ডা. অর্ক সেন নামটি শুনলেই পাঠক-হৃদয়ে ফুটে ওঠে একজন সুপুরুষ, সৌখিন প্রবাসী বাঙালী মনোবিদের ছবি। মানব শরীরের সবথেকে জটিল অংশ অর্থাৎ মনের অলিতেগলিতে অবাধ বিচরণ তাঁর পেশাগত সাফল্যের পরিচয়বাহক। মনের ডাক্তারি শুধু তাঁর পেশাই নয়, তাঁর কৌতুহলী অন্তর্দৃষ্টি সর্বদা খুঁজে বেড়ায় মনের গহিনে জমা হয়ে থাকা, চাপা পড়ে থাকা অব্যক্ত সব রহস্য; এবং সেই রহস্যের আস্তরণ সরিয়ে সত্য উদঘাটন করাতেই তাঁর তৃপ্তি। এই রহস্যের গন্ধে যেখানেই তিনি ছুটে গিয়েছেন তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে বিবিধ বিপদ, সেই বিপদ কখনো মানুষের ইচ্ছাকৃত, কখনো কোনো পরিস্থিতির কারণে উদ্ভুত। কঠিন অধ্যবসায়, মনোযোগ এবং সর্বোপরি নিজের বুদ্ধি প্রয়োগের মাধ্যমে ডা. অর্ক বারবার সকল বিপদের জাল কেটে বেরিয়ে এসেছেন, যে বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে সফল হতে পারেননি সেখান থেকেও অর্জন করে এনেছেন অমূল্য সব অভিজ্ঞতা।
অর্কর সকল মনস্তাত্ত্বিক অভিযানে তাঁর সঙ্গী হন তারই বন্ধু, আর এক প্রবাসী বাঙালি তুহিন। সকল পরিস্থিতিতে এই মানুষটি ছায়ার মত জুড়ে থাকেন অর্কর সঙ্গে, দুই বন্ধুতে কখনো তাঁদের বাসস্থান নাইজেরিয়ার লেগোস শহরের বুকেই মনের রহস্যের জট ছাড়ান, কখনো রহস্যের টানে বেরিয়ে পড়েন এদিক-ওদিক। সমাধানান্তে তুহিন কলম ধরেন তাঁদের অভিযানের অভিজ্ঞতা নিয়ে, জন্ম হয় একেকটি দুর্ধর্ষ কাহিনীর।
‘অর্ক সমগ্র ৩’ এমনই টানটান রহস্যে ঘেরা তিনটি কাহিনীর সংকলন…
মনোবিজ্ঞানী অর্ক সেনের তিনটি কাহিনি স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। তারা হল~ ১. ওবি: প্যারাসাইকোলজি-ভিত্তিক একটি বড়োগল্প এটি। সুখপাঠ্য, তবে হতাশাজনক ও পরিণামহীন। ২. মারাম্মা: এটি একেবারেই পাল্প হরর গল্প, যা এই সিরিজে বেমানান। প্রথম দুটি লেখা পড়ে খুবই হতাশ হয়ে ভাবছিলাম, আমার অত্যন্ত প্রিয় এই সাইকোলজিক্যাল সিরিজটির এই দশা কেন হল। কিন্তু তারপর এল এই বইয়ের তৃতীয় লেখা। ৩. অন্তরালে: এই মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উপন্যাসটি এক ঝটকায় বইটিকে অনেকখানি উপরে নিয়ে গেল গুণে ও লেখনীতে। হ্যাঁ, দাগি পাঠক হিসেবে রহস্যের কিছু-কিছু অংশ তাড়াতাড়ি বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু এর তৃপ্তিদায়ক পরিসমাপ্তিটি পড়ে মেজাজ একদম শরিফ হয়ে গেল। বইয়ের মুদ্রণ ও লে-আউট চমৎকার। ভেতরে অলংকরণ থাকায় পরিবেশন আরও সুন্দর হয়েছে। রহস্য কাহিনির অনুরাগী হলে এই বইটি পড়তেই পারেন। নিরাশ হবেন না। বরং শেষের লেখাটি পড়ে লেখকের অনুসারী হয়ে না গেলেই বরং অবাক হব। আশা রাখি যে অর্ক সেন আবারও বুদ্ধিদীপ্ত ও জটিল রহস্য নিয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবেন।
