রোজা রেখে পুনরায় বলছি রোজা রেখে এই বই পড়তে যাবেন না।
উপরোক্ত লাইন পড়ে এখনই হা হা করে লেখক প্রকাশকসহ যারা এই বই পড়েছে তারা ছুটে এসে বলবে,
“অন্বয় শা লা র চামড়া
তুলে নেব আমরা“
স্লোগান দিতে দিতে। ও ভাই সোলোগান দিয়েন না। নাইলে আল্লাহর কাছে বিচার দিব কইলাম। আমি যাহা বলিয়াছি তাহা সত্য বৈ মিথ্যা তো কিছু নয়। অধমের বক্তব্য না শুনেই অধমের প্রাণপ্রিয় চামড়া তুলে নিয়ে যদি দেখা যায় অধম নিরপরাধ, বেচারা চামড়া কী তখন এই দুঃখ সইতে পারবে?
না, এমন সম্ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে না। উল্টো চামড়া কর্তনকারী দলের লোকদের নিরপরাধ চামড়ার অভিশম্পাত খেয়ে বংশ নির্বংশ হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
চলুন নেমে পড়ি চামড়া রক্ষা করার মিশনে। দেখা যাক বক্তব্য শেষ করার পরে চামড়া স্বস্থানে বহাল তবিয়তে থাকে নাকি অত্যাচারী লেখক প্রকাশক পড়ুয়াদের অত্যাচারে পিঠ ছেড়ে মানে মানে পালিয়ে বাঁচে।
দ্য ইনইমিটেবল জীভস, সেবা প্রকাশনীর বইয়ের ভান্ডারে নব্য সংযোজন। আমরা যারা সেবার বই পড়ে বড় হয়েছি তারা নতুন সেবার বই হাতে পেলে যেন হাতে ঈদের চাঁদ দেখতে পাওয়ার মত আনন্দিত হয়ে উঠতাম। বই শেষ না করা পর্যন্ত খাওয়া, ঘুম, শয়নে স্বপনে এমনকী ক্লাসের পড়ার ফাঁকেও এই বই নিয়েই ভাবতাম। এসব দেখে প্রেমিকারাও নির্ঘাত হিংসেয় জর্জরিত হয়ে উঠতো। যদিও মাঝের বেশ কিছু বছরে সেই আনন্দে অনেকাংশে ভাটা পড়েছে। কারণ সেবার বইয়ের মান পড়তির দিকে চলে গিয়েছিল। সে জন্য বেশ কিছু বই আমি নিজেই পড়িনি। দীর্ঘদিন পর ডিক স্যাণ্ড বইটা পড়ে খুবই মজা পেয়েছিলাম। সেদিনই দ্য ইনইমিটেবল জীভস বইটা অর্ডার করে ফেলি। সেবার থ্যাংক ইউ জীভস, ক্যারি অন জীভস দুটোই আমার ভীষণ পছন্দ। দেখার ইচ্ছে ছিল আগের গুলোর মান রূপান্তরকারী রাতুল ভাই এই বইটাতে ধরে রাখতে পেরেছে কী না। পেরেছেন কী না সেসব মূল বক্তব্যে যাওয়ার পূর্বে ছোট্ট করে বইয়ের সারসংক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা দেয়া যাক।
