কক্সবাজারে এক আমেরিকান নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ঘটনার শুরু, রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে ইন্সপেক্টর গরীবে নেওয়াজ খুব দ্রুত ঢুকে পড়লো তারই অসমাপ্ত কেসের ভেতরে, বেরিয়ে এলো ভিন্ন এক গল্প, যে গল্পের কেন্দ্রে আছে কসমোজাহি! আর সেটা যে কী, জানতে হলে পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়তে হবে।
মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের আরেকটি বিশুদ্ধ ক্রাইম-থৃলার, আরেকটি নিরীক্ষাধর্মি কাজ—পুরোপুরি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নয়, আবার কাল্পনিক বলারও উপায় নেই।
MOHAMMAD NAZIM UDDIN (Bengali: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন) is a writer and Translator of more than 26 novels..His original works are NEMESIS, CONTRACT, NEXUS, CONFESSION,JAAL, 1952: nichok kono number noy, KARACHI, RABINDRANATH EKHANE KOKHONO KHETE ASENNI and KEU KEU KATHA RAKHE. These six Thriller novels are highly acclaimed by the readers.
শুরুটা ভালো ছিলো। গল্প যতোই সামনের দিকে এগিয়েছে, ততোই অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনার পরিমাণ বেড়েছে ( যেমন : বাংলাদেশের পুলিশ অতিমানবীয় দক্ষতায় অতি দ্রুততার সাথে অপরাধীদের ধরে ফ্যালে।) লেখায় তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো রোমাঞ্চ বা উত্তেজনা নেই পুরো কাহিনিতে।
অনেকদিন পর মেদহীন একটা পিওর ক্রাইম থ্রিলার পড়লাম। বেশ ভালো লাগলো। পুরো বইটাই সাসপেন্সে ভরপুর। বাংলাদেশের সবথেকে অভিজ্ঞ থ্রিলার লেখকের কাছ থেকে সবসময়ই এমন কিছুরই আশা থাকে। এবার আশাহত হতে হয়নি। পাঁচজন নেশাখোরের এক গ্রুপের ছোট্ট একটা ঘটনা থেকে ধীরে ধীরে বড় একটা ঘটনায় রূপান্তরিত হয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় সেটা নিয়েই এই বইটা। রহস্য, রোমাঞ্চ, কোনোকিছুরই ঘাটতি ছিল না। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ক্যারেক্টার ডেভেলপ করেছেন লেখল। বাড়তি কথাবার্তা নেই। টুইস্ট বেজড কোনো বই না হয়েও পুরো গল্পটাই মনযোগ ধরে রাখতে সক্ষম। ইন্সপেক্টর গরীবে নেওয়াজের তদন্ত প্রক্রিয়াটা আরেকটু বিস্তারিত দেখতে পেলে আরও ভালো লাগতো। সবমিলিয়ে অ্যান এঞ্জয়েবল রিড।
আমাদের জীবনের গল্প যদি খুঁজে ফেরা হয়, তবে দেখা যায়— প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু গোপনীয়তা থাকে। যা জানতে পারলে সম্ভাবনা থাকে অনিষ্ট হওয়ার। এই গোপন কথা কাউকে জানতে দিতে হয় না। একটা গোপনীয়তা গোপন করতে আরও অনেক কিছুর সাহায্য নিতে হয়। অনেক গল্প গোপন করতে হয়। সবটা কি আর গোপন থাকে? কখনো হারিয়ে যায় স্রোতে, কখনোবা স্রোতের টানে ভেসে ওঠে। আর ভেসে ওঠা গোপনীয়তা থেকেই হয় গল্পের শুরু….
▪️কাহিনি সংক্ষেপ :
কক্সবাজার! বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত। সত্য, কী মিথ্যা— সেটা তোলা থাক। আমাদের গল্পের সূচনা এই কক্সবাজার থেকেই। সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি এই কক্সবাজারে প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক ভিড় করে। দেশি পর্যটকের পাশাপাশি, বিদেশিদের ভিড়ও থাকে চোখে পড়ার মতো। এমন অবস্থায় যদি বিদেশি পর্যটকের কোনো লা শ সৈকতের তিরে বালি চাপা অবস্থায় অবিস্কৃত হয়, তবে কেমন অবস্থা হয়? আবার যদি হয় সেই ব্যক্তিটি মার্কিন নাগরিক, পেশায় সাংবাদিক— দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন নড়েচড়ে বসবে স্বাভাবিক। উপর মহল থেকে চাপ আসবে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা খেই হারিয়ে ফেলবে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে বাহাত্তর ঘণ্টা সময় চাওয়া খুব সহজ, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করে তারাই জানে— কী যায় তাদের উপর দিয়ে। একজন মার্কিন নাগরিকের গুলিবিদ্ধ লা শ উদ্ধার হলে ঘুম যে হারাম হবেই।
গত কয়েকবছর ধরে কিশোর গ্যাং শব্দটার সাথে দেশের মানুষ বেশ পরিচয়। স্কুল কলেজ পেরোনো সদ্য কিশোর বা, বস্তি কিংবা নিম্নশ্রেণীর কিছু মানুষ এক হয়ে একেকটা গ্যাং করে তোলে। নেশায় আসক্ত হয়ে তারা বিপথে চলে হয়েছে অনেক আগেই। সেই সাথে চাঁদাবাজি, স ন্ত্রা সী, ছিন তাই, মেয়েমানুষ নিয়ে ফুর্তি, খু নের মতো ঘটনাও ঘটে। তেমনই এক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে ঢাকার একদল যুবক। একটি প্রতিশোধের নেশায় ছিনতাইয়ের মতো এক অপকর্ম করে। বিশাল অংকের টাকা। সেই টাকা খুঁজতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ, কিন্তু সুরাহা হয় না। ওরাও মৌজমাস্তিতে বেশ ভালোই দিন কাটিয়ে যায়।
গরীবে নেওয়াজের মেজাজ তিরিক্ষ হয়ে আছে অনেকদিন ধরে। ঢাকা থেকে যদি শাস্তিস্বরূপ এই কক্সবাজার থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কার মাথা ঠিক থাকবে? লঘু পাপে গুরু দ্বন্দ্ব! একটা সাংবাদিককে থা প্প ড় দেওয়া কি না শেষমেশ কাল হলো? আর এই গায়ে পড়া হলুদ সাংবাদিকদের জন্য যত ধরনের সমস্যা হয়। অপরাধী আগেভাগে সব টের পেয়ে লাপাত্তা হয়ে যেতে পারে। সেটা কিছু না! দোষ কেবল তার থাপ্পড়ের! এই সাত সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে একজন বিদেশি পর্যটকদের লা শের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছে কী করবে? উপরমহল থেকে চাপ আসছে। দ্রুত করতে হবে সবকিছু। কিন্তু কীভাবে? এমন অবস্থায় যদি আরেকটি লাশ খুঁজে পাওয়া যায়, এবার দেশি কাউকে! তাহলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয়। ভাঙা আকাশ জোড়াতালি দিয়েই খুঁজতে হবে। সূত্রের সাহায্যে এগিয়ে গেলে হয়তো আসল অপরাধীকে পাওয়া যাবে। কিন্তু কতটা দেরিতে?
“কসমোজাহি”? এর মানে কী? রাতুল, হাসান, হিরু, রাজ, আরিফ কীভাবে এর সাথে যুক্ত? কক্সবাজারে ফুর্তি করতে এসে কীসের সাথে জড়িয়ে পড়েছে ওরা? পুরনো অতীত যেন পিছন থেকে ডাকে। গল্পের গভীরে অনেক গল্প থাকে। সব উন্মোচিত হয় না। আর হলে, খেলা অন্যদিকে ঘুরে যায়। ওদিকে গরীবে নেওয়াজ নিজেরই পুরনো এক অসমাপ্ত কেসের ভিতর প্রবেশ করেছে অচিরেই। এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো গল্পের পরিসমাপ্তি। তবুও সব শেষ-ই কি শেষ হয়? না-কি শেষ থেকে শুরু হয় নতুন কিছু?
