What do you think?


Humayun Ahmed (Chronological List) #73
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে
নবনী ভালোবাসে শাহেদকে। শাহেদ নবনীকে। কিন্তু তাদের এই ভালোবাসাটা কি আসলেই খাঁটি? নাকি কিছুটা ফাঁক আছে, আছে সন্দেহ, দ্বিধা? তৃতীয় ব্যক্তি শ্রাবণী কি সেই এড়িয়ে যাওয়া সত্যিটা দুজনের সামনে তুলে ধরতে পারবে?
82 pages, Hardcover
First published February 1, 1993
About the author
Humayun Ahmed
454 books3,096 followersHumayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Early life:
Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career:
Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life:
In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death:
In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 81 reviews
June 13, 2023
বাস উঠে প্রথমে একটা বই বের করলাম পড়ার আশায়। কিন্তু বাসের ঝাকুনিতে বই কোনো ভাবেই আমার চোখের সামনে স্থীর হয়ে থাকলোই না। তাই ভাবলাম অডিওবুক ট্রাই দিই। আজ থেকে বছর ৪-৫ আগে নিয়মিত অভ্যাস ছিল বাস জার্নি তে অডিও বুক শোনা আর এখন সেটা একদমই চেঞ্জ হয়ে গেছে।
তবে বইটা মন ভরে উপভোগ করলাম। এত দিন পর অডিওবুক শুনে নস্টালজিয়া কাজ করছে সেই জন্য নাকি সত্যিই অপূর্ব সব চরিত্রের জন্য বইটা দারুন সুপাঠ্য ছিল সেজন্য, তার কারন নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করিনি।
তবে বইটা মন ভরে উপভোগ করলাম। এত দিন পর অডিওবুক শুনে নস্টালজিয়া কাজ করছে সেই জন্য নাকি সত্যিই অপূর্ব সব চরিত্রের জন্য বইটা দারুন সুপাঠ্য ছিল সেজন্য, তার কারন নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করিনি।
June 12, 2024
বইটা আমার একটা কম্ফোর্ট বই আসলে। মাঝেমাঝেই পড়ি। পড়ে একটু মনটা খারাপ হয়ে যায় নবনীর জন্য। নবনীর মায়ের জন্য। কিংবা শ্রাবণীর জন্যও।
April 3, 2015
আমার খুব প্রিয় একটা বই।
আর প্রথম বই যেটা পড়ে "ক্রাশ" খেয়েছিলাম :p তাও নাইকার উপর না,নাইকার বোনের উপর :p
আর প্রথম বই যেটা পড়ে "ক্রাশ" খেয়েছিলাম :p তাও নাইকার উপর না,নাইকার বোনের উপর :p
June 1, 2022
মবিনউদ্দিন এর অভাব প্রতিটা পৃষ্ঠায় অনুভব করেছি...
July 12, 2023
শেষটা ছাড়া বাকি সবটার আগামাথা কিছুই বুঝলাম না। অদ্ভুত বই।
August 1, 2019
#পুতুলের_রিভিউ
বই : তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে
লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশনী : কাকলী প্রকাশনী
প্রকাশকাল : ১৯৯৩
পৃষ্টা : ৮০
মুদ্রিত মূল্য : ১৩০ টাকা।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে,
তখন ছিলেম বহু দূরে কিসের অন্বেষণে।।
-রবীন্দ্রসংগীত
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: এই গানটার সাথে উপন্যাসের চরিত্রগুলোর জীবনও যেন আংশিকভাবে মিলে যায়। কারণ আমরা বেশিরভাগ সময়ই জানিনা আমরা কি চাই। আর যেটা চাই বলে আমাদের মনে হয়- আসলে সেটা চাই না। লেখক এর মাধ্যমেই উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মাঝে সম্পর্কের কিছু শক্ত এবং করুণ দিক ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকার ভাবে।সব মিলিয়ে দারুণ একটি বই। তবে লেখক তার যেকোনো উপন্যাস লেখার সময় এমন ভাবে লেখেন যে কোনো না কোনো চরিত্রের উপর সত্যিই ভীষণ বিরক্তি কাজ করে।যেমন এই বইটি পড়ে আমার কাছে 'শাহেদ' চরিত্রটার ওপর প্রচুর রাগ হয়ে ছিলো। শুধু বলবো শাহেদের মতো পল্টিবাজ প্রেমিক না হওয়াই ভালো। বইয়ের প্রিয় কিছু লাইন:
* পরিবেশ মানুষকে বদলে দেয়।
* পাগলামি বংশগত ব্যাপার। একজনের কারোর থাকলে সবার মধ্যে খানিকটা চলে আসে।
*দুনিয়া খুব মন্দ জায়গা।
*মানুষের চেয়ে বড়ো ভূত আর কিছুই নেই। মানুষ হইলো সবচেয়ে বড়ো ভূত।
*ছেলেরা বাই নেচার প্র্যাকটিক্যাল ধরনের হয়। কল্পনা-বিলাস ছেলেদের এমনিতে কম।
*একজন কেউ বোধহয় থাকা দরকার যাকে সব কথা বলা যায়।
*উদাহরণ দেওয়া মানে ঝগড়া করা।
*স্বামী হলেই তাকে সব কথা বলা যায় তা তো না। বেশিরভাগ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিন্তু অনেক দূরত্ব থাকে।
*আসল দৃশ্যের চেয়ে নকল দৃশ্য সবসময় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং হয়।
*কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের সত্যি কথা মিথ্যার মতো মনে হয়।
* মন ক্লান্ত হলে শরীরও বোধহয় ক্লান্ত হয়ে যায়।
* শুয়ে থাকলে অসুখকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়।
*বাজির ভাগ্য সবার ভালো থাকে না।
*কিছু কথা আছে অন্ধকারে বলতে হয়।আলোতে বলা যায় না।
#বইয়ের_রেটিং: ৪.৫/৫
বই : তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে
লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশনী : কাকলী প্রকাশনী
প্রকাশকাল : ১৯৯৩
পৃষ্টা : ৮০
মুদ্রিত মূল্য : ১৩০ টাকা।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে,
তখন ছিলেম বহু দূরে কিসের অন্বেষণে।।
-রবীন্দ্রসংগীত
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: এই গানটার সাথে উপন্যাসের চরিত্রগুলোর জীবনও যেন আংশিকভাবে মিলে যায়। কারণ আমরা বেশিরভাগ সময়ই জানিনা আমরা কি চাই। আর যেটা চাই বলে আমাদের মনে হয়- আসলে সেটা চাই না। লেখক এর মাধ্যমেই উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মাঝে সম্পর্কের কিছু শক্ত এবং করুণ দিক ফুটিয়ে তুলেছেন চমৎকার ভাবে।সব মিলিয়ে দারুণ একটি বই। তবে লেখক তার যেকোনো উপন্যাস লেখার সময় এমন ভাবে লেখেন যে কোনো না কোনো চরিত্রের উপর সত্যিই ভীষণ বিরক্তি কাজ করে।যেমন এই বইটি পড়ে আমার কাছে 'শাহেদ' চরিত্রটার ওপর প্রচুর রাগ হয়ে ছিলো। শুধু বলবো শাহেদের মতো পল্টিবাজ প্রেমিক না হওয়াই ভালো। বইয়ের প্রিয় কিছু লাইন:
* পরিবেশ মানুষকে বদলে দেয়।
* পাগলামি বংশগত ব্যাপার। একজনের কারোর থাকলে সবার মধ্যে খানিকটা চলে আসে।
*দুনিয়া খুব মন্দ জায়গা।
*মানুষের চেয়ে বড়ো ভূত আর কিছুই নেই। মানুষ হইলো সবচেয়ে বড়ো ভূত।
*ছেলেরা বাই নেচার প্র্যাকটিক্যাল ধরনের হয়। কল্পনা-বিলাস ছেলেদের এমনিতে কম।
*একজন কেউ বোধহয় থাকা দরকার যাকে সব কথা বলা যায়।
*উদাহরণ দেওয়া মানে ঝগড়া করা।
*স্বামী হলেই তাকে সব কথা বলা যায় তা তো না। বেশিরভাগ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিন্তু অনেক দূরত্ব থাকে।
*আসল দৃশ্যের চেয়ে নকল দৃশ্য সবসময় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং হয়।
*কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের সত্যি কথা মিথ্যার মতো মনে হয়।
* মন ক্লান্ত হলে শরীরও বোধহয় ক্লান্ত হয়ে যায়।
* শুয়ে থাকলে অসুখকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়।
*বাজির ভাগ্য সবার ভালো থাকে না।
*কিছু কথা আছে অন্ধকারে বলতে হয়।আলোতে বলা যায় না।
#বইয়ের_রেটিং: ৪.৫/৫
August 4, 2025
২.২৫/৫
পুরোটার জন্য ২
শেষ অধ্যায়ের জন্য ০.২৫ বোনাস।
পুরোটার জন্য ২
শেষ অধ্যায়ের জন্য ০.২৫ বোনাস।
April 26, 2021
ভাল লেগেছে না খারাপ ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। কিন্তু যে অনুভূতিটা ঠিকই ধরতে পারছি সেটা হল স্রেফ বিরক্তি। এই বই এর নামই জানতাম না, পড়া তো দূরের ইচ্ছা। একজনের রেকমেন্ডেশনে হাতে নেয়া। রেকমেন্ডেশনে বই পড়ার ব্যাপারে ভবিষ্যতে আরও সাবধানি হতে হবে।
