What do you think?


মরণোত্তম
প্রেসক্লাবের সামনের ভিড় বাড়তে বাড়তে চলে এসেছে রাস্তা অবধি ৷ অফিসফেরত বাসযাত্রীদের বাসগুলো আটকে পড়েছে ৷ ফলে রাস্তার জ্যাম ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে৷ কৌতূহলী মানুষ তাদের জরুরি কাজ ফেলে ভিড়ের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে ৷ কিন্তু পেছন থেকে সামনের ঘটনার কিছুই দেখা যাচ্ছে না ৷ ফলে কেউ কেউ উঠে গেছে ওভারব্রিজের ওপরে ৷ দু-একজন তরতর করে রেইনট্রি গাছের ডাল বেয়ে উঠে গেছে ৷ আশপাশের বাসা, অফিসের ছাদেও উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে ৷ কিন্তু ঘটনা কী ? ঘটনা হল ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়ানো শীর্ণকায় শরীরের মানুষটা ৷ তাঁর নাম আজিজ মাস্টার ৷ আজিজ মাস্টার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দাঁড়িয়ে আছেন প্রেসক্লাবের সামনে ৷ তার বাঁ হাতে ধরা একখানা মশাল ৷ আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সেই মশাল থেকে গায়ে আগুন ধরাবেন ৷ কিন্তু একটু দেরি করছেন ৷ কারণ তাঁর গলায় একখানা ছোট ব্ল্যাকবোর্ড ঝোলানো ৷ সেই ব্ল্যাকবোর্ডে চক ঘষে স্পষ্ট বড় বড় অক্ষরে লেখা আমিই ‘কোহিনুরের বাবা...’
94 pages, Unknown Binding
First published February 1, 2020
About the author
Sadat Hossain
41 books389 followersSadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015. Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 25 of 25 reviews
July 31, 2020
সাদাত হোসাইনের লেখা পড়লাম এই প্রথম।খুব সম্ভবত বর্তমান সময়ের জনপ্রিয়তম লেখক তিনিই।দেরিতে হলেও তার লেখা পড়া হলো অবশেষে।এবং পড়ার পর মনে হচ্ছে,কেন পড়লাম?না পড়লেই বরং ভালো হতো।
যাই হোক,প্রশ্ন হলো সাদাত হোসাইনের কেমন লেখেন?
'মরণোত্তম' এবছরের বইমেলায় প্রকাশিত উপন্যাস।সুতরাং,লেখক হিসেবে সাদাত হোসাইন এখন যথেষ্ট পরিপক্ব তা বলা যায়।
মূলত লেখক একটি ধর্ষণের প্রতিবাদের ব্যাকড্রপে বর্তমান প্রজন্মের অমানবিকতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।কিন্তু তিনি সেক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ।লেখনীতে কোন নতুনত্ব নেই।যেসব মেটাফোর ব্যবহার করেছেন সবই হুমায়ূনীয় মেটাফোর।এছাড়া আছে,আঞ্চলিক-প্রমিত ভাষার জগাখিচুড়ি।মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠার বই তবুও বারবার মনে হয় অযথা টেনে লম্বা করা।কথোপকথন চরম লেভেলের একঘেয়ে।এতোগুলো বই লেখার পরও বারবার মনে হয় এটা কাঁচা হাতের লেখা।অথচ প্লট ছিলো দুর্দান্ত...পুরোপুরি ওয়েস্টেড!
সাদাত হোসাইনকে আরও ম্যাচিউর হতে হবে লেখার ক্ষেত্রে।যত্নশীল হতে হবে ভাষা ব্যবহারের প্রতি।ছাড়তে হবে হুমায়ূনীয় মেটাফোর অনুকরণ করার প্রবণতা।নাহলে,এই জনপ্রিয়তা হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে।অকাল জনপ্রিয়তা সাদাত হোসাইনের জন্যে কাল হয়েছে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে।
শুভকামনা সাদাত হোসাইনের জন্যে।
যাই হোক,প্রশ্ন হলো সাদাত হোসাইনের কেমন লেখেন?
'মরণোত্তম' এবছরের বইমেলায় প্রকাশিত উপন্যাস।সুতরাং,লেখক হিসেবে সাদাত হোসাইন এখন যথেষ্ট পরিপক্ব তা বলা যায়।
মূলত লেখক একটি ধর্ষণের প্রতিবাদের ব্যাকড্রপে বর্তমান প্রজন্মের অমানবিকতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।কিন্তু তিনি সেক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ।লেখনীতে কোন নতুনত্ব নেই।যেসব মেটাফোর ব্যবহার করেছেন সবই হুমায়ূনীয় মেটাফোর।এছাড়া আছে,আঞ্চলিক-প্রমিত ভাষার জগাখিচুড়ি।মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠার বই তবুও বারবার মনে হয় অযথা টেনে লম্বা করা।কথোপকথন চরম লেভেলের একঘেয়ে।এতোগুলো বই লেখার পরও বারবার মনে হয় এটা কাঁচা হাতের লেখা।অথচ প্লট ছিলো দুর্দান্ত...পুরোপুরি ওয়েস্টেড!
সাদাত হোসাইনকে আরও ম্যাচিউর হতে হবে লেখার ক্ষেত্রে।যত্নশীল হতে হবে ভাষা ব্যবহারের প্রতি।ছাড়তে হবে হুমায়ূনীয় মেটাফোর অনুকরণ করার প্রবণতা।নাহলে,এই জনপ্রিয়তা হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে।অকাল জনপ্রিয়তা সাদাত হোসাইনের জন্যে কাল হয়েছে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে।
শুভকামনা সাদাত হোসাইনের জন্যে।
February 12, 2020
ছোট মরিচ। কিন্তু ঝাল খুব বেশি! সাদাত হোসেনের বেশিরভাগ বইয়ের সাইজই হয় বেশ বড়, অনেক সময় অভিযোগও করা হয় গল্প টেনে বড় করার।
তবে "মরণোত্তম" ছোট্ট বই। পড়তে বড়জোর এক ঘন্টার মত লাগবে। টেনে বড় করা হয় নি অযথা। কিন্তু বই শেষ না করে উঠতে পারবেন না।
বইটি বেশ বড়সড় নাড়া দিবে পাঠককে। বর্তমান সমাজের মন-মানসিকতাকে।
গল্পে কিছু ভুল ত্রুটিও ছিল। তবুও সেগুলো আমি ইগনোর করে "৫ তারা" ই দিচ্ছি। কারণ বইয়ের মেসেজটা৷
আমার কাছে সাদাতের সেরা লেখা "মরণোত্তম"৷
তবে "মরণোত্তম" ছোট্ট বই। পড়তে বড়জোর এক ঘন্টার মত লাগবে। টেনে বড় করা হয় নি অযথা। কিন্তু বই শেষ না করে উঠতে পারবেন না।
বইটি বেশ বড়সড় নাড়া দিবে পাঠককে। বর্তমান সমাজের মন-মানসিকতাকে।
গল্পে কিছু ভুল ত্রুটিও ছিল। তবুও সেগুলো আমি ইগনোর করে "৫ তারা" ই দিচ্ছি। কারণ বইয়ের মেসেজটা৷
আমার কাছে সাদাতের সেরা লেখা "মরণোত্তম"৷
February 23, 2020
উপন্যাসটা আমাদের সমাজ নিয়ে, সমাজের নাজুক একটা দিকের স্বরূপ লেখক কলমের খোঁচায় স্পষ্ট করেছেন। লেখকের ভাষায়, 'মরণোত্তম আসলে প্রচণ্ড এক চপেটাঘাত। ঠুলি পরে থাকা অসংখ্য অন্ধ চোখে আঙুল পুরে দেওয়া।'
আর ঐ একটা দিককে আঘাত করতে যেয়ে আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরেছেন আরো কয়েকটা নাজুক দিক।
বিচারহীনতার এই দেশে ধর্ষকদের বিচার হচ্ছে না। কিংবা ফেসবুকের যুগের মানুষদের অসারতা,স্থুলতা, বাতুলতা, অপরিপক্ব আগ্রহ- তারা কতটা অন্যায়ের বিচার প্রকৃতভাবে চায়- আর কতটা চায় হুজুগে- সবকিছুই আছে এতে। আছে দূর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার। এই সমাজের নৈতিক স্খলনের বিভিন্ন দিককে ইঙ্গিত করে লেখা এই উপন্যাসের মূল কথা- বর্তমান সমাজে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটাই ভাল, বেঁচে থেকে এখানে কিছু হয় না। বরং একটা করে মৃত্যু হয় আর সেই মৃত্যুর বিনিময়ের সমাজের টনক নড়ে। খুব নির্জলা সত্য কথা, আমাদের চোখের সামনে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। এই ঘরানার সাহিত্য আজকাল অপ্রতুল, লেখককে সাধুবাদ জানাতেই হবে।
উপন্যাস পড়তে গিয়ে পাঠক হিসেবে মনে একটা প্রশ্ন আসে, ৯৩ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত এই উপন্যাসটা আমাদের যা বোঝাতে চায়- তার জন্যে ৯৩ পৃষ্ঠাই কি বেশি হয়ে যায় না? আজিজ মাস্টার ও আসাদ নামে একজন কবির কথোপকথনই এই উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তি হয়ে স্পষ্ট হবে পাঠকের সামনে। যেই কথোপকথন কিছু কিছু জায়গায় হয়তো প্রয়োজনেই ছিল বেশ নীরস। উপন্যাসটা কেবল ৯৩ পৃষ্ঠা বলে উপন্যাসটা পড়ে ফেলা যায় একটানে। আর খানা কতেক পাতা যদি বেশি হতো তাহলে পাঠক হয়তো এই দারুণ বার্তাবাহী উপন্যাসেও অসহিষ্ণু হয়ে উঠতো! একটা উপন্যাস না হয়ে একটা আখ্যানমূলক জমজমাট ৩০-৩৫ পাতার গল্পও কিন্তু হতে পারত এই প্লট৷
উপন্যাসটা শুরু থেকে শেষপর্যন্ত পাঠক একটা বৃত্তের বাইরে থেকে পড়ে যাবেন। হৃদয়গ্রাহী ঝরঝরে লেখা তাকে বৃত্তের ভেতরে ঢোকার আমন্ত্রণ জানাবে, পাঠক ঢুকতেও চাইবেন। কিন্তু উপাদানের অভাবে বৃত্তের বাইরে থেকেই পাঠককে শেষ করতে হবে উপন্যাসটা। তারপরেও এই উপন্যাস আমাদের সমাজের বর্তমানের প্রকট একটা সমস্যা যেভাবে চোখে আঙুল দিয়ে পাঠককে দেখাবে- তা ঔপন্যাসিকেরই কৃতিত্ব, গৌরব।
পাঠককে উপন্যাস পড়ার সময় কমিক রিলিফ দিতে আজিজ মাস্টারের স্বপ্নে চলে এসেছেন তার বাবা। আজিজ মাস্টারের বাবার সাথে তার কথোপকথন পাঠককে আনন্দ দিবে।
-- তুই ঢাকায় যাচ্ছিস কেন?
-- স্কুল বাঁচাতে।
-- স্কুলের কি পরাণ আছে নি যে মরণ-বাঁচন থাকবো?
-- জি আব্বা আছে।
-- ঢাকায় গেলে স্কুল বাঁচবে?
-- চেষ্টা করতে দোষ কী?
-- চেষ্টা করতে দোষ নাই। কিন্তু অযথা চেষ্টায় সময় নষ্ট।
-- কোন চেষ্টাই অযথা না আব্বা।
-- অবশ্যই অযথা। এই যে বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিস, এখন এই বাস যদি রাস্তার মাঝখানে বন্ধ হয়ে যায়, আর তুই একা যদি সেই বাস ঠেলে ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করিস, তাহলে সেই চেষ্টা অযথা হবে না?
