কলকাতা – এক মায়াময়, প্রাণময় শহর। সেই প্রিয় শহরটিকে নিয়ে এ-বই। ধারাবাহিক ইতিহাস নয়, যেন কোনও জাদুকরের কলমে লেখা আজকের বা গতকালের কিংবা অতীতের কলকাতা -কাহিনি
সূচিপত্র –
কলকাতার নাম কলকাতার দাম কলকাতায় কত মানুষ জোব চার্নকের মুখোমুখি কলকাতার পিতামহ মারাঠা ডিচ একটি পিতলের পাত ফেয়ারলি প্লেসের বেগম শহরের নৌকোডুবি ফাঁসির ফ্যান্সি ইন্দের স্মরণে লটারির শহর কলকাতার পথ ব্ল্যাক টাউন আর ব্ল্যাক জমিদার চিনেপাড়ায় গৃহযুদ্ধ প্রাচ্যবিদ্যার পীঠস্থান রাইটার ডাক্তার-বদ্যি মূর্তি চোর ইজ্জতের লড়াই কলকাতায় প্রথম রুশ নাগরিক সংক্ষেপে আমার স্ত্রীর কাহিনী অসবর্ণে আপত্তি নাই কালীঘাটের বিয়ে রোটি আউর বেটি হবসন-জবসন অথ উত্তমর্ণ অধমর্ণ কথা বেকার জিন্দাবাদ গুপ্ত-শিক্ষক সিপাহি বিদ্রোহের দিনে রুশ কর্তৃক কলকাতা আক্রমণ যে কলকাতা মাটির তলায় নাম ছিল তার অ্যাঞ্জেলিকা একটি তারকার গল্প কলকাতার ভাষা ও সাহিত্য একটি কবিতার ইতিহাস একটি দশ টাকার কবর ঐতিহাসিক ভূত বড়দিনের কলকাতা লাটসাহেবি করিম বক্স বাহাদুর বরফের মতো ঠাণ্ডা কালচার ও সোডার বোতল শীতে শত্রু তুমি হুক্কা ও এক্কা পালকি থেকে ট্রাম কলকাতার বাঙালি বাঙালিটোলায় এক চক্কর বাবুদের সম্পর্কে যৎকিঞ্চিৎ অন্য বাবুরা কালেজ-বয় ডিরোজিওর শেষ ইচ্ছাপত্র গরম সভা, নরম সভা কোম্পানির দুর্গোৎসব বারোয়ারির তেরোকথা প্রাণকৃষ্ণ হালদারের দুর্গোৎসব পুড়ে ম’লাম, পতি পেলাম না সুকেস স্ট্রীটের দ্বাদশসংখ্যক ভবন সেকালের একজন প্রকাশক ‘কাজী’ থেকে ‘মাননীয় বিচারপতি’ লালবাজারঃ লাল পাগড়ি হারিয়ে যাওয়া দুটি চিড়িয়াখানা পররুচি পিনহা মৎস্য-পুরাণ কাফি হৌস অরণ্যে রোদন কোম্পানির লেখক কোম্পানির চিত্রকর কালীঘাটে একদিন জার্নালিস্ট আরও একজন সাংবাদিক কলকাতার গান একদিন আচমকা একজন সাহেব এসেছিলেন কলকাতা দেখতে কলকাতা ইদানীং
শ্রীপান্থের জন্ম ১৯৩২ সালে, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে | লেখাপড়া ময়মনসিংহ এবং কলকাতায় | শ্রীপান্থ তরুণ বয়স থেকেই পেশায় সাংবাদিক | আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে যুক্ত | সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণামূলক রচনাদি লিখে যাচ্ছেন তিনি | তাঁর চর্চার বিষয় সামাজিক ইতিহাস | বিশেষত কলকাতার সমাজ ও সংকৃতি | তিনি সতীদাহ,দেবদাসী,ঠগী,হারেম-ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমনিই কলকাতার পটভূমিতে লিখেছেন একাধিক রচনা | তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: আজব নগরী, শ্রীপান্থেরকলকতা, যখন ছাপাখানা এল, এলোকেশী মোহন্ত সম্বাদ, কেয়াবাৎ মেয়ে, মেটিয়াবুরুজের নবাব, দায় ইত্যাদি | বটতলা তাঁর সর্বশেষ বই | কলকাতার শিল্পী সংস্কৃতি বিষয়ে তাঁর বেশি কিছু প্রবন্ধ ইংরেজিতেও প্রকাশিত হয়েছে | বাংলা