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আজ বাংলা সাহিত্যের এক অন্যতম আলোচিত ধারা যা নিজে ফিকশন হলেও মানুষের জীবনের সাথে বড্ডো বেশি জড়িয়ে পড়ে, বারবার মনে করিয়ে দেয় যে মনের জ্বর হলে সহজে প্যারাসিটামল টুকুও আমরা দিতে চাইনা, বড়লোকদের অসুখ বলে দেগে দিতেও সমাজ পিছপা হয়না। কাজেই এই থ্রিলারে মেতে উঠলেও আমরা কতটা এসব আত্মস্থ করতে পারি আমার ঠিক জানা নেই। তবে সাহিত্যের একটা বেসিক দায়িত্ব থেকেই যায় আর বেশ কয়েক বছর ধরেই লেখক শ্রী পল্লব হালদারের কলমজাত অর্ক সিরিজ দোষে গুণে যে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছে একথা স্বীকার করতেই হয়। কাজেই দুদিন আগে হাত দিয়েছিলাম ধী প্রকাশিত সিরিজের তৃতীয় বই "অর্ক সমগ্র ৩"। বইটি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করলাম।
এই বইতে মোট তিনটে কাহিনী জায়গা পেয়েছে। এর মধ্যে শেষ কাহিনীকে উপন্যাসিকা বলাও চলে।
১) ওবি
নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজার মিঃ টুন্ডের সম্ভ্রান্ত পরিবারে আজ কালো মেঘ। তাদের মেয়ে ওবি জন্ম থেকেই কথা বলতে অক্ষম, অথচ ওবির বাবার ধারণা এর নেপথ্যে শারীরিকের চেয়ে মানসিক কারণ অনেকটা বেশি জোরালো কাজেই তিনি চিকিৎসকের শরনাপন্ন হন, ময়দানে অবতীর্ণ হন কনসালটেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ অর্ক সেন ও তার ছায়াসঙ্গী তুহিন, আর এভাবেই বিস্তৃত হতে থাকে রহস্যের জাল। এই গল্পে লেখক শিশু মনস্তত্ত্বের ওপরে একটু নজর দিয়েছেন কাজেই ওবি আর তুহিনের সম্পর্কের সমীকরণ বারবার উপভোগ্য, গল্পের নানান পরত পাঠককে আবুজা শহর সম্পর্কে একটা ছবির মত স্পষ্ট ধারণা দিতে সফল। মনস্তত্ত্বের একটা বিশেষ দিককে কাহিনীর চালিকাশক্তি হিসেবে স্থির করা হয়েছে যা শুরুতে বেশ টানতে থাকে। তবে শেষে যেন একটু তাড়াহুড়ো রয়ে গেলো, ওবির সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিটা যদি একটু অন্যভাবে লেখা হতো তবে আরো ভালো একটা ফিনিশিংয়ের সাক্ষী থাকতে পারতাম। পারিবারিক নেপথ্য কাহিনী আকর্ষণীয় তবে মূল প্লটকে আরো বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার পক্ষে যথেষ্ট লাগলো না। তবে এসবের মাঝেও কাহিনীতে জায়গা পাওয়া এক নতুন ধরণের কমিউনিকেশন ব্যক্তিগতভাবে মনে আলাদা ভালো লাগার জন্ম দিয়েছে, শেষ লাইনগুলো মনকে অনেকটাই ভিজিয়ে দেয়। স্রেফ এক ব্যতিক্রমী বিষয়বস্তুর ওপরে দাঁড়িয়ে থেকে এই কাহিনীর উপসংহার আরেকটু মজবুত হতে পারত।
২) মারাম্মা
নাইজিরিয়ার কালাবার অঞ্চলে ঘটতে থাকছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে রহস্য, কারও মতে অলৌকিকত্বও। পুলিশকে সাহায্য করতে এবং কতকটা নিজের আগ্রহেও অর্ক আর তুহিন হাজির হয় সেই অভিশপ্ত জায়গায়, এগোতে থাকে তদন্ত। এই কাহিনী সবমিলিয়ে দারুণভাবে বিস্মিত করেছে, হত্যাকারীর পরিচয় সামনে এনে লেখক একপ্রকার ধাক্কা দিয়েছেন বলাই চলে। কিন্তু মনস্তত্ত্ব বিষয়টা শেষ অবধি একটু দুর্বল থেকে গেলো, চিডি আর মারাম্মার সম্পর্কের সমীকরণ, তার প্রতি চিডির অপত্য স্নেহ, ইত্যাদি আরেকটু ডেভেলপ করতে পারতো বলে মনে হয়েছে, সবটাই যেন দ্রুততার সাথে কেটে গেলো। তবে প্রথম গল্পের মতোই এই গল্পের শেষে রয়ে যায় এক মনখারাপী আমেজ, শিখিয়ে যায় ভালোবাসার এক আলাদা মানে।
