রাতে ট্রেনের শব্দ শুনলেই আমার ঘুম ভেঙে যায়।আমি অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করতে করতেই মনে হয় সব মানুষের মধ্যেই একটা ইস্টিশন থাকে। সেই ইস্টিশনের সিগন্যাল ডাউন করা। ইস্টিশনে সবুজবাতি জ্বলছে।আনন্দময় ট্রেনের জন্য অপেক্ষা। কারো কারো স্টেশনে ট্রেন সত্যি সত্যি এসে থাকে। কারো কারো স্টেশনে ট্রেন আসে ঠিকই, তবে মেলট্রেন বলে থামে না। ঝড়ের মতো উড়ে চলে যায়।
Humayun Ahmed (Bengali: হুমায়ূন আহমেদ; 13 November 1948 – 19 July 2012) was a Bangladeshi author, dramatist, screenwriter, playwright and filmmaker. He was the most famous and popular author, dramatist and filmmaker ever to grace the cultural world of Bangladesh since its independence in 1971. Dawn referred to him as the cultural legend of Bangladesh. Humayun started his journey to reach fame with the publication of his novel Nondito Noroke (In Blissful Hell) in 1972, which remains one of his most famous works. He wrote over 250 fiction and non-fiction books, all of which were bestsellers in Bangladesh, most of them were number one bestsellers of their respective years by a wide margin. In recognition to the works of Humayun, Times of India wrote, "Humayun was a custodian of the Bangladeshi literary culture whose contribution single-handedly shifted the capital of Bengali literature from Kolkata to Dhaka without any war or revolution." Ahmed's writing style was characterized as "Magic Realism." Sunil Gangopadhyay described him as the most popular writer in the Bengali language for a century and according to him, Ahmed was even more popular than Sarat Chandra Chattopadhyay. Ahmed's books have been the top sellers at the Ekushey Book Fair during every years of the 1990s and 2000s.
Early life: Humayun Ahmed was born in Mohongonj, Netrokona, but his village home is Kutubpur, Mymensingh, Bangladesh (then East Pakistan). His father, Faizur Rahman Ahmed, a police officer and writer, was killed by Pakistani military during the liberation war of Bangladesh in 1971, and his mother is Ayesha Foyez. Humayun's younger brother, Muhammed Zafar Iqbal, a university professor, is also a very popular author of mostly science fiction genre and Children's Literature. Another brother, Ahsan Habib, the editor of Unmad, a cartoon magazine, and one of the most famous Cartoonist in the country.
Education and Early Career: Ahmed went to schools in Sylhet, Comilla, Chittagong, Dinajpur and Bogra as his father lived in different places upon official assignment. Ahmed passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1965. He stood second in the merit list in Rajshahi Education Board. He passed HSC exam from Dhaka College in 1967. He studied Chemistry in Dhaka University and earned BSc (Honors) and MSc with First Class distinction.
Upon graduation Ahmed joined Bangladesh Agricultural University as a lecturer. After six months he joined Dhaka University as a faculty of the Department of Chemistry. Later he attended North Dakota State University for his PhD studies. He grew his interest in Polymer Chemistry and earned his PhD in that subject. He returned to Bangladesh and resumed his teaching career in Dhaka University. In mid 1990s he left the faculty job to devote all his time to writing, playwright and film production.
Marriages and Personal Life: In 1973, Humayun Ahmed married Gultekin. They had three daughters — Nova, Sheela, Bipasha and one son — Nuhash. In 2003 Humayun divorced Gultekin and married Meher Afroj Shaon in 2005. From the second marriage he had two sons — Nishad and Ninit.
Death: In 2011 Ahmed had been diagnosed with colorectal cancer. He died on 19 July 2012 at 11.20 PM BST at Bellevue Hospital in New York City. He was buried in Nuhash Palli, his farm house.
