খাঁচার ভেতর আটকে রাখা মানুষদের মধ্যে সবার অগোচরে জেগে আছে এক সুলতান। এদিকে সাহেলি রাজ্যের মানচিত্র থলেতে ঝুলিয়ে ঘোড়ায় ছুটছে এক ছদ্মবেশী। কিংবা রাজ্যজুড়ে নেমে আসা শোকের মাতমকে আনন্দ উৎসবে পাল্টে দেয়ার ছলে একটা ভয়ঙ্কর সত্য লুকোতে চান উজির।
আকাবাঁকা পাহাড়ি পথের মতো গল্প যখন ছুটছে বিভিন্ন দিকে, তখনই মঞ্চে উপস্থিত নতুন চরিত্র। কিন্তু সেকি! একে তো আপনারা চেনেন। চেনা চরিত্র হাজির হয়েছে ভিন্ন রূপে। তেমনিভাবে পরিচিত রাজ্য পাল্টে যেতে শুরু করবে দ্রুতই। ইতিহাস, মানচিত্র কিংবা বানোয়াট গল্প, সব কিছুর দোদুল্যমান পেন্ডুলামে আটকে যেতে হবে বারবার।
ইতিহাস থেকে মুছে যাওয়া এক সালতানাতের গল্প- উজিরে আজম।
Hasan Enam, a university student, first started writing in a magazine. But gradually his writing changed and he turned his attention to publishing his own books. 'Dhakay Fagun', a dense fiction about the history of Dhaka, makes Hasan Enam a new acquaintance among the readers. However, he came out of these people the next year and wrote the novel 'Jaltaranga'.
The tendency to introspect is evident in his writings. Hasan Enam will throw himself into more debauchery in upcoming projects.
ভেবেছিলাম খুব জমজমাট একটা গল্প পড়বো। লেখক প্রথমদিকে রাজনীতির বিভিন্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক ও জনগণকে বশে রাখার মনস্তত্ত্ব বেশ দক্ষতার সাথে নিয়ে এসেছেন গল্পে। কিন্তু পরবর্তীতে কাহিনি জুড়ে কাকতালীয় ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি। কিছু অংশ জোর করে মেলানো হয়েছে। সবকিছু ঘটে যায় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। শেষ অংশটা একেবারেই ভালো লাগলো না।
হাসান ইনাম এর 'ঢাকায় ফাগুন' পড়ে তার লিখনশৈলীর যতোটা ভক্ত হয়েছিলাম, এটাতে যেন তার ছিটেফোঁটাও নাই। ওটাতে প্লট শেষের দিকে গুবলেট হয়ে গেলেও পুরো বই জুড়ে চমৎকার জার্নি ছিলো, আর এটা পুরোই দায়সারা গোছের একটা লেখা হয়েছে। ক্লিশে প্লটের আড়ালে মেটাফোর আছে, তবে সে মেটাফোর বিশেষ কোন ভ্যালু অ্যাড করতে পারেনি। এছাড়া অসংখ্য বানান ভুল ও বাক্যে সম্পাদনার ঘাটতি লক্ষণীয়। এত দায়সারা বইটা পড়ে যারপরনাই হতাশ হয়েছি।
এবছরের মেলায় প্রকাশিত যে বইটি প্রথম কেনা হলো এবং পড়াও হলো তার নাম 'উজিরে আজম'। পকেট সাইজের (ঠিক পকেট সাইজও না, হাতে করে কিংবা ব্যাগে নিয়ে ঘুরতে সুবিধে হওয়াতে এই নাম দিলাম) এই বইখানা দু'টো টিউশনের ফাকে পড়ে শেষ করেছি। ১১২ পেজের ছোট্ট ছিমছাম বই।
এই উপন্যাসিকাতে দেখা পাবেন 'সাহেলি সালতানাত' এর যা গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি নগররাজ্য নিয়ে। বিশাল এই সালতানাতের সুনাম তাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে। সুলতান আবু সাহেল তার শাসনকালে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে দূরে থেকে সবসময়ই চেষ্টা করেছেন রাজ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠার। শান্তির এই মিথ্যে পর্দার পেছনে জমাট বাধতে থাকা চক্রান্তের গল্পই উজিরে আজম।
কিছু জিনিস যা চোখ এড়িয়ে যাওয়া কঠিন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রিন্টিংজনিত ভুল। এবং পুরো বইজুড়ে এমন প্রিন্টিং এবং বানানের ভুল অনেক। তাছাড়া কিছু জায়গায় শব্দচয়নেও মনে হয়েছে আরেকটু সচেতন হওয়া যেতো।
'উজিরে আজম' কে আমি বরং বলবো এসমাজের বর্তমান অবস্থারই গল্প যা লেখক লিখে গেছেন প্রাচীন এক সালতানাতের নামের আড়ালে। সমাজের শীর্ষস্থানে বসে থাকা ব্যক্তিরাও কি সুলতান আবু সাহেলের মতোই মিথ্যের ধোয়াশার চাদর আবৃত নয়? যোগ্য রাজার টুপি পরে বসে থাকা এই ব্যক্তিরা কি কখনো টের পান ঠিক কতোটা অযোগ্য তারা?
