Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
Mystery Novel

286 pages, Hardcover

First published December 26, 2022

3 people are currently reading
28 people want to read

About the author

Koushik Das

7 books1 follower

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
10 (58%)
4 stars
5 (29%)
3 stars
2 (11%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 24 books1,868 followers
January 6, 2024
ক্রিকেট নিয়ে জুয়া, তথা ম্যাচ-ফিক্সিং কেন হয়, জানেন?
যেকোনো জুয়াই হয় টাকার জন্য। কিন্তু এই বিশেষ জিনিসটির একটি অন্য লক্ষ্য আছে। এর ফলে 'ডি' কোম্পানি এবং তার পৃষ্ঠপোষকদের যে লাভটা হয়, তা দিয়ে সন্ত্রাস নামক দানবটির খাদ্য জোগানো হয়। সোমনাথ সেনগুপ্তের 'তৃতীয় রিপু' যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা এ-কথাটা সহজেই বুঝবেন। তবে আলোচ্য বইটি শুধুই তা নিয়ে নয়।
ম্যাচ ফিক্সিং এই বইয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিলেও এটি আদৌ তথাকথিত স্পোর্টস্‌-থ্রিলার নয়। বরং এটি বিশুদ্ধ পলিটিক্যাল থ্রিলার— যার কেন্দ্রে লুকিয়ে আছে ভারতের বিরুদ্ধে হওয়া এক ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্র এবং তাকে ব্যর্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা।
ওই সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের এক-একটি ধাপকে চোখের সামনে গড়ে উঠতে দেখি আমরা। দেখি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে টানাপোড়েন। দেখি লোভ আর অন্য নানা সুতোর টানে হাজার পুতুলের নাচ।
আর দেখি দেশের জন্য সর্বস্ব পণ করা কয়েকজন যোদ্ধাকে।
বইটা আমাকে মুগ্ধ করল তিনটি কারণে। তারা হল~
প্রথমত, লেখনী অত্যন্ত সহজ, গতিময়, অথচ প্রমিত। শুধু কিছু-কিছু অধ্যায়ের শেষে পাল্প স্টাইলে "যদি অমুক জানতেন কত বড়ো সর্বনাশ হতে চলেছে..." ইত্যাদি সুতোগুলোর কোনো দরকার ছিল না।
দ্বিতীয়ত, লেখার পেছনে রিসার্চ একেবারে সলিড। কীসের ভিত্তিতে এ-কথা বলছি তা না-ই বা বললাম। তবে 'সব চরিত্র কাল্পনিক'-এর আড়ালেও বেশ কিছু বাস্তবিক চরিত্র ও তাদের পটভূমিকে আমি চিনতে পারলাম। এমন বিস্ফোরক বিষয় নিয়ে লিখতে বুকের পাটা লাগে। তাই লেখককে একদফা কুর্নিশও করছি।
তৃতীয়ত, লেখাটাকে 'অ্যান্ড দে লিভড হ্যাপিলি এভার আফটার' বা 'চিতাতেই সব শেষ'— দুই চরম অবস্থানের কোনোটিতেই না রেখে, বরং বাস্তবানুগ একটা ধূসর অবস্থানেই লেখক থেমে গেছেন। আবারও বলি, এটার জন্যও দম লাগে। লেখক নিজের প্রথম উপন্যাসেই এমন পরিণত ভাবনার পরিচয় দিয়ে আমায় মুগ্ধ করলেন।
এপার বাংলায় মৌলিক থ্রিলার কমই লেখা হয়; পলিটিক্যাল থ্রিলার তো কাজল ভট্টাচার্যর মতো মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া আর কাউকে লিখতেই দেখি না। সেই পটভূমিতে এমন একটি লেখাকে দু'হাত তুলে স্বাগত জানাতেই হচ্ছে।
বইটির মুদ্রণ শুদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। শপিজেন বাংলা বইটির কনটেন্টের প্রতি সুবিচার করেছেন।
সামগ্রিকভাবে বলব, যদি আপনি ব্যতিক্রমী পলিটিক্যাল থ্রিলারের সন্ধান করেন, তাহলে এই বইটিকে স্বাগত জানাতে পারেন। আমার ধারণা, আপনি হতাশ হবেন না।
Profile Image for Monolina Sengupta.
131 reviews21 followers
January 28, 2025
◻️'মোবাইলে তিনি একটা বেফাঁস কথা বলে ফেলেছিলেন- "শয়তানের মা আসছে।"'