লেখা নিয়ে কিছু বলার অবকাশ নেই। হুমায়ুন আহমেদের লেখার মান এমন যে তিনি অত্যন্ত বাজে জিনিসকেও পাঠ্য করে তুলতে পারেন, পড়া শেষ হলে মনে হবে কি টাট্টি পড়লাম কিন্তু পড়ার সময় সেটা মনে হওয়ার সুযোগ মিলবে না। পাঠক এক নাগাড়ে পড়ে যেতে বাধ্য হবে একমাত্র লেখকের লেখনির সুবাদে।
এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেম।
প্রথম থেকেই কিছু এক ধরণের অস্বস্তির মধ্যে ফেলতে চেয়েছিলেন লেখক পাঠকদের। 'কুছ তো গারবার হ্যায় দায়া' টাইপ একাধিক আভাস দিয়েছেন পাঠকদের। সাধারণ সাহিত্যে তার এমন আভাস অবাক করার মত যেখানে সে মিসির আলির ক্ষেত্রেও এরূপ আভাস কখনও দিতেন না, যেখানে মিসির আলির মত বইয়ে এমন আভাস কাম্য।
যাইহোক, সেগুলো ধরতে পেরেই বিরক্তিটা লাগল। কিন্তু যা বললাম। লেখকের লেখনি বই সহজে ছাড়তে দেয় না।
একটা বিষয় এখানে চোখে পড়ার মত যে, যা বাহ্যিকভাবে মনে হয় তা যে ভিতরের বাস্তবতার সাথে নাও মিলতে পারে সেটা এই বইয়ের মধ্যে প্রকট। গল্পে বাবার চরিত্রকে শেষ অবধি বেশ ভাল মানুষ বলেই মনে হয়েছে যদিও বা শাহেদ চরিত্রের মধ্যে প্রচ্ছন্ন লাম্পট্য প্রথমেই ধরা পড়েছে। যা পরবর্তীতে আমার আন্দাজকেই সমর্থন করেছে।
যে নিজের ইমোশনের ব্যাপারে এতটা আনসার্টেইন তাও... সে সেখানে মেয়ের থেকে বিশেষ কিছুর দাবিটা কেন করছে সেটা হজম করতে কষ্ট হল। আর কিছু সীমা আছে যা অতিক্রম করা অন্যায়ই না, ঘৃণিত। শাহেদ বাবাজি সে দিকেই পা দিয়েছেন। সে মন না সে আসলে যে কি ঠিক কিসের পূজারী তা বুঝে ওঠা গেল না।
লেখা নিয়ে কিছু বলার অবকাশ নেই। হুমায়ুন আহমেদের লেখার মান এমন যে তিনি অত্যন্ত বাজে জিনিসকেও পাঠ্য করে তুলতে পারেন, পড়া শেষ হলে মনে হবে কি টাট্টি পড়লাম কিন্তু পড়ার সময় সেটা মনে হওয়ার সুযোগ মিলবে না। পাঠক এক নাগাড়ে পড়ে যেতে বাধ্য হবে একমাত্র লেখকের লেখনির সুবাদে।
এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেম।
প্রথম থেকেই কিছু এক ধরণের অস্বস্তির মধ্যে ফেলতে চেয়েছিলেন লেখক পাঠকদের। 'কুছ তো গারবার হ্যায় দায়া' টাইপ একাধিক আভাস দিয়েছেন পাঠকদের। সাধারণ সাহিত্যে তার এমন আভাস অবাক করার মত যেখানে সে মিসির আলির ক্ষেত্রেও এরূপ আভাস কখনও দিতেন না, যেখানে মিসির আলির মত বইয়ে এমন আভাস কাম্য।
যাইহোক, সেগুলো ধরতে পেরেই বিরক্তিটা লাগল। কিন্তু যা বললাম। লেখকের লেখনি বই সহজে ছাড়তে দেয় না।
একটা বিষয় এখানে চোখে পড়ার মত যে, যা বাহ্যিকভাবে মনে হয় তা যে ভিতরের বাস্তবতার সাথে নাও মিলতে পারে সেটা এই বইয়ের মধ্যে প্রকট। গল্পে বাবার চরিত্রকে শেষ অবধি বেশ ভাল মানুষ বলেই মনে হয়েছে যদিও বা শাহেদ চরিত্রের মধ্যে প্রচ্ছন্ন লাম্পট্য প্রথমেই ধরা পড়েছে। যা পরবর্তীতে আমার আন্দাজকেই সমর্থন করেছে।
যে নিজের ইমোশনের ব্যাপারে এতটা আনসার্টেইন তাও... সে সেখানে মেয়ের থেকে বিশেষ কিছুর দাবিটা কেন করছে সেটা হজম করতে কষ্ট হল। আর কিছু সীমা আছে যা অতিক্রম করা অন্যায়ই না, ঘৃণিত। শাহেদ বাবাজি সে দিকেই পা দিয়েছেন। সে মন না সে আসলে যে কি ঠিক কিসের পূজারী তা বুঝে ওঠা গেল না।
July 14, 2020
বইটা মোটামুটি ভালো।
অবচেতন মন শেষটা পর্যন্ত বোধহয় শুধু মবিনউদ্দিন কে খুঁজে গিয়েছে। কোথাও না পেয়ে হতাশ হয়েছি।
অবচেতন মন শেষটা পর্যন্ত বোধহয় শুধু মবিনউদ্দিন কে খুঁজে গিয়েছে। কোথাও না পেয়ে হতাশ হয়েছি।
February 19, 2023
মানুষ যখন সবকিছু হারিয়ে ডুবতে থাকে তখন সামান্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরে হলেও আশ্রয় প্রার্থনা করে। নবনীর জন্য আমার সেটাই মনে হয়েছে। নবনী যখন অপরিচিত মুবিনের কাছ থেকে বটগাছের নিচে বসে রাতে জোছনা দেখার নিমন্ত্রণ পায় তখন খুব স্বাভাবিক কারণেই তা ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু বইটা শেষ হতে হতে তার কাছে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না তখন সেই নিমন্ত্রণটাকেই সে আঁকড়ে ধরে বটগাছের নিকট ফিরে আসে। একটা মানুষ হারানোর চেয়েও হয়ত তার উপর বিশ্বাস হারানো বা তার প্রতি সম্মান হারিয়ে ফেলাটা বেশি ভয়ংকর। মানুষ হারিয়ে গেলেও তার স্মৃতি রয়ে যায় কিন্তু বিশ্বাস হারিয়ে গেলে তার প্রতিটা স্মৃতিও অসহ্য হয়ে উঠে। নবনী বইটা শেষ হতে হতে তার পুরো জগতটা হারিয়ে ফেলে। মানসিকভাবে প্রীতিকর তার কাছে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না তখন সেই অবাস্তব প্রস্তাব মেনে সে বটগাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। বইয়ের কোন চরিত্র নতুন না। অপ্সরার মতো সুন্দর কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র নবনী, তার বুদ্ধিমতী ছোট বোন শ্রাবনী, সবচেয়ে ভালো কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী চরিত্র হিসেবে নবনীর মার চরিত্রটি, ক্ষমতাবান কিন্তু নীতি নৈতিকতায় নিচু একটা মন্ত্রী চরিত্র, কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত কিন্তু কোন এক কারণে অযোগ্য একটি পুরুষ চরিত্র শাহেদ, ক্ষমতাবান মানুষের চাটুকার হিসেবে একটি চরিত্র চেয়ারম্যান সাহেব। কোনদিক দিয়ে বইটি নতুন না। না চরিত্র না গল্প। কিন্তু বইটার শেষ দিকে নবনীর জগতে যে হাহাকার সৃষ্টি করেছেন লেখক এবং সেটা সৃষ্টি করার ক্ষমতা যে তার রয়েছে এজন্য বইটি আমার ভালো লেগেছে।
June 22, 2022
নবনী আর শ্রাবণী দুই বোন। শ্রাবণী নবনীর ছোটো হলেও শ্রাবণী উপলব্ধি ক্ষমতা নবনীর থেকে বেশি এটা স্পষ্ট ফুটে ওঠে । সে তার মনে যোগ বিয়োগের যে অঙ্ক সাজিয়েছে তার ফলাফল মিলেছে। কারণ সে যুক্তি দিয়েই মেলাবার চেষ্ঠা করেছে । শাহেদ নবনীর বিয়ের কথা হলেও শ্রাবণীর সঙ্গ শাহেদ এর প্রিয় ছিলো সেটা নবনী বুঝতে না পারলেও বুঝেছে শ্রাবণী।
নবনীর বাবা মার সম্পর্কের জটিলতা শেষে প্রকাশ পেয়েছে । নবনীর অগোচরে থাকা সত্য জেনে সে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে । মবিনউদ্দিন এর মতন দুই বোন জোছনা দেখছে । নবনী কাদঁছে । ভীষন কাদঁছে। শ্রাবণী বৃক্ষের মত তার বোনের চারদিকে কঠিন দেয়াল তুলে দিয়েছে।
শ্রাবণী ফিসফিস করে বললো,"কাঁদে না আপা । কাঁদে না।"
আমার খুব ভালো লেগেছে☺️
নবনীর বাবা মার সম্পর্কের জটিলতা শেষে প্রকাশ পেয়েছে । নবনীর অগোচরে থাকা সত্য জেনে সে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে । মবিনউদ্দিন এর মতন দুই বোন জোছনা দেখছে । নবনী কাদঁছে । ভীষন কাদঁছে। শ্রাবণী বৃক্ষের মত তার বোনের চারদিকে কঠিন দেয়াল তুলে দিয়েছে।
শ্রাবণী ফিসফিস করে বললো,"কাঁদে না আপা । কাঁদে না।"
আমার খুব ভালো লেগেছে☺️
Read
October 14, 2021"আমরা বেশিরভাগ সময়ই জানি না আমরা কী চাই। যেটা চাই বলে মনে হয় - আসলে সেটা চাই না।"
_
পড়তে পড়তে মন চাইছিল গল্পের মতো নিরিবিলি কোন ডাকবাংলোয় গিয়ে ছুটি কাটিয়ে আসি।
আচ্ছা হুমায়ুন আহমেদের সব গল্পেই কি শ্রাবনীর মতো বুদ্ধিমতী চরিত্র থাকে? যে সবকিছুই জানবে, বুঝবে, আর প্রিয় মানুষগুলোকে আগলে রাখতে চাইবে? এবং সেই চরিত্রটাকেই কেন জানি সবথেকে বেশি ভালো লেগে যাবে!
এই বইটা পড়ার পর থেকে একটা কথাই বার বার মনে হচ্ছে, যাকে আপাত দৃষ্টিতে একজন ভালো মানুষ বলে মনে হয়, হয়তো তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সবথেকে কুৎসিত মানুষটি। আমরা কেউই আসলে জানিনা কার ভেতরের স্বত্তাটা কেমন!
