Ghosh, Binoy (1917-1980) journalist, sociologist, writer, literary critic and researcher, who also wrote under the pseudonym 'Kalpencha', was born on 14 June 1917 in Kolkata. His ancestral home was in jessore. He completed BA from Asutosh College, Kolkata, and MA in Ancient Indian History and Anthropology from Calcutta University.
He was honoured with the Rabindra Award (1959) for his Pashchimbanger Sangskrti.
বিনয় ঘোষের অনবদ্য গ্রন্থ 'বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা'। বইতে লেখক বাংলার ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া নানা ঘটনা এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জমিদারি প্রথা নিয়ে অনেকেই একপ্রকার সামন্তবাদী রোমান্টিকতায় ভোগেন। বিনয় ঘোষের লেখা থেকে স্পষ্ট হয়, এটি ছিল একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য প্রথা। প্রজাদের জুলুমের জন্য এরচাইতে নিকৃষ্ট উপায় আর হয় না।
প্রথম দিকের বাঙালি ধনী হিন্দুদের উত্থানপর্ব লিখেছেন বিনয় ঘোষ। কোম্পানির মোসাহেবি ও সংযোগ রেখে ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে সমাজের উঁচুতলার ব্যক্তিদের স্বরূপ উন্মোচিত হয় এই লেখায়।
রবীন্দ্রনাথের চোখে বঙ্কিম ছিলেন, 'শিক্ষিতশ্রেষ্ঠ'। এই শিক্ষিত জনগণ কীভাবে বাঙালি হিন্দু সমাজের বিকাশে অবদান রেখেছিল সেসব কথা নানাভাবে ব্যাখা বিশ্লেষণ করেন বিনয় ঘোষ।
লেখক অত্যন্ত পণ্ডিত ব্যক্তি। তবু বাঙালি মুসলমানের প্রতি তিনি নিরপেক্ষ আচরণ করেছেন এমন বলা যাবে না। এক্ষেত্রে বিনয় ঘোষকে 'সামপ্রদায়িকতা' ঘেঁষা বলব।
বইটি পড়লে মনে হয় বাংলার সমাজ ও ইতিহাস মূলত বাঙ্গালী হিন্দুর সমাজ ও ইতিহাস; বাংলার ক্যানভাসে বাঙ্গালী মুসলমান যেন এই বইতে তাদের জন্য বরাদ্দ এক-দুইটা অনুচ্ছেদের মতো ফুটনোট কেবল! এটা ঠিক যে পশ্চিমা জ্ঞানকাণ্ডে বাঙালি মুসলমানের বিলম্বিত অংশগ্রহণের ফলে বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্ত হিন্দু মধ্যবিত্তের পরে বিকশিত হয়, কিন্তু তা-ই বলে বাংলার সমাজ বিবর্তনের ইতিহাসে তারা ফুটনোট হয়ে যায় না। বাংলার অর্ধেক জনগোষ্ঠীর ইতিহাস অবহেলা করা এই আখ্যান মূলত বাঙালি হিন্দুর ইতিহাস, গোটা বাংলার ইতিহাস নয়। বাঙ্গালী মুসলমানের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পৃথক একটি দেশের আকাঙ্খা আকাশ থেকে পড়েনি; সেই ইতিহাস অন্তত এই বইতে পাওয়া যাবে না।