বার্টাম উস্টার। ধনীর দুলাল। তবে ধনীর দুলাল হলেও লোক ভালো আছেন। বেশ অমায়িক সহজ সরল এই ভদ্রলোক মানুষের বিপদে নিজেকে এগিয়ে দেন। বন্ধুবান্ধব থেকে চোর বাটপার কেউই তাকে ভুজুংভাজুং ভাজুং বুঝ দিয়ে খসিয়ে নিতে কসুর করে না। ভদ্রলোকের সবই ঠিক আছে কিন্তু তার খানসামার ভাষায় তার ঘটে বুদ্ধি কিছুটা কম আছে। তাকে বুদ্ধিমান তো বলাই যায় না, তিনি কোনোদিক থেকেই বুদ্ধিমান নন। একেবারেই বোকাসোকা। এহেন ধনীর দুলাল, সেই সঙ্গে সোনায় সোহাগা হিসেবে বোকাসোকা লোক যে প্রায়ই জগতের নানাবিধ জটিলতার ফাঁদে পড়ে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি বলে ত্রাহি ত্রাহি করে চিৎকার করে উঠবেন সে বিষয়ে কিঞ্চিৎ সন্দেহও পোষণ করার উপায় নেই। বন্ধু প্রেমে পড়েছে, বন্ধুর প্রেমের ঢাল হিসেবে উস্টার সাহেব এগিতে আসেন। যথারীতি ভজকট করে ফেলবেন। স্টার জলসার শাশুড়ীর চেয়েও দজ্জাল খতরনাক এক ফুপু আছে তার। নাম আগাথা। এই ভদ্রমহিলা আগের জনমে বোধহয় কসাই ছিলেন। মনে কোনো মায়াদয়া নেই। উস্টার সাহেবের জন্য তিনি মূর্তি্মান আতঙ্কের সংবাদ। সুতরাং তার দেয়া আদেশ নিষেধও তাকে বিনা বাক্যব্যয়ে মেন��� নিতে হয়। জীবনে দুঃখ বাড়ানোর জন্য রয়েছে বখাটে চাচাতো ভাই, কুটিল এক শত্রু। জীবনে সব ভালো যে ভালো লাগে না সেটার আরেক প্রমাণ হচ্ছে অনোরিয়া গ্লসপ। ধনীর দুলালের কিছুর অভাব না থাকা সত্বেও জীবনের পদে পদে নানারকম উদ্ভট, অদ্ভুতুড়ে, বিদুঘুটে সব বিপদের ছড়াছড়ি। সহজ সরল এই লোকের পক্ষে এসব বিপদের মোকাবেলা করা সম্ভব নয়৷ তাহলে তিনি এসব বিপদ থেকে পরিত্রাণ পান কীভাবে?
কারণ তার জীবনে বিপদের ত্রাণকর্তা হিসেবে রয়েছে তারই খানসামা, যে কী না জগতের সকল ভেজাল তার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক দ্বারা সমাধান করে ফেলতে পারে। নাম তার জীভস!
প্রথমেই বলি, বইয়ের সারসংক্ষেপ পড়ে এই বইয়ের শব্দ বো মা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা করা সম্ভব নয়। আজ্ঞে চোখ কুঁচকে তাকালেও লাভ হবে না। এগুলোকে আমি শব্দ বো মাই বলবো। আমার সহধর্মিণী রোজা রেখে ঘুম দিচ্ছিলেন। আমি নাকি টানেলের মত গাড়ি যাওয়ার মত শব্দ করে হেসে উঠে উনার সাধের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছি। তিনি এই বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শাস্তিস্বরূপ আমার সন্ধ্যাকালীন চায়ের দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন। এখানে আমার দোষটা কোথায় আপনারাই বলুন? রাতুল ভাই এমন সব শব্দ বা বাক্য ছুড়ে মেরেছেন আমি হাহা ঠাঠা বা টানেলের মধ্যে ট্রেন যাওয়ার মত শব্দ করে হেসে উঠতে বাধ্য হয়েছি। চা ক্যান্সেল হলে সেটা তারই হওয়া উচিৎ। যুক্তি তো সেটাই বলে। নাকি?