আসাদ চরিত্রটির সংলাপে পাঠক খুব আগ্রহ এবং আনন্দ খুঁজে পাবেন নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
-- সাংবাদিকদের খবর দিতে হবে। চা-বিস্কুট খাওয়াতে হবে। যাওয়ার সময় হাতের ফাঁকে সামান্য টাকাপয়সাও গুঁজে দিতে হবে। এইটারে আবার ঘুষ ভাইবেন না স্যার। এইটা হলো তাদের আসা-যাওয়ার খরচ। ভাড়া বা নিজেদের গাড়ির তেলের খরচ। নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে তারা আপনার সংবাদ কভার করতে কেন আসবে বলেন? সবকিছুরই তো একটা সিস্টেম আছে, আছে না?
এই দুইটি সংলাপসহ উপন্যাসের বিভিন্ন অংশের লেখনশৈলীর সাথে আমার মনে হয়েছে আমরা পাঠকেরা পরিচিত। এ ধরণের লেখনশৈলী আমাদের আকর্ষণ করে অনেক আগ থেকে। লেখক সাদাত হোসাইনের জনপ্রিয়তা দেখে হয়ত এই কথা বলার আর উপায় নেই, তিনি এ ধরণের লেখনশৈলী দ্বারা প্রভাবিত। বরং অনেক পাঠক এই কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন যে, তিনি নিজেও এই ধরণের লেখনশৈলীর অংশীদার।
উপন্যাসে ব্যবহৃত কবিতার লাইনটা দারুণ পছন্দ হয়েছে। সেই লাইনটা দিয়েই শেষ করি-
"সেই সে মিছিলে, তুমিও কি ছিলে, নাকি ছিল শুধু একা কেউ?
জেনে রেখো আজ, একা এ আওয়াজ, হবে শত সহস্র ঢেউ।"
আর ঐ একটা দিককে আঘাত করতে যেয়ে আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরেছেন আরো কয়েকটা নাজুক দিক।
বিচারহীনতার এই দেশে ধর্ষকদের বিচার হচ্ছে না। কিংবা ফেসবুকের যুগের মানুষদের অসারতা,স্থুলতা, বাতুলতা, অপরিপক্ব আগ্রহ- তারা কতটা অন্যায়ের বিচার প্রকৃতভাবে চায়- আর কতটা চায় হুজুগে- সবকিছুই আছে এতে। আছে দূর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার। এই সমাজের নৈতিক স্খলনের বিভিন্ন দিককে ইঙ্গিত করে লেখা এই উপন্যাসের মূল কথা- বর্তমান সমাজে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াটাই ভাল, বেঁচে থেকে এখানে কিছু হয় না। বরং একটা করে মৃত্যু হয় আর সেই মৃত্যুর বিনিময়ের সমাজের টনক নড়ে। খুব নির্জলা সত্য কথা, আমাদের চোখের সামনে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। এই ঘরানার সাহিত্য আজকাল অপ্রতুল, লেখককে সাধুবাদ জানাতেই হবে।
উপন্যাস পড়তে গিয়ে পাঠক হিসেবে মনে একটা প্রশ্ন আসে, ৯৩ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত এই উপন্যাসটা আমাদের যা বোঝাতে চায়- তার জন্যে ৯৩ পৃষ্ঠাই কি বেশি হয়ে যায় না? আজিজ মাস্টার ও আসাদ নামে একজন কবির কথোপকথনই এই উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তি হয়ে স্পষ্ট হবে পাঠকের সামনে। যেই কথোপকথন কিছু কিছু জায়গায় হয়তো প্রয়োজনেই ছিল বেশ নীরস। উপন্যাসটা কেবল ৯৩ পৃষ্ঠা বলে উপন্যাসটা পড়ে ফেলা যায় একটানে। আর খানা কতেক পাতা যদি বেশি হতো তাহলে পাঠক হয়তো এই দারুণ বার্তাবাহী উপন্যাসেও অসহিষ্ণু হয়ে উঠতো! একটা উপন্যাস না হয়ে একটা আখ্যানমূলক জমজমাট ৩০-৩৫ পাতার গল্পও কিন্তু হতে পারত এই প্লট৷
উপন্যাসটা শুরু থেকে শেষপর্যন্ত পাঠক একটা বৃত্তের বাইরে থেকে পড়ে যাবেন। হৃদয়গ্রাহী ঝরঝরে লেখা তাকে বৃত্তের ভেতরে ঢোকার আমন্ত্রণ জানাবে, পাঠক ঢুকতেও চাইবেন। কিন্তু উপাদানের অভাবে বৃত্তের বাইরে থেকেই পাঠককে শেষ করতে হবে উপন্যাসটা। তারপরেও এই উপন্যাস আমাদের সমাজের বর্তমানের প্রকট একটা সমস্যা যেভাবে চোখে আঙুল দিয়ে পাঠককে দেখাবে- তা ঔপন্যাসিকেরই কৃতিত্ব, গৌরব।
পাঠককে উপন্যাস পড়ার সময় কমিক রিলিফ দিতে আজিজ মাস্টারের স্বপ্নে চলে এসেছেন তার বাবা। আজিজ মাস্টারের বাবার সাথে তার কথোপকথন পাঠককে আনন্দ দিবে।
-- তুই ঢাকায় যাচ্ছিস কেন?
-- স্কুল বাঁচাতে।
-- স্কুলের কি পরাণ আছে নি যে মরণ-বাঁচন থাকবো?
-- জি আব্বা আছে।
-- ঢাকায় গেলে স্কুল বাঁচবে?
-- চেষ্টা করতে দোষ কী?
-- চেষ্টা করতে দোষ নাই। কিন্তু অযথা চেষ্টায় সময় নষ্ট।
-- কোন চেষ্টাই অযথা না আব্বা।
-- অবশ্যই অযথা। এই যে বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিস, এখন এই বাস যদি রাস্তার মাঝখানে বন্ধ হয়ে যায়, আর তুই একা যদি সেই বাস ঠেলে ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করিস, তাহলে সেই চেষ্টা অযথা হবে না?
আসাদ চরিত্রটির সংলাপে পাঠক খুব আগ্রহ এবং আনন্দ খুঁজে পাবেন নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
-- সাংবাদিকদের খবর দিতে হবে। চা-বিস্কুট খাওয়াতে হবে। যাওয়ার সময় হাতের ফাঁকে সামান্য টাকাপয়সাও গুঁজে দিতে হবে। এইটারে আবার ঘুষ ভাইবেন না স্যার। এইটা হলো তাদের আসা-যাওয়ার খরচ। ভাড়া বা নিজেদের গাড়ির তেলের খরচ। নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে তারা আপনার সংবাদ কভার করতে কেন আসবে বলেন? সবকিছুরই তো একটা সিস্টেম আছে, আছে না?
এই দুইটি সংলাপসহ উপন্যাসের বিভিন্ন অংশের লেখনশৈলীর সাথে আমার মনে হয়েছে আমরা পাঠকেরা পরিচিত। এ ধরণের লেখনশৈলী আমাদের আকর্ষণ করে অনেক আগ থেকে। লেখক সাদাত হোসাইনের জনপ্রিয়তা দেখে হয়ত এই কথা বলার আর উপায় নেই, তিনি এ ধরণের লেখনশৈলী দ্বারা প্রভাবিত। বরং অনেক পাঠক এই কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন যে, তিনি নিজেও এই ধরণের লেখনশৈলীর অংশীদার।
উপন্যাসে ব্যবহৃত কবিতার লাইনটা দারুণ পছন্দ হয়েছে। সেই লাইনটা দিয়েই শেষ করি-
"সেই সে মিছিলে, তুমিও কি ছিলে, নাকি ছিল শুধু একা কেউ?
জেনে রেখো আজ, একা এ আওয়াজ, হবে শত সহস্র ঢেউ।"
June 1, 2020
"মরণোত্তম মানে কী?
মরণোত্তম মানে যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম।"
~ সাদাত হোসাইন
আজিজ খাঁ মাস্টার ঢাকায় প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্নহত্যা করলেন।কারণ!
কারণ তার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনূর এর ধর্ষণ এর বিচার আদায়।স্কুলের নাম দবির খাঁ মেমোরিয়াল স্কুল। এই স্কুলের সভাপতি হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান নূরুল মোল্লা। তিনি চান স্কুল টা তার নামেই হোক, তাই তিনি স্কুল এমপিওভুক্ত হতে দিচ্ছেন না।শেষ মেষ আজিজ মাস্টার রাজি হন নাম পরিবর্তন করতে।
এদিকে তার স্কুলের ছাত্রী কোহিনূরকে রাস্তায় বিভিন্নভাবে বাজে রকমের হয়রানি করে নূরুল মোল্লার ছেলে রাকিব। আজিজ মাস্টার এ নিয়ে নুরুল মোল্লার কাছে যায় এবং নুরুল মোল্লা আশ্বাস দেয় যে সে এর বিচার করবে। একদিন আজিজ মাস্টারের কথা মতো তাদের বাড়িতে যায় কোহিনূর আর তার বাবা মা।নূরুল মোল্লা অনেক ভাল ব্যবহার করেন এবং কোহিনূরকে তাদের বাড়ি পরে একদিন আসতে বলেন যাতে তিনি রাকিবকে দিয়ে মাফ চাওয়াতে পারেন। কোহিনূর তার কথা মত যায়ও। সেখান থেকে ফেরার পর অনেক সময় সে একমনে বসে থাকে।তারপর আজিজ মাস্টারের বাড়ি যায়, তার মেঝো মেয়ে রুমুকে একটি বাংলা বই দেয় স্যারকে দেওয়ার জন্য। বইয়ের ভেতরে থাকে একটি চিঠি। ঐ রাতেই কোহিনূর আত্নহত্যা করে।
আজিজ মাস্টার গ্রামে কোনো বিচার পাননা। ঢাকা শহরে আসেন তিনি,বিচার চাওয়ার জন্য। প্রেস ক্লাবের সামনেই অনশনে বসেন তিনি একটি ব্ল্যাকবোর্ড নিয়ে, সেখানে লিখা স্কুল এমপিওভুক্তকরনের জন্য অনশন।সেখানে তার পরিচয় হয় আসাদ নামে এক ভবঘুরে যুবক কবির সাথে। সে বলে এভাবে হবে না,দৃশ্য তৈরি করতে হবে! তো আসাদ জেনে যায় আজিজ মাস্টার মূলত কি জন্য এসেছেন। আজিজ ঐ দিন কেরোসিন ঢেলে মশাল হাতে দৃশ্য তৈরি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন! বুকে ঝোলানো একটি কাগজে লিখা "কোহিনূর আমার কন্যা, আমি তার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই।" সবাই ছবি তোলায় ব্যস্ত কেউ তাকে ফেরাতে আসে নি। তিনি ভাবছিলেন কেউ হয়তো ফেরাতে আসবে, কারণ তার পুড়ে মরার ।হঠাৎ করেই তারমাথাটা ঘুরে যায় আর হাত থেকে মশাল শরীরে লেগে যায়।সাথে সাথে আগুন লাগে গায়ে। কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসছে না,কেউ ছবি বা ভিডিও করায় ব্যস্ত! আশ্চর্য তার কোনো ব্যথাই লাগছে না!
এই ঘটনার পর টনক নড়ে সবার। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়।
এদেশ বড় অদ্ভুত। সব আন্দোলন করেই অর্জন করতে হয়।
মরণোত্তম মানে যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম।"
~ সাদাত হোসাইন
আজিজ খাঁ মাস্টার ঢাকায় প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্নহত্যা করলেন।কারণ!
