জন্ম ৫ জানুয়ারি ১৯৪৯। অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক। প্রথম প্রকাশিত গল্প মৌচাক পত্রিকায়। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততার কারণে সাহিত্যচর্চা অনিয়মিত। তবুও যখনই সুযোগ হয়েছে কলম ধরেছেন ছোটোদের জন্য। হাসির গল্প থেকে শুরু করে সুন্দরবনের কাহিনি, রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার, ভৌতিক-অলৌকিক, এমনকি ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাসও। এ পর্যন্ত শুকতারা, সন্দেশ, কিশোর ভারতী, আনন্দমেলা, আমপাতা জামপাতা, মায়াকানন, ঝালাপালা, শিশুমেলা, রঙবেরঙ প্রভৃতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত গল্প ও উপন্যাসের সংখ্যা কয়েক শত।
প্রথম গ্রন্থ ‘নিউস্ক্রিপ্ট’ প্রকাশিত ‘বাঘবন্দি মন্তর’। তারপর একে একে প্রকাশিত হয়েছে আরও বহু গ্রন্থ। তার কয়েকটি: ‘শিশু সাহিত্য সংসদ’ প্রকাশিত আমবাগানের পদ্মগোখরো, মৃন্ময়ী মন্দিরের তোপদার, সোনার পাহাড়, পাথরের চোখ, জনাইগড়ের জঙ্গল রহস্য। এছাড়া গ্রন্থ প্রকাশ করেছে দেব সাহিত্য কুটির, নির্মল বুক এজেন্সি, মায়াকানন, জয়ঢাক, নৈর্ঋত, অরণ্যমন প্রভৃতি প্রকাশন সংস্থা। তার সাম্প্রতিক কয়েকটি: নিশুতি রাতে আসে, সাঁঝরাতের অন্ধকারে, জল জঙ্গল নরখাদক সমগ্র ১ম খণ্ড, মৃত্যু যখন ডাক দেয়, বাদাবনে আতঙ্ক, হঠাৎ এল হার্মাদ, বর্মার অন্ধকারে, মায়ংয়ের মন্ত্র, সাক্ষী ছিলেন পূর্ণচন্দ্র প্রভৃতি।
জল জঙ্গল নরখাদক সমগ্র আমার কাছে একটা আয়েশী বই। আরাম করে সময় নিয়ে তারিয়ে তারিয়ে এর প্রত্যেকটা গল্পের রস আমি আহরণ করি। দুবার তিনবার করে পড়ি।
জঙ্গল নিয়ে পড়ে থাকতে আমার ককখনো একঘেয়েমি লাগে না। শিশির বিশ্বাস অনেক যত্ন নিয়ে গল্পগুলো লিখেছেন। ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যও ঠিক একই রকম যত্ন নিয়ে বইটির সমস্ত অলংকরণ করেছেন। মোট কথা বইটি যত্ন নিয়ে নিজের কাছে রাখার মতো একটা বই। তৃতীয় খন্ডটা আমার দিকে তাকিয়ে উকিঝুকি মারছে। ফেলে রাখাটা ঠিক হবে না।
প্রথম খন্ডের তুলনায় একটু কম বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল। শেষের মিনি উপন্যাস 'আঁধার রাতের আর্তনাদ' দারুণ। সুন্দরবন, বাঘ, প্রত্নতত্ত্ব, পর্তুগীজ, তন্ত্র মিলিয়ে ঘুঁটা টা ভালো ছিল। জাঙ্গল হরর। এর পাশাপাশি 'কালীকামারের সাঁড়াশি', 'দীনবন্ধু আর বাদাজঙ্গলে যায়না', 'চামটার জঙ্গলে ডাকাত', 'বাঘের বউ', 'বাদাবনের আর এক আতঙ্ক', 'নিশিবস্তির ছেলে' - এই গল্পগুলো ভালো লেগেছে।