◻️বইটা অনেকদিন ধরেই নজরে ছিলো, কিন্তু সাধারণ স্পোর্টস থ্রিলার ভেবে delay করে যাচ্ছিলাম। (আমার বদঅভ্যাস ভালো বইগুলো delay করতে থাকা )। কিছুদিন আগে @শুভব্রতদাদা সাজেস্ট করার পরদিনই বসে গিয়েছিলাম বইটা নিয়ে, বাকিটা ইতিহাস।

◻️শয়তানের মা আসছে। কেন এই কথাটা শুনলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এফবিআই থেকে ইন্টারপোলের অফিসাররা? কী রহস্য লুকিয়ে আছে এর মধ্যে? ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গেই বা তীয় 'শয়তানের মা'-এর কী সম্পর্ক?
মুম্বই পুলিশের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রিকেট বেটিং থেকে পাওয়া হাজার কোটির বেশি টাকা হাওয়ালা মারফত চলে যায় দুবাইয়ে। সেখান থেকে পাকিস্তানে। কী কাজে লাগে সেই বিপুল অর্থ? নেপথ্যে কার অঙ্গুলিহেলন?
ভারতীয় ক্রিকেটারদের ক্রিকেট জুয়ায় জড়িয়ে পড়ার সময়ই বাইশ গজে উত্থান বাংলার এক তারকার। অন্ধকার জগৎ কি তাকেও ডেকেছিল? কেন প্লেনের 'কনফার্মড' টিকিট আগের রাতে বাতিল হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়কের?
কলম্বোর হোটেলের এক কর্মী খুন থেকে নাইরোবির রাস্তায় গুলির লড়াই। ইসলামাবাদ থেকে নয়াদিল্লি। খুলনা থেকে কলকাতা। ক্রিকেট আর সন্ত্রাসের কানাগলিতে সব যেন বাঁধা পড়েছে একসূত্রে।
ভারতীয় ক্রিকেটের এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সঙ্গে কী ভাবে জড়িয়ে আছে দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর এক 'দুর্ঘটনা'র কাহিনি? জবাব রয়েছে সত্য ঘটনার পটভূমিকায় লেখা কাল্পনিক এক কাহিনিতে- শয়তানের মা।

◻️স্পোর্টস থ্রিলারের আঙিনা থেকে বেরিয়ে এই কাহিনী কখন যে পলিটিক্যাল থ্রিলার বা ক্রাইম থ্রিলারের রাজপথে চলে আসবে আপনি বুঝতেও পারবেন না। এ কাহিনী যতটা অদিতির, ঠিক ততটাই আদিত্য, জয়ন্ত, গুলাটি, তীর্থ, তাম্বের। Stong antagonist ছাড়া protagonist-এর দাপট সঠিকভাবে প্রমাণ হয় না - ঠিক সেভাবেই এই কাহিনীর antagonist/villain মেজর, ডি বা ডক্টরের মতো চরিত্ররা কাহিনীর বাঁধন আরো শক্ত করেছে। ভীষণই গতিময় একটা লেখা এবং শুধুমাত্র স্পোর্টস বা রাজনৈতিক বিষয়েই নয়, ছুরি-বন্দুক-বিস্ফোরক- নানা হাতিয়ার-প্রযুক্তি সহ নানা বিষয়ে লেখকের রিসার্চ যথেষ্ট প্রশংসনীয়।

