'৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও চীনপন্থি বামনেতা অধ্যাপক আসহাবউদ্দীনের রচনাসমগ্রের পহেলা খণ্ডে তাঁর স্মৃতিচারণধর্মী লেখা 'বোকা মিয়ার কথা', 'কলেজ স্মৃতি', 'বাদলের ধারা ঝর ঝর' অনেক ভালো লেগেছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর একটি গাঁয়ে লেখকের বেড়ে ওঠা। তৎকালীন ব্রিটিশশাসিত পূর্ববঙ্গের জনসাধারণের কথা লিখতে গিয়ে অনেককিছুই লিখেছেন আসহাবউদ্দীন। বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের চিত্র, সংখ্যালঘু অথচ তুলনামূলক স্বচ্ছল বাঙালি হিন্দুর মুসলমানবিদ্বেষ - সবই দেখেছেন ও লিখেছেন আসহাবউদ্দীন। আবার, হিন্দু সম্প্রদায়ের অসাম্প্রদায়িক গুণীজনদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন।
প্রাদেশিক সংসদে যেদিন স্পিকার শাহেদ আলী খুন হন, সেদিন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন আসহাবউদ্দীন। কে শঙ্কর মাছের লেজের চাবুক এনেছিল মারামারি করতে তা পাঠককে অবাক করবে। সেই মহান রাজনীতিবিদের সেদিনের ভূমিকা ও ন্যাপের সমাবেশে হামলায় ইন্দনের ঘটনা কিছু বার্তা স্পষ্টভাবে পাঠককে দেবে।
আসহাবউদ্দীন আহমদের রসবোধ অত্যন্ত প্রবল। 'ধার', 'জান ও মান' এবং 'এক আনা সের মাত্র' রচনাগুলোয় বুদ্ধি, ব্যঙ্গ ও রসের ঝিলিক ঠিকরে বের হচ্ছিল। আবুল মনসুর আহমদের রচনার স্বাদ এই লেখাগুলোতে পাওয়া যায়। তাঁর লেখনশৈলী মনোমুগ্ধকর। শব্দ নিয়ে খেলতে তিনি ওস্তাদ।
আসহাবউদ্দীন কমিউনিস্ট ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে এদেশের বামপন্থি রাজনীতি তার মোহভঙ্গ ঘটে এবং নিজেকে দলীয় রাজনীতির বৃত্ত থেকে সরিয়ে নেন। তিনি কট্টরভাবে চীনপন্থি। চীনের সবকিছু ভালো ও বাকিরা বিলকুল ঝুটা - এমন মানসিকতা কিছু কিছু লেখায় প্রতীয়মান। তাই একচোখামি পাঠক হিসেবে আমার বিরক্তি তৈরি করেছে একাধিকবার।
বইটির চমৎকার একটি ভূমিকা লিখেছেন আনু মুহাম্মদ।
আসহাবউদ্দীন আহমদ বিস্মৃতপ্রায় একজন লেখক। তাঁর রচনা পাঠ আমাদেরকে ঋদ্ধ করবে। রাজনীতি ও জনজীবন নিয়ে যেমন জানতে পারব, তেমন রসবোধসমৃদ্ধ লেখা পড়ে পাব নির্মল আনন্দ। ভবিষ্যতে তাঁর রচনাবলির বাকি খণ্ডগুলো হয়তো পড়ব।
নতুন কিছু পড়তে চাইলে পড়ুন, আসহাবউদ্দীন রচনাসমগ্র-১।