শীতের স্নিগ্ধতাকে রুক্ষ করে খবরটা এলো চাইল্ড সাইকোলজিস্ট রাগিব মুখতাসারের কাছে। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তার গৃহকর্মী জমিলাকে। শ্বাসরোধ করে খু*ন করেই ক্ষান্ত হয়নি খুনি; লাশকে উপর্যুপরি পিটিয়ে প্রমাণ রেখে গেল পৈশাচিকতার।
সুরতহালে বেরিয়ে এলো আরও ভয়াবহ তথ্য। খুনের ধরন মিলে যাচ্ছে প্রায় চল্লিশ বছর আগে চট্টগ্রামের অজপাড়া গাঁয়ে হওয়া পাঁচ-পাঁচটি খু*নের সাথে! পুলিশের পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে তিনি নিজেই নেমে পড়লেন তদন্তে।
খুনিকে খুঁজতে গিয়ে ষাটোর্ধ্ব মানুষটা হারিয়ে গেলেন স্মৃতির নানান বাঁকে—যেসব স্মৃতিকে তিনি কখনই মনে করতে চাননি।
পরবর্তী লক্ষ্যে খুনি পৌঁছাবার আগেই পৌঁছাতে হবে তাকে। পারবেন তো?
M.J. Babu is an acclaimed author born and raised in Dhaka. M.J. made a remarkable entry into the literary world with his debut book, Dimentiya, published in 2020. This gripping novel quickly became a best-seller in the Bengali language, establishing him as a prominent figure in contemporary Bengali literature.
Following the success of his debut, M.J. continued to captivate readers with his unique storytelling and thought-provoking themes. His book Pinball, published in 2022 from Kolkata, India, received critical acclaim and further solidified his reputation as a versatile and talented writer.
M.J. has authored seven books in Bengali, including the renowned Anarchist Series with titles Dimentiya, Absentiya, and Insentiya. Other notable works include Nirjon Shakkhor, Vrom, and Jinn. His literary works span various genres, showcasing his ability to weave intricate narratives that resonate deeply with readers.
Currently, M.J.'s books are being published from both Dhaka and Kolkata, broadening his reach and influence in the literary world.
নির্জন জীবনে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বৃদ্ধ রাগিব মুখতাসার একজন চাইল্ড সাইকোলজিস্ট, যিনি শৈশবের নির্মম স্মৃতির অভিজ্ঞতা ভুলতে না পেরে আজও সেটার ছায়ায় বাস করেন। মা নেই, অসুস্থ বাবার সেবায় জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিয়ে করেননি, গড়েননি কোনো সংসার। বিশাল পরিমাণ পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে তিনি করেন নিঃসঙ্গ জীবনযাপন। তবে বছর পাঁচেক আগে তার বাবা স্ট্রোক করে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হলে তিনি বাবার দেখাশোনা আর বাড়ির কাজকর্মে সহায়তা করার জন্য বাড়িতে কাজে রাখেন জমিলা নামের এক নারীকে। নিজের কাজে করিতকর্মা জমিলা ধীরে ধীরে রাগিবের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। সেইসাথে জমিলার মেয়ে মিমিকেও রাগিব বেশ স্নেহ করে।
কিন্তু একদিন হঠাৎ পুলিশ এসে জানায়, খুন হয়েছে জমিলা। রাগিব অবাক হয় এবং বুঝতে পারে একজন কাজের মহিলার খুনের তদন্তে পুলিশ খুব একটা গুরুত্ব দেবে না। তাই তিনি নিজেই শুরু করেন অনুসন্ধান। তদন্তে বেরিয়ে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য, এই খুনের ধরণ হুবহু মিলে যায় চল্লিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক সিরিয়াল কিলিংয়ের সাথে, যা আজও রাগিবের স্মৃতিতে বিভীষিকা হয়ে রয়েছে।
চল্লিশ বছর আগে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে, কয়েক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে পাঁচজন নারীকে হত্যা করা হয়। খুনীর প্রধান অস্ত্র থাকে সায়ানাইড, সেইসাথে খুন করার পর লাশকে উপর্যুপরি পিটিয়ে নৃশংসতার স্বাক্ষর রেখে যায় সে। সেইসময়ে চট্টগ্রামে বসবাসরত সদ্য যৌবনে পা দেওয়া রাগিব কৌতুহলবশত জড়িয়ে যায় ঘটনাগুলোর সাথে। তার দৃঢ় বিশ্বাস ব্যাপারটা একটা সিরিয়াল কিলিং, যদিও সেই সময়কার উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরেট তথ্য-প্রমাণের অভাবে বিষয়টি প্রমাণ করা যায় নি। এই ঘটনা অস্পষ্ট হয়ে এখনো জমা আছে রাগিবের স্মৃতির পাতায়।