◻️ অলরেডি অনেক পাঠ প্রতিক্রিয়া রয়েছে, তাই খুব বড়ো কিছু লিখলাম না। তবে যারা থ্রিলারপ্রেমী তাদের জন্য আমার তরফ থেকে এটা must read recommendation রইলো। আমিও বসে আছি এবার পরের পর্ব দুটো পরপর পড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে।

শয়তানের মা
কৌশিক দাশ
শপিজেন
৩০০ টাকা (মুদ্রিত মূল্য)
Profile Image for Tamal Mitra.
38 reviews1 follower
July 17, 2025
ফেসবুকের এক বাংলা গ্রুপের সাজেশন দেখেই বইটা কিনেছিলাম। তারপর বুঝলাম ভুল করিনি, কারণ একবার পড়া শুরু করার পর আর থামাতে পারিনি। অফিস, সংসার, দৈনন্দিন কাজকর্ম সেরে যখনই সময় পেয়েছি, এই বইটা নিয়ে বসে গেছি। মানে বুঝতেই পারছেন!

ক্রিকেট ও সন্ত্রাসবাদের মিশেলে তৈরি এই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ উপন্যাসটি আপনাকে প্রথম থেকে শেষাবধি ধরে রাখতে বাধ্য। গুডরিড্‌স-এ এই বই নিয়ে অনেকেই ভালো পর্যালোচনা লিখেছেন এবং আমি তাঁদের সকলের সঙ্গেই একমত। তাই সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করে লেখা বড় করতে চাই না।

বরং আসি, ব্যক্তিগতভাবে আমার কোথায় খামতি চোখে পড়েছে সেই বিষয়ে। এই বইয়ের চরিত্রগুলি মূলত সাদা এবং কালো। নায়িকা অদিতী চৌহানকে ধূসর রঙে আঁকার একটি চেষ্টা করা হয়েছে শুধু একটি ঘটনার মাধ্যমে — তিনি প্রয়োজন পড়লে নির্দোষ মানুষের কপালে বন্দুক ঠেকাতে পিছপা হন না। ব্যাস, ওইটুকুই। গল্পের প্লট শুধুমাত্রই বহির্মুখী দ্বন্দ্বের ওপর নির্ভরশীল; চরিত্রগুলোর অন্তর্মুখী দ্বন্দ্ব, তাদের অনুভূতি, ভাবাবেগ — তেমন প্রাধান্য পায়নি। ফলে, বই পড়া শেষে কোনো চরিত্রই মনে দাগ কেটে যায় না।
Profile Image for Goutam Biswas.
6 reviews
January 14, 2024
★★ পাঠ প্রতিক্রিয়া ★★
---------------------------
★ স্পোর্টস থ্রিলার : শয়তানের মা
★ লেখক : শ্রদ্ধেয় কৌশিক দাশ মহাশয়
★ প্রকাশক : শপিজেন বাংলা
★ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০/- (প্রথম প্রকাশ - ডিসেম্বর , ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ)
__________________________________

✪ বইটির সম্পর্কে কিছু লেখার আগেই বলি শ্রদ্ধেয় লেখক মাননীয় কৌশিক দাশ মহাশয় বর্তমানে একটি নামী দৈনিক পত্রিকার ক্রীড়া বিভাগের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। ক্রীড়া জগতের অনেক নামীদামী খেলোয়াড়দের ম্যাচ কভার করেছেন।

✪ এবার আসি বইয়ের কথায়।

➤ বইটির নাম "শয়তানের মা"। স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের মনে আসে কোন দূর্নীতিপরায়ণ খ���লোয়াড়ের মাকে নিয়ে বোধহয় বইটি লেখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কিন্তু এই "শয়তানের মা" কোন রক্তমাংসের "মা" নয়।

➤ তাহ'লে কে এই "শয়তানের মা" ? যে নাম শুনলে "এফ বি আই" থেকে শুরু করে "ইন্টারপোলের" অফিসাররাও আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন ?

