Jump to ratings and reviews
Rate this book

এক পাতার গল্প

Rate this book
চাষার মেয়ে এস্ট্রোনাট হতে চেয়েছিল। শুনতে চেয়েছিল নক্ষত্রের গান। কিন্তু পরিণামে কী শুনতে পেয়েছিল?
পাইলট প্রকল্প হিসাবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেওয়া হলো এক অভিনব মুক্তি! তারপর...
মিরচি ঢালীকে সমাধান করতে হবে এক অদ্ভুত সমস্যার—একটা মেয়ে কেন সবসময় পরে থাকে স্কুল ড্রেস!
এক পাগলের বড্ড শখ বিরিয়ানি খাওয়ার, এগিয়ে এলো এক টোকাই। শেষটা হয়তো সে কখনও এভাবে ভাবেনি।
৪৭টি ভিন্ন স্বাদের খুদে গল্প নিয়ে সাজানো এই “এক পাতার গল্প”।

96 pages, Hardcover

First published December 12, 2023

34 people want to read

About the author

Sazal Chowdhury

19 books179 followers
জন্ম ২২শে ডিসেম্বর। সাইফাই ও ফ্যান্টাসি প্রিয়। বিভিন্ন গল্প সংকলন ও পত্রিকায় লেখালেখি ছাড়াও সম্পাদনা করেছেন কিছু সংকলন ও ম্যাগাজিন। শখের বশে টুকটাক অনুবাদ করে থাকেন। সেই সাথে একজন প্রকাশক, প্রফেশনাল প্রুফরিডার, এডিটর এবং বুককভার ডিজাইনার।
প্রকাশিত বইসমূহ : পলাতক (২০১৮), এক পাতার গল্প (২০২৩), বিয়ে থা (২০২৪)
প্রকাশিতব্য বইসমূহ: শবশিঙা: জিঘাংসা, সংক্রমণ ১.০

Sazal Chowdhury is a Bangladeshi author, editor, and translator with a keen interest in science fiction and fantasy. He began writing for literary magazines and anthologies, later expanding into editing curated collections and periodicals. His creative work often blends imagination with a sharp sense of narrative structure, while his translations bring lesser-known voices into new linguistic landscapes.

Alongside writing, Sazal is a publisher, professional proofreader, literature editor, and book cover designer.

Published Works: Palatak (Sci-fi, 2018), Ek Patar Golpo (Micro fiction, 2023), Biye Tha (Meta Fiction, 2024)

Forthcoming Titles: Shobshinga: Jighangsha, Songkromon 1.0

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (12%)
4 stars
19 (57%)
3 stars
6 (18%)
2 stars
2 (6%)
1 star
2 (6%)
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
Profile Image for Zamsedur Rahman.
Author 10 books162 followers
February 22, 2024
আমাদের প্রায় প্রত্যেকের সার্কেলেই এমন একজন বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা কাছের কেউ থাকে; যারা গল্প জমাতে ওস্তাদ। পরিস্থিতি যেমনই হোক, তাদের গল্প মানেই ব্যতিক্রম কিছু। ধরুন জার্নিতে বেরিয়ে ক্লান্তি লাগছে, কোথাও ঘুরতে গিয়েও বিরক্তি লাগছে, স্কুল-কলেজ-ক্লাসে মন বসছে না অথবা আড্ডায় প্রাণ নেই; অমনি সেই ব্যক্তিটা গল্প শুরু করল আর মুহূর্তটাও জমে উঠল পুরোপুরি। এই বইটা ঠিক অমনই এক গল্পবাজ বন্ধুর ‘রিপ্লেসমেন্ট’। যা অল্পকথায়, স্বল্প সময়ে পরিবেশ জমিয়ে তোলে।

“এক পাতার গল্প” একবসায় পড়ে ফেলার মতো বই হলেও এটি পড়ার স্বার্থকতা মূলত সময় নিয়ে পড়ার মাঝে। মাংস যেমন অল্প উনুনে বারবার জ্বাল দিলে তার স্বাদ বৃদ্ধি পায়, তেমনি এই বইটি প্রতিদিন একটু একটু করে পড়লে গল্পগুলোর স্বাদ বুঝতে পারবেন। কী? মাংসের উদাহরণ জমলো না? পিওর ভেজিটেরিয়ান? তাহলে চা’কে উদাহরণ হিসেবে ধরুন। গরম চা ধুম করে গলাধঃকরণ করলে যেমন স্বাদ তো পাবেনই না, উল্টো জিহ্বা-মুখ পুড়ে বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হবে। অথচ সময় নিয়ে, এক চুমুক দুই চুমুক করে যদি চা খান, তখন তার স্বাদ বুঝতে পারবেন। লিকার কতটা কড়া বা হালকা হয়েছে, চিনির পরিমাণ কেমন, সব স্পষ্ট লাগবে।

তেমনি এই বইটি একটানা পড়লে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় মিস করে যাবেন। হয়তো টানা কয়েকটি গল্প পড়ে নিজের উপরেই বিরক্ত হবেন, বুঝতে পারবেন না মূল থিম। মনে হবে, ‘ধ্যাত! কী পড়লাম। শুরু করতেই শেষ।’ কিন্তু এসকল অনুগল্প বা খুদে গল্প, অথবা কেতাবি ভাষায় মাইক্রো ফিকশন গল্পগুলোর আমেজই এমন- অল্প কথায় তার শব্দ, বাক্য ও গল্প বলার জাদুতে আপনাকে ক্ষণিকের জন্য মোহাবিষ্ট করে রাখবে। “এক পাতার গল্প” সেই বিচারে দুর্দান্ত একটি গল্প সংকলন। লেখক সজল চৌধুরী তার সেরাটাই দিয়েছেন। পরিমিত ও শ্রুতিমধুর শব্দের ব্যবহার, বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ বর্ণনা, বর্তমান সমাজ ও বাস্তবতার আলোকে কাহিনি গঠন, তাতে উপযুক্ত মেটাফোর ও মন্তাজের প্রয়োগ গল্পগুলোকে অনন্য তুলে করেছে। লেখনশৈলীতে সাহিত্যরসের প্রাচুর্য বলে দেয়, কতটা সময় ও যত্ন নিয়ে তা লেখা। আবার গল্পগুলো ভীষণরকম ছোট হলেও সেগুলোতে টুইস্ট আর ক্লিফহ্যাঙ্গার রাখার ব্যাপারে লেখকের মুন্সিয়ানা চোখে পড়ার মতো।

কেমন ছিল বইয়ের গল্পগুলো? বিস্তারিত বলা যাক। বইয়ে মূলত ন্যানো ফিকশন (৫৫ শব্দের পূর্ণাঙ্গ গল্প), ড্রাবল ফিকশন (১০০ শব্দের পূর্ণাঙ্গ গল্প) ও মাইক্রো ফিকশনের (যা অনুর্ধ্ব ৩৫০ শব্দের হবে হয়তো) সর্বমোট ৪৭টি গল্প রয়েছে। একাধিক জনরা, সাব-জনরার গল্পগুলোর প্রত্যেকটিই অনবদ্য এবং মাইন্ড রিফ্রেশিং। এখানে একটি হিসাব মনে রাখা বেশ জরুরি। কাগজের এক পিঠকে ‘পৃষ্ঠা’ বলে। আর ‘পাতা’ বলতে বুঝায় কাগজের এপিঠ-ওপিঠ। মানে দুই পৃষ্ঠা মিলে এক পাতা। সেই হিসাবে এই গল্পগুলোকে লেখক ‘এক পাতার গল্প’ বলেছেন। যার বেশকিছু গল্প যেমন এক পৃষ্ঠাতেই শেষ হয়ে গেছে, আবার কয়েকটি গল্প এক পাতার সীমা অতিক্রমও করেছে। লেখকের ভাষায় সেগুলোকে ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া যায়, যারা একই ছাঁচের কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন আকারের এই জগৎ-সংসারে টিকে থাকার সামর্থ্য রাখে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রতিটি গল্পই খুব উপভোগ করেছি। তবে গল্পগুলো ছোট হওয়ায়, তার কাহিনি ও চরিত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিটি গল্পের সারসংক্ষেপ কিংবা পাঠ অনুভূতি ব্যাখ্যা করা মুশকিল। এতে না চাইতেও অনেককিছু স্পয়লার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবুও গুটি কয়েক গল্পের উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।