মুলুকে প্রথম ধাতব হরফে ছাপা বই হালেদের 'আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গোয়েজ'-এর দীর্ঘ ভূমিকা তার মধ্যে অন্যতম | পঞ্চাশের মন্বন্তরের দিনগুলোতে বাংলার শিল্পী সাহিত্যিক কবিদের মধ্যে নব সৃষ্টির যে অভুতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটে তা নিয়ে লেখা তাঁর 'দায়'বইটির ইংরেজিতে অনুবাদ প্রকাশিত হতে চলেছে |
অনেকদিন লাগায়ে এটা শেষ করলাম।শ্রীপান্হের লেখায় জাদু আছে। "কলকাতা" কোনো খটমটে ইতিহাস নয়, জাদুর শব্দে লেখা জাদুর এক উপাখ্যান। ইতিহাস তো বরাবরই ভাল্লাগে কিন্তু যদি সেই ইতিহাস হালকা চালে গল্পের মতো করে লেখা হয় তাহলে তো কথাই নেই!একদম সোনায় সোহাগা।লেখক এই বইটা লিখতে যে পরিমাণে শ্রম দিয়েছেন তা বলাই বাহুল্য। বাঙালি হয়ে কলকাতার ইতিহাস না জানলে হয়! কলকাতা সম্পর্কে যা জানি তার পাঁচভাগের দুই ভাগই এই বইয়ের দখলে।
কলকাতা - The City Of Joy। উপমহাদেশের রঙ্গমঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতা। সেই জৌলুশ হারিয়ে হয়তো ইতিহাসের বাঁক বদলের স্রোতে ঠাঁই নিয়েছে শহরটি। কিন্তু কলকাতার রাস্তায় দাঁড়ালে আজও চোখে পড়ে তার প্রাচীন ছবি ও জীবন্ত সব গল্পগুলো। দিল্লীতে অবিভক্ত ভারতের রাজধানী স্থানান্তরের পূর্বে ব্রিটিশ শাসন কলকাতাকেন্দ্রিক ছিল। এই মাটিতেই কত সাহেব সুবা ও নেটিভদের গল্প রচিত হয়েছে। কলকাতার সেই ইতিহাসকে গল্পের আকারে তুলে ধরেছেন শ্রীপান্থ। সরাসরি ইতিহাসের বই নয় এটি; ইতিহাসের পরতে পরতে কল্পনা ও গল্পের মিশেল কলকাতার অতীতকে করে তুলেছে উপভোগ্য। মোট ৭৫ টি প্রবন্ধ ঘরানার গল্পের মাধ্যমে কলকাতার জন্ম ও বিবর্তনের সুর তুলেছেন কলমের ডগায়।
কলকাতার নাম কোত্থেকে আসলো এর কারণ জানতে গিয়ে শেষ হয়েছে বর্তমান কলকাতার হালহকিকত পর্যন্ত। কলকাতা নামের সৃষ্টি নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও কালিকট নাম থেকে এর উৎপত্তি বলে ধরা হয়। কারণ কালিকট বন্দরের নামডাক ছিল সমগ্র ইউরোপে। তারই প্রতিদ্বন্ধী কিংবা দ্বিতীয় কালিকট হিসেবে কলকাতার উত্থান হয়েছিল। এছাড়া সনাতন ধর্মের কালীপূজা থেকেও এর নামের সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কলকাতা নগরীর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জব চার্নককেই অগ্রগম্য ধরা হয়, যিনি ছিলেন একজন ইংরেজ। তবে এই ইংরেজদের কলকাতা নগরী প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিল আরমেনিয়ানরা। অর্থাৎ তারা পূর্ব হতেই কলকাতা অঞ্চলে বসবাস করছিল। কিন্তু ঐ অর্থে কোনো বাণিজ্যিক এলাকা তারা গড়ে তুলতে পারেনি। সুতানটি, গোবিন্দপুর ও কলকাতা গ্রাম ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলায় ইংরেজদের বাণিজ্য শুরু হয় এবং পরবর্তীতে আরো পয়ত্রিশটি গ্রাম তারা ক্রয় করে। ইংরেজদের এই দর কষাকষির মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল আরমেনিয়ানরা।
