প্রায় চার হাজার বছর আগের মিশর। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইতিহাস থেকে মুছে যাওয়ার আগে একজনের শেষ স্মৃতিদিহ্ন গোপন করে রাখতে চাইল তার প্রেমিক। নিজের এক আত্মীয়কে সেই গুরুদায়িত্ব দিয়ে চোখ বুজল সে। আততায়ী ও শত্রুদের কাছ থেকে সেই সত্যকে গোপন রাখার চেষ্টায় আত্মীয়টি সাগরপাড়ি দিয়ে এসে পৌঁছোল এক অন্য দেশে। সেই সত্য তথা ইতিহাস সংরক্ষণের দায়িত্ব সে দিল যাত্রাপথের এক সঙ্গীকে— যে নিজেও বিতাড়িত হয়েছিল নিজের দেশ তথা সমাজ থেকে। সবার চোখের আড়ালে এইভাবেই রয়ে গেল বহু হাজার বছর আগের এই ঐতিহাসিক যোগসূত্র। কিন্তু তার সঙ্গে কী সম্পর্ক আছে আজকের ইংল্যান্ড, কাজাখস্তান বা ভারতের সঙ্গে? এক ষড়যন্ত্রী সংগঠন কেন হঠাৎ ইতিহাসের এই গোপন কাহিনিকে প্রকাশ্যে আনতে চাইছে? পুরাকথার মধ্যে যে বহু ঐতিহাসিক সত্য রূপকের আকারে লিপিবদ্ধ রাখে— এ কোনো নতুন কথা নয়। নন-ফিকশন রচনায় দড় লেখক তেমনই কিছু কথা ও ভাবনা জুড়ে এক সমকালীন থ্রিলার লিখতে প্রয়াসী হয়েছেন এই বইয়ে। ভাবনাগুলো নিঃসন্দেহে কৌতূহলোদ্দীপক এবং পাঠককে গভীরতর পাঠে আগ্রহী করবে। তবে তাদের এইভাবে জুড়ে দেওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই বিশুদ্ধ কল্পনা। থ্রিলার অংশটা তেমন ঠাসবুনোট নয়; বরং আবেগ ও অতিকথনেই সেটা বারবার বক্তৃতার আকার নিয়েছে। বইটির ছাপা শুদ্ধ ও পরিষ্কার। তবে এমন বই বেশ কিছু অলংকরণ দাবি করে। তা পেলাম না বলে কিঞ্চিৎ হতাশ হলাম। একবার অবশ্যই পড়ে দেখতে পারেন— বিশেষত মিশরের ইতিহাসের অংশটুকু। ওটি সত্যিই ভাবায়।
ইতিহাস নির্ভর কাহিনী পড়তে ভালো লাগে বলেই এই বই তুলে নেওয়া হাতে। কিন্তু এই বইতে ইতিহাসের অংশ যতটা গুছিয়ে লেখা, ঠিক ততটাই ছন্নছাড়া বর্তমান। দুটো মানুষের মধ্যে জোর করে সম্পর্ক দেখানোর চেষ্টা, যা আদতে না থাকলেও গল্পে ঘাটতি হত না। কতগুলো ছন্নছাড়া চরিত্র, যাদের প্রয়োজন নেই বললেই চলে।
কিন্তু লেখকের লেখনীর গুণে বই টা শেষ না করেও ছাড়া যায় না, তাই ২টো star দিলাম।