Moti Nandi was a sports journalist and worked as a sports editor in Anandabazar Patrika. He was awarded the Lifetime Achievement award (2008) at a glittering ceremony to mark the grand finale of the maiden edition of the Excellence in Journalism Awards.
In his novels, he is noted for his depiction of sporting events and many of his protagonists are sports-persons. His first short story was published in Desh weekly on 1957. His story for Pujabarshiki was in Parichoy Magazine on 1985.
"পুরনো দিনের কথা ভেবে লাভ নেই। যা ফিরে আসবে না তার জন্য হায় হায় করা বৃথা। বরং আবার কীভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানো যায় সেটাই দেখা উচিত।"
নারান হালদার যশোরের লোক। ওপার বাংলা থেকে এপারে এসেছিল সেই কবে। নারান হালদারের বয়স বত্রিশ। ছিপছিপে, প্রায় ছ'ফুট। দূরপাল্লার অ্যাথলিটদের মতো পায়ের আঙুল থেকে কপাল পর্যন্ত তার দেহের গড়ন। গায়ের রং বালিমাটির মতো। মুখটি লম্বাটে, গালের হাড় সামান্য উঁচু, চোখ দু'টি তীক্ষ্ন জ্বলজ্বলে। চাহনিতে এমন একটা কাঠিন্য আছে যা থেকে মনে হয় লোকটি জেদি, একগুঁয়ে। হাঁটার ধরনে ব্যস্ততা প্রকাশ পায়। নারান ধৈর্যধারী নয়। চট করে রেগে ওঠে যেমন, জল হয়ে যেতেও বেশি সময় সে নেয় না। পরিশ্রমে কখনও সে কাতর হয় না। এই গুণটি তার জন্মগত। আট বছর বয়সে স্কুল মাঠে ফুটবলে পা ছোঁয়াবার দিন থেকেই সে ইস্টবেঙ্গল সাপোর্টার। খবরের কাগজ অফিসে তাকে চাকরি করতে হচ্ছে খেলার বিভাগে। মাত্র ছ'মাস হল সে এই বিভাগের বেয়ারার কাজ পেয়েছে।
প্রথম দুদিনেই সে বুঝে গিয়েছিল বিভাগের হর্তাকর্তারা প্রায় সবাই মোহনবাগান সাপোর্টার। ওরা যদি জানতে পারেন সে ইস্টবেঙ্গল ভক্ত তা হলে হয়তো অন্য কোনও ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এটা ধরে নিয়েই সে মুখে চাবি দিয়ে কাজ করে। রিপোর্টার, সাব এডিটররা খেলা নিয়ে যখন তর্ক বা আলোচনা করেন সে মন দিয়ে শুধু শোনে। শুনতে তার ভাল লাগে। অনেক কিছু শিখতে, বুঝতে, জানতে পারে খেলা সম্পর্কে। খেলাকে সে ভালবাসে এবং এই বিভাগটিকেও।
বাড়িতে স্ত্রী এক মেয়ে নিয়ে আপাতত তার সংসার। পত্রিকা অফিসে বেয়ারার চাকরির পর বাড়ি ফিরে আবার সে খবরের কাগজ নিয়ে বের হয় বাড়ি বাড়ি বিলি করতে। এটা অবশ্য করে বাড়তি কিছু রোজগারের জন্য। এই নারানের একদিন চোখে পড়লো একটা খবরের দিকে। চেকশ্লোভাকিয়ার এক অ্যাথলেট দম্পতির অলিম্পিকের রেকর্ডের কথা। বউ জ্যাকলিনের রেকর্ড গড়েছে আর স্বামী দৌড় এবং ম্যারাথনে। এই অ্যাথলেটিক আর নারান একই তারিখে জন্মেছে এটা তাকে বেশ অবাক করলো। তার জীবন কেমন আর এই অ্যাথলেট কোথায়। কোনোদিন যদি এমন কোনো সাফল্য নারানও অর্জন করতে পারতো, মনে মনে ভাবে সে। কিন্তু সেটা কী কখনো আর হবে...........
⚽পাঠ প্রতিক্রিয়া⚽
মতি নন্দীর কিশোর উপন্যাস "নারান" অবশ্য এক প্রাণ শক্তিতে ভরপুর ষাট বছরের বৃদ্ধের গল্প। নাহ শুরুতে যখন চাকরিতে ঢুকেছিল তখন আসলে সে বৃদ্ধ ছিলো না। বত্রিশ বছরের যুবক। স্পোর্টস ডিপার্টমেন্টের অফিস বেয়ারার চাকরি। কিন্তু শুরুতে বইটাকে যতটা বোরিং ভেবেছিলাম, শেষে গিয়ে বইটা আমাকে ততটাই অবাক করলো। মতি নন্দীর স্পোর্টস ফিকশন মানে ভেবেছিলাম গদবাঁধা সেই এক কাহিনী হবে যে স্পোর্টসে অংশ নেয় আর কিছুটা মোটিভেশন।
কিন্তু যদি মতি নন্দীর লেখায় ব্যতিক্রম কিছু পড়তে চান অবশ্যই এই "নারান" বইটি পড়ুন। খুবই আন্ডাররেটেড বই কিন্তু কী চমৎকার প্লট। জীবনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ এক অফিস বেয়ারার মধ্যে এতটা উদ্দম থাকতে পারে যা আসলে ভাবা যায় না। এখানে স্পোর্টসটাকে খুব সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছেন লেখক। এবং এই বইটি আসলে মতি নন্দীর স্পোর্টস ফিকশনে একঘেয়েমিতা কাটাবে। শেষটা আপনি আন্দাজও করতে পারবেন না যে এমনটাও হতে পারে।
আরেকটা ব্যাপার খুব খারাপ লেগেছিল যে মানুষ আসলে জীবনে যা চায় সবকিছু আসলে পায় না। কিছু অপূর্ণতা, আক্ষেপ তাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। কিন্তু টলুবাবুর কথাটি মনে পড়ে যে আসলেই জীবনে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ সেটা সময় মানুষকে বুঝিয়ে দেয়। সময়ের সাথে সাথে মানুষের পরিনত হয়। বোঝার সক্ষমতা বাড়ে তখন হয়তো পূর্বের পাগলামি তাকে হাসায়। কিন্তু কিছু মানুষের কাছে বোধহয় সবকিছু পাগলামি নয়। তারা মন থেকে সেই কাঙ্খিত জিনিস পাওয়ার জন্য বোধহয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে।
কিন্তু তবুও কী পাওয়া যায়? দিনশেষে প্রশ্ন থেকে যায়। মতি নন্দীর স্পোর্টস ফিকশনে অনেকদিন পর ব্যতিক্রমী লেখা পড়লাম। যতগুলো পড়েছি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্লট কোনো জায়গায় গিয়ে মিল পেতাম। সেই তুলনায় বেশ ভালো। নারানের চরিত্রায়নে লেখক ছোট ছোট ডিটেলিং নজর দিয়েছেন। নারানের বউ মহামায়াকেও ভালো লেগেছে।
পাশাপাশি পথ চলতে যোগ্য সহধর্মিণী ও দরকার বোধহয়। নাহলে নারানের অমানুষিক খাটুনির পরে পাশে সাহস দেয়ার জন্যও কাউকে দরকার ছিলো তাই। সবমিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে বইটি।