_
পড়তে পড়তে মন চাইছিল গল্পের মতো নিরিবিলি কোন ডাকবাংলোয় গিয়ে ছুটি কাটিয়ে আসি।
আচ্ছা হুমায়ুন আহমেদের সব গল্পেই কি শ্রাবনীর মতো বুদ্ধিমতী চরিত্র থাকে? যে সবকিছুই জানবে, বুঝবে, আর প্রিয় মানুষগুলোকে আগলে রাখতে চাইবে? এবং সেই চরিত্রটাকেই কেন জানি সবথেকে বেশি ভালো লেগে যাবে!
এই বইটা পড়ার পর থেকে একটা কথাই বার বার মনে হচ্ছে, যাকে আপাত দৃষ্টিতে একজন ভালো মানুষ বলে মনে হয়, হয়তো তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সবথেকে কুৎসিত মানুষটি। আমরা কেউই আসলে জানিনা কার ভেতরের স্বত্তাটা কেমন!
September 8, 2023
চার দিন ধরে তীব্র জ্বর। জ্বরের জন্য সব কাজ আটকে ছিল। রুটিন হয়ে ছিল ওলটপালট। আজ সকাল থেকে কিছুটা সুস্থ বোধ করছি। বই পড়ার ক্রেভিং ফিল করছিলাম। টিবিআর লিস্ট থেকে হুমায়ূন আহমেদের তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে বইটি তুলে নিলাম পড়ার জন্য। হালকা মেজাজের ছোট্ট একটা বই। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের কথা আলাদা করে কিছুই বলার নেই। প্রিয় লেখকের সব বইই আমি গোগ্রাসে গিলতে পারি। অতি অখাদ্য টাইপের লেখা হলেও! ধীরে ধীরে আজ সারা দিনে ৮০ পৃষ্ঠার এই বইখানা পড়ে শেষ করে ফেলেছি। বরাবরের মত লেখক এই বইয়ের শেষে এসেও মন খারাপ করা ভাব রেখে গিয়েছে। আমার এখন তীব্র মন খারাপ। আমার মন ভালো করার দায়িত্ব এখন নিবে কে?
August 30, 2020
আগে একবার পড়েছিলাম এপ্রিল ২০২০
৫ বছর পর আবার পড়লাম। তখন দিয়েছিলাম ৫ এ ৫। এবার দিলাম ৫ এ ৪। যখন যেমন লাগলো।
৫ বছর পর আবার পড়লাম। তখন দিয়েছিলাম ৫ এ ৫। এবার দিলাম ৫ এ ৪। যখন যেমন লাগলো।
February 22, 2022
এই বইয়ে আরো একটা ওভারস্মার্ট মেয়ে চরিত্র ছিল, যার ওপর প্রচন্ড বিরক্ত হয়েছি। তবে সব কিছু মিলিয়ে গল্পটা ভালো।
December 17, 2021
গল্পের পটুভূমি শুরু এক মন্ত্রী সাহেব ও তার দুই মেয়েকে নিয়ে। জামিল সাহেব ও জাহানারা বেগম। তাদের বড় মেয়ে নবনী এবং আদুরে ছোট মেয়ে শ্রাবণী।
এই শীতে জামিল সাহেব তার পরিবার নিয়ে শহুরের বাইরে অজপাড়াগাঁয়ে একটি বাংলোতে বেড়াতে এসেছেন। বাংলোর দেখাশেনার দায়িত্বে আছেন এই এলাকার চ্যায়ারম্যান সাহেব। সুরুজ মিঞা। তিনি পনেরো বছর যাবত এই এলাকার চ্যায়ারম্যান। সুরুজ মিয়া নিজেকে অনেক বুদ্ধিমান মনে করেন। বুদ্ধিমান না হলে কি একটানা পনেরো বছর কেউ চ্যায়ারম্যান থাকতে পারে নাকি। কিন্তু সুরুজ মিঞার এই ভুল ধারণা ভেঙে যায় এক বিকেলে নবনী আম্মার সাথে হাটতে বের হয়ে। সুরুজ মিঞা মন্ত্রী সাহেবের বড় মেয়েকে আম্মা বলে সম্বোধন করেন। বলেন তিনি নবনী ও শ্রাবণী আম্মার বুড়ো ছেলে। তিনি পুরো বাংলোতে মন্ত্রী সাহেবের পরিবারের দেখাশোনা নিয়ে খুবই ব্যস্ত। বিশেষ করে নবনী ও শ্রাবণী কে নিয়ে। নবনী ও শ্রাবণী দুজন ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ। একজন খুবই চঞ্চল আরেকজন একটু ঘরকুনো স্বভাবের। যে অবসরে বেড়াতে এসেও ডাকবাংলোর এক রুমে সারাদিন বই নিয়ে পড়ে থাকে। গল্পের বই। নবনীর ধারণা গল্পের বই পড়তে পড়তে শ্রাবণীর মাথা একপ্রকার খারাপ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
নবনী, ‘আম্মা তুমি খেয়াল করেছো? শ্রাবণী দিন দিন মিথ্যা কথা বেশি বলা শুরু করেছে।’ শ্রাবণী আমাকে বলল এই বাংলোর কোনো এক জঙ্গলে নাকি এক ইংরেজের স্ত্রীর কবর আছে। কিন্তু চ্যায়ারম্যান চাচাকে বলে জানতে পারলাম এরকম কোনো কবরের হদিস এই এলাকাতে নেই। শ্রাবণী শাহেদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলে পা মচকিয়ে বসে আছে। পা অনেকটা ফুলে গেছে। আম্মা তা নিয়ে খুবই ভয়ে আছে। না জানি পা ভেঙে গেছে কিনা। তারচেয়েও ভয়ে আছে শাহেদ। তার মনে হচ্ছে সে নিজেই র্যাকেট দিয়ে শ্রাবণীর পা ভেঙে ফেলেছে। শাহেদ, আমাদের বাংলোতে বেড়াতে এসেছে দুদিন হলো। ওর সাথে নবনীর বিয়ের কথা চলছে।
নবনী সন্ধ্যার একটু আগে হাটতে বেড় হলো গ্রামের ভিতর। দূর থেকে চ্যায়ারম্যান সাহেব তাকে দেখে কাছে গেলো। একা একা দেখে সুরুজ মিঞা নবনীর সাথে হাটতে লাগলো। তারা হাটতে হাটতে একটি পুরনো বটগাছের শেকড়ের ভিতরে ঢুকে পড়লো। সুরুজ মিঞার ভয় হচ্ছে। তিনি বার বার নবনীকে ফিরে যেতে বলল। সুরুজ মিঞা, ‘আমার বয়স আম্মা পঞ্চাশের উপরে–বলতে গেলে দিন শেষ। এই আমিই সন্ধার পর একা বের হইনা।’
‘কেন বার হন না? ভূতের ভয়?’
‘মানুষের চেয়ে বড় ভূত আর নেই। মনুষ হইল সবচেয়ে বড় ভূত। দুইবার আমারে মারার চেষ্টা করছে। একবার বেড়া ভাইঙ্গা ঘরে ঢুইকা দাও দিয়া কোপ দিলো। সেই বছরেই পাকা দালান দিলাম। আরেকবার সইন্ধ্যাকালল…’ নবনী বলল, ‘থাক, আর শুনতে চাচ্ছি না। চলুন ফিরে যাই।’
এরপর...
এই শীতে জামিল সাহেব তার পরিবার নিয়ে শহুরের বাইরে অজপাড়াগাঁয়ে একটি বাংলোতে বেড়াতে এসেছেন। বাংলোর দেখাশেনার দায়িত্বে আছেন এই এলাকার চ্যায়ারম্যান সাহেব। সুরুজ মিঞা। তিনি পনেরো বছর যাবত এই এলাকার চ্যায়ারম্যান। সুরুজ মিয়া নিজেকে অনেক বুদ্ধিমান মনে করেন। বুদ্ধিমান না হলে কি একটানা পনেরো বছর কেউ চ্যায়ারম্যান থাকতে পারে নাকি। কিন্তু সুরুজ মিঞার এই ভুল ধারণা ভেঙে যায় এক বিকেলে নবনী আম্মার সাথে হাটতে বের হয়ে। সুরুজ মিঞা মন্ত্রী সাহেবের বড় মেয়েকে আম্মা বলে সম্বোধন করেন। বলেন তিনি নবনী ও শ্রাবণী আম্মার বুড়ো ছেলে। তিনি পুরো বাংলোতে মন্ত্রী সাহেবের পরিবারের দেখাশোনা নিয়ে খুবই ব্যস্ত। বিশেষ করে নবনী ও শ্রাবণী কে নিয়ে। নবনী ও শ্রাবণী দুজন ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ। একজন খুবই চঞ্চল আরেকজন একটু ঘরকুনো স্বভাবের। যে অবসরে বেড়াতে এসেও ডাকবাংলোর এক রুমে সারাদিন বই নিয়ে পড়ে থাকে। গল্পের বই। নবনীর ধারণা গল্পের বই পড়তে পড়তে শ্রাবণীর মাথা একপ্রকার খারাপ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
নবনী, ‘আম্মা তুমি খেয়াল করেছো? শ্রাবণী দিন দিন মিথ্যা কথা বেশি বলা শুরু করেছে।’ শ্রাবণী আমাকে বলল এই বাংলোর কোনো এক জঙ্গলে নাকি এক ইংরেজের স্ত্রীর কবর আছে। কিন্তু চ্যায়ারম্যান চাচাকে বলে জানতে পারলাম এরকম কোনো কবরের হদিস এই এলাকাতে নেই। শ্রাবণী শাহেদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলে পা মচকিয়ে বসে আছে। পা অনেকটা ফুলে গেছে। আম্মা তা নিয়ে খুবই ভয়ে আছে। না জানি পা ভেঙে গেছে কিনা। তারচেয়েও ভয়ে আছে শাহেদ। তার মনে হচ্ছে সে নিজেই র্যাকেট দিয়ে শ্রাবণীর পা ভেঙে ফেলেছে। শাহেদ, আমাদের বাংলোতে বেড়াতে এসেছে দুদিন হলো। ওর সাথে নবনীর বিয়ের কথা চলছে।
নবনী সন্ধ্যার একটু আগে হাটতে বেড় হলো গ্রামের ভিতর। দূর থেকে চ্যায়ারম্যান সাহেব তাকে দেখে কাছে গেলো। একা একা দেখে সুরুজ মিঞা নবনীর সাথে হাটতে লাগলো। তারা হাটতে হাটতে একটি পুরনো বটগাছের শেকড়ের ভিতরে ঢুকে পড়লো। সুরুজ মিঞার ভয় হচ্ছে। তিনি বার বার নবনীকে ফিরে যেতে বলল। সুরুজ মিঞা, ‘আমার বয়স আম্মা পঞ্চাশের উপরে–বলতে গেলে দিন শেষ। এই আমিই সন্ধার পর একা বের হইনা।’
‘কেন বার হন না? ভূতের ভয়?’