➤ এই "শয়তানের মা" - কে খুঁজে বের করতে হ'লে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই ২০০০ সালে। সেই ক্রিকেটের ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়ে , যেখানে ম্যাচ গড়াপেটা দিয়ে ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়েছিল , এবং সেই ম্যাচ গড়াপেটা পৃথিবীর ক্রিকেটের ইতিহাসের গায়ে এমন এক কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে দিল যা কোনও দিন মুছবে না।

➤ ভারতের প্রাচীন যুগের পুরাণে , ইতিহাসে জুয়া খেলার কথা আমরা পড়েছি , কিন্তু এই আধুনিক যুগে এসে ক্রিকেটীয় জুয়া যে কতটা ভয়ানক হ'তে পারে সেটা দেখতে পাই এই বইটিতে। এই বইটি সেই কলঙ্কিত ইতিহাসের একটি জ্বলন্ত নিদর্শন।

➤ শ্রদ্ধেয় লেখক লেখার স্বার্থে খেলোয়াড়দের নাম ছদ্মনামের মোড়কে আবৃত করেছেন। কোথাও কোথাও কল্পনার আশ্রয়ও নিয়েছেন। কিন্তু তাতে পাঠকের সত্যি খুঁজে পেতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি।

★ এইতো শুরু হ'ল ক্রিকেটীয় জুয়া , কিন্তু এর শেষ কোথায় ?

➤ এর শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই , এ যেন এক হিমশৈলের চূড়া !

➤ কিভাবে হয় এই জুয়া ? তার বিস্তৃত বিবরণ আছে এই রত্নখনিতে , বইটিকে দেখে বা নাম শুনে যেরকম নিরীহ মনে হচ্ছে আদৌ কিন্তু তা নয় !

➤ এই ক্রিকেটীয় জুয়ার কোটি কোটি টাকা কিভাবে হাওয়ালার মাধ্যমে চলে যাচ্ছে অন্ধকার জগতের নরকে , তারপর সেই টাকা বিভিন্ন হাত ঘুরে আমাদের প্রতিবেশী দেশের মাধ্যমে কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন নাশকতার কাজে , তার বিস্তৃত বিবরণ আছে এই বইটিতে।

✪ সত্যিকথা ব'লতে কি ক্রিকেট খেলা নিয়ে যে এরকম একটি থ্রিলার লেখা যায় , এই বইটি না পড়লে কখনও জানতেই পারতাম না। অনেক থ্রিলার পড়েছি , এখনও পড়ি , কিন্তু ক্রিকেটীয় জুয়া দিয়ে শুরু করে প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নাশকতার সৃষ্টির এই যে ঘৃণ্য বর্বরোচিত আচরণ , এই বইটি না পড়লে হয়তো সারাজীবন আমার অজানাই থেকে যেত।

➤ এখানে আমাদের প্রতিবেশী যে দেশটি এই নাশকতা চালাচ্ছে তার বিস্তৃতি কিন্তু শুধু আমাদের দেশেই নয় , পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশ যারা ক্রিকেট খেলে সবদেশেই আছে। হয়তো আমার , আপনার চোখের সামনে ম্যাচ গড়াপেটার কথোপকথন চলছে কিন্তু সেইসব কথা আমাদের মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে , কারণ সেগুলো সব হচ্ছে কোড ল্যাঙ্গুয়েজে। ফলে আমরা জানতেও পারছি না আমাদের দেশের কতবড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে !

➤ এবার আপনারা বলবেন ক্রিকেটীয় জুয়ায় দেশের কি ক্ষতি হচ্ছে ?