তবে কি চল্লিশ বছর পর আবার ফিরে এসেছে সেই সিরিয়াল কিলার? কে এই সিরিয়াল কিলার, কী তার প্রকৃত উদ্দেশ্য? কেন সে আবার ফিরে এসেছে? কী ঘটেছিল চল্লিশ বছর আগে? বৃদ্ধ বয়সে এসে রাগিব মুখতাসার কী পারবে জমিলার খুনের রহস্য সমাধান করতে? এম. জে. বাবুর লেখা ‘নির্জন স্বাক্ষর’ মূলত একটি আত্মজৈবনিক রচনার আকারে লেখা গল্প, যেখানে একজন বৃদ্ধের একাকিত্ব, স্মৃতি, দায়িত্ববোধ এবং অপরাধবোধ মিলেমিশে তৈরি হয় এক গভীর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। অতীত ও বর্তমানের রহস্যজালে গড়ে ওঠা এই বইটি পাঠককে নিয়ে যায় এক অন্তঃস্থিত ভ্রমণে, যেখানে মানসিক জটিলতা, অপরাধবোধ, এবং স্মৃতির ছায়া একসাথে মিলে তৈরি করে এক অন্যরকম থ্রিলারের অভিজ্ঞতা।
‘নির্জন স্বাক্ষর’ হলো জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক এম. জে. বাবুর লেখা একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার নভেলা। প্রায় ১৩০ পৃষ্ঠার এই বইটা লেখা হয়েছে ষাটোর্ধ্ব সাইকোলজিস্ট রাগিব মুখতাসারের জবানিতে; ঠিক যেন একটি দীর্ঘ, আত্মদহনময় চিঠি। গল্পটি মূলত আবর্তিত হয়েছে একাধিক সিরিয়াল কিলিংকে কেন্দ্র করে, যেখানে দুই সময়কালের রহস্যময় হত্যাকাণ্ড একসূত্রে গাঁথা। প্রধান চরিত্রের অতীতের বিভীষিকাময় স্মৃতি আর বর্তমানের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো একত্রে মিলে তৈরি করে এক ধরনের মানসিক উত্তেজনার আবহ। উপস্থাপনায় ভিন্নতা আর চরিত্র নির্মাণে একটু গভীরতা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত মূল কাহিনী একটা গতানুগতিক থ্রিলার গল্পের দিকেই মোড় নেয়।
কাহিনি মোটের ওপর গতানুগতিক হলেও উপস্থাপনায় এক ধরনের ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছেন লেখক। বইয়ের প্রথম অর্ধে রহস্য, তদন্ত কিংবা থ্রিলের চেয়ে লেখক বেশি মনোযোগ দিয়েছেন প্রধান চরিত্র রাগিব মুখতাসারের মনস্তাত্ত্বিক গঠন ও মানসিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলায়। অতীত, ব্যক্তিজীবন, স্মৃতি ও সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে এই মানসিকভাবে ভাঙাচোরা ও জটিল চরিত্রটি, যাকে লেখক দক্ষভাবে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন। বলা যায়, পুরো বইটিই এই একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। রাগিবকে কেন্দ্র করে লেখক গল্পে কিছু দর্শনধর্মী কাব্যিক ভাবনাও সংযুক্ত করেছেন, যা কিছুক্ষেত্রে এই বইয়ের গল্পকে একটা সাধারণ থ্রিলারের গণ্ডির বাইরে নিয়ে আরও গভীর বানিয়েছে।
এই কারণে একজন সাধারণ থ্রিলার পাঠকের কাছে বইটার প্রথম অর্ধাংশ কিছুটা ধীরগতির বা বোরিং লাগতে পারে। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে সেটা বিরক্তিকর মনে হয়নি। বরং চরিত্র গঠনের জন্য এই মনস্তাত্ত্বিক নির্মাণ গল্পে ভিন্ন স্বাদ দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে রহস্যের পরত উন্মোচন, হালকা তদন্তের ছোঁয়া এবং নাটকীয় ক্লাইম্যাক্সের পর ঘনঘন কাহিনীর মোড় ঘোরানোর মতো গতানুগতিক থ্রিলারের উপাদানগুলোও এই বইয়ে লেখক রেখেছেন। যদিও পার্শ্বচরিত্রগুলোর গঠন খুব একটা বলিষ্ঠ নয়, তবে গল্পের শেষাংশে এসে অ্যান্টাগনিস্টের চরিত্রায়ন আর তার সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইলিং যথেষ্ট ভালোভাবে করা হয়েছে। ছোট পরিসরের গল্পে তদন্তকার্য খুব বেশি ডিটেইলে না এলেও, লেখক সেটাতে ফরেনসিক মেডিসিন ও সাইকোলজির কিছু তথ্য যুক্ত করে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করেছেন। এই প্রচেষ্টা খারাপ ছিল না, বরং লেখকের আরেক বই 'অ্যাবসেন্টিয়া'তে যেভাবে অতিরিক্ত ইনফো-ডাম্পিং হয়েছিল, সেই তুলনায় এখানে সেটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিল।
তবে সব মিলিয়ে বইটি পড়ে একে পুরোপুরি ভালো লেগেছে, তা বলার উপায় নেই। এর কারণও স্পষ্ট। উপস্থাপনায় ভিন্নতা থাকলেও মূল গল্পটি অত্যন্ত টিপিক্যাল; ফলে বইটাকে শেষ পর্যন্ত তেমন আহামরি বিশেষ কিছু মনে হয় নি। আর গল্পে লেখক পার্শ্বচরিত্রদের একেবারেই স্পেস দেয়নি, যেটাকে একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের ক্ষেত্রে দুর্বলতা হিসেবেই দেখবো। বিশেষ করে যেখানে এই বইটিকে ‘রক্তিম মজুমদার সিরিজ’-এর প্রথম বই বলে দাবি করা হয়েছে, অথচ রক্তিমের চরিত্র এবং তার কার্যকর ভূমিকা এতে একেবারে অনুপস্থিত।
এছাড়া শেষাংশের টুইস্টগুলো বেশি গতানুগতিক ও প্রেডিক্টেবল ছিল। আর টুইস্টের নামে কিছু কিছু বিষয় শেষে এমনভাবে আনা হয়েছে যেগুলোর কোনো আগাম ভিত্তি গল্পে নেই। একেবারে অপ্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়কে হুট করে চমকের মতো হাজির করার চেষ্টা করেছেন লেখক, কিন্তু সেগুলো সত্যিকারের চমক না হয়ে বরং বিরক্তি তৈরি করেছে বেশি। সবচেয়ে বড় সমস্যা, শেষাংশে গল্পকে অকারণে অতিরিক্ত জটিল বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যেটা কিনা এই বইয়ের প্রতি আমার ইতিবাচক ইম্প্রেশনটাকে অনেকটাই নষ্ট করে দিয়েছে। এ কারণে এই বইয়ের এন্ডিং-টাও আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।