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সদ্য প্রকাশিত বই “কসমোজাহি”, একটি জমজমাট দ্রুত গতির থ্রিলার উপহার। যদিও গল্প খুব যে অসাধারণ তেমন কিছু না, তবুও বেশ ভালো লেগেছে। লেখক এখানে আসলে এমন কিছু মানুষের কথা বলেছেন, যা হয়তো সমাজের অবক্ষয়ের চিত্রই তুলে ধরে।
ব্যাঙের ছাতার মতো কিশোর গ্যাংয়ের গজিয়ে ওঠা ভীতি সঞ্চার করে। এরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। নেশায় আসক্ত, মেয়ে নিয়ে ফুর্তি, খুনের মতো কাজও করতে পারে। এদের কেউ কেউ রঙচঙে চুলে টিকটক করে বেড়ায়। এগুলো তো বর্তমান সময়ের একাংশের স্বাভাবিক চিত্র। লেখক যেন সেসব মানুষদের তুলে ধরেছেন, যারা সমাজের নিচু দিকটা দেখে বদলে গিয়েছে। হয়তো পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তাদের এমন হয়ে ওঠার পেছনে দায়ী।
সামান্য একটা ঘটনা থেকে যে একাধিক ঘটনার সূত্রপাত। রহস্য একাধিকভাবে ডালপালা মেলেছে। আর সেই রহস্যের গভীরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের লেখনশৈলী। লেখকের লেখা নিয়ে নতুন করে বলতে হয় না। তাঁর গল্প বলার ধরনে একটা সাদামাটা গল্পও প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। অত্যন্ত সুখপাঠ্য, সাবলীল। দ্রুতগতির লেখায় কোথাও বাঁধা পাওয়ার মতো পরিস্থিতির তৈরি হয় না। সবচেয়ে দারুণ হয় লেখকের বর্ণনা। বিশেষ করে ছিনতাই খুনের মতো বর্ণনা লেখক যেভাবে বর্ণনা করেন, মনে হয় যেন চোখের সামনে সব ফুটে উঠেছে। ইন্টোরেগেশনের বর্ণনাও লেখক খুব সাবলীল ভাবে দিয়েছেন। বেশ কিছু পাঞ্চ লাইন লেখক যেভাবে বর্ণনা করেছেন— কখনো হাসি এসেছে, কখনো ভাবনা জেগেছে। লেখকের লেখনশৈলী ও বর্ণনার এক ধরনের ট্রেডমার্ক এটি। খুব যে চমক বইটিতে ছিল, তেমন না। মুল ঘটনা অনেক আগেই জানা যায়। কী ঘটবে বুঝে নেওয়া যায়। তারপরও শেষটা কেমন হবে, অপরাধীর ভাগ্যে কী ঘটবে— সেই জানার তীব্র আগ্রহ থেকেই যায়। কখন শেষ পাতায় চলে আশা হয়েছে, বুঝতেই পারিনি।
প্রেম, বিচ্ছেদ, নারীঘটিত সমস্যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বইটি। আমরা নিজেদের চেয়ে সুখী কাউকে সহ্য করতে পারি না। তার এটা আছে কেন, আমার নাই কেন— এমন আক্ষেপ প্রায় সবার মধ্যেই বিরাজ করে। এতেই ঈর্ষা জাগে, সেই থেকে বিরোধ। পছন্দ অপছন্দের বিষয়টাও এখানে আসে। পুরোপুরি মনস্তাত্বিক বিষয়। আর এমন মনস্তত্ত্ব বোধহয় বাঙালিদের বেশি। একই সাথে রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। এতে ভুল হয় বেশি। ঠাণ্ডা মাথার মানুষেরা সবকিছু সামাল দিতে পারে। ভেবে চিন্তে কাজ করতে পারে। ফলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। আর ফেঁসে যায় অতিরিক্ত মাথা গরম করা, কম বুদ্ধি নিয়ে ঘোরা মানুষ।
লেখকের লেখায় সমাজের কিছু অসংগতি ফুটে ওঠে। যেমন সিএনজি চালকের অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার মতো ঘটনা, সাংবাদিকদের সব জায়গায় নাক গলানো ইত্যাদি। গল্পের মধ্য দিয়ে লেখক সেসব বলার চেষ্টা করেন। গল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু না হলেও সমাজের জন্য হয়তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়, কোন অনুষ্ঠানে মানুষের হাড়ির খবর নিয়ে আলোচনা চলে? সহজ উত্তর বিয়ের অনুষ্ঠান। এমন এক অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে আত্মীয় স্বজনদের মিলনমেলা। সেখানে গল্প চলে কার সাথে কার সমস্যা, কার বউ ভেগে গেল, কে কতটা বড়োলোক, কে দেখতে অসুন্দর ইত্যাদি। গল্পের ছলে লেখক এই দিকেও আলোকপাত করেছেন।
এই বইটির সবচেয়ে যে বিষয় পছন্দ হয়নি, তা হলো অতিরিক্ত গালিগালাজ আর ভাষার ব্যবহার। আমরা রাস্তার নিচু শ্রেণীর মানুষেরা যেভাবে কথা বলতে শুনি তেমন সংলাপ ব্যবহার করেছেন লেখক। হয়তো লেখক এমন এক ধরনের শ্রেণীর বর্ণনা করেছেন বলেই এমন ভাষার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। কিন্তু তারপরও একজন বুয়েটের ছাত্র আর এক উচ্চবিত্তের ভাষায় এরূপ কথা ঠিক হজম হয়নি। কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যেত।
আমি লেখকের চরিত্র গঠনের অনেক বড়ো ভক্ত। তবে এখানে কিছু একটার কমতি ছিল। হিরু সম্পর্কে শেষে যেভাবে উন্মোচন করা হয়েছে ভালো লেগেছে। রাতুল সম্পর্কে টুকটাক জানা গেলেও আরেকটু বিস্তারিত করা যেত। একই কথা হাসানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর রাজ বা আরিফ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তারা কীভাবে একসাথে সেই সম্পর্কে ভাসাভাসা ধারণা দেওয়া হলেও আমার কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। মূলত লেখক গল্পের ভেতরে থাকতে চেয়েছিলেন পুরোটা সময়। তাই হয়তো কিছু বিষয় এড়িয়ে গিয়েছেন। আমি অবশ্য খুশি হতাম ব্যাকস্টোরিগুলো ভালোমতো ফুটে উঠলে। লেখকের কিছু চরিত্রের নামগুলো ভালো লাগে। গরীবে নেওয়াজ নামটা বেশি পছন্দ হয়েছে। তবে শুরুতে যেভাবে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, শেষটা পুরো বদলে গেল। মূল চরিত্র হিসেবে আরো কিছু আশা করেছিলাম।
ও হ্যাঁ, কসমোজাহি আসলে কী? সেই বিষয়টা জানতে হবে না? একদম শেষ পর্যন্ত না পড়লে এই রহস্য জানা যাবে না। হয়তো এভাবেই অতীতের সুখস্মৃতি কেউ কেউ আকড়ে ধরে থাকে।
▪️বানান, প্রোডাকশন ও অন্যান্য :
বাতিঘর প্রকাশনীর সবচেয়ে যে সমস্যা নিয়ে সমালোচনা হয়, তার মধ্যে সবার উপরে বানান ও ছাপার ভুল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় এই বইয়ে বানান ভুল ছিল না বললেই চলে। টুকটাক দুয়েকটা ছাপার ভুল অবশ্যই ছিল, কিন্তু বাতিঘর প্রকাশনীর এরকম নির্ভুল বই খুব একটা চোখে পড়ে না। এই দিকটা বেশ ভালো লেগেছে।
সম্প্রতি বাঁধাইয়ে উন্নতি হয়েছে বাতিঘর প্রকাশনী। এই বইয়েও বাঁধাই নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। প্রচ্ছদটা পছন্দ হয়েছে। যেন গল্পের মূলভাবকে তুলে ধরেছে, যা বই না পড়লে বোঝা যাবে না।
▪️ পরিশেষে, জীবনে উপরে উঠতে গেলে সবসময় নিঃস্বার্থ হতে হয় না। কিছুটা স্বার্থপরতা আর নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এক সময় সুযোগ আসে। সে সুযোগ দু’হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরতে হয়। জীবনের গোপনীয়তা লুকিয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে যদি জীবনটাকে সুন্দর করে সাজানো যায়, ক্ষতি কী? হয়তো রাজ্য ও রাজকন্যা দু'টিই ধরা দিবে তখন…