➤ আসলে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের মাতৃভূমির অর্থনীতির।

➤ ক্ষতি হচ্ছে দেশের যুবসমাজের।

➤ ক্ষতি হচ্ছে আমাদের দেশের সাথে অন্য দেশের মৈত্রীর।

➤ ক্ষতি হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের।

★ এবার আপনাদের প্রশ্ন হবে দেশবাসীর দৈনন্দিন জীবনের ক্ষতি কিভাবে হচ্ছে ? হ্যাঁ অবশ্যই হচ্ছে। যখন তখন যেখানে সেখানে বিস্ফোরণ , প্রাণহানী , এইসব অসামাজিক কার্যকলাপের বেশিরভাগ অর্থই আসছে এই ক্রিকেটীয় জুয়ার মাধ্যমে।

✪ বইটির মূখ্য চরিত্র সি বি আইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর মিসেস "অদিতি চৌহান" (আই পি এস) এবং আমাদের মুখে মিষ্টি পেটে গরল প্রতিবেশী দেশের "মেজর" নামক আই এস আইয়ের একজন মাথা। গল্পটি কল্পিত হ'লেও পড়তে গিয়ে নেশা ধরে গিয়েছে। আমি নিশ্চিত এই বইটি যে একবার পড়া শুরু করবেন , সে বইটিকে শেষ না করে কিছুতেই উঠতে পারবেন না।

✪ সবশেষে শ্রদ্ধেয় লেখককে আমার একটি প্রশ্ন - বইটি কি আদৌ শেষ হয়েছে ? আপনি বইটিকে যেখানে শেষ ক'রলেন সেখানে এসে পাঠকরা তো অপেক্ষা করবেনই যে "অদিতি চৌহান" এবং "মেজর" এই দু'জনের মধ্যে একটা শেষ বোঝাপড়া হোক।

✪ অসম্ভব সুন্দর একটি থ্রিলার পড়লাম।

✪ শ্রদ্ধেয় লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি "স্পোর্টস থ্রিলার" পাঠকদের উপহার দেবার জন্য।
______________________________________
Profile Image for Kinshuk Majumder.
205 reviews11 followers
February 14, 2024
"শয়তানের মা" - কৌশিক দাস (484)
শপিজেন বাংলা
মুদ্রিত মূল্য ₹৩০০ (২০২৪)

বইটি পড়ার আগে শুধু এইটুকু জানতাম কাহিনীটি একটি স্পোর্টস থ্রিলার, ক্রিকেট বেটিং প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর একটি কাহিনী। বইটি পড়তে পড়তে বুঝতে পারলাম সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র যে কতটা নৃশংস হতে পারে, কত গভীরে যেতে পারে। বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, বুকি দের পাশাপাশি উঠে আসে এক অন্ধকারময় জগত, মাফিয়াদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কথা। উঠে আসে বাস্তব সত্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একের পর এক শ্বাসরোধকারী ঘটনা।

ঘটনার সূত্রপাতে আবার পিছিয়ে যাই বেশ কয়েক বছর আগে। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক ছিলেন হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। পাপ, লোভ মানুষকে কোথায় নামিয়ে আনতে পারে? অর্থের লোভে হ্যান্সি ক্রোনিয়ে পা বাড়ান ক্রিকেটের অন্ধকার জগতের দিকে। ২০০০ সালে দিল্লী পুলিশ দাবি করে হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে ভারতীয় ক্রিকেট বুকি সঞ্জয় চাওলার সাথে যুক্ত। হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ছাড়াও অভিযোগের তীর ওঠে গিবস, নিকি বোয়ে, মহম্মদ আজাহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা, মনোজ প্রভাকরদের দিকে। হ্যান্সি ক্রোনিয়ে প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করলেও পরে অনুশোচনায় সব স্বীকার করে নেন। হ্যান্সি ক্রোনিয়ে হয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকার ট্র্যাজিক হিরো। বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পরই শুরু হয় ক্রিকেট জগতের এক কালো অধ্যায়। উন্মোচিত হতে থাকে ক্রিকেট জগতের একের পর এক কেলেঙ্কারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড হ্যান্সি ক্রোনিয়কে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করে। অবসরের পর তিনি ব্যবসায় মন দেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই একটা বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু এটা কি দুর্ঘটনা না হত্যা? হ্যান্সি ক্রোনিয়ের মৃত্যু রহস্য হিসেবেই থেকে যাবে।