কারণ তার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনূর এর ধর্ষণ এর বিচার আদায়।স্কুলের নাম দবির খাঁ মেমোরিয়াল স্কুল। এই স্কুলের সভাপতি হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান নূরুল মোল্লা। তিনি চান স্কুল টা তার নামেই হোক, তাই তিনি স্কুল এমপিওভুক্ত হতে দিচ্ছেন না।শেষ মেষ আজিজ মাস্টার রাজি হন নাম পরিবর্তন করতে।
এদিকে তার স্কুলের ছাত্রী কোহিনূরকে রাস্তায় বিভিন্নভাবে বাজে রকমের হয়রানি করে নূরুল মোল্লার ছেলে রাকিব। আজিজ মাস্টার এ নিয়ে নুরুল মোল্লার কাছে যায় এবং নুরুল মোল্লা আশ্বাস দেয় যে সে এর বিচার করবে। একদিন আজিজ মাস্টারের কথা মতো তাদের বাড়িতে যায় কোহিনূর আর তার বাবা মা।নূরুল মোল্লা অনেক ভাল ব্যবহার করেন এবং কোহিনূরকে তাদের বাড়ি পরে একদিন আসতে বলেন যাতে তিনি রাকিবকে দিয়ে মাফ চাওয়াতে পারেন। কোহিনূর তার কথা মত যায়ও। সেখান থেকে ফেরার পর অনেক সময় সে একমনে বসে থাকে।তারপর আজিজ মাস্টারের বাড়ি যায়, তার মেঝো মেয়ে রুমুকে একটি বাংলা বই দেয় স্যারকে দেওয়ার জন্য। বইয়ের ভেতরে থাকে একটি চিঠি। ঐ রাতেই কোহিনূর আত্নহত্যা করে।
আজিজ মাস্টার গ্রামে কোনো বিচার পাননা। ঢাকা শহরে আসেন তিনি,বিচার চাওয়ার জন্য। প্রেস ক্লাবের সামনেই অনশনে বসেন তিনি একটি ব্ল্যাকবোর্ড নিয়ে, সেখানে লিখা স্কুল এমপিওভুক্তকরনের জন্য অনশন।সেখানে তার পরিচয় হয় আসাদ নামে এক ভবঘুরে যুবক কবির সাথে। সে বলে এভাবে হবে না,দৃশ্য তৈরি করতে হবে! তো আসাদ জেনে যায় আজিজ মাস্টার মূলত কি জন্য এসেছেন। আজিজ ঐ দিন কেরোসিন ঢেলে মশাল হাতে দৃশ্য তৈরি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন! বুকে ঝোলানো একটি কাগজে লিখা "কোহিনূর আমার কন্যা, আমি তার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই।" সবাই ছবি তোলায় ব্যস্ত কেউ তাকে ফেরাতে আসে নি। তিনি ভাবছিলেন কেউ হয়তো ফেরাতে আসবে, কারণ তার পুড়ে মরার ।হঠাৎ করেই তারমাথাটা ঘুরে যায় আর হাত থেকে মশাল শরীরে লেগে যায়।সাথে সাথে আগুন লাগে গায়ে। কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসছে না,কেউ ছবি বা ভিডিও করায় ব্যস্ত! আশ্চর্য তার কোনো ব্যথাই লাগছে না!
এই ঘটনার পর টনক নড়ে সবার। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়।
এদেশ বড় অদ্ভুত। সব আন্দোলন করেই অর্জন করতে হয়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
July 9, 2021
সাদাত হোসেইনের বইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক বিশেষ ভাল না। কিন্তু এই ছোট লেখাখানি বেশ ভাল লাগলো। এখানে তার বিরুদ্ধে যে হুমায়ূন আহমেদের জাআ গায়ে দিয়ে লিখতে বসবার অপবাদ আছে তা খুব বেশি দেখা যায় না, আবার সাধারণ একটা বিষয়কে ইনিয়ে বিনিয়ে চারপাতা করবার অভিযোগ থেকেও মুক্তি দেওয়া যায়। সর্বোপরি গল্পের বিষয় এবং প্রধাণ চরিত্রের আর্ক খুব সুন্দর। শুনলাম এটার ওটিটি এডাপশনে ইলিয়াস কাঞ্চনকে কাস্ট করা হয়েছে। রিলিজ হয়েছে কিনা জানিনা। কিন্তু খুব মানাবে বলে মনে হচ্ছে।
August 2, 2020
গল্পের প্লট ভালো কিন্তু সাদাত হোসাইনের সবচেয়ে বড় দোষ হল উনি অনেক অনুকরণপ্রিয়.বর্তমান সময়ের অনেকেরই পছন্দ উনার লেখনী, কিন্তু আমার বরাবরই মনে হয়েছে বিখ্যাত লেখকদের প্রভাবের ছত্রছায়া থেকে উনি বের হতে পারেননি, অনেক টা তীব্র দাবদাহে লোকে যেমন ছায়া খুঁজে ফিরে উনি উনার লেখায় বোধহয় অন্য লেখকের শব্দগুলো কে নিজের মত মডিফাই করে বসিয়ে দিয়ে মনে করেন বাস কেল্লাফতে
রেটিং:🌠🌠.২০
রেটিং:🌠🌠.২০
May 27, 2021
যদি আপনাকে বলা হয় - এই দেশে একটা ধর্ষণের বিচার পাওয়ার বিনিময়ে, একজন জঘন্য অপরাধীর অপরাধের শাস্তি পাওয়ার বিনিময়ে একজন নিরপরাধ মানুষকে প্রকাশ্যে জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে মরতে হবে, তাহলে কি আপনি খুশি হবেন ?
একটি স্কুল তার সব শর্ত পূরণ করার পরেও, সবদিক থেকে যোগ্য হওয়ার পরেও, কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে কেউ একজন সেই স্কুলটা দিনের পর দিন বন্ধ করে রাখবে । আর উক্ত স্কুলের উন্নয়নের দাবিতে সেই স্কুলেরই একজন শিক্ষককে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়ে মরতে হবে, তবেই উন্নয়ন করা হবে । এটা শুনলে কি আপনি খুশি হবেন ?
যিনি আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেই মৃত্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের কাজে ব্যবহার করার জন্য কেউ তাঁকে খুব বড় একটা পুরস্কার দেবেন, এটা শুনলে কি আপনি খুশি হবেন ?
▪️এই প্রশ্নগুলির সাথে ‘মরণোত্তম’ উপন্যাসটির কিছু সম্পর্ক আছে কি নেই সেটা মূল বিষয় নয় । মূল বিষয় হল, বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্নগুলি কি সত্যিই অপ্রাসঙ্গিক ??
📝 ‘গল্পের মানুষ’ সাদাত হোসাইনের যেসব লেখার সাথে আমরা পরিচিত, এই উপন্যাস তার থেকে একদমই আলাদা । খুব স্বল্প পরিসরের এই উপন্যাসের মূল বিষয় ‘সমাজ দর্শন’ । খুব অল্প কয়েকটি চরিত্র এবং ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন বর্তমান সমাজের একটি বাস্তব চিত্র ।
▪️এই উপন্যাসের দুটি মূল চরিত্র ‘আজিজ মাস্টার’ এবং ‘আসাদ’ । আসুন, আমরা এখানে তাদের কথোপকথনের একটু অংশ পড়ে দেখি -
”আপনি যে বললেন কোহিনুর আমার মেয়ে না, এইজন্য আমার বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত, তাই না ?”
আসাদ এই প্রশ্নের কী উত্তর দিবে সে জানে না । তারপরও সে বলল, ‘ঠিক তা না । আমি আসলে বলতে চেয়েছি, আপনার যদি কিছু একটা হয়ে যায় তাহলে তারা কী করবে ?’
‘কী করবে ? তারা কান্নাকাটি করবে । পিতৃহারা হয়ে কষ্ট পাবে । কিন্তু, তাদের কারও কিছু হলে আমি কী করব ?’
‘কিছু হলে মানে ?’
‘ধরুন, যদি কোহিনুরের মতো কিছু হয়ে যায় ?’
‘এমন কিছু হবে না । আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না ।’
‘আল্লাহ না করুক, ধরেন আমার মেয়েদের ক্ষেত্রেও যদি এমন খারাপ কিছু ঘটে যায়, তখন কিন্তু অন্য সব বাবাও এটাই ভাববে যে তাদের ঘরে তাদের মেয়েরা তো ভালো আছে, নিরাপদে আছে । তাই না ? তারা কেন আমার মেয়ের বিচারের দাবিতে এগিয়ে দবে ? আমার মেয়ের জন্য রাস্তায় নেমে তারা কেন নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে ? তখন তাদের সন্তানরাও তো তাদের জন্য দুশ্চিন্তা করবে, তাই না ? তাদের কিছু হয়ে গেলে তাদের ছেলেমেয়েরাও তো তাদের জন্য কাঁদবে, পিতৃহারা হবে । তখন এইসব ভেবে তারাও আমার মতো এভাবে বাড়ি ফিরে গিয়ে নিজের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকবে । আমাকে দেখেও না দেখার ভান করবে । কিন্তু আমি একা তখন কী করব ? আমি তো বাবা, তাই না ?’
আসাদ এই প্রশ্নের জবাব দিল না ।
আজিজ মাস্টার হঠাৎ হাসলেন, ‘ওহ, আমি বারবার শুধু ভুলে যাই, আমি তো শুধু আমার মেয়েদের বাবা । আমি তো অন্য মেয়েদের বাবা নই । আমি তো কোহিনুরেরও বাবা নই । তাই না আসাদ সাহেব ?’
📜 আচ্ছা, বলুন তো ‘মরণোত্তম’ মানে কী ?
▪️জীবিত মানুষটির চেয়ে মৃত মানুষটি যেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেখানে মরণই তো উত্তম । যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম... তাকেই বলে ‘মরণোত্তম’ ।
একটি স্কুল তার সব শর্ত পূরণ করার পরেও, সবদিক থেকে যোগ্য হওয়ার পরেও, কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে কেউ একজন সেই স্কুলটা দিনের পর দিন বন্ধ করে রাখবে । আর উক্ত স্কুলের উন্নয়নের দাবিতে সেই স্কুলেরই একজন শিক্ষককে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়ে মরতে হবে, তবেই উন্নয়ন করা হবে । এটা শুনলে কি আপনি খুশি হবেন ?
যিনি আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেই মৃত্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের কাজে ব্যবহার করার জন্য কেউ তাঁকে খুব বড় একটা পুরস্কার দেবেন, এটা শুনলে কি আপনি খুশি হবেন ?
▪️এই প্রশ্নগুলির সাথে ‘মরণোত্তম’ উপন্যাসটির কিছু সম্পর্ক আছে কি নেই সেটা মূল বিষয় নয় । মূল বিষয় হল, বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্নগুলি কি সত্যিই অপ্রাসঙ্গিক ??
📝 ‘গল্পের মানুষ’ সাদাত হোসাইনের যেসব লেখার সাথে আমরা পরিচিত, এই উপন্যাস তার থেকে একদমই আলাদা । খুব স্বল্প পরিসরের এই উপন্যাসের মূল বিষয় ‘সমাজ দর্শন’ । খুব অল্প কয়েকটি চরিত্র এবং ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন বর্তমান সমাজের একটি বাস্তব চিত্র ।
▪️এই উপন্যাসের দুটি মূল চরিত্র ‘আজিজ মাস্টার’ এবং ‘আসাদ’ । আসুন, আমরা এখানে তাদের কথোপকথনের একটু অংশ পড়ে দেখি -
”আপনি যে বললেন কোহিনুর আমার মেয়ে না, এইজন্য আমার বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত, তাই না ?”
আসাদ এই প্রশ্নের কী উত্তর দিবে সে জানে না । তারপরও সে বলল, ‘ঠিক তা না । আমি আসলে বলতে চেয়েছি, আপনার যদি কিছু একটা হয়ে যায় তাহলে তারা কী করবে ?’
‘কী করবে ? তারা কান্নাকাটি করবে । পিতৃহারা হয়ে কষ্ট পাবে । কিন্তু, তাদের কারও কিছু হলে আমি কী করব ?’
‘কিছু হলে মানে ?’
‘ধরুন, যদি কোহিনুরের মতো কিছু হয়ে যায় ?’