নাজিম ভাইয়ের লাস্ট ৪/৫ টা বইয়ের মদ্ধ্যে 'নেক্সট' বাদে একটাও ঠিক জমেনি। এটাও জমলো না! ভূমিকা তে যখন পড়লাম বইয়ের প্লট স্পয়েল হয়ে যাবার ভয়ে তারাহুরো করে লিখে প্রকাশ করেছে বইটা, তখনই একটু মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তারাহুরো করে লেখা গল্পগুলো পড়লেই বোঝা যায়, কেমন যেন খাপছাড়া লাগে। তবুও পড়তে ভাল লেগেছে, একটানা পড়েছি। কিন্তু প্লট খুবি সাধারন, একমদ সাধারন। এত সাধারন প্লট হবে ভাবিনি। আর সব থেকে বেশি আশাহত হয়েছি 'কসমোজাহি' এর মিনিং এ। চরিত্র গুলোও সাধারন। মনে রাখার মত, ভাল লাগার মত তেমন কেউই ছিলনা। অন্য কারো বই পড়তে নিলে হয়ত এতটা হতাশ হতাম না। নাজিম ভাইয়ের কাছে এক্সপেক্টেশন সবসময়ই বেশি, এই জন্যেই হয়ত। ভিঞ্চি ক্লাবটা দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন উনি, আশা করি ওটা ভাল হবে। ২.৫/৫
বছরের প্রথম শেষ করা বই হিসাবে ভয়ংকর বাজে অভিজ্ঞতা হলো। একদম ফ্লাট একটা থ্রিলার। আদেও থ্রিলার বলা যাবে কিনা তাতেও সন্দেহ আছে। লেখকের লেখনীতেও খুবই দূর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। গল্পের স্টোরি লাইন একেবারে নড়বড়ে, আর না আছে তাতে ক্যারেক্টার ডেপথ। সত্যি বলতে কিছু একটা খুজছিলাম যাতে এই বয়সে এসেও এমন মানহীন চানাচুর থ্রিলার পড়াটা জাস্টিফাই করতে পারি নিজের কাছে, কিন্তু কিছুই পেলাম না।
৩.৫ "ফাটাফাটি থ্রিলার" একটা বই এটা বলব না,তবে খুব খারাপ যে তাও না।আমি বলব ভালই উপভোগ করেছি পড়ার সময়।কিছু জিনিস খাপছাড়া লাগার কারণে রেটিং একটু কম দিলাম।তবে আমি অনেক দিন পর ফ্রেশ একটা দেশীয় পটভূমি তে ক্রাইম থ্রিলার উপভোগ করলাম। বরাবরের মতই নাজীমউদ্দীন স্যারের দারুণ লেখনী তো ছিলই।
ইন্টারোগেশন রুমে ক্রমাগত চ পেটাঘা ত করতে করতে এই কথাটাই বলেছিল ইন্সপেক্টর গরীবে নেওয়াজ। কিন্তু কেন মা ইর লাগাচ্ছিল সে? আসুন ফ্ল্যাশব্যাকে যাই। কক্সবাজারে শাস্তিস্বরূপ ট্রান্সফারে এসে মেজাজ যারপরনাই খিচে আছে গরীবে নেওয়াজের। তার জীবনের জন্য কু ফা এই স্থানে আসতেই মন সায় দিচ্ছিলো না তার। কিন্তু শাস্তি! অগত্যা কী করা! মন বলছে কক্সবাজার এবার তাকে ভালো খবর দিবে। কক্সবাজারে এসেই এক ফরেনারের খু নের তদন্তে জড়িয়ে গেল নেওয়াজ। ফরেনার আবা��� মার্কিন নাগরিক। গোদের ওপর বিষফোঁড়া জাতীয় অবস্থা। সিনিয়র থেকে উপর মহলের চাপে অবস্থা খারাপ। বাহাত্তর ঘণ্টা বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে এই রহস্য সমাধানের পথ খুঁজতে শুরু না করতেই পায়ের নিচে পেলেন আরেকটা মৃ ত দেহ! দেশি বিদেশি মিলে খু ন হয়েছে দুইজন। তদন্তের দ্রুত অগ্রগতির ফলে কেস প্রায় সমাধানই করে ফেলেছে সে। সে সূত্রেই সন্দেহভাজন থেকে একজনকে কেলাচ্ছে এখন। দ্রুত এবং সন্তোষজনক সমাধান মানেই বদলি ঢাকা এবং পদের উন্নতি! দেখা যাক দিল্লী কতদূর। আরিফ, হিরু, রাতুল, হাসান, রাজ এই পঞ্চপান্ডবের গ্রুপের নাম ❛কসমোজাহি❜। বাংলা না ইংলিশ অজানা এই শব্দের অর্থ জানেনা এরা। হিরু ভাই বলছে এর অর্থ ❛চ্যাম্পিয়ন❜। ❛কসমোজাহি❜ দলের সকলে এসেছে সমুদ্রের পাড়ে ঘুরতে। হাসি-আনন্দে পেরোনো এই সময় তাদের কতটা স্বস্তি দিবে? কতগুলো মানুষ, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সূত্রপাত এবং কারণ সন্ধানে এগিয়ে যেতে যেতে আবিষ্কার করে ফেলতে হবে অদ্ভুত এবং অজানা কিছু ঘটনা। যা নতুন করে ভাবতে শেখাবে, উপলব্ধি করতে শেখাবে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
২৪০ পৃষ্ঠার রোলার কোস্টার রাইড এর নাম ❝কসমোজাহি❞। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের ব্র্যান্ড নিউ উপন্যাস এটি। ক্রা ইম থ্রিলার জনরার বইটি সত্য ঘটনাকে অবলম্বন করে লেখা। শুরুটা হয়েছে খু নের মাধ্যমে। এরপর কেস এগিয়েছে কক্সবাজার থেকে ঢাকায়। সাথে ছিল চরিত্রগুলোর নিজস্ব গল্প। প্রত্যেকের জীবনেই আছে একটা গল্প। যেখানে সে হয়তো হিরো, অথবা ভিকটিম। এমন ঘটনা যা বদলে দিয়েছে তাদের মানসিকতা, চরিত্র অথবা আমূল জীবনটাই। অধঃপতনের পেছনেও করুণ ইতিহাস থাকে। শুরুতে উপন্যাস এগিয়েছে বিদেশি লোকের মৃ ত্যুর কারণ উদঘাটন করতে এবং ক্রমশ তা ডালপালা ছড়িয়েছে। মোড় নিয়েছে ভিন্ন দিকে। লেখকের লেখা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। দ্রুত গতির লেখার স্টাইল, বর্ণনাভঙ্গি সব মিলে এই উপন্যাস পাঠের অভিজ্ঞতা খুব ভালো। ❝কসমোজাহি❞ উপন্যাসটি একটা তদন্তের মধ্যে থেকে কুশীলবদের নিজস্ব জীবন, গল্প, অতীত সবকিছুর অপূর্ব মেলবন্ধন। পুরোটা সময় উপভোগ করেছি, হেসেছি আবার কী হবে সামনে এই চিন্তা করেছি। উপন্যাস সমাপ্তির অনেক আগেই মূল রহস্যের কিনারা করতে পারলেও আগ্রহ কমে যায়নি। পৃষ্ঠা এগিয়েছে কাহিনিতে নিজেকে আরো দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে নিয়েছি। সমাপ্তিটা আমার বেশ লেগেছে। মনে হয়েছে প্রত্যেকের গল্প শেষে এসে একজায়গায় থিতু হওয়ার মতো একটা সমাপ্তি। কেস সমাধান হলো, না-কি অপরাধী আড়ালেই রয়ে গেল এর উত্তর রয়েছে শেষে। উপন্যাসে লেখক নির্দিষ্ট বয়স সীমার একদলকে উপজীব্য করেছেন। যারা সমাজের বিভিন্ন ধাপকে প্রতিনিধিত্ব করছে। তাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, গঠন আর ভাষায় লেখক অনন্যতা দেখিয়েছেন। তবে আমার কাছে উপন্যাসে ব্যবহৃত সংলাপ গুলো তথা চরিত্রদের কথাবার্তার যে ধরন সেটা কিছুটা অন্যরকম লেগেছে। পড়তে পড়তে আমার কাছে বারবার মনে হচ্ছিল কলকাতার লোকেরা বাংলাদেশের ভাষাকে যেমন, ❛বাঙাল ভাষা❜ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে লেখক ঠিক সেই ভাষায় লিখেছেন। সেটা কিছুটা কম পছন্দ হচ্ছিল। সর্বোপরি ❝কসমোজাহি❞ উপভোগ্য এবং মোড় ঘুরিয়ে দেখা উপন্যাস হিসেবেই মনে হয়েছে। আর উপন্যাসের এহেন নামের অর্থ যারা জানতে চেয়েছিলেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, অর্থ জানতে হলে স্পয়লার নিতে হবে এবং নামের মূল রহস্যই আছে শেষের কিস্তিতে। তাই একটু ধৈর্য্য নিয়ে শেষ পযর্ন্ত পড়লেই অর্থ এসে আপনা ধরা দিবে।
সম্পাদনা:
বাতিঘর মানেই ভুলে ভরা বানান, পেইজ ছুটে আসা বই এই ধারা থেকে প্রকাশনী বেরিয়ে আসছে এবং ক্রমশ উন্নতি করছে। বানান, বাঁধাই তথা সর্বোপরি বইটি দেখে খুব পছন্দ হবে। তবে এলাচিতে কামড় পড়বে না, এমন তো হয় ই না। এই বইতেও কিছু এলাচি ছিল। তার মধ্যে ছিল এই মুহূর্তে যেটা বেশি মনে আছে সেটা হলো, ❝রাতুলের বাবাকে মা হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছিল❞। আশা করি পরের এডিশনে শুধরে নিবেন। আমাদের জীবনে অনেক ঘটনা থাকে। থাকে কিছু গোমড়। কিছু ঘটনাকে গোমড় হিসেবে রেখে দেয়াই ভালো। এর ফলে যদি নতুন সুন্দর একটা জীবন তৈরি করা যায় তো ক্ষতি কি?