সবকিছু মিলিয়ে স্বল্প পরিসরের এই লেখায় লেখক ষড়যন্ত্র, রোমাঞ্চ, বিশ্বাসঘাতকতা এবং জয়-পরাজয়ের গল্প তুলে ধরেছেন চমৎকারভাবে। তাই একে সুখপাঠ্যের তালিকাতেই যুক্ত করতে হয়।
উপন্যাসিকাটি একটি সালতানাতকে ঘিরে যেখানে হিংসা, প্রতিহিংসা, লোভ-লালসা, ক্ষমতা ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটেছে। ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে অতি সাধারণ ঘটনাপ্রবাহ অসাধারণ রূপে ধরা দেয় এই গল্পে।
গল্পের টুইস্টের কথা যদি ধরি তবে বলবো যারা UNO খেলেছেন তারা ভালভাবে রিলেট করতে পারবেন যে আপনি গল্প পড়ছেন নিজের মতো করে সাজিয়ে এগোচ্ছেন। গল্পের শব্দবিন্যাস আপনাকে একদিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে হঠাৎ UNO 'র মত রিভার্স কার্ড খেয়ে যাবেন। যা পড়েছেন ভুলে যান ; নতুন ষড়যন্ত্র সামনে আছে। এমন রিভার্স কার্ড আপনি পাবেন তিনটি জায়গায়।
ছোট কলেবরের গল্পে চরিত্র উপস্থাপন, পটভূমি বর্ণনা, যুক্তি প্রদান এবং খন্ডন সবশেষে অর্থবহুল পরিসমাপ্তি এসব খুব চ্যালেঞ্জিং। যেটা লেখক খুব ভালভাবেই মোকাবিলা করে গেছেন।
সর্বপরি নতুন ধারায় এই লেখায় প্রতিবারের ন্যায় লেখক একটি গূঢ় বার্তা দিয়ে গেছেন যার পাঠোদ্ধারের কাজ পাঠকের। আমি সেই বিষয়ে বলছি না। বার্তাটি না হয় গল্পটি পড়ে আপনিই অনুধাবন করবেন 🌼
বর্তমানের একজন তরুণ লেখক হাসান ইনামের এবারের মেলায় আসা বই উজিরে আজম পড়লাম। আজকের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। (আশা করি আমার বোঝা ভুল হয় নি।) কেননা এত রূপক, এত চিহ্ন সারা উপন্যাসে ছিল যে বিশ্বাস না করে উপায় নেই।
গল্পের ধারণা দিতে গেলে বলতে হয় সাহেলি রাজ্যের ভিতরের রাজনৈতিক সংঘর্ষ। 'ইতিহাস, মানচিত্র কিংবা বানোয়াট গল্প সব কিছুর দোদুল্যমান পেন্ডুলামে আটকে যেতে হবে বারবার।' এছাড়া বেশি কিছু বলতে গেলে লোকে বলবে স্পয়লার। কারণ গল্পটা ছোট পরিসরে বৃহৎ কলেবরের।
ক্রীতদাসের হাসির মতো কিছু বই যুগের দাবিতে আমাদের কাছে আসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই বইটাও ক্রীতদাসের হাসির মতো ক্লাসিক একটি বই হবে। সেখানেও যেমন তখনকার স্বৈরাচারী শাসনের একটি চিত্র রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এখানেও ফিকশন বাস্তবতা মিলে একটি নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করেছেন লেখক। মজার একটা জিনিস খেয়াল করলাম যে, প্রতিটা চাপ্টারের সমাপ্তিগুলো দারুণ। কখনো টুইস্ট, কখনো স্যাটায়ার ছিল। এছাড়া সুলতানের ইমোশনটা পাঠক খুব ভালো ক্যাচ করতে পারবে। বন্দি অবস্থায় সুলতান ভাবে আমি মুক্ত হলে দেশে দাসপ্রথা থাকবে না এরকম।
দুঃখের বিষয় বইয়ে প্রচুর ভুল। বানান না, তবে লাইনে- যেমন 'আমি'র জায়গায় 'আপনি', কিংবা যেখানে 'না' লেখা থাকবে সেখানে তা নেই। তাই পড়ার সময় বিভ্রান্ত হতে হয়েছে।
৪.৫/৫ ফ্ল্যাপের লেখায় 'উজিরে আজম'কে ইতিহাস থেকে মুছে যাওয়া এক সালতানাতের গল্প বলা হলেও আসলে উজিরে আজম কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাস না। আমি মনে করি, এই নভেলাটা একটা Political Allegory। যেখানে কাল্পনিক এক রাজ্যের বর্ণনার আড়ালে উন্মোচিত করা হয়েছে নোংরা রাজনীতির মুখোশ।
আমাদের চোখের সামনে যা ঘটে, যা দেখা যায়; সবকিছুই কি সত্যি? সবকিছুই বাস্তব? বোধহয় না। কিছু ক্ষেত্রে চোখের সামনে এমন কিছু দেখতে পাওয়া যায়, যায় পেছনের গল্প অন্যরকম। আমাদের যা দেখানো হয়, তা-ই আমরা দেখি। আশেপাশের গল্পগুলো দেখার চেষ্টা করি না।
একটি সালতানাত! দেখে মনে হয়, এরচেয়ে সুখে হয়তো থাকা যায় না। কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ নেই। শান্তি আর শান্তি। কিন্তু শান্তি যে বেশিক্ষণ থাকে না। কারণ রাজা হুট করেই নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছে। একটি চিরকুট রেখে চলে গিয়েছে তীর্থ যাত্রায়। কাউকে কিছু না বলে যাওয়া যেন রহস্যের জন্ম দেয়। কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এভাবে কেন চলে গেল রাজা? একটি চিঠি যে রেখে গিয়েছে, তাতে বর্তমান উজিরে আজমকে দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উজিরে আজম মসনদে বসেছেন। একদিকে বন্ধুর প্রতি চিন্তা, আরেকদিকে প্রজাদের মনের মধ্যে দ্বিধা। কেউ বুঝছে না আসলে কী ঘটছে। ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়াও অমূলক নয়। শেষে প্রশ্ন একটাই, রাজা কোথায় হারালো? কেনই বা কাউকে না বলে এই নিভৃতচারণ?
একটি ব্যবসায়ীর দল এসেছে সালতানাতে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা খুঁজে পাওয়া। সবাই চলে গেলেও থেকে যায় আমাদের গল্পকথক। রাজার অন্তর্ধানে যে রহস্যের জট, এর শেষ দেখার প্রত্যয় তার। এখানে আছে এক ষড়যন্ত্রের গল্প। ছে রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা। আছে সব হারিয়ে, আবার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা। রাজা, রাজ্য, ক্ষমতা— সবকিছুর পেছনে কেউ না কেউ থাকে, যা উন্মুক্ত হয় শেষে। এই গল্পের সেটা কেমন হবে?