দ্য ইনইমিটেবল জীভস বইয়ের গল্প এক ধনীর দুলাল আর তার খানসামাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। আধবলদ ধনীর দুলাল নিত্যনতুন সমস্যায় না পড়লে তার পেটের কফি হজম হয় না। লোক যদিও সে নিতান্তই ভালো মানুষ। এই ভদ্রলোককে নানা রকম বিপদাপদ থেকে রক্ষা করার জন্য রয়েছে তার ব্যক্তিগত খানসামা জীভস। অত্যন্ত ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অধিকারী, স্বল্পভাষী এই লোক জনাব উস্টারের গার্ডিয়ান এঞ্জেল হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। জনাব উস্টার তার বন্ধুবান্ধব, ফুপু বা পরিচিত বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে নানাবিধ বিদঘুটে ভেজালের সম্মুখীন হন, বেচারা উস্টার সেসবের হাত থেকে পরিত্রাণের উপায় না পেয়ে নিজ গর্ব ক্ষুণ্ণ করে খানসামার নিকট সাহায্যের প্রার্থণা নিয়ে হাজির হয়ে পড়েন। গল্পের প্রতিটি স্তর জুড়ে তাদের বিভিন্ন প্রকার কাজকর্ম, আলাপ সালাপ আপনাকে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে বাধ্য করবে। আরে ও কী, মাইন্ড করেন কেন? আমি তো আপনাদের জলহস্তীর মত কাদায় গড়াগড়ির কথা বলিনি। বলেছি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেবেন। অল্প ভাষায় বলতে গেলে এত অসাধারণ চমৎকার রসিকতাপূর্ণ বই আমি সারাজীবনে হাতে গোণা অল্প কিছু পড়েছি। গল্পের জন্য পরিপূর্ণ একশো মার্কের সঙ্গে পূর্বের আমলের স্যারদের মত অতিরিক্ত দশ যোগ করে দেয়া যায়।
বইয়ের নাম শুনে হয়ত মনে হতে পারে জীভস বইয়ের প্রধান চরিত্র। হ্যাঁ, জীভস প্রধান চরিত্র বটে তবে বার্টাম উস্টারের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব জীভসের চেয়ে একবিন্দু কম নয়। তারা একে অপরের পরিপূরক। জীভস হচ্ছে তরকারির লবণ। যতই নাচানাচি ঘাটাঘাটি করো, এই বান্দা না থাকলে তরকারি খেয়ে ভালো লাগবে? আবার শুধু লবণ দিয়েও তো আর তরকারি হবে না তাই না? ধনীর দুলাল চরিত্রে আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটু বখাটে টাইপের লোক দেখি। কিন্তু এখানের ধনীর দুলাল ভালো লোক। বেশ পরোপকারী বটে। বইয়ের বর্ণনা তার ভাষাতেই হয়েছে। সুতরাং তিনি যদি লোক খারাপ হয়েও থাকেন আমি নিশ্চিত তিনি নিজের যাবতীয় অকাজ বইয়ে উল্লেখ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। বইয়ে ভদ্রলোকের পরিচয়, কথাবার্তা বা কাজকর্ম দেখে তাকে পছন্দ না করে উপায় নেই। এহেন ভদ্রলোকের খানসামা সাহেব আবার বেশ স্বল্পবাক মানুষ। কিছুটা অভিমানীও বটে। তার কথার বিপরীতে গেলে তিনি হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। তবে মালিকের প্রতি তার আন্তরিক ভালোবাসা রয়েছে। জগতের তাবত হেজিপেজি বিপদ সম্পর্কে সে অবগত এবং সর্বদা তার মালিককে এসবের হাত থেকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর থাকে। এর জন্য অবশ্য মাঝেমধ্যে তাকে দুষ্টমিষ্ট পদ্ধতির অবলম্বন করতে হয়। তবে কে না জানে সোজা আঙুলে সবসময় ঘি ওঠে না? বইয়ের আরেকটা চরিত্র আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। জনাব উস্টারের বন্ধু প্রেমিক পুরুষ বিঙ্গো লিটল। তিনি কিছুদিন পর পর নিত্যনতুন মেয়েদের প্রথম দর্শনেই পড়ে যান। এসব নিয়ে বেশ ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় সেটা বলাইবাহুল্য। কিন্তু সমস্যা কী? ওই যে আছে উস্টার আর জীভস! দ্য ইনইমিটেবল জীভস বইয়ে ছোট ছোট অনেক গুলো চরিত্র রয়েছে। তারা সবাই একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে কে কতটা আকাম করে আমাদের হাসাতে হাসাতে মেরে ফেলতে পারে। যতগুলো চরিত্রই এসেছে, তারা নিজেদের স্বাদে গুণে দোষে অনন্য। এদের মধ্যে জনাব উস্টারের বাগদত্তা অনোরিয়ো গ্লসপ, কুটিল শত্রু রুপার্ট স্টেগেলস, স্টার জলসামার্কা খোরাসানি ম্যাডাম টাইপ ফুপু আগাথা, দুই জমজ ভাই ক্লড আর ইউস্টাস, কুকুরমুখো, মাছ মুখো সহ প্রায় সবাই আপনাকে হাসাতে হাসাতে জানে মে রে ফেলতে পারে। এক কথায় লাজবাব!