“রাজা-প্রজা-সাজা”র অসহায় বাবা কিংবা “৫০২ আর ৫০৩” এর অসহায় মা, চরিত্র কাছাকাছি হলেও কাহিনি-দৃশ্যপট ভিন্ন। চরিত্র যেমনই হোক, লেখক তার বৈচিত্র্যময় কাহিনি দ্বারা পাঠকের হৃদয়ে আঁচড় ফেলতে ব্যর্থ হননি। আপনি এই লেখাটি পড়ছেন মানে স্যোশাল নেটওয়ার্কে যুক্ত আছেন। একবার চিন্তা করুন, এই যে ফেসবুক-মেসেনজারে প্রতিদিন কত গল্পের জন্ম হয়। কখনো কখনো ইনবক্সের কয়েকটি আলাপও বিশাল কাহিনি দাঁড় করাতে পারে। বুকের ভেতরে তুলতে পারে কপট হাহাকার, যার দেখা মেলে “পূর্ণেন্দু পত্রী” গল্পে।

“পাইলট প্রকল্প” গল্পে এক অদ্ভুত আইনে এক অদ্ভুত সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর দৃষ্টিকোণ থেকে ছুঁড়ে দেওয়া হয় প্রশ্ন। যেই প্রশ্নে বিবেকের কাছে তাড়িত হবেন আপনিও। ভিন্ন একটা উদাহরণ টানা যাক, এই যে আমরা চোরের পিছু ছুটি। কিন্তু কেন সে চুরি করে, তা কখনো চিন্তা করে দেখি না। আমাদের চিন্তাশক্তির উপর অদৃশ্য এক দেয়াল গড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারা করেছে এমন? যাই হোক, এসকল খুদে গল্পের মজাটা কি জানেন? কথা কম কাজ বেশি। বাড়তি মেদ-ভুড়ি-চর্বির বালাই নেই। ডিরেক্ট পয়েন্টে এসে গল্প শুরু, আবার সেখানেই শেষ। “এক কাপ চা” গল্পটাও তেমন। এত ছোট রহস্যগল্প আপনি ‘সম্ভবত’ আগে পড়েছেন কি-না বলা মুশকিল। রহস্যের সমাধান হয়ে যায় এক পাতাতেই। একদম টুইস্টসমেত সলিউশন। আরও মজার ব্যাপার হলো, এক কাপ চা নিয়ে গল্পটা পড়তে বসলে দেখবেন চা শেষ হবার আগেই গল্প শেষ হয়ে যাবে।

অল্পকথায় গল্প কীভাবে জমানো যায়, তা আপনি “নক্ষত্রের খসড়া গান” গল্পটি পড়লে অনুভব করতে পারবেন। কী নিদারুণ এক জীবনের খসড়া তুলে ধরা হয়েছে। যা চোখের পলকেই নিঃশেষ হয়ে যায়। গল্প ও জীবন, দু’টোই কত অসহায়। অপরদিকে “মায়ের অবাধ্য ছেলেটি” এক পাতা নয়, রীতিমতো এক পৃষ্ঠার গল্প। তাও আবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক। যা শেষ করার পর কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে থেকেছিলাম। “জ্যোৎস্না হনন” গল্পের প্রসঙ্গ পরে আসবো, আগে এটার প্রথম কয়েকটি লাইন পড়ুন-
বউ হাইসা হাইসা কইছিল, ‘বাচ্চা দেখলেই পলায়ে যান। নিজের যখন হইবো তখন কই পলাইবেন?’ জবাবে কী বলছিলাম তা মনে নাই। কিন্তু যখন সে আমাকে কন্যা সন্তান উপহার দিয়া পলাইয়া গেল আল্লাহর কাছে, তখন আর আমার পলায়ে যাওয়ার কোনো পথ অবশিষ্ট ছিল না।

সামান্য এই কয়েকটি লাইনই হুকড হয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ধারণাও করতে পারবেন না সামনে আপনার জন্য কী অপেক্ষা করছে। গল্পের বর্ণনা, পরিণাম, বাস্তবতার নির্মমতা বাকরুদ্ধ করে দেয়। সেইসাথে আশ্চর্য হবেন, বইয়েরই আরেকটি গল্পের সাথে এটার নিখুঁত যোগসূত্র রয়েছে। সেইবার কন্যার চোখে বাস্তবতা দেখে থাকলে, এইবার পিতার চোখে দেখতে হবে।

আগেই বলা হয়েছে, এই বইটি পড়তে হবে গ্যাপ দিয়ে। সময় নিয়ে, জমিয়ে জমিয়ে। নাহলে পরবর্তী গল্প “গহীন বনে একা হরিণী”র গভীরতা ও তাৎপর্য বুঝতে কষ্ট হবে। এক পাতা ছাড়িয়ে যাওয়া গল্পটি আপনার কাছে হয়তো চেনা মনে হতে পারে, কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক যে আবহ সৃষ্টি ও তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটা আপনাকে একইসাথে হতবাক করবে; শেখাবে কী করে কাছের মানুষদের আগলে রাখতে হয়। পূর্বের গল্পগুলোতে একটি বিশেষ চরিত্রের প্রতি মায়া-মমতা ঘেরা জগত এখানে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। তাই যদি গ্যাপ দিয়ে না পড়েন, ধাক্কাটা ঠিকমতো অনুভব করতে পারবেন না।

একটি দোকানে বয়ামভর্তি সন্দেশ। তা ঘিরে একজনের শৈশব থেকে বৃদ্ধ বয়স অবধি কত আশা, আকাক্সক্ষা, তাড়না, আক্ষেপ। জীবন বৈচিত্র্যময়, জীবনের চাওয়া-পাওয়াও ঠিক তেমনই। পড়ার সময় মনে হচ্ছিল, এমন মানুষও নিশ্চয় আছে। তাদের গল্প আমরা তেমন কেউ জানি না। একদম শেষ লাইনে এসে গল্পের হিসেবটা এলোমেলো হয়ে যায়। আমি নিশ্চিত, আমাদের সবার জীবনেই এমন কিছু না কিছু রয়েছে, যা “কাচের বয়ামে বন্দি”।

গল্প বিষয়ক আলোচনা আপাতত এতটুকুই। ভেবেছিলাম বইয়ের সেরা গল্পগুলো নিয়ে লিখব। কিন্তু প্রতিটি গল্পই এত আপন আর ভালো লেগেছে যে, বাছাই করতে ইচ্ছে করেনি। তাই বইয়ের একদম শুরুর দিককার ১০টি গল্প নিয়ে লিখলাম।

