"শয়তানের মা" - কৌশিক দাস (484)
শপিজেন বাংলা
মুদ্রিত মূল্য ₹৩০০ (২০২৪)
বইটি পড়ার আগে শুধু এইটুকু জানতাম কাহিনীটি একটি স্পোর্টস থ্রিলার, ক্রিকেট বেটিং প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর একটি কাহিনী। বইটি পড়তে পড়তে বুঝতে পারলাম সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র যে কতটা নৃশংস হতে পারে, কত গভীরে যেতে পারে। বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, বুকি দের পাশাপাশি উঠে আসে এক অন্ধকারময় জগত, মাফিয়াদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কথা। উঠে আসে বাস্তব সত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একের পর এক শ্বাসরোধকারী ঘটনা।
ঘটনার সূত্রপাতে আবার পিছিয়ে যাই বেশ কয়েক বছর আগে। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক ছিলেন হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। পাপ, লোভ মানুষকে কোথায় নামিয়ে আনতে পারে? অর্থের লোভে হ্যান্সি ক্রোনিয়ে পা বাড়ান ক্রিকেটের অন্ধকার জগতের দিকে। ২০০০ সালে দিল্লী পুলিশ দাবি করে হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে ভারতীয় ক্রিকেট বুকি সঞ্জয় চাওলার সাথে যুক্ত। হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ছাড়াও অভিযোগের তীর ওঠে গিবস, নিকি বোয়ে, মহম্মদ আজাহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা, মনোজ প্রভাকরদের দিকে। হ্যান্সি ক্রোনিয়ে প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করলেও পরে অনুশোচনায় সব স্বীকার করে নেন। হ্যান্সি ক্রোনিয়ে হয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকার ট্র্যাজিক হিরো। বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পরই শুরু হয় ক্রিকেট জগতের এক কালো অধ্যায়। উন্মোচিত হতে থাকে ক্রিকেট জগতের একের পর এক কেলেঙ্কারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড হ্যান্সি ক্রোনিয়কে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করে। অবসরের পর তিনি ব্যবসায় মন দেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই একটা বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু এটা কি দুর্ঘটনা না হত্যা? হ্যান্সি ক্রোনিয়ের মৃত্যু রহস্য হিসেবেই থেকে যাবে।
এই উপন্যাস বিস্তৃত হয়েছে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। কলম্বো, দিল্লি, মুম্বাই , কলকাতা, ইসলামাবাদ, দুবাই, ঢাকা, নাইরোবি, কেপ টাউন... সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে সেই ষড়যন্ত্রের ইতিবৃত্ত। বেআইনি ক্রিকেট বেটিং এ যে কোটি কোটি টাকা ওড়ে, তা দুবাই ঘুরে পাকিস্তানে চলে যায় হাওয়ালা মারফত। আর সেখানে টেরর ফান্ডিংয়ে কাজে লাগে। লেখনী অত্যন্ত সহজ ও গতিময় এবং কাহিনীটি এতটাই টানটান উত্তেজনায় ভরা যে বইটি পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ছাড়ার উপায় নেই। উপন্যাসে বর্ণিত সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর অদিতি চৌহান, আদিত্য চৌহান, ক্রিকেটার জয়ন্ত, পুলিশ অফিসার রাজেশ তাম্বে নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রহস্য উন্মোচন করেন, ভারতবর্ষের সম্মান বাঁচান। ডি, ডক্টর, মেজর, খান, আলী, স্যামদের সব নাশকতার পরিকল্পনা বিফল হয়।
লেখক দীর্ঘ ২৮ বছর আনন্দবাজার পত্রিকায় ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সুবাদে বিভিন্ন চরিত্রদের তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন, বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বাস্তবের সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরেছেন এই ঘটনা। বাগসুইপিং, এনিগমা সাইফার মেশিন, কলমা শরি, TAP বিস্ফোরক, মার্শাল আর্ট সম্বন্ধে লেখকের গবেষণাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়।