কলকাতারা জনসংখ্যা নিয়ে বরাবরই ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। একেকজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা একেকভাবে নিজেদের গননা সম্পন্ন করেছেন। তাই কখনো কলকাতার প্রকৃত জনসংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। পলাশির যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসন শুরু করলে তারা নিজেদের সুবিধার্থেই নেটিভ ও ইংরেজদের আলাদা করে ফেলে। ব্ল্যাক টাউনে এদেশীয় জনগণ ও হোয়াইট টাউনে শাসক পক্ষের মানুষেরা বসবাস শুরু করে। এই দুই এলাকার জীবনযাপনে ছিল বিস্তর ফারাক। স্বভাবতই তখন সমাজে দুই শ্রেণির মানুষের সহাবস্থান সৃষ্টি হয়। এদেশীয় ধনিক শ্রেণির ব্যক্তিরা ব্রিটিশদের অনুগত হয়ে তাদের শাসনকার্যে সাহায্য করতে থাকে এবং ব্রিটিশদের চোখে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টি করে। ফলস্বরূপ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্রিটিশরা অধিষ্টিত হয়। ভৃত্য শ্রেণির কাজে এদেশীয় মানুষেরাই ছিল। এমনকি তাদের ট্রেড ইউনিয়ন পর্যন্ত ছিল, যাতে করে কেউ বেশি মাইনে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে।
ব্রিটিশরা শাসনের সুবিধার্থে এদেশীয় প্রতিনিধি রাখতেন, তাদের ব্ল্যাক জমিদার বলা হতো। খাতা কলমে বেতন অল্প হলেও দুর্নীতির মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে বেশিদিন সময় নিত না তারা। ব্রিটিশরাও তেমন মাথা ঘামাতো না। কারণ তাদের নিজস্ব কার্য উদ্ধার ত হচ্ছে! কলকাতা যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি পেল তখন থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষেরা কাজের খোঁজে আসতে শুরু করলো। এদের মধ্যে এগিয়ে ছিল চীনারা। ধীরে ধীরে তাদের নিজস্ব একটা কলোনিই তৈরি করে ফেললো, যা পরবর্তীতে চায়না টাউন নামে পরিচিতি পায়। গেরাসিম লেবেদফ এসেছিলেন সুদূর রাশিয়া থেকে। কলকাতায় প্রথম নাটক মঞ্চস্থ করার কৃতিত্বটাও এনারই।
কলকাতায় প্রায় আশিটি ভাষার প্রচলন ছিল। এদের মাঝে ভারতীয় ভাষা ছিল গুটিকয়েক। এতেই বোঝা যায় কলকাতায় কত বিচিত্র ধরনের মানুষ বসবাস করতো। কলকাতা বাণিজ্যিক রাজধানী হওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে। প্রায় হাজারখানেক ভারতীয় শব্দের প্রবেশ ঘটেছে ইংরেজি অভিধানে। কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থার বিবর্তন যেভাবে হয়েছে, তা দেখলে সত্যিই আশ্চর্য হতে হয়। কলকাতার আরেকটি অনুষঙ্গ, এর রাস্তাঘাটের নাম। ব্রিটিশ রাণী থেকে শুরু করে অফিসের কেরানীর নামেও রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল এবং প্রায়ই কোনো না