📚 বইয়ের নাম : নির্জন স্বাক্ষর
📚 লেখক : এম. জে. বাবু
📚 বইয়ের ধরণ : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, ক্রাইম থ্রিলার, মিস্ট্রি থ্রিলার
গল্পের শুরুতে লেখক যেহেতু অনুরোধ করেছে যে কোনরুপ উচ্চাকাঙ্ক্ষা না রাখতে তাই হয়তো অবচেতন মনেই ধরে নিয়েছিলাম বইটা ভালো হবেনা। তাই যখন শেষ পর্যন্ত হতাশ হইনি, তাই বেশ ভালো লেগেছে বইটা। ছন্নছাড়া গল্পের মাঝে একটা বিষন্নতা আছে, সাধারণত সেটা বিরক্ত লাগে। কিন্তু বইটার মাঝে যে আবেগটা লুকিয়ে আছে সেটার কারণে আমার শেষপর্যন্ত বিরক্ত লাগেনি।
ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইটস কাভার। এ বইটার ক্ষেত্রে কথাটি একদম উপযুক্ত। এক বসাতেই পড়ে শেষ করলাম বইটা৷ অনেকদিন পর তৃপ্তির সাথে এ ধরনের বই পড়লাম।
প্রেম, ঘৃণা, ক্রোধ, প্রতিশোধ, সিরিয়াল কিলিং, রাজনীতি সবকিছুর এক অদ্ভুত মিশেলে তৈরি ১২৮ পেইজের ছোট্ট এই বইটি। প্লট অসাধারণ, স্টোরি টেলিং এক কথায় দূর্দান্ত ছিল। বিন্দুমাত্র বোর হওয়ার সুযোগ নেই৷ বইটা পুরোটাই ফাস্ট পার্সনে লেখা কিন্তু তারপরো লেখনীর জন্য বিন্দুমাত্র খারাপ লাগেনি কোথাও। বইটার শুরুটা খুবই অদ্ভুত রকমের ছিল কারণ ফ্ল্যাপ দেখে মনে হয়েছিল মার্ডার মিস্ট্রি হবে। কিন্তু বই পড়া শুরুর পর মনে হচ্ছিলো অটোবায়োগ্রাফি চরিত্রের। তারপর আস্তে আস্তে জট যেন খুলতে শুরু করে। প্রতিটা অধ্যায়েই টুইস্ট ছিল ছোটখাট। বেশ কিছু সাইকোলজিক্যাল টার্ম ছিল বইতে যেটা খুবই ভালো লেগেছে। এছাড়া খুনের মাপা বর্ণনা, দৃশ্যপটের বর্ণনা এবং ফিলোসফিক্যাল কিছু লাইন খুবই টাচি ছিল। একটা ফিকশনাল বইয়ের জন্য ব্যাপারগুলা খুবই দরকারি।
বইতে মূল চরিত্র ছিল একটাই আর তার চরিত্রায়ন এবং ব্যাকস্টোরি ছিল পারফেক্ট৷ তবে আমার মতে পুলিশ অফিসার এবং রুকমনের দিকে আরেকটু নজর দেয়া যেত৷ গল্পে ঢোকার মূল কারণ জমিলার প্রতি আবেগ বা ভালোবাসা পুরোটাই সফলভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক এছাড়া মিমির সাথে আবেগিক একটা লেনদেন এটাও বুঝিয়ে দিতে পেরেছেন। তবে মিমির দিক থেকে কোনো সম্পর্কের ব্যাখ্যা বা বর্ণনা ছিল না। এটা দরকার ছিল আমার মতে। নির্মল চরিত্রের কি প্রয়োজন ছিল এখানে আমি ঠিক বুঝতে পারিনি, আর বেশ কয়েকবার মূল চরিত্রের ফিন্যান্সিয়াল অবস্থার কথা এসেছে বইতে। এটা বিরক্তিকর কারণ প্রথমদিকেই বোঝা গিয়েছিল জিনিসটা৷ মাঝামাঝি বা এন্ডিং এ এসে এটা না দিলেও হত। লাস্ট পেইজে যে দুইটা কেইস রাখা হয়েছে মজুমদারের জন্য সেটা খোলাসা করে দিলে ভালো হত যদি এ সিরিজের কোনো বই আর না আসে। বইয়ের একমাত্র নেগেটিভ দিক অনেক শব্দ এলেমেলো ছিল, বানান ভুল ছিল। যথেষ্ট বিরক্তিকর লেগেছে জিনিসটা। পড়ার ফ্লো হারিয়ে ফেলছিলাম।
বইটার জনরা নিয়ে আমি কনফিউজড তাও বলব থ্রিলার লাভার সবাই পড়তে পারেন। তবে নূন্যতম ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা পাঠকের জন্য বইটা বুঝতে সুবিধা হবে৷ কারণ এ বয়সের পাঠক চিন্তা করে লেখাগুলো বুঝে নিতে পারবেন যেটা এর কম বয়সীদের জন্য কষ্টকর হবে এবং ভালো না লাগার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষভাবে শেষ তিনটা অধ্যায় ভালোভাবে না বুঝলে পুরো বইটাই বাকোয়াস লাগবে। যাই হোক এ বছরে আমার পড়া সেরা উপন্যাসের তালিকায় আপাতত আমি এক নাম্বারে রাখব বইটাকে। হ্যাপি রিডিং...❤️
কাহিনীটা অগ্রসর হয় অতীত ও বর্তমানের সংমিশ্রণে। খুন হয় চাইল্ড সাইকোলজিস্ট রাগিব মুখতাসারের গৃহকর্মী জমিলা যার ধরন মিলে যায় তার দেখা ৪০ বছর আগে চট্টগ্রামে হওয়া ৫টা খুনের সাথে। পুলিশের কাছ থেকে তেমন সাড়া না পাওয়ায় খুনের তদন্তে নেমে পড়ে ষাটোর্ধ রাগিব মুখতাসার। রাগ, ভালোবাসা, ক্ষোভ,প্রতারণা, সিরিয়াল কিলিং সবকিছু মিলিয়ে এই কাহিনী। পড়ার মাঝে মাঝে নানা রহস্য ধরা দেবে আপনাকে। কিন্তু এত ঘটনার মুল কারন যে ঘটনা তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
মানুষের করা অপরাধগুলো সারাজীবন মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই মানুষগুলোকে সুখ আর স্পর্শ করে না। আবার কখনো কখনো তীব্র দুঃখ, কষ্টের প্রাপ্তিতে মানুষ অপরাধ করতে অনুপ্রাণিত হয়। যতক্ষণ মনের কোণে থাকা হিংস্র পশুটাকে গলা টিপে মারতে পারে না, ততক্ষণ তাকে আর সুখ স্পর্শ করে না। তবে তার অসুস্থ আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলে সুখের আর সীমা থাকে না...