৩) অন্তরালে
লেগোসে অর্কদের আলাপ হয় দুই বাঙালির সাথে, মা রত্নাদেবী ও তাঁর ছেলে সর্বেন্দু। তাদের একে অপরের মানসিক সমস্যার ফলে কেস নিজের জটিলতা বাড়াতে থাকে আর এভাবেই এগোতে থাকে এই বইয়ের একমাত্র বহুস্তরীয় কাহিনী। অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমার কাছে এই কাহিনীই শ্রেষ্ঠ। লেখার খানিকটা স্লো বার্ন থ্রিলার স্ট্রাকচার শুরু থেকেই যথেষ্ট মনোগ্রাহী হয়ে উঠেছে, পাঠক নিজেকে অনায়াসেই এই কেসের সাথে জড়িয়ে ফেলতে বাধ্য। লেখক এই কাহিনীতে রিলিফ ফ্যাক্টরের দিকে একটু বেশি মন দিয়েছেন যা খুবই দরকারী বলে মনে করি। নানান পর্যায় তিনি জট পাকিয়েছেন এবং শেষে সুকৌশলে সেসব ছাড়িয়েছেন আর এই পুরো কাজটায় আমি কোনো মিসিং লিংক খুঁজে পাইনি। এই গল্পে সাইকোলজি চালকের আসন সফলভাবেই দখল করেছে বলেই চলে। এই কাহিনীতে আমি বিশেষ কোনো খুঁত খুঁজে পাইনি, স্রেফ ড্রিম রিয়ালিটি কনফিউসনকেই যদি অন্যভাবে ডেভেলপ করে অপরাধের অ্যাপ্রোচকে যদি আরেকটু ইনোভেট করা যেত তবে মন্দ হতো না। এই গল্পের আরেক আকর্ষণীয় দিক হলো শেষের অংশ যা বেশ মজার এবং একইসাথে বুদ্ধিদীপ্ত, অন্যগুলোর সাথে নিজেকে আলাদা করেছে।
এবারে সামগ্রিকভাবে কিছু কথা বলতেই হয়। প্লটের অভিনবত্বের বাইরে গিয়েও অর্ক সিরিজ নিজের গতি, সহজ ভাষা, পাঠককে এনগেজ রাখার সম্মোহনী শক্তির জন্যে খ্যাত যা তৃতীয় পর্বেও মোটামুটি বজায় থেকেছে; মোটামুটি একটা কিংবা দুটো সিটিংয়ে পড়ে ফেলার মত বই। অর্ক চরিত্রকে সুপারহিরো পজিশন থেকে টেনে নামিয়ে সাধারণ বানিয়ে তোলা হয়েছে মূলত প্রথম দুই কাহিনীতে যেখানে শেষে সে নিজেও আফসোস করে কাজেই তার চরিত্রায়ণ অনেক জায়গায় নজর কেড়েছে। কিন্তু তুহিনের ক্যারেক্টার গ্রাফ নিয়ে কিছুটা অভিযোগ থেকে গেলো, এতদিন অর্কর সাথে থেকেও তার মনে প্যারানর্মাল ইভেন্ট, ইত্যাদির প্রতি বিশ্বাস, কিছু ক্ষেত্রে অকারণ ভীতি, এগুলো আরেকটু কমানো যেতে পারতো বলে মনে হয়েছে। তবে এই বইয়ের দুর্বল দিক হলো অধিকাংশ গল্পে সাইকোলজির অবস্থান কিছুটা আলগা থেকে গেলো, যেটা রিপ্লেস করলো অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার বাহুল্য। বইটি নিজেকে আগের পর্বের চেয়ে ছাপিয়ে যেতে হয়তো পারলো না তবে আগামীতে এই আলগা জায়গাটা মজবুত হওয়ার আশায় থাকবো, কারণ দিনের শেষে অর্ক বড্ডো প্রিয়। বইয়ের উপস্হাপনা খুব ভালো, ভেতরের অলঙ্করণ নজরকাড়া। প্রচ্ছদের কথা বলতে হলে আমি সিরিজের দ্বিতীয় বইয়ের প্রচ্ছদকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখবো, তবে এটা বেশ ভালো কিন্তু খুব ব্যতিক্রমী লাগলো না। সম্পাদনার কোনো ত্রুটি আমি পাইনি। তবে সব শেষে দোষে গুণে একথা স্বীকার করতেই হয় যে অর্ক পড়লে মনটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও বিদেশী ইনফ্লুয়েন্স থেকে পুরোপুরি মুক্ত এই সিরিজ চলতে থাকুক এই কামনা করি। পর্ব ৪ এর অপেক্ষায় রইলাম। পাঠ শুভ হলো।