কোনো রাস্তার নামের উপর ছুরি-কাঁচি চালানো হয়। কলকাতার শিক্ষাব্যবস্থায় হিন্দু কলেজের অবদান ব্যপক। ব্রিটিশ ও এদেশীয় ধনিক শ্রেণির কল্যানে প্রতিষ্ঠিত কলেজে অবশ্য গরিব শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ ছিল না। শিক্ষা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। কলকাতা তথা বাঙালি সমাজের দুই প্রবাদপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রাজা রামমোহন রায়। সতীদাহ প্রথা ও বিধবা বিবাহ প্রথা সংস্কারে কাজ করেছেন তাঁরা। বিধবা বিবাহ প্রথা চালু করতে গিয়ে রাতে চলার পথে দুর্বৃত্তের হামলার আশঙ্কায় পাহারাদার নিয়ে চলতে হয়েছে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে। হিন্দু কলেজের শিক্ষক ডিওরোজি ও ইয়ং বেঙ্গলের ইতিহাসও পাওয়া যায় বইটিতে। কলকাতারা প্রকাশক, দূর্গাপূজা, রাইটার্স বিল্ডিং, কালীঘাট, হেস্টিং সাহেবের ভূত, বাঙালি সংবাদমাধ্যমের ফিরিস্তি দিয়ে ইতি টেনেছেন লেখক।
ইতিহাসের বইগুলো সাধারণত কাটখোট্টা ধরনের হয়, তাই স্বাস্থ্যবান বইগুলো পড়তে গেলে একঘেয়েমি চলে আসে। আবার অনেক সময় লেখকের উপস্থাপন দূর্বল হলেও এমন সমস্যায় পড়তে হয়। এই বইটি সেই অর্থে ইতিহাসের বই না হলেও ইতিহাস যেহেতু উপস্থিত তাই লেখকের উপস্থাপনও সেভাবেই করতে হয়েছে। লেখক এদিক দিয়ে সফল। বইটি পড়তে গেলে বিরক্ত লাগবেনা, বরং গল্প আকারে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পড়তে ভালো লাগা কাজ করবে বলা যায়। কলকাতার অনেক অজানা ইতিহাস ও ব্যক্তির বিবরণ রয়েছে বইটিতে। এক মলাটে এত বিখ্যাত এক নগরীর ইতিহাসকে জায়গা দেওয়া সম্ভব না। কিছু জিনিস বাদ পড়ে গেছে আবার কিছু বিষয় এসেছে আবছাভাবে। লেখকের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
চালের মধ্যে কাকড় থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। এই বইটিকে পুরো কলকাতার ইতিহাস বা চিত্র বলা যায়না। বইটিতে মূলত ব্রিটিশ ও বাঙালি হিন্দু সম্পর্কিত ইতিহাস উঠে এসেছে। অথচ পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায় কলকাতায় মুসলিম জনসংখ্যা হিন্দুদের তুলনায় ফেলে দেওয়ার মতো ছিল না। তবে তাদের এড়িয়ে ইতিহাস রচনার কারণ কী? লেখক এখানে বলেছেন, পলাশির যুদ্ধের পর মুসলিমরা ইংরেজি শিক্ষা বিমুখ হয় এবং ব্রিটিশদের থেকে দূরে সরে যায় তাই প্রধান পদগুলোত�� হিন্দুরাই অধিষ্ঠিত ছিল। তবুও কি মুসলিমরা কলকাতা কিংবা আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে বসবাস করেনি? তাদের ইতিহাসকে লেখক একেবারেই বাদ দেওয়ার কারণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়াটাও অসম্ভব নয়। এছাড়া হিন্দু কলেজকে সেকুলার বলে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও আদতে তা ছিল হিন্দুত্ববাদী প্রতিষ্ঠান, যা তাদের কর্মকণ্ডেই প্রকাশ পায়।