কসমোজাহি: একটি হাইস্টের গল্প . রিসেন্ট টাইমে যতগুলো থ্রিলার বই পড়েছি, সবগুলোর রিভিউ লিখতে গিয়েই আমি একটি বিষয়ের অভিযোগ করেছি বারবার। সব বইয়ের ফ্ল্যাপের কাহিনী অনেকটাই এমন: “অমুক জায়গায় একটা খুন হলো। তমুক অফিসার তদন্ত করতে উঠেপড়ে লাগলেন এবং এক পর্যায়ে দেখতে পেলেন, খুনের রহস্যের অন্তরালে আছে আরও বড় রহস্য, যার পটভূমি আছে কোনো এক সূদূর অতীতে, বা কোনো কাল্টের জন্মলগ্নে, বা অন্য কোনো ডাইমেনশনে!” এই এরকমই বলতে গেলে বেশীরভাগ থ্রিলারের ফ্ল্যাপ। এভাবে জেনারেলাইজ করা উচিত না, কিন্তু তবুও, এর ব্যতিক্রম আমি খুবই খুবই কম বইতে দেখতে পেয়েছি। I don’t know what I expect বা আর কি ধরণের ব্যতিক্রম হতে পারে। সেই ক্রিয়েটিভ কাজগুলো লেখকরা করবেন। কিন্তু আমি পাঠক হিসেবে অনুরোধ করবো লেখকদেরকে এই ফরমেট থেকে বের হয়ে আসতে !
যাই হোক, কসমোজাহি হচ্ছে উপর্যুক্তভাবে বর্ণিত ফরমেটের হালকা একটু ব্যতিক্রমী একটা গল্প, but not ব্যতিক্রমী enough! কক্সবাজারে এক আমেরিকান নাগরিক হত্যার রহস্য কূলকিনারা করতে গিয়ে ইনস্পেক্টর গরীবে নেওয়াজ আবিষ্কার করে সবকিছুর মূলে আছে কসমোজাহি। এই কসমোজাহি কি, সেটা জানতে হলে পাঠককে পড়তে হবে শেষ পর্যন্ত। - এই হচ্ছে ফ্ল্যাপের কাহিনী। এবং শেষ পর্যন্ত পড়ে কসমোজাহি কি, তা জেনে খুব বেশী যে স্যাটিসফােইড হয়েছি তা বলতে পারবো না। তবে গল্পের ভালোলাগার বিষয়গুলো হচ্ছে, গল্পের ন্যারেটিভটা ইউনিক। সাধারণত থ্রিলার গল্পগুলোতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রহস্যের জট খুলতে খুলতে যাওয়া হয়। এখানে শুরুতেই সলিউশন দিয়ে এরপর সেই সলিউশনের পটভূমি রচিত হয়েছে আস্তে আস্তে। বিষয়টি আমার কাছে ভালোই লেগেছে। সেই সাথে বইয়ের চরিত্রগুলো উঠতি বয়সী তরুণ, সমাজের এমন এক গোষ্ঠীর, যাদেরকে কখনো কোনো গল্প বই কবিতা নাটক সিনেমাতে স্থান দেওয়া হয় না, নাজিম উদ্দিন তাদের একটা পারস্পেকটিভ বইতে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যেটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সেই সাথে নাজিম উদ্দিনের অসাধারণ গল্পশৈলি। এটাতে লেখক সবসময়ই দশে দশ। এবং এই কারণেই বইটি আমাকে টেনে ধরে রেখেছিল। কিন্তু তারপরও, পড়া শেষ হওয়ার পর মনে হয়, খুব বেশী দারুণ কিছু তো পড়লাম না! তবে হ্যাঁ, হাতে অবসর সময় থাকলে, it's a good read!
মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এর লেখার সবথেকে ভালো লাগে যে ব্যাপারটা গল্পটা যেমনই হোক না কেন বইটা অনেক দ্রুতগতির হয়। এই বইটাও তার ব্যতিক্রম নয়, সাধারণ একটা গল্প থেকে ছোট পরিসরে লেখা বই। একটানা শেষ হয়ে যাওয়ার মত আসলে, যদিও লেখনী দারুণ হলেও লেখকের থেকে সবসময় এক্সপেকটেশন অনেক বেশি থাকে, যে কারণে এই বই��া নিয়েও ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির যায়গায় কিছুটা কমতি আছে। যাইহোক, বইটা ভালো, আমার কাছে ভালো লেগেছে। লেখকের অন্যান্য বইয়ের সাথে তুলনা করলে যেমন বেস্ট বলা যাবেনা এই বইটিকে তেমন আবার খারাপও বলা যাবেনা। দেশীয় পটভূমিতে লেখা বেশ উপভোগ্য বইটা।
গল্পের শুরুটা খাপছাড়া। খুব মনযোগ দিয়ে না পড়লে এলোমেলো লাগে। গল্পের প্লট মজাদার। মানুষ কিভাবে তার দূর্বল সময়ে নেশার দিকে ধাবিত হয় সেই কাহিনীও আছে। নেশা যে ক্ষতিকর আর সেটা যে অনেক নেশাকারী এক সময় বুঝতে পারে কিন্তু অত সহজে বেড়িয়ে আসতে পারে না সেই গল্পও রয়েছে। এমন ঘটনা কিন্তু শুনে থাকি আমরা আর বকাবাধ্য করি তাদের যে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বেড়িয়ে আসছে না কেন? নিশ্চয়ই ইচ্ছে নেই, ভণিতা করছে! তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হতে পারে সেই গল্প পেয়েছি কসমোজাহিতে। নামটা কেন এত অদ্ভুত সেটার বর্ণনা এক সময় পাওয়া যায়। মোটকথা, মনোরম একটা গল্প।
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে বালির উপর দৌড়ানো সহজ কাজ নয়, তবুও একদম ভোরবেলা হোটেল থেকে দূরে জনমানবশূণ্য কলাতলীর শেষদিকের এলাকায় ডেভিড রিচার্ড জগিং করছেন। তখনই তার চোখে পড়ে এক ঢিবির নিচে এক নেড়ি কুকুর কিছু একটা টেনে বের করার চেষ্টা করছে। কুকুরের আচরণ নিয়ে বেশ ভালো করেই জানা আছে তার, সেজন্য কিছু একটা আঁচ করতে পেরে এগিয়ে গেলো ঢিবিটার দিকে। নেড়ি কুত্তাটা টেনে বের করার চেষ্টা করছে একটা লাশ, যেই সে-ই লাশ নয়, এক ফরেনারের লাশ।
কক্সবাজারের মতো জায়গায় মানুষ টাকা খরচ করে বেড়াতে আসে কিন্তু পুলিশ অফিসার গরীবে নেওয়াজ এসেছে শাস্তি পেয়ে, ঢাকায় এক সাংবাদিকের সাথে ঝামেলা পাকিয়েই কপালে জুটেছে এই শাস্তি। আর সেই শাস্তির ষোলকলা পূর্ণ করেছে কলাতলী সমুদ্র সৈকতের শেষ মাথায় খুঁজে পাওয়া দু দুটো লাশ। ফরেনারের লাশ হওয়ায় উর্ধতন মহল থেকে বলে দেওয়া হয়েছে বাহাত্তর ঘন্টার মাঝেই কেস সমাধান হওয়া চাই।
ঢাকায় আরিফ, হাসান, টিকটক রাজ, রাতুল আর হিরু, এই পাঁচজনের টিমটা কিভাবেই কিভাবে যেনো ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলো নানান ইয়াবা, মাদকের উছিলায়। এদের মাঝে চলতো যেমন নানান নেশার আড্ডা তেমনিই মেয়ে নিয়ে নিজেদের মাঝে প্রতিযোগিতা। এক একজন যাকে বলে প্লে বয় ধরনের, আজ এই মেয়ে তো কাল সেই মেয়ে। সাম্প্রতি ঢাকার বুকে দারুণ একটা দাও মেরেছে তারা, তাতেই সবার মেজাজ হয়ে আছে ফুরফুরে। আর সেই ফুরফুরে মেজাজকে উপভোগ করার জন্য আরিফ, টিকটক রাজ, রাতুল আর হিরু বেড়াতে এসেছে কক্সবাজার, কিন্তু কে জানতো গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ঘুরতে এসে জড়িয়ে যাবে অপ্রত্যাশিত এক হাঙ্গামায়, যার ভিত গেঁথে আছে একেবারে ঢাকা পর্যন্ত।
এর সবই ভিন্ন ভিন্ন গল্প, যে গল্পের কেন্দ্রে আছে কসমোজাহি! আর সেটা কী, জানতে হলে পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়তে হবে।
