হুমায়ূন আহমেদের গল্পরা অনেকটা স্বপ্নের মতো হয়। স্বপ্নে যেমন আমরা এমন অনেক কিছু দেখি যেগুলো সেই অবস্থায় খুবই যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয়, কিন্তু পরে 'মনে' করতে গেলে বুঝি যে তেমনটা হওয়া নিতান্তই অসম্ভব, তেমনই, এই মানুষটির লেখা পড়ে মনে হয়, লেখার মাধ্যমে মানবচরিত্রের আলো-অন্ধকারকে ধরে ফেলা কত সহজ, অথচ নিজেরা লিখতে বস্লে টের পাই ব্যাপারটা শুধু 'মুশকিল হি নহিঁ, নামুমকিন হ্যায়'। এই নাতিদীর্ঘ সঙ্কলনে আছে মিসির আলি-কে কেন্দ্রে রেখে সাজানো তিনটি গল্প, যারা হল:
১) চোখ
২) জিন-কফিল
৩) সঙ্গিনী
প্রথম দুটো গল্পই আপাত অলৌকিকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবকে খুঁজে বের করার আখ্যান। মিসির আলি-র ভক্ত হিসেবে গল্পদুটোতেই রহস্যটা ভেদ করতে আমাদের খুব একটা সময় লাগার কথা নয়, কিন্তু তুলির হালকা আঁচড়ে দেশ-কাল আর বিভিন্ন চরিত্রের ইতিহাস-ভূগোল যেভাবে আমাদের সামনে ধরা পড়েছে, তার তুলনা হয় না। একটা আলগা মায়া আর কষ্ট এই গল্পগুলোকে হেমন্তের সন্ধ্যায় ধানখেতের ওপর কুয়াশার মতো করে জড়িয়ে থেকেছে, যাদের জন্যই গল্পগুলো ভিড়ের মধ্যেও হারিয়ে যাবে না।
তৃতীয় গল্পটা নিয়ে আমি কিচ্ছু লিখব না, কারণ এটা আসলে এক অদ্ভুত প্রেমের গল্প, এক অসহ্য কষ্টের গল্প, এক হাহাকার-ভরা বিস্ময়ের গল্প। এই গল্প নিয়ে কিছু লেখার যোগ্যতা আমার নেই।
সব মিলিয়ে শুধু এটাই বলতে পারি: যদি এখনও এই গল্পগুলো না পড়ে থাকেন, তাহলে দয়া করে এই ত্রুটি সংশোধনে তৎপর হোন।