জীবনটাকে যদি একজন কিশোরের দৃষ্টিতে দেখতে চান সেক্ষেত্রে এ বইটি হবে আপনার অন্তরঙ্গ সঙ্গী।এখানে সেই কিশোরটি হল ‘টগর’। তার জীবনের নানা ঘটনা উঠে এসছে এ উপন্যাসে । সে ক্লাস সিক্সে পড়ে। তার বাবা ষ্টেশন মাস্টার। মা অসুস্থ, মাঝে মাঝেই তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। টগরের ভাই রঞ্জু দুইবার ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ফেল করার পর ঠিক করেছে সে পড়ালেখা করবে না। সবকিছু ছেরেছুরে সে ঠায় নে এক পীরের কাছে। পরিনত হয় তার প্রিয় শিষ্যে। সে সিগারেট খায়, সে উদ্ধত।
এত কিছুর পরেও পাঠকের তার প্রতি এক স্নেহ জেগে উঠে। রঞ্জুকে তাই আপনাদের অনেকের ই ভালো লাগবে।উপন্যাসের অন্যতম আকর্ষণীয় চরিত্র টগরের দূর সম্পর্কের বোন ‘কুসুম’। কুসুমের রহস্যময়ীতার জালে ধরা পড়ে টগরের বড় ভাই রঞ্জু এবং এক ইঞ্জিনিয়ার। টগরের ও উৎসাহের কমতি ছিল না কুসুম আপুকে নিয়ে।
I found the story and the character of kusum nonsensical. This is not the way to talk to a boy who reads in class 6. I don't know why readers like her or praise her. The storyline was so weak.Another pointless book of Humayun Ahmed
❛ইস্টিশনের রেল গাড়িটা.... মাইপা চলে ঘড়ির কাঁটা....❜
ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া টগর। তারা দুই ভাই। ছোটো সে আর বড়ো রঞ্জু। রঞ্জু দুবার মেট্রিক দিয়ে ফেল করে চিন্তা করে আর লেখাপড়াই করবে না। তৃতীয়বার পরীক্ষা দেয়ার আগের রাতেই সে উধাও হয়ে গেল। পরে জানা গেল আশ্রয় নিয়েছিল এক পীরের দরবারে। টগরের মামাতো বোন কুসুম। অদ্ভুত কিসিমের কইন্যা। অদ্ভুত কাজ করে, বেলাইনের কথা বলে। তবুও তার কেমন একটা মায়া আছে। টগরের মায়ের আধকপালি রোগ আছে। মাঝেমাঝেই তার মাথা ঠিক থাকে না। তখন তিনি বেপরোয়া আচরণ করেন। ঘরে বন্ধ করে রাখতে হয়। টগরের বাবা ইস্টিশন মাস্টার। তাকে বেশিরভাগ ইস্টিশন ঘরেই থাকতে হয়। পরিবার নিয়ে তিনি ভালোই আছেন। টগরের এলাকায় এক জাপানি ইঞ্জিনিয়ার এসেছেন। লোকটা বাঙালি। তাদের সাথেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। আর তিনি কুসুমের প্রতি দূর্বল। কুসুমের মনোভাব বোঝা যায় না। টগর তার ছোট্ট চোখে আশপাশে হওয়া ঘটনা এবং এলাকায় মগরা ব্রিজের ঘটনা দেখতে থাকে। নিজের ভাইয়ের কাণ্ডকীর্তি দেখে। দেখে কুসুম আপুকেও। সময় পেরিয়ে যায় আর টগর অপেক্ষা করে তার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের ইস্টিশনে থামার। বয়ে চলা এই জীবনে কখনও কার ট্রেন ইস্টিশনে ভিড়বে কে জানে!