রাগিব খুব ছোটবেলায় অনেক নির্যাতিত হয়েছে। সেই সময়ের এক অতি বিশ্রী স্মৃতি সে চাইলেও ভুলতে পারেনা। এজন্য বড় হয়ে হলো চাইল্ড সাইকোলজিস্ট। মা হারা জীবনে শয্যাশায়ী অসুস্থ বাবাকে সাথে নিয়ে তার দিনকাল ভালোই চলছিল। বিয়ে করে না জানি আবার বাবার সেবায় ত্রুটি পড়ে, এজন্য সে বিয়ে করেনি। তার বয়স এখন ষাট। বাবার দেখাশুনা, রান্নাবান্না, ঘরদোর পরিষ্কার সহ যাবতীয় সব কাজের জন্য বাড়িতে রয়েছে জমিলা। জমিলার একটা ফুটফুটে মেয়ে সন্তান আছে - মিমি। রাগিব মিমির সাথে প্রায়ই সময় কাটায়। নিজের সন্তানের মতো মিমিকে আগলে রাখে। জমিলাকে সে কাজের লোক মনে করতে পারে না। সবসময় সে জমিলাকে নিজের পরিবারের অংশ ভেবে এসেছে। একদিন হঠাৎ একটা পুলিশের জিপ এসে হাজির হলো রাগিবের বাড়িতে। সাব ইন্সপেক্টর মিখাইল বের হয়ে এসে জানাল, জমিলা খুন হয়েছে। রাগিব কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। মিখাইল রাগিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর চলে যায়। রাগিব খুনীকে ধরতে উঠে পড়ে লাগে। সে বুঝতে পারে পুলিশ এমন একটা কাজের মেয়ের কেস খুব একটা মনোযোগ দিয়ে দেখবে না। সে ভাবে, সেই তদন্তে নেমে পড়বে। যেই ভাবা সেই কাজ। তদন্ত চলতে থাকে। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। খুনের ধরণ মিলে যায় চল্লিশ বছর আগে হওয়া পাঁচটি খুনের সাথে। এরপর তদন্ত চলতে থাকে পুরো দমে। ষাটোর্ধ্ব বয়সী রাগিব খুনীকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যান চল্লিশ বছর আগের কিছু বিভৎস স্মৃতির মাঝে। কী হয়েছিল চল্লিশ বছর আগে? চল্লিশ বছর আগের সিরিয়াল কিলার হঠাৎ কেন এসে আবার তার হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে? কে এই সিরিয়াল কিলার? জানতে হলে পড়তে হবে.....
নির্জন স্বাক্ষর বইটি এম. জে. বাবুর লেখা সবচেয়ে কম আলোচিত একটি বই। এছাড়া লেখকের “জিন” বই ও “অ্যানার্কিস্ট” সিরিজ ভালোই জনপ্রিয়। পুরো বইটির গল্প মূলত একটি চিঠিতে এই গল্পের মূল চরিত্র রাগিব মুখতাসার বলেছে। প্রথমদিকে কাহিনী খুব ধীরগতির মনে হয়েছে। শুরুতে রাগিব মুখতাসারের শৈশবের স্মৃতি, এরপর খুনের খবর, তদন্ত ইত্যাদি শুরু হতে অনেকটা সময় লেগেছে বলে মনে হয়েছে। অর্থাৎ শুরুতে কাহিনী স্লো ছিল, এরপর আস্তে আস্তে কাহিনী গিয়ার আপ করেছে।
লেখকের বর্ণনা খুব ভালো ছিল। তবে বানান আর বিরামচিহ্নের অনেক ভুলত্রুটি চোখে পড়ে। বিশেষ করে বানানের ব্যাপারটাই বেশি পরিলক্ষিত। কয়েক জায়গায় বিরামচিহ্নের ভুল ব্যবহার ছিল। পড়ার মধ্যে এসব বাঁধার সৃষ্টি করেছিল। পৃষ্ঠা ১২২ এর শুরুতে উল্লেখিত “বেজমেন্টে” শব্দের জায়গায় “লবি” বসবে।
সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার নিয়ে কোনো বই পড়েছি কিনা পূর্বে, তা মনে নেই। স্মৃতিতে যতদূর মনে পড়ে সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার নিয়ে এটা আমার পড়া প্রথম বই। থ্রিলার বলতে বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা কাহিনীই আমার বেশি পড়া। এই বই পড়তে গিয়ে একপর্যায়ে যখন কাহিনী অনেক স্লো মনে হয়েছে তখন দ্রুত পড়তে শুরু করেছি। মনে হয় সেজন্য অনেক কিছুই ধোঁয়াশা রেখে পার হয়ে গিয়েছিলাম। এজন্য একবার শেষ করে পরে আবার একবার শেষ অর্ধাংশটুকু পড়েছি। তারপর মোটামুটি সবকিছুই ক্লিয়ার।
গল্পে অনেক মেডিসিন, ড্রাগস, মেন্টাল প্রবলেম ইত্��াদির উল্লেখ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই ওসব বুঝে আসেনি আমার। কীসব মেডিসিনের কারণে মেন্টালি কীসব প্রবলেম হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, এগুলো ছিল। ওসব সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান থাকলে পাঠক নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর পেছনের কারণ পরিষ্কারভাবে বুঝে উঠতে পারবে আর সেটা পাঠক আরো উপভোগ করবে। তবে এমন না যে, যারা এগুলো সম্বন্ধে জানে না তারা কিছু বুঝতে পারবে না। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লে কোনটার কারণে কী হলো, এটা অন্তত ব���ঝে আসবে। কাহিনী বিল্ডআপ আমার কাছে ভালো লাগেনি। তবে প্লটটা খুব সুন্দরভাবে লেখক সাজিয়েছে।