আর কী বলবো? কাগজ, ছাপা, প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং... এগুলো? বলা যায়। বাদ রেখে কী লাভ! লেখক যেমন তার সেরাটা দিয়েছেন, প্রকাশক-প্রকাশনীও কোনোরকম কার্পণ্য করেনি। কাগজের মান দারুণ। ছাপাও সুন্দর হয়েছে। বইয়ের কনটেন্ট অনুযায়ী প্রচ্ছদটি প্রাসঙ্গিক এবং দৃষ্টিনন্দন। বাইন্ডিংসহ পুরো প্রোডাকশনই টপনচ। উল্লেখ্য যে, ভেতরকার ফন্ট খুবই ইউনিক আর কভারে গোল্ডেন এবং সিলভার ফয়েলের ব্যবহার ক্রাউন সাইজের এই বইটির কোয়ালিটিকে আরও এক ধাপ বর্ধিত করেছে। সম্পাদনায় কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। তাই বানান ভুলও চোখে পড়েনি।

পরিশেষে আরও কিছু লেখার মতো কি বাকি আছে? হ্যাঁ, সামান্য কিছু। বর্তমানে অনুগল্প, ছোটগল্প লেখক-পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। প্রতি বছর তাই এ ধরনের বেশকিছু বই ও সংকলন প্রকাশিত হয়। তারপরও “এক পাতার গল্প” নিজের বৈশিষ্ট্য ও ধরনে সেসকল থেকে ব্যতিক্রম। সেটা কেমন, তা পড়লেই বুঝতে পারবেন। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, এই বইটির অনুকরণে সামনের সময়ে আরও বই দেখতে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে নতুন লেখকদের জন্য বইটি দারুণ এক উৎস হিসেবে প্রমাণিত হবে। যদি সত্যিই এমনটা হয়, আশ্চর্য হবো না!

যারা অনুগল্প, খুদে গল্প ভালোবাসেন কিংবা ব্যতিক্রম কিছু পড়তে চান, তাদেরকে অবশ্যই “এক পাতার গল্প” সাজেস্ট রইল। যদি আপনার পরিচিত বা কাছের কেউ বই পড়তে চায়, কিন্তু সময় ও ধৈর্যের অভাবে পড়তে পারে না; আগ্রহ করে যদিও-বা বই তুলে নেয় হাতে, হয়তো দেখা যায় প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা পড়েই হাঁপিয়ে যায়, তুলে রাখে বুকশেলফে। তাদেরকে চাইলে এই বইটি উপহার দিতে পারেন। তিনি যদি ৫/৬ পৃষ্ঠাও পড়েন, আমি নিশ্চিত, আপনাদের আবার দেখা হলে তিনি মিষ্টি হেসে বলবে, ‘বইয়ের গল্পগুলো দারুণ ছিল।’

বিঃদ্রঃ এই রিভিউটি যখন লিখছি, বইয়ের ৪০টি গল্প পড়া শেষ। তবে শেষের দিককার ৭টি গল্প এখনো পড়া বাকি। আমি সেগুলো সহসাই শেষ করতে চাই না। আগামী ৭ সপ্তাহের জন্য সেগুলো সযত্নে তুলে রেখেছি।

ফ্ল্যাপের অংশ:
চাষার মেয়ে এস্ট্রোনাট হতে চেয়েছিল। শুনতে চেয়েছিল নক্ষত্রের গান। কিন্তু পরিণামে কী শুনতে পেয়েছিল?
পাইলট প্রকল্প হিসাবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেওয়া হলো এক অভিনব মুক্তি! তারপর...
মিরচি ঢালীকে সমাধান করতে হবে এক অদ্ভুত সমস্যার- একটা মেয়ে কেন সবসময় পরে থাকে স্কুল ড্রেস!
এক পাগলের বড্ড শখ বিরিয়ানি খাওয়ার, এগিয়ে এলো এক টোকাই। শেষটা হয়তো সে কখনও এভাবে ভাবেনি।
ভিন্ন স্বাদের ৪৭টি খুদে গল্প নিয়ে সাজানো এই “এক পাতার গল্প”।
.

বই: এক পাতার গল্প
লেখক: সজল চৌধুরী
প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী
প্রকাশনা: ভূমিপ্রকাশ
ধরন: গল্প সংকলন
মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
Profile Image for Aishu Rehman.
1,109 reviews1,086 followers
December 16, 2023
সামাজিক, থ্রিলার, রহস্য, রম্য, হরর আর সায়েন্স ফিকশন মিলিয়ে ৪৭টি দুর্দান্ত গল্পের একটা সংকলন ‘এক পাতার গল্প’। নামে এক পাতার হলেও ভিতরে দেড় পাতা, হাফ পাতার গল্পও আছে। তবে সেটা মুখ্য ব্যাপার না। মুখ্য ব্যাপার গল্পের কোয়ালিটি। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই চার পাঁচটা করে গল্প পড়েছি আর কিছুক্ষণ তব্দা খেয়ে বসে আছি এই ছিল সারাদিনে আমার অবস্থা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গল্পের জন্যে একটা জিনিস অপরিহার্য বলে আমি মনে করি। সেটা হচ্ছে টুইস্ট। আর এই সংকলনের প্রত্যেকটা গল্পেই সেটার উপস্থিত ছিল দেখার মতো। সব মিলিয়ে দারুণ একটা প্যাকেজ।

লেখকের কাছে নিজের প্রিয় ১০ টি গল্পের তালিকা পাঠাতে না পারলেও রিভিউতে উল্লেখ করতেই পারি। নিচের ১০ টা গল্প ক্রমান্বয়ে সাজিয়েছি মাত্র। আদতে সবগুলোই আমার কাছে সমান। এক একটা গল্প এক এক ভাবে আমাকে ভাবিয়েছে, তৃপ্তি দিয়েছে।

১। ‘নক্ষত্রের খসড়া গান’। এইটার সিকুয়েল হিসেবে আরো চারটি গল্প ছিল। ‘জ্যোৎস্না হনন’, ‘তিল থেকে তাল’, ‘বিরহমালা - ১’ ও ‘বিরহমালা - ২’। সবগুলো মিলিয়ে একটা গল্প হিসেবে নিয়েছি। এটা এই সংকলনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
২। শখ
৩। হরিষে বিষাদ
৪। পাইলট প্রকল্প
৫। আধ ছেড়া নোট
৬। কাচের বয়ামে বন্দী
৭। অহিংস প্রতিশোধ
৮। গহীন বনে একাকী হরিণী
৯। কাকতাড়ুয়ার জীবন এবং
১০। নেশা


এছাড়াও রম্য গল্প হিসেবে ‘বাবা’ গল্পটার নাম বলতেই হবে। হেসেছি বেশ কিছুক্ষণ। সায়েন্স ফিকশনে ‘হন্তারক’, ‘ডকুমেন্টারি’ ও ছিল অনন্য।

গল্পগুলো হয়তো পাতার অভাবে ডালপালা ছাড়তে পারে নি (কথাটা অবশ্য ঠিক না। ডালপালা ছাড়লেও লেখক বেশ যত্ন সহকারে সেগুলো ছেঁটে ফেলেছেন) কিন্তু এই পাঠকমনে বেশ কটা গল্প যে হারে ডালপালা ছাড়িয়েছে সেগুলো দিয়েই তৃপ্ত মনে পাঠ প্রতিক্রিয়াটা লিখলুম। এখন একটা শান্তি শান্তি ভাব আসতেছে।
Profile Image for Dystopian.
438 reviews234 followers
July 25, 2024
কিছু এভারেজ, কিছু বেশ ভালো আর কিছু বিলো এভারেজ গল্প নিয়ে অন্য সকল গল্প সংকলনের মত একটা সংকলন। কিছুখন সময় দ্রুত কাটানোর জন্য বেশ দারুন।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
April 25, 2024
আমাদের সম্পূর্ণ জীবনটা যদি একটা উপন্যাস কিংবা মহাকাব্য হয়ে থাকে তবে দৈনিক অথবা হপ্তা কিংবা মাসখানেক চলমান ঘটনাগুলোকে কি আমরা ড্রাবল/ন্যানো/ড্রিবল অথবা মাইক্রো ফিকশন বলতে পারি? হয়তো... তবে এর জন্য আমাদের কিছু বিষয় জানা উচিত।