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝ইস্টিশন❞ হুমায়ূন আহমেদের সামাজিক উপন্যাস। এই বইটা অনেক অনেক আগে হয়তো পড়েছি খেয়াল নেই। বহু বছর পর বইটা পড়ে বেশ অদ্ভুত অনুভূতি হলো। টগর নামের এক কিশোরের দৃষ্টিকোণে তার পরিবার, এলাকার বর্ণনা এবং এক ইস্টিশনের কার্যকলাপ জানা গেছে। সাধারণ ছাপোষা জীবনে গল্প। কিন্তু লেখকের জাদুতে সেটা পড়তে বরাবরই ভালো লাগে। এটাও তেমনই ভালো লেগেছে। রঞ্জুকে আমার এত ভালো লেগেছে। সাইকেলে করে প্রাণপণ ছুটে এসে ট্রেন ধরার দৃশ্যটা এত সুন্দর ছিল! কুসুমের কাহিনি কয়েকবার বিরক্ত লাগলেও তাকে কেন জানি ভালো লেগেছে। অদ্ভুত হলেও সে মায়াবী ছিল। রহস্য ছিল। অদ্ভুত মেয়েদেরও একটা লুকানো সুন্দর মন থাকে। জাপানি ইঞ্জিনিয়ারের কাহিনিটা ভালো ছিল। কিন্তু দেশের দিকে লেখক একটু আধটু কষ্ট দিবেন না সেটা হয় না। লোকটার জন্য দুঃখ হয়েছে। মানুষের জীবন এমন কেন?
❛আমাদের প্রত্যেকের মনেই একটা ইস্টিশন থাকে, যার সিগন্যাল ডাউন। সবুজবাতি জ্বলে। আমরা নির্দিষ্ট কারো ইস্টিশনে ভিরার অপেক্ষায় সময় পার করি।❜
রেলস্টেশন জায়গাটার প্রতি কেন জানি আমার এক সিক্রেট অবসেশন কাজ করে। মনে হয় এই প্লাটফর্ম নিজের ভিতর অনেক রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। আমি যখনই স্টেশনে যাই, চুপচাপ মানুষজনদের দেখতে থাকি, সবাই কত ব্যস্ত। কেউ ট্রেনের অপেক্ষা করছে, কেউ ট্রেনের টিকিট কাটতে ব্যস্ত, কেউ বোঝা টানছে, আবার কেউ ফালুক-ফুলুক মেরে মুরগী খুজঁতেছে ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে। টঙের দোকানে আবার কয়েকজন খুবব আলসেমি নিয়ে বসে থাকে, দেখে মনে তারা জীবন নিয়ে খুব উদাসীন এবং ক্লান্ত।
বেশ কিছু দিন আগে হুমায়ূন আহমেদের ছোট্ট একটা উপন্যাস পড়েছিলাম যার মেইন প্লট প্লেস ছিল স্টেশন। নাম গৌরীপুর জংশন। ছোট্ট বইটা এততটা ডিপলি আমায় টাচ করছিল আমি বইটা শেষ করে সকালেই ভার্সিটিতে ক্লাস শেষ করে চলে যাই স্টেশনে। বেশ কিছু সময় হেঁটে বেড়াই, ট্রেন আসা যাওয়া দেখি, ওভার ব্রিজের পর বসে বসে নিচে মানুষের চলাচল, অপেক্ষা সব পরখ করতে থাকি, কল্পনায় উপন্যাসের দুইটা প্রধান চরিত্র জয়নাল এবং বজলুকে খুঁজতে থাকি।
পরবর্তীতে যখন এই উপন্যাসটা দেখি, নাম দেখেই আগ্রহ খুব বেড়ে গেছিল কারণ নামেই তো স্টেশন আছে সুতরাং হয়ত এটাও গৌরীপুর জংশনের মতন হবে বলে ভেবে বসেছিলাম আর আইরনী হচ্ছে, আমি যখনই, লিটারেলি যখন কোন কিছু হোক বই, হোক মানুষ, হোক আমার রেজাল্ট যাইহোক.. এগুলার প্রতি একটু বারতি এক্সপেক্টেশন রাখি, প্রত্যেকবারই আশাহত হই খুব বাজে ভাবে। পরে গিয়ে মন খারাপ হয়ে যায়।