পরিশেষে বলতে পারি, যারা অন্তত ইন্টারমিডিয়েট লেভেল অথবা এর উপরের লেভেলে আছেন তারা বইটি অনেক বেশি উপভোগ করবে। বোঝার মতো অনেক বিষয় আছে। প্লট অসাধারণ ছিল কিন্তু কাহিনী বিল্ডআপ ভালো ছিল না। মূল চরিত্রের ব্যাকস্টোরি ভালো ছিল, লেখকের বর্ণনা ভালো ছিল। বানানে অনেক ভুল আর শব্দ এলেমেলো ছিল। মোটামুটি উপভোগ্য একটা বই।
ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৩/৫
বই : নির্জন স্বাক্ষর লেখক : এম. জে. বাবু প্রকাশনী : গ্রন্থরাজ্য মুদ্রিত মূল্য : ২৬০৳ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১২৮
বইটার পুরোটা জুড়ে বিরাজ করছে নিঃসঙ্গতার হাহাকার, এক গভীর চাপা কষ্ট। বই বললে ভুল হবে, এটা মূলত একটা চিঠি, প্রফেসর রাগিব এর চিঠি। পুরো চিঠি জুড়েই বিরাজ করছে তার দুঃখ।
লেখক অসাধারণ ভাবে গল্পের চরিত্র গুলোকে চিত্রিত করেছেন। প্রতিটি চরিত্রই গভীর, বিশেষ করে রাগিব। আমরা গল্পটি শুরু করি তার বাল্যকাল থেকে, যখন তিনি হারান তার মা কে এবং স্বীকার হন চাইল্ড এবিউজের। এরপর তার জীবনে নেমে আসে ঝড়, নেমে আসে নির্যাতন। শৈশবের এসব বিভীষিকা তাকে গড়ে তোলে ভিন্নভাবে, যা পড়তে পড়তে পাঠক তার প্রতি সমব্যথী যেমন হবেন তেমনি অনুভব করবেন এক রহস্যময়তা। ষাটোর্ধ প্রোটাগনিস্ট রাগিব তার শৈশবের এসব গল্প আমাদেরকে শোনান জমিলার খুনের তদন্তের ফাকে ফাকে। জমিলা তার বাসার কাজের মেয়ে, পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে সে। কিন্তু হঠাৎ একদিন খুন হয়ে গেল সে। এমনভাবে খুন হলো যা জাগিয়ে দিলো রাগিবের ৪০ বছর অতীতের বিভীষিকাকে। লেখক ক্রিমিনাল সাইকোলজির এক চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন পুরো বই জুড়ে। আমাদেরকে হিন্ট দিয়ে গেছেন এন্ড টুইস্টের। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে ছিলো জীবনানন্দ দাশের নানান কবিতার (অথবা একটি কবিতার) বিভিন্ন পঙক্তি। প্রতিটা পঙক্তি এক বিষন্ন রহস্যের আমেজ দিয়েছে অধ্যায়ের শুরুতেই। যেমন: “সুদীর্ঘকাল তারার আলো মোমের বাতির দিকে তাকিয়েছিল দুজন ওরা: শান্ত কক্ষে নীল জানালার পাশে কাছাকাছি দুটো তারা: আলোকবর্ষ অনেক আলোকবর্ষ গেলে পরে কাছে কাছে থেকে তারা রবে কি প্রবাসে? এই তারাটির আলো গিয়ে পরবে না কি অপর তারার বুকে মনের গভীরতম সুখে - সমস্ত অসুখে?” ~ জীবনানন্দ দাশ।
এসব বিষন্নতা, নৃশংসতায় পূর্ণ গল্প কোন এক অজানা করণে মনে এনে দিবে প্রশান্তি। লেখকের বর্ণনায় নেই কোন তাড়াহুড়ো। ধীরস্থির ভাবে লেখক সকল রহস্যের যবনিকা টেনেছেন শেষে গিয়ে।
পরিশিষ্ট : খুবই গভীর একটা উপন্যাস এটা। এর রিভিউ লিখা আমার সাধ্যের অতীত। তারপরও চেষ্টা করলাম, জানিনা কতটুকু জাস্টিস করতে পেরেছি গল্পের প্রতি। এটি নিঃসন্দেহে এম. জে. বাবুর সেরা কর্ম।
এরকম একটি সুন্দর বইয়ে কিছু কিছু জায়গায় ভুল দেখে খুবই খারাপ লাগলো। আশা করি পরবর্তী এডিশন গুলোতে এই ভুলগুলো শুধরে নেয়া হবে।
পাঠপ্রতিক্রিয়া: দর্শন ও থ্রিল মিশেলে চমৎকার একটি বই পড়লাম।পয়েন্ট আকারে তুলে ধরছি আমার অনুভূতি ও শিক্ষনীয় বিষয়গুলো।
১. নির্জন স্বাক্ষর একটি গভীর অর্থবোধক বই।Appearance Vs Reality (দেখায় যা /প্রকৃত যা) এই টার্মটা যেন বইটির সাথেই যায়। কাজের মেয়ে জমিলার খুনের রহস্য দিয়ে শুরু হওয়াতে মনে হতে পারে একটি থ্রিলার উপন্যাস পড়ছেন আদতে তা নয়।
২. জীবনের অর্থ,উদ্দ্যেশ্য ও মূল্য খুজতে ৬০ টি বছর কাটিয়ে দেন রাগিব মুখতাসার। জীবনের কোন মূল্য ই নেই যেন তার কাছে।চাইলে তিনিও নিজের জীবন কে রাঙিয়ে দিতে পারতো। রাগিব মুখতাসার - যিনি একজন শিক্ষক। ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা আর নানান ধন সম্পদ তাকে সুখ দিতে পারে নি। সুখ পেয়েছে ছোট্ট মেয়ে মিমির কাছে আর হয়তো এক জোড়া চোখ। নিজের অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের অস্তিত্ব সংকট নিয়ে দিন কাটছিলো তার।। শেষ অব্দি পেয়েছিলো শান্তি! উপন্যাসের সবচেয়ে হৃদয় ছুয়েছে এই প্রধান চরিত্রটি। কিছু কিছু চরিত্রকে মন চায় নিজে গিয়ে দুঃখ কমিয়ে দিয়ে আসি উনি তেমন ই এক চরিত্র।
৩.আদর্শিক প্রেম- যেখানে চাওয়া নেই,পাওয়া নেই কিন্তু ভালোবাসা চিরসবুজ।রাগিব-শারজাদি তেমন ই।
৪.এই ভয়ঙ্কর গা সিউরে উঠা সিরিয়াল কিলিং এর পেছনে আছে তীব্র দেশপ্রেম।। এটা খুলে না বলি। এই টুইস্টা পেতে হলে বইটা পড়েন।