মূলত ড্রাবল (১০০ শব্দ), ন্যানো (৫৫ শব্দ) ও ড্রিবল (৫০ শব্দ) হলো মাইক্রো ফিকশনের বিশেষ শাখা। যা নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মধ্যে গল্প লেখা সীমাবদ্ধ রাখে। যেই গল্পে আবার উপস্থিত থাকতে হবে কাঠামো-চরিত্র-দ্বন্দ্ব-সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ চারটি বিষয়ের পোক্ত গাঁথুনি ছাড়া এই ফিকশন অসম্পূর্ণ। মাইক্রো ফিকশনকে আমরা চাইলে ‘খুদে কথাসাহিত্য’-ও বলতে পারি। অতএব, উক্ত গল্পগুলো ছোটো হলেও এদের ব্যাপ্তি বা গভীরতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের অবকাশ নেই। হেলাফেলা তো বহুদূর। এদের বেশ ভালো ক্ষমতা থাকে একজন পাঠককে ভাবনায় ফেলে দিতে, কিছু বা অনেকক্ষণ ভাবিয়ে রাখতে।

এর থেকেও বড়ো কারণ হলো গল্পগুলো লেখা শ্রমসাধ্য। নির্দিষ্ট বাক্য ও নিয়মনীতি মেনে লিখতে হয়। সেটিংস চেক করতে হয় বারবার। নির্দিষ্ট শব্দের চেয়েও বড়ো হলে কেটে-কুঁদে ছোটো করে পরিতৃপ্ত রূপ দিতে হয়। অতএব, যত সহজে একটা গল্পকে জাজ করা যায়, তত সহজে গল্প লেখা সম্ভব হয় না। প্রচুর ভাবতে হয়, তাল ঠিক রেখে মেলাতে হয় বাক্যের পর বাক্য।

‘এক পাতার গল্প’ নিয়ে মূল আলোচনায় ফেরা যাক। প্রথমত এক পাতার গল্প বলতে বইয়ের একটি পাতায় লেখা গল্প বোঝানো হয়নি। অর্থাৎ এক পৃষ্ঠার উভয় দিক মিলিয়ে যে গল্প লেখা হয় সেটা এক পাতার গল্প। এখানে মাইক্রো ফিকশনের পাশাপাশি আপনি কিছু ‘বিদ্রোহী’ গল্পের দেখা পাবেন, যারা স্ব গন্ডিতে নিজেদের বেঁধে রাখতে পারেনি।

আমি পুরো ‘এক পাতার গল্প’-এর ৪৭টি খুদে গল্পকে কয়েকটি বাক্সে বন্দি করার চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু গল্প প্রভাবিত করেছে একটি আরেকটিকে। কিছু গল্প সিক্যুয়েল হিসেবে রূপদান করেছে আবার কিছু নির্দিষ্ট জনরায় খেয়েছে ঘুরপাক। লেখক বইয়ের শেষে জানতে চেয়েছেন, কোন ১০টি গল্��� পাঠক হিসেবে আমার ভালো লেগেছে তা জানাতে, ওটা হয়তো আমি শেষে জানিয়ে দিব। তবে সেটা ১০ না ৫, তা আসবে আলোচনা শেষে।

***স্পয়লার ছাড়া আলোচনা করছি, কারণ হিসেবে বলতে হয় ‘পার্সপেক্টিভ’। আমি চাইব, বইটি পড়ে গল্পগুলো পাঠক নিজ ভাবনায় অনুধাবন করুক। আমার নিজের চিন্তা ভাবনায় অন্য কেউ প্রভাবিত হোক, তা কভু চাইব না।

▌ বাক্স নং ১: মেটাফোর

এ বাক্সে আমি ৫টি গল্প রেখেছি─
ক) ৫০২ আর ৫০৩
খ) পাইলট প্রকল্প
গ) মায়ের অবাধ্য ছেলেটি
ঘ) গহীন বনে একা হরিণী
ঙ) কামাতুর

এই ৫টি গল্পের মেটাফোর আমাকে ভাবিয়েছে বেশ। ‘৫০২ আর ৫০৩’-এর অসহায় এক মহিলার খুঁট খুঁট করে পাওয়া তার স্বামীর ক্র‍্যাচের শব্দ পুরো গল্পের মেটাফোর হিসেবে কাজ করেছে। ‘পাইলট প্রকল্প’ হচ্ছে পুরো বইয়ের সবচেয়ে ইউনিক কনসেপ্টে লেখা গল্প। হয়তো এটাকেই আমি ১ নং-এ রাখব। এই গল্পের মেটাফোর কিছুটা ডিস্টোপিয়ান ফিল দেয়। ‘মায়ের অবাধ্য ছেলেটি’ মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক। শেষটা তৃপ্তিদায়ক। আর ‘গহীন বনে একা হরিণী’ ক গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে বলা চলে। দুটো গল্পে ভুক্তভোগী থাকে একজন মহিলা অথবা মা। আর ঘটনা ঘটে তাদের মেয়ের সাথে। ‘কামাতুর’ গল্পটি প্রতিশোধপরায়ণ হলেও এ গল্পের মেটাফোর স্ট্রং। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়ে বুঝে নিলে ভালো।

এ ৫টি গল্পে শুধু ইঙ্গিত দিয়েই লেখক অনেক না বলা কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন। যেখানে ওনার শক্তিশালী চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন ঘটে।

▌ বাক্স নং ২: থ্রিলার

এ বাক্সে আমি ৩টি গল্প রেখেছি, যদিও রাখার কথা ছিল চারটি─
ক) চকমকি পাথর
খ) অহিংস প্রতিশোধ
গ) তারা

যারা থ্রিল বা রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাদের জন্য লেখক এ ৩টি গল্প লিখেছেন। যুক্ত করেছেন আরও একটি, তবে সেটা পরের বাক্সে দ্রষ্টব্য। ‘চকমকি পাথর’ মূলত মেটাফোরিক্যালি থ্রিলার। এটার কারণ ও সমাপ্তি সুন্দর। ‘অহিংস প্রতিশোধ’ একটি পারফেক্ট ক্রাইম থ্রিলার। গল্পটা মোটামুটি ‘বিদ্রোহী’ স্টেজের। শেষ করে তৃপ্তি পাওয়া যায়। কমন প্লট, কিন্তু পড়তে ভালো। আর ‘তারা’ গল্পটি একটি ন্যানো ফিকশন। অল্প কথায় গল্প শেষ, রেশ থেকে যায় বেশ।

থ্রিলারে যে লেখকের হাত ও মাথা পাকা, এর উদাহরণ এই ৩টি গল্প। তবে এখানে যে বিষয়টা আমাকে চমকিত করেছে সেটা হলো প্রসিডিওরাল থ্রিলার ‘এক কাপ চা’-এর দুটো চরিত্র পরের বাক্সের ট্রিলজি/সিরিজের তদন্তে উপস্থিত থাকাতে। অর্থাৎ কিছু চরিত্র পুরো বই জুড়ে হেঁটে বেড়িয়েছে। এই কানেকশনটা দারুণ। তাই উক্ত গল্পটিকে আমি সেই সিরিজে বা পরের বাক্সে অন্তর্ভুক্ত করেছি। চাইলে আলাদা থ্রিলার হিসেবে পড়া যায়।