আঁধারের সম্মুখীন হওয়ার পর আলোর সূত্র পাই অন্ধকারের মধ্যেই। এই বইয়ের ১. ওবি ২. মারাম্মা ৩. অন্তরালে তিনটে গল্পই উপস্থাপন করে এমন কিছু ধারনা যা বাস করে আলো এবং আঁধারের ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে! তবে পুরোটাই যে আলো-আঁধারি তা নয়, বেশ কিছু নতুন দিক এবারে অর্কর সঙ্গে ঘটতে দেখলাম।
🔘 "ওবি" একটি ছোট্ট বাচ্চার নাম। যে কথা বলতে চায় না, কিন্তু সে সব বুঝতে পারে, তুহিনের মনের কথা পড়ে ফেলতে পারে। কিন্তু অর্কর সঙ্গে কথা বলতে চায় না। তার বিশ্বাসের কুঁড়েঘর পূর্বের ঘটনায় লোপ পেয়েছে!... সে জানে, তার পরিবার ও জানে!.. এমন কিছু যা তার ভবিষ্যৎ সত্তাকে ক্ষতি করতে পারে!..
গল্পটিতে যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিটা খুঁজে পেয়েছিলাম সেটা দেখে অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমি ভাবছিলাম হয়তো লেখক কিছু সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব ব্যবহার করতে পারে! ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু সেটা ফলাফল হিসাবে! এবং যেটা অনেকটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। এই গল্পের তুহিনের প্রভাব অনেক বেশি, সে বাচ্চাদের সঙ্গে মিশতে পারে ভালো। বাচ্চাদের মনে প্রবেশ করতে পারে! একজন মনের ডাক্তার তখনই মন সারাতে পারে যখন সে মনে প্রবেশ করতে পারে! এইখানেই তুহিন সাহায্য করেছে অর্ক কে! এই গল্পে তুহিনের চরিত্র গঠন হয়েছে, আরো বেশি সুযোগ পেয়েছি ভদ্রলোককে চেনার। এছাড়া প্লট বিল্ড আপ, পূর্বোক্ত সময়ের সঙ্গে কাহিনীর মেলবন্ধন বেশ ভালো।
🔘 "মারাম্মা" গল্পটা তথাকথিত অর্ক গল্প নয়, বরং এই গল্প অনেক বেশি নাইজেরিয় মানুষের ভয়কে তুলে ধরেছে। একটি জায়গায় হঠাৎ করে সবাই খুন হতে থাকে, একটি নির্দিষ্ট সময়, ঘাড়ের কাছে সূচের মত দাগ! অতিলৌকিক উপস্থিতি থাকতে পারে এটা ভেবে, অর্ক আসে। গল্পের চিন্তাভাবনাটি ভাল ছিল, খালি অভাব বোধ করেছি ভিত্তির। কাহিনীর শুরু এবং শেষ আমি ঠিক মেলাতে পারছিলাম না, এত সুন্দর একটা শুরু এরম ভাবে শেষ হয়ে যাবে! তাই আমার মনে হয়েছে এই কাহিনীর পোটেনশিয়াল অনেকটা ছিল, সম্পূর্ণ অন্য একটা আঙ্গিকে দেখানো যেতে পারত এই বিষয়টি কে সম্পূর্ণ প্রাধান্য না দিয়েও। তবে লেখক অতিপ্রাকৃতিক যে স্নেহ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন সেটা সুন্দর!... খালি ওই বিষয়টা নিয়ে একটি অস্বস্তি হচ্ছিল, পড়ার পর!...