ইস্টিশন নাম হলেও, গল্পের প্লট উল্টাপাল্টা ঠেকছে আমার। আমার হুমায়ূন আহমেদের গল্পে সবচেয়ে অপচ্ছন্দের বিষয় হচ্ছে, অল্প বয়সী মেয়েদের ইঁচড়েপাকা বিহেভিয়ার, বয়স অনুপাতে বেশি পাকামী..আর এই সিমটম হুমায়ূন আহমেদ তার শতকরা ৭০% বইয়েই ইউজ করছেন। আমি বুঝি না বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের দিয়ে বুড়া ব্যাডাদের সেডিউস, ম্যানিপুলেট, কিংবা অল্প বয়সী মেয়েদের মুখ দিয়ে অশ্লীল কথাবার্তাকে কেনন এত বেশি গ্লোরিফাই করে লেখক অধিকাংশ উপন্যাসে উপস্থাপন করতেন। বাস্তবে এমনটা কতটা হয় জানিনা, তবে এই বিষয়টা আমার কাছে সাংঘাতিক বিরক্তিকর লাগে। পরিণত বয়স্ক মানুষ অশ্লীল কোন কৌতুক করতে পারে মানা যায় কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ একটা দুইটা বইয়ে না বরং তার অধিকাংশ বইয়েই যেভাবে সেম জিনিসটা দেখিয়েছেন একটা স্টেজে গিয়ে এগুলা দেখলে পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে থাকি। আরেহহ ভাই আমি ইন্টারেস্টেড না কার বুকের মাঝখানে কি চিহ্ন আছে যা পুরুষদের আকর্ষিত করে তা অল্পবয়স্ক এক মেয়ের জবানীতে জানার জন্য 😑 যত্তসব! এই কুসুমের জন্যই মূলত অসহ্য লাগছিল উপন্যাসটা, কী দরকার ছিল হুদাই এসব এনক্লুড করার?!
যাইহোক, আহামরি ভাল লাগে নাই। বিরক্ত হয়েছি প্রচুর। আশাহত হয়েছি তার চাইতে বেশি। এইযে প্রত্যাশা রেখে আশাহত হলাম, এই থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি কি ভবিষ্যতে এই ভুল আর করব? উওর হচ্ছে আলবাত করব। কিছু কিছু মানুষ সাইধাঁ কষ্ট পেতে চায়, আমি সেই দলের। 🤷♂️
টগরের বাবা স্টেশন মাস্টার সে সুবাদে তাদের রেল কোয়ার্টারে থাকা হয়।তার মা আধাকপালী মানে পাগল কিসিমের। টগরের বাবার একটা কথা আমার ভালো লেগেছে, তিনি বলেন- "বাবার ধারণা সব মানুষের মাথায় আউলা গাছের বীজ পোঁতা থাকে। সেই বীজ থেকে ছোট্ট চারা বের হয়। চারা বের হওয়া মাত্র গাছ উপড়ে ফেলে দিতে হয়। অনেকেই সেটা করে না। তারা নানান যত্ন আত্তি করে। চারা গাছ দেখতে দেখতে বড় হয়ে যায়। তারা আউলা হয়ে যায়।" কুসুম মেয়েটিকে ভালো লাগে,তার উদ্ভট কাজগুলো কেন জানি খারাপ লাগে নি। যাদের জীবনের কোন লক্ষ্য থাকে না,কখনো কখনো তারাই সফল হয় জীবনে কিংবা সুখে থাকে। শেষটা বুকের ভিতরে মোচড় দেয়। আমাদের প্রত্যেকের মনে স্টেশন থাকে,আর আমরা সুখের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করি।ট্রেন সবার জীবনে আসে, কারো কারো জীবনে মেইল ট্রেন বলে, ট্রেন থামে না। কথাটা সত্য এই কথাটা কতটুকু অর্থবহুল তা বুজতে পারলে জীবনকে বুজতে পারা যায়!! কেন জানি বইটি আমার ভালো লেগেছে,বই শেষ হবার পর অনেক ক্ষণ মন উদাস ছিল।
হুমায়ুন আহমেদের বই শুরু করলে কখন যে শেষ হয়ে যায় টেরই পাওয়া যায়না।পড়ার পর মনে হয় কি পরলাম।কয়েকদিন পর ভোলাও সম্ভব ।তবুও হুমায়ুন আহমেদ তো হুমায়ুন আহমেদই। সময় কটানোর জন্য ভালই...............