রম্য গল্পের ভালো লাগা বা মন্দ লাগা নির্ভর করে অনেকটাই লেখক বা অনুবাদক/রূপান্তরকারীর দক্ষতার উপরে। কোনো রকম আলতু ফালতু জোকস না বলে দৈনন্দিন ঘটনাবলি বর্ণনা করে হাসানো অত্যধিক কঠিন একটা বিষয়। এই ধরনের বই জনসাধারণকে ভালো লাগাতে হলে লেখক বা রূপান্তরকারীকে রসিক প্লাস দক্ষ হতে হবে। রাতুল ভাই, কুর্ণিশ গ্রহণ করবেন। আপনার আমার এক্সপেক্টেশন ছাড়িয়ে মহাকালের পথে ভেসে গিয়েছেন। তিনি কতটা দক্ষতার ছাপ রেখেছেন আমি দুটো উদাহরণ দিয়ে দেখাই। এক দৃশ্যে বিঙ্গো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে উস্টারকে দিয়ে নিজের কাজ হাসিল করে নিতে চায়।
- তোমাকে বলেছিলাম না, দারুণ একটা বুদ্ধি খেলেছে মাথায়?এটাই সেটা। আমি চাই আমার আর ম্যাবেলের বিয়ের প্রস্তাবটা তুমিই উপস্থাপন করবে। আসলে... নিজে বলার সাহস পাচ্ছি না।
- বলছ কী! আঁতকে উঠলাম। 'ফাঁ সিতে ঝোলাতে চাও নাকি আমাকে?'
- অমন করার কী আছে? আমার বন্ধু নও তুমি?
- হলামই বা। কিন্তু বন্ধুত্বের খাতিরে কতটুকু কী করা যাবে, তারও একটা সীমা থাকে।
- বার্টি! তিরস্কারের সুরে বলল বিঙ্গো। আমি একবারে তোমার প্রাণ বাঁচিয়েছিলাম, ভুলে গেছ?
- কবে সেটা?
- বাঁচাইনি বলছ? তা হলে নিশ্চয়ই অন্য কারও হবে!
বইয়ের আরেক দৃশ্যে উস্টারের বাগদত্তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে উস্টারের কথোপকথন। যদিও উস্টার এই বিয়েতে শতভাগ না ভোট দিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বিঙ্গো তখন উস্টারের বাগদত্তার প্রেমে পাগল। সেখানে বিঙ্গো গিয়েছে উস্টারের বাগদত্তার মন জয় করার উদ্দেশ্যে।
-খোকা, কেমন আছ তুমি?
- 'আছি আর কী', বলল ও।
- সুন্দর জায়গা।
- 'আছে আর কী', বলল ও।
- মাছ ধরতে ভাল লাগছে নিশ্চয়ই?
- 'লাগছে আর কী', বলল ও।
এভাবে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ যন্ত্রণা থেকে বিঙ্গো আমাকে উদ্ধার করল। ' এই চিজের সঙ্গে কথা বলতে মাথা ধরে যায় না তোমার?' অসওয়াল্ডের দিকে ঈঙ্গিত করে বললাম আমি।
-'কাজটা কঠিন', হাই তুলে বলল বিঙ্গো।
- কোন কাজটা কঠিন?
- 'একে ভালোবাসা', অসওয়াল্ডের দিকে ইশারা দিল ও।
- 'তুমি একে ভালোবাসো?' অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম। ব্যাপারটা যে আদৌ সম্ভব, মাথাতেই আসেনি আমার।
এসব কথপোকথন বইয়ে পড়তে গেলে না হেসে থাকতেই পারবেন না। এমন দুর্দান্ত শব্দ, বাক্য, ভাষার প্রয়োগ খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়। যেখানে যেসব শব্দের প্রয়োজন বা ডায়ালগের প্রয়োজন ঠিক সেসব শব বা ডায়ালগই ব্যবহার করা হয়েছে। বইটা যে রূপান্তর, মাঝেমধ্যে সেটাই ভুলে গিয়েছি। হেসেই কুল পাই না, এতকিছু চিন্তা করবো কখন?
