বধ্যভূমিতে যাবার জন্য প্রতীক্ষারত বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ জানতে চাইলেন তাঁর পরিচয়। অন্ধকারের মধ্য থেকে সেই কণ্ঠস্বর আত্মপরিচয় দান করে বলল, আমি হলাম সম্রাট ধননন্দর প্রেতাত্মা। তারপর... পরমান্ন
তুঙ্গভদ্রার ওপারেই যবন সেনাপতির তাঁবু। যে কোনো মুহূর্তেই তারা প্রবেশ করবে বিজয়নগরে। লুণ্ঠিত হবে সম্পদ, ধর্ষিতা হবে নারীরা। নাগরিকরা ত্যাগ করতে শুরু করেছে এ শহর। ঠিক সেই সময় এক প্রাচীন মন্দিরে..... রক্ত আরতি
মোগল রাজবংশের ইতিহাসে তিনি বিদুষী নারী। তিনি কবি আবার কেউ তাকে রহস্যময়ী জাদুকরীও বলেন। সম্রাট তাঁর আব্রু রক্ষার জন্য উঁচু প্রাকার তুলে দিলেন প্রমোদউদ্যানে। কিন্তু প্রাকার কি রুদ্ধ করতে পারে প্রেম কাহিনিকে ?..... শাহজাদির আশিক
তিনটি ইতিহাস আশ্রিত কল্পগল্পের সংকলন 'শাহজাদির আশিক' । ইতিহাস থেকে কোন একটা ঘটনার সামান্য উপকরণ নিয়েই লেখক সাজিয়েছেন প্রত্যেকটি গল্প। তবে ইতিহাস থেকে যে অতিকল্পনা ফেদেছেন লেখক তাকে কোন মতেই ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে মার্ক দেওয়া যায় না।
প্রথম উপন্যাস 'পরমান্ন'। উপন্যাসের পাত্র পাত্রী সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এবং দুর্ধরা। প্রতিদিন বিষ্ণুগুপ্ত ওরফে চাকন্য চন্দ্রগুপ্তকে একভাড় পরমান্ন নিজ হস্তে রান্না করে খেতে দেন। রানী দুর্ধরার অনেক দিন এর ইচ্ছে সেই পরমান্ন একটু চেখে দেখবে। কিন্তু গুরুদেবের নিষেধ এই রান্না একমাত্র সে নিজে ছাড়া কেউ খেতে পারবেনা। শেষে দেখা যায় রানী নন্দনীর পরামর্শে দুর্ধরা সেই পরমান্ন খায় ও গর্ভবতী অবস্থায় দুর্ধরা মারা যায়। শেষ জীবনে এসে এই ঘটনা চাকন্য সম্পূর্ণ বিস্তারিত ভাবে নন্দ সম্রাট ধননন্দের প্রেতকে বলে। সম্পূর্ণ ঘটনা কাল্পনিক হলেও পড়তে খারাপ না। টুইস্ট অনুমেয় ।
দ্বিতীয় উপাখ্যান 'রক্ত আরতি'। বিজয়নগর এর রাজা বিরূপাক্ষ দেবরায়। রাজকন্যা অনঘার সাথে বিরূপাক্ষের পার্শ্বচর শূলপানির প্রনয়। এমন সময় রাজা জানতে পারে রাজ্যে বহমানের শাসক মহন্মদ গাওয়ানের সেনারা বিজয়নগর আক্রমন করবে। সবাই রাজ্যে ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এক রাজ ভৃত্য অত্রি নামে এক যুবক যে রাজ্যেকে বাচানোর জন্যে এগিয়ে আসে।শেষ পযর্ন্ত বিজয়নগরের অবস্থা কি হলো?সামান্য এক ভৃত্য অত্রির সাথে রাজকন্যা অনঘার প্রনয় হলো কি করে? শূলপানি কেন অত্রিকে খুন করবার চক্রান্ত করলো? গল্পটার শেষটা ঠিক যুতসই যুক্তিযুক্ত মনে হয় নি।
তৃতীয় উপাখ্যান 'শাহজাদির আশিক' । মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের জ্যেষ্ঠ কন্যা জেব-উন-নিসার সাথে লাহোরের শাসক রেজার প্রনয় নিয়ে এই কাহিনী। এই লেখাটা চরম বিরক্তিকর ছিল। ঐতিহাসিক প্রেম দেখানোর জন্য এরকম রগরগে বর্ননা এই প্রথম দেখলাম। যার ঐতিহাসিক সত্যতা নেই তা নিয়ে এরকম চটি গল্প লেখার নজির হিমাদ্রির ছিল না। সেটাও পেয়ে গেলুম।
মোটমাট হিমাদ্রির অসংখ্য গল্প উপন্যাস আমি পড়েছি। কিন্তু এইটা আমাকে মারাত্মক হতাশ করেছে।