‘মানুষের চেয়ে বড় ভূত আর নেই। মনুষ হইল সবচেয়ে বড় ভূত। দুইবার আমারে মারার চেষ্টা করছে। একবার বেড়া ভাইঙ্গা ঘরে ঢুইকা দাও দিয়া কোপ দিলো। সেই বছরেই পাকা দালান দিলাম। আরেকবার সইন্ধ্যাকালল…’ নবনী বলল, ‘থাক, আর শুনতে চাচ্ছি না। চলুন ফিরে যাই।’
এরপর...
This entire review has been hidden because of spoilers.
September 1, 2024
ইদানীং আমার মাঝে একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে, দীর্ঘ দিন একটানা হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ার কারণে ওনার কিছু কিছু বিষয়ে আমার বিতৃষ্ণা এসে গেছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে, তার উপন্যাসের মেয়ে চরিত্রের অতিরঞ্জিত উপস্থাপন। অতিসুন্দরী, অতি রমনী সবকিছুতেই অতি অতি৷ স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে এক স্তর উপরের শ্রেণি এরা। আর এসব ক্যারেক্টারের ন্যাকামি, উফফ! আর উপন্যাসের ছেলে ক্যারেক্টারের হাবাগোবা স্বভাব।
আমার মতে, হুমায়ূন আহমেদের, আঞ্চলিক, পরিবারের দারিদ্র্যতা ভিওিক উপন্যাস গুলা, যেমন অচিনপুর, শঙ্খনীল কারাগার এমন উপন্যাস গুলা পড়ে ভিন্ন স্বাদ লাগে। পড়া শেষে মনে হয়, উফ, দারুণ একটা সময় কাটল বইয়ের সাথে। কোন অতিরঞ্জিত উপস্থাপন নাই সব সাদাসিধা। আর অন্য দিকে কিছু উপন্যাস পড়তে লাগলে ফেকনেসটা এমন ভাবে চোখে বাঁধতে থাকে যা একসময় খুব বিরক্তি ধরিয়ে দেয়।
যদিও এই উপন্যাসটার উপসংহারটা ভালই ছিল। দুই বোনের মাঝের ভালোবাসাটা ভাল লেগেছে। কিন্তু শুধু এর ইন্ডিংটা দিয়ে সমগ্র উপন্যাসকে জাস্টিফাই করা যায় না।
আমার কাছে আহামরি লাগে নাই এই উপন্যাসটা।
আমার মতে, হুমায়ূন আহমেদের, আঞ্চলিক, পরিবারের দারিদ্র্যতা ভিওিক উপন্যাস গুলা, যেমন অচিনপুর, শঙ্খনীল কারাগার এমন উপন্যাস গুলা পড়ে ভিন্ন স্বাদ লাগে। পড়া শেষে মনে হয়, উফ, দারুণ একটা সময় কাটল বইয়ের সাথে। কোন অতিরঞ্জিত উপস্থাপন নাই সব সাদাসিধা। আর অন্য দিকে কিছু উপন্যাস পড়তে লাগলে ফেকনেসটা এমন ভাবে চোখে বাঁধতে থাকে যা একসময় খুব বিরক্তি ধরিয়ে দেয়।
যদিও এই উপন্যাসটার উপসংহারটা ভালই ছিল। দুই বোনের মাঝের ভালোবাসাটা ভাল লেগেছে। কিন্তু শুধু এর ইন্ডিংটা দিয়ে সমগ্র উপন্যাসকে জাস্টিফাই করা যায় না।
আমার কাছে আহামরি লাগে নাই এই উপন্যাসটা।
August 18, 2024
বইটি পড়ার সময় একটা জিনিসই মাথায় বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল - "জামিল সাহেব জনগণের কত টাকা মারছে?"
After the recent scandal, every time I see a minister, that's all I can think about
After the recent scandal, every time I see a minister, that's all I can think about
November 22, 2020
স্কুল জীবনে হুমায়ূন আহমেদের শখানেক বইয়ে ঘর ভর্তি থাকতো। আম্মা খুব বকতো, স্কুলের পড়া রেখে এসব কী? তখন আমরা তিন ভাইই পাল্লা দিয়ে উনার বই পড়তাম। এখনো মনে আছে হুমায়ূন আহমেদের কেউ সমালোচনা করলে কতটা ক্ষীপ্ত হতাম তিনজনেই। ফ্যান্ডম বোধহয় একেই বলে। অপরজন যৌক্তিক বললো কি না তা বোঝার দরকার নেই, নিজের কথা দিয়ে তার গলা চেপে ধরো। এই উন্মাদ ভালোবাসা সবার কপালে জোটে না...যাদের জোটে তারা অনেক ভাগ্যবান হয়...
প্রায় সব বইই পড়া আছে। কিন্তু কাহিনী মনে আছে খুব কম বইয়েরই। শৈশব ঘুরে আসার তাগিদে আবার পড়ছি। সেদিন পড়লাম বৃষ্টিবিলাস। আজ এটা।
শৈশবের সেই আবেগ এখন কাজ করে না। আগে যা পড়ে চোখ ভিজে যেত, এখন আর তেমন হয় না। ত্রিশ প্রকৃত অর্থেই সারল্যের পর্দাটা ছিড়ে ওপাশের জগতে যাওয়ার বয়স।
কাহিনী খুবই সরল। এক মন্ত্রী আর তার পরিবার ছুটি কাটাতে আসে কোনো এক অরণ্য আর নদীঘেরা বাংলোয়। প্রটাগনিস্ট নবনী সোজা, সরল, অসম্ভব রূপবতী একটি মেয়ে। শাহেদ, যার সাথে তার বিয়ের কথা, সে তাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য সেখানে চলে আসে। এরপর কিছু উপলব্ধি এবং সত্যের উন্মোচন।
আমি বিশ্বাস করি, যে বই একবার ভালো বলেছি, তা পুনঃপাঠে তুলনামূলক খারাপ লাগলে মতামত পরিবর্তন করাটা হাস্যকর। কারণ সবকিছুরই একটা বয়স থাকে। কোনো বই সম্পর্কে আমি যখন ভালো বা মন্দ বলবো, তখন প্রথম পাঠাভিজ্ঞতার বিবেচনাতেই বলবো (যদিনা অতীতের থেকে বর্তমানে বেশি ভালো লেগে থাকে)। পনেরো বছর আগে যে কানি ডাইনির গল্প আমাকে অসাধারণ অনুভূতি দিয়েছিলো, এ বয়সে তা দেবে না। তাই যেটা পড়ে একবার বলে ফেলেছি ভালো, সেটা পরেরবার আগের মত ভালো না লাগলেও আমি বলবো, গল্পটি ভালো ছিলো। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও তাই বলবো। বইটি ভালো ছিলো।
তবে একটা ব্যাপার। এটা সেই বয়সে চোখে পড়েনি। উনার প্রায় গল্পেই নায়িকার বেশি বোঝা পাকনা ইয়ং এডাল্ট বোন থাকে কেন? আমার বালপাকনা ইয়ং এডাল্ট একদমই ভালো লাগে না। থাপড়ে দুধের দাত ফেলে দিতে ইচ্ছা হয়। এই কারণেই বোধহয় বইতে আমার সবচেয়ে অপছন্দের চরিত্র শ্রাবণী। যদিও তার উদ্দেশ্য মহান ছিলো। আর...মন্ত্রীকে কখনোই খারাপ লোক মনে হয়নি। এরপরেও...
প্রায় সব বইই পড়া আছে। কিন্তু কাহিনী মনে আছে খুব কম বইয়েরই। শৈশব ঘুরে আসার তাগিদে আবার পড়ছি। সেদিন পড়লাম বৃষ্টিবিলাস। আজ এটা।
শৈশবের সেই আবেগ এখন কাজ করে না। আগে যা পড়ে চোখ ভিজে যেত, এখন আর তেমন হয় না। ত্রিশ প্রকৃত অর্থেই সারল্যের পর্দাটা ছিড়ে ওপাশের জগতে যাওয়ার বয়স।
কাহিনী খুবই সরল। এক মন্ত্রী আর তার পরিবার ছুটি কাটাতে আসে কোনো এক অরণ্য আর নদীঘেরা বাংলোয়। প্রটাগনিস্ট নবনী সোজা, সরল, অসম্ভব রূপবতী একটি মেয়ে। শাহেদ, যার সাথে তার বিয়ের কথা, সে তাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য সেখানে চলে আসে। এরপর কিছু উপলব্ধি এবং সত্যের উন্মোচন।
আমি বিশ্বাস করি, যে বই একবার ভালো বলেছি, তা পুনঃপাঠে তুলনামূলক খারাপ লাগলে মতামত পরিবর্তন করাটা হাস্যকর। কারণ সবকিছুরই একটা বয়স থাকে। কোনো বই সম্পর্কে আমি যখন ভালো বা মন্দ বলবো, তখন প্রথম পাঠাভিজ্ঞতার বিবেচনাতেই বলবো (যদিনা অতীতের থেকে বর্তমানে বেশি ভালো লেগে থাকে)। পনেরো বছর আগে যে কানি ডাইনির গল্প আমাকে অসাধারণ অনুভূতি দিয়েছিলো, এ বয়সে তা দেবে না। তাই যেটা পড়ে একবার বলে ফেলেছি ভালো, সেটা পরেরবার আগের মত ভালো না লাগলেও আমি বলবো, গল্পটি ভালো ছিলো। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও তাই বলবো। বইটি ভালো ছিলো।
তবে একটা ব্যাপার। এটা সেই বয়সে চোখে পড়েনি। উনার প্রায় গল্পেই নায়িকার বেশি বোঝা পাকনা ইয়ং এডাল্ট বোন থাকে কেন? আমার বালপাকনা ইয়ং এডাল্ট একদমই ভালো লাগে না। থাপড়ে দুধের দাত ফেলে দিতে ইচ্ছা হয়। এই কারণেই বোধহয় বইতে আমার সবচেয়ে অপছন্দের চরিত্র শ্রাবণী। যদিও তার উদ্দেশ্য মহান ছিলো। আর...মন্ত্রীকে কখনোই খারাপ লোক মনে হয়নি। এরপরেও...