হাসান ইনামের “উজিরে আজম” বইটি খুবই ছোট্ট একটি বই। ছোট্ট বই সম্পর্কে বেশি কিছু বললে স্পয়লার হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই বেশি কিছু বলব না। লেখক বইতে যে সালতানাত সম্পর্কে বলেছেন, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। লেখক এখানে দারুণ কাজ দেখিয়েছেন। লেখকের লেখা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ থাকে না। অত্যন্ত সাবলীল লেখা, দ্রুতগতির লেখনশৈলী। পড়তে আরাম লাগে। আর এখানে লেখকের সফলতা।
কাল্পনিক এক রাজ্য নিয়ে লেখক যেভাবে গল্পের গতি প্রকৃতি রচনা করেছেন, এক কথায় দারুণ। রাজ্য গঠন, রাজনৈতিক সংঘাত, ষড়যন্ত্রের পূর্বকথা — সবকিছু পরিমিতভাবে ছিল। রহস্যের গাঁথুনি পুরো বই জুড়ে বজায় রাখতে পেরেছিলেন লেখক। প্রতিটি ঘটনার পিছনের ইতিহাস, এর সূত্রপাত, পরবর্তী কর্মকাণ্ড রচনায় লেখক নিখুঁত কাজ করেছেন। খুব যে ত্রুটি ছিল, তেমন না।
তবে এ জাতীয় বইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশাল কলেবর আর বিস্তারিত কোনো উপন্যাস প্রত্যাশা করি। উপন্যাসিকা হিসেবে বইটি বেশ ভালো, কিন্তু লেখক যে রাজ্য গঠন করেছেন; এমন এক লেখা বিশাল কলেবরে এলে আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারত। ছোটো পরিসরে লেখক চরিত্রগুলো নিয়ে দারুণ কাজ করেছেন। বিস্তারিত উপন্যাস হলে আরও কাজ করা যেত হয়তো। কিছু ক্ষেত্রে বর্ণনা সংক্ষিপ্ত হয়েছে। সংলাপের কারুকাজ, কিংবা গল্পের গাঁথুনি আরও বেশি মন মতো হতে পারত। খুব দ্রুত যেন শেষ হয়ে গেল। তবে উপন্যাসিকা হিসেবে বইটিকে খারাপ বলার উপায় নেই।
তবে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয়— বইয়ের এক জায়গায় লেখা আছে রাজা লিখতে জানে না, তাহলে চিরকুট কী করে লিখল। এই বিষয়টা খচখচ করছে। তাছাড়া কিছু সম্পাদনার ত্রুটি আর বানান ভুল ছিল। এগুলো হয়তো ঠিক করা যেত। কী/কি এর ব্যবহারে ভুল ছিল। ছোটো একটা বইয়ের ক্ষেত্রে ভুলের আধিক্য বেশি হলে ঠিক পছন্দ হয় না।
#বই_রিভিউ বই: উজিরে আজম লেখক : হাসান ইনাম প্রচ্ছদ: আবদুর রহমান রাফি পৃষ্ঠা: ১১২ মুদ্রিত মূল্য: ২২০৳
#ফ্ল্যাপে_লিখা_কথা : খাঁচার ভেতর আটকে রাখা মানুষদের মধ্যে সবার অগোচরে জেগে আছে এক সুলতান। এদিকে সাহেলি রাজ্যের মানচিত্র থলেতে ঝুলিয়ে ঘোড়ায় ছুটছে এক ছদ্মবেশী। কিংবা রাজ্যজুড়ে নেমে আসা শোকের মাতমকে আনন্দ উৎসবে পাল্টে দেয়ার ছলে একটা ভয়ঙ্কর সত্য লুকোতে চান উজির। আকাবাঁকা পাহাড়ি পথের মতো গল্প যখন ছুটছে বিভিন্ন দিকে, তখনই মঞ্চে উপস্থিত নতুন চরিত্র। কিন্তু সেকি! একে তো আপনারা চেনেন। চেনা চরিত্র হাজির হয়েছে ভিন্ন রূপে। তেমনিভাবে পরিচিত রাজ্য পাল্টে যেতে শুরু করবে দ্রুতই। ইতিহাস, মানচিত্র কিংবা বানোয়াট গল্প, সব কিছুর দোদুল্যমান পেন্ডুলামে আটকে যেতে হবে বারবার। ইতিহাস থেকে মুছে যাওয়া এক সালতানাতের গল্প- উজিরে আজম।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া **সাহেলি রাজ্যের সুলতান রাতারাতি লাপাত্তা হওয়া, জনমনে প্রশ্ন, উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া এবং এইদিকে উজিরে আজম রাজ্যজুড়ে এলাহি আয়োজন করে প্রজাদের খাওয়ানো এবং আনন্দের আয়োজন করা। থিম টা দারুণ ।
গল্পটি একটি সালতানাতকে ঘিরে যেখানে হিংসা, প্রতিহিংসা, লোভ-লালসা, ক্ষমতা ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটেছে। সাহেলি রাজ্যের সুলতান রাতারাতি লাপাত্তা হওয়া, জনমনে প্রশ্ন, উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া এবং এইদিকে উজিরে আজম রাজ্যজুড়ে এলাহি আয়োজন করে প্রজাদের খাওয়ানো এবং আনন্দের আয়োজন করা। থিম টা দারুণ । অতি সাধারণ ঘটনা অসাধারণ রূপে ধরা দিয়েছে এই গল্পে। শেষের দিকের রোমান্টিক ঘরানার দৃশ্য সুন্দর সমাপ্তি দিয়েছে।
বইমেলা থেকে টুকটাক বই কিনা হলেও কখনোই কোনো বই প্রকাশের পরপরই কিনে পড়া হয়নি। এবারের বই মেলায় আসা "উজিরে আজম" বইটা বন্ধুর কল্যাণে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম প্রকাশের অল্প ক'দিন পরেই।
গল্পটা শান্তিপ্রিয় সাহেলি সালতানাতের যা গড়ে উঠেছে বেশ কতগুলো নগররাজ্যকে নিয়ে। এই রাজ্যের সীমানা কতটুক তা খোদ রাজাও জানে না। আবার গল্পটা সালতানাত সুলতান আবু সাহেল কিংবা তার উজিরে আজমের, যার আসল নাম হারিয়ে গেছে "উজিরে আজম" উপাধির নিচে। কিন্তু উপর থেকে যা শান্তিপ্রিয় তা কি আসলেই শান্তিপ্রিয়? নাকি সমুদ্রের মতো লুকিয়ে রেখেছে কোনো অভিসন্ধি?
