চন্দ্রকেতুগড়
শ্রীপারাবত
দে'জ
দামঃ৮০
চন্দ্রকেতুগড় - কলকাতা থেকে মাত্র আটত্রিশ কিমি দূরে বেড়াচাঁপায় শায়িত এই স্থানের ধংসাবশেষ হতে পারত আমাদের বাঙলার গর্ব। খ্রীষ্ট জন্মের বহু আগে এখানে গড়ে উঠেছিল এক সুউন্নত নাগরিক সভ্যতা। একদা গঙ্গারিদি রাজ্যের রাজধানী নগর বন্দর গঙ্গের প্রাণকেন্দ্র ছিল প্রাচীর বেষ্ঠিত চন্দ্রকেতুগড়, কোনো এক মহারাজা চন্দ্রকেতুর নামানুসারে, যাঁর বিদ্যা, বুদ্ধি, উদারমনস্কতা ও সুউন্নত বিচারব্যবস্থায় তাঁর শাসনে প্রজারা পেয়েছিল শান্তি, সমৃদ্ধি। গঙ্গারিদি রাজ্যের সমৃদ্ধির কথা অজানা ছিল না মহান গ্রীক বীর আলেকজান্ডারেরও।
কিন্তু দুঃখের বিষয় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আজও এখানের ইতিহাস রয়ে গেছে অজ্ঞাত। যা হতে পারত বাঙালীর গর্ব তা রয়ে গেছে অবহেলা অনাদরে পড়ে থাকা ঢিবির আড়ালে।
শ্রীপারাবতের কাহিনী শুরু এখান থেকেই। মহারাজা চন্দ্রকেতু, তাঁর দুই রাণী উর্মিলা ও দেবযানীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, কৃষক, শবর ও রাজ্যের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক সুখ-দুঃখ, নটী কাঞ্চনমালা, শিল্পী বল্লভ, রাণীর সখী জাহ্নবী, পৃথা, চন্দ্রমুখী, পিতার রোষানল থেকে পত্নীকে বাঁচাতে রাজ্যে আগত মিহির-খনা সবাইকে নিয়ে কল্পনার ঘোড়া ছুটিয়েছেন লেখক। তাঁর কল্পনা সবসময় বাস্তবমুখী। শেষে কি হয় রাজা চন্দ্রকেতুর? তাঁর উত্তরাধীকারী কি বাঁচতে পারল কালের করাল গ্রাস থেকে? সেই ইতিহাস জানানোর জন্যই বহু শতাব্দী ধরে মাটির ভেতর থেকে কেঁদে চলেছে চন্দ্রকেতুগড়। কবে উদ্ঘাটিত হবে সত্য?