৫.থ্রিলিং - ৪০ বছর আগের সিরিয়াল কিলিং আবারও শুরু হয় ঢাকায়। একই খুনের ধরন। পাশে পাওয়া যায় বুড়ো মহিলার চুল। আবার বুড়ো মহিলার পক্ষে খুনগুলো করা সম্ভব ও ছিলো না।। তাহলে কে? কি মেসেজ দিতে চায়?শেষের দিকে একের পর এক মাথা ঘুরানো থ্রিলিং ব্যাপারটা চমৎকার লেগেছে।
৬. পেডোফাইল - শিশু কিশোরদের প্রতি বিকৃত যৌন আকর্ষন। শিশুদের জন্য ভীষন সংবেদনশীল একটি বিষয়। এই নির্যাতনের ফলে ভিক্টিম শিশুদের মনে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে তা বইটিতে দেখানো হয়েছে।
“নির্জন স্বাক্ষর” একটি আকর্ষণীয় থ্রিলার, যেখানে রহস্য ও মস্তিষ্ক বিজ্ঞান মিলেমিশে গড়ে তুলেছে উত্তেজনাপূর্ণ গল্প।
রাগিব মুখতাসার একজন বৃদ্ধ চাইল্ড সাইকোলজিস্ট। ছোটবেলার কিছু কষ্টকর অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে গভীর ছাপ ফেলে রেখেছে। মাকে হারানোর পর অসুস্থ বাবার সেবাতেই কেটে গেছে তার জীবন। তিনি বিয়ে করেননি, সংসারও শুরু করেননি। অনেক সম্পত্তি থাকলেও একা ও নিঃসঙ্গ জীবন তার নিত্যসঙ্গী।
প্রায় পাঁচ বছর আগে বাবা স্ট্রোকে অসুস্থ হয়ে পড়লে, ঘরের কাজ ও বাবার দেখাশোনার জন্য রাগিব বাড়িতে কাজের লোক রাখেন জমিলা। সময়ের সঙ্গে জমিলা শুধু একজন সহকারী নয়, বরং পরিবারের মতোই হয়ে উঠেন। তার মেয়ে মিমিকেও রাগিব খুব স্নেহ করেন। আর সেই জমিলাই খুন হয়। খুন এর রহস্য ৪০ বছর আগের সিরিয়াল কিলারের ৫ খুনের সাথে মিলে যায়, এবং সে নিজেই খুনের তদন্তে নেমে যায়।
“নির্জন স্বাক্ষর” একধরনের সাইকোলজিকাল থ্রিলার যেখানে রহস্য, অতীতের ছায়া, এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব একসাথে মিশে গেছে। গল্পটা ধীরে ধীরে গা ছমছমে হয়ে ওঠে।
✪ বইয়ের শুরুতে লেখক একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন: শেষের ৩ অধ্যায় ভালোভাবে পড়তে, নাহলে এন্ডিং তারাতাড়ি মনে হতে পারে।
যারা থ্রিলার, সাসপেন্স আর মানসিক রহস্য পছন্দ করেন তাদের জন্য বইটি সাজেস্ট করবো।
- Free Review - Muhammad Abir Hossain - Finished reading on (10.06.2025)
➤ এম জে বাবু বইগুলোর মধ্যে এটি আমার পড়া তৃতীয় বই (নির্জন সাক্ষর). লেখকের অন্যান্য বই -
পুরো বইটিই একজন ষাটোর্ধ বৃদ্ধের জবানবন্দী। বৃদ্ধের ছেলেবেলা থেকে তার পরিনিত বয়স পর্যন্ত নানান ঘটনা বেশ নাটকীয় ভাবে বর্ননা করা আছে পুরো বই জুড়ে। অতীত - বর্তমানের সংমিশ্রনে কাহিনী এগিয়েছে। মূল কাহিনী মুলত হঠাৎ জেগে ওঠা চল্লিশ বছর আগের চাপা পড়ে থাকা সিরিয়াল কিলারকে তার পরবর্তী গন্ত্যবে পৌছানোর আগেই থামানোকে নিয়ে। এইখানে চল্লিশ বছর আগের সিরিয়াল কিলার কে ছিলো,তা অবশ্য শুরুতেই ধারনা করেছিলাম এবং শেষে গিয়ে দেখি আমার ধারনাই সঠিক। কাহিনীতে অনেক সাইকোলজিক্যাল টার্মের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সাধারণ পাঠক হওয়ায় ঐ বিষয়ের আলোচনা গুলো মাথার উপর দিয়ে গেছে।
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জনরার বই সবসময়ই ভালো লাগে,এটিও ব্যাতিক্রম নয়। কাহিনীর প্লট এবং কাহিনী বিন্যাস বেশ ইউনিক। বইয়ের শুরুতেই ভূমিকা অংশে লেখক মহাশয় ধীরে সুস্থে বইটি পড়তে বলেছেন,সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ধীরে সুস্থেই, ফুল কনসেন্ট্রেশন দিয়ে পড়া শুরু করি। যদিও শেষের দিকটা কেমন কুয়াশাচ্ছন্ন। শুরু থেকেই কাহিনী কেমন স্লো ভাবে এগিয়েছে, ধীরে ধীরে কাহিনী গিয়ার আপ করেছে। শুরুর দিকে কাহিনী একটু স্লো লাগলেও ইন্টারেস্টের ঘাটতি ছিলো না,কি হয়, কি হয় এই প্রেষণায় তরতর করে পড়ে গেছি।
বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে জীবনানন্দ দাশের কবিতার লাইন কোট করা আছে, ঐ কবিতার লাইনগুলোর সাথে ঐ অধ্যায়গুলোর মূলভাব এক। এই বিষয়টি এম জে বাবু ভাইয়ের লেখার দক্ষতারই পরিচয় দেয়। বইয়ের প্রচ্ছদ,বাইন্ডিং ওভারঅল প্রোডাকশন সব ভালো, শুধু মাঝে মধ্যে কিছু প্রিন্টিং মিসটেক ছিলো যেগুলো পড়ার সময় মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। আশা করি পরবর্তী এডিশনে এই ইস্যু গুলো থাকবে না। এর হয়তো সেকেন্ড পার্ট আসতে পারে,সেই অপেক্ষায় রইলাম।
প্রথমেই বলে নেই অনেকের সাথে আমার চিন্তা-ভাবনা এই বই নিয়ে অন্তত মিলবেনা! সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এবং সামাজিক জনরার মিশ্রণে এই বইটি। মার্ডার মিস্ট্রি বললেও ভুল হবে? না বোধ হয়...