প্রথমদিকের কক্সবাজারে দুটো সাধারণ লাশ পাওয়ার ঘটনা, তারপর অন্যদিকে ঢাকার পাঁচ বন্ধুর দৈনন্দিন জীবন। যেখানে যেমন আছে বস্তিতে বেড়ে উঠা অশিক্ষিত নেশাগ্রস্ত যুবক, আছে বড়োলোক বাবার বখাটে সন্তান, আরো আছে সময়ের করালগ্রাসে ঝরে পড়া মেধাবী সন্তান এরা সবাই নেশাগ্রস্ত। লেখক তাদেরই দৈনন্দিন জীবনকে সাধারণভাবেই বর্ণনা করে গেছেন বইয়ে।
যেখানে বর্ণনা করতে গিয়ে চেষ্টা করেছেন সমাজের নেশাগ্রস্ত, বখাটে ছেলেদের মুখের ভাষাটাও তেমনই রাখতে যেমনটা বাস্তবে দেখা যায়, কথায় কথায় গালি দেওয়া, অশ্লীল কথা বলা ইত্যাদি। বর্ণনা একেবারেই সাদামাটা, সহজসরল। প্রথমের কাহিনি কিছুটা আগ্রহোদ্দীপক লাগলেও মাঝে এসে গল্প কিছুটা মনন্তর গতিতে এগিয়ে যায়। কাহিনি পরিচিত লাগে, মনে হবে এতো দৈনন্দিন দিনের সাধারণ ঘটনাই। অবশ্য শেষ দিকে এসে ভালো লাগতে শুরু করে। কাহিনি দ্রুত মোর নেয় নানান দিকে, যদিও রহস্যকে অতটা জটিল বলে মনে হয় না, বরং ভালোভাবে পড়লে দেখবেন সমাপ্তির অনেক আগেই সমাপ্তি বুঝে গেছেন, রহস্যের জাল ভেদ করে ফেলেছেন। বরং শেষটা পড়ে সেই বুঝে নেওয়াটা হতাশ করবে না, তৃপ্তি দিবে।
গল্পের নামটা কসমোজাহি হওয়াটা বেশ আগ্রহ তৈরি করেছিলো, লেখক এই নামেরও একটা ব্যাখা দিয়েছেন, আস্ত একটা গল্প বলেছেন। কী গল্প, সেটা না হয় বই পড়ে জেনে নিয়েন, তবেই উপভোগ্য লাগবে। গল্পে খুব বেশি চরিত্র নেই, রহস্যের জটিলতা নেই। মনে হবে এ বাস্তব জীবনের গল্প, সমাজেরই কিছু মানুষের গল্প, লেখক কেবল এর কিছু চিত্রকে মলাটবন্দি করেছেন।
বইটার প্রোডাকশন বেশ ভালো, এই ধরনের প্রচ্ছদগুলো আমার কাছে ভালোই লাগে। মজার বিষয় হলো, বইটিতে চোখে পড়ার মতো বানান ভুল বা টাইপিং মিস্টেক নেই। সেই সাথে দামটাও বাতিঘরের ছাড় আর বর্তমানের বইয়ের দাম বিবেচনায় কমই মনে হয়েছে। সবমিলিয়ে বইটি ভালোই লেগেছে। টানটান উত্তেজনাকর বলা যাবে না, তবে অবশ্যই উপভোগ করার মতো বই, যদি সমাজের বকে যাওয়া শ্রেণির ভাষা নিয়ে আপনার আপত্তি না থাকে।
লেখকের বই হাতে পাওয়ার ২৪ ঘন্টা আগেই পড়ে শেষ করে ফেলবো এটা নতুন কিছু না। আমার মতো পাঠকদের জন্য বই এর পৃষ্ঠা কম হলে চলে না। লেখকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এ বিষয়ে। এই বই টি যখন আসি আসি করছে তখন আমি কক্সবাজার থেকে আমার সমুদ্রবাস পর্ব শেষের পথে। ফ্ল্যাপ আমি পড়ি না কিন্তু পরিচিত শহরের নাম টা চোখে পড়েছে তখনই। আগ্রহী হোওয়ার প্রথম কারণ এটাই। আর ওনার লেখা বই এই বছর ই পাবো এটা কল্পনার বাইরে কিন্তু কেনো বই মেলার আগেই বই টি প্রকাশ পেলো সেই ব্যাখ্যা ও লেখক বইতে লিখেছেন। সে যাই হোক এবার বই এ আসি আমাদের দেশীয় থ্রিলার বই, যার প্রতি পৃষ্ঠায় আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঘ্রাণ। একদম মেদবিহীন একটি বই ঘটনা সমস্তই পড়ার সাথে সাথে রিলেট করা যায়। এতো দ্রুত পড়ে ফেলার এটা একটা বড়ো কারণ। কক্সবাজার, সমুদ্র পাড়ের এক আপাত দৃষ্টিতে দেখা শান্ত, নিরিবিলি নগরী। কিন্তু আদৌতে এই শহর তা না। পর্যটনের এই নগরীতে থাকতে গেলে বোঝা যায় এই নগরী কতোটা বিপদজনক। সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপদজনক জায়গা এই কক্সবাজার। একদিকে যেমন সারা বাংলাদেশের মানুষ এই অঞ্চলে আশে ঘুরতে তেমনি মাদক এর ব্যবহার আর এন জি ও তো আছেই। এই কক্সবাজারেই ঘটে যায় একটি খুন নাকি দুটি সে বই পড়ে জেনে নিবেন। কিন্তু এই খুনের পিছনে আছে আরও একটি ঘটনা। আর জড়িত আসলে কে মানুষ, প্রেম, মাদকের নেশা নাকি সামাজিক প্রেক্ষাপট সেটাও লেখক পাঠকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। মাদক থেকে একা বের হোওয়া যায় না এই নেশা গ্রাস করে নি���েকে এই চরম সত্যটাও এখানে উঠে এসেছে। বিপদে বাবা মা ছাড়া কেউ ই পাশে থাকে না। উঠে এসেছে শেয়ার বাজারের ধস যা অনেক স্বপ্নবাজ মানুষকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে। কসমোজাহি এই নামোটা বড়ো অদ্ভুত এর অর্থ কি, কোন ভাষার শব্দ আর এই বই এর সাথে এই শব্দের সম্পর্ক জানতে হলে পুরো বইটি পড়তে হবে। সবশেষে প্রতিটি সুন্দর জিনিসের সাথে থাকে কিছু বিপদসংকুল ঘটনাসমূহ। সমুদ্র নিজেই বড়ো রহোস্যময়, সমুদ্রপাড়ের শহরটির প্রতি পরতে পরতে রহোস্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক আর এই রহোস্য মানুষকে টানবে এটাই চিরাচরিত ব্যাপার। যেই টান অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা অনেকেরই থাকে না।
প্রতিটা মানুষের জীবনেই গভীর কিছু গল্প থাকে। হোক সেটা ভালো বা খারাপ। আমরা অবশ্য ভালো অর্থাৎ সফল, সমাজের চোখে ভালো এমন মানুষদের গল্পই শুনে থাকি বেশি। খারাপ হয়ে যাওয়া, বখাটে ছেলেপেলেদের খবর কে রাখে। অথচ কোন কষ্টে বা কোন পরিস্থিতিতে আজ তারা খারাপ সেটা আমরা কেউ জানতেও চাই না। সেরকমই পাঁচটা ছেলের গল্প "কসমোজাহি"। কোনো না কোনোভাবে তারা জড়িয়ে গেছে ইয়াবা আর ফেন্সিডিলের সাথে। এদের কেউ খুবই গরীব ঘরের অশিক্ষিত ছেলে কেউ আবার পড়ালেখা জানা ভালো ঘরের ছেলে, কেউ বড়লোক বাপের বখে যাওয়া ছেলে। গল্পের শুরুটা আসলে উল্টো দিক থেকে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে একটা খুন হয়ে যায় তাও আবার এক ফরেনারের। সেই লা*শ খুঁজে পেতেই আবিষ্কার হয় আরো একটা লা*শের। সেই লাশটা একজন বাঙালি অথবা রোহিঙ্গার বলে মনে হয়। এই দুই খুনের কুল কিনারা খুঁজতে গিয়ে ইন্সপেক্টর গরীবে নেওয়াজের মাথার চুল ছেড়ার উপক্রম। কিন্তু কিভাবে কিভাবে জানি হঠাৎ করেই তার হাতে সব ক্লু চলে আসে। ঢাকায় এসে ধরেই ফেলে এক আসামিকে। ৩০ পেজের মধ্যে কেস সলভ। কিন্তু কিভাবে সম্ভব হলো সাস্পেক্টকে ধরা? সেই গল্পই এরপর জানা যায় ইন্টারোগেশন রুমে মারের চোটে সব বলে দেয়া আসামির মুখ থেকে। যে গল্পটার শুরু বেশ কয়েকমাস আগেই। কী সেই গল্প যার জন্য কক্সবাজারের মত সুন্দর জায়গায় হয়ে গেলো এতকিছু! সেটা জানতে হলে তো অবশ্যই পড়তে হবে "কসমোজাহি"।