‘এমন কিছু হবে না । আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না ।’
‘আল্লাহ না করুক, ধরেন আমার মেয়েদের ক্ষেত্রেও যদি এমন খারাপ কিছু ঘটে যায়, তখন কিন্তু অন্য সব বাবাও এটাই ভাববে যে তাদের ঘরে তাদের মেয়েরা তো ভালো আছে, নিরাপদে আছে । তাই না ? তারা কেন আমার মেয়ের বিচারের দাবিতে এগিয়ে দবে ? আমার মেয়ের জন্য রাস্তায় নেমে তারা কেন নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে ? তখন তাদের সন্তানরাও তো তাদের জন্য দুশ্চিন্তা করবে, তাই না ? তাদের কিছু হয়ে গেলে তাদের ছেলেমেয়েরাও তো তাদের জন্য কাঁদবে, পিতৃহারা হবে । তখন এইসব ভেবে তারাও আমার মতো এভাবে বাড়ি ফিরে গিয়ে নিজের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকবে । আমাকে দেখেও না দেখার ভান করবে । কিন্তু আমি একা তখন কী করব ? আমি তো বাবা, তাই না ?’
আসাদ এই প্রশ্নের জবাব দিল না ।
আজিজ মাস্টার হঠাৎ হাসলেন, ‘ওহ, আমি বারবার শুধু ভুলে যাই, আমি তো শুধু আমার মেয়েদের বাবা । আমি তো অন্য মেয়েদের বাবা নই । আমি তো কোহিনুরেরও বাবা নই । তাই না আসাদ সাহেব ?’
📜 আচ্ছা, বলুন তো ‘মরণোত্তম’ মানে কী ?
▪️জীবিত মানুষটির চেয়ে মৃত মানুষটি যেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেখানে মরণই তো উত্তম । যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম... তাকেই বলে ‘মরণোত্তম’ ।
May 5, 2021
" মরণোত্তম " বই নিয়ে কিছু কথা :
•• সাদাত হোসাইনের বই পড়ার অনেক ইচ্ছা ছিল | স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত বই আমি বেশি পড়ি বলে উনার লেখা বই পড়ার সৌভাগ্য হয়নি আগে | উনার লেখা বই এই আমার প্রথম পড়া | বইটা আমার মনোযোগ ধরে রেখেছিলো এমনভাবে যে আমি একদিনে বইটা পড়া শেষ করে ফেলি |
•• বইটার মূল চরিত্র আজিজ মাস্টার যার একটা স্কুল আছে গ্রামে | সেই স্কুলের এমপিও ভুক্ত করা নিয়ে তার সংগ্রামের শেষ নেই | আর গ্রামের ক্ষমতাবান ব্যক্তি নুরুল মোল্লা সেই স্কুল নিজের নামে করতে চায় | কারণ একটাই রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন | এর মধ্যেই জানা যায় নুরুল এর ছেলে রাকিব স্কুলের মেয়েদের বিরক্ত করে | এই বিরক্তের প্রতিবাদ জানায় কোহিনুর নামের এক মেয়ে |
•• প্রতিবাদ মেয়েটির জীবনের কাল হয়ে যায় | এবং মেয়েটি এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করে | কেননা ইতিমধ্যে তাকে ধর্ষণ করা হয় | ধর্ষণ করা হয় কারণ সে প্রতিবাদ করেছিল | তবে ধর্ষণ রাকিব করে নি | কে করেছিল জানতে পারলে আপনিও অবাক হবেন |
•• শেষের দিক ছিল খুব করুন | আজিজ মাস্টার ধর্ষণের প্রতিবাদে নিজের গায়ে আগুন লাগান | এবং তার মৃত্যুর পর , তার এই প্রতিবাদ একটা রাজনৈতিক মোড় নেয় |
•• বইটা পড়লে মনে হবে এটা আমার আপনার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বাস্তব এক গল্প | ক্ষমতার প্রভাবে অন্যায় ঢেকে যাওয়ার গল্প | যেকোনো সমস্যা এড়ানো মানুষদের মানসিকতা ও প্রতিবাদী মানুষদের নিয়ে তামাশা করার এক করুন চিত্র ফুটে উঠেছে বইটিতে |
•• কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যু বরণ করাই যে উত্তম তা বইটাতে প্রকাশ পেয়েছে |
•• এই বইটা পড়ার ইচ্ছা জেগেছিলো কেননা এই বইয়ের উপর নির্মাণ হচ্ছে একটা কনটেন্ট | বঙ্গ বব কতৃক নির্মাণ করা হচ্ছে এই গল্পের ভিজ্যুয়াল | আশাকরি গল্পটা চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে তারা |
খুব সংক্ষেপে আমি বইটির মূল বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি | ভুল হলে ক্ষমা করবেন |
•• সাদাত হোসাইনের বই পড়ার অনেক ইচ্ছা ছিল | স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত বই আমি বেশি পড়ি বলে উনার লেখা বই পড়ার সৌভাগ্য হয়নি আগে | উনার লেখা বই এই আমার প্রথম পড়া | বইটা আমার মনোযোগ ধরে রেখেছিলো এমনভাবে যে আমি একদিনে বইটা পড়া শেষ করে ফেলি |
•• বইটার মূল চরিত্র আজিজ মাস্টার যার একটা স্কুল আছে গ্রামে | সেই স্কুলের এমপিও ভুক্ত করা নিয়ে তার সংগ্রামের শেষ নেই | আর গ্রামের ক্ষমতাবান ব্যক্তি নুরুল মোল্লা সেই স্কুল নিজের নামে করতে চায় | কারণ একটাই রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন | এর মধ্যেই জানা যায় নুরুল এর ছেলে রাকিব স্কুলের মেয়েদের বিরক্ত করে | এই বিরক্তের প্রতিবাদ জানায় কোহিনুর নামের এক মেয়ে |
•• প্রতিবাদ মেয়েটির জীবনের কাল হয়ে যায় | এবং মেয়েটি এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করে | কেননা ইতিমধ্যে তাকে ধর্ষণ করা হয় | ধর্ষণ করা হয় কারণ সে প্রতিবাদ করেছিল | তবে ধর্ষণ রাকিব করে নি | কে করেছিল জানতে পারলে আপনিও অবাক হবেন |
•• শেষের দিক ছিল খুব করুন | আজিজ মাস্টার ধর্ষণের প্রতিবাদে নিজের গায়ে আগুন লাগান | এবং তার মৃত্যুর পর , তার এই প্রতিবাদ একটা রাজনৈতিক মোড় নেয় |
•• বইটা পড়লে মনে হবে এটা আমার আপনার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বাস্তব এক গল্প | ক্ষমতার প্রভাবে অন্যায় ঢেকে যাওয়ার গল্প | যেকোনো সমস্যা এড়ানো মানুষদের মানসিকতা ও প্রতিবাদী মানুষদের নিয়ে তামাশা করার এক করুন চিত্র ফুটে উঠেছে বইটিতে |
•• কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যু বরণ করাই যে উত্তম তা বইটাতে প্রকাশ পেয়েছে |
•• এই বইটা পড়ার ইচ্ছা জেগেছিলো কেননা এই বইয়ের উপর নির্মাণ হচ্ছে একটা কনটেন্ট | বঙ্গ বব কতৃক নির্মাণ করা হচ্ছে এই গল্পের ভিজ্যুয়াল | আশাকরি গল্পটা চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে তারা |
খুব সংক্ষেপে আমি বইটির মূল বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি | ভুল হলে ক্ষমা করবেন |
This entire review has been hidden because of spoilers.
February 17, 2020
সাদাত হোসাইনের অন্যান্য বইগুলোর চেয়ে মরণোত্তম কিছুটা আলাদা। সেটা গল্পের পরিসর এবং বিষয়বস্তু দুই দিক দিয়েই।
সাদাত হোসাইনের লেখা আগে যে কয়েকটি পড়েছি তার ভিত্তিতে কখনো মনে হয়নি যে উনি মরণোত্তম এর মত একটু ভিন্ন কিছু নিয়েও লিখবেন। পাঠকদের জন্য এই ভিন্নধর্মী প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।
মরণোত্তম এক গ্রাম্য স্কুলের অতি সাধারণ প্রধান শিক্ষক আজিজ মাস্টারের গল্প। যিনি তার অধিকার আর ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় অবস্থান নেন ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে৷ অতঃপর তার সাথে পরিচয় হয় আসাদ নামের একজন অ-কবির! ধীরে ধীরে আজিজ মাস্টার বুঝতে পারেন এই ব্যস্ত নগরীর নাগরিক কোলাহলের মাঝে একা একা আন্দোলন করে তেমন কিছুই আদায় করা যাবে না৷ তবুও আজিজ মাস্টার দমে যান নি। এক নিদারুণ ত্যাগের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত তার দাবিগুলো পূরণ হয়...
সাদাত হোসাইনের লেখা আগে যে কয়েকটি পড়েছি তার ভিত্তিতে কখনো মনে হয়নি যে উনি মরণোত্তম এর মত একটু ভিন্ন কিছু নিয়েও লিখবেন। পাঠকদের জন্য এই ভিন্নধর্মী প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।
মরণোত্তম এক গ্রাম্য স্কুলের অতি সাধারণ প্রধান শিক্ষক আজিজ মাস্টারের গল্প। যিনি তার অধিকার আর ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় অবস্থান নেন ঢাকার প্রেসক্লাবের সামনে৷ অতঃপর তার সাথে পরিচয় হয় আসাদ নামের একজন অ-কবির! ধীরে ধীরে আজিজ মাস্টার বুঝতে পারেন এই ব্যস্ত নগরীর নাগরিক কোলাহলের মাঝে একা একা আন্দোলন করে তেমন কিছুই আদায় করা যাবে না৷ তবুও আজিজ মাস্টার দমে যান নি। এক নিদারুণ ত্যাগের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত তার দাবিগুলো পূরণ হয়...
August 3, 2020
একই সাথে আশা এবং হতাশার একটি উপন্যাস এটি৷
এই উপন্যাসটি আমাদের বর্তমানের প্রতিবাদ, প্রতিরোধহীন সমাজের প্রতি প্রচন্ড এক চপেটাঘাত। এই উপন্যাসটির শেষের ম্যাসেজগুলো আমাদের সবাইকে নাড়িয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট বটে।
এই উপন্যাসটি আমাদের বর্তমানের প্রতিবাদ, প্রতিরোধহীন সমাজের প্রতি প্রচন্ড এক চপেটাঘাত। এই উপন্যাসটির শেষের ম্যাসেজগুলো আমাদের সবাইকে নাড়িয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট বটে।
February 21, 2020
সাদাত হোসেনের এই বইটা তার অন্য সব বইয়ের থেকে ভিন্ন ধাঁচের।
কাহিনী বেশ সাবলীল, সংক্ষিপ্ত, বর্ণনার ঘনঘটা কম, কিন্তু এক কথায় যদি বলি,
"অসাধারণ!"
বর্তমান কালের সামাজিক সমস্যাগুলো আর সেগুলোর পরবর্তী অবস্থা নিয়ে লেখকের মনে, তথা যেকোনো সচেতন নাগরিকের মনে যে চাপা ক্ষোভ, তারই বহিঃপ্রকাশ হয়ত "মরণোত্তম"
কাহিনী বেশ সাবলীল, সংক্ষিপ্ত, বর্ণনার ঘনঘটা কম, কিন্তু এক কথায় যদি বলি,
"অসাধারণ!"
