কখনো ভেবে দেখেছেন, কেন একের পর এক দেশ দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে? ডলার কীভাবে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে? আর কেনইবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন বলেছিলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিদেশী সেনাবাহিনীর থেকেও বেশি বিপদজনক হচ্ছে ব্যাংকব্যবস্থা।” রাজনৈতিক শোষণের মতো অর্থনৈতিক শোষণও একটি বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যাপারে আমরা যারপরনাই উদাসীন। অথচ আমরা চাল কিনি কিংবা চিনি, এর পিছনে আছে অর্থনীতি; সোনা-রূপায় লেনদেন করি কিংবা কাগজ-কার্ডে লেনদেন করি, এর পিছনেও রয়েছে অর্থনীতি। অর্থনীতির এই অজানা জগতেকে পাঠকদের সামনে উন্মুক্ত করতে সহজ সরল বাংলায় ও গল্পে গল্পে লেখা হয়েছে ‘ডলারের খেলা ও রাষ্ট্রের দেউলিয়াত্বের রহস্য’ বইটি।
দীর্ঘ দশ বছর দেশে-বিদেশে অধ্যয়ন শেষে মােহাইমিন পাটোয়ারী বর্তমানে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'চার্টার্ড ফাইনান্সিয়াল এনালিস্ট প্রােগ্রামে যুক্ত হন। অর্থনীতি এবং ফাইনান্সের পাশাপাশি গণিতের প্রতি রয়েছে তাঁর ঝোঁক। সিএফএ অধ্যয়নরত অবস্থায় দ্বিতীয় স্নাতক প্রােগ্রামের জন্য তিনি গণিত বিভাগে নাম লেখান উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সেরা দশে অবস্থানের পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালের জুন মাসে তিনি সিএফএ পরীক্ষার তৃতীয় এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন করেন। তাঁর জীবনের ক্ষুদ্র একটি অপূর্ণতা হচ্ছে গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করতে না পারা। স্নাতক করা অবস্থাতেই নরওয়ে স্কুল অফ ইকনমিক্সে মাস্টার্স প্রােগ্রামের জন্য তার ডাক পড়ে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি নিশীথ সূর্যোদয়ের দেশে পাড়ি জমান। অতঃপর নরওয়ে স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে দ্বৈত মাস্টার্স প্রােগ্রামের জন্য তিনি যন্ত্রের দেশ জার্মানির স্বনামধন্য মানহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। পড়াশােনার পাশাপাশি খেলাধুলা, ভ্ৰমণ, শিক্ষকতা এবং ভাষা শিক্ষার জগতেও তিনি একজন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। ২০১৮ সালে চাইনিজ ব্রিজ কম্পিটিশনে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থানসহ খেলাধুলার জগতেও রয়েছে তাঁর একাধিক পুরস্কার। বর্তমানে অর্থনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাংলা ভাষায় অর্থনীতির জগতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বই লেখার পাশাপাশি সংবাদপত্রেও তিনি নিয়মিত কলাম লিখেন। সরল বাংলায় এবং গল্পের ভঙ্গিমায় তাঁর লেখাগুলাে ইতােমধ্যেই পাঠকদের মন কেড়ে নিয়েছে।
To me it seems this book is just more than its title. Runs through apparently complex concepts of global economy and financial system of modern day. A very good read.
দেশের ও সারাবিশ্বের ব্যাংক ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয় এবং ফেডারেল রিজার্ভের মাধ্যমে ডলার ছাপিয়ে আমেরিকা কীভাবে সারাবিশ্বের বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে তা বুঝার জন্য বইটা বেশ ভালো। সুদের কারবার ব্যক্তি পর্যায়ে এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কীভাবে ভয়াবহ হয় তা ভালোভাবে বাস্তব উদাহরণ ও তথ্য-উপাত্ত দিয়ে উপস্থাপন করা আছে বইটাতে।
তবে বইটার শুরুর দিকে বেশ কিছু বানান ভুল ও লেখার ধরণ বইয়ের পরবর্তী অংশের চেয়ে অনুন্নত। এমনকি একটা অধ্যায় দুইবার ছাপা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পেইজ নাম্বার দিয়ে। আর বেশিরভাগ তথ্য-উপাত্ত ২০০০ সাল কিংবা তার পূর্ববর্তী সময়ের। আমি বইটার তৃতীয় মুদ্রণ (এপ্রিল ২০২৪) পড়েছি। আশা করছি, পরবর্তী মুদ্রনে এগুলো সংশোধন করা হবে এবং সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সর্বপরি ভালোই লেগেছে। যারা টাকা, ডলার, বিশ্ববাণিজ্য ও ব্যাংক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান তারা পড়তে পারেন।