প্রথমবার পড়ে দেখলাম হাসান ইনামের লিখা। এর আগে তার লিখা "ঢাকায় ফাগুন" বইটা পড়ার অনেক তোড়জোড় করলেও কোনো না কোনো কারণে বইটা আমার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। বন্ধু বইটা দেয়ার সময় বলেছিল লেখকের লেখনী ভালো। তার এই কথার সাথে সহমত। লেখকের লেখনী-প্লট দুটোই ভালো ছিল। ক্রাউন সাইজের বইটায় তিনি টুইস্টের মধ্যে টুইস্ট রাখার চেষ্টা করেছেন। যার কারণে নভেলা হলেও অতৃপ্তি থাকেনি। কিন্তু কিছু অধ্যায় তিনি যেভাবে শেষ করেছেন তাতে মনে হয়েছে তার লিখার হাত এখনো পটু হয়নি। অধ্যায়গুলোর সমাপ্তি আরেকটু আগ্রহ জাগানোর মতো হলে ভালো হতো৷ এসব অধ্যায় শেষে প্রশ্নবোধকগুলো না থাকলে সমাপ্তিটা আরেকটু আকর্ষক হতো। আবার অনেকগুলো অধ্যায় বেশ সুন্দরভাবে সমাপ্তি টেনেছেন যার জন্য পরের অধ্যায়ে কি আছে জানতে আগ্রহ জেগেছে। তবে হ্যাঁ, বলতে দ্বিধা নেই, লেখক যেভাবে চমকের মাঝে চমক রেখেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বইয়ের আর একটা বিষয় খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। তা হল প্রিন্টিং মিসটেক। কিছু জায়গায় একই শব্দ দুবার চলে এসেছে তো কিছু জায়গায় শব্দই গায়েব হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া কিছু জায়গায় লেখকের শব্দ চয়ন আরেকটু ভালো হতে পারতো। যেমন -এক জায়গায় লিখেছেন "সুলতান ঠুস করে পড়ে গেলেন"। ঠুস করে শব্দটা বাদ দিলে হয়তো বাক্যটা আরেকটু ভালো হতো।
তবে সবমিলিয়ে ছোট পরিসরে একটা দারুণ বই (প্রিন্টিং মিসটেকগুলো উপেক্ষা করলে।)
হাসান এ��ামের নতুন এই বইটার মেটাফোর যদি পাঠক ধরতে পারেন তবে আসল মজাটা পাবেন।মেটাফোর না ধরতে পারলেও পাঠক নিরাশ হবেন না বলে আমার মতামত। এনামের কলম আরো ধারালো হোক।
উজিরে আজম একটি সালতানাতের গল্প। তবে, ঐতিহাসিক কোনো উপন্যাস না, থ্রিলারই।
যতোটুকু সময় উপন্যাসটি পড়েছি, আনন্দ পেয়েছি। পাঠক হিসেবে এতোটুকুই তো যথেষ্ট, নাকি? তারপরও উপরি পাওনা হিসেবে স্যাটায়ারগুলো ধরতে পারলে রস নেয়া যাবে আরও কিছু।
উজিরে আজম এক কাল্পনিক সালতানাতের গল্প। যেখানে আছে লোভ, হিংসা আর ক্ষমতার জন্য লড়াই। রাজনৈতিক দাবাখেলার এই আখ্যানকে ঘিরেই বেড়ে উঠেছে গল্প, কাল্পনিক যে গল্প সূক্ষ্মভাবে ইঙ্গিত করে অন্য কোনো বাস্তব ঘটনাকে।
ঝরঝরে লেখা আর দারুণ মেটাফোরের ব্যবহার ছোটো কলেবরের এই উপন্যাসটিকে সুখপাঠ্য করেছে।
লেখক এর গল্প বলার চিন্তা, চেতনা ও প্রচেষ্টা যথেষ্ট সুঠম তা স্বীকার করতেই হয়। তবে... ভাষার ব্যবহার, গল্পের গতিধারা, চরিত্রের গঠন ও গভীরতা, আরো সবকিছুতেই অপূর্ণতার ছাপ। তার উপর প্রতি পৃষ্ঠায় প্রতি প্যারায় প্রকাশকের অবহেলার ফসল হিসেবে বানান ভুল, ব্যাকরণ ভুল, সহ্য করে বইটি শেষ করতে নিতান্তই কষ্ট হয়েছে। একমাত্র প্লটের ক্ষীণ জোরসত্বেও পাঠককে ধরে রাখতে পারার ভালো উদাহরণ ছিলো এবইটি।
লেখনশৈলী খুবই ভালো লেগেছে। যার কারণে ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে বাসে বসেই বইটা শেষ করে ফেলা সম্ভব হয়েছে।
সুখপাঠ্য ঠিক বলতে পারছি না। শুরুর দিকে প্লট বেশ জাকজমকপূর্ণ হ'লেও শেষে খাপছাড়া লাগলো। বিরক্ত হয়েছি, প্রুফিং এবং এডিটিংয়ের খামখেয়ালি দেখে। এতে যদিও লেখকের হাত নেই, সবটাই প্রকাশনীর।
গল্পটা ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যাওয়া এক সালতানাতের । অন্য সব সাম্রাজ্যের চেয়ে সাহেলি সালতানাত একদমই আলাদা । এই রাজ্যের সুলতান আবু সাহেল কোন রাজ্যের সাথে যুদ্ধে যায়ে না। সাধারণ জনগণ শান্তিতে বসবাস করে। তাই এই সালতানাতের সবাই বেশ সুখী । সাহেলি সালতানাতকে এই পর্যায় যে নিয়ে এসেছে সে এক উজির – উজিরে আজম।