●টগরের বয়ানেই চলতে থাকে উপন্যাসের কাহিনী। সে ক্লাস সিক্সে পড়ে।
●টগররা ২ ভাই। টগর ছোট। তার বড় ভাইয়ের নাম রঞ্জু। রঞ্জু ২য় বার ম্যাট্রিকে ফেল করার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে,সে আর পড়াশোনা করবে না এবং সবকিছু ছেড়ে সে এক পীরের কাছে আশ্রয় নেয় এবং পরে সেই পীরের প্রিয় শিষ্যে পরিণত হয়।
●টগরের বাবা হলেন স্টেশন মাস্টার আর টগরের মা অসুস্থ এবং মাঝেমধ্যেই তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
●টগরদের সাথে থাকে তাদের এক দূরসম্পর্কের ফুপু ও তার মেয়ে কুসুম। কুসুম খুব মেধাবী এবং রহস্যময়ী একটি মেয়ে। সে এবার ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে ৪র্থ হয়েছে। কুসুমের রহস্যময়ীতার জালে ধরা পড়ে রঞ্জু এবং এক ইন্জিনিয়ার।
🌞পাঠপ্রতিক্রিয়া:
●রঞ্জু চরিত্রটিকে পাঠকের খুব ভালো লাগবে।
●উপন্যাসটি নাটকীয়ভাবে শেষ হয়। শেষ অংশে লেখক 'ইস্টিশন' নামটির দর্শন খুব সুন্দরভাবে বলেছেন।
●একজন কিশোরের দৃষ্টিতে জীবনের রহস্যকে দেখতে পাওয়ার অসাধারণ সুযোগ লেখক 'ইস্টিশন' উপন্যাসটির মাধ্যমে আমাদের করে দিয়েছেন। তাই দেরী না করে আজই বইটি সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন ☺️
হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন একজন শব্দের জাদুকর! তার জাদু আমাদের উপর কাজ করে! কেন আমরা এই জাদুতে মোহিত হই,সেটা নিয়ে আমি সবসময়ই অবাক হই! ইস্টিশন তার আরেকটা slice of life! আমার সবচেয়ে মজা লাগে ক্যারেক্টারগুলার মাঝে কথোপকথনগুলা! টগরের মতো অনেকেরই ঐ তিল দেখার শখ মনে হয় অনেকেরই ছিল! অন্তত আমারতো ইচ্ছা ছিলই :p
ইস্টিশন একটা হাহাকারের গল্প বলে। প্রতিটা মানুষের মাঝেই লুকিয়ে আছে এমন একটা ইস্টিশন। কারো ইস্টিশন হয় জংশন , যেখানে মেল ট্রেন থামে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের ইস্টিশনেই কোনো ট্রেন থামে না। তাদের দিন কেটে যায় ট্রেনের অপেক্ষায়, সেই ট্রেন থেকে নামবে চেনা কেউ এই আশায়। কিন্তু সেই আশা রয়ে যায় অপূর্ণ।
✳️ -বাবা বললেন, কোন বেকুব তোকে চাকরি দিল? -একটা এনজিও। -চাকরিটা কী? -গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে স্যানিটারি পায়খানা ফিটিং হবে। তার তদারকি। এ ছাড়াও আরো ডিউটি আছে। বাবা ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেললেন। হতাশ গলায় বললেন, -শেষ পর্যন্ত পায়খানার মিস্ত্রি? আমার কোনো অসুবিধা নাই। অসুবিধা হবে তোর। আমি গম্ভীর গলায় বললাম, -কী অসুবিধা? -তোর বিয়ে-সাদি