শুরু হয় এক বিষন্নতার গল্প দিয়ে। ষাট বয়সের রাগিব মুখতাসার এর ডায়েরী। যাতে আছে তার ছোট বেলার করুন কাহিনী থেকে শুরু করে বর্তমান কেসের সব। বইটি পড়ার সময় মনে হবে খাপছাড়া। হুটহাট নতুন প্লটে প্রবেশ করার মতো। তবে আমার কাছে প্রথম থেকেই বিষন্নতা, অপ্রাপ্তির কথা মনে হচ্ছিলো। বৃদ্ধ বয়সেও যেই মানুষটার অতীত ছাড়ছেনা তার প্রতি অন্যরকম চিন্তা ভাবনা জাগায়।
বইটিতে আছে প্রেম ভালোবাসা। যেইখানে কোনো চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নেই। শুধু আছে সজীবতা কিংবা বেদনা। বইয়ের একটা লাইন সেক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়- " আমি হয়তো আগেই ম রে যেতাম ,যদি জানতে পারতাম শারজাদির দুঃখের কারণ আমি।"
ভালোবাসাটা শুধু প্রেয়সীর জন্য ই না। শুধুমাত্র পরিবারের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য হাহাকার আছে এই উপন্যাসে। আছে দেশপ্রেমের জন্য ভয়ানক নেশায় ডুবে যাওয়া। মানসিক অশান্তি, বাচ্চাদের এবিউসের ভয়াবহতা ছাড়াও খু*ন ও রহস্য।
শুধু ভালো লাগার কথা বললাম এইবার একটু মন্দের কথা বলি। রাগিব সাহেবের শেষ পরিণতিটা ভালো লাগেনি। অন্তত শেষ জীবনে একটু সুখ পেলে ক্ষতি হতোনা । যদিও ব্যাপারটা সিনেমাটিক ,তারপরেও পাঠক হিসেবে চাইতেই পারি। এক জায়গায় ভুল দেখেছি , 'পারবনা' এর স্থলে পারব লেখা।
অনেকের কাছে বইটি প্রথম দিকে স্লো লাগবে এবং শেষটা টুইস্টে ভরপুর লাগবে। অতিরিক্ত আশা নিয়ে লেখক নিজেই পড়তে মানা করেছেন। তবে আমার প্রথম থেকেই যথেষ্ট ভালো লেগেছে।
▪️বই: নির্জন স্বাক্ষর ▪️লেখক: এম জে বাবু ▪️প্রকাশনায়: গ্রন্থরাজ্য
৩.৫ হবে। আজকেই হাতে পেলাম আর আজকেই পড়ে শেষ করলাম। পড়তে খারাপ লাগে নি। এক মিনিটের জন্য ও বইটা রেখে কোথাও যায় নি। তাই গল্পটাকে খারাপ বলা যাবে না, আবার অ্যানার্কিস্টের মত অসাধারণ ও বলা যাবে না।
শুরুটা একটু দুর্বল ছিল, তাও মাঝে এসে গল্প ওই দূর্বলতাটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। কিন্তু কিছু কথার পুনরাবৃত্তি পড়ার মাঝের flow টা নষ্ট করছিল। আবার past and present এর jump টাও একটু অগোছালো লাগছিল। প্রথমেই ধরতে পারি, খুনের সাথে প্রধান চরিত্রের conncetion থাকবে। কিন্তু শেষে তার বাবার সাথে সাথে খুনের relation টা- অনেক strong একটা turn দিতে পারত গল্পে কিন্তু তার মায়ের উধাও হওয়ার ৩ রকমের ঘটনা + তার বড় হওয়াটা (harassment এর, বাবার এসব কাজে সঙ্গি থাকার part, বাবার helper কে মেরে ফেলার part) আমার আমার কাছে অনেক বেশিই অবাস্তব লাগে। গল্পটার ঘটনা প্রবাহ একটু ছন্নছাড়া ও ছিল।
গল্পটা আহামরি সুন্দর না হলেও fast read এর জন্য পড়া যায়, আর শেষ পর্যন্ত suspense টা ধরে রাখতে পারে। আর শফী এর case টাকে এখানে আনায় একটা nostalgic ব্যাপার ও এসেছে৷ And as usual ডিম নিয়ে একটা কিছু থাকবেই। Kind of এটা trade mark হয়ে গেছে। 🤣
This entire review has been hidden because of spoilers.
