ছবির জগতে মৃদু প্রদীপ হাতে চলেছেন, বাড়ি থেকে পালানো একজন । পোর্ট্রেট আঁকেন আর নাট্যমঞ্চ নির্মিত হয় তাঁর হাতে। নিঃশ্ছিদ্র অন্ধকারের ভেতর জ্বলে ওঠে অজস্র জোনাকদীপ। রং আর রেখা। আবার অক্ষরের অবিরাম যাত্রাও তাঁর তুলিকলমে কথা বলে ওঠে। তিনি হিরণ মিত্র ।
কেবলই কি আঁকা! শিল্পকলা আর সাহিত্য নিয়ে যেমন পড়ার ঝোঁক, তেমনি লিখেছেনও অজস্র গদ্য । অবলীলায় হিরণ মিত্র বলতে পারেন, তিনি চিত্র রচনা করেননি, চিত্রই তাঁকে রচনা করেছে। আপাদমস্তক আধুনিক । জীবনযাপনের সারল্য তাঁর প্রাণের ঐশ্বর্য। সেসব মিলে একজন হিরণ মিত্রের ভেতর খেলা করে অনেকগুলো হিরণ ও অসংখ্য মিত্রের মুখচ্ছবি। যেন রাবণ উত্তরাধুনিক। আর শিল্পের ডাকাবুকো ।
তাঁকে নিয়ে কবিতা। আরেক অনেক মাথার ঘিলু নিয়ে যিনি একা । ধ্রুব এষ। প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে এষ বহুকাল ধরে ধ্রুব হয়ে আমাদের আকাশে। তারপর ছোটদের জন্য লিখছেন—ছড়া, গল্প ইত্যাদি। আঁকার কথা এখানে আর নয়। তবু তো কিছু রয়ে গেল বাকি । তাই নিয়ে এমন সহজপাঠ । হিরণ মিত্রকে বর্ণমালার ছকে ধরবার ফাঁদ। তার ভেতর ধরা রইল সহজ মানুষের একক।
ধ্রুব এষ। জন্ম ১৯৬৭। সুনামগঞ্জের উকিলপাড়ায়। বাবা শ্রী ভূপতি এষ। মা শ্রীমতী লীলা এষ। দেশের অপরিহার্য প্রচ্ছদশিল্পী। রঙে, রেখায় কত কিছু যে আঁকেন! গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি।
এ যাবৎ প্রায় বিশ হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন। প্রচ্ছদের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত। কী ছোটদের কী বড়দের—সব বয়সি পাঠক তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হন সমানভাবে।
তাঁর লেখায় দেখা-না-দেখা জীবন আর মানুষের এক বিচিত্র সম্মিলন ঘটে যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় পাওয়াকে, না-পাওয়াকে। জীবনের বহুবর্ণিল বাস্তবতাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই লেখক।