‘প্রফেসর কেন্ডাল ফিলিপ্স, সাইরাকাস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। গবেষণা করেন মাইথোলজি এবং পপ কালচার নিয়ে। তার ভাষ্যমতে আয়না নিয়ে ইতালীয়রা কম জল ঘোলা করেনি। আয়না রহস্য অনেকদিন তাদের হাতে ছিলো বন্দী। তারা দাবি করতো আয়না দিয়ে ভবিষ্যৎ দেখা যায়। কেউ কেউ মনে করতো আয়নার ভুবন হচ্ছে মৃত্যু পরবর্তী জীবনে যাবার সিঁড়ি। তিনি বলেন-
“আপনি যখন আয়না দেখেন, আপনি এমন একটা রিয়েলিটি দেখেন যা আসলে বাস্তবে নেই। নকল একটা পৃথিবী আপনাকে বাস্তবের স্বাদ দিচ্ছে এর থেকে বেশি অস্বস্তিদায়ক আর কিইবা হতে পারে, তাইনা?”
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ব্লাডি মেরি নামক ডাইনীকে ডেকে আনার গল্প আমরা অনেক পড়েছি কিংবা শুনেছি। সুরভী নামের এক নারী ব্যক্তিগত জিঘাংসা থেকে ডেকে নিয়ে আসে ভয়ংকর ব্লাডি মেরি কে। সে নিজেও কি জানতো কি হতে পারে ভবিষ্যতে?
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ব্লাডি মেরীকে তিনবার ডাকলেই সে আয়নায় উপস্থিত হয়, এই গল্পটা পুরোনো। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই গল্পের পেছনেও যে একটা গল্প আছে? আর যে গল্পটা আছে তা কোন মিথ নয়, ইতিহাস। সেই ইতিহাস যেদিন জেনেছিলাম সেদিন থেকে এই ব্লাডি মেরীর গল্পটা যেন আরো ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছিল। আর সেই ব্লাডি মেরীকে নিয়েই এই গল্প, আয়না রহস্যঃ কান্নাদি কথা।
আয়নার ও একটা ইতিহাস আছে, জাত আছে, মিথ আর লেজেন্ডসও নেহায়েত কম নয়। আয়না নিয়ে আছে অনেক ধারণা ও বিশ্বাস। এই আয়না কথন আর ব্লাডি মেরীর ইতিহাসের যে বর্ননা লেখিকা দিয়েছেন তা এক কথায় অনবদ্য। ইতিহাস আর গল্পের মিশেলে কাহিনীটা যখন একটু করে আগাচ্ছিলো তখন মন শুধুই এর শেষটা জানতে উদগ্রীব হয়ে উঠছিল। কী হবে শেষমেষ? এটা একটা প্রতিহিংসামূলক গল্প। যদিও ব্লাড মেরীকে টেনে এনে একে একটা সুন্দর ফ্যান্টাসি গল্পে রূপ দিয়েছেন লেখিকা। কিন্তু বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটে হরহামেশাই। গল্পটা যেভাবে আস্তে আস্তে ডালপালা মেলেছিল তাতে আমি আরো বিস্তারিত কিছু এক্সপেক্ট করছিলাম। কিন্তু গল্পটা যেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যায়। বুঝেছি ব্লাডি মেরী অনেক শক্তিশালী, তাই বলে এভাবে জিতে যাবে কেন? তবে আশার আলো দেখেছি গল্পের একদম শেষে। পাঠক হিসেবে গল্পের একটা সিক্যুয়ালের দাবী জানিয়ে যাচ্ছি।
নূহার লেখনী বরাবরই প্রশংসনীয়। গল্পের যে প্লট তাও আমার অত্যন্ত পছন্দের। কিন্তু পড়তে গিয়ে বেশ কিছু বানানের এদিক সেদিক চোখে পড়লো। বইটই এডিটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো পড়ার মধ্যে একধরণের বিরক্তি নিয়ে আসে।
সব মিলিয়ে এক বসায় পড়ে ফেলার জন্য সুন্দর একটা গল্প। ইবুকটা পাওয়া যাবে বইটই অ্যাপে। ও আরেকটা কথা, এই বই যাকে উৎসর্গ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি আমি।