গণদেবতা উপন্যাসের দুটি খন্ড, চণ্ডীমণ্ডপ এবং পঞ্চগ্রাম। কিন্তু চণ্ডীমণ্ডপ নামটি ছাড়িয়ে কিভাবে যেন উপন্যাসের প্রথম খন্ডটি গণদেবতা নামে পরিচিত হওয়ায় পঞ্চগ্রাম প্রায় আড়ালে পরে গেছে।
গণদেবতা বা চণ্ডীমণ্ডপ শেষ হয় হাহাকার নিয়ে। পঞ্চগ্রাম শুরু হয় ঠিক সেখান থেকেই। জমিদারের অন্যায়ভাবে খাজনাবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এবার আশেপাশের পাঁচ গ্রাম রুখে দাঁড়ায়। খাজনা দিতে তারা অস্বীকৃতি জানায়। শ্রীহরি ঘোষ ও অন্যান্য জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় হিন্দু-মুসলমান সবাই। এদিকে গ্রামের ধনীকশ্রেণির গভীর ষড়যন্ত্র চলে, নিপীড়িত মানুষদের তারাও নানাভাবে জব্দ করে ফেলে। এসব কিছু থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চায় দেবু। আপনজনদের আকস্মিক মৃত্যু তাকে স্তব্ধ করে দ���য়েছে। সবার বিপদে এগিয়ে যাওয়া, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা দেবু যেন এসব কাজে ক্লান্ত। তবুও খাজনাবৃদ্ধির বিবাদে জড়িয়ে যায় দেবু, তার উপরই যেন এই নিপীড়িত গোষ্ঠীর নির্ভরতা। খাজনাবৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে পরার দরুন শ্রীহরি ঘোষ ও অন্যান্য সুবিধাবাদী গোমস্তাদের রোষানলে পরতে হয় তাকে, শ্রীহরিদের গভীর ষড়যন্ত্রে তার উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। গ্রামের লোকেরাও দেবুর অপবাদে বিশ্বাস করে। এখানে গ্রামের জনগোষ্ঠীর স্বার্থপরতা চোখে পড়ে। এরই মাঝে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামে প্রচন্ড বন্যা হয়। এসময় গ্রামবাসী কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে শ্রীহরি। গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম দুটি উপন্যাসেই শ্রীহরির অন্যায় মনোভাবের পাশাপাশি উদার মনোভাব চোখে পড়ে। বন্যায় বাঁধ রক্ষা করতে গিয়ে পানির স্রোতের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হয় দেবু। তার সাহসিকতার খবর কলকাতার খবরের কাগজ পর্যন্ত ছাপায়। এরপর অনেক জায়গা থেকে গ্রামের জন্য সাহায্য আসতে থাকে। বন্যা হওয়ায় খাজনার ব্যপার নিয়েও মিটমাট হয়। তবুও গ্রামের মানুষের অর্থ ও খাদ্য সংকট যায় না। এরই মাঝে অনিরুদ্ধ ফিরে আসে, যদিও পদ্ম তত দিনে হারিয়ে যায়। অনিরুদ্ধের সাহায্যে গ্রামের মানুষ কলে কাজ করতে থাকে। তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়। গ্রামের মানুষদের সমস্যার সমাধান হতে থাকে। দেবুও সব কাজ সমাধা করে তীর্থে যায়। তীর্থ থেকে ফিরে সে এক নতুন শিবকালিপুর কে দেখে, যেখানে মানুষ নিজেদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও গল্পের শেষ এখানেই না। এরপর আবার গ্রামবাসীর আর্থিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে, অন্যায়ভাবে আবার মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া হয়। এত কিছুর পর আর ক্লান্ত না হয়ে দেবু যেন তখন আবার জীবনের অর্থ খুজে পেতে থাকে, সকল কর্মশক্তি ফিরে আসে তার। গ্রামকে আবার নতুন করে গড়ে তুলতে কাজে নেমে পরে সে।
উপন্যাসের আর উল্লেখযোগ্য চরিত্র বৃদ্ধ ন্যায়রত্ন, তাঁর পৌত্র বিশ্বনাথ, রহম শেখ, তিনকড়ি, স্বর্ণ, জগন ডাক্তার, দুর্গা।