লেখক বইটি লিখতে কী পরিমাণ পরিশ্রম করেছেন তা বইটি পড়ামাত্রই পাঠক বুঝতে পারবেন। এছাড়া প্রতিটি বিষয় নিয়েই একাধিক চিত্রকর্ম রয়েছে ,যা তৎকালীন কলকাতাকে পাঠকের সামনে নিয়ে আসে। কলকাতা নগরীর হাসি কান্নার ইতিহাস গল্পচ্ছলে পড়তে চাইলে স্বাগতম। হ্যাপি রিডিং।
কলকাতা।দ্য সিটি অব জয়। ভাগীরথী তীরের অজ পাড়া গাঁ সুতানটী,গোবিন্দপুর আর কলকাতা সহস্রাব্দ বছর আগে কিভাবে কসমোপলিটান শহর "কলকাতা" হয়ে উঠলো তার সাত সতেরো নিয়েই শ্রীপান্থের ৫৬১পৃষ্ঠার বিশাল প্রবন্ধটি। বইয়ের নাম এবং প্রচ্ছদই যেন মনে করিয়ে দেয় হাজার বছরের সেই যাত্রা,উত্থান,পতন। পর্তুগিজ,আর্মেনিয়ান,ইংরেজ,তুর্কি,ফরাসি,ডাচ,ওলন্দাজ,মোঘল,ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি,হিন্দু জমিদার ইত্যাদি নানা হাতে পড়েই তৈরি হয়েছে সেদিনের কলকাতা।আদি থেকেই এটি বহুজাতিক সংস্কৃতিতে লালিত।ভারতীয় উপমহাদেশে কলকাতা এক গুরুত্বপূর্ণ শহর।ভারতীয় নবজাগরণের সূতিকাগৃহ এই কলকাতা।হাজারো দেশী,বিদেশী নানা ধর্মমতের মহারথীর বিভিন্ন কালজয়ী কর্মের সাক্ষী এই শহর।বিদেশীরা এই দেশ থেকে যেমন নিয়েছে তেমনি দিয়েছেও অঢেল।স্বীকার করতে না চাইলেও ইংরেজ,ফরাসি,পর্তুগিজ, আর্মেনিয়ান-দের হাত ধরে নতুন বিশ্ব দেখা এবং নবচেতনা জাগানোর অবদান ইতিহাস থেকে মুছে যাবে না। নলখাগড়ার বন,জঙ্গল থেকে আস্ত এক কসমোপলিটান শহর।লন্ডনের মত চকচকে রাস্তা,সাহেবপাড়া,রেল,ট্রাম,কলকারখানা,জীবন,জীবিকার হাজারো কাহিনী,ঐতিহাসিক অধ্যায় সে কি একদিনের কথা!!!! কলকাতা বইটি পড়তে গেলে মনে হবে সেই সহস্রকাল শুরুতে ফিরে গিয়ে ইতিহাস গড়তে গড়তে আজকের দিনে ফিরে এলাম।এমনই মোহাচ্ছন্ন সৃষ্টি। ❣
It is rare to see journalist writing a historical book on Kolkata (erstwhile Calcutta) or any City in the native language. This book is a great reading, though partially story and partially history (with plenty of references), the narration is superb to say the least.
The book may be a reference for those who still love Kolkata and want to know its past, how it was built and how the city evolved through ages. Kolkata is not an ancient city, but developed from a very small group of villages (three to be precise) by the Britishers and its dwellers. How very ordinary but cunning and articulative people became zamindars (landlords) and made unimaginable fortune and via-a-vis were show-offs and wasted extremely large amount of money on family occasions. For rest refer the book please....
A well recommended book for everyone who lives in Kolkata and loves the city.