June 4, 2022
দূর কোনো এক গ্রামের এক ডাকবাংলোতে শহরের প্রভাবশালী এক মন্ত্রী পরিবারের বেড়াতে যাওয়ার কাহিনী নিয়ে লেখা হয়েছে বইটিতে। বইপড়ুয়া দুরন্ত বুদ্ধিমতী ছোট মেয়ে শ্রাবণী, সর্বক্ষণ শান্তশিষ্ট থাকা বড় মেয়ে নবনী এবং রান্নাঘরকে নিজের সবকিছু বানিয়ে ফেলা এক স্ত্রীকে নিয়ে বন এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী জামিল চৌধুরী পরিবার। বাংলোতে তাদের দেখাশোনার জন্য ছিল ওই গ্রামে পনেরো বছর যাবৎ চেয়ারম্যানী করা এবং নিজেকে অসম্ভব বুদ্ধির অধিকারী মনে করা সুরুজ মিয়া।
গল্পের শেষে নবনীকে বিয়ে করতে চাওয়া শাহেদ কিংবা মন্ত্রী জামিল চৌধুরীর আসল পরিচয় খুঁজে পাওয়া গেলেও শুরুতেই মনে জোৎস্নার প্রতি মোহ লাগিয়ে দেয়া কলেজ শিক্ষক মহিউদ্দিনকে গল্পে আর খুঁজে না পাওয়ায় আশাহত। তবে বইটি খুবই সাবলীলভাবে এগিয়ে গিয়েছে। এককথায় লেখক একবসায় বইটি শেষ করতে বাধ্য করেছে।
বইয়ের নামটায় কিন্তু একটা রবীন্দ্রসঙ্গীতও আছে,
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে
তখন ছিলেম বহুদূরে কিসের অন্বেষণে।।
গত শীতে আমাকেও একজন দিয়েছিল নিমন্ত্রণ, গিয়ে কাটাতে সর্বোত্তরে কিছু অপূর্ব ক্ষণ, মোর মনে ছিল তখন অন্য কিছুর অন্বেষণ, সেই দূরত্ব এখন গেছে বেড়ে না জানি আবার কবে হবে পুনর্মিলন।
তার থেকেই বইটা সম্পর্কে জানা, তারপর বইটা পড়া এবং পরবর্তীতে প্রতিমুহূর্তে তাকে খুঁজে বের করা। বিষয়টা অদ্ভুত রকমের সুন্দর। দুই বন্ধুর শারীরিক দূরত্ব এখন চারশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার মাত্র কিন্তু মানসিক দূরত্ব বেড়ে চার হাজার কিলোতে পৌঁছেছে।
বইটির এরকম সুন্দর উপসংহার এর মত সকল বন্ধুদের মনোমালিন্যের সুন্দর সমাপ্তি যাতে ঘটে সেটাই কাম্য।
বইয়ের নামঃ তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশকঃ এ কে নাসির আহমেদ সেলিম; কাকলী প্রকাশনী
প্রচ্ছদঃ সুখেন দাস
পৃষ্ঠাঃ ৮০
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৬০ টাকা মাত্র
গল্পের শেষে নবনীকে বিয়ে করতে চাওয়া শাহেদ কিংবা মন্ত্রী জামিল চৌধুরীর আসল পরিচয় খুঁজে পাওয়া গেলেও শুরুতেই মনে জোৎস্নার প্রতি মোহ লাগিয়ে দেয়া কলেজ শিক্ষক মহিউদ্দিনকে গল্পে আর খুঁজে না পাওয়ায় আশাহত। তবে বইটি খুবই সাবলীলভাবে এগিয়ে গিয়েছে। এককথায় লেখক একবসায় বইটি শেষ করতে বাধ্য করেছে।
বইয়ের নামটায় কিন্তু একটা রবীন্দ্রসঙ্গীতও আছে,
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে
তখন ছিলেম বহুদূরে কিসের অন্বেষণে।।
গত শীতে আমাকেও একজন দিয়েছিল নিমন্ত্রণ, গিয়ে কাটাতে সর্বোত্তরে কিছু অপূর্ব ক্ষণ, মোর মনে ছিল তখন অন্য কিছুর অন্বেষণ, সেই দূরত্ব এখন গেছে বেড়ে না জানি আবার কবে হবে পুনর্মিলন।
তার থেকেই বইটা সম্পর্কে জানা, তারপর বইটা পড়া এবং পরবর্তীতে প্রতিমুহূর্তে তাকে খুঁজে বের করা। বিষয়টা অদ্ভুত রকমের সুন্দর। দুই বন্ধুর শারীরিক দূরত্ব এখন চারশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার মাত্র কিন্তু মানসিক দূরত্ব বেড়ে চার হাজার কিলোতে পৌঁছেছে।
বইটির এরকম সুন্দর উপসংহার এর মত সকল বন্ধুদের মনোমালিন্যের সুন্দর সমাপ্তি যাতে ঘটে সেটাই কাম্য।
বইয়ের নামঃ তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশকঃ এ কে নাসির আহমেদ সেলিম; কাকলী প্রকাশনী
প্রচ্ছদঃ সুখেন দাস
পৃষ্ঠাঃ ৮০
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৬০ টাকা মাত্র
February 23, 2015
ভুল করে এই উপন্যস এর ২ কপি ক্রয় করছি :: হা হা হা ::
February 2, 2022
ভালো লাগেনি। পুরোই বিরক্তিকর।
শুধু শুধু সময় নষ্ট করলাম।
বইয়ের নাম,প্রচ্ছদের জন্য দুই তারা দিলাম।
না হলে ৫ এ ১ দিতাম
শুধু শুধু সময় নষ্ট করলাম।
বইয়ের নাম,প্রচ্ছদের জন্য দুই তারা দিলাম।
না হলে ৫ এ ১ দিতাম
July 26, 2024
শাহেদ কি আদতেও নবনীকে সত্যিই ভালোবাসতো?
নাকি এটা এক প্রকার সাময়িক মায়া, যা কেটে গিয়ে আকর্ষণ চলে গেলো শ্রাবণীর দিকে!
নাকি এটা এক প্রকার সাময়িক মায়া, যা কেটে গিয়ে আকর্ষণ চলে গেলো শ্রাবণীর দিকে!
June 26, 2025
দীর্ঘদিন, আকাশের দিকে তাকালে নক্ষত্র চেনা যায়।
কিন্তু বহুবছর ধরে মার্বেল আকৃতির দুইটা চোখের দিকে তাকাবার পরও মানুষ চেনা যায় না।
নবনী তার পরিবারের সাথে কিছুদিনের জন্য বেড়াতে এসেছে গ্রামে। একটি ছোট্ট গ্রাম সুন্দর ছিমছাম, সেই গ্রামে বিশালাকার প্রাচীন বটগাছ; এই বটগাছটা নবনীর খুব প্রিয়। সে সুযোগ পেলেই এখানে চলে আসে, আপন মনে কথা বলে গাছের সঙ্গে। সেখানে নবনীর সাথে দেখা হয় একজন কলেজ শিক্ষক মবিনউদ্দিনের সঙ্গে, সে নবনীকে বটগাছের ছায়ায় বসে রাতে জোছনা দেখার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলো। অচেনা একটা মেয়েকে এভাবে রাতে জোছনা দেখার কথা বলার ফলে নবনীর মনে হয়েছে লোকটা পাগল। পরে নবনীর মনে হয়েছিল জোছনা দেখতে গেলে মন্দ হতো না। সেদিনের কলেজ মাস্টারের জোছনা দেখার নিমন্ত্রণ কেন টানে নবনীকে ? তাঁর যাওয়া উচিত ছিলো মবিন উদ্দিনের নিমন্ত্রণে সারা দিয়ে? শেষে কি নবনী মুবিন উদ্দিনের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলো?