হঠাৎ শান্তিপূর্ণ নগরীতে একদিন নেমে আসে আকস্মিক বিপদ । সাহেলির জনপ্রিয় সুলতান আবু সাহেলকে খাঁচায় বন্দি করা হয় এবং এর পরেই সামনে আসে কিছু চেনা অচেনা মুখ ও সাহেলির আসল রহস্য । কাহিনী আর লেখনী দুটোই এভারেজ লেগেছে । শেষের অংশটুক আর ভালো হতে পারত । তবে ১১২ পৃষ্ঠার বইতে প্রতি পাতায় অন্তত দুইটা বানান ভুল পেয়েছি । যদিও রেটিং এর সাথে এটার কোন সম্পর্ক নেই। নতুন রিডার হলে পড়ে দেখতে পারেন।
❛সালতানা-এ-সাহেলি❜ এক শান্তির সালতানাত। ❛যু দ্ধ নয় শান্তি চাই❜ বাণীতে এ রাজ্যের সুলতান যুদ্ধ বিগ্রহ এড়িয়ে রাজ্য শাসন করছেন। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছে উজিরে আজম। সাহেলি রাজ্যের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে সব খালি। হলো কী কেউ নেই নাকি এই রাজ্যে। চলতে চলতে লোকের দেখানো পথে সাহেলি রাজপ্রাসাদে পৌঁছে যায় কাফেলাটি। রাজ্যের একটাই মোটে সরাইখানা তাও নাকি সেটা রাজদরবারে! কাফেলা সেখানেই আশ্রয় নেয়। এরপর সাহেলি সুলতানের একদিন কী মনে হলো কাউকে না জানিয়ে তিনি চলে গেলেন মক্কায়। বলে গেলেন তার অনুপস্থিতিতে উজিরে আজমকেই সব সামলে নিতে! অদ্ভুত ব্যাপার না? হুট করে রাজা কেনই বা চলে যাবেন? খটকা লাগে কাফেলার একজনের। তাই সে রয়ে যায় এখানেই বাকি কাফেলাকে বিদায় দিয়ে। এদিকে ঘন জঙ্গলে রাজা জেগে উঠলেন। নাকি স্বপ্ন দেখছেন। চারদিকে সবুজ কেন! তিনি তো নিজের রাজদরবারে ছিলেন। চোখ খুলতেই এমন পরিবেশে নিজেকে আবিষ্কার করে অবাকই হলেন তিনি। এখন উপায়? বিপদে উপায় আপনা থেকেই দেখা যায়। শত কষ্ট করে তিনি এক রাজ্যে পৌঁছান। লোকে ফাতিমাবাদ বলে ডাকে একে। ছেঁড়া ফাটা কাপড় পরা কেউ যদি নিজেকে সাহেলির রাজা বলে দাবি করেন এ তো হাস্যকর লাগবেই। তাকে উ ন্মাদ ভাবাই স্বাভাবিক। হায় কপাল! একদিন আগেও যে ছিলেন সালতানাতের রাজা তিনিই কিনা আজ ফাতিমাবাদের এক ছোটো জায়গায় বন্দী দাস! আল্লাহর খেলা বোঝা দায়।
এদিকে উজির চিঠি পেয়েছেন সুলতান নাকি আর ফিরবেন না। এতক্ষণ উজিরকে সন্দেহ হলেও দেখা যাচ্ছে গভীর রাতে সুলতান কীভাবে উধাও হলো এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তাজ্জব ব্যাপার। আদতে বাইরে থেকে যা দেখা যায় তার পুরোটাই খোলস। আসল সত্য থাকে খোলসের ভেতরে। সাহেলিও তাই। তবে খোলসের সাথে ভেতরের পার্থক্য কতটুক?
কাফেলা বিদায় দিয়ে খটকা দূর করতে থেকে যাওয়া লোকটা ধীরে ধীরে উজিরে আজমের খাস লোক হয়ে যাচ্ছে। উজিরের তথা ভারপ্রাপ্ত সুলতানের কন্যাকে শিক্ষাদানের দায়িত্বে আছেন এখন। সাথে মজেছেন শাহজাদীর প্রেমেও! কিন্তু প্রেম জগতের বিশাল বড়ো ❛ডিস্ট্রাকশন❜! তার কোনো ভুল হলো?
এক কালের সুলতান দাস হিসেবে বিক্রি হয়ে গেলো। বিক্রি হয়ে দেখা হলো তারই রাজ্যের এক আমিরের সাথে। নিজের জীবনের নানা দিক চিন্তা করে সাহেলি রাজ অনুতপ্ত। যেভাবেই হোক রাজ্যে ফিরে নিজের ভুল শুধরে নিবেন। তবে পারবেন কি ফিরতে? এদিকে দৃশ্যপটে হাজির বহু পুরোনো এক পরিচিত মুখ। সিংহাসনের খেলা আর ন্যায় অন্যায়ের এই বাজিতে কিস্তিমাত করবে কোন উজির না রাজা?
গল্পের শেষের পাতাগুলো ঝুরঝুর করে পড়ে যাওয়ার আগে শেষ কথা জানা হবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝উজিরে আজম❞ হাসান ইনামের লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাসিকা। বেশ ছোটো আকারের মধ্যে ইতিহাসকে জায়গা করে দিতে কসরত করতে হয়। লেখকও করেছেন। প্রশ্ন সফল হলেন না বিফল?