▌ বাক্স নং ৩: ‘এস্ট্রোনাট x বিরোহমালা’ সিরিজ

এ বাক্সে আমি একটি সিরিজের ৬টি গল্প রেখেছি─
ক) এক কাপ চা (প্রসিডিওরাল থ্রিলার)
খ) নক্ষত্রের খসড়া গান (এস্ট্রোনাট ট্রিলজি: ২)
গ) জ্যোৎস্না হনন (এস্ট্রোনাট ট্রিলজি: ১)
ঘ) তিল থেকে তাল (এস্ট্রোনাট ট্রিলজি :৩)
ঙ) বিরহমালা - ১
চ) বিরহমালা - ২

এই সিরিজটির গল্পগুলো বইয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও, সবগুলো যে এক সুতোয় বাঁধা তা পড়তে পড়তে উপলব্ধি করেছি। আমার ভুলও হতে পারে। তবে গল্পের চরিত্রগুলো যখন পরস্পর পরিচিতি লাভ করে, তখন সেটাকে সিরিজ বাক্সে বন্দি করে নিলাম। এখানে বেশ কিছু চরিত্রের আনাগোনা রয়েছে। তবে মূল গল্পটি হলো একটি মেয়ে এস্ট্রোনাট হতে গিয়ে ধ র্ষি ত হওয়া। এরপর কী কী ঘটে, তা জানতে হলে পুরো সিরিজটি পড়তে হবে। অল্পতে পুরো একটি সিরিজ দাঁড় করিয়ে সেখানে ক্লিফহ্যাঙ্গার রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। লেখকের এই বুননটা দারুণ হয়েছে। এমন ক্রিয়েটিভ কাজ, তা-ও এই মাইক্রো ফিকশনে তুলে আনা নিছক কাকতালীয় নয়। পরিপূর্ণ পরিকল্পনার একটি অংশ বলা যায়।

বিরহমালা ডুয়োলজিতে টুইস্ট আছে ভালো। যদিও আমাদের চেনা পরিচিত, তারপরেও তৃপ্তিদায়ক।

▌ বাক্স নং ৪: সমকালীন

এই বাক্সে মোটমাট ১০টি গল্প রেখেছি─
ক) রাজা-প্রজা-সাজা
খ) কাচের বয়ামে বন্দি
গ) তেতো রসগোল্লা
ঘ) প্রথমা
ঙ) সম্বোধনহীন
চ) ভাই জিতছেন
ছ) লিফটময় দেশ
জ) সন্দেহ
ঝ) অব্যক্ত কথা
ঞ) মুখোশ

সমকালীন কী বা উক্ত গল্পগুলো কোন ধাঁচে লেখা সেটা আশা করি বলে দিতে হবে না। প্রতিটা গল্প নিজ অবস্থান থেকে স্বকীয়। এক এক গল্পের ভাবাদর্শ এক এক রকম। চিন্তায় তা দিতে গল্পগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। এখানে ‘প্রথমা’ গল্পটা রোমান্টিক ধাঁচের হলো পিছনের গল্প ভীষণ শক্ত। পুরো বইয়ের আমার পছন্দের গল্পের একটি। ‘সম্বোধনহীন’ গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের। বাকি গল্পগুলো সুন্দর, ব্যথাময়। পড়ে মিশ্র অনুভূতির জন্ম হয়।

তবে লেখক সমকালীন ধাঁচের আরও অনেক গল্প লিখেছেন, যেগুলোকে আমি আলাদা বাক্সে স্থান দিয়েছি ‘দীর্ঘশ্বাস’ নামে। চলুন সেই বাক্স খোলা যাক।

▌ বাক্স নং ৫: দীর্ঘশ্বাস

এখানে স্থান দিয়েছি ৬টি গল্প:
ক) পূর্ণেন্দু পাত্রী
খ) আধ ছেঁড়া নোট
গ) হঠাৎ পাওয়া নিমেষে হাওয়া
ঘ) আলসেমো
ঙ) মাকে ভালোবাসি
চ) তুমি, আমি আর অচেনা কেউ

উক্ত ৬টি গল্প দীর্ঘশ্বাসের। সমকালীন হলেও প্রতিটা গল্পে এক দীর্ঘশ্বাসের জন্ম দিয়ে থেমে যায়। মন আকুতি জানায়, এর শেষটা এভাবে হওয়ায়। যা বেদনাদায়ক। ‘আলসেমো’ গল্পটা পছন্দের। ‘মাকে ভালোবাসি’ অনেকটা বেশি।

সমকালীনে লেখকের চিন্তা ভার্সেটাইল। দেশের যে দিকগুলো নিয়ে হরহামেশা আমরা হাপিত্যেশ করি, ওগুলো অল্প কথার গল্পে তুলে এনেছেন সুনিপুণভাবে। কিছু গল্প নাড়া দেয়, আর কিছু দেখিয়ে দেয় বাস্তবতা।

▌ বাক্স নং ৬: স্যাটায়ার

এই বাক্সে হাস্যরসাত্মক ৬টি গল্প রেখেছি─
ক) বাজি
খ) বিশ্বকাপ
গ) বাবা
ঘ) ইনবক্সে একদিন
ঙ) পিক
চ) ছিনতাই

বাস্তবতা, হতাশা, রোমাঞ্চ-এর পাশাপাশি লেখক যে কয়টি হাসির গল্প লিখেছেন তার মধ্যে ‘বাবা’ গল্পটি বেশ রিলেটেবল। ‘ছিনতাই’ গল্পটি ডার্ক কমেডি। ভালো লেগেছে।

▌ বাক্স নং ৭: সাই-ফাই

এই বাক্সে ৪টি গল্প রেখেছি─
ক) নেশা
খ) হন্তারক
গ) শেষ আশা
ঘ) ডকুমেন্টারি

লেখকের সবচেয়ে স্ট্রং জোন। কারণ তাঁকে আমরা সাই-ফাই লেখক হিসেবে চিনি ‘পলাতক’ উপন্যাসের মাধ্যমে। অতএব ধরে নেওয়া যায়, সাই-ফাই গল্পের কনসেপ্ট বেশ দারুণ হবে। সেদিক থেকে ‘নেশা’ গল্পটা দারুণই। কনসেপ্ট চেনা পরিচিত হলেও এক্সিকিশন ভিন্ন। ভালো লেগেছে। বাকি তিনটা গল্পের কনসেপ্ট পরিচিত। কিন্তু লেখক স্বকীয়তা মেইনটেইন করার প্র‍য়াস করেছেন দেখে ভালো লাগল। আমি মনে করি, কেউ যদি ‘Love Death + Robots’ সিরিজটি দেখে থাকেন এবং সেইসাথে ‘Black Mirror’ যুক্ত হয়, তাহলে স্বকীয়ভাবে সাই-ফাই লেখাটা কঠিনই হয়ে পড়ে। নতুনভাবে প্লট বিল্ডাপ করা ঝামেলা। এই বইয়ে ইউনিকনেস হচ্ছে মাইক্রো ফিকশনে লেখক যে ৪টি সাই-ফাই লিখেছেন সেটা। এখানেই লেখকের জয়। এত অল্পে সাই-ফাই বুঝিয়ে লেখা, কোনো আম কর্ম নহে। সাধুবাদ জানাই এ-জন্য।