পাঠ প্রতিক্রিয়া: প্রথমত বইটা নিয়ে আগ্রহ জাগার কারণ এর নাম। কসমোজাহি কি অদ্ভুত একটা নাম না... মানে কি এর? এর মানে টা বই পড়েই জানতে হবে। দ্বিতীয়ত, বইটার ফ্ল্যাপে বলা ছিলো কাহিনীটা পুরোপুরি কাল্পনিক নয় অর্থাৎ সত্য ঘটনার উপর অবলম্বন করে লেখা তাই আগ্রহটা আরো বেড়ে গিয়েছিলো। কাহিনী সংক্ষেপে যেটা বললাম গল্পটা আসলে উল্টো দিক থেকে শুরু। মানে পুরো কাহিনীটাই শোনানো হয় ফ্ল্যাশব্যাকে। আমার এধরনের গল্প বেশ ভালোই লাগে। এছাড়াও বইটার মধ্যে প্রতিটি চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কেও জানা যায় দারুন কিছু গল্প। কসমোজাহি নামের রহস্যটা খুবই ইন্টারেস্টিং লেগেছে। মোটামুটি বলা যায় মেদহীন ঝরঝরে একটা গল্প যেটা কোনো থামাথামি ছাড়াই পড়া যায়। তবে খুব যে সাসপেন্স ক্রিয়েট করেছিলো তাও না। কিছু কিছু টুইস্ট আপনি আগেই ধরে ফেলতে পারবেন। তবে গল্পটা ভালো লাগার মতো। সাধারণ তবে সুন্দর। বিশেষ করে শেষটা আমার বেশি ভালো লেগেছে যখন দলনেতা হিরুর জীবনের পেছনের গল্পটা পড়ছিলাম। লেখক নাজিম উদ্দিন তার বেশিরভাগ বইয়েই দৃশ্যগুলোতে রিয়েলিস্টিক বিষয়টা আনার জন্য আঞ্চলিক ভাষা ব্যাবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। গল্পের সবাইই এখানে আঞ্চলিক ভাষা ব্যাবহার করে। সেই সাথে হালকা পাতলা গালিগালাজ তো আছেই। এই দিকটাতে অনেকের একটু আপত্তি থাকতে পারে তবে আমার তেমন খারাপ লাগেনি। বরং গালির পরিমাণ ওনার অন্যান্য বইয়ের চেয়ে কমই মনে হয়েছে। ইন্সপেক্টর গরীবে নেওয়াজের সাথে অনেকগুলা কাকতালীয় ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এই কেসটা তার জন্য একেবারেই ডালভাত হয়ে গেছে যেই জিনিসটা ভাল্লাগে নাই। পুলিশকে একটু খাটতে দেখতে না পারলে ভাল্লাগে না। প্রশ্ন বলতে গেলে তেমন কিছুই নেই সব প্রশ্নের উত্তরই গল্পের মধ্যে পেয়ে গেছি। তবে হ্যাঁ এটা শিকার করবো যে,গল্পটার মধ্যে একটু তাড়াহুড়া ভাব দেখা গেছে। যদিও লেখক সেটা আগেই বলে নিয়েছিলেন যে একটা কারণে বাধ্য হয়েই সময়ের বেশ আগেই বইটা প্রকাশ করে ফেলতে হয়েছে। এসমস্ত ছোটখাটো বিষয় বাদ দিলে আমার কাছে বইটা বেশ ইঞ্জয়েবেল মনে হয়েছে। পড়ে দেখতে পারেন চাইলে।
বইয়ের প্রচ্ছদটা বেশ ভালো লেগেছে। সিম্পলের মধ্যে সুন্দর। টাইপোটাও মানানসই। বাতিঘরের বইয়ের বাঁধাই সম্পাদনা আগে থেকে ভালোই উন্নত হচ্ছে আস্তে আস্তে। বানান ভুল চোখেই পড়ে নি। আর দামটাও সাধ্যের মধ্যেই।
তো কি মনে হচ্ছে যেতে চান নাকি কক্সবাজার। আই মিন কক্সবাজারের রহস্যে হারিয়ে যেতে?
প্রতিটা সমস্যা আদতে সম্ভাবনা নিয়ে আসে-যদি সমস্যাটা সমাধান করা যায়।
পুলিশের গোয়েন্দা নেওয়াজ সাহেব ঢাকা থেকে শাস্তিস্বরূপ বদলি হয়ে এসেছেন কক্সবাজারে। আসতে না আসতেই সি-বীচে এক ফরেনারের খুন হওয়ার কেস জুটে গেলো। তদন্ত করতে গিয়েই নেওয়াজ সাহেব বুঝতে পারলেন, ঢাকায় ঘটে যাওয়া তার এক অমীমাংসিত ছিনতাই কেসের সাথে সম্পৃক্ততা আছে এই কেসের।
"কসমোজাহি মানে চ্যাম্পিয়ন" একটা লাখ টাকার ছিনতাইয়ের ঘটনা। এই ঘটনার পেছনে আছে ঢাকার একটা বখাটে নেশাগ্রস্ত গ্রুপ। সেই গ্রুপের নাম দেয়া হয়েছে কসমোজাহি। নামটা কসমোজাহি কেনো সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। তবে এর কারণটা দাঁড় করানোর পেছনের গল্পে যে আরেকটু সময় দেয়া যেতো, সেটা অবশ্যই স্বীকার করি। নেশাগ্রস্থ, মেয়েবাজ, ছিনতাইকারী ও অপরাধী গোষ্ঠীর এই বখাটে ছেলেগুলোকে ঠিক চ্যাম্পিয়ন তকমা দেয়াটাও মনঃপূত হয়নি আমার। তবে নামের উৎপত্তি যার জীবন থেকে এসেছে, তার জীবনের ওই ঘটনা এবং সম্পৃক্ত চরিত্রের সাথেই শুধু নামটা যায়।
• থ্রিলার হিসেবে কেমন? • সত্যি বলতে যতোটা আশা নিয়ে উপন্যাসটা শুরু করেছিলাম, ততটা মনমতো হয়নি। শুরুর দিকটা নিয়ে বেশ আগ্রহ আর কৌতূহল ছিলো। গরীবে নেওয়াজ যখন কক্সবাজারের খুনের তদন্তে নেমেছিলো, ধরেই নিয়েছিলাম একটা টানটান উত্তেজনার তদন্ত দেখতে পাবো। সূত্র জুড়ে জুড়ে নেওয়াজ সাহেব বুঝি ���হস্যের সমাধান করবেন। কিন্তু এমন কিছুই হলো না। খুব সহজেই একটা সূত্র ধরে নেওয়াজ সাহেব ধরে ফেললেন একজনকে। তারপর সে কাহিনী মোড় নিলো ছিনতাইয়ের ঘটনায়। • ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং ছিনতাইকারীদের পরবর্তী কর্মকাণ্ড, এসব মিলিয়ে অর্ধেক উপন্যাস শেষ। থ্রিলটা ঠিক পাচ্ছিলাম না। তার উপর পরপর কয়েকবার ছিনতাইয়ের প্ল্যান ভেস্তে যাওয়ায় পাঠক হিসেবে আমি নিজেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছিলাম। ছিনতাইয়ের পর নেশা করা, যার যার প্রেমিকাকে নিয়ে গিফ্ট করা এসব বিষয়ও কেমন যেন ন্যাকা ন্যাকা লাগছিলো। • মূল টুইস্ট বা সমাধান যাই বলি না কেনো, সে অংশে এসে আবারও ভালো লাগা কাজ করতে লাগলো। তবে একবার সে সমাধান হয়ে গেলেই গল্পে আবার একঘেয়েমিতা চলে আসে। মিঠু আর হাসানের বিষয়টা অনুমান করেছিলাম, তবে এই দুইটা টুইস্ট উপন্যাসের শেষে থাকায় সমাপ্তিতে হতাশা কিছুটা কেটেছে। • চরিত্রগুলোর নিজেদের মাঝে পরিচয়, নেশা, নারী, এসব বিষয়ের কারণ উল্লেখ বলি, আর ব্যাকষ্টোরি বলি সেটা আমার মতে কিছু কিছু আগে উল্লেখ করা উচিত ছিলো। চরিত্রগুলোকে চিনতে, বুঝতে আরো সহজ হতো তাহলে। কিন্তু লেখক সেসবের উল্লেখ করলেন শেষের দিকে, মূল রহস্য উদঘাটনের পরে। • তাহমিনার পরকীয়া আর তার স্বামীর সমকামিতা অংশটুকু একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিলো। বলতে গেলে তাহমিনা নামক চরিত্রটাই উপন্যাসে অহেতুক এনেছেন লেখক।