নবনীর বাবা বন ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জামিল চৌধুরী। বাবা হিসেবে চমৎকার একজন মানুষ হলেও স্বামীর ভূমিকায় তার অবস্থান আদর্শ নয়। নবনীর মা জাহানারার জীবনটা রান্নাঘরেই কেটে গেল। শুচিবায়ুগ্রস্ত এই নারী স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখী হতে পারেন নি, চাপা দিয়ে রেখেছেন কিছু নিজস্ব বেদনা, আর অপেক্ষায় আছেন সঠিক সময়ের। শ্রাবনী, যার দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বই পড়ে। অসাধারণ বুদ্ধিমতী এই তরুনী তার বোনকে প্রচন্ড রকমের ভালবাসে। তাই তাকে বড় আঘাত থেকে রক্ষা করতে অপেক্ষাকৃত ছোট আঘাত দিতে পিছপা হয়না। নবনীরা গ্রামে আসার কয়েকদিনের মাঝেই এসে হাজির হয় শাহেদ। রাজপুত্রের মত দেখতে এই যুবকের সাথে নবনীর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। তারা পরষ্পরকে ভালোবাসে, কিন্তু মাঝে মাঝে একটা আড়ষ্টতা নবনীকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
"তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে" বইটা খুবই সাদামাটা ভাবে শুরু হয়েছে। সাধারণ একটা ঘটনার মাধ্যমে গল্পের শুরু। কিন্তু আমরা সবাই জানি হুমায়ুন আহমেদ মানেই সাধারণকে অসাধারণ করে তোলা। নবনী, শাহেদ,শ্রাবণী, জামিল চৌধুরী এবং তার স্ত্রী সবার জীবনের নানা রকম ঘটনা দিয়ে গল্প এগিয়েছে। নবনীর প্রতি শাহেদের ভালোবাসাতে খাদ ছিলো তার কথা বলা শুনেই বুঝতে পেরেছিলাম তবে শেষে শ্রাবণীর কান্ড দেখে রীতিমত অবাক হয়েছি। আমরা আসলে সারাজীবন একটা মানুষের সাথে বাস করেও মানুষ চিনতে পারি না। নবনীও পারেনি শাহেদকে চিনতে। মানুষের মুখে এক এবং মনে আরেক রকম চিন্তা থাকে যা প্রকাশ না পেলো জানা সম্ভব নয়। নবনী সেই সত্যি জানতে পেরেছিলো শ্রাবণীর সহযোগিতায়। নবনী সুন্দরী হলেও শ্রাবণীর মতো বুদ্ধীমতী নয়,যার ফলে ভালোবাসার কাছেও হেরে যেতে হয়েছে তাকে। বইয়ের শেষে আমার শ্রাবণীর উপর প্রচুর রাগ লেগেছে আবারও ভালেও গেলেছে নবনীকে সারা জীবনের কষ্ট থেকে মুক্ত করার জন্য। সারাজীবনের কষ্ট থেকে কয়েকদিনের কষ্ট সর্বদা উত্তর তার জলজ্যান্ত প্রমাণ "তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে" বইটি।
বইটিতে শুধু নবনী এবং শ্রাবণীর কাহিনী আছে এমন তাদের বাবা মায়ের জীবনের অনেক বড় সত্য শেষে পাঠক জানতে পারবে এবং জানার পর অবাকই হবে। মুখশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালো মানুষ আমাদের সমাজের আনাচে-কানাচেতে রয়েছে তার উদাহরণ জামিল চৌধুরী। কী সেই সত্যি? জানতে হলে বইটি অবশ্যই পড়তে হবে।
জীবনসঙ্গী হিসেবে ভুল মানুষকে বেছে নেয়ার শাস্তি সারা জীবনই বয়ে বেড়াতে হয়। কখনো কখনো বড়ো ধরনের আঘাত পাওয়ার চেয়ে, ছোট ছোট আঘাত থেকে শিক্ষা নেওয়াই শ্রেয়।এমন সব বার্তা দিয়েই সমাপ্তি ঘটেছে উপন্যাসের।
বই: তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশনী: কাকলী প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্য: ১৬০ টাকা
ছবি : সংগৃহীত
রেটিং: ৩.৪/৫
কিন্তু বহুবছর ধরে মার্বেল আকৃতির দুইটা চোখের দিকে তাকাবার পরও মানুষ চেনা যায় না।
নবনী তার পরিবারের সাথে কিছুদিনের জন্য বেড়াতে এসেছে গ্রামে। একটি ছোট্ট গ্রাম সুন্দর ছিমছাম, সেই গ্রামে বিশালাকার প্রাচীন বটগাছ; এই বটগাছটা নবনীর খুব প্রিয়। সে সুযোগ পেলেই এখানে চলে আসে, আপন মনে কথা বলে গাছের সঙ্গে। সেখানে নবনীর সাথে দেখা হয় একজন কলেজ শিক্ষক মবিনউদ্দিনের সঙ্গে, সে নবনীকে বটগাছের ছায়ায় বসে রাতে জোছনা দেখার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলো। অচেনা একটা মেয়েকে এভাবে রাতে জোছনা দেখার কথা বলার ফলে নবনীর মনে হয়েছে লোকটা পাগল। পরে নবনীর মনে হয়েছিল জোছনা দেখতে গেলে মন্দ হতো না। সেদিনের কলেজ মাস্টারের জোছনা দেখার নিমন্ত্রণ কেন টানে নবনীকে ? তাঁর যাওয়া উচিত ছিলো মবিন উদ্দিনের নিমন্ত্রণে সারা দিয়ে? শেষে কি নবনী মুবিন উদ্দিনের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলো?
নবনীর বাবা বন ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জামিল চৌধুরী। বাবা হিসেবে চমৎকার একজন মানুষ হলেও স্বামীর ভূমিকায় তার অবস্থান আদর্শ নয়। নবনীর মা জাহানারার জীবনটা রান্নাঘরেই কেটে গেল। শুচিবায়ুগ্রস্ত এই নারী স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখী হতে পারেন নি, চাপা দিয়ে রেখেছেন কিছু নিজস্ব বেদনা, আর অপেক্ষায় আছেন সঠিক সময়ের। শ্রাবনী, যার দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বই পড়ে। অসাধারণ বুদ্ধিমতী এই তরুনী তার বোনকে প্রচন্ড রকমের ভালবাসে। তাই তাকে বড় আঘাত থেকে রক্ষা করতে অপেক্ষাকৃত ছোট আঘাত দিতে পিছপা হয়না। নবনীরা গ্রামে আসার কয়েকদিনের মাঝেই এসে হাজির হয় শাহেদ। রাজপুত্রের মত দেখতে এই যুবকের সাথে নবনীর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। তারা পরষ্পরকে ভালোবাসে, কিন্তু মাঝে মাঝে একটা আড়ষ্টতা নবনীকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
"তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে" বইটা খুবই সাদামাটা ভাবে শুরু হয়েছে। সাধারণ একটা ঘটনার মাধ্যমে গল্পের শুরু। কিন্তু আমরা সবাই জানি হুমায়ুন আহমেদ মানেই সাধারণকে অসাধারণ করে তোলা। নবনী, শাহেদ,শ্রাবণী, জামিল চৌধুরী এবং তার স্ত্রী সবার জীবনের নানা রকম ঘটনা দিয়ে গল্প এগিয়েছে। নবনীর প্রতি শাহেদের ভালোবাসাতে খাদ ছিলো তার কথা বলা শুনেই বুঝতে পেরেছিলাম তবে শেষে শ্রাবণীর কান্ড দেখে রীতিমত অবাক হয়েছি। আমরা আসলে সারাজীবন একটা মানুষের সাথে বাস করেও মানুষ চিনতে পারি না। নবনীও পারেনি শাহেদকে চিনতে। মানুষের মুখে এক এবং মনে আরেক রকম চিন্তা থাকে যা প্রকাশ না পেলো জানা সম্ভব নয়। নবনী সেই সত্যি জানতে পেরেছিলো শ্রাবণীর সহযোগিতায়। নবনী সুন্দরী হলেও শ্রাবণীর মতো বুদ্ধীমতী নয়,যার ফলে ভালোবাসার কাছেও হেরে যেতে হয়েছে তাকে। বইয়ের শেষে আমার শ্রাবণীর উপর প্রচুর রাগ লেগেছে আবারও ভালেও গেলেছে নবনীকে সারা জীবনের কষ্ট থেকে মুক্ত করার জন্য। সারাজীবনের কষ্ট থেকে কয়েকদিনের কষ্ট সর্বদা উত্তর তার জলজ্যান্ত প্রমাণ "তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে" বইটি।
বইটিতে শুধু নবনী এবং শ্রাবণীর কাহিনী আছে এমন তাদের বাবা মায়ের জীবনের অনেক বড় সত্য শেষে পাঠক জানতে পারবে এবং জানার পর অবাকই হবে। মুখশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালো মানুষ আমাদের সমাজের আনাচে-কানাচেতে রয়েছে তার উদাহরণ জামিল চৌধুরী। কী সেই সত্যি? জানতে হলে বইটি অবশ্যই পড়তে হবে।
জীবনসঙ্গী হিসেবে ভুল মানুষকে বেছে নেয়ার শাস্তি সারা জীবনই বয়ে বেড়াতে হয়। কখনো কখনো বড়ো ধরনের আঘাত পাওয়ার চেয়ে, ছোট ছোট আঘাত থেকে শিক্ষা নেওয়াই শ্রেয়।এমন সব বার্তা দিয়েই সমাপ্তি ঘটেছে উপন্যাসের।
বই: তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশনী: কাকলী প্রকাশনী
মুদ্রিত মূল্য: ১৬০ টাকা
ছবি : সংগৃহীত
রেটিং: ৩.৪/৫
September 9, 2026
অস্বাভাবিক সুন্দরী রমনী নবনী সাথে তার বোন শ্রাবণী। তাদের বাবা বন ও খনিজসম্পদ বিভাগের মন্ত্রী।নবনীর সাথে শাহেদ নামক যুবকের বিয়ে মোটামোটি ঠিকঠাক।পরিবারের সবাই এবং শাহেদ আসে এক ডাকবাংলোয় ছুটি কাটাতে, এই সময়টাই তুলে ধরা হয়েছে।আচ্ছা হুমায়ূন আহমেদ খুব সুন্দরী রমনী না এমন কাউকে প্রোটাগনিস্ট বানান নি!