বর্তমান কালের সামাজিক সমস্যাগুলো আর সেগুলোর পরবর্তী অবস্থা নিয়ে লেখকের মনে, তথা যেকোনো সচেতন নাগরিকের মনে যে চাপা ক্ষোভ, তারই বহিঃপ্রকাশ হয়ত "মরণোত্তম"
January 26, 2021
বই : মরণোত্তম
লেখক : সাদাত হোসাইন
প্রকাশনী : অন্যপ্রকাশ
মুদ্রিত মূল্য : ২২৫ ৳
মোট পৃষ্ঠা : ৯৪
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২০
'মরণোত্তম' শব্দের ভাব অর্থ এমন যে, যেখানে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু উত্তম। লেখক সাদাত হোসাইন তাঁর 'মরণোত্তম' উপন্যাসে এমন একটি কাহিনী চিত্রিত করেছেন, যেখানে জীবনের অপেক্ষা মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানুষের প্রতি মানুষের অমানবিকতা অথবা মানবতাবোধ, দুর্বলের প্রতি ক্ষমতাসীনদের নির্মম অত্যাচার, ফেসবুকের এই যুগে মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা, আমাদের ঘুণে ধরা সমাজের এমন সব বিষয় উঠে এসেছে 'মরণোত্তম' উপন্যাসে। এসব কিছুর মধ্যে অনেক বিষয় বিভিন্ন মাধ্যম যেমন: পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি। কিছু ঘটনা আবার আমাদের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। কিন্তু এসব ঘটনার নেপথ্যে আরো কিছু কথা চাপা থাকে, যা হয়তো আমরা হৃদয়ঙ্গম করতে পারি না অথবা হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টাও করি না।
আবার, এরকম অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়ত আমরা নিজেরাও হয়ে থাকি প্রতিনিয়ত, কিন্তু সেসব কথা কাউকে বোঝাতে পারি না অথবা কেউ বুঝতেও চায় না হৃদয়ের কষ্ট গুলো।
ঠিক এরকম একটি চরিত্র 'মরণোত্তম' উপন্যাসের আজিজ মাস্টার। এক বুক কষ্ট নিয়ে ঢাকায় আসেন তাঁর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন করার জন্য। এখান থেকে আজিজ মাস্টারের পরিচয় হয় আসাদ নামে একজনের সাথে। আজিজ মাস্টার প্রথমে বলতে না চাইলেও আসাদ গভীর মানবিকতার পরিচয় দিয়ে আজিজ মাস্টারের হৃদয় থেকে সবকথা নিংড়ে বের করে আনে। আজিজ মাস্টারের প্রথমে দাবি ছিল তার স্কুলটি যেন এমপিও ভুক্ত করা হয়। কিন্তু আসলেই কি তার দাবি এতটাই সামান্য ছিল?
পাঠক যদি এই বইটা হাতে নিয়ে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করে দেখেন, তাহলে বইটির প্রচ্ছদে দেখবেন একজন দাড়িগোঁফওয়ালা প্রৌঢ় ব্যক্তি হাতে লাল মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার গলায় ঝোলানো রয়েছে একটি ব্ল্যাকবোর্ড এবং তাতে লেখা রয়েছে "আমিই কোহিনুরের বাবা"। তিনি যদি তার স্কুল এমপিওভুক্ত করার জন্যই এসে থাকেন তবে কেন তার গলায় ঝুলানো ব্ল্যাকবোর্ডে এ কথা লেখা আছে কেন?
এসবের অন্তরালে রয়েছে এক করুণ কাহিনী, যা পাঠকের হৃদয়কে বেদনায় বিদীর্ণ করবে। বইটির প্রচ্ছদেই যদিও কাহিনীর অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে, তবুও পাঠকের কৌতূহলকে উজ্জীবিত রাখার জন্য সেসব নেপথ্যের কাহিনী গুলো এখানে উল্লেখ না করে, শুধু এটুকু বলতে পারি যে আপনারা নিশ্চই তনু এবং নুসরাতকে জানেন। এই আজিজ মাস্টার শুধুমাত্র কোহিনুরের বাবা নন, তিনি তনু ও নুসরাতের মত পৃথিবীর সমস্ত নির্যাতিতা মেয়ের বাবা।
সাদাত হোসাইনের লেখা 'মরোণোত্তম' বইটি আমার পড়া তাঁর প্রথম বই। বইটি পড়ার পূর্বে অনেককে বলতে শুনেছি যে, তাঁর লেখার ধাঁচ নাকি বাংলাদেশের কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদের মত। কিন্তু এরকম সাদৃশ্য পরিদৃষ্ট করা খুবই কঠিন কাজ। কেননা, সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের লেখার বৈশিষ্ট্য আলাদা এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ বলয়ের মধ্য থেকে স্বমহিমায় জাজ্বল্যমান।
তবে এটুকু বলতে পারি যে, হুমায়ূন আহমেদের লেখার সহজবোধ্যতা সম্পর্কে বিদগ্ধজন বিদিত। সাদাত হোসাইনের এই বইটিও সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত। এছাড়া, সাদাত হোসাইনের লেখা অধিকাংশ বই বৃহৎ কলেবরের। কিন্তু এই বইটি মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠা হওয়ায় পাঠক এক বসাতে শেষ করে ফেলতে পারবেন এবং বইয়ের ভাষা প্রাঞ্জল হাওয়ায় পাঠকের বইটি হৃদয়ঙ্গম করতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
পরিশেষে বলব, লেখক সমাজের সেইসব নাজুক দিক এই উপন্যাসের প্রতীয়মান করেছেন যেখানে বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদে, যেখানে শোষক করায়ত্ত করে রাখে সমস্ত ন্যায় বিচার। সেইসব শোষকদের বিরুদ্ধের এই বইটি দারুণ এক চপেটাঘাত, যা এই বইয়ের ব্যবহৃত কবিতার দুটি লাইন থেকে অনুমেয়:-
"সেই সে মিছিলে, তুমিও কি ছিলে, নাকি ছিল শুধু একা কেউ?
জেনে রেখো আজ, একা এ আওয়াজ, হবে শত সহস্র ঢেউ।"
লেখক : সাদাত হোসাইন
প্রকাশনী : অন্যপ্রকাশ
মুদ্রিত মূল্য : ২২৫ ৳
মোট পৃষ্ঠা : ৯৪
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২০
'মরণোত্তম' শব্দের ভাব অর্থ এমন যে, যেখানে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু উত্তম। লেখক সাদাত হোসাইন তাঁর 'মরণোত্তম' উপন্যাসে এমন একটি কাহিনী চিত্রিত করেছেন, যেখানে জীবনের অপেক্ষা মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানুষের প্রতি মানুষের অমানবিকতা অথবা মানবতাবোধ, দুর্বলের প্রতি ক্ষমতাসীনদের নির্মম অত্যাচার, ফেসবুকের এই যুগে মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা, আমাদের ঘুণে ধরা সমাজের এমন সব বিষয় উঠে এসেছে 'মরণোত্তম' উপন্যাসে। এসব কিছুর মধ্যে অনেক বিষয় বিভিন্ন মাধ্যম যেমন: পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি। কিছু ঘটনা আবার আমাদের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। কিন্তু এসব ঘটনার নেপথ্যে আরো কিছু কথা চাপা থাকে, যা হয়তো আমরা হৃদয়ঙ্গম করতে পারি না অথবা হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টাও করি না।
আবার, এরকম অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়ত আমরা নিজেরাও হয়ে থাকি প্রতিনিয়ত, কিন্তু সেসব কথা কাউকে বোঝাতে পারি না অথবা কেউ বুঝতেও চায় না হৃদয়ের কষ্ট গুলো।
ঠিক এরকম একটি চরিত্র 'মরণোত্তম' উপন্যাসের আজিজ মাস্টার। এক বুক কষ্ট নিয়ে ঢাকায় আসেন তাঁর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন করার জন্য। এখান থেকে আজিজ মাস্টারের পরিচয় হয় আসাদ নামে একজনের সাথে। আজিজ মাস্টার প্রথমে বলতে না চাইলেও আসাদ গভীর মানবিকতার পরিচয় দিয়ে আজিজ মাস্টারের হৃদয় থেকে সবকথা নিংড়ে বের করে আনে। আজিজ মাস্টারের প্রথমে দাবি ছিল তার স্কুলটি যেন এমপিও ভুক্ত করা হয়। কিন্তু আসলেই কি তার দাবি এতটাই সামান্য ছিল?
পাঠক যদি এই বইটা হাতে নিয়ে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করে দেখেন, তাহলে বইটির প্রচ্ছদে দেখবেন একজন দাড়িগোঁফওয়ালা প্রৌঢ় ব্যক্তি হাতে লাল মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার গলায় ঝোলানো রয়েছে একটি ব্ল্যাকবোর্ড এবং তাতে লেখা রয়েছে "আমিই কোহিনুরের বাবা"। তিনি যদি তার স্কুল এমপিওভুক্ত করার জন্যই এসে থাকেন তবে কেন তার গলায় ঝুলানো ব্ল্যাকবোর্ডে এ কথা লেখা আছে কেন?
এসবের অন্তরালে রয়েছে এক করুণ কাহিনী, যা পাঠকের হৃদয়কে বেদনায় বিদীর্ণ করবে। বইটির প্রচ্ছদেই যদিও কাহিনীর অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে, তবুও পাঠকের কৌতূহলকে উজ্জীবিত রাখার জন্য সেসব নেপথ্যের কাহিনী গুলো এখানে উল্লেখ না করে, শুধু এটুকু বলতে পারি যে আপনারা নিশ্চই তনু এবং নুসরাতকে জানেন। এই আজিজ মাস্টার শুধুমাত্র কোহিনুরের বাবা নন, তিনি তনু ও নুসরাতের মত পৃথিবীর সমস্ত নির্যাতিতা মেয়ের বাবা।
সাদাত হোসাইনের লেখা 'মরোণোত্তম' বইটি আমার পড়া তাঁর প্রথম বই। বইটি পড়ার পূর্বে অনেককে বলতে শুনেছি যে, তাঁর লেখার ধাঁচ নাকি বাংলাদেশের কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদের মত। কিন্তু এরকম সাদৃশ্য পরিদৃষ্ট করা খুবই কঠিন কাজ। কেননা, সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের লেখার বৈশিষ্ট্য আলাদা এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ বলয়ের মধ্য থেকে স্বমহিমায় জাজ্বল্যমান।
তবে এটুকু বলতে পারি যে, হুমায়ূন আহমেদের লেখার সহজবোধ্যতা সম্পর্কে বিদগ্ধজন বিদিত। সাদাত হোসাইনের এই বইটিও সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত। এছাড়া, সাদাত হোসাইনের লেখা অধিকাংশ বই বৃহৎ কলেবরের। কিন্তু এই বইটি মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠা হওয়ায় পাঠক এক বসাতে শেষ করে ফেলতে পারবেন এবং বইয়ের ভাষা প্রাঞ্জল হাওয়ায় পাঠকের বইটি হৃদয়ঙ্গম করতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
পরিশেষে বলব, লেখক সমাজের সেইসব নাজুক দিক এই উপন্যাসের প্রতীয়মান করেছেন যেখানে বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদে, যেখানে শোষক করায়ত্ত করে রাখে সমস্ত ন্যায় বিচার। সেইসব শোষকদের বিরুদ্ধের এই বইটি দারুণ এক চপেটাঘাত, যা এই বইয়ের ব্যবহৃত কবিতার দুটি লাইন থেকে অনুমেয়:-
"সেই সে মিছিলে, তুমিও কি ছিলে, নাকি ছিল শুধু একা কেউ?