হবে না। পাত্রী পক্ষের কাছে খবর যাবে জামাই গু ইঞ্জিনিয়ার। গু ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে কোনো মেয়ে রাজি হবে না। মেয়েদের মধ্যে শুচিবায়ু বেশি থাকে।" ✳️ আচ্ছা কুসুম বলতো, -নয় কেন সাতকে ভয় পায়? Why nine is afraid seven? -জানি না। -Because seven eight nine. -তার মানে? -তার মানে eight বানানটা ate কর। Seven ate nine. এখন বুঝতে পারছ? সাত নয়কে খেয়ে ফেলল। Very funny তাই না? ✳️ সাইকেল টিং টিং রন্টু পাগলা শিং হা হা লাফটার রন্টু বিগ স্টার।
এমনই কিছু হাস্যকর কনভারসেশন পাওয়া যায় হুমায়ূন আহমেদের লিখা ‘ইস্টিশন’ বইটিতে। বইটির রিভিউ লিখতে ইচ্ছা করছে না। ভেঙে বলতে গেলে হুমায়ূন আহমেদের পড়া বইগুলোর রিভিউ আমি কেন জানি বিস্তর আকারে লিখতে পারি না। মনে হয় যেন কোনো একটা ফারাক থেকেই যায়।
উনার বই পড়তে গেলে একটা সমস্যা খুব বেশিই হয় আমার। উনার বেশ কয়েকটি বই পড়ার সুবাদে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। উনি নিজের লিখায় কোনো একটা ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে অন্য ঘটনার প্রসংগ টেনে আনেন। এরপর সেই ঘটনা থেকে অন্য ঘটনা। সেগুলোরও আবার বিশদ বিবরণ। মানে আসল ঘটনাটাই তখন মাথা থেকে ছুটে যায় আর পুরোটাই কেমন যেন এলোমেলো মনে হয়। এমনকি আমার তো কয়েকবার এমনও মনে হয়েছে, হয়তো হুমায়ূন আহমেদ লিখার জন্য খুব বেশি ভাবতেন না। যখন যা চোখের সামনে দেখতে পেতেন বা যখন যা মনে আসতো তাই লিখে ফেলতেন। আর পাঠকদের চমকে দিতেন।
উনার প্রতিটা লিখাই খুবই সাধারণ ধাঁচের মনে হয়েছে আমার। তবুও কিছু একটা আছে উনার লিখায়, যা পাঠককে আঁটকে রাখতে পারে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। ‘ইস্টিশন’ বইটাও তেমনই। আমি এতে নতুন বা চমকে যাবার মতো কিছু পাইনি। মানুষ যেভাবে ফেসবুকের পোস্টগুলো নির্বিকার মুখে পড়ে। তেমনই পড়ে গেছি কেবল। কিন্তু মাঝপথে ছেড়ে উঠতে পারিনি। এটাই হয়তো হুমায়ূন আহমেদের লিখার বিশেষত্ব! আর এটাই হয়তো তাকে পাঠকদের মাঝে আরো অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখবে।
এই বইটার কিছু ভাল লাগার লাইন রেখে যাওয়া........ ১. হেডস্যার বিরস গলায় বললেন, মন দিয়ে লেখাপড়া করবি। Knowledge is power মনে থাকে যেন। Knowledge বানান কর দেখি।
২. Why nine is afraid of seven? ‘জানি না।’ Because Seven eight nine. ‘তার মানে?’ ‘তার মানে eight বানানটা ate কর। Seven ate nine. এখন বুঝতে পারছ। সাত নয়কে খেয়ে ফেলল। ‘Very funny.