•লেখকের অন্যান্য থ্রিলার ও কসমোজাহি: থ্রিলার লেখক হিসেবে আমাদের দেশে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এর অবদান অতুলনীয়। এটা মানতেই হয়। লেখকের লেখা পড়তে পড়তে লেখার ধাঁচ ও প্যাটার্ন অনেকটাই এখন আলাদা করতে পারি। লেখকের নিয়মিত পাঠকেরা না পড়েও কসমোজাহির লেখা দেখলেই বলতে পারবে এটা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন লিখেছেন। তবুও এর সাথে লেখকের বাকি লেখার আছে বিস্তর ফারাক। • লেখকের অধিকাংশ উপন্যাসেই আপনি দুটি সমান্তরাল কাহিনীকে একসাথে চলতে দেখবেন। এক অধ্যায়ে আপনাকে কৌতূহলী করে দিয়ে পরের অধ্যায়ে পাঠককে দেন গল্পের আরেক দিকের কৌতূহল। তবে কসমোজাহিতে সেটা মিসিং ছিলো। ভেবেছিলাম, ছিনতাই এবং খুনের তদন্তটা সমান্তরালে চলবে। কিন্তু এখানে তেমনটা না হওয়ায় হতাশ হয়েছিলাম। • আবার কাহিনীর ভাঁজে ভাঁজে চরিত্রের ব্যাকস্টোরি অল্পস্বল্প ঢুকিয়ে দেয়ার স্বভাব লেখকের আছে, বিষয়টা উপভোগ্য। তবে এখানে তারও ব্যতিক্রম। • উপন্যাসের হিরু কেই বলা যায় 'মূল হিরো'। তবে, এখানে তার অপরাধ কর্মের পেছনে তার সৎ উদ্দেশ্যটা অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছিলো। এতগুলো চরিত্রের মাঝে চরিত্রটা শুরু থেকে ফোকাসও কম পেয়েছে। লেখকের লেখা 'বাস্টার্ড' চরিত্রের কথা যদি বলি, সেই চরিত্রও কিন্তু অপরাধী, তবে তার সৎ উদ্দেশ্যটা আমরা উপন্যাসে ফোকাস করতে পারি, হিরুর চরিত্রের প্রতি এখানেই অবিচার হয়েছে। যদিও বাস্টার্ড এর মত চরিত্রের সাথে হিরুর তুলনা ঠিক হবে না, তবে উদাহরণ দিতে গিয়ে বলতেই হলো।
'কসমোজাহি' বাস্তব ঘটনার আশ্রয়ে লেখা উপন্যাস। সত্য ঘটনাটার ধারণা আমার নেই। তাই তার কতটুকু অংশ লেখক উপন্যাসে এনেছেন, তাও জানি না। তবে সত্য ঘটনার আশ্রয় হলেও এটা ফিকশন। লেখক চাইলে গল্পটা নিজের মনের মতো আরো গঠনমূলক করে সাজাতে পারতেন। সম্ভবত গল্পটা মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই লেখায় একটা উদ্বিগ্নতা আর তাড়াহুড়োর ছাপ এসে পড়েছে।
• ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.২৫/৫
(প্রোডাকশন নিয়ে আলাদা করে বলার নেই। বাতিঘরের টানটান পৃষ্ঠার বাইন্ডিং। তবে লেখার বর্ডারে যথেষ্ঠ স্পেস থাকায় পড়তে অসুবিধা হয়নি।)
এক নজরে, • বই: কসমোজাহি • লেখক: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন • ধরণ: থ্রিলার উপন্যাস • প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী • প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০২৩ • প্রচ্ছদ: ডিলান • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০ • মুদ্রিত মূল্য: ৩৮০ টাকা
কক্স বাজারে সমুদ্রতীরে ভ্রমণ করতে করতেই এক বিদেশী নাগরিক আবিষ্কার করলেন একটি কুকুর কিছু একটা টেনে বালির বস্তার নিচ থেকে বাইরে নিয়ে আসছে , কিছুটা কাছে যেতেই তিনি আবিষ্কার করলেন সেটি একটি মৃত দেহ। ঘটনার সুরতহাল করে ফেরার পথেই ইন্সপেক্টর গরীবে নেওয়াজ আর একটি মৃত দেহ বালি চাপা অবস্থায় আবিষ্কার করলেন।
এদিকে তার অধীনে থাকা আর একটি কেসের যোগ এই অদ্ভুত কেসটির সাথে কাকতালীয় ভাবেই জুড়ে গেল , আন্তর্জাতিক হাইপ্রোফাইল একটি কেস হওয়ায় সত্ত্বেও খুব দ্রুততার সাথেই তিনি এই কেসের নিষ্পত্তি করলেও ,,,একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প এরই মাঝে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েও মিলিয়ে গেল।
✨ পাঠ প্রতিক্রিয়া - প্রথমেই যেটা বলা উচিত এটি প্রাপ্ত বয়স্কদের বই , বইয়ের চরিত্র গুলির কথোপকথন একেবারেই পাতি বাংলাদেশি ভাষায় হওয়ায় পড়তে ভালো লাগলেও (বাঙাল বলে) অত্যন্ত ক্যামনে কমু ( পুরাই ফাউল ল্যাঙ্গুয়েজ) যারে কয় আর কি।। "ভাষার মায়ের মাসী পিসি" বলতে যা বোঝায় ।।
নাজিম উদ্দিনের আর পাঁচটি গল্পের মতো এটি ঠিক সেই হিসেবে থ্রিলার নয় কিছুটা তদন্ত কারির দিক থেকে ও কিছুটা সাসপেক্টদের জবানবন্দীর ওপর গোটা গল্প দাড়িয়ে, রহস্য সেই রকম ভাবে ডানা মেলেনি , তবে কাহিনী কিন্তু একেবারেই বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই, পাঠক হিসেবে পড়ে অতিরঞ্জিতও মনে হবে না। এক্ষেত্রেই বলতে হয় থ্রিলার পাঠক হিসেবে খুব একটা খুশি হলাম না, গল্পটি আরও রহস্যের দাবি রাখে,সেক্ষেত্রে খামতি লেগেছে।।
গল্পের চরিত্র গুলি সেক্ষেত্রে অনেক বেশি সাবলীল , যদিও তাদের সামাজিক অবস্থানের ফলে তাদের ভাষা সন্ত্রাস পুরো বই জুড়ে থাকলেও , চরিত্র হিসেবে তারা সফল ।। গল্পের মেইন চরিত্রের শেষ পরিণতি বা বলা ভালো ক্লাইম্যাক্স ভালো লাগলেও , কোথাও গিয়ে প্রেডিক্টেবল হয়ে যায় শেষের দিকে গিয়েই ।
***নাজিম উদ্দিন সাহেবের বাকি বই গুলি পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এটি তার লেখা সব থেকে মধ্যমানের কাজ।। মনে হলো কলেজ পড়ুয়া পুরকি মারা পাঠকদের খুশি করতে কেউ তাদের সমসাময়িক একটি বিষয় নিয়ে একটি রহস্য গল্প লিখেছে , যেখানে থ্রিলিং এলিমেন্ট সেই হিসেবে নেই , আবার পড়ার পর খুব একটা যে খারাপ লাগবে তাও জোর দিয়ে বলা যায় না।
**মোটের ওপর একবার পড়া যেতে পারে , শুধু আপসোস এটাই ৩৫০ টাকা দামের ওপর ডিসকাউন্ট দিয়ে যেটাই দাম দারাক না কেন , এই বইয়ের দাম ২০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত না , এক্ষেত্রে পাবলিশার্স লেখকের নাম ভাঙিয়ে বই বিক্রি করে খুব ভালো কাজই করেছেন 👍🏽
গল্পটা সাদামাটা। একটি ছিনতাই ও পরবর্তীকালে ছিনতাইকারীদের মধ্যে অন্তবর্তী কোন্দলের গল্প। গল্পের তেমন কোন বিশেষত্ব নেই, স্রেফ একটি বিষয় ছাড়া, লেখাটা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের। নাজিম উদ্দিন শূন্য থেকে গল্প ফাঁদতে পারেন। সাদামাটা একটা গল্পও জীবন্ত হয়ে ওঠে তার লেখায়। চরিত্রগুলো দুর্দান্তভাবে ডালপালা মেলতে থাকে। বইটির স্টোরিটেলিং লিনিয়ার। আহামরি কোন টুইস্ট নেই। খুব মার মার কাট কাট দৃশ্যায়নও নেই। আছে কেবল প্রাঞ্জল একটি গল্প। লেখকের অন্যান্য উপন্যাসের তুলনায় এটাকে বেশ সাদামাটা প্লটের গল্প বলা চলে। জটিল গল্প লিখতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠে বুঝ�� সহজ-সরল গল্পে হাত দিয়েছেন। কিন্তু পাঠক হিসেবে আমি এক বিন্দুও একঘেয়েমির শিকার হইনি লেখাটা পড়তে গিয়ে। বরং পুরোটা সময় বইয়ের পাতায় সেঁটে ছিলাম। কক্সবাজার আর ঢাকার পটভূমিতে লেখা একটা গল্প। চরিত্রগুলো সব অল্পবয়সী। পাঁচ বন্ধুর একটা দল। