রাজনীতি নিয়ে সবকথা আর শেষকথা গৌরকিশোর ঘোষ বা কার্ল বার্নস্টিনরাই বলবেন, তা হয় না। শিল্পসাহিত্য নিয়েও সবকথা আর শেষকথা গারট্রুড স্টাইন বা তপোব্রত ঘোষেরাই বলবেন, তাও হয় না। আর, ধর্ম নিয়ে কথা তো অনর্গল, শেষ-হীন! আমাদেরও অনেক কিছুই বলবার আছে। অথচ আমাদের হাতে পায়ে হাটে-মাঠের কাদামাটি, মুখে মঞ্চের আলো, আঙুুলে কালি। দূর থেকে দেখি, আমাদের রাজনীতি আর শিল্প অধর্মের পা ধরে আছে। উপন্যাসের আড়ালে ত্রিস্তর বস্তুত রাজনীতি, শিল্প আর ধর্মের কথামৃত।
রাজর্ষি দাশ ভৌমিকের জন্ম ১৯৮৭ সালে কলকাতায়। সাত বছর বয়েসে যৌথপরিবার থেকে আলাদা হয়ে বাবামায়ের সঙ্গে মফস্বল শহর বারাসাতে চলে আসা। বাবা-মা সরকারী কর্মচারি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন বারাসাত মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। কবিতা লেখার শুরু ক্লাস এইট থেকে, প্রথম কবিতার বই সতেরো বছর বয়েসে। এঞ্জিনিয়ারিং পড়েছেন শিবপুর বিই কলেজ থেকে, পরবর্তীতে আই আই টি কানপুরে। পিএইচডি নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে। গবেষণার বিষয় জলসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন। বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরের ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থানে অধ্যাপনা করছেন। প্রকাশিত কবিতার বইয়ের সঙ্গে পাঁচ; একটি বাদে সব কবিতাবই স্বউদ্যোগে প্রকাশিত। গল্প-উপন্যাসের বই এযাবত আটটি; তিন প্রকাশক সৃষ্টিসুখ, বৈভাষিক এবং একতারা। গোয়েন্দা কানাইচরণ চরিত্রটির স্রষ্টা। কানাইচরণের উপন্যাসিকা 'চড়াই হত্যা রহস্য' অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ওয়েবসিরিজ 'ব্যাধ'। সম্প্রতি কয়েকটি বইয়ের ইংরিজি অনুবাদের কাজ শুরু হয়েছে।
ত্রিস্তরের গল্প আমাদের খুব পরিচিত এক গল্প। গ্রামের সাবেক প্রধান ও তার পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে পুরো ঘটনাবলী। কিন্তু সাদামাটা প্লট ছাড়িয়ে ত্রিস্তরের বিশেষত্ব ঘটনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার ব্যাপারটায়।
এ গল্পের নায়ক ও খলনায়ক একই ব্যাক্তি। ঠিক আমাদের চারপাশের মতোন। যেখানে আমরা হিরো-ভিলেনকে আলাদা করতে পারিনা। একই ব্যাক্তি একেক পরিস্থিতিতে একেক চরিত্রে আবির্ভূত হয়। পরিবার, ক্ষমতা, রাজনীতি মিলেমিশে ত্রিস্তরের গল্প খুবই পরিচিত এবং বর্তমান রাজনীতির চমৎকার উপস্থাপন বলে মনে হয়েছে আমার চোখে। ঠিক সে কারণেই ত্রিস্তরকে আমার বেশ ভালো লেগে গেল।
চার দেব দেব করেও পাঁচই দিলাম, কারণ সাড়ে চারের অপশন নেই। সৃষ্টিসুখের ইবুকের কাছে কৃতজ্ঞ। অসম্ভব ভালো এবং ভীষণভাবে আন্ডাররেটেড বই। সাম্প্রতিক সমাজ আর স্থানীয় রাজনীতির এমন বাস্তববাদী প্রতিফলন বিশেষ চোখে পড়ে না। দুর্দান্ত গদ্য, ত্রি-স্তরেই গল্প এগিয়ে চলে। শুধু... আরো একটু গুছিয়ে, আরো একটু বড় করে যদি লেখাটা হত তাহলে মনে হয় আরো চমৎকার হতে পারত উপন্যাসটা।