গতকাল পড়েছি জয়জয়ন্তী, এই বইটা আমার জয়জয়ন্তীর থেকেও ভালো লেগেছে (তাই ৩.৫/৫)।বইটি ভালোলাগার একমাত্র কারণ দুই বোন,নবনী এবং শ্রাবণী।পছন্দের চরিত্রে শ্রাবণী এগিয়ে থাকবে তবে কিছু জায়গায় নবনী চরিত্রের উপর মুগ্ধ হয়েছি,যেমন পাখি শিকারে যাওয়ার আগে নবনী যেভাবে নিজেকে সামলে নিল।তাদের মায়ের চরিত্রটাও বেশ ভালো লেগেছে।আর শেষটা ছিল দারুণ এই বইয়ের জন্য এর চেয়ে সুন্দর সমাপ্তি হতে পারেনা।
বই থেকে-
"এ জগতে কিছুই নষ্ট হয় না। এক সময় না এক সময় কাজে লাগে"
"মানুষের চেয়ে বড়ো ভূত আর কিছু নাই। মানুষ হইল সবচেয়ে বড়ো ভূত।"
"আসল দৃশ্যের চেয়ে নকল দৃশ্য সব সময় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং হয়।"
"কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের সত্যি কথা মিথ্যার মতো মনে হয়।"
"ছুটি কাটানোর ব্যাপারে আমরা এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি। ছুটি ব্যাপারটা বাঙালি কালচারে নেই। আমাদের ছুটি মানে মামার বাড়িতে গিয়ে কিছুদিন থেকে আসা। তার ফলে এই হয়েছে যে সত্যিকার অর্থে ছুটি কাটানো বিষয়টা আমরা জানি না।"
" আমরা বেশির ভাগ সময়ই জানি না আমরা কী চাই। যেটা চাই বলে মনে হয়-আসলে সেটা চাই না।"
"তুমি নিজেও তা জানো। এই কারণে তুমি নিজেও নিজের কাছে ছোটো হয়ে থাকো। সংকুচিত হয়ে থাকো"
"তোমার উচিত ছিল ভিক্টোরিয়ান যুগে জন্মানো। তুমি ভুল সময়ে জন্মেছ।"
"আমাকে কেউ অসুখী করতে পারবে না। আমাকে অসুখী করা খুব কঠিন। তুমি আমার মতো না। তোমাকে এক সেকেন্ডে অসুখী করা যায়।"
"গ্রামে এলেই দেখবেন সময় স্লো হয়ে যায়। এক ধরনের টাইম ডাইলেশন হয়।"
"এই পৃথিবীতে তোমার চেয়ে বেশি আমি কাউকে পছন্দ করি না। তুমি যে কত ভালো একটা মেয়ে তা শুধু আমি জানি। আর কেউ জানে না। কেউ কোনোদিন জানবেও না।
'আমি তোমার জন্যে অসম্ভব সুন্দর একটা জীবন চাই। এমন সুন্দর জীবন, যা শুধু গল্পে উপন্যাসে পাওয়া যায়।" (when i read this someone's voice echoed in my mind,she said almost same thing a few days age. ... This was so relatable and also so close to my heart)
("বনের ছায়া মনের সাথি, বাসনা নাহি কিছু পথের ধারে আসন পাতি, না চাহি ফিরে পিছু।")
গতকাল পড়েছি জয়জয়ন্তী, এই বইটা আমার জয়জয়ন্তীর থেকেও ভালো লেগেছে (তাই ৩.৫/৫)।বইটি ভালোলাগার একমাত্র কারণ দুই বোন,নবনী এবং শ্রাবণী।পছন্দের চরিত্রে শ্রাবণী এগিয়ে থাকবে তবে কিছু জায়গায় নবনী চরিত্রের উপর মুগ্ধ হয়েছি,যেমন পাখি শিকারে যাওয়ার আগে নবনী যেভাবে নিজেকে সামলে নিল।তাদের মায়ের চরিত্রটাও বেশ ভালো লেগেছে।আর শেষটা ছিল দারুণ এই বইয়ের জন্য এর চেয়ে সুন্দর সমাপ্তি হতে পারেনা।
বই থেকে-
"এ জগতে কিছুই নষ্ট হয় না। এক সময় না এক সময় কাজে লাগে"
"মানুষের চেয়ে বড়ো ভূত আর কিছু নাই। মানুষ হইল সবচেয়ে বড়ো ভূত।"
"আসল দৃশ্যের চেয়ে নকল দৃশ্য সব সময় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং হয়।"
"কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের সত্যি কথা মিথ্যার মতো মনে হয়।"
"ছুটি কাটানোর ব্যাপারে আমরা এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি। ছুটি ব্যাপারটা বাঙালি কালচারে নেই। আমাদের ছুটি মানে মামার বাড়িতে গিয়ে কিছুদিন থেকে আসা। তার ফলে এই হয়েছে যে সত্যিকার অর্থে ছুটি কাটানো বিষয়টা আমরা জানি না।"
" আমরা বেশির ভাগ সময়ই জানি না আমরা কী চাই। যেটা চাই বলে মনে হয়-আসলে সেটা চাই না।"
"তুমি নিজেও তা জানো। এই কারণে তুমি নিজেও নিজের কাছে ছোটো হয়ে থাকো। সংকুচিত হয়ে থাকো"
"তোমার উচিত ছিল ভিক্টোরিয়ান যুগে জন্মানো। তুমি ভুল সময়ে জন্মেছ।"
"আমাকে কেউ অসুখী করতে পারবে না। আমাকে অসুখী করা খুব কঠিন। তুমি আমার মতো না। তোমাকে এক সেকেন্ডে অসুখী করা যায়।"
"গ্রামে এলেই দেখবেন সময় স্লো হয়ে যায়। এক ধরনের টাইম ডাইলেশন হয়।"
"এই পৃথিবীতে তোমার চেয়ে বেশি আমি কাউকে পছন্দ করি না। তুমি যে কত ভালো একটা মেয়ে তা শুধু আমি জানি। আর কেউ জানে না। কেউ কোনোদিন জানবেও না।
'আমি তোমার জন্যে অসম্ভব সুন্দর একটা জীবন চাই। এমন সুন্দর জীবন, যা শুধু গল্পে উপন্যাসে পাওয়া যায়।" (when i read this someone's voice echoed in my mind,she said almost same thing a few days age. ... This was so relatable and also so close to my heart)
("বনের ছায়া মনের সাথি, বাসনা নাহি কিছু পথের ধারে আসন পাতি, না চাহি ফিরে পিছু।")
December 8, 2023
ভালোবাসায় কোনো দ্বিধা রাখা উচিত নয়। যাকে ভালোবাসতে হবে তাকে মন উজাড় করেই বাসতে হবে। যদি ছোট্ট একটা 'কিন্তু' থাকে, তবে সেই 'কিন্তু'র ক্ষত কালে কালে ক্যান্সার হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। কিছুই করার থাকবেনা। তাই সময়েই সাধন, সময় গেলে সাধন হবেনা। সময় থাকতে সতর্ক হও, জোড়াতালি দিয়ে ভালোবাসা বুনিওনা।
নবনী-শাহেদ ভালোবাসে পরস্পরকে। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও লেখক যেহেতু হুমায়ূন, তাই মনে সন্দেহ থেকেই যায়।
দুজনের চমৎকার এই সম্পর্কে যে একটু 'দ্বিধা' রয়ে গেছে, তা সময়ের সাথে সাথে প্রকট হয়ে উঠে। প্রকট করে তুলে শ্রাবণী, নবনীর ছোটোবোন। সে বইপড়ুয়া, বাস্তববাদী এবং বুদ্ধিমান। নবনীর মতো আবেগী ও চাপা স্বভাবের নয়। শ্রাবণী চোখে আঙুল দিয়ে বোনকে সত্যিটা দেখিয়ে দেয়, দূর করে দেয় ভ্রান্তি। দিনশেষে বটগাছের মতোই বোনকে জড়িয়ে রাখে, যাতে কোনো মালিন্য নবনীকে স্পর্শ করতে না পারে। যাতে নবনীর ভাগ্য তাদের মায়ের মতো না হয়।
হুমায়ূন আহমেদ তাঁর চিরাচরিত ঢঙেই এই বইয়ে মানুষের মনস্তত্ব নিয়ে খেলেছেন। 'মানুষ আসলে কী চায় তা সে নিজেও জানেনা' - এই সত্যকে অবলম্বন করেই লেখা এগিয়েছে। শেষে এসে লেখক বুঝিয়েছেন - যদি মানুষ না ই জানে সে কী চায়, তবে না চাওয়াই ভালো। ভুলজনকে ভালোবেসে জীবন অর্থশূন্য করার প্রয়োজন নেই।
'তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে' - রেটিং ৩/৫। আমার মনে হয়েছে এই দোটানার কনসেপ্ট টা ভালো হলেও কিছুটা কমন। আর শেষদিকে নবনীর নিজ পরিবার থেকে পাওয়া ধাক্কাটা খুব বেশি তাড়াহুড়া করেই লেখা মনে হয়েছে। এই আরকি। হ্যাপি রিডিং।
নবনী-শাহেদ ভালোবাসে পরস্পরকে। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও লেখক যেহেতু হুমায়ূন, তাই মনে সন্দেহ থেকেই যায়।
দুজনের চমৎকার এই সম্পর্কে যে একটু 'দ্বিধা' রয়ে গেছে, তা সময়ের সাথে সাথে প্রকট হয়ে উঠে। প্রকট করে তুলে শ্রাবণী, নবনীর ছোটোবোন। সে বইপড়ুয়া, বাস্তববাদী এবং বুদ্ধিমান। নবনীর মতো আবেগী ও চাপা স্বভাবের নয়। শ্রাবণী চোখে আঙুল দিয়ে বোনকে সত্যিটা দেখিয়ে দেয়, দূর করে দেয় ভ্রান্তি। দিনশেষে বটগাছের মতোই বোনকে জড়িয়ে রাখে, যাতে কোনো মালিন্য নবনীকে স্পর্শ করতে না পারে। যাতে নবনীর ভাগ্য তাদের মায়ের মতো না হয়।
হুমায়ূন আহমেদ তাঁর চিরাচরিত ঢঙেই এই বইয়ে মানুষের মনস্তত্ব নিয়ে খেলেছেন। 'মানুষ আসলে কী চায় তা সে নিজেও জানেনা' - এই সত্যকে অবলম্বন করেই লেখা এগিয়েছে। শেষে এসে লেখক বুঝিয়েছেন - যদি মানুষ না ই জানে সে কী চায়, তবে না চাওয়াই ভালো। ভুলজনকে ভালোবেসে জীবন অর্থশূন্য করার প্রয়োজন নেই।
'তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে' - রেটিং ৩/৫। আমার মনে হয়েছে এই দোটানার কনসেপ্ট টা ভালো হলেও কিছুটা কমন। আর শেষদিকে নবনীর নিজ পরিবার থেকে পাওয়া ধাক্কাটা খুব বেশি তাড়াহুড়া করেই লেখা মনে হয়েছে। এই আরকি। হ্যাপি রিডিং।
July 22, 2023
"তুমি আমার ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে" উপন্যাসটি সম্পর্কে সুন্দর সুন্দর কথা আমি অনেকবার বলেছি। হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টি মনে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে, কিন্তু সে সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। বৃষ্টিকে কেউ কি সারাজীবন ধরে রাখতে পারে? তেমনি তার উপন্যাস পড়লে আমি কখনো মনে রাখতে পারি না! মনে হয় ভুলে যাই, আবার পড়ব। ইনোসুমিয়া, টাইপ রোগ বোধহয় বলে এটাকে। আবার কখনো তো প্রচন্ড ডেজা ভূ হয় সৌন্দর্যের লুপ হলে আটকে যাই নি তো!