কিছু জায়গায় কল্পনা-সত্যের মাঝের সূক্ষ্ম বেড়াটা আমার মোটা মাথা আর ছোটবেলাকার ইতিহাস-নিরাসক্তিগুনে অপরিপক্ক মগজে ভালোভাবে ধরা দেয়নাই। এখন আমার মাঝে সে নিরাসক্তি নাই - বিশেষত সেটা নাই বলেই প্রাচীন কথার তৃষ্ণা লাগে সময়ে সময়ে। আর বাঙালি হয়ে যদি কলিকাতার ইতিহাস না জানি তাহলে লজ্জার ব্যপার চলে আসে, তাই প্রথম পাঠ - এই বই। বইটা ঠিক 'বাইরের মানুষের জন্য কলকাতার ইতিহাস' নয়। পড়ে পড়ে বারবার মনে হয়েছে এখানা হল কলকাতার বর্তমান বাসিন্দাদেরকে ইংরেজ যুগে ইংরেজেরা এদেশে কী কী করতো, আর সাথে সাথে দেশের কিছু কথা কথায় কথায় বলে দেয়া।
এর মানে এটা কখনোই নয় যে এই বইতে কলিকাতা নিয়ে কিছু জানা যায়নাই। প্রতিবেশী দেশের এই আত্নীয়পাড়া নিয়ে আমি যতখানি জানি তার পাঁচভাগের দুইভাগই এই বইখানার আশীর্বাদ।
শ্রীপান্থের লেখা ঠিক ইতিহাস নয়, ইতিহাসাশ্রয়ী গল্প, তাই বলে একবারের জন্যেও তিনি ইতিহাস বিকৃত করেন না। নিখুত তথ্যে রসস্থ করে তুলতে পারেন লেখা। কলকাতার ওপর যতগুলি প্রবন্ধ আছে তার সবই অসম্ভব পরিশ্রম ও পড়াশোনার ফসল। আড্ডার মেজাজে কলকাতার ইতিহাসচর্চার পথিকৃত কি শ্রীপান্থ বা নিখিল সরকারকে বলা যাবে? ইতিহাসবিদ তো অনেকেই আছেন, নীরস তথ্যের সমাহারে বই ভরিয়ে তোলেন। এখানেই শ্রীপান্থ আলাদা। এখানেই আলাদা তাঁর আকরগ্রন্থ কলকাতা।
কলকাতা যেন আমার স্বপ্নের শহর। ফেলুদা, ব্যোমকেশ, সত্যজিৎ-সৌমিত্র-উত্তম, হাওড়া, মেমসাহেব,পার্ক্সস্ট্রীট কখনো চর্মচক্ষে না দেখলেও কলকাতা যেন আমার। ছেলেবেলা থেকেই ঘরকুনো আমি জানি কলকাতা আমি যাবোই। কলকাতার প্রতি সে অমোঘ আকর্ষণ থেকেই শ্রীপান্থের কলকাতা হাতে তুলে নেওয়া। এ যেন জাদুর কালিতে লেখা চিরযৌবনা কলকাতার রহস্যময়তার গাঁথা। কলকাতা প্রেমীদের কাছে এই বই যেন এক ফালি চাঁদের কণা। কলকাতা যেন এক অনন্ত ব্লাকহোল যার কোলে মিশে একাকার হয়ে গেছে অগুনতি চেতনা।
আশ্চর্য সুন্দর; তথ্যবহুল, অথচ কী দারুণ শিল্পমান সমৃদ্ধ একটি বই! রিসার্চ ওয়ার্ক দেখে মনে হয়, এরকম একটি বই লিখতে কোনো একজন লেখকের জীবনকাল পেরিয়ে গেলেও অবাক হবার অবকাশ থাকবে না। শ্রীপান্থ বাংলাদেশে থাকলে, ঢাকা নিয়েও এমন বই লেখা যেত। ভবিষ্যতে কেউ হয়তো ভালো কিছু লিখেও ফেলবে, কিন্তু আফসোস, সেটা শ্রীপান্থের লেখা হবে না। এই বই এদেশে যারা পড়েছে, আমি নিশ্চিত, আফসোসটা আমৃত্যু তাদের বয়ে বেড়াতে হবে।
শ্রীপান্থের লেখায় জাদু আছে। "কলকাতা" কোনো খটমটে ইতিহাস বই নয়, জাদুর শব্দে লেখা জাদুর এক উপাখ্যান। লেখক এই বই লিখতে যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছেন তা বই হাতে নিলেই বোঝা যায়। তাঁকে ধন্যবাদ!
There are a plethora of books written on Kolkata, dealing with every aspect of it. Be its history, architecture, cuisines you name it, there is a book. What those books do best is to illustrate that aspect of the city but what we must remember is that Calcutta/ Kolkata has always been about its people. Its inhabitants and the multitude of people that enters its borders every day has always shaped the future of the city and this is where this book shines.
Written in simple Bengali citing sources it takes you on a journey about the people that had or does inhabit it. Right from where the word 'cheeni' originates to the 1st Russian gentleman that had once called Calcutta his home, it has its all. Divided into small chapters which have now been made famous by many authors, this book never feels a stretch. You can pick up, read a chapter, gain a little laugh a little and put it down to pick up days later.
A must-have for anyone who loves the city and wants to know what it is. Readers of Manu Pillai or the Late RV Smith, you will feel right at home.