▌ বাক্স নং ৮: হরর

এ বাক্সে আমাকে ৩টি গল্প রাখতে হয়েছে─
ক) ভয়
খ) রুমমেট
গ) ভূতের বাচ্চা

লেখক যে হরর বা অতিপ্রাকৃত গল্প লিখেন তা জানা ছিল না। তবে এ তিনটা পড়ে ভালো লাগল। ‘রুমমেট’ গল্পটা ভয়ের বটে।

▌ বাক্স নং ৯: মিশ্র

এ বাক্সে ঠাঁই দিয়ে ৪টি ছড়ানো ছিটানো গল্প─
ক) সহপাঠ
খ) কাকতাডুয়ার জীবন
গ) শখ
ঘ) হরিষে বিষাদ

এ বাক্সের প্রতিটা গল্প বেশ স্বতন্ত্র। স্ট্রং জোনে রয়েছে। ‘সহপাঠ’ গল্পটি মোটিভেশনাল। এমন বইয়ে এইরকম একটা গল্প থাকাটা দরকার ছিল। ‘কাকতাড়ুয়ার জীবন’ গল্পটার ডাইভার্সিটি বেশ পোক্ত। বিষণ্ণতার অবস্থান এখানে সবচেয়ে বেশি। মানবজীবনকে বেশ ভালোভাবে পোট্রে করে গল্পটি। ‘শখ’ একটি অন্যরকম বাস্তব গল্প, যেখানে কাপুরুষতা ও দায়িত্ব পিঠাপিঠি করে চলে। ভালো, শেষটা চমকপ্রদ। ‘হরিষে বিষাদ’ সমকালীন হলেও এর মেজাজ ভিন্ন। করুণ বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা গল্প। তাই আলাদা করতে হয়েছে, অন্যগুলো থেকে।
── ── ── ── ── ─ ── ─ ─ ─ ─
সব মিলিয়ে গল্পগুলো উপভোগ্য অবশ্যই ছিল। কিছু গল্প কমবেশি ভালো। তবে এখানে সমালোচনার করার দিকগুলো তুচ্ছ হয়ে পড়ে লেখকের শ্রমসাধ্য ও ইউনিকনেস দেখে। লেখকের সার্থকতা এখানেই। এমন একটা মাইক্রো ফিকশন লেখা অসাধ্যকে সাধন করার মতনই ব্যাপার। তাই ভুল-ত্রুটি যে কয়টা থাকে তা অতি তুচ্ছ বলে বিবেচিত হবে।

পুরোটা লেখাটি পড়ে আপনি যদি এখনও বুঝে উঠতে কষ্ট হয় যে কোন গল্পগুলো আমার বেশি ভালো লেগেছে, তবে জানিয়ে দিচ্ছি। ৪৭টি থেকে মূল ৫টি গল্প আমার পছন্দের তালিকায় রাখব,

ক) পাইলট প্রকল্প
খ) কাকতাড়ুয়ার জীবন
গ) নেশা
ঘ) প্রথমা
ঙ) কাচের বয়ামে বন্দি

আলাদা ট্রিবিউট হিসেবে থাকবে 'এস্ট্রোনাট x বিরহমালা’ সিরিজটি।

এই বইটি নিয়ে আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা ছিল। সবগুলো গল্পের ব্যাখ্যা দিতে গেলে আর্টিকেল বনে যেত লেখাটি। তাই অল্পে এবং নিজস্ব ঢঙে যতটা সম্ভব হয়েছে তুলে ধরেছি। লেখাটি লিখতে বইটি আমি বার দুয়েক পড়েছি। প্রথম পড়েছি গল্পগুলো পড়তে, দ্বিতীয়ত পড়েছি ‘বাক্স’ সাজাতে। লেখক যে শুধু গল্প লিখেননি, লেখার পিছনে যৌক্তিক কারণ ও গেম খেলেছেন, সেটা পুরো বইটি না পড়লে কেউ বুঝে উঠতে পারবে না।

ইচ্ছা হলে বইটি এক বসায় শেষ করা যায়। নতুন পাঠকদের জন্য বইটি ধীরে পড়লে ভালো। পুরাতনরা চাইলে এক বসায় শেষ করে দিতে পারেন। তবে যাহোক, উক্ত সংকলনটি সব ধরনের পাঠকরা পড়তে পারবে নির্দ্বিধায়। তা-ই রেকোমেন্ড করে গেলাম।

‘এক পাতার গল্প’-এর সাথে যাত্রা সুন্দর হোক, শিক্ষনীয় হোক।

এক পাতার গল্প
সজল চৌধুরী
ভূমিপ্রকাশ
Profile Image for Samsudduha Rifath.
428 reviews22 followers
April 5, 2024
জোছনা ভরা আকাশ, কয়েকজন বন্ধুরা বসে আছে ছাদে। এক এক করে সবাই নিজের গল্লের ঝুলি খুলেছে। কী শুনতে চাইবেন সে গল্প গুলো? কিন্তু এই ব্যাপারটা যে বর্তমানের যান্ত্রিক দুনিয়ায় মিলে গিয়েছে। তার বদলে সবাই ফোনের সাথে চুম্বকের মতো আকর্ষণে মাথা নুইয়ে রাখে। কার সময় আছে গল্প শোনার। ঠিক এখানেই আসে বই যেগুলো আমাদের গল্প শুনায়। আমাদের আনন্দ দেয়।
এক পাতার গল্পও হচ্ছে সেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার গল্প। থ্রিলার, হরর, সামাজিক, মুক্তিযুদ্ধ, সমকালীন, সাই-ফাই সহ সকল জনরার ৪৭ টা গল্প এই বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিটা গল্পের ব্যাপ্তি ৩৫০ শব্দ বা এর আশে পাশেই শেষ হয়েছে কোনো কোনোটা মাত্র ১০০ শব্দের যেটাকে ড্রাবল ফিকশন বলে আবার ৫৫ শব্দের গল্পও আছে । লেখক খুব অল্প পরিসরে দারুণ ভাবে প্রতিটি গল্প ফুটিয়ে তুলেছেন। বর্তমান সমাজকে নিয়ে গল্প, বাস্তবতার আলোকে গল্প, রূপকের আশ্রয়ে গল্প ফেঁদেছেন লেখক।
অনুগল্প গুলো পড়ে বলতে পারেন "আরে এইটুকুই!আমি ভাবলাম আরো আছে", কিন্তু এই পিচ্চি গল্প বা মাইক্রো ফিকশনেই আছে দারুণ গল্পের জাল। সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হচ্ছে এই ৪৭ টা গল্পের মাঝে কয়েকটা গল্প মিলিয়ে লেখক একটা বড় গল্প বলে গিয়েছেন। যারা এটা ধরতে পারবেন তাদের দারুণ লাগবে।
একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বইটার ঘোষণা আসার পর থেকেই আমিও অনুপ্রাণিত হয়ে মাইক্রো ফিকশন লেখা শুরু করে দেই। প্রচ্ছদকার সজল চৌধুরী যে লেখক সজল চৌধুরী তা অনেকেই জানেন না। সামনে আরো দারুণ কিছুর আশায় থাকলাম।
Profile Image for Swadesh Maverick.
37 reviews5 followers
March 4, 2024
বইমেলায় ভূমিপ্রকাশের স্টলে এক কমবয়সী ছোকরা দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ "এক পাতার গল্প" কিনতে এলে মিষ্টি হেসে বলে- এই বইয়ের লেখক খুব খারাপ! এক পাতার গল্পের কথা বলে পাঠককে সবগুলো পাতা পড়িয়ে ফেলে!