🔘 বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী গল্প "অন্তরালে"! একের বদলে দুই , দুই এর বদলে চার! পরিপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক গল্প এটিকে বলা যেতে পারে। বাস্তবের অনেক অপ্রাপ্তির স্বপ্ন মেদুর এক যোগফল বলে যেতে পারে এই গল্প। সর্বেন্দু, তার মা, ডঃ মোহিত সরকার, তিলোত্তমা ও শুভমিতা প্রত্যেক চরিত্রের সমান ভূমিকা আছে। ভূমিকা আছে অতীতের একটি ঘটনার, বলা যেতে পারে পুরো অতীত টাই। আমাদের মনের যে অপরদিক , সেই দিকটার সঙ্গে মানুষের বিষয় কে দেখার যে চিন্তাভাবনা সেটা যদি মিশে যায় তখন এরকম সমস্যা দেখা দেয়। যে সমস্যায় জর্জরিত আপামর একটি সমাজ। কাহিনীর উৎস অতীতে প্রোথিত হলেও, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান অনেকটাই স্বপ্নদুষ্ট। এখান থেকে মুক্তির পথ বাস্তবকে মেনে নেওয়া। কাহিনীর সব চরিত্র গুলোই প্রথম থেকেই যা পারেনি। তাই তাদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল একটি ইচ্ছাধীন সত্তা, যা থেকে গেছিল অন্তরালে প্রত্যেক ঘটনার শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত অব্দি! তাহলে শেষ মুহূর্তে জয়ী হলো কে? যার ষড়রিপু নিয়ন্ত্রনাধীন?
প্রত্যেকটাই ভালো লেগেছে, প্রথমের কাহিনীটি বেশ দারুন Alligned! যেটাই আমি দ্বিতীয় কাহিনীতে অভাব বোধ করেছি! আর তৃতীয় কাহিনী দারুন ভাবে balanced , হ্যাঁ কিছু বর্ণনা মাঝে অতিরিক্ত হয়ে গেছে যেটা হয়তো কাহিনীর গতিকে স্লো করছিল! সে দিকটা একটু দেখা যেতে পারতো বলে মনে হয়েছে। এছাড়াও কিছু বর্ণনা আছে যে থেকে অনেক কিছু জানা যায়, পাঠক ও প্রত্যেকটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দিকটিও বুঝতে পারবেন। তিনটি কাহিনীতে ই!..
