কাঞ্চনফুলের কবি এমন একজন মানুষ ও সময়কে বিষয় করে লেখা উপন্যাস, যেখানে সত্য ও ইতিহাসনিষ্ঠ থাকার দায় আছে। সেই মানুষটির নাম জীবনানন্দ দাশ। তিনি এমন গভীর ও প্রভাবসঞ্চারী কবি আর তাঁর সাদাকালো ও রহস্যময় জীবন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুরাগী পাঠক ও গবেষক বারবার তাঁকে আবিষ্কার করে ফিরবেন। জীবনানন্দ দাশ এমন সময়ে কবিতাচর্চায় মগ্ন, যখন রবীন্দ্রনাথ খ্যাতির মধ্যগগনে আর নজরুল তুমুল জনপ্রিয়। ব্যক্তি জীবন ও কাব্যের ভুবন— কোথাও তাঁর দাঁড়াবার জায়গা মেলেনি, খ্যাতির নাগালও নয়। ট্রাম দুর্ঘটনায় আকস্মিক মৃত্যুর পর, ক্রমশ তিনি বাংলা কবিতার অনিবার্য এক ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠেন। কীভাবে? সমকাল ও ইতিহাসকে একসূত্রে গেঁথে কবিতাকে রহস্যঘন, পরিপার্শ্ব-সংলগ্ন ও প্রজ্ঞার আধার করে তোলায় তিনি অসামান্য কবি-প্রতিভা। তাঁর কবিতা আমাদের হৃদয়ে উপশম দেয়, অনুভবের তন্ত্রী অধিকার করে রাখে। ‘কাঞ্চনফুলের কবি’ এক আশ্চর্য উপন্যাস— একজন কবিকে দেখার আয়না, সময় ও সমকালকে বোঝার গায়ত্রীমন্ত্র। এই উপন্যাস ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের সময়েই বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের মধ্যে সাড়া ফেলে।
মাসউদ আহমাদ ৫ জুন ১৯৮৫ সালে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দমদমা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি পাশ করে রাজশাহী শহরে চলে আসেন। প্রথম বিভাগ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন ২০০০ সালে, এইচএসসি ২০০২-এ স্টার মার্কস নিয়ে, পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সাহিত্যের বারান্দায় তাঁর হাটাহাটি দীর্ঘদিনের। মূলত ছোটগল্প লেখার চেষ্টা করেন। প্রথম গল্প ‘কলমবন্ধু’ প্রকাশিত হয় ঢাকার সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকায় ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৪-এ। সাপ্তাহিক ২০০০ পত্রিকায় প্রেমের গল্প লিখে একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন প্রকাশিত হয় প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘কলমবন্ধু ও অন্যান্য গল্প’; প্রকাশক: ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। প্রথম আলো, সমকাল, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, উলুখাগড়া, পাক্ষিক অন্যদিনসহ নানা পত্রিকায় গল্প প্রকাশিত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার ‘দেশ’প্রত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখা তাঁর গল্প ‘পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন’। বইমেলা ২০১৬-তে প্রথম উপন্যাস ‘নিজের সঙ্গে একা’ এবং ২০১৭-তে ‘রূপচানের আশ্চর্য কান্না’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। তিনি গল্পবিষয়ক ছোটকাগজ ‘গল্পপত্র’ সম্পাদনা করেন। সর্বশেষ সংখ্যাটি ‘কথাসাহিত্যের সৈয়দ শামসুল হক’শিরোনামে বেরিয়েছে, ডিসেম্বর ২০১৬ তে; তারও আগে বেরিয়েছে ‘কথাসাহিত্যের জীবনানন্দ’ সংখ্যা। বইপড়া, গান শোনা এবং গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো তাঁর প্রিয় বিষয়। শিশুর হাসি আর মায়ের মুখ তিনি সবচেয়ে পবিত্র ও সুন্দর বিবেচনা করেন। লেখার ক্ষেত্রে তাঁর দর্শন হচ্ছে ‘এমন লেখা লিখতে চাই একবার পাঠেই যেন ফুরিয়ে না যায়।’