এই উপন্যাস বিস্তৃত হয়েছে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। কলম্বো, দিল্লি, মুম্বাই , কলকাতা, ইসলামাবাদ, দুবাই, ঢাকা, নাইরোবি, কেপ টাউন... সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে সেই ষড়যন্ত্রের ইতিবৃত্ত। বেআইনি ক্রিকেট বেটিং এ যে কোটি কোটি টাকা ওড়ে, তা দুবাই ঘুরে পাকিস্তানে চলে যায় হাওয়ালা মারফত। আর সেখানে টেরর ফান্ডিংয়ে কাজে লাগে। লেখনী অত্যন্ত সহজ ও গতিময় এবং কাহিনীটি এতটাই টানটান উত্তেজনায় ভরা যে বইটি পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ছাড়ার উপায় নেই। উপন্যাসে বর্ণিত সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর অদিতি চৌহান, আদিত্য চৌহান, ক্রিকেটার জয়ন্ত, পুলিশ অফিসার রাজেশ তাম্বে নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রহস্য উন্মোচন করেন, ভারতবর্ষের সম্মান বাঁচান। ডি, ডক্টর, মেজর, খান, আলী, স্যামদের সব নাশকতার পরিকল্পনা বিফল হয়।

লেখক দীর্ঘ ২৮ বছর আনন্দবাজার পত্রিকায় ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই সুবাদে বিভিন্ন চরিত্রদের তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন, বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বাস্তবের সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরেছেন এই ঘটনা। বাগসুইপিং, এনিগমা সাইফার মেশিন, কলমা শরি, TAP বিস্ফোরক, মার্শাল আর্ট সম্বন্ধে লেখকের গবেষণাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়।
Profile Image for Dipankar Bhadra.
669 reviews60 followers
August 4, 2025
⚘ শয়তানের মা
⚘ কৌশিক দাশ
⚘ শপিজেন বাংলা
⚘ প্রচ্ছদ: অনন্যা চক্রবর্তী


ক্রিকেট শুধুমাত্র একটি স্পোর্টস নয়; এটি একটি সংস্কৃতি এবং সামাজিক বিনোদনের মাধ্যমও বটে। তবে এই আনন্দের পেছনে লুকিয়ে থাকা ক্ষতের একটি বড় কারণ হল জুয়া এবং ম্যাচ-ফিক্সিং। কৌশিক দাসের 'শয়তানের মা' বইটি আমাদের এই অন্ধকার দুনিয়ার আরও গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

১৯৯৪ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে বিস্তৃত এই উপন্যাসের পটভূমি গড়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান হ্যান্সি ক্রোনিয়ের ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে। ২০০০ সালে দিল্লী পুলিশ অভিযোগ করে যে ক্রোনিয়ে ভারতীয় বুকি সঞ্জীব চাওলার সাথে যুক্ত। এর ফলে ক্রিকেট বিশ্বে একটি অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা হয়। ক্রোনিয়ের জীবন ও মৃত্যুর রহস্য এতটাই জটিল ও শ্বাসরুদ্ধকর যে, এটি পাঠকদের মনে প্রশ্ন তোলে—এটি কি দুর্ঘটনা, নাকি একটি ষড়যন্ত্র?

কাহিনীতে কলম্বো, দিল্লি, ইসলামাবাদ, কলকাতা, ঢাকা এবং দুবাইয়ের  মতো স্থানগুলো উঠে আসে, যেখানে বেআইনি ক্রিকেট বেটিংয়ের কোটি কোটি টাকা চলে যায়। এই বিপুল অর্থ সন্ত্রাসীদের কার্যকরী ফান্ডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বইটি শুধু ম্যাচ-ফিক্সিং নিয়ে নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক থ্রিলার, যেখানে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে—যা দেশের বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে। এই ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করতে সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর অদিতি চৌহান এবং পুলিশ অফিসার রাজেশ তাম্বের মতো সাহসী যোদ্ধারা এগিয়ে আসেন, যারা নিরন্তর নিজেদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দেশের সম্মান রক্ষায় সংগ্রাম করে চলেছেন।