আমার মতে ৬০-৪০%। গল্পটা শুরুতে বেশ রহস্যের সাথে এগোচ্ছিল। রহস্যের জাল খুলতে খুলতে আরেক ষড়যন্ত্রের জাল এসে যাচ্ছিল। এভাবে চলতে চলতে শেষটা কেমন সাদামাটা হলো। ঐতিহাসিক উপন্যাস মানেই রাজায় রাজায় যু দ্ধ হবে এমন নয়। র ক্ত পাত ছাড়াও করা যায়। উপন্যাসে লেখক সেটাই করেছেন অনেকগুলো রহস্যের সৃষ্টি করে। তার সমাধানও টেনেছেন।
তবে লেখক যেহেতু ভূমিকাতেই বলে দিয়েছেন চাইলে এক আরো বড় আকারে রূপ দেয়া যেত। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবেই দেন নি। বিধায় আরেকটু বড় হলে বেশি ভালো লাগতো এমনটা বলছি না। তবে শেষটা আরো সুসজ্জিত হতে পারত খাপছাড়া না হয়ে। সালতানাতের আসনে কে বসেন? True heir to the king বসলে ভালো নাকি যোগ্যতম কেউ? পরের কথায় কান না দিয়ে নিজের বুদ্ধিতে রাজ্য চালানোর জন্য দরকার বুদ্ধির।
উজিরে আজম হওয়ার পেছনে গল্প বা আরেক উজির হওয়ার পেছনে গোলো ভিন্ন হলেও কারণ এক বলা যায়। তাইতো এখানে কে রাজা কে উজির আর কে যোগ্য সুলতান সেটা দারুণভাবে বোঝা যায়।
পড়তে খারাপ লাগেনি।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
ডেমো প্রচ্ছদটা ভেবেই ভালো লেগেছিল এটা থেকে। বাতিঘরের এই বইটির প্রোডাকশন সুন্দর। কিন্তু বানামে প্রচুর ভুল। কী/ কি এর সমস্যা, আমি/আপনার/আপনাকে সমস্যা, ই/য় সমস্যা। বাক্য পুরো শেষ হয়েছে বাক্যের শেষ শব্দে সেটা বুঝা যায়নি অনেক ক্ষেত্রেই। সম্পাদনার বেশ ঘাটতি ছিল।
আমাদের জীবন রহস্য পছন্দ করে। রহস্যের মাঝে ঘুরে বেড়াতে চায় মন। চোখের সামনে যেটা দেখতে পাই আমরা সেটা কী আসলেই সত্যি? যে আজকে সাধু পুরুষ কাল যে সে বদমাইশ হয়ে যাবে না এমন নিশ্চয়তা বোধহয় দেয়া যায় না তাই না? তাই সাবধানে থাকতে হয়। রহস্য করে আর কত চলবে জীবনের ঘোর প্যাঁচ!
দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষে যদি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা হয় তাতে জীবন সংশয় থেকেই যায়। তাই সাবধান! খুব সাবধান! চোখ কান খোলা রাখতে হবে সবসময়।
একটি সালতানাত! দেখে মনে হয়, এরচেয়ে সুখে হয়তো থাকা যায় না। কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ নেই। শান্তি আর শান্তি। এখানকার সুলতান যুদ্ধ চান না। তিনি শুধু শান্তি চান। তাই এদেশের প্রজারাও সুলতানের উপর খুশি। দক্ষ হাতে রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব অবশ্য সুলতানের থেকে বেশি সামলান এই সালতানাতের উজিরে আজম।
এই উজিরে আজম একসময় সুলতানের বাবার জীবন বাঁচিয়েছিল। সেই থেকে এই দরবারে তিনি উজিরে আজম হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পিতার মৃত্যুর পর বর্তমান সুলতান যখন মসনদে বসেন তখন এই উজিরে আজম সব শিখিয়ে সুলতানকে আস্তে আস্তে তৈরি করতে থাকেন। সুলতান নিজেও পুরোপুরি উজিরে আজমের উপর নির্ভরশীল।
কিন্তু তাহলে হঠাৎ করেই একটা চিরকুট লিখে সুলতান কেন এভাবে নিখোঁজ হলেন? সেখানে লেখা তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন। যে সুলতান সারাক্ষণ মদ, মেয়েছেলে নিয়ে ফুর্তি করেন তিনি এত ধর্মপ্রাণ কবে থেকে হলেন বিষয়টি সন্দেহজনক নয়? উজিরে আজম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, কোথায় গেলেন সুলতান? তিনি সত্যিই কী মক্কা নগরীতে? নাকি কেউ তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে? খুঁজতে হবে, সুলতানকে অবশ্যই খুঁজতে হবে। উজিরে আজম কাজ শুরু করলেন।
একটি কাফেলার দল এসেছে সালতানাতে। সবাই চলে গেলেও থেকে যায় গল্পের গল্পকথক। কারণ সে সুলতানের অন্তর্ধানে যে রহস্যের জট, এর শেষ দেখার প্রত্যয় তাঁর। এখানে আছে এক ষড়যন্ত্রের গল্প। আছে রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা। আছে সব হারিয়ে, আবার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা। রাজা, রাজ্য, ক্ষমতা— সবকিছুর পেছনে কেউ না কেউ থাকে, যা উন্মুক্ত হয় শেষে।
ক্ষমতার লোভ নাকি অন্য কোনো ভয়ানক ফাঁদ? এই গল্পের ক্ষনে ক্ষনে বদলাতে পারে। চলুন এক সালতানাতের গল্প শুনি। যেখানে আছেন একজন উজিরে আজম।
অত্যন্ত সাবলীল লেখা, দ্রুতগতির লেখনশৈলী। হাসান ইনামের লেখা আসলেই বেশ ভালো লাগে এই কারনগুলোর জন্য। হাসান ইনামের লেখার সাথে সেই ঢাকায় ফাগুন থেকে পরিচয় এবং উজিরে আজম পড়েও তেমনি বেশ ভালো লাগলো। খুব দ্রুতগতির লেখা অথচ গল্পের খেই হারিয়ে যেতে দেয় না এটা ভালো লেগেছে।
