বইটা আহমেদ কামালের (ইনি ঢাবির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক) কতোগুলো প্রবন্ধের সংকলন। বইটার কোনাচিপায় বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং তথ্য আছে। যেমন ২৮ নাম্বার পৃষ্ঠায় জানলাম বঙ্গবন্ধু নাইমুদ্দিন (রেফারেন্সে আবার বানানটা ঈ-কার দিয়ে লেখা) নামে একজনের সাথে ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ভাগা জনগণ নামে একটা পুস্তিকা রচনা করেন। বইটা যোগাড় করে পড়ে নেবার ইচ্ছা আছে।
বইটাতে ভাষা আন্দোলনে জনগণের ভূমিকা নিয়ে একটা ভালো প্রবন্ধ আছে। স্টান্ডার্ড রেটরিক বলে এটা ভাষা আন্দোলন ঢাবির ছাত্রদের কাজ। এতের সাধারণ জনগণেরও অংশগ্রহণের বিষয়টা তেমন উঠে আসে না।
বইটাতে আওয়ামী লীগের অতিউতসাহী আওয়ামী ল্যাঙবোটেরা যখন শেখ মুজিবকে যখন ভাষা আন্দোলনের অগ্রভাগে বসাতে চাচ্ছিলেন তখন লেখা একটা প্রবন্ধ আছে। এখানে শেখ মুজিব ২১শে ফেব্রুয়ারি কোথায় ছিলেন সে বিষয়ে কিছু রেফারেন্স পাওয়া যাবে।
বইটার মাঝামাঝি ১২২ পৃষ্ঠায় কিম ইল সুঙ স্মরণে শিরোনামে একটা প্রবন্ধ আছে। যেহেতু উত্তর কোরিয়া মার্কিনিদের শত্রু সেহেতু কিম ইল সুঙ আমাদের দোস্ত এই ফ্রেমওয়ার্কে চিন্তা করলে এই রকমের প্রবন্ধ আসা সম্ভব।
বইটার শেষ দিকের প্রবন্ধ তথ্যভিত্তিক না। লেখক কিছু বিষয়ে কী ভাবেন সেগুলো নিয়ে পত্রিকার কলাম ঢঙে লেখা।
আমার রেটিং সাড়ে তিন। সাড়ে পৌণের ব্যাপার নাই বলে রেটিং ৪ দিলাম।
আহমেদ কামাল এর নিজের ইতিহাস দেখার ধরন আছে, সেটা হলো সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের চোখ দিয়ে বৃহৎ ঐতিহাসিক ঘটনার অনুসন্ধান করা, এবং সেই শিক্ষায় বর্তমানকে ব্যাখা করা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এর কিছু ব্লাইন্ড স্পট তিনি বের করতে পেরেছেন, গণমুখী আন্দোলনের প্রয়োজনীয় উপাদান গুলোকে ব্যাখা করেছেন বামপন্থী লিটারেচার, আর সাবঅলটার্ণ স্টাডিজ এর লেন্সে। তার ইতিহাসের শিক্ষাগুলো এখনকার জন্য আরো বেশি প্রাসংগিক, কিন্তু অবহেলিত-উপেক্ষিত।