গল্পের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর রাগিব মুখতাসার এর বাড়ির কাজের লোক জমিলার খুনের মধ্যে দিয়ে।
রাগিব মুখতাসার ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের মনোবিজ্ঞানের সাবেক প্রফেসর এবং চাইল্ড সাইকোলজিস্ট। তার পরিবারে মূলত সে আর শয্যাশায়ী বৃদ্ধ বাবা। সাথে ছিলো রুকমন তাদের বাড়ির যাবতীয় সকল কাজ করার জন্যে। বাবার সেবার জন্যে পাঁচ বছর আগে জমিলাকে নিয়োগ করে। কিন্তু জমিলার এই মৃত্যু তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলে। কিন্তু কিসের জন্যে রাগিব মুখতাসার এত চিন্তিত! সে জমিলার হত্যার সাথে মিল খুঁজে পায় চল্লিশ বছর আগের এক সিরিয়াল কিলিং এর। সে আদাজল খেয়ে নেমে পড়ে খুনের তদন্তে আর একের পর এক বেরিয়ে আসে সব চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। কিন্তু শেষের টুইস্টগুলো বেশ দারুণ। বইয়ের সবচেয়ে মজার অংশ ছিলো শেষ তিন অধ্যায় যা লেখক ভূমিকাতেই বলে দিয়েছেন।
এম.জে বাবুর বই যারা পড়েছে তারা সবাই জানে গল্প স্বাভাবিক গতিতে চললেও লেখক শেষে গিয়ে সব উল্টে-পাল্টে দেন একদম। যা এই বইতেও ব্যতিক্রম নয়।
বইয়ের বানান ভুল ও কিছু কিছু জায়গায় শব্দের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে যা সংস্কার করা হবে।
প্রধান চরিত্র 'রাগিব মুখতাসার'- যিনি একজন বয়স্ক চাইল্ড সাইকোলজিস্ট-তার মর্মান্তিক শৈশব থেকেই গল্পের শুরু। পুলিশের উদাসীনতায় হতাশ হয়ে রাগিব তার গৃহকর্মী জামিলার রহস্যজনক এবং জঘন্য খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পড়েন- যা তাকে তার দুষ্প্রাপ্য স্মৃতির অন্ধকার কোণে প্রবেশের পথ খুলে দেয়। তদন্তে নামার সময় বেরিয়ে আসে এই খুনের ধরন প্রায় চল্লিশ বছর পূর্বের সিরিয়াল কিলারদের হত্যাকান্ডের মতো। অতীত ও বর্তমানের খুনি একই কিনা বা কে বা কেন এই প্রশ্নই পাঠককে বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা অবধি টেনে নিয়ে যাবে। শুরুটা ধীর এবং মনস্তাত্ত্বিক-রাগিবের অতীতের স্মৃতিচারণে শুরু হয় এরপর ক্রমশ রহস্য ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। শুরুটায় চরিত্রের শৈশবের মর্মান্তিক বিবরণী তারপরে ধীরে ধীরে থ্রিল এবং শেষে ক্লাইম্যাক্সের দিয়ে বইয়ের শেষ।
সাইকোলজিক্যাল টার্মস ব্যবহারে কাহিনীর গভীরতা বেড়েছে- যদিও সাধারণ পাঠকের জন্য মাঝে মাঝে জটিলও বটে। ত��ে যারা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার পছন্দ করেন, অতীতের চাপা অনুভূতি ও মানুষের অন্ধকার মনোভাব সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তবে “নির্জন স্বাক্ষর” তাদেরকে একটি মনোরম পাঠ্য-অভিজ্ঞতা দিবে।
এম জে বাবু'র অ্যাবসেন্টিয়া আর ইনসেন্টিয়া পড়ে এক্সপেকটেশন খুব হাই হয়ে গিয়েছিলো লেখক থেকে। দুঃখজনকভাবে, এই বইটির বিকাশ এবং উপসংহার ছিল সম্পূর্ণ অর্থহীন। যদিও লেখক প্রথমেই বলেছিলো প্রত্যাশা ছাড়া আগায় যাইতে কিন্তু অনুমান করতে পারিনি এত বাজে হবে। হতাশ। হুদাই টাইম ওয়েস্ট ছাড়া কিছুনা।
স্পয়লার এলার্ট: একজন নিজের জীবনকথা লিখছেন, ছোটবেলা বড়বেলা সব নিয়ে। এখন ছোটবেলায় খুন করলো না কি করলো, বুড়ো বয়সে এসে সেমভাবে এসব খুন হতে দেখে লেখক লেগে পরে খুজতে যে কে খুন করছে আর মোটিভ কি? বইয়ের কিছু পাতা পড়লে এতটুকু আন্দাজ করা যায় ইজিলি। এরপর ভুংভাং বুঝ দিয়ে বইয়ের ফিনিশিং 👍🏻
This entire review has been hidden because of spoilers.
কোন অংশ থেকে শুরু করবো বুঝতে পারছি না কিন্তু বইটা এক কথায় বেশ ভালো লাগলো। বইটাতে সম্পূর্ণ একজন বৃদ্ধ লোকের পারস্পেক্টিভ থেকে গল্প বলা হয়। যা শুরুতে খুবই রহস্যময়ী বর্ণনার মাধ্যমে এগিয়ে যায় এবং সাথে থাকে জীবনানন্দ দাশের কবিতা। প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে কবিতা এবং যার ব্যবহারও বেশ ভালোভাবে করা হয়েছে। বলা হয়েছিলো বইটি লেখকের অন্যান্য বইগুলো থেকে আলাদা এবং কথা সত্য কিন্তু তবুও ভালো লাগার কারণ হলো রহস্যময় আবহ এবং গল্প বুনন। তাছাড়া চরিত্রগুলোও ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং আরেকটি বিষয় যা না বলে থাকতে পারছি না:") স্পয়লার হয়ে যাবে কিন্তু তাও হালকা করে বলি..অ্যানার্কিস্ট সিরিজের ইউনিভার্সের সাথে যেভাবে যুক্ত করা হয়েছে তা অসাধারণ। বইটির শেষে এসে তা বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায় কিন্তু এর আগে থেকেই কিছু চরিত্রের মাধ্যমে তা বোঝা যাচ্ছিলো। বইতে টুই্যস্ট সেভাবে নেই কিন্তু কিছু চমক আছে..
তাছাড়াও মূল গল্পের ইনভেস্টিগেশন এবং ধীরে ধীরে প্লট এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে রহস্যের খোলাসাও ভালো ছিলো কিন্তু শুরুতে অথবা কিছু জায়গায় মনে হবে হঠাৎ যেনো খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা হয়ে গেলো। তাছাড়া কিছু জায়গায় শব্দ মিসিং ছিলো সম্ভবত। এই দুইটি দিক বাদে তেমন নেগেটিভ পয়েন্ট নেই। বইটি বেশ ছোটো এবং স্বল্প পরিসরে হওয়ার পরেও ধীরে সুস্থে পড়েছি এবং ভালোই উপভোগ করেছি। হতে পারে অনেকের কাছে স্লো মনে হতে পারে কিন্তু যারা রহস্যময় আবহে একটু স্লো ন্যারেটিভ পছন্দ করেন তাদের ভালো লাগবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বিষণ্ণতার গল্প ও এমন হয়! বেশ সাদামাটা একটা গল্প। কিন্তু শেষে মন ছুঁয়ে গিয়েছে। মূল চরিত্রকে ঘিরে লেখক অদ্ভুত এক বিষণ্ণতার ছাপ তৈরি করেছেন। যা বই শেষ করলে পাঠকের মনকে স্পর্শ করবে।