৩. "রাতে ট্রেনের শব্দ শুনলেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করতে করতেই মনে হয় সব মানুষের মধ্যে একটা ইস্টিশন থাকে। সেই ইস্টিশনের সিগন্যাল ডাউন করা। ইস্টিশনে সবুজবাতি জ্বলছে। আনন্দময় ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা। কারো কারো স্টেশনে ট্রেন সত্যি সত্যি এসে থাকে। কারো কারো স্টেশনে ট্রেন আসে ঠিকই, কিন্তু মেল ট্রেন বলে থামে না। ঝড়ের মতো উড়ে চলে যায়।"
আসলে বইটি বাংলাদেশের একটা স্টেশনকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবনের গল্প বলে।লেখক তার এই বইয়ের কথক,টগরকে দিয়ে এইসবের বর্ণনা দিয়েছেন। টগরের বাবা হলেন ইস্টিশনের স্টেশন মাস্টার।তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী,দুই পুত্র,বোন ও তার মেয়ে। শুরুতে টগরের দাদা পরীক্ষায় ফেল করে একসময় ঘর ত্যাগ করবে।আবার একসময় ফিরেও আসবে। এর মধ্যে জাপানি ইঞ্জিনিয়ারের উপন্যাসে প্রবেশ ঘটবে।টগরের রহিমা ফুপুর মেয়েকে তার পছন্দ হবে। দিনকে দিন টগরের মায়ের মাথার অবস্থার অনুন্নতি ঘটবে।শেষে তার ঠিকানা হবে পাগলা গারদ।এদিকে ততদিনে টগরের দাদা চাকরি পাবে।এক মামলায় জাপানি ইঞ্জিনিয়ারের করাদন্ড হবে।ট্রেনে কাটা পড়ে আত্মহত্যা,বউ চলে যাওয়ার পড়ে ময়রার তার বউয়ের জন্য ইস্টিশনে অপেক্ষা উপন্যাসটির এক ট্র্যাজিক দিক তুলে ধরেছে।
জাফর ইকবালের ইস্টিশন পড়বার পর ইচ্ছে ছিল হুমায়ূন আহমেদ স্যারেরটা পড়বো। এখন ইস্টিশনকে 'স্টেশন' বলা হয়। নামের সাথে সাথে তার চারদিক, রেলপথ সব বদলেছে। কুষ্টিয়া আসাযাওয়ার সময় ইংরেজদের আমলের কাঠের রেলপথ দেখা যায়। এখন তা নেই। এবার বইয়ের বিষয় আসি।
উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রই স্বতন্ত্র। একটি রেলকোয়াটারে থাকা পরিবারের গল্প। গল্পে আছে কুসুম, রঞ্জু আরো অনেকে। কুসুমের সাথে বিচিত্র চরিত্র, চলনবলন। মানুষকে চমকে দিতে তার ভালো লাগে। এদিকে প্রথম হুমায়ূন আহমেদের কোনো উপন্যাসের সুখী সমাপ্তি পেলাম। ভালো লাগলো।
বইটা ভালো লেগেছে। খারাপ লাগার মত বই এটা না। কিন্তু শেষের দিক টা খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেলো এরকম মনে হচ্ছিলো। তারাহুরো ভাব মনে হয়েছে। যাহোক নিচের অংশ গুলো পড়ে বেশ মজা পেয়েছি:
দ্বিতীয়বার ফেলটা সব সময় মারাত্মক। তিনবার ফেল করে ফেললে আবার সব স্বাভাবিক। ফেলটা তখন ডাল ভাতের মতো হয়ে যায়। যারা এমনিতেই রাগী স্বভাবের তিনবার ফেল করার পর তাদের মধ্যেও মোলায়েম ভাব চলে আসে। গলার স্বরও মেয়েলি হয়ে যায়। তিনবার ফেলের এটাই আসল মজা।
এই দুনিয়ায় সবচে সুখী মানুষ কারা? পাগলরা। একবার কষ্ট করে পাগল হয়ে যেতে পারলে খুবই মজা। আর কোনো দুঃখ নাই। শুধুই সুখ। এইসব ভেবেই পাগল হয়ে যেতে ইচ্ছে করে।