জেনে রেখো আজ, একা এ আওয়াজ, হবে শত সহস্র ঢেউ।"
April 22, 2020
গতকালকের পড়া বইয়ের নাম "মরণোত্তম" । যার বাংলা করলে দাড়ায় মরণ ই উত্তম । লেখক সাদাত হোসাইন । গল্পের কাহিনী সরল এবং সোজা । গল্পের মূল চরিত্রের নাম আজিজ মাস্টার । তিনি দবির খাঁ মেমোরিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক । সেই স্কুলের অবস্থা করুণ । তিনি ঢাকাতে যাচ্ছেন স্কুলকে এমপিও ভুক্ত করার দাবীতে । সব কিছু ঠিক থাকার পরেও স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের কারনে তার স্কুল এমপিও ভুক্ত হচ্ছে না । তিনি ঢাকার প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন করবেন ।
ঢাকাতে এসে তিনি প্রেস ক্লাবের সামনে এসে বসে পড়েন নিজের দাবী নিয়ে । মানুষজন মজা নিয়ে দেখে সব কিছু । কিন্তু কোন লাভ হয় না । এসব দাবী দাওয়া নিয়ে কেউ চিন্তিত হয় না । এই অনশনরত অবস্থায় তার পরিচয় হয় আধুনিক কবি আসাদের সাথে । আসাদ তাকে পরিস্থিতির সত্যতা বুঝিয়ে দেয় । তাকে বুঝিয়ে বলে যে এখানে এই ভাবে অনশন করে আসলে কোন লাভ হবে না । কেউ দেখবেও না । এমন কি সে যদি মরেও যায় তবুও কিছু যাবে আসবে না কারো ।
পরের দিন পুলিশের হাতে মাইর খেয়ে আজিজ মাস্টারের জ্বর চলে আসে । আসাদ তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যায় । সেখানে জ্বরের ঘোরে অনেক কিছু বলে । তখনই আজিজ মাস্টারের ঢাকা আসার আসল উদ্দেশ্য জানা যায় । কিছুদিন আগে তার স্কুলের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছিলো । তার নাম ছিল কোহিনুর । কোহিনুরকে চেয়ারম্যানের ছেলে এবং তার সাংপাঙ্গোরা খুবই জ্বালাতন করতো । পথের মাঝে তার ওড়না কেড়ে নিয়ে চুমুও খেয়েছিলো সে এবং সেটা মোবাইল ক্যামেরাতে ভিডিও করা হয়েছিলো । এই নালিশ দেওয়া হয়েছিলো চেয়ারম্যানের কাছে । নালিশটা নিয়ে গিয়েছিলো আজিজমাস্টার । প্রথমে চেয়ারম্যান খুব ভাল ব্যবহার করে এবং আজিজমাস্টারকে বলে যেন কোহিনুর নিজে এসে নালিশটা দিয়ে যায় । কোহিনুর তাই দিয়েছিলো । তার দুইদিন পরেই কোহিনুর আত্মহত্যা করে ।
আত্মহত্যা করার আগে কোহিনুর একটা বই দিয়ে যায় আজিজ মাস্টার কাছে । সেখানে একটা চিঠি লেখা থাকে । সেই চিঠি থেকেই জানা যায় যে চেয়ারমান তাকে ধর্ষন করেছিলো তার পরের দিন । আজিজ মাস্টার নিজেকে অপরাধী ভাবেন । মনে করেন যে তিনি যদি নালিশ নিয়ে না যেতেন তাহলে এতো কিছু হত না । তিনি চেষ্টাও করেন বিচার পাওয়ার কিন্তু চিরায়িত ভাবে পুলিশ থাকে চেয়ারম্যানের হাতে । কোন লাভ হয় না । তাই তিনি ঢাকা চলে আসেন । প্রথমে স্কুল এমপিও ভুক্তি করার দাবী নিয়ে দেখতে চান যে অবস্থা কেমন । কিন্তু হতাশ হন । বুঝতে পারেন যে এমন করে হবে না ।
আসাদ তাকে একবার বুদ্ধি দিয়েছিলো যে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে হয়তো লাভ হলেও হতে পারে । আসান সব কিছু শুনে বলে যে এখানে কোন বিচার বে না । আপনি বরং বাসায় ফেরৎ যান । তাকে গাড়িতে তুলে দেয় সে । কিন্তু আজিজ মাস্টার বাড়িতে যান না । সে আবারও ফিরে যান প্রেস ক্লাবে । গায়ে কেরোসিন ঢেলে হাতে মশাল নিয়ে অপেক্ষা করে । বুকে লেখা থাকে যে সে কোহিনুরের বাবা এবং সে কোহিনুর হত্যার বিচার চায় । খুনির নামও লেখা থাকে । ভিড় বাড়তে থাকে । টিভি চ্যানেল চলে আসে । মানুষ ক্যামেরা বের করে ছবি তোলে ভিডিও করে ।
একটা সময়ে আজিজ মাস্টার অসুস্থবোধ করেন এবং হাত থেকে মশাল পড়ে গিয়ে তার শরীরে আগুন ধরে যায় । সে মারা যায় ।
এরপর দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে । চেয়ারম্যান আর তার ছেলের শাস্তি হয় । সেই পুলিশকে গ্রেফতার কর হয় ।
এই হচ্ছে গল্পে । গল্পের কাভার স্টোরি আর প্রথম কিছু অংশ পড়েই পুরো কাহিনী বুঝতে পারার কথা । কোন ভেজাল নাই, নাই কোন উত্তেজনা । গল্প শেষ করে মনে হবে আরে এটাই তো হওয়া কথা । এমনই হবে ! আমার এই কাহিনী রিভিউ পড়লেন আর নতুন করে গল্প পড়ার কোন কারন দেখি না । তারপরেও যদি সাদাত হোসেনের লেখা পছন্দ করে থাকেন তাহলে পড়তে পারেন । যারা তার লেখা নিয়ে আবেগ অনুভব করেন না তারা এই গল্প পড়লে বিরক্ত হবেন । কেবল ফ্যানদেরই এই লেখা ভাল লাগবে !
ঢাকাতে এসে তিনি প্রেস ক্লাবের সামনে এসে বসে পড়েন নিজের দাবী নিয়ে । মানুষজন মজা নিয়ে দেখে সব কিছু । কিন্তু কোন লাভ হয় না । এসব দাবী দাওয়া নিয়ে কেউ চিন্তিত হয় না । এই অনশনরত অবস্থায় তার পরিচয় হয় আধুনিক কবি আসাদের সাথে । আসাদ তাকে পরিস্থিতির সত্যতা বুঝিয়ে দেয় । তাকে বুঝিয়ে বলে যে এখানে এই ভাবে অনশন করে আসলে কোন লাভ হবে না । কেউ দেখবেও না । এমন কি সে যদি মরেও যায় তবুও কিছু যাবে আসবে না কারো ।
পরের দিন পুলিশের হাতে মাইর খেয়ে আজিজ মাস্টারের জ্বর চলে আসে । আসাদ তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যায় । সেখানে জ্বরের ঘোরে অনেক কিছু বলে । তখনই আজিজ মাস্টারের ঢাকা আসার আসল উদ্দেশ্য জানা যায় । কিছুদিন আগে তার স্কুলের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছিলো । তার নাম ছিল কোহিনুর । কোহিনুরকে চেয়ারম্যানের ছেলে এবং তার সাংপাঙ্গোরা খুবই জ্বালাতন করতো । পথের মাঝে তার ওড়না কেড়ে নিয়ে চুমুও খেয়েছিলো সে এবং সেটা মোবাইল ক্যামেরাতে ভিডিও করা হয়েছিলো । এই নালিশ দেওয়া হয়েছিলো চেয়ারম্যানের কাছে । নালিশটা নিয়ে গিয়েছিলো আজিজমাস্টার । প্রথমে চেয়ারম্যান খুব ভাল ব্যবহার করে এবং আজিজমাস্টারকে বলে যেন কোহিনুর নিজে এসে নালিশটা দিয়ে যায় । কোহিনুর তাই দিয়েছিলো । তার দুইদিন পরেই কোহিনুর আত্মহত্যা করে ।
আত্মহত্যা করার আগে কোহিনুর একটা বই দিয়ে যায় আজিজ মাস্টার কাছে । সেখানে একটা চিঠি লেখা থাকে । সেই চিঠি থেকেই জানা যায় যে চেয়ারমান তাকে ধর্ষন করেছিলো তার পরের দিন । আজিজ মাস্টার নিজেকে অপরাধী ভাবেন । মনে করেন যে তিনি যদি নালিশ নিয়ে না যেতেন তাহলে এতো কিছু হত না । তিনি চেষ্টাও করেন বিচার পাওয়ার কিন্তু চিরায়িত ভাবে পুলিশ থাকে চেয়ারম্যানের হাতে । কোন লাভ হয় না । তাই তিনি ঢাকা চলে আসেন । প্রথমে স্কুল এমপিও ভুক্তি করার দাবী নিয়ে দেখতে চান যে অবস্থা কেমন । কিন্তু হতাশ হন । বুঝতে পারেন যে এমন করে হবে না ।
আসাদ তাকে একবার বুদ্ধি দিয়েছিলো যে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে হয়তো লাভ হলেও হতে পারে । আসান সব কিছু শুনে বলে যে এখানে কোন বিচার বে না । আপনি বরং বাসায় ফেরৎ যান । তাকে গাড়িতে তুলে দেয় সে । কিন্তু আজিজ মাস্টার বাড়িতে যান না । সে আবারও ফিরে যান প্রেস ক্লাবে । গায়ে কেরোসিন ঢেলে হাতে মশাল নিয়ে অপেক্ষা করে । বুকে লেখা থাকে যে সে কোহিনুরের বাবা এবং সে কোহিনুর হত্যার বিচার চায় । খুনির নামও লেখা থাকে । ভিড় বাড়তে থাকে । টিভি চ্যানেল চলে আসে । মানুষ ক্যামেরা বের করে ছবি তোলে ভিডিও করে ।
একটা সময়ে আজিজ মাস্টার অসুস্থবোধ করেন এবং হাত থেকে মশাল পড়ে গিয়ে তার শরীরে আগুন ধরে যায় । সে মারা যায় ।
এরপর দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে । চেয়ারম্যান আর তার ছেলের শাস্তি হয় । সেই পুলিশকে গ্রেফতার কর হয় ।
এই হচ্ছে গল্পে । গল্পের কাভার স্টোরি আর প্রথম কিছু অংশ পড়েই পুরো কাহিনী বুঝতে পারার কথা । কোন ভেজাল নাই, নাই কোন উত্তেজনা । গল্প শেষ করে মনে হবে আরে এটাই তো হওয়া কথা । এমনই হবে ! আমার এই কাহিনী রিভিউ পড়লেন আর নতুন করে গল্প পড়ার কোন কারন দেখি না । তারপরেও যদি সাদাত হোসেনের লেখা পছন্দ করে থাকেন তাহলে পড়তে পারেন । যারা তার লেখা নিয়ে আবেগ অনুভব করেন না তারা এই গল্প পড়লে বিরক্ত হবেন । কেবল ফ্যানদেরই এই লেখা ভাল লাগবে !
This entire review has been hidden because of spoilers.
September 16, 2020
বই : মরণোত্তম
লেখক : সাদাত হোসাইন
প্রকাশক : অন্যপ্রকাশ
ধরণ : প্যারাসাইকোলজিক্যাল
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৪
প্রচ্ছদ : চারু পিন্টু
প্রথম সংস্করণ : একুশে বইমেলা ২০২০
সংস্করণ : একুশে বইমেলা ২০২০ ( দ্বিতীয় মুদ্রণ )
মুদ্রিত মূল্য : ২২৫ টাকা
ISBN : 978-984-502-606-2
লেখক পরিচিতি :
জন্ম ২১ মে, ১৯৮৪ ৷ 'আরশিনগর' নামক উপন্যাসের কারণে ২০১৫ সালে পাঠকপ্রিয় হয়ে যান ৷ 'অন্দরমহল' , 'মানবজনম' , 'নিঃসঙ্গ নক্ষত্র' , 'নির্বাসন' ইত্যাদি তার লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস ৷ লেখালেখির জন্য পশ্চিমবঙ্গের চোখ সাহিত্য পুরষ্কার, শুভজন সাহিত্য সম্মাননা, এক্সিম ব্যাংক সাহিত্য পুরষ্কার সহ আরও বিভিন্ন পুরষ্কার পেয়েছেন ৷ তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র 'বোধ' ও 'দ্যাশ্যুজ' এর জন্য পেয়েছেন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, জাতীয় শিল্পকলা একাডেমী পুরষ্কার ৷ তার নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য মিউজিক্যাল ফিল্ম 'গহীনের গান' ৷
ফ্ল্যাপের কথা :
প্রেসক্লাবের সামনে ভীড় বাড়তে বাড়তে চলে এসেছে রাস্তা অবধি ৷ বাসগুলো সব আটকে পড়েছে রাস্তায় ৷ ট্রাফিক জ্যাম বেড়েই চলছে রাস্তায় ৷ কৌতুহলী মানুষ দাঁড়িয়েছে ভীড়ের পিছনে ৷ কিন্ত পিছন থেকে সামনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে না ৷ ফলে কেউ কেউ উঠে এসেছে ওভারব্রীজের উপর ৷ দু-একজন তরতর রেইনট্রি গাছের ডাল বেয়ে উঠে গেছে ৷ আশপাশের বাসা, অফিসের ছাদেও উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে ৷ কিন্ত ঘটনা কী ?
ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়ানো শীর্ণকায় শরীর এক মানুষ ৷ তাঁর নাম আজিজ মাস্টার ৷ তিনি গায়ে কেরোসিন ঢেলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রেসক্লাবের সামনে ৷ তা বাঁহাতে জলন্ত মশাল ৷ হয়তো বা কিছুক্ষণের মধ্যেই মশালের আগুন তাঁকে জ্বালিয়ে দেবে ৷ কিন্ত তিনি কিসের অপেক্ষায় আছেন ? তাঁর গলায় ঝুলানো ছোট্ট একটি ব্ল্যাকবোর্ড ৷ সেখানে চক ঘষে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, 'আমিই কোহিনুরের বাবা ......'
ব্যক্তিগত মন্তব্য :
সাদাত হোসাইনের নাম প্রথম দেখি বিভিন্ন বই সম্পর্কিত গ্রুপে ৷ রকমারির বেস্টসেলার লিস্টেও দেখেছি ৷ অনেক বন্ধুরাও দেখি তার বই সম্পর্কে বলাবলি করে ৷ সেজন্যেই, বহুদিন আগেই ভেবেছিলাম যে তার একটা বই কিনবো ৷ কিন্ত , পরে যখন ভারতে চলে গেলাম সে আশা দূরাশা হয়ে গেল ৷ প্রত্যেকবার বইমেলা থেকে বই কেনা হয় কিন্ত এবার রকমারিই ভরসা ৷
মরণোত্তম বইটি কেনা মূলত সাদাত হোসাইনের লেখার ধরণ বুঝার জন্যেই ৷ কিন্ত মরণোত্তর সেই ধরণের কোন বই না যে এটা দিয়ে একজন লেখককে যাচাই করা যাবে ৷ কারণ বইটিতে সমসাময়িক বাংলাদেশে যে সমস্যা তেমনি একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে ৷
মূলত উপন্যাসের আবর্তন চারটি চরিত্র নিয়েই ৷ আজিজ মাস্টার, আসাদ, কোহিনুর আর নুরুল মোল্লা ৷ আমি এটাকে প্যারাসাইকোলজিক্যাল ধরণেরও বলতে পারছি না ৷ কারণ বইটির ঘটনা বা আবহ যে কেউ লিখতে পারবে ৷ কিন্ত লেখার মাধ্যমে যে পাঠক মন নাড়া দেয়া সেটা লেখক ভালোই পেরেছেন ৷
বইটাকে আমি একটা ম্যাসেজ হিসেবে ধরেছি, কারণ আমাদের মেরুদন্ডহীন প্রজন্ম শুধু স্মার্টফোন আর স্বীয় চিন্তায় মগ্ন ৷ সমাজটা যে নষ্টদের দখলে ৷ উপন্যাসের আজিজ মাস্টারের মতো কয়েকজনের জন্যই হয়তো বা আমরা এখন পর্যন্ত ঠিকে রয়েছি ৷
লেখক : সাদাত হোসাইন
প্রকাশক : অন্যপ্রকাশ
ধরণ : প্যারাসাইকোলজিক্যাল
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৯৪
প্রচ্ছদ : চারু পিন্টু
প্রথম সংস্করণ : একুশে বইমেলা ২০২০
সংস্করণ : একুশে বইমেলা ২০২০ ( দ্বিতীয় মুদ্রণ )
মুদ্রিত মূল্য : ২২৫ টাকা
ISBN : 978-984-502-606-2
লেখক পরিচিতি :
জন্ম ২১ মে, ১৯৮৪ ৷ 'আরশিনগর' নামক উপন্যাসের কারণে ২০১৫ সালে পাঠকপ্রিয় হয়ে যান ৷ 'অন্দরমহল' , 'মানবজনম' , 'নিঃসঙ্গ নক্ষত্র' , 'নির্বাসন' ইত্যাদি তার লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস ৷ লেখালেখির জন্য পশ্চিমবঙ্গের চোখ সাহিত্য পুরষ্কার, শুভজন সাহিত্য সম্মাননা, এক্সিম ব্যাংক সাহিত্য পুরষ্কার সহ আরও বিভিন্ন পুরষ্কার পেয়েছেন ৷ তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র 'বোধ' ও 'দ্যাশ্যুজ' এর জন্য পেয়েছেন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, জাতীয় শিল্পকলা একাডেমী পুরষ্কার ৷ তার নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য মিউজিক্যাল ফিল্ম 'গহীনের গান' ৷
ফ্ল্যাপের কথা :
প্রেসক্লাবের সামনে ভীড় বাড়তে বাড়তে চলে এসেছে রাস্তা অবধি ৷ বাসগুলো সব আটকে পড়েছে রাস্তায় ৷ ট্রাফিক জ্যাম বেড়েই চলছে রাস্তায় ৷ কৌতুহলী মানুষ দাঁড়িয়েছে ভীড়ের পিছনে ৷ কিন্ত পিছন থেকে সামনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে না ৷ ফলে কেউ কেউ উঠে এসেছে ওভারব্রীজের উপর ৷ দু-একজন তরতর রেইনট্রি গাছের ডাল বেয়ে উঠে গেছে ৷ আশপাশের বাসা, অফিসের ছাদেও উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে ৷ কিন্ত ঘটনা কী ?
ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়ানো শীর্ণকায় শরীর এক মানুষ ৷ তাঁর নাম আজিজ মাস্টার ৷ তিনি গায়ে কেরোসিন ঢেলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রেসক্লাবের সামনে ৷ তা বাঁহাতে জলন্ত মশাল ৷ হয়তো বা কিছুক্ষণের মধ্যেই মশালের আগুন তাঁকে জ্বালিয়ে দেবে ৷ কিন্ত তিনি কিসের অপেক্ষায় আছেন ? তাঁর গলায় ঝুলানো ছোট্ট একটি ব্ল্যাকবোর্ড ৷ সেখানে চক ঘষে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, 'আমিই কোহিনুরের বাবা ......'
ব্যক্তিগত মন্তব্য :
সাদাত হোসাইনের নাম প্রথম দেখি বিভিন্ন বই সম্পর্কিত গ্রুপে ৷ রকমারির বেস্টসেলার লিস্টেও দেখেছি ৷ অনেক বন্ধুরাও দেখি তার বই সম্পর্কে বলাবলি করে ৷ সেজন্যেই, বহুদিন আগেই ভেবেছিলাম যে তার একটা বই কিনবো ৷ কিন্ত , পরে যখন ভারতে চলে গেলাম সে আশা দূরাশা হয়ে গেল ৷ প্রত্যেকবার বইমেলা থেকে বই কেনা হয় কিন্ত এবার রকমারিই ভরসা ৷
মরণোত্তম বইটি কেনা মূলত সাদাত হোসাইনের লেখার ধরণ বুঝার জন্যেই ৷ কিন্ত মরণোত্তর সেই ধরণের কোন বই না যে এটা দিয়ে একজন লেখককে যাচাই করা যাবে ৷ কারণ বইটিতে সমসাময়িক বাংলাদেশে যে সমস্যা তেমনি একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে ৷
মূলত উপন্যাসের আবর্তন চারটি চরিত্র নিয়েই ৷ আজিজ মাস্টার, আসাদ, কোহিনুর আর নুরুল মোল্লা ৷ আমি এটাকে প্যারাসাইকোলজিক্যাল ধরণেরও বলতে পারছি না ৷ কারণ বইটির ঘটনা বা আবহ যে কেউ লিখতে পারবে ৷ কিন্ত লেখার মাধ্যমে যে পাঠক মন নাড়া দেয়া সেটা লেখক ভালোই পেরেছেন ৷
বইটাকে আমি একটা ম্যাসেজ হিসেবে ধরেছি, কারণ আমাদের মেরুদন্ডহীন প্রজন্ম শুধু স্মার্টফোন আর স্বীয় চিন্তায় মগ্ন ৷ সমাজটা যে নষ্টদের দখলে ৷ উপন্যাসের আজিজ মাস্টারের মতো কয়েকজনের জন্যই হয়তো বা আমরা এখন পর্যন্ত ঠিকে রয়েছি ৷
September 18, 2023
🖋বই আলোচনায়...
▪এর আগে লেখকের লেখা দুটি কবিতার বই পড়ে লেখকের লেখার প্রেমে পড়ে,এই বই কেনা হয়েছে।
▪তবে লেখকের এই বইটি মানুষের প্রতিবাদ আবার কখনও হতাশার গল্প বলে।উপন্যাসের দুটি প্রধান চরিত্র হল আজিজ মাস্টার ও আসাদ। মূল চরিত্র আজিজ মাস্টার তার ছাত্রীর ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন প্রতিবাদ চেয়ে।সেই সময় তাকে নানান অভিজ্ঞতাকে চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করতে হবে।যেখান থেকে আমরা আমাদের সমাজের ঘটে চলা নীচু মানবিকতার কর্মকাণ্ড গুলি দেখতে পাবো।বুঝতে পারবো একজন মানুষের প্রাণের তুলনায় ফোনের mb র গুরুত্ব বেশী।বুঝতে পারবো মানুষ মড়লে,মানুষের দাম বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি অনেক সমাজে ঘটে চলা প্রতিনিয়ত ঘটনা।তবে আজিজ মাস্টারের প্রতিবাদের শেষ ইতিবৃত্ত জানতে বইটি পড়তে হবে।
▪লেখকের লেখনীশৈলী বেশ পছন্দ হয়েছে।তিনি খুব সহজ ভাষায় সমাজের নীচু মানসিকতার দিকগুলি তুলে ধরেছেন।সাবলীল ভাবে বলেছেন সাধারণ মানুষের বিত্তশালীদের থেকে নিপীড়নের কথা।
▪লেখক তার উপন্যাসের চরিত্রের দ্বারা বলিয়েছেন-
"যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম। মরণই উত্তম। জীবিত মানুষটির চেয়ে মৃত মানুষটি যেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে,সেখানে মরণই তো উত্তম। কি, উত্তম না?"
▪এর আগে লেখকের লেখা দুটি কবিতার বই পড়ে লেখকের লেখার প্রেমে পড়ে,এই বই কেনা হয়েছে।
▪তবে লেখকের এই বইটি মানুষের প্রতিবাদ আবার কখনও হতাশার গল্প বলে।উপন্যাসের দুটি প্রধান চরিত্র হল আজিজ মাস্টার ও আসাদ। মূল চরিত্র আজিজ মাস্টার তার ছাত্রীর ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন প্রতিবাদ চেয়ে।সেই সময় তাকে নানান অভিজ্ঞতাকে চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করতে হবে।যেখান থেকে আমরা আমাদের সমাজের ঘটে চলা নীচু মানবিকতার কর্মকাণ্ড গুলি দেখতে পাবো।বুঝতে পারবো একজন মানুষের প্রাণের তুলনায় ফোনের mb র গুরুত্ব বেশী।বুঝতে পারবো মানুষ মড়লে,মানুষের দাম বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি অনেক সমাজে ঘটে চলা প্রতিনিয়ত ঘটনা।তবে আজিজ মাস্টারের প্রতিবাদের শেষ ইতিবৃত্ত জানতে বইটি পড়তে হবে।
▪লেখকের লেখনীশৈলী বেশ পছন্দ হয়েছে।তিনি খুব সহজ ভাষায় সমাজের নীচু মানসিকতার দিকগুলি তুলে ধরেছেন।সাবলীল ভাবে বলেছেন সাধারণ মানুষের বিত্তশালীদের থেকে নিপীড়নের কথা।
▪লেখক তার উপন্যাসের চরিত্রের দ্বারা বলিয়েছেন-
"যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম। মরণই উত্তম। জীবিত মানুষটির চেয়ে মৃত মানুষটি যেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে,সেখানে মরণই তো উত্তম। কি, উত্তম না?"