যখনই অর্কর কাহিনী পড়ি, পড়ার গতি আমার প্রচুর বেড়ে যায়। একদিন হয়তো লেগেছে পড়তে পুরো বইটা পড়তে। ফ্যাসিনেটিং লাগে খুবই! চার নম্বর সমগ্র টা প্রকাশিত হয়েছে, আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পড়বো। আর হ্যাঁ বইটির অলংকরণ গুলি খুব সুন্দর, কাহিনীর ছবিগুলি মস্তিষ্কের মধ্যে তৈরি হয় ভালো! প্রচ্ছদ দারুন হয়েছে। সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ করেছি। বইটির মেকিং ও বেশ ভালো, page কোয়ালিটি এবং Layout দারুন। ধী প্রকাশনীর ভালো কাজ।
👓অর্ক সমগ্র ৩ 👓ধী প্রকাশনী 👓২৮৫/-(১৬৭ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার)
পড়ে শেষ করলাম সদ্য প্রকাশিত 'অর্ক সমগ্র ৩'।অর্ক ২(ত্রিসংকটে অর্ক)আমার পড়া হয়নি এখনও,তবে তাতে এই বইয়ের গল্পগুলি বুঝতে কোনো সমস্যা হয়নি।
দুটি বড় গল্প আর একটি উপন্যাস স্থান পেয়েছে এই বইতে।স্পয়লার না দিয়ে একটু করে বলি:-
💠ওবি:- একজন ধনকুবের মানুষ।তাঁর মেয়ে কথা বলতে পারেনা। কিন্তু ভোকাল কর্ডে বা কানে কোনো সমস্যাই নেই মেয়ের।সমাধান করতে ডাক পড়লো অর্কের।অর্ক কী পারলো মেয়েটির মুখে কথা ফোটাতে?
সাইকোলোজিক্যাল আর সামান্য একটু বিজ্ঞানমিশ্রিত ফ্যান্টাসির মিশেল এই বড়গল্পটি।তবে ফ্যান্টাসিটি কোনোভাবেই মাত্রা ছাড়ায়নি,একদম পারফেক্ট।এই গল্পে তুহিনের ভূমিকাও বেশ উল্লেখযোগ্য।
💠মারাম্মা:- টুইন আইল্যান্ডে ঘটে চলেছে একের পর এক খু *ন।হ *ত্যার পদ্ধতি একইরকম হলেও কারো সাথে কারোর কোনো সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছেনা। অর্ক কীভাবে সমাধান করবে?
এটায় মনস্তত্ব একটু কম,তবে সাথে জুড়েছে বেশ নতুন ধরনের একটা জিনিস, সেটি কী?জানতে হলে পড়ে ফেলুন বইটি।
💠অন্তরালে:- বইয়ের সবচেয়ে বড় আর সেরা লেখা এটিই।মানসিক সমস্যা,অতীতের ঘটনা,স্বপ্ন বাস্তব,হ্যালুসিনেশন আর অতি অবশ্যই রহস্য আর মাথা গোলানো ধাঁধা,সবমিলে একটা টানটান মনস্তাত্বিক থ্রিলার উপন্যাস।
বইয়ের প্রোডাকশন খুব সুন্দর। সাথে অলংকরন গুলিও বেশ ভালো।শুধু প্রচ্ছদ এ অর্কের মুখটা আর সামান্য একটু পরিষ্কার হলে আরও ভালো হতো।
আর সবশেষে, মনস্তত্ব,থ্রিলার পছন্দ করলে অবশ্যই অর্কের সাথে বেরিয়ে পড়তে পারেন অ্যাডভেঞ্চার এ।
শ্রী পল্লব হালদারের 'অর্ক সমগ্র ৩' অসাধারণ রোমাঞ্চ ও সাসপেন্সে ভরপুর। এই সিরিজের মধ্যে এই বইটিতে সবচেয়ে সুন্দর চিত্রাঙ্কন রয়েছে, ধী-র মুদ্রণ এবং পৃষ্ঠা সংখ্যাও খুব ভালো। Production value of the book be it page quality and Etchings are superb.
লেখক আর্কো এবং তুহিনের মধ্যকার সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বও খুব ভালোভাবে তুলে ধরেছেন।
OBI THE 1st story starts of well but the ending is not up to the mark, many things left unanswered. But overall good.
Maramma is a superb story of a serial killer thriller a hatke take on Arko stories, which the writer encapsulates very well.
The best Was Antoraale a great mix of psychological character study , how fake suspicion can led to someones death , story moves in a non linear way which makes us wonder who is the real culprit is , filled with tension filled ride told with great panache and Dr Arko's problem solving attitude binds us with this excellent story has every thing Great character buildup the ending will shock us.