নামেই বোঝা যায় এ কাব্যগ্রন্থের কেন্দ্রে রয়েছে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া তৎকালীন বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে যে দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে, সে দেশের এমন করুণ পরিণতি কবিকে প্রতি মুহূর্তেই পীড়িত করেছে। এ কাব্যগ্রন্থে ঠাঁই পাওয়া চন্দ্রনাথ বণিক আসলে শামসুর রাহমানেরই নামান্তর, আর চম্পকনগর রূপকের আড়ালে রয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজধানী ঢাকা, যে শহরে কবির জন্ম, বেড়ে ওঠা, জীবন-জীবিকা সবকিছু। মনসার মুহুর্মুহু আঘাতে জর্জরিত হওয়া চাঁদ সদাগর কবি নিজেই। শুধু দেশ নয়, পরিবার, সমাজ ও পৃথিবী নিয়ে কবির ভাবনাও ফুটে উঠেছে এখানকার নানা কবিতায়। আরও আছে মধ্যবিত্তের দুর্দশার বর্ণনা, আছে ভূমিহীন কৃষকের যাতনা। নখদন্তহীন সুবিশাল হাতির মতো দাঁড়িয়ে থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ নিয়েও লিখেছেন কবিতা: ‘জাতিসংঘ পরিণামহীন দেবতার মতো ডানা/ ঝাপটায় শূন্যতায়। জাতিসংঘের ফটক বন্ধ/ হলেও তৃতীয় বিশ্বে নবজাতকের নতুন চিৎকার বেজে/ উঠবে নিয়ত, শীর্ণ হাত প্রসারিত হবে ক্রমে/ সভ্যতার দিকে।’
Shamsur Rahman (Bengali: শামসুর রাহমান) was a Bangladeshi poet, columnist and journalist. Rahman, who emerged in the latter half of the 20th century, wrote more than sixty books of poetry and is considered a key figure in Bengali literature. He was regarded the unofficial poet laureate of Bangladesh. Major themes in his poetry and writings include liberal humanism, human relations, romanticised rebellion of youth, the emergence of and consequent events in Bangladesh, and opposition to religious fundamentalism.
বছর শুরু করলাম কবিতা দিয়ে যেহেতু শামসুর রাহমান বলেছেন কবিতা এক ধরনের আশ্রয়। কিন্তু কিসের থেকে আমি আশ্রয় নিতে চাইছি? সমাজ সভ্যতা আর মানুষ থেকে? নাকি উদ্ভট উটের পিঠে চলতে থাকা নিজ স্বদেশের কূপমণ্ডূকতা থেকে? নাকি নিজের কাছে থেকে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি আজন্ম এস্কেপিস্ট বলে? এতসব প্রশ্নের প্রসঙ্গ আপাতত থাক।
কবিতা আমার খুবেকটা পড়া হয়নি, হয়তো কবিতার আমাকে বা আমার কবিতার প্রয়োজন পড়েনি বলে। কিন্তু ইদানীং কবিতার রাজ্যে আশ্রয় নিবার জরুরত বোধ করছি। শুরুটা বেশ দারুণ ভাবেই হলো। শামসুর রাহমানের উক্ত কাব্যগ্রন্থ বেশ মুগ্ধ করেছে। চাঁদ সওদাগর থেকে শুরু করে প্রেম, যুদ্ধ, মানবিকতা অনেক কিছুই এসেছে। রাহমানের স্ট্রেটকাট ভাষা, মিথ বা পুরাণের ব্যবহার আর অতি ব্যক্তিগত অনুভূতির সার্বজনীন কাব্যিক বহিঃপ্রকাশ চমৎকার মুগ্ধকর। মনে হচ্ছে সামনের কিছুদিন শামসুর রাহমানের ঘোরে কাটবে।
"তোমার আমার মধ্যে ক্রমাগত রচিত হচ্ছে মাইল মাইলব্যাপী তৃষ্ণার্ত জিহ্বার মতো গা ছমছম প্রান্তর। অদূরে অনেক ক্ষুধার্ত শকুন অপেক্ষমাণ, আর আমি ওদের দৃষ্টি থেকে, শবগন্ধী চঞ্চু থেকে নিজেকে আড়াল করে হাঁটছি ভারি পা টেনে টেনে। কোথাও এমন কোনো পাখি নেই, যার গানে দিকগুলি মাধুর্যের আভায় হবে রঙিন, নেই কোনো ঝরনা, যার ছলছলে হাসি আমার ক্লান্ত তৃষ্ণার অন্ধকারকে মুছে ফেলবে নিমেষে।"