বইটির তিনটি দিক আমাকে মুগ্ধ করেছে: প্রথমত, লেখার শৈলী অত্যন্ত গতিময় এবং সহজ।  দ্বিতীয়ত, লেখার পিছনে শক্তিশালী গবেষণা আছে, যা বাস্তবতার একটি স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেছে। প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক হলেও, কিছু বাস্তব চরিত্রের ছায়া আমাদের নজরে আসে, যা কাহিনীকে আরো প্রাসঙ্গিক করে তোলে। তৃতীয়ত, লেখক ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনও নির্দিষ্ট পথ অবলম্বন না করে একটি ধূসর অবস্থানে থেমে গেছেন, যা পাঠকের চিন্তাভাবনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। লেখক প্রথম উপন্যাসেই এমন পরিণত চিন্তা প্রকাশ করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অত‌এব, যারা ব্যতিক্রমী পলিটিক্যাল থ্রিলারের সন্ধান করছেন, তাদের জন্য এই বইটি মাস্ট রিড। নমস্কার!


3 reviews1 follower
January 18, 2026
#শয়তানের_মা & #শিকারের_সন্ধানে

থ্রিলার গল্প এখন অনেকেই লেখেন, কিন্তু স্পোর্টস থ্রিলার?
বিশেষ করে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে লেখা এমন থ্রিলার আগে কোনওদিন পড়িনি। “শয়তানের মা” আর “শিকারের সন্ধানে” দুটো বই শেষ করে মনে হয়েছে, স্পোর্টস থ্রিলার, স্পাই স্টোরি, দেশপ্রেম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভারত-পাক রাজনীতি, আইএসআই আর ক্রিকেট বেটিং এই সবকিছুকে একসাথে এমনভাবে মিশিয়েছেন লেখক, যেন আলাদা আলাদা ঘরানা নয়, একটাই বড় ম্যাচের ভেতরে সব ফরম্যাট একসাথে চলছে।
সৌরভ গাঙ্গুলী যেমন স্পিনারকে স্টেপ আউট করে ছয় মারতেন সেভাবেই অনেক জায়গায় লেখক লেখার মধ্যে টুইস্টে ছক্কা হাঁকিয়েছেন, আবার কোথাও রোহিত শর্মার পুল শটের মতো অনায়াসে, অথচ নিশ্চিত ছক্কা; আর প্রয়োজন হলে একেবারে রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ধৈর্য ধরে উইকেটে পড়ে থেকে চরিত্র আর প্লটকে গড়ে তুলেছেন, যাতে পরের ঝড়টা আরও জোরে লাগে। ক্রিকেট বেটিংয়ের অন্ধকার জাল থেকে ভারতীয় ক্রিকেটকে বাঁচানো, তার পাশাপাশি আইএসআই এর কূটচাল বানচাল করে সম্ভাব্য জঙ্গিহানা রুখে দেওয়া, এই দুই লড়াই তিনি খুব সূক্ষ্মভাবে সমান্তরালে টেনেছেন, যেখানে পাকিস্তানি এজেন্ট আর ভারতীয় এজেন্টদের টক্করটা ঠিক হাইভোল্টেজ ইন্ডিয়া পাক ম্যাচের মতো; প্রতি ওভারে নতুন কৌশল, নতুন ঝুঁকি, আর নতুন উত্তেজনা।
মোল এই শব্দটা যে শুধু গল্প বা সিনেমার ভেতরেই আটকে নেই, বাস্তবেও তার অস্তিত্ব কতটা ভয়ংকর হতে পারে সেই বোধটা এই গল্পে লেখক আবার নতুন করে ঝাঁকুনি দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন। দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু অনেক সময় সীমান্ত পেরিয়ে আসেনা, দেশের ভেতরেই থাকে; ক্ষমতা, লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই মোলদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দেয়, রাষ্ট্রের ভিতর থেকে রাষ্ট্রকে ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।।
শেষ পাতা বন্ধ করেও মুখ্য চরিত্র অদিতি চৌহান আর তার টিমের চরিত্রগুলো মাথা থেকে সহজে সরে না। খবরের কাগজে ম্যাচ ফিক্সিং, সীমান্ত উত্তেজনা বা সন্ত্রাসের খবর দেখলেই এদের উপস্থিতি যেন বাস্তবের সঙ্গে মিশে যায়। গল্পের শেষে ভারতীয়দের জয় যেমন তৃপ্তি দেয়, তেমনই একটা অস্বস্তিও রেখে যায়...
এই জয় কতটা ভঙ্গুর, আর দেশের নিরাপত্তা, ক্রিকেটের সম্মান ও আমাদের স্বাভাবিক জীবন কতটা পাতলা সুতোয় ঝুলে আছে, সেটা নতুন করে ভাবায়। তাই বইটা শুধু একটা থ্রিলার হয়ে থামে না; পড়া শেষেও মনে হয়, শেষ বলটা জিতেছি ঠিকই, কিন্তু পরের ম্যাচের চাপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।।
Profile Image for Rajat Sanyal.
43 reviews6 followers
March 23, 2025
বইয়ের নাম: শয়তানের মা
লেখক: কৌশিক দাশ
প্রকাশক: Shopizen
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৬
মুদ্রিত মূল্য: ৩০০/-