বাসায় এসে বইয়ের গল্পগুলো পড়তে গিয়ে মনে হল ছোকরা ভুল কিছু বলেনি। সাবলীল ভাষায় লেখা ছোট ছোট অনুগল্পে দারুণ সব শব্দচয়ন আর উপমা পাঠককে ধরে রাখে দীর্ঘক্ষণ। প্রায় প্রতিটা গল্পেরই শেষটা হয় অপ্রত্যাশিত চমকের মধ্য দিয়ে, যেন মোঁপাসার ছোটগল্পের ছোঁয়া মেলে। পাঠক হতবুদ্ধি হয়ে ভাবে- "আরে! এমনটা তো হবার কথা ছিল না!"
Profile Image for বিনিয়ামীন পিয়াস.
Author 11 books31 followers
January 17, 2024
যে মেয়েটি অ্যাস্ট্রোনট হতে চেয়েছিল, তার গল্পগুলো বারবার ফিরে এসেছে, ভিন্ন চোখে, ভিন্ন পরিচয়ে, ভিন্ন আলোয়।

৪৭টি অণুগল্পের একটি বইয়ের সবগুলো গল্প ভালো লেগেছে এমন বললে সেটা ডাহা মিথ্যে বলা হয়। তবে উপভোগ করেছি কিনা জিজ্ঞেস করলে বলব— হ্যাঁ, পড়তে গিয়ে দারুণ উপভোগ করেছি।
'পাইলট প্রকল্প,' 'কাচের বয়ামে বন্দী,' 'মাকে ভালোবাসি,' এই গল্পগুলোর পেছনের দর্শন ভালো লেগেছে; গল্প ছোট হলেও ধাক্কা খেতে হয়েছে বড়সড়।
এছাড়াও স্বল্প পরিসরে প্রায় সব জনরার গল্পের মিশ্রণ ছিল বিধায় পড়তে গিয়ে একঘেয়েমি ভাব আসেনি। কোনো গল্প পড়ে হাসি পেয়েছে যেমন, তেমনি মন খারাপের রেশও জুগিয়েছে কেউ কেউ। অণুগল্পের বই এমনই হওয়া উচিৎ।

বিশেষ করে যেটা ভালো লেগেছে— অ্যাস্ট্রোনট হতে চাওয়া মেয়েটির গল্প বারবার ফিরে আসাকে। ভিন্ন সব গল্পের সংকলনে কিছুক্ষণ পর পর একটা গল্প কানেক্ট হচ্ছিল, এটা দারুণ ব্যাপার। ভিন্ন একটা টেকনিকও বলা চলে। লেখক এটা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছেন, এবং সফল হয়েছেন বলেই আমার মনে হয়েছে।

ছোট সাইজের এই বইটি এক বসায় পড়ে ফেলার মতোই। তবে চাইলে আস্তে-ধীরেও পড়তে পারেন, অন্য কোনো বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে। যে-কোনো পাঠকেরই অন্তত বেশ কিছু গল্প ভালো লাগবেই, এটা নিশ্চিত।

বই: এক পাতার গল্প
লেখক: সজল চৌধুরী
প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ

বইয়ের গল্পগুলো থেকে আমার পছন্দের গল্পের তালিকা—

১. পাইলট প্রকল্প
২. মাকে ভালোবাসি
৩. কাচের বয়ামে বন্দি
৪. নেশা
৫. শখ
৬. বাবা
৭. লিফটময় দেশ
৮. অহিংস প্রতিশোধ
Profile Image for Tamzid Rifat.
116 reviews1 follower
February 24, 2024
ছোটো গল্পের সংকলন হিসেবে দারুণ ছিলো বইটি। প্রতিটি গল্পই ভালো ছিলো। গল্পগুলো খুব ছোটো হলেও প্রতিটি গল্পই আলাদা চিন্তা ভাবনার খোরাক তৈরি করেছে। গল্পগুলোর মধ্যে অহিংস প্রতিশোধ, এক কাপ চা, মাকে ভালোবাসি, ভয় ও হন্তারক বেশি ভালো লেগেছে। বইয়ের প্রোডাকশনও চমৎকার ছিলো, বিশেষ করে প্রচ্ছদ ও ফন্ট খুব ভালো লেগেছে। এছাড়া বইয়ে তেমন কোনো বানান ভুল চোখে পরেনি।
Profile Image for Nadia.
116 reviews
February 19, 2024
লেখক আমার পছন্দের অনেকগুলো বইয়ের cover design করেছেন।
এই বইটি দিয়ে আজকে পছন্দের লেখকের তালিকায় ও এসে গেছেন।
প্রত্যেকটা গল্পই সুন্দর ছিল। আবার ছোট গল্পগুলোর মধ্যকার সংযোগটাও খুব ভালো লেগেছে।
Profile Image for Umar Faruk Akash.
38 reviews1 follower
December 21, 2023
আচ্ছা প্রচ্ছদকার সজল চৌধুরীকে তো আমরা সবাই চিনি কিন্তু লেখক সজল চৌধুরীকে আমার কয়জনই বা চিনি?
বছরখানেক আগে সজল ভাইয়ের "পলাতক" বইটা পড়েছিলাম। সে বইটা মনের মধ্যে দারুণভাবে জায়গা করে নেয় ঠিক যেভাবে করে নিলো "এক পাতার গল্প।"

বইয়ে মোট ৪৭টা এক পাতার গল্প রয়েছে। গল্পগুলো একই সাথে মাইক্রো ফিকশন, ড্রাবল ফিকশন ও ন্যানো ফিকশন।

বইয়ের প্রতিটা গল্পই বেশ মাইন্ড রিফ্রেশিং ও আকর্ষণীয় ছিল, সেই সাথে অনবদ্য। ছোট বেলায় 'একের ভিতরে অনেক' টাইপের গাইড বইগুলোতে একটি ক্লাসের সব বইয়ের প্রশ্ন উত্তর দেয়া থাকতো। এ বইটিও ঠিক তেমনই।
সব জনরা, সাব জনরার গল্পগুলো বইটিতে স্থান পেয়েছে। বইটিতে লেখক তার গল্পের সংলাপ ও লিখনশৈলী দুর্দান্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সিলভার ও গোল্ডেন ফয়েলের কভারের এই ক্রাউন সাইজ বইটির প্রডাকশন বেশ দারুণ হয়েছে।

বইঃ এক পাতার গল্প
লেখকঃ Sultan Azam Sazal
প্রচ্ছদঃ সজল চৌধুরী
প্রকাশনাঃ BhumiProkash - ভূমিপ্রকাশ
ধরনঃ গল্প সংকলন
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০/-
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৬