ইস্টিশন এ ট্রেন আসবে আর হবে অপেক্ষার অবসান। মানুষ নিজের গন্তব্যের উদ্দেশে ত্যাগ করবে নিজের কিছু সময় সে যে ইস্টিশনে ব্যয় করেছে সেই ইস্টিশন। এদের দিকে তাকিয়ে থাকবে ইস্টিশনের স্থায়ী মানুষ। তার আর কোনো যাওয়া আসার গন্তব্য নেই। নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা ঘটনাগুলো ঘটতে থাকবে এই ইস্টিশনের আশেপাশে। হুমায়ূন আহমেদ এর লেখার সরলতার মধ্যে সেই অনুভূতি যা কিনা দুঃখ আর আনন্দের দোলাচালে বিষন্নতাকে প্রশ্রয় দেয় সেই অনুভূতির সাক্ষাৎ পাওয়া যায়।
'সব মানুষের মধ্যে একটা ইস্টিশন থাকে| সেই ইস্টিশনের সিগন্যাল ডাউন করা| ইস্টিশনে সবুজবাতি জ্বলছে| আনন্দময় ট্রেনের জন্য অপেক্ষা| কারো কারো ইস্টিশনে ট্রেন সত্যি সত্যি এসে থাকে| কারো কারো ইস্টিশনে ট্রেন আসে ঠি কই, কিন্তু মেলট্রেন বলে থামে না| ঝড়ের মতো উড়ে চলে যায়|' _ ইস্টিশন
'তেঁতুল বনে জোছনা' ভালো লেগে থাকলে এটা আরও ভালো লাগবে|
ছোট্ট একটা পারিবারিক গল্প। টগরের বাবা একজন স্টেশন মাস্টার। টগরের বড় ভাই রঞ্জু একজন ছাত্র যাকে সম্বোধন করা হয়েছে "ফেল কুমার" বলে । আর রয়েছে টগরের এক দূর সম্পর্কের বোন কুসুম। এছাড়াও কতজন রেল স্টেশনের দেশি বিদেশি কর্মকর্তা কর্মচারী ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এই গল্প। গল্পে কোনো বিশেষ কাহিনী বা টুইস্ট ছিল না তাই পড়ে তেমন মজা পায়নি।
রেলস্টেশন কে ঘিরে একজন স্টেশন মাস্টারের পরিবারের নানা জীবনকাহিনীর মধ্যে দিয়ে পারিবারিক কাহিনী । জাপানিজ ইঞ্জিনিয়ারের এমন ভাগ্যবরণ আসলেই চিন্তাই আসেনি ।
" জীবনে দুইটি জিনিস গরম খেতে হয় একটি হলো জিলাপি আর অন্যটি হলো চা" " চুরি করলে বড় চুরি করবা, বড় চুরি করলে সমাজে সম্মান থাকে "
"সবচে বেশি কথা বলে কারা? পাগলরা। সারাক্ষণই এরা কথা বলে। আশেপাশে মানুষ থাকলে কথা বলে। আশেপাশে কেউ না থাকলে নিজের মনেই বিড়বিড় করে। এই দুনিয়ার সবচে সুখী মানুষ কারা? পাগলরা। একবার কষ্ট করে পাগল হয়ে যেতে পারলে খুবই মজা। আর কোনো দুঃখ নাই। শুধুই সুখ। এইসব ভেবেই পাগল হয়ে যেতে ইচ্ছা করে।"
৪ স্টার দিতাম, কারণ শেষের দিকের কাহিনীটা ভালো। কিন্তু ৩ স্টার দিলাম কারণ হুমায়ুন আহমেদের কিছু বইয়ে ওভারস্মার্ট মেয়ে চরিত্র থাকে, যেটা এই বইয়ে কুসুম চরিত্রটা। কিছু কিছু জায়গায় প্রচন্ড বিরক্ত হয়েছি। এই চরিত্রটার জন্য বই পড়াটার আনন্দ অনেকবার বিঘ্ন হয়েছে।
This is the first book which I read through only one attempt. He writes like a pure gentleman except the fact that he goes obscene! The book would have been a good read, really, if the writer excluded the vulgar stuffs. Not all readers are horny. Trust me.
জীবনের স্টেশনে কারো কারো ট্রেন আসে , কারো কারো মেলট্রেন বলে থামে না অনবরত ছুটতে থাকে। তবুও অপেক্ষা থাকে সেই সবুজ সংকেতের, আনন্দময় ট্রেনের জন্য। কিছু চরিত্র, কিছু হাস্যরস বা জীবনবোধের সুক্ষ্ম কিছু পাঠ। সবমিলিয়ে খারাপ নয় তেমন ☺️🌼🌼
হুমায়ুন আহমেদের বই শুরু করলে কখন যে শেষ হয়ে যায় টেরই পাওয়া যায়না।পড়ার পর মনে হয় কি পরলাম।কয়েকদিন পর ভোলাও সম্ভব ।তবুও হুমায়ুন আহমেদ তো হুমায়ুন আহমেদই। সময় কটানোর জন্য ভালই...............