বর্তমান সময়ে সুস্থ বিনোদনের বেশ অভাব। হাহা, ঠাঠা করে গলা ফাটিয়ে হাসা বা মুচকি হাসার জন্য শোভ���ীয় কৌতুককর বক্তব্য বিভিন্ন কিতাবে খুবই কম দেখা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাপারগুলো লিমিট ক্রস করে ফেলে। এই বইয়ে একটা সিঙ্গেল লাইন পাবেন না এরকম। অশ্লীলতার অ ও নেই বইয়ে। অথচ হাস্যরসাত্মক মুহুর্তের অভাব ছিল না বইয়ে। পৃষ্ঠা উল্টিয়েছি আর হেসেছি। কখনো মুচকি হাসি তো কখনো হাহা করে হাসি। নির্মল বিনোদন বোধহয় একেই বলে।
সেবা প্রকাশনীর প্রোডাকশন কেমন সকলেই মোটামুটি জানেন। উনাদের বই হাটে, মাঠে, ঘাটে, শুয়ে, উবু হয়ে, ভাঁজ হয়ে, দাঁড়িয়ে যেভাভে খুশী সেভাবেই পড়া যায়। ছোট খাটো বই, কমখরচে এত দারুণ কিছু আর কেউ এখনো মনে হয় না উপহার দিতে পেরেছে। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেবা তার শতভাগ সুনাম ধরে রেখেছে। সেবার বই পড়তে যেয়েই মনে হয় প্রোডাকশন, প্রচ্ছদ এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর অভ্যাস ছিল না বললেই চলে। তবে এই বইটার প্রচ্ছদ খুবই চমৎকার লেগেছে। সেবার সম্পাদনা প্যানেলে যারা থাকেন তাদের উচিৎ সম্পাদনার উপরে কিছু কোর্স করানো। তাদের লেভেলের সম্পাদনা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে ওঠেনা কোথাও। তবে আশার কথা বর্তমান সময়ে নতুন নতুন কিছু দক্ষ মানুষ সম্পাদনার জগতে এসেছেন। তারা ইতিমধ্যে তাদের কাজের প্রমাণও রেখেছেন। তাদের জন্য শুভকামনা। যা হোক, এই বইয়ের সম্পাদনা নিয়ে কোনো কথাই হবে না। টপ নচ। সেবার বইয়ের বানান ভুল হয় না বললেই চলে। এই বইয়ে এক আধটা টাইপো ছিল বটে কিন্তু উহা সম্পূর্ণরূপে ইগনোর করা যায়। কোনো কিছু নিয়ে আপত্তি করার অপশন আছে বলে মনে হয় না।
দীর্ঘ বকবকানি প্রায় শেষের পথে। আমি জানি প্রায় শুনে অনেকেই বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে দুয়েকটা গালি ঝেড়ে দিয়েছেন মনে মনে। তবে আমারও তো পিঠের চামড়া বাঁচাতে হবে নাকি? উপরে বলেছিলাম রোজা থেকে এই বই না পড়তে। মনে আছে? এবার বলি তার আসল কারণ। দ্য ইনইমিটেবল জীভস পড়ে আমি এতটাই হেসেছি, হাসতে হাসতে আমার প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়ে গিয়েছিল। হাসিও যে এত পরিশ্রমের কাজ হতে পারে এই কঠিন বেরসিক দুনিয়ায় থাকতে থাকতে মাঝেমধ্যেই ভুলে যাই। নিজে হেসে ধরা তো খেয়েছিই সেই সঙ্গে হাসির শাস্তিস্বরূপ চা ক্যান্সেল হয়ে যাওয়ারও সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। যদিও বিভিন্নরকম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে এ যাত্রা বিপদ কাটিয়ে উঠেছিলুম। এখন আপনারাই বিচার করুন, সেধে সেধে রোজা লাগিয়ে বসে থাকবেন কী না। আমার সাবধান করার আমি সাবধান করে দিলুম, এখন আপনারাই চিন্তা করুন,
“ বাঁশ কেন ঝাড়ে
এসো আমার ঘাড়ে,”
নিবেন কী না!