ফ্ল্যাপ থেকেঃ
চাষার মেয়ে এস্ট্রোনাট হতে চেয়েছিল। শুনতে চেয়েছিল নক্ষত্রের গান। কিন্তু পরিণামে কী শুনতে পেয়েছিল?
পাইলট প্রকল্প হিসাবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেওয়া হলো এক অভিনব মুক্তি! তারপর...
মিরচি ঢালীকে সমাধান করতে হবে এক অদ্ভুত সমস্যার—একটা মেয়ে কেন সবসময় পরে থাকে স্কুল ড্রেস!
এক পাগলের বড্ড শখ বিরিয়ানি খাওয়ার, এগিয়ে এলো এক টোকাই। শেষটা হয়তো সে কখনও এভাবে ভাবেনি।
Profile Image for Nazmus Sadat.
145 reviews
November 12, 2025
- 🍃 𝐒𝐨𝐦𝐞 𝐬𝐭𝐨𝐫𝐢𝐞𝐬 𝐞𝐧𝐝 𝐢𝐧 𝐭𝐡𝐞 𝐬𝐩𝐚𝐧 𝐨𝐟 𝐚 𝐬𝐢𝐧𝐠𝐥𝐞 𝐩𝐚𝐠𝐞, 𝐲𝐞𝐭 𝐥𝐞𝐚𝐯𝐞 𝐛𝐞𝐡𝐢𝐧𝐝 𝐚 𝐩𝐫𝐨𝐟𝐨𝐮𝐧𝐝 𝐞𝐜𝐡𝐨—𝐜𝐡𝐚𝐥𝐥𝐞𝐧𝐠𝐢𝐧𝐠 𝐮𝐬 𝐭𝐨 𝐟𝐢𝐧𝐝 𝐞𝐧𝐭𝐢𝐫𝐞 𝐰𝐨𝐫𝐥𝐝𝐬 𝐚𝐧𝐝 𝐞𝐧𝐭𝐢𝐫𝐞 𝐥𝐢𝐯𝐞𝐬 𝐢𝐧 𝐭𝐡𝐞𝐢𝐫 𝐟𝐥𝐞𝐞𝐭𝐢𝐧𝐠 𝐟𝐨𝐫𝐦.

Ω 𝐎𝐧𝐞-𝐒𝐞𝐧𝐭𝐞𝐧𝐜𝐞 𝐒𝐲𝐧𝐨𝐩𝐬𝐢𝐬: In his 96-page collection এক পাতার গল্প (Ek Patar Golpo / One-Page Stories), সজল চৌধুরী/ Sazal Chowdhury crafts 47 stories spanning nano-fiction (55-word stories), drabble fiction (100-word stories), and micro-fiction (up to ~350 words) that capture slices of contemporary Bangladeshi life by placing ordinary characters in extraordinary moments, using minimalist precision and twist endings across genres from social commentary and mystery to horror and science fiction.

💭 𝐌𝐲 𝐓𝐡𝐨𝐮𝐠𝐡𝐭𝐬: এক পাতার গল্প is a high-wire act of literary ambition, where Sazal Chowdhury embraces the unforgiving constraint of micro-fiction to deliver 47 stories across every genre imaginable. The book’s strength lies in this refreshing variety—tiny, potent slices of life that prove storytelling doesn't need length to spark reflection or amusement, and reading a few during a break is a genuine pleasure. Chowdhury understands the essential formula, arming nearly every story with a twist, and the ones that land do so with quiet brilliance. However, this focus on quantity and formula is also the collection's core weakness. The relentless twist structure becomes predictable, turning the reading experience into a hunt for the punchline rather than an immersion in the narrative. Too many stories feel like compelling opening images or beautiful ideas that end just as they begin to resonate, leaving them feeling abrupt and underdeveloped. While the ambition is admirable, the collection as a whole reads more like a competent and occasionally clever draft—proof of a powerful concept that, with more narrative courage and deeper character exploration, could have been transcendent. It’s not unforgettable, but for its structural innovation and moments of sharp impact, it is undeniably engaging.

🗣️ 𝐅𝐚𝐯𝐨𝐫𝐢𝐭𝐞 𝐐𝐮𝐨𝐭𝐞: "চাষার মেয়ে এস্ট্রোনাট হতে চেয়েছিল। শুনতে চেয়েছিল নক্ষত্রের গান।

⁉️ 𝐐𝐎𝐓𝐃: Do you think a story can be powerful even if it’s only one page long?

⛉ 𝐋𝐢𝐤𝐞𝐝 𝐭𝐡𝐢𝐬 𝐩𝐨𝐬𝐭 𝐨𝐫 𝐟𝐨𝐮𝐧𝐝 𝐢𝐭 𝐡𝐞𝐥𝐩𝐟𝐮𝐥? Hit the ❤️, save it 🔖, and 𝐒𝐇𝐀𝐑𝐄 it ↗️ with fellow readers!

🔔 𝐅𝐨𝐥𝐥𝐨𝐰 𝐦𝐞 for more bookish ramblings, reviews, and recommendations.
🔗 𝑮𝑶𝑶𝑫𝑹𝑬𝑨𝑫𝑺: Nazmus Sadat → goodreads.com/dsony7
📸 𝑰𝑵𝑺𝑻𝑨𝑮𝑹𝑨𝑴: @dSHADOWcatREADS
Profile Image for Chandra.
166 reviews13 followers
January 6, 2024
ছোট গল্প আমার জন্য সবসময় একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার। অল্প কথায় অনেক কিছু বলে ফেলা। এই বইটা সেজন্যে নাম দেখেই কিনে ফেলা। হতাশ করেনি। কিছু গল্প একটু কেমন কেমন লেগেছে, কিন্তু বাকিগুলি বেশ ভালো...specially যেগুলি interconnected। সামনে লেখকের আরও ছোট গল্প পড়তে চাই।
Happy reading!
Profile Image for Easir Al Saief.
78 reviews6 followers
February 9, 2024
কিছু বই থাকে যেগুলো চটপট শেষ হয়ে যায়, আর রেখে যায় এক রাশ অনুভূতি। 'এক পাতার গল্প' তেমনই একটা বই।

প্রকৃত অর্থেই গল্পগুলোকে এক পাতায় সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা এবং একইসাথে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের গল্পের সাথে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেয়ার একটা যথাযথ উদাহরণ বইটি। তাছাড়া কয়েকটা গল্পের মাঝে যেভাবে কানেকশন রাখা হয়েছে, তা বেশ চমৎকার লেগেছে। আর শেষের কবিতাটাও ভালো লেগেছে। বেশ গভীর অর্থ রাখে প্রতিটা বাক্য।

আমার পছন্দের গল্পগুলো হলো:
১. রাজা-প্রজা-সাজা,
২. ৫০২ আর ৫০৩,
৩. এক কাপ চা,
৪. কাচের বয়ামে বন্দি,
৫. তিল থেকে তাল,
৬. তেতো রসগোল্লা,
৭. আধ ছেঁড়া নোট,
৮. তুমি, আমি আর অচেনা কেউ,
৯. শখ,
১০. হরিষে বিষাদ।

সজল চৌধুরীর প্রচ্ছদের নৈপুণ্য হয়তো অনেকেই দেখেছেন, কিন্তু তার লেখনির গুণ যদি যাচাই করতে চান, তবে পড়ে নিতে পারেন 'এক পাতার গল্প'; যেসব গল্পের শুধু পাতা নয়, শাখা-প্রশাখাও বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। আশা করি সজল ভাই সেসব শাখা-প্রশাখা নিয়ে সামনে কাজ করবেন।

বই: এক পাতার গল্প
লেখক: সজল চৌধুরী
ধরন: গল্পগুচ্ছ
প্রকাশনী: ভুমিপ্রকাশ
মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা

ব্যাক্তিগত রেটিং: ৪/৫

~ ইয়াসির আল সাইফ
Profile Image for Mahrin Haque  Moho.
35 reviews7 followers
June 30, 2024
গল্প গুলো আমাদের। কিংবা তাঁদের। যা বলার ছলেই বলা। কিন্তু এর গভীরতা বিশাল! যে বিশালতায় কারো দুঃখ অসীম, আর কারো????

নাই বা বললাম! এক পাতায় না-হয় পড়েই নিয়েন......
Profile Image for Mahrufa Mery.
207 reviews117 followers
November 2, 2024
চলে। পড়া যায়, একটু ইমম্যাচিওর টাইপের লেখা। গিফট করা যায়। বইটা সুন্দর, ফন্ট পছন্দ হয়েছে।
Displaying 1 - 15 of 15 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.