কাল্পনিক এক রাজ্য নিয়ে লেখক যেভাবে গল্পের গতি প্রকৃতি রচনা করেছেন, সেটা ভালো লেগেছে বেশ। রাজ্য গঠন, রাজনৈতিক সংঘাত, ষড়যন্ত্রের পূর্বকথা — সবকিছু পরিমিতভাবে ছিল। রহস্যের গাঁথুনি পুরো বই জুড়ে বজায় রাখতে পেরেছিলেন লেখক। তিনি নিজেই নাকি কল্পনায় এই রাজ্য তৈরি করেছেন। অবশ্য শুরু থেকেই গল্পের বর্ণনায় চেষ্টা করেছেন ঐতিহাসিক ভাব বজায় রাখতে।
আরেকটু বড়সড় হলে অবশ্য আরও উপভোগ্য হত বলে আমার মনে হয়। কারণ ঐতিহাসিক স্টাইলের লেখাগুলোতে একটু ভারিক্কি গোছের সংলাপ ভিত্তিক লেখা হলে ভালো লাগে। ক্রাউন সাইজের বইটি যেন হুট করেই শেষ হয়ে গেল এমন লাগলো। আরেকটু আলোচনা কিংবা গল্পের বিস্তৃতি করা যেত তবুও মোটামুটি ভালো লেগেছে। ছোট্ট বইটি একটানা পড়তে পেরেছি দারুন দ্রুত গতির লেখার জন্য। লেখকের নতুন লেখার অপেক্ষায় রইলাম। আরো ভালো কিছু আসুক।
সালতানা-এ-সাহেলি, যে সালতানাত পূর্বের রাবাকু সাগর থেকে পশ্চিমের নাহারাফা মরুভূমি এবং উত্তরের নাজিনতা পর্বতমালা থেকে দক্ষিণে হাতিফা শহর অব্দি এগারটি নগর রাজ্য নিয়ে বিস্তৃত।
গল্পটা এই সালতানাতকে ঘিরেই, যে সালতানাতের মসনদে বসে আছেন সুলতান আবু আজমের ছোট পুত্র সুলতান আবু সাহেল। ভালোই রাজ্য পরিচালনা করছিলেন তিনি। উজিরে আজমকে সাথে নিয়ে যুদ্ধ নয়, শান্তি নীতিতে চারিদিকে শান্তির বাতাস বয়ে চলেছিলো রাজ্যময়।
তারপর একদিন এক বাণিজ্য কাফেলা আসলো সালতানাতে, তার কিছুদিন পরই এক গভীর রাতে সুলতান কাউকে না জানিয়ে রওনা দিলেন মক্কা নগরীতে হজ্বের আশায়। এদিকে এক চিঠির মাধ্যমে দায়িত্ব অর্পণ করে গেলেন ছোটো থেকে বড়ো করে তোলা অভিভাবক, বন্ধু উজিরে আজমকে।
এদিকে এক ভোরবেলা এক যুবক জেগে উঠেই দাবি করে বসলেন অদ্ভুত এক আবদার, যা বিশ্বাস করাও কষ্টকর। ওদিকে রাজপ্রাসাদের অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক মুসাফির, কী উদ্দেশ্য তার ঠিক বুঝা যাচ্ছে না।
সালতানাতকে ঘিরে রচিত হচ্ছে এক গোপন বিশাল ষড়যন্ত্রের জাল, যার ভিত গেঁথে রয়েছে অতীতের ঘটনায়। কী সেই অতীত, ষড়যন্ত্রই বা কী? জানতে হলে পাঠক পড়তে হবে 'উজির আজম' বইখানা।
'উজিরে আজম' হাসান ইনামের লেখা ১১২ পৃষ্ঠার ক্রাউন সাইজের বই, যা এক বসাতেই পড়ে ফেলা সম্ভব। লেখক এবার এক সুলতানের রাজ্য পরিচালনার রাজ ষড়ষন্ত্রের গল্প মলাট বন্দি করেছেন। যা প্রথম থেকে বেশ সাবলীল ভাবেই বর্ণনা করেছেন।
মেদহীন, সহজ সাবলীল বর্ণনায় গল্প খুব দ্রুতই এগিয়ে যাবে। গল্পের বিস্তারিত বর্ণনা, বিস্তৃত দেখে আমি প্রথম থেকেই ভাবছিলাম লেখক পারবেন তো ঠিক এই গতিতে সমাপ্তির শেষ আঁচড়টা দিতে। আমার মনে হয়েছে লেখক সেটা দিয়েছেন ঠিকই, তবে শেষটায় বেশ তাড়াহুড়োর ছাপ লক্ষণীয়।
বিশেষ করে সুলতান আবু সাহেলের সাথে মরুভূমিতে ভাইয়ের দেখা হওয়ার পরের অংশটা যেন হুট করেই টেনে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। গল্পের শুরু বর্ণনাটা যতটা বিস্ত��ত ছিলো একদম শেষদিকে এসে ঠিক ততটা বিস্তৃত ভাবে গল্প ধরে রাখতে পারেনি লেখক বরং মনে হয়েছে গল্পের যে সমাপ্তিটা টানা হয়েছে তা আরো বিস্তারিত, আর নাটকীয় হলেই বরং বেশি উপভোগ্য হতো।
তবুও এসব কিছু এড়িয়ে গেলে গল্পটা পাঠককে মুগ্ধ করবে, মুগ্ধ করবে লেখকের গল্প বর্ণনার পরিপূর্ণতার ছাপ দেখে। আর এতো ছোটো বই হওয়ায় শেষ করতেও সময় লাগবে না তেমন। বইটার প্রোডাকশন, প্রচ্ছদ বেশ ভালো। প্রথমদিকে বানান, টাইপিং মিস্টেক ভালোই ছিলো, কিন্তু পরে সেটা আর চোখে পড়েনি। সবমিলিয়ে গল্পটা উপভোগ্য ছিলো, রাজরাজড়াদের গল্প যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য বইটা ভালো নির্বাচন হতে পারে। তবে এখানে খুব বেশি টানটান উত্তেজনাকর কিছুই পাবেন না, বরং গল্পের অধিকাংশই কী ঘটতে চলেছে তা আগে অনুমান করে নিতে পারবেন।
উজিরে আজম লেখক: হাসান ইনাম প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পৃষ্ঠা: ১১২ - "অনিশ্চয়তাকে স্বীকার করে নিলেই তৈরী হয়ে যায় নিশ্চয়তা" পশ্চিমে নাহারাফা মরুভূমি, পূর্বে রাবাকু সাগর ও উত্তরে নাজিনতা পর্বত দ্বারা বেষ্টিত পাশাপাশি তিনটি রাজ্য সাহেলি, বাকিসা, ও হাতিফা। এর মাঝে সাহেলি সালতানাতকে ঘিরেই গল্প আবর্তিত হয়েছে। সাহেলির সুলতান আবু সাহেল, যার অধীনে ১১টি রাজ্য রয়েছে। আর তার একান্ত পরামর্শদাতা হলেন তার উজির, উজিরে আজম নামেই জিনি বেশি পরিচিত।
