাধারণ চেহারাটা বের হয়ে আসে।
খুব সাধারণ তৎকালীন এক স্ত্রীলোকের মতোই যার বিশ্বাস ছিল স্বামীকে বশে রাখার, ভয় পেতেন অশরীরী আত্মাকে, মেয়েদের পড়ালেখাকে ভাবতেন পাপ, তবে ছিলেন স্নেহশীলা এবং ধৈর্য্যশীলা।
উপন্যাসের সবচেয়ে নজরকাড়া চরিত্র কমলা। প্রেমে, বিদ্যায়, বুদ্ধিতে, আত্মসম্মানে ভাস্বর এই নারী।
আর মহীধর যিনি সহজ, সাধারণ এক চরিত্র থেকে শেষদিকে পেয়ে যান অনন্যতা, মাত্র একটা কথাতেই।
শ্রীপারাবতের বলার ধরন সবসময়ই আকর্ষণীয়। এটাতেও ভালো লেগেছে। ভেবেছিলাম ওয়ারেন হেস্টিংস মূল চরিত্রে থাকবেন, তিনি তেমন ভাবে গল্পে ছিলেন ই না।
সময়টা, সংস্কার-কুসংস্কার, ধর্মের প্রতি অবিচল বিশ্বাস আবার ওইসময়কার নানান স্খলনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে উপন্যাসের পরিণতি সুন্দর ছিল।