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, কেউ টিকটকার, কেউ ফ্লেক্সিলোডের দোকান চালায়। তাদের জীবন আবর্তিত হয় মাদক ও নারীকে কেন্দ্র করে। সাম্প্রতিক কালের তরুণদের জীবন-যাপন দারুণভাবে চিত্রিত হয়েছে বইটিতে। ঢাকা ও কক্সবাজারের নিখুঁত ভৌগলিক ও সামাজিক বর্ণনা উপন্যাসটাকে পরিণত ও বাস্তবধর্মী করে তুলেছে। তরুণ জেনারেশনের ছেলেপেলেদের কাছ থেকে দেখেও আমি তাদের চরিত্র, হাব-ভাব এতটা বুঝতে পারিনি, যতটা এ বইয়ের চরিত্রায়ন পড়ে বুঝেছি। মানুষ চেনা, তাদেরকে চিত্রিত করার ক্ষমতাই হলো প্রকৃত লেখকের গুণ। ছুটির দিনে এক বসায় পড়ে শেষ করেছি সুখপাঠ্য বইটি।
লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের লেখনী নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সাদামাটা কাহিনীকে লেখক এমন ভাবে উপস্থাপন করে যেন পুরো বইটা শেষ না করা অবধি শান্তি পাওয়া যায় না। একনাগাড়ে পড়ে ফেলার মতন এমনই একটা বই "কসমোজাহি"। কসমোজাহি শব্দটার অর্থ জানতে হলে আপনাকে পুরো বইটা শেষ অবধি পড়তে হবে। বইয়ের কাহিনী শুরু হয় কক্সবাজারে এক আমেরিকান নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। লাশ তল্লাশি করার সময় কিছুটা দূরে পাওয়া যায় আরেকটা লাশ। সন্দেহ করা হয় দ্বিতীয় লাশ যার সেই খুনি। কিন্তু সে যদি খুনি হয় তাহলে তাকে কে খুন করেছে? এদিকে উপরমহল থেকে তিনদিনের সময় দেওয়া হয়েছে খুনিকে ধরার জন্য। কিন্তু সন্দেহভাজন খুনি নিজেই তো খু'ন হয়ে গেলো! এর পেছনে কে বা কারা আছে তা বের করতে যেয়ে আরো একটা কেসের জট খুলতে শুরু করে। ভিন্ন এক অসমাপ্ত কেসের সাথে 'কসমোজাহি' শব্দটারই বা কী যোগসূত্র রয়েছে! পুলিশ কী পারবে শেষ পর্যন্ত এই রহস্যের সমাধান করতে?
বইটা পড়ে শেষ করার পর কেমন যেন আক্ষেপ কাজ করছে। রবীন্দ্রনাথের ' শেষ হইয়াও হইল না শেষ ' কথাটা বারবার মনে পড়ছে। হয়তো ফিনিশিংটা এমন নাহলে মানাতো না। তারপরও মানুষের মন তো! অবুঝ চিন্তাভাবনাই মস্তিষ্কে ঘুরে বেশী। বাস্তব এবং কল্পনার মিশেলে লেখা বইটা আমার চমৎকার লেগেছে। কাহিনী এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যেন মনে হয় পুরো গল্পটাই বাস্তব। অথচ তা না! উপর্যুপরি কাহিনীর ধারা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে বইয়ের পাতায়।
মনে আছে, যখন আমি এই তিন মাসের দীর্ঘ ছুটিতে পড়ার জন্য ট্যাগ এ বই যোগ করছিলাম, মনে মনে নিজের কাছেই কথা দিয়েছিলাম যে, প্রত্যেকটা বই পড়ার পর সুদীর্ঘ এবং গোছানো একটা রিভিউ লেখার চেষ্ঠা করবো, এই প্রতিজ্ঞা মনে মনে করাই সার, বাস্তবে আর তা করা হয়ে উঠছে না, রিভিউর জায়গায় আদতে যা লিখছি, তাকে রিভিউ নিশ্চয়ই বলা যায় না, আগাগোড়াই আমার অনুভূতি। এই বই পড়ার সময়কার আমার অনুভূতি নির্বিকার। লেখকের রবীন্দ্রনাথ সিরিজ, কেউ কেউ কথা রাখে পড়ার সময় যে গা ছমছম কী হয় কী হয় অনুভূতি হয়েছিলো, এই বইয়ের ক্ষেত্রে তা হয়নি, বইয়ের নাম শুনে আরো থ্রিলিং কিছুর আশা ছিলো। থ্রিলার উপন্যাসের চেয়ে একজন গোয়েন্দার নিরশ সংবাদ প্রতিবেদনই মনে হয়েছে বেশী। আমি সামান্য পাঠক মাত্র, জানিনা একজন লেখককে বই লেখার সময় কী কী চড়াই-উতড়াই পাড় করতে হয়; প্রিয় লেখকের প্রতি পাঁচ টন শুভকামনা।
অবশ্যই এক অন্য রকম কাজ মোহাম্মদ নাজিমউদ্দীনের। অন্য উপন্যাসগুলোর মতো ঘোর রহস্যে ঘেরা বা তদন্তের প্যাঁচ না থাকলেও রয়েছে পাঁচ জন যুবকের এক সুন্দর গল্প। গল্পের শুরু হয় কক্সবাজার সি-বিচে এক আমেরিকান নাগরিকের লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে। এরপরই এগিয়ে চলে গল্প। পুরো গল্পের বেশিরভাগই যদিও ফ্ল্যাশব্যাকে বলা, তবুও এক সময় মনে হয় হিরু, রাজ, আরিফ, হাসান, রাতুলরা চোখের সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের জীবনের বাঁকবদল, নেশায় মত্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে অনুতাপ -সবটাই চমৎকার ভাবে চিত্রিত করেছেন লেখক। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বইটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়। অবাধ গালাগালিসহ বেশ কিছু বিষয় লেখক গল্পের প্রয়োজনে ফুটিয়ে তুললেও তা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুপযোগী। সর্বোপরি এক অন্যরকম সুন্দর কাজ।
শুরুটা অনেক ভাল ছিল। সময়ের সাথে কেন যেন কাহিনী অনুমান করা যাচ্ছিল। আর শেষের আগেই মোটামুটি কি হতে যাচ্ছে বুঝা গিয়েছিল। প্রচুর গালাগালি আর স্ল্যাং ভাষার ব্যবহার ছিল। অনেক বেশি। হয়তো চরিত্রগুলোর সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় এরকম ভাষার ব্যবহারই স্বাভাবিক কিন্তু সাহিত্যের ক্ষেত্রে আরেকটু কমিয়ে ব্যবহার বাঞ্ছনীয় মনে হয়েছে। স্বল্প সময়ে পড়ার জন্য খারাপ না। একবার পড়ার জন্যও খারাপ না। তবে সংগ্রহ করে রাখার মত বা বারবার পড়ার মত বই না।
This entire review has been hidden because of spoilers.
সত্য ঘটনা আর কল্পনার মিশেলে কাহিনী কেমন যেন মিইয়ে গেছে। নাজিমউদ্দীন ভাইয়ের গতিশীল লিখনীতেও কাহিনী জমেনি। খুব খারাপ লেগেছে বলবো না। তবে, নাজিমউদ্দীন ভাই থেকে বরাবরই প্রত্যাশাটা বেশি থাকে, সেটা পূরোন হয়নি আরকি