বইটি অনেকাংশেই রচিত হয়েছে তৃতীয় পুরুষে, অর্থাৎ আরেকজনের ভাষ্যে। আর এই গল্পকথক হলেন এক বানিজ্য কাফেলার সদস্য, যারা কিনা বানিজ্য করতে বের হয়ে ভাগ্যের ফেরে একসময় সাহেলিতে এসে আশ্রয় নেয়। একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে সুলতান মক্কায় গমন করেন। রেখে যান একটি চিরকুট, যাতে তার উজিরে আজমকে সালতানাতের ভার নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। সুলতানের এমন হঠাৎ করে গমনকে ভালোভাবে নিতে পারে না কেউ, সাধারণ মানুষ মুষড়ে পড়ে, রাজপ্রাসাদে দেখা দেয় অস্বস্তি, পাশের রাজ্যরা প্রস্তুতি নিতে থাকে দখলের। সুলতান কি আদৌ মক্কায় গিয়েছেন? নাকি কোনো ষড়যন্ত্রে পতিত হয়েছেন? আর তাহলে কেইবা করলো ষড়যন্ত্র? উজিরে আজমই বা কি করবেন এখন? সাহেলি সালতানাতেরই বা ভবিষ্যৎ কি?
ক্রাউন সাইজের বই, পেজসংখ্যা ১১২। রিভিউ এ বেশি কিছু খোলাসা করলে স্পয়েল হয়ে পারে। বেশ কিচুউ টুইস্ট আছে বইয়ের ক্লাইম্যাক্স এ। শেষের দিকে পড়ে মনে হলো খুব তাড়াতাড়ি, তাড়াহুড়া করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে গল্প, খুব সহজেই। এন্ডিংটা খানিকটা হেনরী রাইডার হ্যাগার্ড এর লেখনী হতে অনুপ্রেরণা প্রাপ্ত হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
বি:দ্র: বাতিঘরের মনেহয় প্রুফ রিডার নাই, প্রচন্ড বানান ভুল শব্দ ভুল, হয়তো বইমেলার জন্য তাড়াহুড়ায় হতে পারে, কিন্তু বিরক্তির কারণ হয়েছে এটি মাঝে মাঝেই। রেটিং: ৩/৫
অনেকদিন ধরেই হাসান ইনামের লেখা পড়ার ইচ্ছা ছিল। এই বইমেলায় প্রকাশিত 'উজিরে আজম' বই দিয়ে শুরু করলাম। বই ক্রাউন সাইজের হওয়ায় পড়ে আরাম পেয়েছি। গল্পটা সাহেলি রাজ্যের। যে রাজ্যে সর্বদা সুখ শান্তি বিরাজ করে। নেই কোনো যুদ্ধবিগ্রহ। কিন্তু এই শান্তির আড়ালে কোন মিথ্যার জাল বোনা নেই তো? প্রজারা সুলতান কে যেভাবে জানে সে কি ওরকমই নাকি শান্তির মুখোশ পরা? এরপর হঠাৎ একরাতে সুলতান প্রাসাদ থেকে গায়েব হয়ে যায়। শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। গল্প এখান থেকে আগাতে থাকে। গল্পে সুলতানের অনুভূতি,মানসিক অবস্থার সাথে সংযোগ করতে পারছিলাম।আর গল্পের টুইস্টগুলো ভালো ছিল।এক লাইনে বললে গল্পটা খুব ভালোও লাগে নি আবার খারাপ ও না। খারাপ দিক গুলোর মধ্যে এক চ্যাপ্টার পড়ে পরের চ্যাপ্টার শুরু করার আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। কিছু চ্যাপ্টার বিশেষ করে গল্পের শেষটা ভালো লাগে নি। বেশ কিছু সংলাপের কাঠামো দৃষ্টিকটু ছিল। আর প্রচুর বানান আর প্রিন্টিং ভুল ছিল যা চোখ এড়িয়ে যায় নি।
ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও এক কাল্পনিক রাজ্যের উথান পতনের গল্প 'উজিরে আজম '।
একদমই ছোট পরিসরে ঐতিহাসিক জায়গা থেকে গল্প বলতে গেলে বিভিন্ন ধরণের জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু এখানে লেখক সেসব জটিলতা এড়িয়ে যেতে সরলরৈখিক গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। যেটা প্রচন্ড রোমাঞ্চ এনে না দিলেও, গল্পকে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য 'ইমেজ' তৈরি করতে কাজ করেছে।
** Telling a story from a historical background on a very small scale can create various complications. But here the author tries to tell a linear story to avoid those complications. While that didn't provide much thrill, it served to create a short-lived 'image' of the story.
লেখকের অন্য দুটি বই পড়ে যেই লেভেলের মুগ্ধ হয়েছিলাম, এই লিখাটা পড়ে ঠিক ততটুকুই হতাশ হয়েছি। গল্পের শুরু টা ভালো হলেও মাঝে দিয়ে ও শেষের দিকে গুবলেট হয়ে গেছে। দায়সারা টাইপের লিখনি মনে হয়েছে। "প্রকাশনীতে লিখা জমা দিতে হবে তাই লিখা" টাইপের বই মনে হয়েছে, আশা করি লেখক আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে লিখবেন, আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।