Just পড়ে উঠলাম সমকালীন সময়ের একটি বহুল আলোচিত বই  কৌশিক দাশের "শয়তানের মা"। এটি অদিতি চৌহান সিরিজের প্রথম বই। বইটি sport's thriller genre র গল্প। গল্পের প্রেক্ষাপট নব্বইয়ের দশকের betting কান্ডে জর্জরিত টালমাটাল cricket দুনিয়া। সাথে দুই ডনের দাদাগিরি জেরে মুম্বাই রক্তাক্ত। কিভাবে cricket betting ও সন্ত্রাস হানা একই সূত্রে গাঁথা, তা এই গল্পে প্রকাশ পেয়েছে। গল্পটি পড়তে গিয়ে মনে হবে আপনি বাস্তবিক কোন সত্য ঘটনার report পড়ছেন। লেখকের লেখনী খুবই সাবলীল। মনে হবে ঘটনাগুলো আপনার চোখের সামনে ঘটছে।

Personally, 120 page এর পর থেকে বইটি unputdownable. শেষটা একটু dramatic মনে হয়েছে। Overall, it is a must read for all thriller lover.

প্রচ্ছদটি বেশ সুন্দর। Hard binding. Dust cover টি আঠা দিয়ে লাগানো খোলা যায় না। Printing and page quality বেশ ভাল। কোন মুদ্রণপ্রমাদ নজরে আসেনি। সাথে Plus point বইয়ের সাথে পাওয়া customized bookmark.

Overall rating: 4.5/5
Profile Image for Nil Baidya.
14 reviews1 follower
July 6, 2025
বই রিভিউ
শয়তানের মা
কৌশিক দাশ
শপিজেন

এটা একটা থ্রিলার উপন্যাস।ক্রিকেট গড়াপেটা থেকে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নিয়ে গল্প আবর্তিত হয়েছে।এর প্রধান চরিত্র পুলিশ অধিকারিক অদিতি চৌহান।এই উপন্যাসের অনেক ঘটনা সত্যি।নাম পরিবর্তন করে গল্পের সাথে জুড়ে আছে।এই রকম উপন্যাস সিরিজ ছিলো ম্যাসন সিরিজ।গল্পের গতি খুব দ্রুত।খুব দ্রুত পড়ে ফেলা যায়।পড়ে বোঝা যায় না এটা লেখকের প্রথম উপন্যাস। গল্পে অনেক ইনফো থাকলেও ইনফো ডাম্প উপন্যাস হয়ে যায় নি।খুব ভালো লাগলো।এর পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আমার রেটিং 5/5
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.