তিনি আমাদের পাশাপাশি হাঁটেন। শিকড়ের টান তাকে কেন্দ্রাভিমুখে ঠেলে দেয় বারবার। উপাদান সংগ্রহ করতে ছুটে চলেন মাটির কাছাকাছি। আঞ্চলিকতাই তাঁর গল্পের সম্পদ । প্রান্তিক মানুষের মুখের ভাষা প্রাণ পায় নলিনী বেরার স্বাদু গদ্যের চলনে। ক্ষয়ে যাওয়া, ঘাত প্রতিঘাত জর্জর মানুষেরা তাঁর গল্পের এক একটি চরিত্র হয়ে উঠে। প্রতিরোধ কিংবা সংগ্ৰাম নয় জীবনের স্বাভাবিক চলমানতাই লেখার মূল উপজীব্য। একদিকে অন্তেবাসী মানুষের দিনানুদৈনিক জীবন পাশাপাশি এক গভীর ইতিহাস চেতনা লেখককে তাড়িত করে প্রতিমুহূর্তে।
নলিনী বেরার জন্ম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোপীবল্লভপুরের নিকট বাছুরখোয়াড় গ্রামে। ছোটবেলা থেকে দারিদ্রের সাথে লড়াই করে পড়াশোনা করেছেন তিনি। তাঁর শিক্ষা সম্পন্ন হয় মেদিনীপুর কলেজে ও পরে নকশাল আন্দোলনের কারণে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজে। ১৯৭৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিক হিসাবে চাকরিতে ঢোকেন।
কবিতা লেখা দিয়ে তাঁর সাহিত্য জীবন শুরু। ১৯৭৯ সালে নলিনী বেরার প্রথম গল্প 'বাবার চিঠি' দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি পল্লীপ্রকৃতি নিয়ে সমাজসচেতন সাহিত্যরচনায় পারদর্শী। তাঁর উপন্যাসগুলি হল শবরচরিত, কুসুমতলা, ফুলকুসমা, দুই ভুবন, চোদ্দ মাদল, ইরিনা এবং সুধন্যরা, এই এই লোকগুলো, শশধর পুরাণ ইত্যাদি। চার দশকের সাহিত্যচর্চায় অজস্র ছোটোগল্প ও উপন্যাস লিখেছেন।
২০০৮ সালে বঙ্কিম পুরস্কার পান নলিনী বেরা তাঁর শবরচরিত উপন্যাসের জন্য। সুবর্ণরেণু সুবর্ণরেখা উপন্যাসের জন্য ১৪২৫ বঙ্গাব্দের আনন্দ পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি। পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্ত ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা ছাত্রা ছাত্রীদের জন্য দান করেন এই সাহিত্যিক।