আমার আবার প্রচন্ড নেশা হয়ে যায় হুমায়ুনের চরিত্রকে বিশ্লেষণ করার প্রতি। খুঁটিনাটি বের করে তাদের রগ, মস্তিষ্ক ছিঁড়ে বের করে কতটা অবাক করা সৌন্দর্য এতে আছে। মাঝে মাঝে তো নিজেকে গাছ লাগে। আমার কোনো দুঃখ নেি কেন, কেমন স্থির হয়ে গিয়েছি। দুঃখ বোধ হারিয়ে গেলে কেমন ধারার মানুষ আমি আবার!
বইটির কথা বলি একটি পরিবারের ছুটি যাপন করা নিয়ে গল্প সাজানো। মন্ত্রী সাহেব তার পরিবার নিয়ে গ্রামে বেড়াচ্ছেন। তার দুইকন্যা, নবনী আর শ্রাবণী দুনিয়ার সবকিছুতে আশ্চর্য হয়ে পড়ে। নবনী একা একা গাছ দেখে, ঘুরে ফিরে। শ্রাবণী গল্পে খুঁজে বেড়ায় রহস্য। তার আচরণ স্বাভাবিক নয় আবার অস্বাভাবিক কিছু নেই।
তার মা জাহানারা জীবনে শান্তি চোখে দেখেন নি। কারণ তার বুকে বাসা বেঁধে কথা গোপন করে রাখার আশ্চর্য বেদনা। পরিবারের নানা জটিলতা আর সরলতা নিয়ে সাজানো বইটি।
আমার আবার প্রচন্ড নেশা হয়ে যায় হুমায়ুনের চরিত্রকে বিশ্লেষণ করার প্রতি। খুঁটিনাটি বের করে তাদের রগ, মস্তিষ্ক ছিঁড়ে বের করে কতটা অবাক করা সৌন্দর্য এতে আছে। মাঝে মাঝে তো নিজেকে গাছ লাগে। আমার কোনো দুঃখ নেি কেন, কেমন স্থির হয়ে গিয়েছি। দুঃখ বোধ হারিয়ে গেলে কেমন ধারার মানুষ আমি আবার!
বইটির কথা বলি একটি পরিবারের ছুটি যাপন করা নিয়ে গল্প সাজানো। মন্ত্রী সাহেব তার পরিবার নিয়ে গ্রামে বেড়াচ্ছেন। তার দুইকন্যা, নবনী আর শ্রাবণী দুনিয়ার সবকিছুতে আশ্চর্য হয়ে পড়ে। নবনী একা একা গাছ দেখে, ঘুরে ফিরে। শ্রাবণী গল্পে খুঁজে বেড়ায় রহস্য। তার আচরণ স্বাভাবিক নয় আবার অস্বাভাবিক কিছু নেই।
তার মা জাহানারা জীবনে শান্তি চোখে দেখেন নি। কারণ তার বুকে বাসা বেঁধে কথা গোপন করে রাখার আশ্চর্য বেদনা। পরিবারের নানা জটিলতা আর সরলতা নিয়ে সাজানো বইটি।
January 18, 2023
"আমরা বেশিরভাগ সময়ই জানি না আমরা কী চাই। যেটা চাই বলে মনে হয় - আসলে সেটা চাই না।"
অনেকদিন পর হুমায়ন আহমেদের একটা বই পড়লাম। তাও হাতে নিয়েছি বান্ধবীর প্রিয় বই বলে। লেখকের বাকি বই এর তুলনায় এটাতে কিছুটা হলেও সমাপ্তি ছিল, ইংরেজিতে closure যাকে বলে। লেখক বেশির ভাগ বই এ শেষটা পাঠকের নিজস্ব ব্যাখ্যার উপর ছেড়ে দেন। এ বইটা কিছুটা ব্যাতিক্রম হওয়াতে ভালো লেগেছে। এক বসায় পড়ে ফেলার মতো চমৎকার এক বই।
এক মন্ত্রী আর তার পরিবার ছুটি কাটাতে আসে কোনো এক অরণ্য আর নদীঘেরা বাংলোয়। প্রটাগনিস্ট নবনী সহজ, সরল, রূপবতী একটি মেয়ে। শাহেদ, যার সাথে তার বিয়ের কথা, সে তাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য সেখানে চলে আসে। ছোট বোন শ্রাবনী একটু পাগলাটে হলেও বুদ্ধিমতী তবে কিছুটা বিরক্তিকর। গল্পের শেষ হয় আকস্মিক এক সত্যের উন্মোচন দিয়ে।
তবে মবিনউদ্দিন চরিত্রটির আরো ভূমিকা এবং বিকাশ থাকলে ভালো হতো। আশা করেছিলাম এই চরিত্রটির মাধ্যমে প্রোটাগনিস্টের কিছু উপলব্ধি আসবে।
অনেকদিন পর হুমায়ন আহমেদের একটা বই পড়লাম। তাও হাতে নিয়েছি বান্ধবীর প্রিয় বই বলে। লেখকের বাকি বই এর তুলনায় এটাতে কিছুটা হলেও সমাপ্তি ছিল, ইংরেজিতে closure যাকে বলে। লেখক বেশির ভাগ বই এ শেষটা পাঠকের নিজস্ব ব্যাখ্যার উপর ছেড়ে দেন। এ বইটা কিছুটা ব্যাতিক্রম হওয়াতে ভালো লেগেছে। এক বসায় পড়ে ফেলার মতো চমৎকার এক বই।
এক মন্ত্রী আর তার পরিবার ছুটি কাটাতে আসে কোনো এক অরণ্য আর নদীঘেরা বাংলোয়। প্রটাগনিস্ট নবনী সহজ, সরল, রূপবতী একটি মেয়ে। শাহেদ, যার সাথে তার বিয়ের কথা, সে তাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য সেখানে চলে আসে। ছোট বোন শ্রাবনী একটু পাগলাটে হলেও বুদ্ধিমতী তবে কিছুটা বিরক্তিকর। গল্পের শেষ হয় আকস্মিক এক সত্যের উন্মোচন দিয়ে।
তবে মবিনউদ্দিন চরিত্রটির আরো ভূমিকা এবং বিকাশ থাকলে ভালো হতো। আশা করেছিলাম এই চরিত্রটির মাধ্যমে প্রোটাগনিস্টের কিছু উপলব্ধি আসবে।
August 21, 2026
রবীন্দ্রনাথের ওই গানটাই মাথায় ঘুরতেছে শুধু,
"ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না,
ওকে দাও ছেড়ে দাও।"
খুব আহামরি কোনো কাহিনী বা খুব রোমাঞ্চকর কিছু না হলেও, কোনো এক ভিন্ন কারনে আমাকে বিষন্ন করে দিলো গল্পটা। আসলেই আমরা অনেক সময় নিজেরাই বুঝতে পারি না আমরা আসলে কি চাই। দেখা যায়, আমরা আসলে যা চাচ্ছি - আমরা মূলত তা চাই না। প্রকৃতি আসলেই অদ্ভুত রহস্যময়। এইসব রহস্যের জট খোলার মধ্যে আনন্দ আছে বলেই আমরা রহস্য পছন্দ করি, রহস্যময় ব্যাপারগুলো পছন্দ করি। তাই বলেই হয়তো রহস্যের পিছনে আমাদের এই অবিরাম ছুটে চলা। কিন্তু প্রকৃতি সব রহস্য প্রকাশ করে না।
"ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না,
ওকে দাও ছেড়ে দাও।"
খুব আহামরি কোনো কাহিনী বা খুব রোমাঞ্চকর কিছু না হলেও, কোনো এক ভিন্ন কারনে আমাকে বিষন্ন করে দিলো গল্পটা। আসলেই আমরা অনেক সময় নিজেরাই বুঝতে পারি না আমরা আসলে কি চাই। দেখা যায়, আমরা আসলে যা চাচ্ছি - আমরা মূলত তা চাই না। প্রকৃতি আসলেই অদ্ভুত রহস্যময়। এইসব রহস্যের জট খোলার মধ্যে আনন্দ আছে বলেই আমরা রহস্য পছন্দ করি, রহস্যময় ব্যাপারগুলো পছন্দ করি। তাই বলেই হয়তো রহস্যের পিছনে আমাদের এই অবিরাম ছুটে চলা। কিন্তু প্রকৃতি সব রহস্য প্রকাশ করে না।
February 14, 2023
হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে আমি সাধারণত কম রেটিং দিই না তবে এটায় দিলাম।
গল্পের প্লট বেশ ভালো তবে গল্পের চরিত্র গুলোকে ঠিকমতো গ্রো করা হয়নি। ইংরেজির অধ্যাপকে চরিত্রটা গল্পের প্রতিটা পাতায় খুঁজে বেড়িয়েছি কিন্তু শেষ মেষ আশাহত হলাম। এই চরিত্রটাকে কেন আনলো সেটা লেখক ঐ ভালো বলতে পারবেন। শেষমেষ এটাই বলবো গল্পটা আরেকটু বড় করলে বেশ হতো
গল্পের প্লট বেশ ভালো তবে গল্পের চরিত্র গুলোকে ঠিকমতো গ্রো করা হয়নি। ইংরেজির অধ্যাপকে চরিত্রটা গল্পের প্রতিটা পাতায় খুঁজে বেড়িয়েছি কিন্তু শেষ মেষ আশাহত হলাম। এই চরিত্রটাকে কেন আনলো সেটা লেখক ঐ ভালো বলতে পারবেন। শেষমেষ এটাই বলবো গল্পটা আরেকটু বড় করলে বেশ হতো
Displaying 1 - 30 of 81 reviews