February 22, 2020
4.5stars
'অন্য সব দেখা, সব পড়া একদিন শেষ হয়ে যেতে পারে,কিন্তু মানুষ দেখা বা পড়া কখনো শেষ হবেনা।কারণ মানুষ হলো অফুরন্ত গল্পের উৎস। '
ছোট একটা বই -কিন্তু কতো জোর!!
সাদাত হোসাইনের অন্য গল্পের তুলনাতে এটি বেশ আলাদা।সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন সমাজের অবস্থা।
গল্প শুরু হয় আজিজ মাস্টারের শহরে যাওয়া নিয়ে। উদ্দেশ্য প্রেস ক্লাবের সামনে স্কুল এমপিওভুক্ত করার জন্য। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য অন্যটি-সমাজের এক পশুর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।নিজের মতো করে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি-কিন্তু মানুষ চিনতে পারেননি ঠিকমতো।শহরের কোলাহল, নাগরিক সভ্যতার কাছে থুবড়ে পড়েছেন আজিজ মাস্টার।
'যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম।মরণই উত্তম।জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষটি যেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে'
কথাগুলো কতখানি বাস্তবতা দেখিয়ে দেয়-বলে বুঝানো যাবেনা
'অন্য সব দেখা, সব পড়া একদিন শেষ হয়ে যেতে পারে,কিন্তু মানুষ দেখা বা পড়া কখনো শেষ হবেনা।কারণ মানুষ হলো অফুরন্ত গল্পের উৎস। '
ছোট একটা বই -কিন্তু কতো জোর!!
সাদাত হোসাইনের অন্য গল্পের তুলনাতে এটি বেশ আলাদা।সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন সমাজের অবস্থা।
গল্প শুরু হয় আজিজ মাস্টারের শহরে যাওয়া নিয়ে। উদ্দেশ্য প্রেস ক্লাবের সামনে স্কুল এমপিওভুক্ত করার জন্য। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য অন্যটি-সমাজের এক পশুর অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।নিজের মতো করে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি-কিন্তু মানুষ চিনতে পারেননি ঠিকমতো।শহরের কোলাহল, নাগরিক সভ্যতার কাছে থুবড়ে পড়েছেন আজিজ মাস্টার।
'যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম।মরণই উত্তম।জীবিত মানুষের চেয়ে মৃত মানুষটি যেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে'
কথাগুলো কতখানি বাস্তবতা দেখিয়ে দেয়-বলে বুঝানো যাবেনা
July 31, 2020
একজন মানুষ মৃত্যুর পরই অর্থবহ হয়ে ওঠে।জীবদ্দশায় তাকে কেউ ভ্রুক্ষেপ করেনা।
মরণোত্তম ও ঠিক তাই মরণ জয়ের কাহিনী।দবির খাঁ স্কুলকে এমপিভুক্ত করার দাবিতে ঢাকা প্রেসক্লাব ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজ সাহেব। কিন্তু হায়, এখানে কেউ কারো জন্য নয়।সব ক্ষমতা,টাকা-পয়সার খেলা।প্রতিবাদ করতেও ক্ষমতা লাগে।
হঠাৎ করেই দেখা হয় আসাদ নামের এক যুবক কবির সাথে।জানতে পারে আজিজ মাস্টারের ঢাকা আসার আদ্যোপান্ত। কিন্তু ঘটনা শুধু স্কুল এমপিভুক্ত করা নয়,সমাজের জঘন্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো।
আজিজ মাস্টার প্রতিবাদ করে এক অভিনব উপায়ে।
ছোট্ট বই,অথচ কত বাস্তববাদী।সমাজের মুখে চপেটাঘাত!
মানুষের দাম নেই,মৃতের আছে।
'যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম'__মরণোত্তম।
.
মরণোত্তম ও ঠিক তাই মরণ জয়ের কাহিনী।দবির খাঁ স্কুলকে এমপিভুক্ত করার দাবিতে ঢাকা প্রেসক্লাব ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজ সাহেব। কিন্তু হায়, এখানে কেউ কারো জন্য নয়।সব ক্ষমতা,টাকা-পয়সার খেলা।প্রতিবাদ করতেও ক্ষমতা লাগে।
হঠাৎ করেই দেখা হয় আসাদ নামের এক যুবক কবির সাথে।জানতে পারে আজিজ মাস্টারের ঢাকা আসার আদ্যোপান্ত। কিন্তু ঘটনা শুধু স্কুল এমপিভুক্ত করা নয়,সমাজের জঘন্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো।
আজিজ মাস্টার প্রতিবাদ করে এক অভিনব উপায়ে।
ছোট্ট বই,অথচ কত বাস্তববাদী।সমাজের মুখে চপেটাঘাত!
মানুষের দাম নেই,মৃতের আছে।
'যেখানে জীবনের চেয়ে মৃত্যু উত্তম'__মরণোত্তম।
.
March 4, 2022
সংক্ষিপ্তসার:
দবির খাঁ মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান এ গল্পের প্রধান চরিত্র। মাস্টার আজিজ ঢাকায় প্রেস ক্লাব এর সামনে অনশন করতে এসেছেন। নিজের বাবার স্বপ্নের স্কুল এমপিওভুক্ত করানোর উদ্দেশ্যে। গ্রাম্য রাজনীতির শিকারে স্কুল এখন অচল। আসাদ নামে এক ছেলের সাথে পরিচয় হয় যার আজিজ মাস্টারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ হয়। শুধু একটা স্কুল এর জন্য অনশন? তাও আবার একা? ঘুমের মধ্যে কোহিনুর বলে উঠেছে। কে এই কোহিনুর? আসাদের কথায় বিবেকের কাছে প্রশ্ন উঠে, এ দেশে অনশনের মূল্য আছে? জীবনের মূল্য আছে?
পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠার এ বইটিতে অনেক সামাজিক ব্যাধি উঠে এসেছে। এ বইটি নিয়ে যতই বলি না কেন, কম হবে। কিন্তু বলার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছিনা। ঐ যে বলে না, powerhouse? এ বইটি একটা powerhouse।
সবাই কে অবশ্যই অনুরোধ করবো বইটা পড়তে। আমাদের সমাজ আজ কোন বিবেকহীন পথে আগাচ্ছে তা খুব দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আর আজিজ মাস্টারের মতো চরিত্র যেন ঘরে ঘরে থাকুক। না থাকাটাই ভালো অবশ্য, আমাদের দেশ এদের মূল্য দিতে জানেনা। তবে এ কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাথে সাথে পার্শ্ব চরিত্র, আসাদ ও ছিল বেশ চমৎকার। দুজনের মন অনেকটা একই হলেও আজিজ মাস্টারের চিন্তাধারা ছিল নিষ্পাপ আর আসাদের ছিলো বাস্তবসম্মত।
লেখকের লিখা এ বইটিকে প্রিয় বই হিসেবে আখ্যায়িত করলাম।
দবির খাঁ মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান এ গল্পের প্রধান চরিত্র। মাস্টার আজিজ ঢাকায় প্রেস ক্লাব এর সামনে অনশন করতে এসেছেন। নিজের বাবার স্বপ্নের স্কুল এমপিওভুক্ত করানোর উদ্দেশ্যে। গ্রাম্য রাজনীতির শিকারে স্কুল এখন অচল। আসাদ নামে এক ছেলের সাথে পরিচয় হয় যার আজিজ মাস্টারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ হয়। শুধু একটা স্কুল এর জন্য অনশন? তাও আবার একা? ঘুমের মধ্যে কোহিনুর বলে উঠেছে। কে এই কোহিনুর? আসাদের কথায় বিবেকের কাছে প্রশ্ন উঠে, এ দেশে অনশনের মূল্য আছে? জীবনের মূল্য আছে?
পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
মাত্র ৯৪ পৃষ্ঠার এ বইটিতে অনেক সামাজিক ব্যাধি উঠে এসেছে। এ বইটি নিয়ে যতই বলি না কেন, কম হবে। কিন্তু বলার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছিনা। ঐ যে বলে না, powerhouse? এ বইটি একটা powerhouse।
সবাই কে অবশ্যই অনুরোধ করবো বইটা পড়তে। আমাদের সমাজ আজ কোন বিবেকহীন পথে আগাচ্ছে তা খুব দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আর আজিজ মাস্টারের মতো চরিত্র যেন ঘরে ঘরে থাকুক। না থাকাটাই ভালো অবশ্য, আমাদের দেশ এদের মূল্য দিতে জানেনা। তবে এ কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাথে সাথে পার্শ্ব চরিত্র, আসাদ ও ছিল বেশ চমৎকার। দুজনের মন অনেকটা একই হলেও আজিজ মাস্টারের চিন্তাধারা ছিল নিষ্পাপ আর আসাদের ছিলো বাস্তবসম্মত।
লেখকের লিখা এ বইটিকে প্রিয় বই হিসেবে আখ্যায়িত করলাম।
May 11, 2021
চারপাশে ঘটে যাওয়া নিত্য কোনো ঘটনা বা ঘটনার পরিক্রমার এক candid expression. আহামরী কোনো কিছু না তবে যাপিত জীবনের কিছু ঘটনাকে সুন্দরভাবে পরিবেশনটাই সব। ভালো লাগার মতো বই।
July 12, 2021
Another crap from sadat sab
August 10, 2021
সাদাত হোসাইনের একটা বই-ই পড়ছি সেটা হলো মরনোত্তম। অনেক ভালো লেগেছে। অন্য বইগুলো পড়ার মতো সময় সুযোগ পাচ্ছি না ,সময় পেলে বাকি বই গুলোও পড়ার ইচ্ছে আছে।
August 30, 2023
3.5/5 ⭐️
ভালোই
ভালোই
January 14, 2025
বইটি ভালো লেগেছে
June 29, 2024
শুধু মাত্র নিজের হলেই লড়বেন, অন্যের জন্যে লড়বেন নাহ।
এভাবে আর কতোদিন? আপনারা দেখতেছেন,জানতেছেন,বুঝতেছেন যে বিষয়টা খারাপ তাহলে কেনো রুক্ষে দ্বারাচ্ছেন না? কেননা বিষয়টা আপনার সাথে ঘটতেছে নাহ বা আপনি সেফ আছেন তাই? এভাবে আসলেও আর কতোদিন? দুনিয়াতেই ইয়া নাফসি শুরু করে দিছেন বলেই দ্রুত ধ্বংসের পথে সবকিছুই।
এভাবে চললে আসলেই "মরণ ই উত্তম"।
এভাবে আর কতোদিন? আপনারা দেখতেছেন,জানতেছেন,বুঝতেছেন যে বিষয়টা খারাপ তাহলে কেনো রুক্ষে দ্বারাচ্ছেন না? কেননা বিষয়টা আপনার সাথে ঘটতেছে নাহ বা আপনি সেফ আছেন তাই? এভাবে আসলেও আর কতোদিন? দুনিয়াতেই ইয়া নাফসি শুরু করে দিছেন বলেই দ্রুত ধ্বংসের পথে সবকিছুই।
এভাবে চললে আসলেই "মরণ ই উত্তম"।
April 3, 2020
মরনোত্তম "
"মরনই উত্তম!
যখন জীবিত থাকার চেয়ে, জীবিত না থাকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তখন মরনই উত্তম"
-
~ সাদাত হোসাইন
~ মরনোত্তম 📖
"মরনই উত্তম!
যখন জীবিত থাকার চেয়ে, জীবিত না থাকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তখন মরনই উত্তম"
-
~ সাদাত হোসাইন
~ মরনোত্তম 📖
Displaying 1 - 25 of 25 reviews
























